Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

রমজানে আমরা যে আমলগুলো করতে পারি

বুধবার, ৩১ মে ২০১৭

Picture

ইসলাম ডেস্ক : আমরা মুসলিম। আমাদের সকলের জন্য রমজান মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। এমাসের প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায় সে চেষ্টা করাই আমাদের সবার উচিত। কেননা এ মাস আমলের মাস। ইবাদতের মাস। এমাস ইবাদতের বসন্তকাল। পবিত্র রমাজান মাস আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ দান। সাওয়াব অর্জনের ভরা বসন্ত। এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস রমজান। এ মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে। যেগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা সহজে বহু নেকি অর্জন করতে পারি । মুক্তি পেতে পারি জাহান্নাম থেকে।

রোজা রাখা: ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি হলো রোজা। আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, “সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে।” (সুরা বাকারা : আয়াত : ১৮৫)

সাহরি খাওয়া : সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে । হাদিসে এসেছে সাহরি হল বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিবে না। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারিকে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন । [মুসনাদ আহমাদ]

ইফতার করা : সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা ফজিলতপূর্ণ আমল। বিলম্ব না করা । কেননা হাদিসে এসেছে,যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।[সুনান আবু দাউদ ]

তারাবি পড়া: সালাতুত তারাবি পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবি পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি : হাদিস ২০০৯)

কোরআন খতম ও তিলাওয়াত: এটি কুরআন নাজিলের মাস। তাই এ মাসে অন্যতম কাজ হলো বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা। রমজানে যেহেতু প্রতিটি ইবাদতের সাওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক। মহানবী (সা.) বলেছেন, রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। (আহমাদ : হাদিস ৬৬২৬)

 হাদিসে এসেছে, রাসূল সা: বলেছেন,যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ ।  [সুনানে তিরমিজি]।রাসূল সা: রমাজান ব্যতীত কোন মাসে এতো বেশি তিলাওয়াত করতেন না। আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমজান ব্যতীত অন্য কোনো রাত্রিতে আমি রাসুল সা:কে পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করতে, কিংবা ভোর অবধি সালাতে কাটিয়ে দিতে অথবা পূর্ণ মাস রোযা পালন করে কাটিয়ে দিতে দেখিনি ।  [সহীহ মুসলিম]।

সদকা বা দান: প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত। (মুসলিম)

তাওবা ও ইস্তেগফার করা: সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তো বটেই। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক। (জামেউল উসুল : হাদিস ১৪১০)

 সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়া : রমজান মাস ছাড়াও সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়ার মধ্যে প্রভূত ছওয়াব  রয়েছে। রমজানের কারণে আরো বেশি ফজিলত রয়েছে। যেহেতু সাহরি খাওয়ার জন্য উঠতে হয় সেজন্য রমজান মাসে সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করার বিশেষ সুযোগও রয়েছে। আবূ হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সা: বলেছেন, ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হল রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ । [সহীহ মুসলিম]

লাইলাতুল কদর তালাশ করা: রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল কোরআনের ঘোষণা, কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত ৪) রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি : হাদিস ৩৫)

ইতিকাফ করা : ইতিকাফ অর্থ অবস্থান করা। অর্থাৎ মানুষদের থেকে পৃথক হয়ে সালাত, সিয়াম, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তিগফার ও অন্যান্য ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে একাকী কিছু সময় যাপন করা। এ ইবাদাতের এত মর্যাদা যে, প্রত্যেক রমজানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাজানের শেষ দশকে নিজে এবং তাঁর সাহাবীগণ ইতিকাফ করতেন। আবূ হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত,

প্রত্যেক রমজানেই তিনি শেষ দশকে  ইতিকাফ করতেন। কিন্তু জীবনের শেষ রমজানে তিনি ইতিকাফ করেছিলেন বিশ দিন ।  [সহীহ বুখারী ]। তবে দশ দিন ইতেকাফ করা সুন্নত।

ফিত্বরা দেয়া : এ মাসে সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণার্থে ফিতরা দেয়া আবশ্যক। ইবনে উমর রা:  বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাত আদায়ের আগে ফিতরা আদায় করার আদেশ দিলেন। [সহীহ বুখারী ]


Add comment


Security code
Refresh