Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

টরন্টোতে শেষ হলো জমজমাট ফোবানা সম্মেলন

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : টরন্টো (কানাডা) থেকে : টরন্টোতে গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ হলো দু’দিনের জমজমাট ফোবানা সম্মেলন ২০১৭। ‘অনুভবে চেতনায় আমাদের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এবারের ৩১তম ফোবানা অনুষ্ঠিত হলো টরন্টোস্থ ডেল্টা হোটেলে।

Picture

এই সম্মেলনে কানাডার বিভিন্ন শহর ছাড়াও আমেরিকা থেকে দর্শক-শ্রোতা অংশ নেন।অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কনক চাপা, কলকাতার ‘সারেগামাপা’ এবং স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। আর শেষ দিনে মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন মেহের আফরোজ শাওন, তাহসান খান, জহির আলীম প্রমুখ। গানের এক পর্যায়ে তিন গুণী ব্যক্তিকে মরণোত্তর সন্মাননা দেয়া হয়। তারা হলেন আব্দুল আলীম, হুমায়ুন আহমেদ এবং নায়ক রাজ রাজ্জাক।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ রিয়াদ হোসেন

সম্মেলন সম্পর্কে মেহের আফরোজ শাওন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই প্রথম কানাডায় আসা। এসে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে- টরন্টোতে একটা মিনি বাংলাদেশ দেখছি। আর তাহসান বলেন, প্রথম কানাডায় পার্ফমেন্স করতে এলাম। এই সম্মেলনের আয়ের অর্থ বন্যার্তদের দেয়া হবে, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। জহির আলীম বলেন, আমিও প্রথম কানাডায় এলাম। এই আনন্দের চেয়ে বেশি ভালো লাগছে বাবার প্রাপ্ত সন্মাননা!আগামী অক্টোবর মাসের ৬, ৭ ও ৮ তারিখ অপর একটি ফোবানা অনুষ্ঠিত হবে ফ্লোরিডার মায়ামী শহরে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান দারা আবু জুবায়ের জানান, আমাদের ফোবানা রেজস্ট্রিকৃত এবং অনুমোদিত।অনুষ্ঠানের শেষে ঘোষণা দেয়া হয়- আগামী বছর ১, ২ সেপ্টেম্বর ৩২তম ফোবানা অনুষ্ঠিত হবে কানাডার রাজধানী অটোয়ায়।


ফ্রান্সের প্যারিসে 'বাংলা ডে' অনুষ্ঠিত

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

দেলওয়ার হোসেন সেলিম,বাপ্ নিউজ : প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে : প্যারিসের অদূরেই বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত গুড প্ল্যানেট ফাউন্ডেশন । সবুজে ঘেরা, ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা, স্নিগ্ধ পরিবেশ । সারি সারি নানান জাতের গাছের সমারোহ । বনজ, ফলজ, ঔষধি, শোভা বর্ধনকারী - কিছুই যেনো বাদ নেই। এমনি চমৎকার পরিবেশে অনুুুষ্ঠিত হলো গুড প্ল্যানেট ফাউন্ডেশন এবং ফ্রেন্ডশীপ বাংলাদেশ - এর যৌথ উদ্যোগে 'বাংলা ডে' অনুুুষ্ঠান ।

Picture

গত রবিবার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ফরাসী তথা ইউরোপীয়ান লোকজনের পাশাপাশি এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে । ফ্রান্স ও বাংলাদেশের ' সেতু বন্ধন ' হিসেবে পরিণত হয় সমগ্র অনুষ্ঠানটি । আইফেল টাওয়ার হতে বাংলাদেশের দুরত্ব প্রায় ৮ হাজার কিলো মিটার । কিন্তু ফ্রান্সে 'বাংলা ডে'  অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের মনে হয়েছিল যেনো এই অনুষ্ঠান স্বদেশের মাটিতেই উদযাপন করছেন । একদিনের জন্যে সবাই চলে গিয়ে ছিলেন প্রিয় মা, মাটি মানুষের সন্নিকটে ! এটাই ছিলো চমৎকার অনুভুতি । 

মনোরম পরিবেশে দেশের কৃষ্টি কালচার তুলে ধরার কোনো কমতি ছিল না দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানমালায় । বাংলাদেশের গান , পুঁথি সাহিত্য, শিশুদের. চিত্রাঙ্কন, ভয়েস অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা , সোনালী আঁশ অর্থাৎ পাটের তৈরী পণ্য, বেতের তৈরি জিনিসপত্র, পুুরাতন জামদানি ও মসলিন কাপড়,  আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী নৌকার ছোট ছোট মডেল , ভ্যান গাড়ি , রিকশা , পুঁথি সাহিত্য, আলোকচিত্র , পোস্ট কার্ড, ফ্যাসটুন সকলের বিশেষ  দৃষ্টি কেড়েছে । এদিন মনে হচ্ছিলো, এ যেনো ফ্রান্সের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ । প্রথমবারের মতো, ফ্রান্সের এমন স্বনামধন্য এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্সে (বিসিএফ) - এর সকল সদস্য উৎসাহ উদ্দিপনার সাথে অংশ নিযেছিলেন । তাঁরা সেখানে রকমারি মিষ্টি যেমন :  রসগোল্লা , চমচম , কাঁচা গোল্লা , রসমলাই সহ আরো অনেক খাবার, পানীয়  এবং স্নাক্স  পরিবেশন করেছিলেন । ফরাসীরা অনেকটা লাইন ধরেই বাংলা খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন ।  সৈয়দ মুজতবা আলীর 'রসগোল্লা ' গল্পে যেমন ইতালির চুঙ্গিঘররের সবাই  রসগোল্লার স্বাদে মজেছিলেন ঠিক তেমনি 'বাংলা ডে'  ইভেন্টে ফরাসীরাও  সকলেই বাংলাদেশীয় সুস্বাধু খাবার বিশেষ করে মিষ্টি খেয়ে মুগ্দ্ধ হয়েছেন । 

প্রবাসী অনেক বাংলাদেশী অবাক হয়েছেন  ফরাসি ছেলেদের লুঙ্গি পড়া দেখে । একজন ফরাসী বেশ আনন্দের সাথে রিকশা ভ্যানে করে বাংলাদেশী প্রবাসীদের নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন । বিদেশের মাটিতে ভিনদেশি যুবকেদের আমাদের দেশের এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা দেখে অনেকেই সেলফি তুলেছেন । অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে লাইভ করেছেন ।  এই প্রোগ্রামে প্রায় ১০০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি এসেছিলেন যাঁর অধিকাংশই ছিলেন ফরাসি । বিশেষ এপ্রোগ্রামের ইভেন্টের মধ্যে  ছিলো : বাংলা দেশের ঐতিহ্যবাহী নাচ , গান, আল্পনা , বস্র শিল্পের প্রদর্শনী , বাংলাদেশ কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি গুলি মোকাবেলা করছে তার  উপর  ইয়ান আর্খথুস-বার্খথোন (Yann Arthus-Bertrand), আনাস্তাসিয়া মিকোভা কর্তৃক নির্মিত বিশেষ ডকুমেন্টারী প্রদর্শনী ইত্যাদি । ফ্রেন্ডশীপ  ফ্রান্সের  সেক্রেটারি জেনারেল নিকোলাস দোপোখতে - এর সঞ্চালনায় কনফারেন্স একসেপসিওনে দ্যু রোনা খান ইভেন্টে বক্তব্য রাখেন  গুড প্ল্যানেট ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়ান আর্খথুস-বার্খথোন (Yann Arthus-Bertrand) , ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলাম , ফ্রেন্ডশীপ বাংলাদেশের পরিচালক, ফ্রান্সে 'বাংলাদেশ ডে'  আয়োজনের অন্যতম রূপকার রুনা খান, বি সি এফ এম, ডি নুর প্রমুখ ।

ম্যাডাম রোনা খান তাঁর বক্তব্যে ফ্রেন্ডশীপ'র পরিচালিত আর্ত মানবতার কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্পের বিবরণ তোলে ধরেন। মুহুরমুহুর করতালির মাধ্যমে তিনিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে । ফুলের তোড়া দিয়ে ফ্রান্সে বরণ করা হয় প্রিয় এই আপনজনকে । এসময় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিদেশের মাটিতে দেশকে উপস্থাপনে প্রবাসীদের ভুমিকা অনেক । উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব পরবর্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বলেন, এই ধরনের আয়োজনে খুব আনন্দিত হয়েছি । আমাদের দেশের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতিকে ফরাসিদের সামনে তুলে ধরতে এই ধরণের আয়োজন দরকার বলে তাঁরা মতামত ব্যাক্ত করেন । সিলেট টু লন্ডন ফেইসবুক পেইজের এডমিনরা কয়েকজনের অনুভূতি জানার  জন্য সাক্ষাৎকার ভিত্তিক লাইভ প্রচার করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস প্যারিসের কাউন্সিলর এন্ড হেড অফ চ্যান্সারি হযরত আলী খান , বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা ম্যাডাম আনিসা  আমিন । ফ্রান্স প্রবাসীদের পাশাপাশি  বি সি এফ এর পক্ষ থেকে  অনেক মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের মধ্যে অন্যতম  বি সি এফ এর  উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য  মোজাম্মেল , রিয়াজ , আল মাহিন , আকাশ মোহামেদ  হেলাল , শাহ জাহান , শাহেদ ভূইয়াঁ , রাকিব , হিরণ , ফটো সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ রনি , এস এম আহসানুল করিম , আব্দুল আহাদ , আব্দুর রহমান শিপন , হোসাইন মোহাম্মদ মনির , কাব্য কামরুল , সিনিয়র সাংবাদিক দেলওয়ার হোসেন সেলিম, আব্দুল হাই ইমরান, হোসাইন মোহাম্মদ মনির , আবুল কালাম আজাদ , দেলোয়ার হোসাইন , মিয়া ফয়সাল , সোহেল , শিপন, শাহ জাহান চৌধুরীসহ ফ্রান্সে বসবাসরত অনেক গুণী শিল্পী এবং মানুষ জন উপস্থিত ছিলেন । 

এছাড়া, ফরাসী সাংবাদিক, সাহিত্যিক, আর্টিস্ট, সমাজ বিজ্ঞানীদের স্বতস্ফুর্ত অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠান আরো জমজমাট হয়ে ওঠে । প্রবাসে বেড়ে উঠা শিশুদের মধ্যে ছিলো অন্য রকমের একটি আমেজ পরিলক্ষিত হয় । আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য পুঁথি সাহিত্যের গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন  পুঁথি কাব্য সাহিত্যিক কাব্য কামরুল । আর্টিস্ট প্লাস্টিসিয়েন টেক্সটাইল ডিজাইনার  নিলুফার জাহান তাঁর লোকজ নকশা দিয়ে তৈরি কাপড়ের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে ছিলো উপছে পড়া ভীড় । এসোসিয়েশন ইমপুল্স প্রজেক্টের পরিচালক মনের আনন্দে বাংলাদেশী প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক দেলওয়ার হোসেন সেলিমকে নিয়ে রিকশা চালানোর দৃশ্য ছিলো খুবই উপভোগ্য । পসকা কলোরিংয়ের চিত্রকলা, ভালোট ই ইউ, লে ক্রিয়েটিফ দ্যু লন্ডাখ, সিফাত আর্টিস্ট প্লাস্টিসিয়েন এর আকর্ষণীয় প্রদর্শনীগুলো ছিলো খুবই আকর্ষণীয় । আরো ইভেন্টের আকর্ষণ ছিলো  লেখক ও কবি শেজার দজার কার্যক্রম এবং শিল্পী কাকলী সেন গুপ্তার কনসার্ট ।  কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হান্নান দেশে ফ্রেন্ডশীপ এর সেবামুলক বিভিন্ন কার্যক্রমের ভুঁয়শী প্রসংশা করে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশের শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতার অনুরোধ জানান । বিসিএফ এর পরিচালক এমডি নূর বলেন, ফ্রান্সের মাটিতে ফরাসিদের সহযোগিতায় এমন বিশাল আয়োজনে  অংশ নিতে পেরে তাঁরা আনন্দে অভিভূত এবং গর্ববোধ করছি ।  তিনি  প্রতি বছর  অন্তত একটা দিন ফ্রান্সের মাটিতে বাংলা ডে আয়োজন করার জন্য  বিসিএফ - এর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানান ।বিশ্বের অন্যতম শিল্পকলা, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্যারিসে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে  'বাংলা ডে' উদযাপন করা হবে ।  সেই প্রত্যাশা করছেনা অংশ গ্রহণকারীরা ।


টরন্টোয় রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিশাল সমাবেশ বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করবে কানাডা

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

Picture

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : মিয়ানমারে গণহত্যা ও বিতাড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে টরন্টোয় নানা জাতিগোষ্ঠীর পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে কানাডার অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট কুইন্স পার্ক প্রাঙ্গণে নানা প্ল্যাকার্ড হাতে তারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন।

alt

সরেজমিনে সেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বিষয়টি জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান। তিনি বলেন, কানাডার জন্য তা যথেষ্ট উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিরসনে মিয়ানমার সরকারের উপর সম্ভাব্য চাপ প্রয়োগ করা হবে।

alt

সমাবেশ আয়োজনকারীদের পক্ষে বক্তারা বলেন, অর্ধ শতাব্দী ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ বার্মা, যা বর্তমানে মিয়ানমার, সেখানে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত স্বজাত্যভিমানের রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানো হয়েছে। তাতে তারা সকল প্রকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার বঞ্চিত। সরকারি চাকরি, বৈবাহিক সনদ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হওয়া ছাড়াও একই গ্রামে বসবাসে অবরুদ্ধ হয়েছে। সেই বর্ণবিদ্বেষী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গত কয়েক বছরে নৃশংসতা থেকে বিতাড়ন, যা কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদদের গবেষণায় গণহত্যায় পর্যবসিত। একমাত্র গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনা থেকে রক্ষা পেতে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে এসে মানবেতর পর্যায়ে আশ্রয় নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তৎপরতায় সবার নজর কেড়েছে।

alt

তবে আয়োজকদের পক্ষে এই প্রতিবেদককে পৃথকভাবে হুয়াইদা পারভেজ-খান, ইমরান খান, আসাদ জালাল, ডলি বেগম, আলম মোরাল, ফিরাজ আল নাজিম ও রোহিঙ্গা নাগরিক ফরিদ উল্লাহ কানাডা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ৬ দফা দাবির কথা জানান।সেক্ষেত্রে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তত্ত্বাবধানে কানাডা যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্য গড়ায় মুখ্য ভূমিকা নেয়। রাখাইনে সংঘটিত সহিংসতা তদন্তে কানাডা যেন প্রভাব খাটিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনায় মিয়ানমারকে বাধ্য করে। সিরীয়দের মতো রোহিঙ্গাদেরও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। মিয়ানমারে বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দ্রুত আরাকানে মানবিক সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা করে। উইরাথু পরিচালিত ‘৯৬৯ আন্দোলন’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ উস্কে দেয়ায় অং সান সুচির কানাডার নাগরিকত্ব বাতিলসহ বিচারের ব্যবস্থা করে।

alt

এ সমাবেশ আয়োজনে সাংগঠনিকভাবে মুখ্য ভূমিকা নেয় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টো অন্টারিও, কানাডিয়ানস অ্যাগেইনস্ট টর্চার, রোহিঙ্গা কমিউনিটি, ওডব্লিউএস ল, ইকনা সিস্টার্স, ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা, সিরিয়ান অ্যাকটিভ ভলান্টিয়ার্স, হেল্প হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন, সুফি কাউন্সিল, স্টপ দ্য ওয়ার নাও, প্যালেস্টাইন হাউজ, মিনহাজ-উল-কুরআন ইন্টারন্যাশনাল, হিযবুত তাহরির এবং ইন্টারন্যাশনাল রিফর্মার ফর হিউম্যান রাইটস।


রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়ে আইফেল টাওয়ার চত্বরে সমাবেশ

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আবু তাহির, বাপ্ নিউজ : ফ্রান্স থেকে : রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধের দাবিতে ও রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে তাদের মাতৃভূমিতে প্রেরণের জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে গতকাল প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মানবাধিকার চত্বরে হাজার হাজার জনসাধারণের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে হিউমেন রাইটস মিশন ফ্রান্স। ফ্রেঞ্চ, আরব আফ্রিকা ও বাংলাদেশি প্রবাসী এবং ইউরোপের বৃহৎ সংগঠন ইপিবিএ, শাহজালাল স্পোটিং ক্লাব, ফ্রান্স বিএনপি, স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, শাহজালাল উলামা পরিষদ, মাল্টিকালাচার, বিকশিত নারীসংঘসহ প্রায় পঞ্চাশটি অ্যাসোসিয়েশন এ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করে।

Picture

মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ করে অবিলম্বে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই। বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে না গেলে তারা তাদের অস্তিত্ব হারাবে। এ সময় প্রতিবাদ সভা থেকে ফ্রেঞ্চ ও ইউরোপিয়ান মিডিয়াকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।নিহত রোহিঙ্গাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সকলের কণ্ঠে স্লোগান ছিল সু চির নোবেল কেড়ে নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে হাজির করে তার বিচার করলে সাধারণ মানুষ জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতি আস্থা রাখবে।

সমাবেশের আয়োজক ড. মালেক ফরাজী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ফারুক খান, সৈয়দ সাইফুর রহমান, আহসানুল হক বুলু, মোতালেব খান, সিরাজুর রহমান, অজয় দাস, তোফিক সাহেদ, ফয়ছল উদ্দিন, শামীমা আক্তার রুবি, শামীম মোল্লাসহ নেতৃবৃন্দ।এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ দিতে হবে বাংলাদেশ। নিশ্চিত করতে হবে জাতিসংঘ সহ সকল আন্তর্জাতিক মোড়লকে মিয়ানমারকে রাখাইন রাজ্যের নাগরিকদের নিরাপত্তা, যাতে তারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আর পালিয়ে না আসে।এ সময় তারা বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানান বার্মা বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে তার সামরিক জবাব দেয়ার জন্য। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের ও আহ্বান করেন তারা।


অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর সংঘটিত বর্বোরচিত গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মোহাম্মদ জুমান হোসেন: বাপ্ নিউজ : অস্ট্রেলিয়া থেকে : মিয়ানমারের আরাকান ও রাখাইন রাজ্যসহ পুরো মিয়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম নর-নারীর উপর নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশু ও গণহত্যার প্রতিবাদে সিডনির মারটিন প্লেইসে রোববার বিকেল ৩ ঘটিকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমার সরকার অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করে এবং তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

Picture

সেখানে রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী ও বৌদ্ধ চরমপন্থীদের হাতে নিপীড়ন, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে।বক্তারা অবিলম্বে মায়ানমারে গণহত্যার জাতিসংঘের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সেই সাথে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানানো হয়। এছাড়াও বিপন্ন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও যাবতীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রতি দাবি জানান বক্তারা।


কানাডা বঙ্গবন্ধু পরিষদের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : কানাডা থেকে : আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কানাডা বঙ্গবন্ধু পরিষদের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। টরন্টোর ড্যানফোর্থের মিজান কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন।

Picture

বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন একুশে পদকে সম্মানিত কবি আসাদ চৌধুরী। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সকলকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সভাপতি আমিন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ফারহানা শান্তা।
অনুষ্ঠান শেষে নৈশভোজের ব্যবস্থা রয়েছে।


রোমে মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ

শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

Picture

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শত বর্ষ ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চলে আসছে এই বর্বরতা ও নির্মমতা। সাম্প্রতিক সময়ে এই অত্যাচার-নির্যাতন বিগত সময়ের সব বর্বরতা পেছনে ফেলে আরাকানের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাকে এক নরক রাজ্যে পরিণত করেছে। বাংলাদেশ সরকার থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত এই হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জ্ঞাপন করছে। বিভিন্ন দেশেও হচ্ছে নিন্দা ও প্রতিবাদ।
বিক্ষোভ সমাবেশব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এই জঘন্য হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতি আবেদন জানান যেন সকল রোহিঙ্গা তাদের নাগরিক অধিকার ফিরে পায়।
বিক্ষোভ সমাবেশবাংলাদেশ সমিতির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করে তরপিনাতারা মুসলিম সেন্টার, রোমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বাংলাদেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। উল্লেখযোগ্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি জি এম কিবরিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি হাসান ইকবাল, আওয়ামী লীগের ইতালি শাখার সাবেক সভাপতি মাহতাব হোসেন, বাংলাদেশ সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম লোকমান হোসেন, কমিশনার আলী আম্বর আশরাফ আলী, নজরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক পাটোয়ারি প্রমুখ।


মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে মাদ্রিদে সভা

শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কবির আল মাহমুদ: বাপ্ নিউজ : মাদ্রিদ, স্পেন থেকে : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত বাংলা সেন্টারে ভয়েস ফর বাংলাদেশের ব্যানারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সেলিম আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল উদ্দিন। আরাকান ও রোহিঙ্গাদের ইতিহাস তুলে ধরে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কবি মিনহাজুল আলম। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন হ‌ুমায়ূন কবির ও আবু জাফর। 

প্রতিবাদ সভার দৃশ্যসভায় বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা সে দেশে হাজার বছর ধরে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। মুসলমানসহ হিন্দু নর-নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ করে হত্যা করা হচ্ছে এবং গণহত্যা থেকে দুধের শিশু পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না। নাফ নদীতে লাশের মিছিল বইছে।
তারা আরও বলেন, প্রবাসে আমরা লাখ লাখ বাংলাদেশি মানবাধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়েই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বেঁচে আছি। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের দুর্দিনে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবাধিকারের দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে হবে।
প্রতিবাদ সভার দৃশ্যজামাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গারা নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অসহায় মজলুম। তাদের সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনকে মিয়ানমারের জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Picture
প্রতিবাদ সভায় উল্লেখযোগ্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনর সহসভাপতি জাকির হোসাইন, রিয়াজ উদ্দিন, ফ্রান্সপ্রবাসী জালাল খান, দক্ষিণ সুরমা ওয়েল ফেয়ার সমিতির সভাপতি খালিকুজ্জামান কামাল, সোহেল আহমেদ, কবির আল মাহমুদ, সিপার আহমেদ, ফজির আলী, রায়হান আহমেদ, তোফায়েল আহমেদ, ফয়জুর রহমান, নজরুল ইসলাম, খিজির আহমেদ, আবুল হাসান, আসাদ খান, জামাল তরফদার ও সালমান হাসান সর্দার প্রমুখ।


বানভাসি মানুষ ও রোহিঙ্গাদের পাশে স্টুটগার্ট প্রবাসী

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাশা বিনতে মহিউদ্দিন: বাপ্ নিউজ : জার্মানির স্টুটগার্ট থেকে : বানভাসি মানুষ ও রোহিঙ্গাদের জন্য রাস্তায় অর্থ সংগ্রহ কার্যক্রমদেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার্তদের সহায়তা দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে জার্মানির বাডেনউটেনবার্গ প্রদেশের স্টুটগার্ট শহরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

Picture

স্টূটগার্ট শহরের কেন্দ্রে ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি তাঁবুতে বন্যা আক্রান্ত এলাকার বানভাসি মানুষ এবং সেই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্য করতে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে তাঁবুতে বানভাসি মানুষ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড পাশাপাশি শোভা পায়। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষে অর্থ সংগ্রহে রাস্তায় নেমে পড়েন এবং দুই দিনব্যাপী (৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর) এই কার্যক্রম চালান। এই অর্থ সংগ্রহে শিশুরাও যোগ দেয়।

alt

সংগ্রহ করা অর্থ অধিকাংশই বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে আয়োজকেরা জানান। তবে এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন এবং সহযোগিতার ব্যাপারেও আয়োজকদের মধ্যে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেন।দেশে বানের পানি বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে থাকে বলেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগ নেয় জার্মানির বাডেনউটেনবার্গ প্রদেশের বাংলাদেশি কমিউনিটি। অর্থ সংগ্রহে তারা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামী দিনগুলোতেও সেটা অব্যাহত থাকবে বলেই জানিয়েছেন।

alt
বানভাসি মানুষ ও রোহিঙ্গাদের জন্য রাস্তায় অর্থ সংগ্রহ কার্যক্রমঅংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশের এমন কঠিন সময়ে আমাদের এগিয়ে আশা দায়িত্ব বলে মনে করি। ফলে আমরা আমাদের সাধ্যমতো বানভাসি মানুষের পাশে ত্রাণ সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছি। আমাদের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদেরও এগিয়ে আশা উচিত বলে করি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চল থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্ভোগ নিয়েও তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদীসহ জাতিসংঘের দ্রুত কার্যকরী হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তারা।


ইউকে ম্যানচেস্টারের ঈদ পুনর্মিলনী ও ঘুড়ি উৎসব

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ফারুক যোশী: বাপ্ নিউজ : যুক্তরাজ্য থেকে :আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি আমাদের উত্তরাধিকার। ঐতিহ্যের এই সংস্কৃতিকে বাংলাদেশের বাইরে নতুনদের মাঝে পরিচয় করিয়ে দিতে, ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মাঝে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে চেতনা ইউকে ম্যানচেস্টারের চলমান উদ্যোগ একেকটা মাইলস্টোন হিসেবেই কাজ করছে। এ কথাগুলো উচ্চারিত হয়েছে চেতনা ইউকে ম্যানচেস্টারের ঈদ পুনর্মিলনী ও ঘুড়ি উৎসবে।এ উৎসবটি হয়ে গেল গত ৩ সেপ্টেম্বর রোববার।

Picture

দুপুর বারোটায় এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি আফজাল খান ও ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিলের স্কুল-আর্ট অ্যান্ড লেজারের নির্বাহী সদস্য কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান। চেতনার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক-কলামিস্ট ফারুক যোশীর সঞ্চালনায় এতে স্বাগতিক বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মাহমুদুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কাউন্সিলর আবিদ চৌহান, মুক্তিযোদ্ধা ডা. নজরুল ইসলাম, জিএমবিএর চেয়ারম্যান নাসের ওয়াহাব, হাইড ওয়েলফেয়ারের চেয়ারম্যান নাসির খান, সুরাবুর রহমান, মইনুল আমিন ও রুহুল আমিন চৌধুরী প্রমুখ।

alt
উৎসবে ছিল শিশু-কিশোর নারী পুরুষদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলা। বাচ্চাদের সুন্দর করে বাংলা লেখা, পাস দ্য পার্সেল, পাস দ্য পিলো, রশি টানাটানি, চকলেট দৌড় ও মোরগের লড়াইসহ বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন খেলাধুলা চলে এ উৎসবে। উৎসব সমন্বয়ক ও চেতনার সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল হক ওয়েছের সার্বিক পরিকল্পনায় এই খেলাধুলার দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম, মরিয়ম ইসলাম, সাবিনা ইয়াসমিন শাপলা, সালেহা চৌধুরী ও রেহানা বেগম প্রমুখ।

alt
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন আমেনা ওয়েছ, নিশাত, সেঁজুতি, মাহিরা, নওরীন, প্রভা, আরীভা, এমা ও সুহাসহ এ দেশে বেড়ে ওঠা একঝাঁক কিশোরী-তরুণী।এ অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন আলমগীর চৌধুরী, ফয়জুল ইসলাম, ফয়সল আহমদ, শাহ কাইয়ুম, মাহী মাসুম, ইলিয়াস চৌধুরী, বিশাল দেব, বেলায়েত চৌধুরী, রাহেল চৌধুরী, আফজাল রাব্বানী, এম আহমদ জুনেদ, শাহনেওয়াজ আহমদ, সেকুল ইসলাম ও নাসিরুল ইসলাম প্রমুখ। উৎসবটি স্পনসর করেছে রয় অ্যান্ড কোং।খেলাধুলার পাশাপাশি চলে সংগীতানুষ্ঠান। মীর গোলাম মোস্তফা ও আমিনুল হক ওয়েছের পরিচালনায় দীর্ঘ চার ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন লন্ডন-হাইড-বার্নলি ও ব্রাইটনসহ ম্যানচেস্টারের স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। কয়েক শ মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি শেষ হয় বিকেল পাঁচটায়। জনপ্রিয় অনলাইন টিভি প্রবাস বাংলা অনুষ্ঠানটি লাইভ সম্প্রচার করেছে।


টরন্টোয় কক্সবাজারবাসীদের প্রথম মিলনমেলা

শনিবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

পাহাড় আর হ্রদের এই অপূর্ব বিন্যাস পরিচিতজনেরা ব্ল্যাফারস পার্ক বললে নিমেষেই চিনতে পারেন। এটি হচ্ছে টরন্টোর দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তের স্কারবোরোর অন্যতম একটি পার্ক আর এটিকেই সেদিন বেছে নেয়া হয় টরন্টোয় কক্সবাজার এর অভিবাসীদের প্রথম মিলনমেলার পরিসর হিসেবে।

Picture
কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী রকমারী খাবারের আয়োজন ছিল এতে। বৃহত্তর টরন্টোর নানান উপশহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যারা বাস করছেন, এই মেলা উপলক্ষে মিলিত হয়েছিলেন সবাই এদিনের এই আয়োজনে। কক্সবাজারের সমুদ্র আর বেলাভূমির মেজাজ আর বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করার একটা চেষ্টা ছিল আয়োজনকারীদের আর তাই এবারের  প্রতিপাদ্য ছিল ‘নদীর যতো জলের ধারা সাগর বুকে বয়’।
নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় জলের গুনগান আর কক্সবাজারবাসীদের জন্য এরচেয়ে যোগ্য আর কিই বা  হতে পারে। কক্সবাজারের মানুষের জলের প্রতি টান আপ্রাণ, সেই মাটিতে জন্মের কারণেই। সাগরের নীল জলরাশির সাথে সখ্যতা করেই তো কক্সবাজার এর মানুষের জন্ম, বেড়ে ওঠা। আর যারা সম্পর্কের টানে এসেছেন কক্সবাজারে, সময়ের সাথে সাথে মনের মানুষের সাথে সম্পর্কের নিবিড়তা বাড়িয়েছেন অথচ সৈকতের বালুচর, ঝাউবন, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ভালোবাসেননি, তা তো হতে পারে না। তাদের সবাইকে নিয়েই প্রথমবারের মতো টরন্টোয় কক্সবাজারের অভিবাসী পরিবারগুলো মেতে উঠেছিল এদিনের মিলনমেলায়।

1504232626279blob-2

স্কারবোরোর প্রাণকেন্দ্রের এই পার্কে সকাল ১০টা থেকে অতিথিরা জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই কক্সবাজারের অভিবাসী, তাদের পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের পদচারনায় মিলনমেলা সরগরম হয়ে ওঠে। দুপুরের আয়োজনে ছিল সুস্বাদু পোলাও, চিকেন রোষ্ট, মাটন্ কারী, সালাদ এবং পানীয় সহ খাবারের আয়োজন ও পরিবেশনা। খাওয়া দাওয়া তো ছিলই, তারচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল সবার সাথে দীর্ঘদিনের সেই পুরোনো যোগাযোগটা ঝালাই করে নেয়া। চমৎকার সব মানুষগুলোকে কাছে পেয়ে অনেকেই স্মৃতিচারণে মেতে উঠেছিলেন, নতুন অনেককেই জানার সুযোগ হয়েছে, একেবারে ঘরের কাছের অথচ জানা পরিচয় ছিল না, এমন অনেকের সাথে পারস্পরিক পরিচয়ের এক অনবদ্য সুযোগ ছিল এটি। অংশগ্রহণকারীদের জন্য এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

এই মিলনমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরবর্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্যে নতুন পাঁচজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।উল্লেখ্য, এই মিলনমেলার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট রোটারিয়ান আনোয়ার সাদাত আর তাঁর সহধর্মিনী আফরোজা মমতাজ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামতেই বিদায়ের রাগিনী বেজে ওঠে। সারাদিনের ঝকঝকে নীলাকাশে গোধূলির বিষন্ন রং উঁকি দিতে শুরু করছে আর পরিবার পরিজনেরা একে  অপরের কাছে  বিদায় নেবার জন্য হাত বাড়াতে শুরু করেন।
রবীন্দ্রনাথের সেই অমোঘ বাণী যেন সবার মনকেই শেষবারের মতো আরেকবার নাড়িয়ে দিয়ে যায় – ‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।’
ছবি: আফরোজা মমতাজ