Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/images/banners/images/banners/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

সিডনিতে অমর একুশ ও বইমেলা

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

কাউসার খান,বাপ্ নিউজ : সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে : অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উদ্‌যাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশ। ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মদিবস হওয়ায় ১৮ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববার দিবসটি পালন করেন সিডনিপ্রবাসী বাঙালিরা।

Picture

গত বিশ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে দিনব্যাপী অমর একুশ উদ্‌যাপন ও বইমেলার আয়োজন করে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া। দিবসটি শুরু হয় প্রভাতফেরি ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনের পর মাতৃভাষা স্তম্ভের পাশে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া পরিবেশন করে শোকগাথা একুশের গান।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনজাতীয় পতাকা উত্তোলন

তারপর সারা দিনব্যাপী চলে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সিডনির বিভিন্ন সংগঠনের শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, বাংলাদেশের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা, লেখক-সাহিত্যিকদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, রক্তদান কর্মসূচিসহ আরও নানা আয়োজন।
সম্প্রতি বাঙালিদের গৌরবময় এ দিবসটি অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয়ভাবে পালনের বিল পাস হয়েছে দেশটির ফেডারেল সংসদে। তাই এ বছর এই দিবস পালনে সিডনির বাঙালিদের মধ্যে ছিল এক নতুন উচ্ছ্বাস। সিডনির অনেকগুলো বাংলাদেশি সংগঠন প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করে। প্রভাতফেরির সময় অ্যাশফিল্ড পার্কের আকাশে-বাতাসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি …’ গানের যথার্থ অনুভূতি ভেসে বেড়ায়। সেই সঙ্গে সিডনিপ্রবাসী বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় অ্যাশফিল্ড পার্ক।
আদিবাসী নৃত্যআদিবাসী নৃত্য

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বইমেলায় বিভিন্ন লেখকের বই নিয়ে স্টল বসে। বাংলাদেশের বরেণ্য লেখকদের বইয়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী লেখকদের বইও শোভা পায় স্টলে স্টলে। নতুন নতুন বইয়ের প্রতি বেশি ঝোঁক ছিল এবারের মেলায় আগতদের। সেই সঙ্গে প্রিয় লেখকদের বইও কিনেছেন অনেকেই। এ ছাড়া বইমেলায় বেশ কয়েকটি বাঙালিয়ানা খাবারের দোকানও ছিল।
অন্যদিকে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত রনেশ মৈত্রকে এ বছর একুশে পদক পাওয়ায় বিশেষ সম্মাননা জানান মেলা কর্তৃপক্ষ। তিনি মঞ্চে তাঁর সময়ের একগুচ্ছ ঘটনাবলি বিনিময় করেন উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে। এ ছাড়া, প্রতিবছরের মতো এবারের এই বইমেলা লেখক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এবার পুরস্কার পান খাইরুল চৌধুরী।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসাংস্কৃতিক পরিবেশনা

মেলায় অন্যান্যের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান বিরোধী দল লেবার পার্টির অন্যতম মুখপাত্র টনি বার্ক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ফেডারেল সাংসদ জুলি ওয়েন্স, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সাংসদ জিহাদ ডিবসহ অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্থানীয় বাংলাদেশি কাউন্সিলর, লেখক-সাংবাদিকসহ আরও অনেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থেকে দিবসটি উদ্‌যাপন করেন।
বইমেলা উপলক্ষে ‘মাতৃভাষা’ নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়।
বক্তব্য দিচ্ছেন টনি বার্কবক্তব্য দিচ্ছেন টনি বার্ক
মেলায় রনেশ মৈত্রমেলায় রনেশ মৈত্রলেখকেরালেখকেরামেলায় বইয়ের স্টলমেলায় বইয়ের স্টল


জেনেভায় বসন্ত উদ্‌যাপন

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

গ্রিক, রোমান, সুমেরীয়, মিসরীয়, ব্যাবিলন থেকে শুরু করে বৈদিক পুরানে বসন্ত নিয়ে নানান গল্পগাথা কথা এখনো প্রচলিত। অবশ্য শোনা যায়, সুলতান আকবরের শাসনামল থেকে বাংলায় বসন্তবরণের প্রচলন শুরু হয়। এবার আসা যাক, আমার লেখার পটভূমিতে।

আয়োজক ও অতিথিরাআয়োজক ও অতিথিরা

গত ১ ফাল্গুন (১৩ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভার কনফিনন এলাকায় হয়ে গেল বাঙালির বসন্তবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটিকে ব্যতিক্রম বলব এই জন্য, আয়োজকেরা ছিলেন নারী। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিকভাবে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে এই বসন্তবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এক সপ্তাহ আগে আমার কাছে আমন্ত্রণ চলে আসে। ঘরের চৌহদ্দি পেরিয়ে যারা অনুষ্ঠানটিকে নিজেদের সাধ্যের মধ্যে এনে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাদের নামগুলো না নিলেই নয়।
আমন্ত্রিত অতিথিরাআমন্ত্রিত অতিথিরা

সোমা রহমান, মিলি হোসেন, নিশাত রহমান, সৃষ্টি চৌধুরী, কেয়া চৌধুরী, পূর্ণিমা খান, দিলারা আনোয়ার, তাসলিমা চৌধুরী, মিসেস লিপি, বেলি ও লতা—তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও পরিশ্রমে সম্পূর্ণ ঘরে তৈরি খাবার পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিতে সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। কথা ছিল, প্রত্যেকে দুটি করে খাবারের পদ রান্না করে নিয়ে যাবেন বসন্তবরণ অনুষ্ঠানে।
পরিবেশিত খাবারের একাংশপরিবেশিত খাবারের একাংশ

সেই অনুসারে খাবারের মেনুতে ছিল আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির মাংস, কাবাব, রোস্ট, চিংড়ি ভুনা, ডিম ভুনা, বোরহানি, চটপটি, বালুশাই মিষ্টি, পায়েস, তেলের পিঠা ও দই। ভোজনবিলাসী বাঙালির আর কী লাগে। আর সেইসঙ্গে চলতে থাকে মুখর আড্ডা, হাসি-গল্প ও চারুকলার বসন্তোৎসবের স্মৃতিচারণ। আমার সব সময় মনে হয়, আমাদের সমস্ত লোকজ উৎসব, আচার অনুষ্ঠান মানে হচ্ছে আমাদের সম্প্রীতি ও জাতিগত ঐক্যের মহাসম্মিলন।
ফাল্গুনের কেকফাল্গুনের কেকউৎসব

যতই ছোটখাটো হোক বিদেশের মাটিতে বসে নিজেদের সমস্ত মতভেদ ভুলে গিয়ে একই বৃত্তে এসে শুধুমাত্র দেশপ্রেম জিইয়ে থাকুক প্রতিটা বাঙালির বাঙালিয়ানায়। ঋতুরাজ বসন্ত আমাদের সবার জীবনে শুভবোধ জাগ্রত করুক। দুপুর গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলা অক্লান্ত পরিশ্রমের এই অনুষ্ঠানের পেছনে অনুপ্রেরণায় ছিলেন মশিউর রহমান, চৌধুরী আমজাদ, সাদাত হোসেন, মোজাম্মেল হক, চৌধুরী জাভেদ, চৌধুরী জাহিদ ও রাফিন প্রমুখ।


কানাডায় শিশুদের রঙ-তুলিতে ভাষা আন্দোলন

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

শিশু শিল্পীরা জল রং, ওয়েল প্যাস্টেল (মোমের রং) ও কাঠ পেনসিলের রঙে মনের মাধুরী মিশিয়ে ভাষার জন্য বাঙালিদের মহান আত্মত্যাগ, শহীদ মিনার আর স্মৃতিময় সেসব বীরত্বগাথার দৃশ্য ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে। খুদে শিল্পীদের রং তুলির আঁচড়ে নান্দনিক চিত্রকর্মগুলো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, শহীদ মিনার আর রূপসী বাংলার প্রতিচ্ছবি। কোমল হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় আঁকা ছবিগুলো প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে। অতিথিদের সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পীরাদুটি বিভাগে আয়োজিত ছয় থেকে বারো বছরের শিশুদের এ প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে সুবাহ নুর ও দিগন্ত সাহা প্রথম, ফারিসা চৌধুরী ও সারিন ইসলাম দ্বিতীয় এবং জুরাইদা খান ও আজওয়াদ সায়ার তৃতীয় হয়। চিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণকারীরাচিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণকারীরা

প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন চিত্রশিল্পী উৎপল নীল ও শামসুজ্জামান খান। বিচেস ইস্ট ইয়র্কের নেথেনিয়াল স্মিথ এমপি, আর্থার পট এমপিপি, টরন্টো সিটি কাউন্সিলর জেনেট ডেভিস, বাংলাদেশ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল কাজী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সংবাদ পাঠিকা আসমা আহমেদ, বায়েসের জেনারেল সেক্রেটারি দিলরুবা খানম, অভিভাবকদের পক্ষে আশরাফ হক, শামিম আরা প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
‘এ’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম‘এ’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম

বায়েসের নির্বাহী পরিচালক পরিচালক ইমাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় একুশের আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বায়েসের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
‘বি’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম‘বি’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম

আলোচনায় বক্তারা বলেন, কানাডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা শিশুদের মাঝে বাংলাদেশ, এর ইতিহাস, সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বায়েস যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে বেদনা ও চিরগৌরবদীপ্ত আর অহংকারে মহিমান্বিত মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। এটা জাতি হিসেবে বাঙালিদের জন্য অবশ্যই গর্বের বিষয়। একুশ এখন সবারই প্রেরণায় উৎস।


ইতালীতে দু’টি শহীদ মিনারেরই বেহাল অবস্থা

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বারি‘র এই শহীদ মিনার ২০০৮ সালে নির্মানের অনুমতি মেলে এবং বরাদ্দকৃত স্থান লারগো দু যোন পার্কে দুই বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। যা ২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ততকালীন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

Picture

অন্যদিকে রোমে স্থায়ী শহীদ মিনারটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ২০১১ সালে এবং সে বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তা উদ্বোধন করেন ততকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি। এর দু’দিন পর একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে ওই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনায় অংশ নেন ইতালি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস স্টেফানিয়া গ্যাব্রিয়েলা অ্যানাস্তাসিয়া ক্র্যাক্সি।

ঢাকার জাতীয় শহীদ মিনারটির একই আদলে তৈরি হয় রোমের শহীদ মিনার। এর নকশায় মাঝের স্তম্ভটিতে রয়েছে বাংলায় ‘মা’ কথাটি খোদাই করা লেখা। এই নকশার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, শহীদ মিনারে বিশ্বের ৫০৭টি ভাষার নাম লেখা আছে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে দুইটি স্থায়ী শহীদ মিনারই সঠিক তত্বাবধানের অভাবে প্রায় ধ্বংসের মুখে।
বর্তমানে বারি শহরের স্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের সম্মান জানানোর অবস্থা থাকলেও রোমের স্থায়ী শহীদ মিনারে প্রায় ৪ বছর ধরে শহীদদের সম্মান জানানো হচ্ছে না।

দূতাবাস থেকে বিভিন্ন সময় উদ্দ্যোগ নেয়ার কথা জানালেও বাস্তবে তা এখনো মুখথুবরে পড়ে আছে ধ্বসে যাওয়ার মাটির শেষাংশে।

রোমের বাংলাদেশীদের অহংকার করা ভাষা আন্দোলনের নিদর্শন সম্মান জানানো পরিবর্তে পরে আছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়। এ অবস্থা থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতি প্রবাসীদের আহ্বান যতদ্রুত সম্ভব এই শহীদ মিনারকে রক্ষা করা


অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে বিল পাস

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও সুপরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।১৯৫২ সালের এ দিনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। ২০১০ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।

jagonews24

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে অনুচ্ছেদ ১২ তে ম্যাট থিসলেথওয়ে তার এ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটিতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের কথা উল্লেখ করাসহ অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ২০০ ভাষাভাষীর মানুষের বসবাসের কথাও উল্লেখ করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার বাংলা ভাষাভাষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ম্যাট ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সংরক্ষণার্থে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করার কথা উত্থাপন করেন। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি জাতীয়ভাবে পালনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো।


জেনেভায় বসন্তের হাওয়া

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

‘ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান

তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
আমার আপন হারা প্রাণ আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ।’
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
অতিথিরাঅতিথিরা

ফাল্গুনের এই বাতাসে দেশের মানুষ যেমন উন্মুখ হয়ে আছে বসন্তকে বরণ করে নেবে বলে, আমরা কেন এই দূর পরবাসে পিছিয়ে থাকব? মনের মধ্যে এই যে আকুলতা, পরনে বাসন্তী শাড়ি, হাত ভরা কাচের চুড়ি, খোঁপায় ভরা গাঁদাফুল, লাল টিপ, আলতা রাঙা পা, সঙ্গে আছে খাদি পাঞ্জাবি। এই চিরায়ত রূপ থেকে মনেপ্রাণে বাঙালি মানুষগুলো নিজেকে কখনোই দূরে রাখতে পারে না। তেমনি পয়লা ফাল্গুন জেনেভায় কর্মব্যস্ত দিন থাকবে, তাই দুই দিন আগেই বসন্তকে বরণ করে নেন জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থায় কর্মরত প্রবাসী বাঙালিরা।
অতিথিরাঅতিথিরা

মনের তাগিদেই গত শনিবার সন্ধ্যায় আইওএম সংস্থায় কর্মরত অরুণ কুমার চৌধুরী ও ঝুমা পাল দম্পতির আন্তরিক আমন্ত্রণে বসন্ত বরণ উপলক্ষে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন ইউএনএইচসিআর-এর রিসার্চ ম্যানেজার মাকসুদ হোসেন, শিউলি হোসেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আমিন, ডব্লিউএইচও থেকে ছিলেন ডা. সোহেল কাদেরী সৈকত, ডা. আয়েশা সিদ্দিকা এবং রেডক্রস থেকে ছিলেন তাইফুর রহমান ও রুমানা পারভিন লিপি। আরও উপস্থিত ছিল তান, অন্বেষা, সারা, আরিয়ান, আর্নিশ ও সাদ।
পরিবেশিত খাবারপরিবেশিত খাবার

গল্প, আড্ডা, গান, কৌতুক—সব মিলিয়ে এক জমজমাট ভালো লাগার কিছু মুহূর্ত আমরা কাটিয়ে এলাম। সঙ্গে ভোজন পর্বের কথা কেনইবা বাদ দেব। মাছ, ডাল, মুরগি, শাক, চার পদের ভর্তা, চিংড়ি, ডিম ভুনা, আম-টমেটো চাটনি, দই, মিষ্টিসহ আরও কয়েক পদের খাবার। বিদেশের মাটিতে এই তো যথেষ্ট। বাইরে বৃষ্টিসহ তুষারপাত হচ্ছে। ঘরের ভেতর আমরা কয়েকজন বাঙালি পরিবার ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানাব বলে একসঙ্গে হয়েছি। এই তো অনেক বড়। উপলক্ষটা বড় কথা নয়, মনেপ্রাণে বাঙালিয়ানা ধারণ করে একসঙ্গে হওয়াটাই আসল কথা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্মানবোধ নিয়ে অহংকার করার মতন ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে সাধ্যের সামান্য পুঁজি নিয়ে অসাধারণ হয়ে উঠুক প্রতিটি বাঙালির জীবনবোধ।

রাওদাতুল জান্নাত: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড


ঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননায় সিডনি আ.লীগের প্রতিবাদ সভা

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : বঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননার প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাতে সিডনির ওয়ালী পার্কের ফাংশন সেন্টারে এ প্রতিবাদ সভা আয়োজিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আইনজীবী সিরাজুল হক, প্রধান অতিথি ছিলেন মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সালেকী সুফি।

Picture

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির অবমাননা ও বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াতের সব নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সিডনি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ সিডনি শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ, আওয়ামী লীগ সিডনি শাখার সভাপতি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক গাউসুল আলম শাহাজাদা, অস্ট্রেলিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিত চৌধুরী মিকু, সিডনি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম।

alt

বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ সিডনি শাখার ট্রেজারার আব্দুস সালাম,আওয়ামী লীগ সিডনি শাখার সহ-সভাপতি আইজিদ আরাফাত অরুপ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন, আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহুর রহমান খুসব, মানিক নাগ প্রমুখ।

রাষ্ট্রীয় দূতাবাস তথা রাষ্ট্রের ওপরেই হামলা চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ধ্বংস করা এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে, জুতা ছুঁড়ে মেরে অপমান করা কুলাঙ্গার দেশদ্রোহীদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় নেতারা।


মাদ্রিদে বসন্ত উৎসব

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) শনিবার সন্ধ্যায় স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের সেন্ট্রো কমিউনিটারি ক্যাসিনো দে লা রেইনা হলে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে বাঙালির বসন্ত উদ্‌যাপন বহুজাতিকতার নতুন মাত্রা লাভ করেছে। দর্শকের হৃদয় জয় করে নেওয়া এ অনুষ্ঠানে বাংলা নাচ-গানের সঙ্গে ছিল মাদ্রিদপ্রবাসী বাংলাদেশি নারীদের উদ্যোগে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের ঐতিহ্যবাহী পুলি, ভাপা, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, প্যারা, জিলাপি ও সাজের পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠার পসরা সাজিয়েছিলেন সর্বস্তরের মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশি নারীরা।
উৎসবে পিঠাউৎসবে পিঠা

উৎসবের উদ্বোধন করেন কমিউনিটি নেতা ও বাংলাদেশ মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার। পরিচালনা করেন অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী। উপস্থিত ছিলেন রেড ইন্টার লাভাপিয়েসের প্রেসিডেন্ট পেপা টরেস, এনজিও ইন্টারন্যাশনাল অসফান-এর কর্মকর্তা মিরকাপিয়েছ খোয়ান, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লুৎফুর রহমান, ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ও রমিজ উদ্দিন প্রমুখ।
পিঠা উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করেন তানিয়া সুলতানা, লুনা আলম, জান্নাত শিউলি, মারুফা আরেফিন, সেতু হাসান ও নিগার সুলতানা প্রমুখ।
নৃত্য পরিবেশনানৃত্য পরিবেশনা

মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, দেশের আবহমান সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়া আর সেই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মকে দেশের আবহমানকালের সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই ধরনের পিঠা উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। তা ছাড়া আমাদের নারীরা কোনো না কোনোভাবে কর্মজীবী তাই পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই একসঙ্গে হওয়ার আনন্দটা সব সময় অন্যরকম।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নিশাত, সান্তা ও ভরসা।


রাষ্ট্রদূত আবু জাফর ভিয়েনাতে উদ্বোধন করবেন আয়েবার বৈঠক

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

মাঈনুল ইসলাম নাসিম :বাপ্ নিউজ : ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে অনুষ্ঠিতব্য অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের (আয়েবা) কার্যনির্বাহী পরিষদের দ্বাদশ সভায় যোগ দেবেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০টায় ভিয়েনাতে দিনব্যাপী সভার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘ দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. আবু জাফর। আয়েবা নেতৃবৃন্দদের ইতিমধ্যে ভিয়েনাতে আগাম স্বাগত জানিয়েছেন মেধাবী এই কূটনীতিক।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা ডিসট্রেস্ড চিলড্রেন এন্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের (ডিসিআই) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং বিখ্যাত ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. এহসান হক। ইউএস-বাংলাদেশ টেকনোলজি এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং খ্যাতিমান তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ড. সাইফুল খন্দকারও বিশেষ অতিথি থাকবেন ‍ভিয়েনাতে। ড. এহসান হক এবং ড. সাইফুল খন্দকার উভয়েই এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আয়েবা আয়োজিত ‘প্রবাসী বিশ্বসম্মেলন’ ১ম বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিটে যোগ দিয়ে সামিটকে সফল ও সার্থক করতে অসামান্য অবদান রাখেন।

Picture
 
২০১২ সালে গ্রীসের এথেন্সে ১ম গ্র্যান্ড কনভেনশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবার পর অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের (আয়েবা) বিগত ৫ বছরে প্যারিসে অবস্থিত তার সদর দফতর থেকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে যথাসময়ে সোচ্চার ও কার্যকর ভূমিকা পালন করার মধ্য দিয়ে আয়েবা ইতোমধ্যে ইউরোপের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে সমীহ জাগানিয়া সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি গ্রীসের ইঞ্জিনিয়ার ড. জয়নুল আবেদিন এবং মহাসচিব ফ্রান্সের কাজী এনায়েত উল্লাহর সুযোগ্য নেতৃত্বে আয়েবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সাথেও নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেছে প্রবাসীদের স্বার্থে।
 
২০১৫ সালে পর্তুগালের লিসবনে ২য় গ্র্যান্ড কনভেনশনের ধারাবাহিকতায় ৩ বছরের ব্যবধানে চলতি ২০১৮ সালেই ইউরোপের কোন একটি রাজধানী শহরে অনুষ্ঠিত হবে আয়েবার ৩য় গ্র্যান্ড কনভেনশন। আসন্ন এই কনভেনশনকে ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি ও আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়াদি চূড়ান্ত হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি ভিয়েনাতে অনুষ্ঠিতব্য কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায়। ইঞ্জিনিয়ার ড. জয়নুল আবেদিন এবং কাজী এনায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে আয়েবাকে আগামী দিনে আরো গতিশীল করতে চান সংগঠনটির নেতারা। বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে প্রবাসীদেরকে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে এবং দেশে প্রবাসীদের নিরাপদ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী হাতে নিতে যাচ্ছে ইউরোপের বাংলাদেশ কমিউনিটির সবচাইতে বৃহৎ এই আন্তঃদেশীয় অরাজনৈতিক সংগঠন।


অস্ট্রেলিয়ায় আটক বাংলাদেশি ছাত্রীর পরিবার যা বলছে

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : অস্ট্রেলিয়া থেকে : গত দুই দিন ধরে পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া এক বাংলাদেশি ছাত্রীকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এর জেরে বাংলাদেশি মিডিয়ায় মোমেনা সোমা নামের ওই ছাত্রীকে নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা জানিয়েছে, ২৪ বছর বয়সী সোমা গত শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মেলবোর্নে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাত করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। এরপর সোমাকে আটক করে মেলবোর্ন পুলিশ।

সোমা গত ১ ফেব্রুয়ারি স্টুডেন্ট ভিসায় স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যান। প্রথমে তিনি মেলবোর্নে বান্দুরা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। হামলার আগের দিন তিনি রজার সিংগারাভেলু নামে এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। রজারের ওপরই পরদিন তিনি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালান। এই দৃশ্য রজারের ৫ বছর বয়সী মেয়ে দেখতে পায় বলে পুলিশ দাবি করেছে। কিছুটা আহত হলেও চিকিৎসা দেয়ার পর রজার এখন পুরোপুরি সুস্থ।

Picture

সোমাকে আটকের পর পুলিশ বলছে, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মেয়েটি এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের জড়িত থাকার’ অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

শনিবার গার্ডিয়ানকে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ইয়ান মেকার্টনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি আইএসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের কমিউনিটর ক্ষতি করার জন্য এটি একক সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা।’

স্থানীয় লাট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা বিজ্ঞানে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়া সোমা বোরকা পরেন। শনিবার মেলবোর্ন ভিত্তিক দ্য এইজ পত্রিকায় প্রকাশিত তার পাসপোর্টের ছবিতেও বোরকা পরিহিত ছবি দেখা গেছে। ডেইলি মেইল এ সংক্রান্ত সংবাদে তার বোরকা পরার কথা শিরোনামে উল্লেখ করেছে।

alt

রজার সিংগারাভেলু

বোরকা পরা তরুণীর ‘ছুরি নিয়ে হামলা’কে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে পশ্চিমা মিডিয়া প্রচার করলেও অভিযুক্তের পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। সোমার চাচা অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগে (১ ফেব্রুয়ারি) সে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছায়। খুবই শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী ছাত্রী হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।

যমুনা টেলিভিশনকে অধ্যাপক আজিজ বলেন, ‘আমরা কিছুই বুঝে ওঠতে পারছি না। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ও উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়বে? এটি হতে পারে না। আমরা এখনও তার সাথে কথা বলতে পারিনি। বললে বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারবো।’

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন পরিবারের সদস্যরা।  আগামীকাল (সোমবার) সকালে সোমার সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেবে হাইকমিশন।

সোমা মেলবোর্নে পৌঁছার পর চাচাকে ফোন দিয়ে কথা বলেছিলেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে চাচাতো ভাইবোনদের সাথে ফোনালাপে তিনি অস্ট্রেলেয়ার মানুষ সম্পর্কে ইতিবাচবক মন্তব্য করেছিলেন বলেও জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল আজিজ। উচ্চশিক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন নিয়েই দেশ ছাড়েন মোমেনা সোমা।

অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকা দ্য এইজ অধ্যাপক আব্দুল আজিজের সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বছর খানেক আগে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে সোমার মা মারা যান। তার বাবা একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিদেশে মেয়ের আটকের খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন।

ডেইলি মেইল-সহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পত্রিকায় ঘটনা পুরোপুরি তদন্তের আগেই সোমাকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। একইসাথে আহত রজারের কোনো আচরণ বিদেশে প্রথম যাওয়া তরুণীটিকে হামলায় উদ্বুদ্ধ করেছে কীনা- তা প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাকে ‘মহানুভব’ (generous) বলে প্রচার করা হচ্ছে। সাধারণত, পশ্চিমা দেশে কোনো হামলায় মুসলিমদের সংশ্লিষ্টতা মিললে তদন্তের আগেই সেটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে প্রচার করার অভিযোগ রয়েছে কিছু ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে।


অস্ট্রেলিয়ায় ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের বিল পাস

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

কাউসার খান, বাপ্ নিউজ : সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে : অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয়ভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিল পাস হয়েছে। দেশটির ফেডারেল সংসদে আজ এ বিল উত্থাপিত হলে তাতে সম্মতি জানিয়েছেন সকল সাংসদ। এর আগে গত বছর দেশটির ক্যাপিটাল টেরিটরি (ক্যানবেরা) রাজ্য সরকার দিবসটি পালন করতে রাজ্য সংসদে একটি বিল পাস করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার লেবার দলের সাংসদ ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের স্ট্যান্ডিং কমিটির উপপ্রধান ম্যাট থিসলেথওয়েট এই বিল উত্থাপন করেন। অস্ট্রেলিয়ার সংসদে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ম্যাট বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বর্ণনা করেন।

এমএলসি মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের ব্যানারএমএলসি মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের ব্যানার

সংসদে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে অনুচ্ছেদ ১২-তে ম্যাট তাঁর এ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটিতে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো কর্তৃক দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের কথা উল্লেখ করাসহ অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ২০০ ভাষাভাষীর মানুষের বসবাসের কথাও উল্লেখ করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক উন্নয়নে এই ভাষাভাষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ম্যাট ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সংরক্ষণার্থে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করার কথা উত্থাপন করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি জাতীয়ভাবে পালনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এমএলসি মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল। গত সেপ্টেম্বরে তারা এ নিয়ে কিংসফোর্ড স্মিথ অঞ্চলের সাংসদ ম্যাট থিসলেথওয়েটের সঙ্গে বৈঠক করে। এক প্রতিক্রিয়ায়, এ সিদ্ধান্তকে সমস্ত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের গৌরব বলে মন্তব্য করেছেন এমএলসি মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের বর্তমান চেয়ারপারসন নির্মল পাল।