Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/components/com_jcomments/images/media/system/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

জঙ্গিবাদ ও প্রকৃতিপ্রেমী = আলম শাইন

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

নিজকে পাখিপ্রেমী কিংবা প্রকৃতিপ্রেমী বলে পরিচয় দিতে সংকোচবোধ করছি গত সপ্তাহ থেকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মাচরের জঙ্গি প্রশিক্ষণের ঘটনায় হতচকিত হয়ে গেছি দেশবাসীর সঙ্গে আমিও। বিশেষ করে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার ২৯.১১.২০১৭ তারিখের শিরোনাম ‘পাখিপ্রেমীর আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ’ আমাকে বিচলিত করেছে খানিকটা। সংবাদ পাঠে আরো বিচলিত হয়ে পড়ি জঙ্গিদের কূটকৌশল জানতে পেরে। বিষয়টা নিয়ে আমার প্রিয় মানুষদের একজন দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু বকর চৌধুরী ভাইয়ের সঙ্গে মতবিনিময়ও করি। তিনিও হতবাক হয়েছেন জঙ্গিদের অপকৌশলের সংবাদে। কারণ আমরা দু’জনই প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ; পাখিপ্রেমী তো বটেই। পাখ-পাখালি কিংবা প্রকৃতি নিয়ে লেখালেখি করে মানুষকে উৎসাহিত করি প্রকৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে। অথচ সেই ভালো কাজটিকে কলুষিত করে দিল কি-না জঙ্গিবাদীরা। বিষয়টা জঘন্য! ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে আমাদের। ভাগ্যিস আমাদের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সচেষ্ট ছিল, না হলে আরো বড় ধরনের নাশকতা ঘটার সম্ভাবনা থেকে যেত।

জঙ্গিবাদ নিয়ে ইতিপূর্বেও লিখেছি। তাই হয়তো একই কথা বারবার আসতে পারে। কথাগুলো বারবার আসলেও বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের। কেন বারবার লিখছি? কেন আমাদের সন্তানেরা বিপথগামী হচ্ছে? সেই বিষয়টি আগে মাথায় আনতে হবে এবং বুঝেশুনে তার প্রতিকারও করতে হবে। নিজে প্রতিকার করতে না পারলে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রথমত বলতে হয়, জঙ্গিবাদ শব্দটা নতুন নয়, তবে এদের কর্মকাণ্ড নতুন করে ধরা দেয় আমাদের কাছে প্রায়ই। অর্থাৎ নতুনরূপে নতুন আইডিয়া নিয়ে জঙ্গিরা কিছু একটা করার বদ্ধপরিকরে গোপনে নাশকতায় অংশ নিয়ে নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে রক্তপাত ঘটিয়ে থাকে। তেমনি একটি নতুন আইডিয়ার প্রমাণ পেলাম আমরা পদ্মার চরের ঘটনায়। এ ধরনের হরেক আইডিয়া জঙ্গিদের মাথায় গিজগিজ করছে, যা দেশের উন্নয়মূলক কোনো কাজে খাটাতে পারে না এই বিপথগামী মানুষগুলো।

জঙ্গিদের মূল উদ্দেশ্যটা কি হতে পারে তা মিশনে অংশগ্রহণকারীদেরও জানার বাইরে থাকে। তারা জানে মিশন সফল করা মানে হচ্ছে স্বর্গপ্রাপ্তি। সফল করতে না পারলেও সমস্যা নেই, অংশগ্রহণ করলেই হবে, এমনটি-ই ওদের ইন্ধনদাতার পরামর্শ। ফলে কিছু তরুণকে প্রলোভনে পড়ে বিপথগামী হওয়ার সংবাদ জানতে পারি আমরা। এ ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি বিত্তশালীদের সন্তানরা এগিয়ে আছে। যাদের অধিকাংশই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তন্মধ্যে যেটি লক্ষণীয় সেটি হচ্ছে এরা বেশিরভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রশ্ন হতে পারে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে গিয়ে তরুণরা কেন জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে? যদিও এ প্রশ্নের সঠিক জবাব আমাদের জানা নেই, তবে ধারণা করা যেতে পারে বিপথগামী হওয়ার অন্যতম কারণগুলো। যেমন: পাবলিক ভার্সিটিগুলোতে রাজনৈতিক চর্চার পাশাপাশি রয়েছে নানাধর্মী বিনোদনের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা অতি ব্যস্ত থাকেন লেখাপড়া, বিনোদন কিংবা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে। তাছাড়া পাবলিক ভার্সিটি পড়ুয়ারা এমনিতেই মেধাবী ছাত্র। তার ওপর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকে ভার্সিটি পেরিয়ে দ্রুত কিছু একটা করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। যা লক্ষ্য করা যায় না বেসরকারি ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। তাদের অধিকাংশ অভিভাবকদের রয়েছে অঢেল সম্পদ। ফলে পারিবারিক সচ্ছলতার বিষয় নিয়ে তাদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন পড়ে না। এরা ব্যবসায়ী কিংবা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও নিজেরা রাজনৈতিক চর্চা থেকে দূরে থাকেন। কারণ প্রাইভেট ভার্সিটিতে সে ধরনের সুযোগ নেই।

এদের মধ্যে আবার অনেক শিক্ষার্থী আছেন তারা বিভিন্ন কারণে হতাশায় ভুগে থাকেন। সেই কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে বাবা-মায়ের সম্পর্কের অবনতি কিংবা নিজের প্রেমে ব্যর্থতা দেখা দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। সব মিলিয়ে যখন শিক্ষার্থীরা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে দিগি¦দিক হারিয়ে ফেলে সেই সুযোগে কাছে ভিড়তে থাকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। খুব কাছে টানতে চেষ্টা করে তখন তারা। বিভিন্ন কৌশল খাটিয়ে এক সময় শিক্ষার্থীটিকে কব্জা করে ফেলেন। ধীরে ধীরে প্ররোচিত করে স্বর্গপ্রাপ্তির লোভ দেখিয়ে একসময় নাশকতা কর্মকাণ্ডে পাঠিয়ে থাকেন, যা ঘটছে সাম্প্রতিক সময়েও।

নব্বই দশক পরবর্তীতে জঙ্গিবাদের বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত হয় ব্যাপকভাবে। ইতিপূর্বে শব্দটি মানুষের জানা থাকলেও চাক্ষুষ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখার সুযোগ হয়নি। নব্বই দশক পরবর্তীতে বিভিন্নরূপে বিভিন্ন নাম ধারণ করে এবং নতুন কৌশলে জঙ্গি সংগঠনগুলো আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। অবশ্য তার প্রতিকারও করছেন আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকজন। বড় ধরনের অনেক নাশকতা থেকে রক্ষা করেছেন তারা দেশবাসীকে। হিম্মত দেখিয়ে জঙ্গিদের মোকাবিলাও করেছেন; প্রাণও বিসর্জন দিয়েছেন কেউ কেউ। সাধুবাদ জানাতে হয় তাই তাদেরকে।

লেখক: কথাসাহিত্যিক
বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ


সততায় তৃতীয় স্থান অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

ফজলুল হক খান: মানবকণ্ঠ কলামপানামা পেপার্স এবং প্যারাডাইস পেপার্স সম্প্রতি অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য প্রচার করে মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে টাকা পাচারের তালিকায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের নাম উঠে এসেছে। রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন দেশের সরকারে আছেন আবার কেউ কেউ সরকার প্রধানও আছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত কেলেঙ্কারিতে কেউ কেউ সরকারি পদ হারিয়েছেন কেউ কেউ অভিযোগের ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন। এক কথায় বিশ্ব রাজনীতিতে যাদের সৎ বলে মনে করা হতো তাদের অনেকেই হয়েছেন কলঙ্কিত এবং তালিকায় প্রকাশিত ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক, কখন, কে মানিলন্ডারিং কেসে ফেঁসে যায় এ ভয়ে।

এবার পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্স বিপরীতধর্মী এক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের ৫ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, যাদের বিদেশে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ৫টি প্রশ্নের উত্তরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে।

প্রশ্ন ৫টি হলো (১) সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে তিনি কি তার রাষ্ট্রের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন? (২) ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তার সম্পদ কতটুকু বেড়েছে? (৩) গোপন সম্পদ গড়েছেন কিনা? (৪) সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা? (৫) দেশের জনগণ তার সম্পর্কে কী ভাবেন?

এই ৫টি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্স ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণা সংস্থাটি মাত্র ১৭ জন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন অর্থাৎ পাসের হার মাত্র ৯.৮২ ভাগ। ১৭৩ জন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে সৎ ও পরিচ্ছন্ন সরকারপ্রধান হিসেবে ৯০% মার্ক পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। ৮৮% মার্ক পেয়ে ২য় স্থান অধিকার করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। ৮৭% মার্ক পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫% মার্ক পেয়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবাগ। ৮১% মার্ক পেয়ে ৫ম স্থান অধিকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানী।

উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সন্দেহ নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এমন কোনো অভিযোগও উত্থাপিত হয়নি। তবে একটি বিষয় বিবেচনার যথেষ্ট দাবি রাখে। রাজধানী শহরের একটি নামিদামি স্কুলের শিক্ষার মান এবং মফস্বল এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষার মান কখনো এক নয়। রাজধানীর নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৯০% মার্ক পেয়ে প্রথম হওয়ার চেয়ে মফস্বল এলাকার একটি স্কুলের একজন ছাত্র ৮৭% মার্ক পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করা মেধা, অধ্যবসায়, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠার দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। জার্মান, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিবেশের ক্ষেত্রে প্রতি সূচকেই আমরা পিছিয়ে আছি এ কথা অস্বীকার করতে পারি না। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ।

Picture

জনসংখ্যার চাপ, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। এসব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৮৭% মার্ক পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করা সম্ভব হয়েছে শুধু তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা ও সততার কারণে। মানুষের সদিচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিবেশেও বিজয় অর্জন সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বিজয় তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। জার্মান সিঙ্গাপুরের মতো উপযুক্ত পরিবেশ পেলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম স্থানের অধিকারী হতেন এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

তবে ওই প্রতিবেদনে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ কথা সত্যি, কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এরপরও সান্ত¡নার বিষয় হলো মাথায় পচন ধরেনি। শরীরে এক আধটু ক্ষত হলে চিকিৎসায় সারানো যায় কিন্তু মাথায় পচন ধরলে কোনো চিকিৎসায় কাজ হয় না। এ প্রসঙ্গে খলীফা হারুনুর রশীদের একটি ঘটনা উপস্থাপন করতে চাই। একদিন খলীফা হারুনুর রশীদ শাকীক নামক একজন দরবেশের কাছে কিছু উপদেশ প্রার্থনা করলেন। দরবেশ শাকীক বললেন, হে খলীফা! মনে রাখিও, তুমি একটি ঝরনা সাদৃশ্য আর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে তোমা কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সে উৎস হতে উদ্ভূত ক্ষুদ্র ও বৃহৎ নদী-নালা সমূহের ন্যায়। ঝরনা স্বয়ং পরিচ্ছন্ন ও নির্মল থাকলে তা হতে নদী-নালায় নিঃসৃত মলিনতা তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু উৎসটি স্বয়ং অপরিষ্কার ও মলিন হলে উহা হতে নির্গত মলিন ও অপরিষ্কার পানি সমস্ত নদী-নালায় ছড়িয়ে পড়ে উহাদিগকে অপরিষ্কার করে ফেলে। অর্থাৎ তুমি নিজে ভালো হলে তোমার কর্মচারীরা ও অন্য মন্ত্রীরা মন্দ হলেও ক্রমশ: ভালো হতে বাধ্য। পক্ষান্তরে তুমি মন্দ হলে তোমার কর্মচারী ও মন্ত্রীরা ভালো থাকলেও ক্রমশ: মন্দ হয়ে যাবে। দরবেশ শাকীকের উপদেশ অনুযায়ী আমাদের সৌভাগ্য যে আমাদের ঝরনা ধারা অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনো পরিচ্ছন্ন ও নির্মল। তাকে অপরিচ্ছন্নতা ও মলিনতা এখনো স্পর্শ করেনি। তাই সরকারের বিরুদ্ধে যে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বাংলাদেশের ৭৮ ভাগ মানুষ মনে করে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৎ ও ব্যক্তিগত লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে। তার কোনো গোপন সম্পদ নেই। এ কথা যেমন সত্য তেমনি দেশের মানুষ আরো জানে তিনি সৎ, নির্ভীক ও ধার্মিক। তার যেমন সততা আছে, তেমনি সাহস আছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জীবনের একটাই স্বপ্ন, একটাই ব্রত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা গড়ে তোলা, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বাংলার মানুষের মাঝেই বেঁচে থাকা। যার জীবনের ব্রত এমন মহৎ এমন সুন্দর তাকে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারে না-পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্সের প্রতিবেদন তাই প্রমাণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর এই গৌরবময় অর্জন বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্থান করে দিয়েছে তবে নিজ দলের মধ্যে এর একটা নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অর্জন আগামী নির্বাচনে জয়লাভের জন্য যথেষ্ট, আমাদের আর তেমন কাজ করার দরকার নেই তবে সেটা হবে মারাত্মক ভুল। এ প্রসঙ্গে আমি একটা উদাহরণ উপস্থাপন করছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চার্চিল। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ছিলেন জেনারেল এবং ময়দানে যুদ্ধ করা সেনাপতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং একজন শক্তিশালী নেতা। চার্চিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন।

যুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ব্রিটেনবাসী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার অবদান অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা বিবেচনায় আনেনি। তারা ভোট দিয়ে জিতিয়ে দিয়েছিল শ্রমিক দলকে। এই দৃষ্টান্তকে স্মরণ রেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে, শুধু নেত্রীর সাফল্যের ওপর ভর করে রাজনীতিতে এগোনো যাবে না। আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, প্রধানমন্ত্রীর সততার অর্জন নিয়ে প্রচার-প্রচারনা তেমন নেই। শুধু যারা পত্র-পত্রিকা নিয়মিত পড়েন তারাই খবরটা জানেন। ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করার পর যেমন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে এক্ষেত্রেও তেমন প্রচারণা চালানো উচিত।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সের প্রতিবেদনে যেহেতু সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেহেতু সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এদিকটিতে প্রয়োজনীয় দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এর দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। সরকারের কোনো ব্যক্তি কিংবা দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রধানমন্ত্রীর এত বড় সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ হোক তা আমাদের কারো কাম্য নয়।

লেখক: গীতিকার, প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক


জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু = সৈয়দ সাইফুল ইসলাম

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পর আমরা ৪৬তম বিজয় দিবস পালন করতে যাচ্ছি। এত বছর পর খুব হতাশা নয়- দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, স্বাধীনতা যারা চায়নি, যারা ৩০ লাখ মানুষের জীবন নিয়েছে, ৬ লাখ মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে তাদের সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে। পৃথিবীতে এ ধরনের সহাবস্থান আর কোনো দেশে ঘটেনি।
আমাদের নতুন যে প্রজন্ম, তাদের চোখে অনেক স্বপ্ন। দীর্ঘকাল অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যার পর স্বৈরশাসকসহ যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা যে রাজনীতি করেছে, যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, তা সবার জানা রয়েছে। ওই রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাতা বলেছিলেন, দেশের রাজনীতিকে তিনি ডিফিকাল্ট করে তুলবেন। সত্যি সত্যি তিনি একসময় এসে দেশের রাজনীতিকে ডিফিকাল্ট করে তুলেছিলেন। তারপর তিনি দেশে যে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, যার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আবার অন্য কোনো কৌশলে পাকিস্তানকে ফিরিয়ে আনা। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাসকে পাল্টানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তারাই স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দলের নেতাকর্মীদের জেলে রেখেছে, হত্যা করেছে, নানাভাবে হয়রানি ও অপদস্থ করেছে। একপর্যায়ে এ দলটিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ভুল অর্থ দিতে শুরু করেছে। এসবের উদ্দেশ্যই ছিল এ দেশটিকে আবার পাকিস্তান বানানো। এজন্য অনেক নীলনকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু মুসলিমদের নিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। কিন্তু এদের ডিফিকাল্ট রাজনীতি ও নানা অপকৌশলের কারণে দেশে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভাবাদর্শ ও স্বাধীনতার পক্ষের জোটকে নানা ধরনের নিপীড়নের মধ্যে ফেলেছে।
তারাই যুদ্ধাপরাধীদের এ দেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিল, বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। তাদের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি করেছিল। যারা এখনও বাংলাদেশ স্বীকার করে না, সেই তাদেরই মন্ত্রিত্বের পর্যায়ে তুলেছিল।
অন্যদিকে এ দেশের মানুষ দেরিতে হলেও স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে জনগণই এ স্বাধীনতার চেতনার জোটকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আমরা অনেক জঞ্জাল, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়েছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জঞ্জালমুক্ত হয়েছে। প্রগতি, সমৃদ্ধি ও গতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বাংলাদেশের উন্নতি দেখে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ বিস্মিত হয়ে যাচ্ছে।
একসময় যে যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমতায় বসেছিল, সেই জামায়াত-আলবদরদের বিচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েই হয়েছে। বিচার হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যার। এ বিরাট অর্জনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। এটি দেশবাসীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল, শেখ হাসিনার সরকার না থাকলে এটি সম্ভব হতো না। ধীরে ধীরে আমাদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে। এই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ছিল গৌরবের।
তবে একটি বিষয়, জামায়াতের পাশাপাশি এতদিনে দেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের সংখ্যা বাড়ছে। একটি রাজনৈতিক দল অনেক অসৎ শক্তির ভয় দেখিয়ে এবং রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে আবারও ক্ষমতায় বসতে চায়।
সামনেই আমাদের একটি নির্বাচন। এর আগেও একটি দল তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা দেশকে কী দিয়েছে? উল্লেখযোগ্য কিছুই দিতে পারেনি। আজকের ৪৬তম বিজয় দিবসে আমার আবেদন থাকবে, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এ দলটিকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। তা না করে অন্য কোনো পক্ষকে চাইলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে না। যারা ভোট দেবে, তারাও একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যারা বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদেরই আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। তা না হলে দেশের উন্নয়নমুখী যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো ব্যাহত হবে। দেশ পিছিয়ে পড়বে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
শ্রুতিলিখন : সৈয়দ সাইফুল ইসলাম


গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ উন্নয়ন—অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গণতন্ত্রের চেয়ে কর্তৃত্বপরায়ণতার ইতিহাস দীর্ঘ। ইতিহাসখ্যাত জননন্দিত শাসকদের বেশিরভাগই ছিলেন জনহিতৈষী কর্তৃত্ববাদী, তাছাড়া গণতন্ত্র প্রকৃতি বা ঈশ্বরের আইন এমন কথাও ধর্মগ্রন্থ থেকে জানা যায় না। উদার বা গণতান্ত্রিক সমাজেরও বিকল্প ভাবনা আছে। বিকল্পগুলো অসম্ভব বা অবাস্তব এমনটিও বলা যাবে না। হয়ত ভাবনাগুলো এখনো সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছে না বা পরীক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত হয়নি। গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন। কোনটি আগে? কোনিট পরে? নাকি দুটিই এক সঙ্গে সমানতালে চলবে? এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন উভয়ের পক্ষেই যথেষ্ট বক্তব্য রয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই একটি দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এমন ধারণা হোঁচট খেয়েছে। যদি চীনের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। চীনের ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য আগের যেসব মডেল এবং তত্ত্ব ছিল, সেগুলোকেই কেবল উন্নয়নের নেপথ্যের শক্তি হিসেবে স্বীকার কিংবা সমর্থন করা যায় না। শুধু গণতন্ত্রেই উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব এ ধারণা চীন ভেঙে দিয়েছে। কেননা উদার গণতান্ত্রিক আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাথাপিছু আয় এবং জীবন যাত্রার মান দ্বিগুণ হতে ৩০ বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। কিন্তু গণতন্ত্রহীন সমাজতান্ত্রিক দেশ চীনে প্রতি ১০ বছরে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণে উপনীত হয়েছে। এমনকি আমাদের নিকটবর্তী দুইটি দেশ মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা যায়। দেশ দুুটিতে যে পরিমাণ উন্নয়ন কিন্তু সেই পরিমাণ গণতন্ত্র নেই। অর্থাত্ যেটাকে আমরা পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র বলে থাকি যেটা সেখানে নেই। যদিও শাশ্বতভাবে মনে করা হতো, গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু চীন, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা তা সমর্থন করে না। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইমেরিটাস প্রণব কুমার বর্ধন যেমনটি বলেছেন, ‘ডেমোক্রেসি এন্ড ডেভেলপমেন্ট: এ কমপ্লেক্স রিলেশনশিপ’ বইয়ে। তাঁর মতে, “গণতন্ত্র অনেকসময় জনপ্রিয় দাবির প্রতি সংবেদনশীল—, যা আসলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ভিন্ন। এখানে গণতন্ত্র বলতে বোঝানো হয় নির্বাচন এবং কতগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে। কর্মসূচিগুলো হলো— হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ, বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ ইত্যাদি। আমরা এগুলোকেই গণতন্ত্রের উত্কৃষ্ট উপাদান বা রূপ হিসেবে বেছে নিয়েছি। আমি মনে করি, গণতন্ত্র আমাদের অবশ্যই লাগবে। কারণ গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্রই। কিন্তু গণতন্ত্রকে খুঁজতে হবে ভিন্ন ফর্মে। অমর্ত্য সেন যেমনটি বলেছেন, তাঁর ‘দি আরগুমেনটিভ ইন্ডিয়ান্স’ বইয়ে। তাঁর মতে “উন্নয়ন মানে মুক্তি। সে অনুযায়ী গণতন্ত্র মানেই উন্নয়ন। উন্নয়ন বিষয়টির সঙ্গে রাজনৈতিক ও মানবিক মুক্তি, সামাজিক সুযোগ, স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তার বিষয়গুলো যুক্ত।” তবে রাজনীতি কম হওয়াটাই বরং ভালো। কারণ বাংলাদেশে তথাকথিত রাজনৈতিক যুদ্ধংদেহী কর্মসূচিগুলোকেই রাজনীতি বলা হয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যুদ্ধংদেহী এবং আক্রমণাত্মক কর্মসূচির মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই। কাজেই যুদ্ধংদেহী এবং আক্রমণাত্মক কর্মসূচিনির্ভর রাজনীতি যত কমবে, ততবেশি উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, মানুষের কথা বলার অধিকার, মানবাধিকার, অর্থাত্ মৌলিক অধিকার বিঘ্নিত করতে হবে। অমর্ত্য সেন যেমনটি বলেছেন, গণতন্ত্রহীন কর্তৃত্ববাদী চীন, মালয়েশিয়া বা সিংগাপুরের তুলনায় আমাদের দেশের জনগণ ঐতিহ্যগতভাবে উদার গণতন্ত্রে বেশি আগ্রহী এবং মুক্ত আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই সমাধানের পথ খুঁজতে অভ্যস্ত। যার কারণেই হয়ত টেলিভিশনের টকশোগুলো এত জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু রাজনীতির নামে আমাদের দেশে যেসব নেতিবাচক চর্চা হয়, তা কাম্য নয়। যেমনটি আমরা দেখেছি ২০১৪-১৫ সালে নির্বাচনের আগে ও পরে পেট্রোল বোমায় মানুষ পোড়ানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট ধ্বংস, পশু, গাছপালা নিধনসহ নানা সহিংস কর্মকাণ্ড। আমরা যদি এই সহিংস রাজনীতি পরিহার করতে পারি, তাহলে উন্নয়নের সঙ্গে এ রাজনীতিকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারব।                                                                       


স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই আমাদের দেশে দীর্ঘ সময় সামরিক শাসন ছিল। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আমাদের গণতন্ত্র কোনো না কোনোভাবে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিল। আর এটা করা হয়েছিল ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট, তথাকথিত নির্বাচন কিংবা সংসদ চালাবার নামেই। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টেই থাকতেন। এমনকি বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া ‘উত্তরপাড়াতেই’ ছিলেন। কাজেই আমাদের তথাকথিত গণতান্ত্রিক চর্চায় ক্যান্টনমেন্টের একটা প্রভাব ছিল। যদিও আমাদের পূর্বের নির্বাচন এবং সামনের নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা এবং সমালোচনার অনেক বিষয় রয়েছে। তারপরও আমরা কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হচ্ছি, কোনো সামরিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নয়। ১৯৭২-৭৩ সাল থেকে শুরু করে প্রায় ৩৪ বছর লেগেছে আমাদের মাথাপিছু আয় ৫২৩ ডলারে নিয়ে আসতে। কিন্তু ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল অর্থাত্ মাত্র ১০ বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় ১৬শ ডলার ছাড়িয়েছে। মানুষের আয় বেড়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে টেকসই করে, যেমনটি বলেছেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম পশেভোরেস্কি তাঁর ‘ডেমোক্র্যাসি এন্ড ডেভেলপমেন্ট: পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউশন এন্ড ওয়েলবিয়িং ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড ১৯৫০-১৯৯০’ বইয়ে।

তার গবেষণায় দেখা যায় “গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় মানুষের আয় বেড়ে গেলে এবং একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছে গেলে সেদেশে আর কখনো গণতান্ত্রিক শাসনের পতন হয় না।” বর্তমানে আমাদের জাতীয় সংসদ কতটা কার্যকর? তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এর আগের সংসদ কতটা কার্যকর ছিল? কিংবা তারও আগের সংসদ, যেটা তথাকথিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল, সে সংসদ কেমন ছিল? আমরা বলি সংসদে বিরোধী দল থাকতে হবে, গণতন্ত্রে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদে বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে ৭৪ শতাংশ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেনি। ৪১৮ দিনের মধ্যে মাত্র ১০দিন বিরোধী দলীয় নেত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। অষ্টম সংসদে বিরোধী দলের অনুপস্থিতির হার ছিল ৬০%। তাহলে মানে দাঁড়াচ্ছে, গণতন্ত্র হচ্ছে কেবল ভোট, নির্বাচন ও ক্ষমতা। দৈনন্দিন চর্চা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সবার অংশগ্রহণ নয়। গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বড় অনুষঙ্গ হচ্ছে বিতর্ক। অর্থাত্ যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিতর্কের মাধ্যমে সবার মতামত এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংজ্ঞায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত গণতন্ত্র নয়। এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত ৭ মার্চের ভাষণে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ন্যায্য কথা যদি একজনও বলে তবে তিনি যেই হোক না কেন, সংখ্যায় বেশি হলেও আমরা সেটা মেনে নিবো।’ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র মানে সেটাই। বেশিসংখ্যক লোক বললো বলেই সেটা গণতন্ত্র এমন সংজ্ঞা অন্য দেশে থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের এখানে প্রযোজ্য নয়। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ৭ মার্চের ভাষণে জাতির জনক গণতন্ত্র বলতে যা বুঝিয়েছেন, সেটা হলো ন্যায্য কথার গণতন্ত্র। মানুষ এবং সমাজ ব্যবস্থা এগিয়ে যাবেই, এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সময় লাগবে। পৃথিবী নামক গ্রহটি প্রায় চারশ’ কোটি বছরের পুরোনো। প্রায় ৪০ কোটি বছর আগ পর্যন্ত ডাইনোসরের অস্তিত্ব ছিল। ফুল, ফল, বৃক্ষ ৩০ কোটি বছর আগে থেকেই ছিল। কিন্তু মানুষ বলতে আমরা যাদেরকে বুঝি তাদের বয়স দুই লাখ বছর এবং বস্ত্রপরা মানুষের বয়স ৩৫ হাজার বছরের বেশি না। কাজেই সভ্যতার বিকাশে সময় লেগেছে। ইউরোপ এবং আমেরিকার দেশগুলোতে উদার গণতন্ত্র বলতে আমরা যা বুঝি, তা শত শত বছরের পরম্পরার মধ্য দিয়ে এসেছে। আমাদের মতো অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গণতন্ত্র একটি নাজুক ফর্মে রয়েছে। অর্থাত্ নাজুক ফুলের মতো। অর্থাত্ গণতন্ত্র একটু আঘাত পেলেই ঝলসে যায়। আমেরিকান চিন্তাবিদ রবার্ট কেগান তাঁর “ইজ ডেমোক্রেসি ডিক্লাইন?” বইয়ে উল্লেখ করেছেন, গণতন্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন আগাছা জন্মায়। কাজেই গণতন্ত্রের যত্ন করতে হয়। আর এই যত্ন বলতে তিনি বুঝিয়েছেন গণতন্ত্রের সাথে অর্থনৈতিক সামঞ্জস্য। অর্থাত্ গণতন্ত্রের নেপথ্যে অবশ্যই অর্থনৈতিক সমর্থন থাকবে। সেখানে যদি অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক একটি পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে পৃথিবীতে ১% লোকের হাতে ৫০% লোকের সম্পদ কুক্ষিগত। দুই বছর আগেও শতকরা ৪৮% লোকের সম্পদ ছিল ১% লোকের কাছে। ইকুইলিটি ট্রাস্ট এক গবেষণায় বলেছে— যুক্তরাজ্যের ১০০ ধনী ব্যক্তি সেদেশের মোট জনসংখ্যার ৩০%-এর সমপরিমাণ সম্পদের মালিক। অক্সফার্মের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালে ৮০% মানুষ মোট বৈশ্বিক সম্পদের মাত্র ৫.৫%-এর মালিক ছিল। বর্তমানে বিশ্বের ৬২ জনের কাছে ৩৬০ কোটি জনের সমপরিমাণ সম্পদ আছে। এটা দুই বছর পূর্বে ছিল ৮০ জনের কাছে। কাজেই মানুষের সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে। আমরা যেটাকে পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র কিংবা ভোটাভুটির গণতন্ত্র বলছি, অর্থাত্ মিডিয়ায় অবাধ কথা বলার গণতন্ত্র, সবকিছুই হুমকির সম্মুখীন হবে যদি  আয় বৈষম্য ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কাজেই পেটে ক্ষুধা থাকলে সুন্দর সুন্দর গণতন্ত্রের কথা আর বের হবে না।

গণতন্ত্র অবশ্যই মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বাড়ায়। আমরা রাস্তায় বৃদ্ধ লোকের রিকশায় উঠব কিনা। তখন মনে হবে এতো বুড়ো লোকের রিকশায় আমি উঠবো কী করে? তার কষ্ট হবে। তার কষ্টের কথা চিন্তা করে রিকশায় না উঠলে তিনি দুপুরে খেতে পারবেন না। কাজেই বৃদ্ধের রিকশায় উঠব কী উঠব না, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওই বৃদ্ধ দুপুরে খেতে পারবে কী পারবে না। গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন বলতে বিভিন্ন সমাজ ব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন নিয়ামক রয়েছে। তবে গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন একসাথে করার জন্য দরকার উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। কেবল উন্নয়ন করলেই হবে না। কারণ সিরিয়া, ইরাক এবং মিশরে উন্নয়ন হয়েছিল। কিন্তু ডলারের ভিত্তিতে উচ্চ ও মধ্য আয়ের দেশগুলো টিকেনি। না  টেকার কারণ হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতা। সেখানে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। সৌদি আরব এখন মাথাপিছু আয়ের হিসাবে অনেক ধনী। অর্থবিত্ত, প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ। সৌদি বাদশা যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে বিমানে করে স্বর্ণের সিঁড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমি মনে করি, সৌদি আরবের সে অর্থনীতিও টিকবে না। কারণ সৌদি আরবে যে শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান, তাতে আগামী ২০/৩০ বছরের মধ্যে তাদের  অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

নগরের সকলের ভোটে ক্ষমতা পালাবদলের যে ব্যবস্থা গ্রিক থেকে এসেছে, সেটাই তো গণতন্ত্র। আমরা দীর্ঘ সময় ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিলাম। কাজেই আমাদের এখানে গণতন্ত্রের কাঠামোও সেই ধাঁচের। বিশেষ করে ব্রিটিশ কাঠামোর। ভারতের সাথেও আমাদের গণতন্ত্রের মিল রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আসল গণতন্ত্র। সমাজে অন্যের ভালো মতামত গ্রহণ করার মন-মানসিকতা তৈরি না করা পর্যন্ত গণতন্ত্র সফল হবে না। এটা করতে না পারলে পাঁচ বছর পরপর সরকার পরিবর্তন হবে কিন্তু গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাত্ সরকারের পরিবর্তন হবে। আর ধর্ম আমাদের এখানে একটি বড় ফ্যাক্টর। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম ঘোষণাপত্র দেয়। সেখানে বলা ছিল, রাষ্ট্র হচ্ছে ইহজাগতিক, ধর্ম হচ্ছে পরজাগতিক। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা স্থান পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রথম ঘোষণাপত্রেই ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় ধর্ম হয়ে যায় প্রধান ইস্যু। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। রংপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ নিহিত আছে। এদেশের প্রায় সব নির্বাচনের সময়ই আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান হাতিয়ার হয় ধর্ম। এছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না। গণতন্ত্রের চর্চা আর ধর্মের অপচর্চা একসাথে চললে কোনোদিনই গণতন্ত্র টেকসই হবে না।


আজিজুল মালীক চৌধুরী: একজন সফল মানুষের প্রতিকৃতি-------সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

১২ মার্চ, ২০১৫ বুধবার সকালে সেলফোন বেজে ওঠে। রিসিভ করতেই এ পাশ থেকে “করুণ কণ্ঠ ভেসে এলো। আমি হেলাল। আপনার মালীক ভাই আর নেই।” কথাটা শোনার সাথে সাথেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। মালীক ভাই আমার প্রিয় মানুষ। পরম আপনজন। সেই ১৯৭৫ সালের কথা। আমি তখন সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। লেখালেখি শুরু করেছি। পাশাপাশি সংকলন ‘জীবন মিছিল’ প্রকাশ করছি। সংগঠন করার নেশাও পেয়েছে। ‘ধোপাদিঘির পার শাপলা কুঁড়ির আসর’ গঠন করেছি। সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা শাপলা কুঁড়ির আসরের কর্মকর্তাবৃন্দ এলেন। সেই সময় জেলা শাপলা কুঁড়ির আসরের অন্যদের সাথে এলেন আজিজুল মালীক চৌধুরী এডভোকেট। সেই থেকে পরিচয়। পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠতা। এক সময় শাপলা কুঁড়ির জাতীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আমি চাঁদের হাটের সাথে জড়িয়ে পড়ি। ১৯৮০ সালে চাঁদের হাট সিলেট শাখা পুনগর্ঠণ করে কার্যক্রম চালিয়ে আসতে থাকি। এক সময় আজিজুল মালীক চৌধুরীকে সভাপতি হিসেবে নিয়ে আসি। তিনি সভাপতি এবং আমি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাঁদের হাট সিলেট শাখার কার্যক্রম চলতে থাকে। মালীক ভাই একজন সজ্জন, বিনীয় ও স্পষ্টভাষী লোক। তিনি সব সময় নিয়ম মেনে চলতেন। নিয়মের বাইরে কোনো কিছু পছন্দ করতেন না। ঘড়ির সময় দেখে তিনি চলাফেরা করতেন। সময়কে মূল্য দিতেন।
মালীক ভাইয়ের সাথে সংগঠন করতে গিয়ে কোনো দিন কোনো রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়নি। তিনি আমাকে খুব ¯েœহ করতেন। পরামর্শ দিতেন। অত্যন্ত চমৎকার দিক নির্দেশনা দিতেন। সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিতেন সবকিছু। গুছিয়ে কথা বলতেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক চলে যাই। মাঝে মাঝে দেশের টানে, মায়ের টানে চলে আসি দেশে। দেশে এলেই মালীক ভাই এর সাথে দেখা হতো ৩নং বার হলের সেই ছোট রুমটিতে। পাশে বসাতেন আদর করে। মালীক ভাইর সান্নিধ্য পেতাম।
দেশে যে কয়দিন থাকার সুযোগ পেতাম মালীক ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসতাম। ২০১৫ সালে সামাজিক সংগঠন ‘স্বদেশ ফোরাম সিলেট’ কমিটি গঠন করি। মালীক ভাইকে সভাপতি করার প্রস্তাব করলে তিনি প্রথম দিকে রাজি না হলেও আমার পীড়াপীড়ি ও ব্যক্তিগত অনুরোধ তিনি ফিরিয়ে দেননি। পরবর্তীতে মালীক ভাই সভাপতি পদে সম্মতি দেন। তাঁকেই সভাপতি করে ‘স্বদেশ ফোরাম সিলেট’ গঠিত হয়।
আজিজুল মালীক চৌধুরী একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল তাঁর প্রবল। তিনি ছিলেন সিলেটের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের একজন উজ্জ্বল প্রিয় মুখ। প্রতিদিন তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়াতেন বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি বিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মৃত্যু সংবাদে সবার আগে ছুটে যেতেন এই প্রিয় সফল মানুষটি।
সিলেটের ক্রীড়া অঙ্গণেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত। সিলেট স্টেডিয়ামে তাঁর ছিলো নিয়মিত যাতায়াত। তিনি সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথেও জড়িত ছিলেন ওতোপ্রোত ভাবে। একসময় তিনি ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তিনি ছিলেন নিরহংকার, সৎচরিত্রের আদর্শ মানুষ। সদালপি ও হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন সবসময়। তিনি সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতিও ছিলেন। জেলা বারের আইনজীবিদের সাথে ছিলো তাঁর আত্মার সম্পর্ক। ব্যক্তিগত লোভ-লালসার উর্ধ্বে ছিলেন তিনি। জীবনে বিত্তের পেছনে ছুটেননি, ছুটেছেন চিত্তের পেছনে। বিত্তশালী আজিজুল মালীক হননি ঠিকই কিন্তু জীবনে হয়েছেন একজন সফল সমাজসেবক।
সেলফোনে মালীক ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ জানান যিনি, তিনি হলেন মালীক ভাইয়ের আদরের একমাত্র জামাতা। নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটির সুপরিচিত নাম। ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল। একজন সমাজসেবী ও সংগঠক। জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর ফোন পেয়ে সাথে সাথে আমার ছোট ভাই আবদালকে সংবাদ জানাতে ফোন দিলে জানতে পারি সে মালীক ভাইয়ের বাসায়। এরপর ফোন দিলাম সিলেট সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি পুলিন রায়কে। তিনিও মালীক ভাইয়ের বাসায়। ২০১৫ সালে তিন মাস দেশে অবস্থানকালে মালীক ভাইয়ের সাথে অনেক অনুষ্ঠানে একসাথে ছিলাম। সেইসব মধুর স্মৃতি বার বার মনকে শিহোরিত করে। বিশেষ করে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে বঙ্গবীর ওসমানীর কবর জিয়ারতের স্মৃতিটা বার বার চোখে ভাসছে। ওইদিন রাতে ‘স্বদেশ ফোরাম সিলেট’ আয়োজিত বঙ্গবীর ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় সভাপতিও ছিলেন তিনি। আমাদের সাথে তাঁর শেষ অনুষ্ঠান ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেট সাহিত্য পরিষদ ও স্বদেশ ফোরাম সিলেট এর আয়োজনে মা কমিউনিটি সেন্টারে। নিউইয়র্কে যাবার দুদিন আগে সিলেট জেলা বারের ৩নং হল রুমে দেখা করে বিদায় নিয়ে তাঁর দোয়া চেয়ে আসি। তিনি একটি ডায়েরি এবং ২০১৫ সালের একটি টেবিল ক্যালেন্ডার উপহার দেন।
এমন অনেক অনেক স্মৃতির কথা মনে পড়ে, তাঁকে ঘিরে। লিখতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যায়। ভাবনারাজ্যে ভাবনাগুলো কেমন খন্ড খন্ড চিত্র হয়ে ভেসে ওঠে। মনটা ডুকরে কেঁদে ওঠে। কেমন শূণ্যতা অনুভূত হয় চারপাশে। মালীক ভাইয়ের স্মৃতিগুলো ভুলবার নয়। ভুলবার নয় আকাশের মতো উদার মনের মানুষটাকে। তিনি ছিলেন আমার সাংগঠনিক জীবনে চলার পথের অভিভাবক। এমন একজন অভিভাবককে হারিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হলো আমার-আমাদের সকলের।
উল্লেখ্য, এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী ১৯৪৫ সালের ১৬ জানুয়ারি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের চরমোহাম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মদন মোহন কলেজ সিলেটের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল মালীক চৌধুরী এবং মাতা মরহুমা আছিয়া খাতুন চৌধুরী। তিনি ১৯৬০ সালে লালাবাজার হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৩ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে আইএ, ১৯৬৫ সালে এম সি কলেজ থেকে বি.এ এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল বি পাশ করেন। তিনি ১৯৬৮ সালের ৪ ডিসেম্বর সিলেট জেলা বারে যোগদান করেন। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি


মতামত = কথামালার রাজনীতি এবং পরকালের ভাবনা : আবু সাঈদ রতন

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

মানুষের জীবনে চরম সত্য কথাহলো সকলকেই মরতে হবে। কেউ হয়তো স্বভাবিক মৃত্যু বরণ করেন; আবার কেউবা অস্বাভাবিকভাবে। যেভাবেই হউক, মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এই উপলব্ধি আমরা অনেকেই করতে চাই না।
আমাদের হাবভাব দেখে মনে হয়-আমরা অমর। আমাদের সম্পদ চীরস্থায়ী, চাহিদার বাইরেও আমরা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলি। দেশ বিদেশে আমরা অর্থ নামে বেনামে লুকিয়ে জমা করি। ধনী-গরীবের ব্যবধান এভাবেই পুরো বিশ্বে বাড়তে থাকে। এই জীবন মৃত্যু নিয়ে সাধারণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতেই ব্যাখ্যা করা হয়, আলোচনা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের মাঝে যখন এই বিষয়ে বক্তব্য আসে তখন কিন্তু অবাক হতেই হয়।
প্রিয় পাঠক, উপরের কথাগুলো বলা হচ্ছে - সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে (প্রকারান্তরে আওয়ামীলীগকে) বলেছেন, আপনাদের সময় প্রায় শেষ। শেষ সময়ে ঘোঁ ঘোঁ করে লাভ নেই। ক্ষমতা শেষ হলে কী করবেন? পরকালের চিন্তা করেন। যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন আমরা ক্রমশো আধারে ঢেকে যাচ্ছি। গভীর সংকটে দেশ। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন দেশের গণতন্ত্র এখন গভীর খাদের কিনারে।
অপর দিকে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিই এখন খাদের কিনারে। অন্য একজায়গায় নিজ দলের সমাবেশে বলেছেন টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী এসবকে দলে জায়গা দেওয়া হবে না। অন্য দলের সাথে আদর্শের ঐক্য করেনা- স্বার্থের ঐক্য করেন।
উপরোক্ত রাজনৈতিক কথামালা থেকে আমরা একটি বিষয়ে বুঝতে পারি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা নেত্রীদের মনে আত্বপোলব্ধি এবং পরকালের ভাবনা কিছুটা হলেও এসেছে। আওয়ামীলীগকে পরকালের ভাবনা ভাবতে বলে মির্জা ফখরুল কি বুঝাতে চেয়েছেন? মৃত্যুর পর পরকাল? নাকি রূপক অর্থে ক্ষমতা হারানোর পরের সময়কে বুঝাতে চেয়েছেন? পরকাল তো আর ক্ষমতায় কে আছে -কে নেই সেই বিচার করে আসে না। যে কোন সময় যে কারো জন্য এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ধরে নিলাম মির্জা ফখরুল ক্ষমতা হারানোর পরের সময়টাকে বুঝাতে চেয়েছেন। কারণ এই উপলব্ধি বিএনপি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে কি অবস্থা হয় তা এখন বিএনপি-জামায়াতই বুঝতে পারছে। আওয়ামীলীগের উচিৎ এর থেকে শিক্ষা নেওয়া। মির্জা ফখরুল হঠাৎ করেই সরকারের বিরুদ্ধে এতো কঠোর কথা বলা শুরু করলেন কেন? এটা কি বিএনপির নীতি নির্ধারকদের কাছে তার অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য? না কি সহ্যের বাধ ভেঙ্গে গেছে? সময় বলে দিবে এর উত্তর। তবে রাজনীতিকে ঘিরে কথামালার রাজনীতি বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছে।


ডা. মিলন চত্তরে ফুল দিতে গিয়ে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে  বলেন, আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্য করে নি। তাহলে কি আমরা ধরে নিবো স্বার্থের কারণে আদর্শকে দুরে ঠেলে দিতে হবে? আদর্শবিহীন রাজনীতি আমাদের দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে যাবে তা ভাবার সুযোগ এসেছে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠেছে ক্ষমতায় যেতে হলে এককভাবে কোনদলই প্রয়োজনীয় সমর্থন আশা করে না বা নির্ভর করতে পারছে না। তাই আদর্শহীনদের সাথে করেই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বৃহৎ  রাজনৈতিক দলগুলো।
বিএনপি যে কারণে জামায়াতকে নিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছে সেই কারণে আওয়ামীলীগ জাতীয়পার্টিকে নিয়ে জোট করে ক্ষমতায় গিয়েছে। জামায়াত রাজাকার এবং জাতীয়পার্টি স্বৈরাচার তকমা নিয়ে রাজনীতিতে বহাল তবিয়তে আছে। জনগণ এখান থেকেই বাছাই করে নিচ্ছে রাজাকার নাকি স্বৈরাচার। স্বৈরাচারি মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিন্তু রাজাকার মনোভাবকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটা সমাজের ক্যান্সারের মত। সুযোগ পেলেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করে দিবে উই পোকার মত।
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদিতে তথাকথিত খাদের কিনার থেকে তুলে আনতে হলে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে গণতন্ত্রের প্রাকটিস জরুরী। দলের নেতা নেত্রীদের কথা বলায় স্বাধীনতা দিতে হবে। দলের কোন কর্মকান্ড জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে নিজ দল থেকেই প্রতিবাদ করতে হবে। কিন্তু আমরা কি তা করছি? দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন দলকে স্বৈরাচারি হতে শেখায়। দেশের অগ্রযাত্রায় জনগণতে মূল্যবান ভূমিকা  রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কথামালার রাজনীতিতে কথাগুলো শুধু কথার কথা হউক আমরা তা চাই না। আমরা চাই রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা যা বলবেন-তা যেন তারা নিজেরাই আগে বিশ্বাস করেন। ইতিহাস বলে জনগণ শেষ পর্যন্ত সত্যের পথেই থাকে।
আর পরকালের ভাবনা? তাতো সকলের জন্যেই।
-লেখক, সম্পাদক ইউএস বাংলা নিউজ, নিউইর্য়ক


মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতির হালচাল।আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

সৌদি রাজপরিবারের আগ্রাসনের জিহবায় এবার জাতিসংঘের হাত উঠছে।যুদ্ধ-কবলিত ইয়েমেনের ওপর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেয়ার কথা বলেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী মার্ক লোকক শুক্রবার এ কথা বলেছেন।তিনি বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব জোটের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের কারণে দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ আজ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশটির ওপর থেকে অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে।

মার্ক লোকক বলেন, “অবরোধ আংশিক তোলা হয়েছে কিন্তু পুরোপুরি তোলা হয়নি। যদি আমরা ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে চাই এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে চাই তাহলে এ অবরোধ অবশ্যই তুলে নিতে হবে।” তিনি বলেন, ইয়েমেন এমন বিপর্যয়ের কিনারায় রয়েছে যা বহু দশক ধরে বিশ্ব দেখে নি।জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, “যুদ্ধের কিছু আইন-কানুন আছে এবং লোকজনকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।”

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর বর্বর সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এতে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে এবং ঘর-বাড়ি ও না ধরনের অগণিত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে।১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ নভেম্বরকে "আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে।নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে ফিলিস্তিনীদের অধিকারকে সমর্থন জানালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

 বার্তা সংস্থা রিয়া-নোভস্তি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এক অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মন্তব্য করেন।রুশ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় আরও বলেন, ফিলিস্তিনীদের মাঝে বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।একইসঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের উপর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা উচিত বলেও অভিনন্দন বার্তায় উল্লেখ করেন তিনি। মি. পুতিন  গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চলতি মাসের প্রথম দিকে হামাস ও ফাতাহ আন্দোলন জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁচেছে। আশা করা হচ্ছিল- এ চুক্তির পর দু দলের মধ্যে এক দশকের  মতানৈক্য দূর হবে। তবে এই চুক্তির ফলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের  প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষুব্ধ হয়েছেন। চুক্তির পর তিনি দাবি করেছেন, নতুন সরকারের তরফ থেকে অবশ্যই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক ছিন্ন এবং হামাসের সামরিক শাখা বিলুপ্ত করতে হবে। একই দাবি জানিয়েছে আমেরিকা।  

গত সেপ্টেম্বরে হামাস ও ফাতাহ আন্দোলন মিশরের রাজধানী কায়রোয় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে হামাস গাজায় তাদের প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেয় এবং মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আমন্ত্রণ জানায়। ঐক্য প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ২০০৭ সালের পর থেকে গাজায় হামাস ও পশ্চিম তীরে ফাতাহ আন্দোলনের শাসন চলছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। পবিত্র আাল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এ যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।গতকাল (শুক্রবার) ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দেন। তার এ বিবৃতি ফিলিস্তিনের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করা হয়।

আব্বাস বলেন, ইসরাইল নিরাপত্তার নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যে নতুন এ দমন-পীড়ন শুরু করেছে। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের পক্ষে আমি ঘোষণা করছি যে, ইসরাইল তার নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।” গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে মাহমুদ আব্বাস এ বিবৃতি দিলেন।   

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা এবং জামাতা জেরার্ড কুশনার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সফরের সময় ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কথিত শান্তি প্রক্রিয়া আবার শুরু করার লক্ষ্যে কুশনার দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর সেনারা ট্যাংক ও বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি অবরোধের কারণে যখন গাজার জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত তখন এই হামলা চালালো ইসরাইল।

ইজরাইলি সেনারা এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার বেইত হানুন এলাকায় ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের চারটি অবস্থানে তারা হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সেনারা দাবি করেছে, সীমান্তে তাদের অবস্থানে গাজা থেকে ১৫টি মর্টারের গোলা ছোঁড়ার পর তারা কামানের গোলা বর্ষণ ও বিমান থেকে হামলা করেছে। ইসরাইলি হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি।

এদিকে ইরাক ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের সীমান্তবর্তী কিরকুক প্রদেশের ওপর সোমবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরাকি বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে কিরকুকে অবস্থানরত কুর্দি পিশমার্গা বাহিনী শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর হাতে কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ আসার পর সেখানকার সব সরকারি অফিস আদালত থেকে কুর্দি পতাকা নামিয়ে ইরাকের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী এবাদি কিরকুকে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের প্রতিটি জনগণ ইরাকের জাতীয় পতাকার মালিক এবং এই পতাকা দেশের প্রতিটি প্রান্তে আকাশে উড়বে।

লেবানননের পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা কমেছে।হারিরির কার্যালয় থেকে গতরাতে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেমনটি জেনেছেন যে, সবকিছু ইতিবাচক ভাবে চলছে এবং যদি এভাবে চলে তাহলে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন ও সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরিকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ আগামী সপ্তাহে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করব।”লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে বার্তা পাঠিয়েছেন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।হিজবুল্লাহ মহাসচিবের ওই বার্তা


বিদেশ মানে যন্ত্রণা, নয় ফুলের বিছানা

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

লেখকছোটকাল থেকে একটি প্রবল ইচ্ছা আমার মাঝে কাজ করত আর তা ছিল বিদেশ যাওয়া। অনেক ছোট থাকতে নাটক ‘দুবাইওয়ালা’ দেখে এই ইচ্ছাটা আমার মধ্যে বাসা বেঁধেছিল। এই নাটকটি আমাদের এলাকায় তথা চট্টগ্রাম এলাকায় খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ছোট-বড়, যুবক-যুবতী—সবার কাছে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। অনেক আগের কথা, নাটকটির কোনো দৃশ্য বা থিম আজ আমার মনে পড়ছে না। তথাপিও নাটকটির কথা মনে পড়লে আজও আমার হৃদয় এক অজানা আবেশে জড়িয়ে যায়।

তখন আমাদের চট্টগ্রামের মানুষ দুবাই যাওয়ার জন্য ঘর-বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিত। দুবাই নিয়ে চট্টগ্রামে অনেক আঞ্চলিক ভাষার গান মানুষের মুখে মুখে ছিল। গানগুলো তখন স্টাইলিশ যুবক-যুবতীদের ঠোঁটের মধ্যেই থাকত। বিয়ে বাড়িতে মাইকে দুবাইকে নিয়ে গান না বাজালে চলতই না। তখন আমার ভালো করে বুঝ হয়নি, তবও মনের মধ্যে কেন যেন বিদেশের স্বপ্ন বাসা বেঁধেছিল। মনে হয়, দুবাইয়ের কথা শুনতে শুনতে তা মনে গেঁথে গিয়েছিল।
দুবাই ছাড়াও আরও একটি কারণে বিদেশের প্রতি আমার চরম অনুরাগ কাজ করত, তা হলো রেঙ্গুন শহর। আমার মায়ের মুখে এই শহরটির কথা শুনতে শুনতে আমি মনের অজান্তে কোনো এক অজানা দেশে হারিয়ে যেতাম। তখন দুবাইয়ের নাম চট্টগ্রামের মানুষ জানত না। তাদের একমাত্র স্বপ্নের দেশ ছিল রেঙ্গুন। যা বার্মা তথা মিয়ানমারের রাজধানী, বর্তমানে ইয়াঙ্গুন নামে পরিচিত। আমার দাদা বা দাদার-দাদাদের আমলে এই রেঙ্গুন শহর নিয়ে মানুষ স্বপ্ন দেখত। রেঙ্গুন শহর নিয়েও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক পুরোনো গান আছে।
বর্তমান যুবক-যুবতীদের স্বপ্নের দেশ লন্ডন, আমেরিকার মতো রেঙ্গুন শহর ছিল তখনকার যুবকদের স্বপ্নের দেশ। মায়ের কাছে শুনেছি, রেঙ্গুন শহরে গিয়ে অনেকে আর কোনো দিন ফিরে আসত না। অনেকে বিয়ে করে, সংসার করে জীবন কাটিয়ে দিত সেখানে। অনেকে আবার বহু বছর পর বিবাহিত বউ নিয়ে ফিরে আসত। মায়ের কথাগুলো আজ খুব বেশি মনে পড়ছে। কারণ আমার মায়ের ভাষ্যটা হুবহু লন্ডন শহরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এখানে আমার অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, যাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছে কিন্তু তাদের চতুর্থ প্রজন্মরা বাংলাদেশ চেনে না। অনেক বাঙালিরা বিদেশিদের বিয়ে করে বাংলাদেশ নামের দেশটাকে আর চিনতে চায় না।

Picture
দিন পাল্টাচ্ছে কিন্তু মানুষের চিন্তা ভাবনাগুলো একই রয়ে গেছে। তখন ছিল রেঙ্গুন শহর আর এখন লন্ডন শহর। অতীতে মানুষ অজানাকে পুঁজি করে রেঙ্গুন শহরে যেত আর হারিয়ে যেত। এখনো কাহিনি অনুরূপ রয়ে গেছে, মানুষ স্বপ্নের দেশ ইংল্যান্ডে আসার পর আর দেশে ফেরত যেতে চায় না। বিভিন্ন কারণে, মানুষ এসব দেশে থেকে যেতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যে নাগরিকত্ব না পাওয়ার কারণে মানুষ তার নিজের দেশে ফিরে যেতে পারে। তবে অনেকেই জীবনের শেষ বেলায় ফেরে বিধায়, তাদের দুই কুল হারায়। দুই কুল বলতে, সংসার ও জীবনের কোনো সুখ তারা পায় না। সেদিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে মানুষ এক কুল হারায়। যাকে আমি বলি জীবন। জীবনের মধুমাখা সুখপাখি হারিয়ে যায়।
প্রথম যখন লন্ডন শহরে এসেছিলাম, স্বপ্নের দেশের শহরগুলো যে প্রাণহীন, তা বুঝতে পেরেছিলাম। নিজের দেশে অনেক সুখে ছিলাম তা টের পেয়েছিলাম। সারা জীবন লন্ডন, আমেরিকার জন্য পাগল ছিলাম। মনে মনে ভাবতাম, সেসব দেশ কেমন জানি। ভাবতাম, সেসব দেশের মানুষ অনেক সুখে থাকে। আহা যদি যেতে পারতাম! সত্যি কথা বলতে, আমি সেসব দেশের পাখি, মাটির কথাও ভাবতাম। ভাবতাম আহা স্বপ্নের দেশের পাখিরাও কত সুখে থাকে! যদি আমার কাছে পাখির মতো ডানা থাকত! আমিও তো স্বর্গের দেশগুলোতে যেতে পারতাম।
কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন। যা লন্ডন শহরে পা ফেলে টের পেতে শুরু করেছি। আজও কষ্টের বোঝা বয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোন অজানা কারণে লন্ডন শহরটাকে ভালোবেসে ফেলেছি, জানি না। যদি কখনো এ শহর থেকে চলেও যাই, ভুলতে পারব না এই শহরকে এবং এই শহরের মানুষ ও আলো-বাতাসকে!

মোহাম্মদ আবদুল মালেক: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।


এবার রামুথেকেরংপুরেরঠাকুর পাড়ার সহিংসতা= প্রদীপমালাকার, নিউইয়র্ক

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রংপুরের জৌনক টিটুরায় নামক এক যুবকের বিরুধবে মহানবী( সাঃ) কে নিয়ে মিথ্যা কটূক্তি করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতেরঅভিযোগ তুলে গত ১০ই নভেম্বর রংপুরের পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামে স্থানীয় কয়েক হাজার মুসল্লি  হিন্দুদের ৩০ টি বাড়ি, ঘর, মন্দিরে হামলা , লুটতরাজ ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় । পত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যায়(১২ই নভেম্বর ২০১৭, ভোরের কাগজ) রংপুরের পাগলাপীর এলাকার ঠাকুরবাড়ি গ্রামে  হামলা ও আগুন দেওয়ার নেপথ্যে জামায়াত শিবির জড়িত । পরে  তাদের সাথে বিএনপি , আওয়ামী লীগ সহ সব দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী সহিংসতায় জড়িত হয়ে পড়ে ।  এদের মধ্যে ওলামা দলের সভাপতি ইনামুল হক মাজেদি, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আইয়ুব আলী ,জেলা পরিষদের প্রকৌশলী ও প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার  ঘনিষট ভাজন ফজলার রহমান ।
পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায় , আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত ইউপিঃ চেয়ারম্যান ইকরামুল , ইউপিঃ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ,ও হরিদেব পুর  ইউপিঃ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের জড়িত থাকার প্রমান পাওয়াগেছে ।  মজার ব্যাপার হলও , আওয়ামী লীগের সেই জনপ্রতিনিধিরাই আবার হামলার প্রতিবাদ জানাতে কর্মীবাহিনী নিয়ে সানপ্রদায়িক সনপ্রীতি সমাবেশে অংশ নিয়েছে । হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর তারাই আবার সংবাদ স ন্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে ।  রংপুর সিটি নির্বাচনকে  সামনে রেখে রাজনউতিক হীন উদ্দ্যেশ্যে সানপ্রদায়িক সনপ্রীতি বিনষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে ।
অন্যদিকে যেই টিটু রায়কে নিয়ে এত তুলকালাম কাণ্ড, সেই টিটু রায় সমন্ধে গ্রামের লোকজন ও পরিবার জানিয়েছে ,টিটু কোন লেখাপড়া জানে না । কোন মতে নিজের নামটা স্বাক্ষর করতে জানেন । ছয় বছর যাবত পাওনাদারের টাকার ভয়ে বাড়ি ছাড়া । পুলিশ নীলফামারীর জলডাঙ্গা
থেকে টিটু রায়কে গ্রেপ্তার  এবং দুই দুইবার রিমান্ডের পর আদালতের আদেশে  অযামিন যোগ্য
হিসেবে কারাগারে আটক আছেন । অথচ মূল স্ট্যাটাস দাতা হলেন খুলনার মাওলানা আসাদুল্লাহ হামিদী । যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ , দিঘলীয়া উপজেলার সভাপতি । তিনি গত ১৮ই অক্টোবর স্পর্শকাতর স্ট্যাটাসটি দেন এবং ৫ই নভেনবর পর্যন্ত ৮৭ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ওয়ালে শেয়ার দিয়েছে , যাদের একজন রংপুরের এমডি টিটুঁ ।  টিটুর নামে শেয়ার দেওয়া হয় ১৯ শে অক্টোবর । এই  আসাদুল্লাহ হা মিদী কালের কণ্ঠের প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করে, বলেন  রাকেশ মণ্ডল নামে সিলেটের এক ব্যক্তি ঐ কাজ করেছে ।( ১২ই নভে; কালের কণ্ঠ)    তারপর আমি ডাঊণলোড ও মন্তব্য লিখে প্রচার করি । তারই প্রচারের অংশ হিসেবে রংপুরের এমডী টিটু  ৫ই নভেনবর হয়ে যায় টিটু রায় ।
গত বৎসর ব্রামণবাড়িয়াজেলারনাসিরনগরউপজেলায়কথিতরসরাজদাসনামেএকব্যাক্তিরফেইসবুকেকাবাঘরেরউপরহিন্দুদেবতামহাদেবেরছবিপ্রকাশপাওয়ায়ধর্মীয়অনুভূতিতেআঘাতেরঅজুহাততুলেধর্মান্ধগুষ্টি৭১এরহায়ানারমতহিন্দুপল্লীতেতাণ্ডবচালায়।তারা হিন্দুদের তিনশতাধিক বাড়ি  ও পাঁচটি মন্দিরে হামলা, ভাংচুর,লুটতরাজের পাশাপাশি মহিলাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় ।পুরোহিত সহ আহত হয় শতাধিক নারী পুরুষ । অনুরূপভাবে ২০১২ সালে ধর্মান্ধ গুষ্টি কক্সবাজারের রামু উপজেলার বৌদ্দ পল্লিতেতিনশতাধিক বাড়ী ঘর,                                                                                                          অসংখ্য প্যাগোডা সহ পাচশত বছরের পুরনো এউতিহাসিক নিদর্শন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটতরাজ , ভাংচুরসহ নারী নির্যাতন চালায় । এখানেও  উওম বড়ুয়া নামে অল্প শিক্ষিত এক যুবকের ফেইস বুকে ইনসালট  আল্লাহ বা পবিত্র কোরানের উপর নগ্ন নারীর পা রাখার ছবিকে কেন্দ্র করে উক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্দে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে জামায়াতসহ ধর্মান্ধগুষ্টি রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সহয়তায় রামুর বৌদ্দ পল্লী , আনোয়ারা সহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে সানপ্রদায়িক তাণ্ডব চালিয়েছিল । রামুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল,কথিত উওম বড়ুয়ার সাথে স্থানীয় শিবির  ক্যাডারের সখ্যতার সুযোগ নিয়ে উওমের ফেইস বুক আইডি চুরি করে তার মাধ্যমেই কারসাজির ঘটনাটি  ঘটেছিল । পুলিশ পরে তাকে গ্রেপতারও করেছিল ।
২০১১সালেচত্রগ্রামেরনন্দিরহাটেরঘটনায়জামায়াতিরাতুচ্ছঘটনাকেকেন্দ্রকরে৫০টাকাদিয়েলোকভাড়াকরেরাতেরআধারেমসজিদেরদেওয়ালভেঙ্গেহিন্দুদেরউপরদোষচাপিয়েসানপ্রদায়িকহামলাকরছে।২০১২সালের৪আগস্টদিনাজপুরেরচিরিরবন্দরউপজেলায়দেড়শতবছরেরপুরনোকালীমন্দিরথেকে৫০০গজদূরেমসজিদনির্মাণেরপ্রস্থাবকেবিকৃতিকরেজামায়াতনেতাতোয়াবহাজীরনেতৃত্বেওউপজেলাচেয়ারম্যানআফতাবউদ্দিনমোল্লারউস্কানিতেধর্মীয়অনুভূতিতেআঘাতেরউছিলাদিয়েহিন্দুঅধ্যুষিতগ্রামেবাড়িঘরেলুটপাট , আগুনওমন্দিরধ্বংসকরে।একইবছরেরসাতক্ষীরারফতেহপুরগ্রামে২৬শেমার্চস্বাধীনতাদিবসউপলক্ষ্যেআবুল মনসুর সাহেবের রচিত ”হজুরের কেবলা” নাটকটিতে  নাকি নবীজী সমন্ধে কটাক্ষ করা হয়েছে – এই মর্মে স্থানীয় পত্রিকায় এক জামায়াত সাংবাদিক এক প্রতিবেদন ছাপে । উক্ত মিথ্যা প্রতিবেদনকে আশ্রয় করে জামায়াত নেতারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উছিলা তুলে ফতেহপুর গ্রাম এবং দুইদিন পর পার্শ্ববর্তী চাকদহ গ্রামে হিন্দু সনপ্রদায়ের অসংখ্য বাড়িঘর , ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হয় । (পরবর্তীতে তদন্তে প্রতিবেদনটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে সাংবাদিকে গ্রেফতার করা হয় । )   
২০১৪সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে যশোরের মালোপাড়ায়  বিকেলের দিকে ৪ জন মুসলমানকে মালোপাড়ায় হত্যা করা হয়েছে –এমন গুজব রটিয়ে উক্ত গ্রামে র ১২৫ টি হিন্দু বসত বাড়ী, মন্দিরে  আগুন, লুটপাট ও মহিলাদের শালীনতা ঘটানো হয়েছে ।  এরকম আরও অনেক ঘটনা গত দেড় দশকের আওয়ামী আমলে ঘটছে , যার সব ঘটনাগুলি একিই সূত্রে গাথা।             এক দিকে হিন্দুদের উপর  আক্রমণ  করে দেশ থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া এবং হিন্দুদের কাছে আওয়ামী লীগকে  জনপ্রিয়হীন করে  ভোট ব্যাংকে ধস নামানো।  অন্যদিকে ভারতসহ বন্ধুদেশের সমর্থন প্রত্যাহারএবং সরকারকে বেসামাল অবস্থায় নিয়ে যেতে ও যুদবাপরাধীদের বিচার ঠেকাতেই জামায়াত সহ ধর্মান্ধ গুষ্টি এরকম ফন্দি এঁটেছিল বলে রাজনউতিক পণ্ডিতদের ধারণা । সবগুলি ঘটনাতেই আইনশৃঙ্গলা বাহিনীকে  হামলার আগে ভিকটিমরা  খবর দিলে কিংবা সাহায্যের জন্য কাকতি মিনতি করে ও ব্যর্থ হয়  । রাজনউতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব  আন্তরিক থাকলেও  সরকারের  ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা সানপ্রদায়িক দুষ্ট চক্র ,অদক্ষ , অদূরদর্শী কিছু মন্ত্রী ,সাংসদ , আমলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের দুর্বলতার কারনেই ধর্মীয় সংখ্যালঘূরা যথা সময়ে নিরাপওা পায় না ।২০১৫ সালের মানবাধিকার  প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, হিন্দদের সনপত্তি দখল ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ , বিএনপি,বা অন্য রাজনউতিক দলের নেতাদের মধ্যে পাথক্য দেখা যায়নি। রাজনউতিক পরিচয় ও আদর্শ থেকে বের হয়ে এসে তারা সনপত্তিদখল ও নির্যাতনে অংশ নিয়েছে ।যেমন গত১৩ই মার্চ বরগুনার তালতলি উপজেলার চন্দনতলাগ্রামে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা একযোগে ১৪টি হিন্দু পরিবারে হামলা করে তাদের ৪০ একর জমি দখলের চেষ্টা করে ।
নাসির নগরে ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বে কোন্দল ও ব্যক্তি স্বার্থ জড়িত থাকায় মৌলবাদীদের উস্ককে দেওয়া হয় । তার উপর আছে ,দুই প্রধান রাজনউতিক দলের  একে অপরের বিরুধবে দোষারোপের রাজনীতি ।কোন কোন ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা জামায়াত বিএনপির চেয়েও অতি উৎসাহি হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া  দেখিয়েছে ।আর বিরোধী পক্ষ সেই সুযোগ লুফে নিয়ে হিন্দু নির্যাতনের তকমাটাতাদের গায়ে ও  লাগিয়ে দিয়েছে।সেই পুরাতন বানর ছাগলের গল্পের মত,বানরহাঁড়ির সব মাখন খেয়ে সামান্য কিছু মাখন ছাগলের দাঁড়িতে লাগিয়ে  দিয়ে বাড়ীরমালিকেরপ্রশ্নের জবাবে বলে আমি খাইনি ছাগল খেয়েছে।
রামুর ঘটনায় আমরা দেখেছি, বিএনপি-জামায়াত ও ধর্মান্ধ দল্গুলির প্রতিবাদ, সমাবেশ মিছিলের পাশাপাশি যুবলীগ , ছাত্র লীগ, মৎস্য জীবী লীগ ও মিছিল সমাবেশ করেছ।ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা চেয়ারম্যানের  সমাবেশে বক্তব্য শেষ হওয়ার ঘণ্টা খানিক পরই জামায়াত-বিএনিপ ও ধর্মান্ধগুষ্টি রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সহয়তায় রামুর পল্লিতে হামলায় ঝাপিয়ে   পড়েছিল । ব্রামণবাড়ীয়ার নাসিরনগরের ঘটনায় জামায়াত সমর্থিত আহলে সুন্নত জামায়াত ও হেফাজত ইসলাম প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ।পাশাপাশিএকইদিনেআওয়ামীলীগেরইউনিয়নপর্যায়ের তিন নেতার নেতৃত্বে ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল হয় । তারপর দিন
মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরাট বিক্ষোভ মিছিল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  নাসির নগর সদরের দত্ত পাড়া, ঘোষ পাড়া, নমশূদ্র পাড়ায় হামলা সহ  প্রত্যন্ত হরিণবেড় গ্রামের তিনশত বাড়ীঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় ।  প্রিয় পাঠক, গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে পরে বলা হয় বাহির থেকে ডাঊণলোড করে এবং “রসরাজ দাশের “আইডি চুরি করে তার মোবাইলে পাঠানো হয় । রসরাজ নিজেও এই বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে ।
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পর পুলিশ এসে রসরাজকে  গ্রেপতার করে থানায় নিয়ে যায় ।     এখানে তিনটি ঘটনায় টিটু রায়,রসরাজ কিংবা উওম বড়ুয়ারা তো কোন নামি দামী, সংগঠন নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন না । তারা  ছিলেন গ্রামের মধ্যেই অপরিচিত , অশিক্ষিত   খেটে খাওয়া অতি দরিদ্র  পরিবারের সদস্য ।তাদের  বিরুধে বড় বড় মিছিল , সমাবেশ কিসের লক্ষণ ছিল ?  অতীতের এ ধরনের ঘটনা থেকে তা আওয়ামী নেতারা বা প্রশাসন কিজানতো না ? আর গঙ্গাচড়ার ঠাকুর পাড়া,নাসিরনগর ও রামুসহ  এ সকল হামলায়  বিরোধী দল বিএনপি বলছে ,আওয়ামী লীগ ঘটিয়েছে । আর আওয়ামী লীগ দোষ চাপাছে বিএনপি জামায়াত ঘটিয়েছে ।  যারাই  ঘটাক , ভিকটিমসহ দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ ধারাবাহিক দৃশ্যমান ঘটনা প্রবাহের মধ্যদিয়েই বুজতে পারে কারা ঘটিয়েছে ।কিন্তুব্লেইমগেইমেরএইআত্নঘাতিরাজনীতিরকারণেএকবারযদিধর্মীয়সংখ্যালঘুরাআওয়ামীলীগবাবিএনপিরথেকেমুখফিরিয়েনেয়, তবেকারালাভবানহবেতাউভয়বড়দলকেইঅনুধাবনকরতেহবে।সরকার
ক্ষমতায়আশারপরধর্মীয়সংখ্যালঘুদেরনিরাপত্তাবিধানেএবংনির্যাতনেরঘটনাগুলিরদ্রতনিস্পতিকরতেবিশেষট্রাইব্যুনালগঠনেরঘোষণা দিয়ে ছিলেন । কিন্তু আজ ও তা বাস্থবায়ন হয়নি । তাই দেশের মানুষ মনে করে,  সরকার দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বিচারের ব্যবস্থা করে নির্যাতিতদের মনে আস্থা ও সাহস যোগাবেন । সামনে নির্বাচন ও অন্যান্য ইসুতে আবারও সংখ্যালঘুরা টার্গেট হতে পারে । কাজেই সরকার পূর্বের ঘটনাগুলি থেকে শিখ্যা নিয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অধিকার সহ তাদের নিয়ে কুটিল ভোট ব্যাংক রাজনীতি ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত নামে  অপরাজনীতি বন্ধে সকল রাজনউতিক দল্গুলির সাথে  অউক্য মতে পৌছাতে হবে । পাশাপাশি সংসদে জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে একটি হেইট ক্রাইম অথবা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সুরখ্যা বিল এনে এবং তা বাস্থবায়নে সরকারকে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ইহা সময়ের দাবি , জাতীয় দাবী । তানা হলে সরকারের সকল অর্জন ও স্বাধীনতার চেতনা ভু –লন্থিত  হতে বাধ্য ।


রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসন ও নিজে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা:এস ই ইসলাম

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

লেখক :এস ই ইসলাম : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রোহিঙ্গাঁদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন। তাছাড়া সাময়িকভাবে ভাসানচরে ১ লাখ রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য বাসানচরে ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হবে। মঙ্গলবার ২৮/১১/২০১৭ইং তারিখে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী ব্রিফিংয়ে জানান, রোহিঙ্গাঁদের সাময়িক পূনবার্সনের জন্য আশ্রয়ন-৩ নোয়াখালী জেলার হাজিয়া থানাধীন চরইশ^র ইউনিয়নের ভাসানচরে ১লাখ বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার প্রকল্পটি ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাঁদের চাপে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। মিয়ানমারের নাগরিকরা কষ্টে আছেন এবং আমাদের স্থানীয় মানুষজনরাও কষ্ট করছেন। এছাড়াও বৃহত্তম কক্সবাজার পর্যটনে বিদেশীদের ভ্রমন করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমরা বিশ^াস করি সরকারের হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে খুব দ্রুত আশ্রয়কৃত রোহিঙ্গাঁর জীবন মান উন্নত হবে এবং তারা তাদের নিজে দেশে ফিরে যেতে সক্ষম হবে। যদিও এক্ষেত্রে কুটনৈতিক যোগাযোগ অব্যহত রেয়েছে। বিশে^র ক্ষমতাশীন রাষ্ট্রগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে খুব দ্রুতই সরকারের হাতে নেওয়া প্রকল্প রোহিঙ্গা পূর্ণবাসন ও নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে আশা করছেন। রোহিঙ্গাঁ আশ্রয় উপলক্ষে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদার অব হিউমেনিটি আক্ষায় আক্ষায়িত হয়েছেন এতে আমি সাংবাদিক হিসাবে গর্ববোধ করছি।
আইন শৃ্ঙ্খংলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে কোন ভাবেই যেন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আগত রোহিঙ্গাঁ যেন অনত্র ছড়িয়ে না পরে। সম্প্রতি শান্তির বার্তা নিয়ে তিন দিনের সফরে গত ৩০/১১/২০১৭ ইং তারিখে বাংলাদেশে এসেছেন খ্রীস্টান রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। প্রভাবশালী এই ধর্ম গুরু ঢাকা সফরে রোহিঙ্গাঁ সংকটে প্রধান্য দিবেন বলে আশা করছেন সরকার।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্ত উপাসনা ও যাজকদের অভিষেক অনুষ্ঠান হয়। সেখানে পোপ  ফ্রান্সিস মানুষের মঙ্গলে কাজ করে যাওয়ার জন্য আহবান জানান। এদিকে শুক্রবার প্রথমবার  রোহিঙ্গাঁ শব্দটি উচ্চারন করেছেন পোপ ফ্রান্সিস।                                                    
রোহিঙ্গাঁদের উদ্দেশে সমবেদনা প্রকাশ করে খ্রীস্টান রোমান ক্যাথলিক প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন তোমাদের কষ্ট ও দূরবস্থা আমরা বুঝি।আমরা তোমাদের দূ:খের সমব্যাথী। আমরা তোমাদের শান্তি কামনা করি। শুক্রবার  কাকরাইলের আর্চ বিশপ মাঠে রোহিঙ্গাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। আমরা আশা করেছিলাম যে ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার কুতুপালং এ যাবেন এবং রোহিঙ্গাঁদের অবস্থা নিজ চোখে দেখে আসবেন। আর এটি করলে রোহিঙ্গাঁদের কষ্ট তিনি উপলব্দি করতে পারতেন।


How do Hindus survive in Bangladesh?

শুক্রবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৭

Sachin Karmakar : Bangladesh is rapidly moving towards an Islamic Republic state. Disguised secular political parties are in ties with Jamat and Hefajat for retaining power and grabbing national wealth. They are torching Hindu villages in Nasirnagar,Govindaganj, Ranpur and elsewhere to please radical forces and to traumatize Hindu population to live country or get converted to Islam. By doing so they also create indirect pressure on India with threat of new Hindu refugee in their country? Although silent migration of Hindus are continuing on daily basis since 1972? 1972 t0 1975 was a worst nightmare for the Hindus in Bangladesh. Party Hindus prefer to vote has turned more radical in past ten years than last 60 years of their formation. Radical academic institution,radical culture and extremism is growing in jet speed, traditional Bengali dresses and culture has been replaced with Arabian dress and culture. With in next two decade Bangladesh may change to a different nation than that of 1952 & 1971? You may raise voice against those corrupt politicians and ask people not to vote for bank looter,land grabber,temple destroyer and attackers on minority. Hindus can decide fate of 80-90 seats where they are 20% and above. Even abstaining will have a positive impact on political parties. Rather then begging for rights to the major political parties for personal nomination, Hindus can put independent candidate in selective seats. If you can't even win with your number of votes, at least deny corrupt political party candidates to win easily. By doing so you can force major parties to change their attitude towards Hindus and compel them to form an election alliances with you. Hindus are not parasite in this country, they have given more blood then Muslims in 1971. Nearly 93% refugees,70% martyrs are from Hindu community and 80-90% rape victims are also Hindus. Bangladesh belongs to Surja Sen Khudi Ram and million indigenous Buddhist and Hindus. Arabs,Turks and Afghans are migrate in Bangladesh. Don't consider living Bangladesh under threat of radicals, they grow faster and die faster. Natural justice comes in slow speed than bullet, but it survived for millions of years in natural way. Mother Nature is Mightier than Sward?