Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/components/com_jcomments/tpl/components/com_gk3_photoslide/modules/mod_news_pro_gk1/scripts/modules/mod_gk_image_show/js/style3/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদসংকুল শান্তি মিশন—-আনসার উদিদন খান পাঠান

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

সরকারের প্রায় অস্তিত্বহীন উত্তর মালির মরু জনপদের সাধারণ মানুষের জীবন এখন প্রায় নরকতুল্য। এখানে ওখানে প্রায়ই আইইডি/স্থল মাইনের আঘাতে উড়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত কিংবা যাত্রীবাহী যান। লুটতরাজ, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, গবাদিপশু ছিনিয়ে নেয়া, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ এখন প্রায় নিত্য ঘটনা। সরকার আর আন্তর্জাতিক সম্মিলিত প্রচেষ্টাও এ অবস্থা ঠেকাতে পারছে না। উত্তর মালির আয়তন তার পূর্বতন উপনিবেশ প্রভু ফ্রান্সের সমান। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে কেবল কয়েকটি শহর এলাকায়। বাকি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে অস্ত্রধারী নানান সংগঠন। তার মধ্যে বেশ কিছু সশস্ত্র সংগঠন সরকার সমর্থক। এই বিপুলসংখ্যক অস্ত্রধারীদের দৃশ্যত কোনো বৈধ আয় নেই। লুটতরাজ, জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, অপহরণ, মাদক ও মানবপাচারের অবৈধ অর্জন দিয়েই চলে তাদের বেতনভাতা। সরকারি সেনা ও পুলিশের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর হয়রানি আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ।

Picture
মরুভূমি ছিঁড়ে বয়ে যাওয়া একমাত্র নদী নাইজারই দেশটির জলের উত্স এবং এর তীরেই মূল জনপদগুলো। আধা ট্রাইবাল, আধা মুসলিম এই জনগোষ্ঠী  তোয়ারেগ নামে পরিচিত। মূল পেশা কৃষি আর পশুপালন। শত বছরের শান্ত জনপদের পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দেয় আরব বসন্তের ঢেউ। ২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মোয়াম্মের গাদ্দাফির পতনের পর তার বিপুল সংখ্যক ভাড়াটিয়া সৈনিক অস্ত্রের সম্ভার চুরি করে ফিরে আসে উত্তর মালির পূর্বপুরুষের ভিটেয়। এই কপর্দকশূন্য, অবহেলিত বেকার কিন্তু প্রশিক্ষিত সশস্ত্র লোকজনের উপরই চোখ পড়ে উত্তর আফ্রিকার ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আলকায়দা ইন দি ইসলামিক মাগরেব (একিউআইএম)-এর। সংগঠনটি সীমান্তের দেশ আলজিরিয়া, মৌরিতানিয়া, নাইজার আর বুরকিনা ফাসো থেকে তাদের কর্মতত্পরতাকে প্রসারিত করে এ অঞ্চলে। অত্যন্ত দুর্বল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, দারিদ্র্য, পশ্চাত্পদতা ও অনিশ্চয়তায় জর্জরিত জনপদটি জেহাদিদের সর্বগ্রাসী থাবা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। শুরু হয় পরস্পরবিরোধী গ্রুপগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত ও নৈরাজ্য। এই অবস্থায় পুরনো ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স হস্তক্ষেপ করে। ১৯৬০ সালে তাদের ছেড়ে যাওয়া উপনিবেশে আবার ফিরে আসে তারা। ফ্রান্স, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিশ্বনেতৃত্বের চাপে সেনা সরকার বাধ্য হয় দ্রুত সাধারণ নির্বাচন দিতে এবং ২০১৩ সালে জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোবাকার কেইতার নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার। বিবদমান পক্ষদ্বয় যখন পারস্পরিক হানাহানিতে লিপ্ত তখনই সরকারি বাহিনী ফরাসি সৈন্যদের সহায়তায় বিদ্রোহীদের হটিয়ে পুনর্দখল করে নেয় উত্তর মালি। উত্তর জনপদ আবারও লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। ঘরে ঘরে বিস্তৃত হয় অস্ত্রের দাপট। লোকবল, অর্থবল আর সামর্থ্যের অভাবে অধিকাংশ এলাকাতে সরকার প্রকৃত অর্থে আর পুনঃস্থাপিত হয়নি। বিচ্ছিন্ন অস্ত্রধারীরা সে সুযোগই নিচ্ছে। ২০১৩ সালেই এগিয়ে আসে জাতিসংঘ। প্রতিষ্ঠিত হয় বিশাল কলেবরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন। ৫৪টি দেশের ১১ হাজার ৮৬১ সেনা এবং ১৭শ পুলিশ যুক্ত আছে এই মিশনে। বর্তমানে এই মিশনে ১৩৭০ জন সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য এবং ২৮০ পুলিশ সদস্য নিয়ে কর্মীর সংখ্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ছাড়াও দেশটিতে রয়েছে মালিয়ান সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সীমিত তত্পরতা। তার সঙ্গে সমপ্রতি যোগ হয়েছে জি-ফাইভ এর ৫ হাজার সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষিত সৈন্য। জি-ফাইভ ধর্মীয় সন্ত্রাস আর সংঘাত সংক্ষুব্ধ এই অঞ্চলের পাঁচ দেশ মালি, নাইজার, বুরকিনা ফাসো, চাদ ও মৌরিতানিয়ার সম্মিলিত সামরিক টাস্কফোর্স। মূলত ফ্রান্সের আনুকূল্যে এবং সক্রিয় সহায়তায় গড়ে উঠেছে তার এই পুরনো উপনিবেশদের সম্মিলিত প্রয়াসটি। দেশগুলো প্রায় সবই অত্যন্ত দরিদ্র। প্রতি পাঁচ জনের একজন নিত্য অভুক্ত থাকে সাহেল অঞ্চলে। কার্যকরভাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনার মতো অর্থ তাদের নেই। এগিয়ে এসেছে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি ধনাঢ্য দেশ।
সরকার, ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ বারখান, জি-৫ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ক্রমাগত তত্পরতা সত্ত্বেও সংঘাত বেড়েই চলেছে। শান্তিরক্ষীরা তাদের অন্যতম টার্গেট হলেও বাদ যাচ্ছে না সাধারণ মানুষসহ কোনো পক্ষই। আক্রান্ত না হলে শান্তিরক্ষীরা অস্ত্র ব্যবহার করে না এই বিশ্বাসে তারা সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। এমন কোনো সপ্তাহ নেই যে, এইভাবে লোকজন নিহত হচ্ছে না। তিম্বকতু রিজিয়নাল ইউএন বেইজ গত বছরের শেষে একমাসে প্রায় চারবার রকেট আক্রমণের শিকার হয়েছে।বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামী ২৯ জুলাই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে উত্তরের মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। তারা নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা এবং খাদ্যের সংস্থান নিয়েই চিন্তিত। অধিকাংশ সরকারি অফিস খালি পড়ে আছে। পুলিশ সেনাবাহিনী বা সরকারি কর্মী নেই। নিরাপত্তার জন্য তারা বড় শহরে আশ্রয় নিয়ে আছে। শহরের বাইরে প্রশাসনের কোনো অস্তিত্বই নেই। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের টহল সাধারণ মানুষের মনে একটু হলেও আশা জাগায়। ভীতি দূর করে খানিকটা। সাধারণ নিগৃহীত মানুষ জাতিসংঘের এই উপস্থিতিকে স্বাগত জানায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ আরো তত্পর হোক এটা তাদের দাবি। শান্তিরক্ষীদের শক্তিপ্রয়োগের ক্ষেত্রে রক্ষণাত্মক ভূমিকার বদলে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় যাওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মোতায়েনের আগে ও পরে এই মিশনের জন্য আলাদা ও উপযোগী প্রশিক্ষণ এবং মিশন উপযোগী যান ও অস্ত্র  সংগ্রহ করার কথা বলা হচ্ছে।
উত্তর মালির মরু অঞ্চলে রক্তক্ষয় বন্ধের আশু স্পষ্ট কোনো  লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সকল পক্ষই যার যার  সামরিক শক্তি দিয়ে একে অন্যকে পরাস্ত করতে চাইছে। ক্রমাগত আক্রমণের পরেও জেহাদিদের পিছু হটার পরিবর্তে আরো তত্পর  হতে দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তার বোধ তৈরি করা, বিবদমান পক্ষগুলোকে সমঝোতায় নিয়ে আসা, সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিরস্ত্রীকরণের পর সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসা এবং মালিয়ান সরকারের সামর্থ্য বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগুলো জরুরি পূর্বশর্ত। মালি সরকার ও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এখন পর্যন্ত কেবল সামরিক বল প্রয়োগেই সকল প্রয়াস সীমাবদ্ধ রেখেছে।

আনসার উদিদন খান পাঠান(পুলিশ সুপার ও কমান্ডিং অফিসার, বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট-২, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, মালি)


ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অস্ত্রধারীদের উৎপাত = আবু জাফর মাহমুদ

রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

টার্গেট বাঙালি অধ্যুষিত ভারতের উত্তরপূর্ব ভারত থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।অঞ্চল জুড়ে আসছে সহিংসতার দাবানল।এই অঞ্চল বাঙ্গালির আদি বাসস্থান।সাম্রাজ্যবাদের নয়া যুগে ভারতের আর্য্য শাসকরা তাদের বিদেশী প্রভূদের নয়া পৃষ্টপোষকতায় অতি উৎসাহে নেমে পড়েছে।বার্মায় সফলতার অভিজ্ঞতায় ধেয়ে আসছে বর্বরতার উত্তপ্ত আগুনের লাভা।ভারত মহাসাগরে চীন,ভারত আমেরিকার প্রভাবের কর্তৃত্বের প্রেক্ষাপটে উত্থান হয়ে চলেছে বিভীষিকার নয়া অধ্যায়।    

পশ্চিমবঙ্গে রামনবমীর শোভাযাত্রার মধ্যে অস্ত্র মিছিল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগে সারা বাংলা সংখ্যালঘু ফেডারেশন গভর্ণর কেশরনাথ ত্রিপাঠির কাছে স্মারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বিজেপি এবং উগ্রগেরুয়াবাহিনী ভীতি প্রদর্শনের এই তৎপরতা করছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে এখবর। প্রাদেশিক সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বতো চেষ্টা করলেও আক্রান্ত হবার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মারদাঙ্গার আতংক কাটছেনা।পশ্চিম বঙ্গে তৃণ্মূল কংগ্রেসের সরাকার।মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

বিহারের ভাগলপুরে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবের পুত্র অর্জিত শাশ্বতকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৩০মার্চ শনিবার।পরদিন রোববার ১লা এপ্রিল ভাগলপুরের অতরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে ১৪দিনের জেল হাজতের নির্দ্দেশ দিয়েছেন।বিহারে সরকার করেছে জনতা দল(ইউনাইটেড)।নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী।     

ত্রিপুরায় রাজ্য সরকার দখলে নেবার পর বিহার,আসাম,পশ্চিমবঙ্গে উৎপাত বাড়িয়েছে ভারতীয় জঙ্গিবাদী বিজেপি সরকার এবং সমাজের নীচু জাতের হিংস্র মানুষেরা।বাংলাদেশের সীমান্তে এই বর্বর ধারার গন্তব্য যে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তাতে সামান্য সন্দেহ আর নেই।অপর সীমান্তে বার্মায় রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদেরকে বিতাড়ণ সম্ভব করার পর উৎসাহিত হয়েছে ভারতীয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজর রাজনীতি।ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায়।মুখমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।  

এদের পূর্বপুরুষরা বৃটিশ শোষক-শাসকদের হয়ে ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক রক্তাক্ত বিয়োগান্ত অধ্যায় সাজিয়ে  ছিলো।ভারতবর্ষ বিভক্ত করেছিলো।জাতিতে জাতিতে এবং ধর্মের বিভেদের পথে হিংসা বিদ্বেষ বিষাক্ততা উস্কে দিয়ে ভারতীয় সামাজিক সম্প্রীতিকে কর্দমাক্ত করেছিলো।সেই অশ্লীল রাজনীতি ঢাক ঢোল পিটিয়ে নেচে গেয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করে সমদ্র অঞ্চল জুড়ে বিদ্বেষের আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা ছড়াচ্ছে।ভারতে আর্য্য বেনিয়া হায়েনা জাতি আবার একই রক্তাক্ত খেলার নির্মম উৎসবে মেতে উঠেছে।বৃটেন আবার উপনিবেশ বিস্তার করেছে ভারতে।এবার বৃটেন একা নয়।সাথে আছে অন্যেরাও।সবই হচ্ছে সংঘবদ্ধতায়।স্থানীয় দালাল ও দেশী বিশ্বাসঘাতকদেরকে বশে নিয়েই চলছে বর্তমান সাম্রাজ্যবাদী শোষণ শাসন।সাম্প্রদায়িকতার চরম অশ্লীলতায় পথ নিয়েছে ভারত।    

আর্য্য-ব্রাহ্মণ জাতি ভারতীয় হয়েছে শোষণ শাসনের লক্ষ্যে।হিন্দু হবার জন্যে নয়।ধর্মের অভ্যন্তরে বিদ্বেষের কোন সুযোগ থাকেনা।ধর্ম সরাসরি স্রষ্টার নির্দেশনা।নিজের সৃষ্টির কল্যাণের পথনির্দ্দেশ থাকে ধর্মে।এরা ভারতে বসবাস করছে লুন্ঠনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেই।এরা বিদেশী জাতি।এসেছে রাশিয়ার পাশে জর্জিয়া সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে।ভারতে আর্য্যরাই হচ্ছে বৃটেনের প্রধান দালাল।ইংরেজীতে এরা এরিয়ান হিসেবেই পরিচিত।এরা নিজেদের হিন্দু বললেও মন্দির এদের ধর্মচর্চার যায়গা নয়।লোক দেখানো কিছু আনুষ্ঠানিকতা ওদের আছে,তাও কেবল সম্পদ আহরণের স্বার্থে।  

ভারতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্রতিষ্ঠানসহ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষে অবস্থান পাকাপোক্ত করে তারা প্রকৃত ভারতীয়দেরকে ঠকিয়ে শাসন করে চলছে।পশ্চিমবঙ্গে এই উৎপাতের মধ্যে হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে এরা আবর্জনাময় করছে,সামাজিক সংহতিকে তারা তচনছ করছে।এরা মমতার নেতৃত্বাধীন সরকার পতন ঘটিয়ে নিজেরা জোর করে ক্ষমতা দখল করতে অগ্রসর হচ্ছে।মমতার সরকারকে অকেজো করার জন্য হিন্দু ধর্মকে অপব্যবহার করছে।সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই বাঙালি উগ্রপন্থী বিজেপির দৃষ্টিতে ভারতবর্ষের বাঙালির পরীক্ষিত নেতা এবং মহাসংগঠক।

পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতা সৃষ্টির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তাই বহুমুখী।খোলা তরবারি নিয়ে মিছিল করে প্রতিপক্ষদের মনে ভয় সৃষ্টি করে ভোট আদায় করে নেয়ার জন্যে কৌশল করার রাজনীতি অবশ্যই অসভ্যতা।রাজনীতি নিজেই অসভ্যতার পৃষ্টপোষক হতে চাইলে ঐতিহ্যগত রাজনীতির বিরোধীতার মুখোমুখী তার হতেই হয়।এই পরিস্থিতি গড়তে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা বিজেপি।ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধ শক্তিগুলো এই সুযোগকে নিজেদের বদ মতলবে কাজে লাগাতে এগিয়ে আসছে।এই শক্তিকে কোনক্রমে ধর্মীয় শক্তি বলা চলেনা।তারা মন্দিরের পুজারী হলেওনা।কেনোনা ধর্ম কখনো ভয় দেখায়না।ধর্ম সব মানুষের কল্যাণের বা শান্তির জীবন-নির্দ্দেশ।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক প্রশাসনিক ধারা নিজেই জানিয়ে দিচ্ছে,জঙ্গিবাদ ভারতকে দখলে পেয়ে বসেছে।জঙ্গিবাদের কাছে সমাজের বিকাশেরপথ তার নিরাপত্তা হারায়।জঙ্গিবাদী সমাজে ক্ষমতাধর হয়ে জনগনের উপর জুলুম নিপীড়ন চালায় জঙ্গিরা।এই জঙ্গিদের প্রাতিষ্ঠানিক বর্বরতাকে আইনসিদ্ধ করে চলে সরকার এবং তার আইন ও বিচার বিভাগ।তাকে কার্যকর করতে বাধ্য থাকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ।

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন খৃষ্টীয় পরিসেবা দফতরে জরুরী বৈঠক করেছে চলমান পরিস্থিতিতে। এতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নীরিহ সংখ্যালঘুদের অবস্থার রিপোর্টের উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ২৮মার্চ।                    

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বিভিন্ন মিডিয়াকে বলেছেন,বিজেপি ও উগ্র গেরুয়াবাহিনী মুসলিম পাড়াগুলোকে টার্গেট করে একনাগাড়ে ভীতি প্রদর্শন করেছে। এখানে মুসলিমরা কেবল আক্রান্ত নয়,রাজ্যময় মুসলিমরা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছে।পুলিশ সংগখ্যালঘুদেরকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।তাই ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘুদেরকে ক্ষতিপূরণ দেবার দাবি জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক অবস্থা পরিদর্শনে বের হয়েছেন গভর্ণর কেশরিনাথ ত্রিপাঠি। তিনি আসানসোল এলাকায় ঘুরলেন।পরবর্তীতে ৩০মার্চ শনিবার তিনি পুলিশের আইজি রাজীব মিশ্র এবং স্থানীয় কমিশনার লক্ষীনারায়ণ মীনা ও অপরকর্মকর্তাদের সাথে বসেন। কর্মকর্তারা গোলযোগ সম্পর্কে গভর্ণরকে অবহিত করেছেন।গভর্ণর সব কথা শোনে প্রয়োজনীয় নির্দ্দেশ দিয়েছেন।পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এসেছি শান্তির বার্তা দিতে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি সম্প্রীতি ওপারস্পরিক সহিষ্ণুতা বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন তিনি।      

আসানসোল-রাণীগঞ্জে ১৪৪ধারা জারি করেছে পুলিশ।অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে আরো শান্তিভঙ্গের আশংকায়।এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস মিছিল করে যেতে চাইলে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতিকে পুলিশ আটকে দেয়।১৪৪ধারা জারি আছে বললেও তিনি বাধা অতিক্রম করতে চান।বলেন এই ধারা জনপদে।রাস্তায় কেনো থাকবে?আমরা তো কোন পাড়ায় বা মহল্লায় ঢুকিনি।তিনি এবং তার অনুসারীরা তাৎক্ষনিকভাবে তৃণমূল এবং বেজিপির বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।

এদিকে ১লা এপ্রিল রোববার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহনেওয়াজ হুসেনের নেতৃত্বে ওম মাথুর,বি রামা রাও,এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায় একটা প্রিতিনিধিদলে আসানসোলের চাঁদমারি,রামকৃষ্ণ ডাঙ্গাল সহ বিভিন্ন এলাকা ঘরেছেন।বলেছেন কেন্দ্রে গিয়ে দলের প্রধান অমিত শাহকে রিপোর্ট করবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন,দলীয় ক্যাডাররা যথাযথ ভয় জারি করতে পেরেছেন কিনা তা তারা সরে জমিনে দেখতে সফরে বের হয়েছেন।তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গড়া ত্রাণ শিবিরেও গেছেন।কথা বলেছেন।  

পশ্চিমবঙ্গে এই রাজনৈতিক উত্তাপ রাজনীতিকে একধরণের জগাখিচুড়ী বানানোর পর্যায়ে এগিয়েছে।তবে ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে চলছেন সরকার।সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ থাকছে ৪ঠা এপ্রিল বেলা ২টা পর্যন্ত।এই পরিস্থিতি নিশ্চয়ই সকল ব্যবসা বাণিজ্যের জন্যে ক্ষতিকর।বাঙালির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিরুদ্ধে অন্যদের ষড়যন্ত্রের ফলাফল ভোগ করছে ভারতেও।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা উস্কে দিয়ে যেভাবে বছরের পর বাছর অর্থনৈতিক দুরবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করে আসছিলো যে মহল। তারাই পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের মধ্যে দারিদ্রতা চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর সুযোগ নিচ্ছে। রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার এই ক্ষমতার খেলা চলছে,চলবে।এই বাস্তবতার মধ্যে সমৃদ্ধির পথ সাজিয়ে সেপথে নিজেদের চলতে পারার রাজনীতি গড়ার মধ্যেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ভর করছে।

(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতাযোদ্ধা)।   


সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী’র একগুচ্ছ ছড়া

রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

আমার গাঁয়ে =

আমার গাঁয়েনকশী কাঁথা
শাপলা ফুলের মেলা
দোয়েল পাখি গাঁয়ের গাছে
শিশুরা করে যে খেলা।

ধানের খেতে দুলছেধান
চাষির মুখে যে হাসি
গাঁয়ের বধূ কলসি কাঁখে
রাখাল বাজায় বাঁশি।

গাঁয়ের লোকে সরল মনে
বসত করে যে গাঁয়
সকল মিলে সুখেই থাকে
এমনি রোজ যে যায়।

ভোরের আলো সবার মনে
সুখ যে নিয়েআসে
কাজের মাঝে মেতে যে দিন
গাঁয়েতে বারো মাসে।

বেকার

বেকারঘুরেরাস্তাঘাটে
কাজ নেইহাতে
স্বভাবহলোবাহাদুরি
দিনআররাতে।

লটারিকরেফলাফল
জিরোহয়ওই
সোনালিদিনআসবেনা
হাসি গেলো কই?

বেকারহয়েযায় রোজ
শান্তি নেইআজ
ভাবনাবাড়েকী যে তার
পাবে কোনোকাজ।

কিভাবেযাবেদিনবলো
ঘরেবসেরয়
বেকারহয়েকতদিন
বাড়েআহাভয়।


শালা


শালাআসেখুশিমুখে
দুলাভাইহাসে
চকচকে নোট দেয়
খুব ভালোবাসে।

মিষ্টিখায়একসাথে
রসেভরামিষ্টি
রঙ্গেঢঙ্গেবলেকথা
বিনিময়দিষ্টি।

দুলাভাইযায়ঢাকা
শালাযায় সাথে
শিশুপার্কে ঘুরেসুখে
আনন্দেতে মাতে।

বিদেশেরজামাগায়
ফুর্তি মনেচলে
দূর্ঘটনানাশেকী যে
চোখভরেজলে।

পরকীয়া

পরকীয়াযাতাকলে
পাপআরপাপ
হাসি নেয়পরকীয়া
চারদিকে সাপ।

হালচালভয়াবহ
কী যে রূপআজ
এইভাবেআরকতো
হায় এ কিলাজ।

শান্তিচাইসবেচাই
সবঘরেচাই
হাসিচাইঘরেঘরে
আজকালতাই ।

পরকীয়াজীবনটা
ভালোনয়ভালো
আলোচাইআলোঘরে
দুর হোককালো।


২৫শেমার্চেরগণহত্যারআন্তর্জাতিকস্বীকৃতিকেনপ্রয়োজন ? = প্রদীপ মালাকার--নিউইয়র্ক,

রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

দেখতে দেখতে দেশ স্বাধীনতা অর্জনের ৪৭ টিবৎসর অতিক্রম করেছে কিন্তু নানা সীমাব্ধতা স ত্বে ও দীর্ঘ সময় পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবস পালিত হলেও এখনো আন্তর্জাতিক পরিসরে এই দিবসটি উপেক্ষিত ।১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেঃ ইয়াহিয়া ও বিরোধী দলীয় নেতা জুলফিকার আলী ভুট্রর যোগসাজশে পাক সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে বাঙ্গালী জাতিকে নিচিহ্ন করার লক্ষ্যে সার্চলাইট অপারেশনের মাধ্যমেপূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা শুরু করে । ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙ্গালীদীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যোবধকরে অবশেষে ১৬ ই ডিসেনভর ১৯৭১ এ মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক দেশটির  অভ্যুদয় ঘটে । পাক বাহিনী  আত্মসমর্পণের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এই দীর্ঘ  নয় মাসে ৩০ লক্ষ্য বাঙ্গালীকে হত্যা ও ২ লক্ষ্যের অধিক মা-বোনের ধর্ষণের শিকার হয় ।
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে আসার পর যাদের বীরুধে সু নিদিষ্ট  গণহত্যা ,ধর্ষণ ,অগ্নিসংযোগ ,লুটপাটের অভিযোগ আছে এমন প্রায় ৩৬ হাজার রাজাকার , আলবদর, আলশামসের বিচারের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, নির্দেশ দাতা ও সরাসরি হত্যা, ধর্ষণ , লুটপাটে যুক্ত চূড়ান্তভাবে ১৯৫জন সেনা কর্মকর্তাকে বিচারের জন্য মনোনীত করেন । সর্বশেষ ত্রি পক্ষীয় সিমলা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান তাদের অপরাধের জন্য দুঃখ  প্রকাশ করে ১৯৫ সেনাকে নিজ দেশে নিয়ে বিচার করবে এই মোচেলিকা  দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে  আর বিচার করেনি ।কিংবা পাকিস্তান তার কৃতকর্মের জন্য বাংলাদেশের কাছে আজও ক্ষমা ভিখ্যা করেনি ।১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় আসা সরকারগুলোর বেশিরভাগই গণহত্যা, যুব্দাপরাধের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালায় ।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা, যুব্দের ক্ষতি পুরন, সম্পদের হিস্যাসহ বিভিন্ন দাবি তোলে। সেই সাথে ১৯৭১ সালে গণহত্যা , যুব্দাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগে শুরু থেকেই বিচলিত ছিল পাকিস্তান। এর পাশাপাশি ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত গ্যারি জে ব্র্যাসের লেখা গ্রন্থ “ দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম –নিক্সন, কিসিঙ্গার অ্যান্ড অ্যা ফরগটেন জেনোসাইড” পাকিস্তানি গণহত্যার তথ্য বিশ্বের সামনে নূতন করে তুলে আনে। আর এতেই পাকিস্তানের গাত্রদাহ শুরুহয়অথচ মুক্তিযুব্দের এই পরাজিত শক্তিও তাদের এদেশীয় লেবাসধারীরা মুক্তিযুব্দকে মেনে নিতে পারেনি । পাকিস্তানী শাসক,সেনাও রাজনউতিক দল গুলির একটি বড় অংশ  এবং এদেশীয় জামায়াত-শিবির এখনও মনে করে বাংলাদেশ সৃষ্টি ভারত-পাকিস্তান যুব্দের ফসল বা জামায়াতের ভাষায় গণ্ডগোলের ফসল ।
দ্বিতীয়বিশ্বযুব্দেরপরদক্ষিণএশিয়ায়১৯৭১এসারাপৃথিবীকাঁপিয়ে৩০লক্ষমানুষেরআত্মত্যাগও২লখ্যাধিকনারীরইজ্জতেরবিনিময়েযেবাংলাদেশেরঅভ্যুদয়হয়েছিলতারদ্বিতীয়নজিরনেই।৪৭বছরআগেরজাতিরগর্ভবরাইতিহাসেরমীমাংসিতবিষয়নিয়েবিরোধীদলীয়নেত্রী

যখন৩লক্ষশহীদেরপরিবর্তে৩০লক্ষনিয়েতারপ্রশ্নআছে।তখনপরাজিতশক্তিওস্বাধীনতাবিরোধীরাতালুফেনিয়েমাঠেনামবেএটাইস্বাভাবিক।আরতারইধারাবাহিকতায়আমরাদেখতেপাইপাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আই,এস,আই,এর তত্ত্বাবধানে ওই দেশটির লেখকজুনায়েদআহমেদনামেএকব্যাক্তিকে দিয়ে  “ক্রিয়েশনঅফবাংলাদেশ” মিথসএক্সপ্লডেডশিরোনামেএকটিবইলিখিয়েছে,, যেবইয়েমুক্তিযুব্দাদেরদোষারোপকরাহয়েছেএইবলে – পচিশেমার্চেরগণহত্যারজন্যমুক্তিযুব্দারাদায়ী।তারাইনিরীহনিরপরাধমানুষদেরহত্যাকরেছে।বইটিরনিচেওইসময়েরবিশ্বখ্যাতবিভিন্নপত্রিকায়৭১-এরগণহত্যারযেসবছবিমুদ্রিতহয়েছিল , সেসবছবিবইটিতেসংকলিতহয়েছেএবংপ্রতিটিছবিরনিচেলেখাহয়েছেএসবহত্যাকাণ্ডমুক্তিযুব্দাদেরসৃষ্ট।বইটিতেআমাদেরমহানমুক্তিসংগ্রামেরইতিহাসেরএসবমিথ্যাচারদেখে্যেকোনদেশপ্রেমিকবাঙালিবিক্ষুব্ধহবেএটাইস্বাভাবিক।
মহানমুক্তিসংগ্রামেরইতিহাসনিয়েপাকিস্তানসহবিভিন্নগুষ্টিরঅপপ্রচার যতই  করুক কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৯৭১ সালের গণহত্যার তথ্য প্রমানের অভাব নেই । ১৯৭১ সালের  মহান মুক্তিযুব্দের ৩০ লাখ মানুষ যে শহীদ হয়েছে তার অকাট্য প্রমাণ বহন করছে সে সময়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকা এবং রেডিও টেলিভিশনের খবর গুলোর আর্কাইভ। অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকা হেরালড  ট্রিবিউনের রিপোর্ট অনুসারে , ২৫শে মার্চ রাতে শুধু  ঢাকা শহরেই ১ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল পাক বাহিনী । ভারতের ইন্ডিয়ান টাইমস এর রিপোর্টে আছে ৬০ থেকে৭০হাজার  মানুষ শহীদ হয়েছে ।।মার্কিন সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি ভারতে শরণার্থী শিবিরগুলি পরিদর্শন করেন ৭১ সালে । তিনি পাকিস্তানি সউনিকদের  বিরুব্ধে সরাসরি গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করেন । গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে  বাংলাদেশের হত্যাযজ্ঞকে বিশ শতকের পাঁচটি ভয়ঙ্কর গণহত্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর বলে উল্লেখ করা হয়েছে । টাইমস ম্যাগাজিনের ড্যান  কগিন, যিনি মুক্তিযুব্দের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক , একজন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনের বরাত দিয়ে লিখেছেন –we can kill any one for anything . We are accountable to no one. বিশ্বখ্যাতএইপত্রিকাটিরএকটিসম্পাদকীয়মন্তব্যছিল–It is the most incredible calculated  thing since the days of the Nayis in Poland .
আন্তর্জাতিকমহলেরমতে৭১এপাকিস্তানসেনাবাহিনীতিনমিলিয়নবাত্রিশলক্ষবাঙ্গালিকেহত্যাকরাহয়েছে।এইসংখ্যারসমর্থনরয়েছেEncyciopedia Americana and National Geographic Magayineএ।  এসব রিপোর্টে লেখা আছে , বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুব্দে পোল্যান্ডে নাজি বাহিনীর  বর্বরতার চেয়েও ভয়াবহ ।  এই গণহত্যা সম্পর্কে পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলী তার ডায়েরিতে লিখেছেন –Paint the green of East Pakistan red  অর্থাৎবাংলারসবুজমাঠকেলালকরেদিবেন।একজনমার্কিনগবেষক Rudolph Joseph Rummelতাররচিত Statistics of Democide ( 1998)গ্রন্থেরঅষ্টমঅধ্যায়েতিনিঅন্তর্ভুক্তকরেছেন “Statistics of Pakistan Democide .Estimates Caculation and sources” শীর্ষকনিবন্ধটি।এইনিবন্ধেRummelতারআবিষ্কৃতগণহত্যাপরিসংখ্যানপব্ধতিঅনুসারেদেখিয়েছেনযে, ১৯৭১সালেরমহানমুক্তিযুব্ধেরসময়বাংলাদেশেত্রিশলক্ষ৩হাজারলোকপ্রানহারিয়েছেন।১৯৭১সালের UNHRC(ইউনাইটেডনেশনসহিউম্যানরাইটসকমিশন) রিপোর্টঅনুযায়ীমানবসভ্যতারইতিহাসেযতগুলিগণহত্যাসংঘটিতহয়েছেতাতেঅল্পসময়েরমধ্যেসবথেকেবেশিসংখ্যকমানুষকেহত্যাকরাহয়েছে১৯৭১সালেবাংলাদেশে।প্রতিদিনগড়ে৬০০০থেকে১২০০০মানুষতখনখুনহয়েছিলবাংলাদেশে।গণহত্যারইতিহাসেএটাইসরবচ্চগড়।১৯৭২ সালের ২৪ জানয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল”বেঙ্গলিজল্যান্ডঅ্যাভাসটসিমেটারি “ ( বাঙ্গালিরভূখণ্ডএকবিশালসমাধিক্ষেত্র ) মার্কিনসাংবাদিক সিডিনিএইডশানবারগযুব্দেরপরপরবাংলাদেশেএসেবিভিন্নএলাকাঘুরেওইপ্রতিবেদনটিতেউরিকরেছিলেন।প্রতিবেদনেবলাহয় ,সিডিনিশানবারগদেখতেপান , বাংলাদেশেরপ্রতিটিশহর ,প্রতিটিথানায়রয়েছেবধ্যভূমি , যেখানেপাকিস্তানিসেনারাযুব্দের৯মাসেরপ্রতিদিনবাঙ্গালিদেরহত্যাকরেছে।পাকিস্তানিসেনারাএভাবেলক্ষলক্ষবাঙ্গালিকেহত্যাকরেছে।.
হামুদুর কমিশন রিপোর্ট—বাঙালি গণহত্যার দলিল ।   ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের ১০ দিন পর ২৬শে ডিসেম্বর  পাক সরকারের নির্দেশে প্রধান বিচারপতি-হামুদুর রহমানকে প্রধান ও অন্য দুই বিচার পতিকে নিয়ে  ব্যাপক ক্ষমতাশালী এক কমিশন গঠিত হয়েছিল । কমিশন যুব্দের সঙ্গে যুক্ত সামরিক ও বেসামরিক ব্যাক্তি মিলিয়ে  দুই শত পচাশি জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য প্রমান নির্দেশিকা যাচাই-বাছাই শেষে ১৯৭৪ সালে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে । যদিও কমিশন ভিকটিমবা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে  কাউকে সাক্ষ্য গ্রহণ না করিলেও ৬০ টি অধ্যায় ও তিন লাখ শব্দ সংখ্যার এই কমিশনে মুক্তিযুব্দাদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের বিষয়টি অগ্রাহ্য করেছে ।  এসব অপূর্ণতা স্বতেও  হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে , যাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নৃশংসতা ,ও নিষ্ঠুরতার পাশাপাশি চারিত্রিক দুর্বলতাগুলো তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপিত হয়েছে ।      
পাকিস্তান সেনাবাহিনী অভিযানের শুরু থেকেই বাংলাদেশে পোড়ামাটি নীতি নেয়; যেখানে তারা মানুষ চায়নি ,মাটি চেয়েছে । এই কথটি শুধু রাও ফরমান আলীর ডায়েরিতে লেখা ছিল না, ছিল পাকিস্তানের অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তার অন্তরে । জেনারেল নিয়াজির আগে খাদিম হোসেন রাজা ছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডিং অফিসার। তিনি  আ  স্ত্রেনজার  ইন মাই ওউন কান্ট্রি পাকিস্তান ১৯৬৯—১৯৭১ বইয়ে উত্তরসূরির বক্তব্য উব্দ্রিত করেছেন , যাতে নিয়াজি বলেছেন ,”এই হারামজাদা জাতি জানে না আমি কে?আমি তাদের জাত বদলে  দেব।“ তিনি বাঙ্গালিকে বোজাতে পারেননি , বাঙ্গালিই প্রকাশ্যে আত্নসমপরন করিয়ে তাকে ঠিকই বুজিয়ে দিয়েছে । কমিশনেররিপোর্টেরাওফরমানআলি, জেঃটিক্কাখানকেদায়মুক্তদিয়েশুধুগুরুতরঅভিযোগেজেঃনিয়াজি, মুহান্মদজামসেদ, এম,রহিমখান,জি, এম বারিক সিদ্দিকি,মুহান্মদ হায়াতসহ সিনিয়র অফিসারদের বিরুব্ধে সামরিক আইনে বিচারের সুপারিশ সহ বাকিদের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে ।এবারদেখাযাকজাতিসঙ্ঘসনদকিবলে ?জাতিসংঘেগণহত্যাবিষয়কসনদেঅপরাধেরযেবিবরণরয়েছে ,তারসাথে১৯৭১সালেবাংলাদেশেদখলদারবাহিনীরহত্যাযজ্ঞওনৃশংসতারপুরোপুরিমিলরয়েছে।গণহত্যাপ্রতিরোধওশান্তিবিষয়ক১৯৪৮সালেরজাতিসংঘসনদেরদ্বিতীয়অনুচ্ছেদেবলাহয়েছে , জেনোসাইডবলতেবোজাবেকোনজাতিবাজাতিসত্তা , বর্ণবাধর্মীয়গুষ্টিরসদস্যদেরঅংশবিশেষকেবাপুরোপুরিধ্বংসকরারলক্ষ্যেপরিচালিতনিম্নবর্ণিতকাজেরযেকোনএকটি –(ক) জাতিবাগুষ্টিরসদস্যদেরহত্যাকরা , (খ) জাতিবাগুষ্টিরসদস্যদেরগুরুতরমানসিকবাশারীরিকক্ষতিসাধন (গ )উদ্দেশ্যপূর্ণভাবেজাতিবাগুষ্টিরওপরএমনএকজীবনযাত্রাআরোপ , যাসম্পূর্ণবাআংশিকভাবেগুষ্টিরধ্বংসডেকেআনবে ,(ঘ)জাতিবাগুষ্টিরমধ্যেজন্মপ্রথানিরোধেরলক্ষ্যেব্যবস্থানেওয়া ,(উ) জাতিবাগুষ্টিকেজোরকরেঅন্যজাতিবাগুষ্টিতেরূপান্তর।
জাতিসঙ্ঘ প্রতি বৎসর ৯ ডিসেম্বরে গণহত্যা প্রতিরোধ ও গণহত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয় । বাংলাদেশ মনে করে , এ দেশের মুক্তিযুব্দে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যা ও  মানবতাবিরোধী অপরাধগুলির আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি খুবই দরকার । পাকিস্তান সরকার ও তাদের এদেশীয় লেবাসধারীদের অনেকে সাম্প্রতিক সময়ে ১৯৭১ সালের সংঘটিত গণহত্যার কথা ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করার চেষ্টায় এই স্বীকৃতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে  উঠেছে ।  সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি শাসক ও কতিপয় রাজনৌতিক দল ,তাদের এদেশীয় দোসরদের যুব্দাপরাধ  ও মানবতা বিরোধী বিচার নিয়ে বিবৃতি দেয় এবং পার্লামেন্টে প্রস্তাব গ্রহণ করে । তারা এই খানেই থেমে থাকেনি ,পাকিস্তান বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌত্তিক হস্তক্ষেপের পাশাপাশি জঙ্গিমদত ও দিয়ে যাচ্ছে
।তাই পাকিস্তানের এই ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার রুখে দিয়ে  ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবসের  আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা বাংলাদেশের জন্য একটু  কঠিন কাজ  হতে পারে। কেননা ১৯৭১ সালে সব রাষ্ট্রের অবস্থান  বর্তমানের মতো ছিল না । ভারত , সোভিয়েত ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব  আমাদের মহান মুক্তিযুব্দের বন্ধু রাষ্ট্র ছিল । আজ মিয়ানমারের রুহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে জাতিসঙ্ঘ , আমেরিকাসহ পশ্চিমা ও মুসলিম বিশ্ব তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মহান মুক্তিযুব্দে  তারা আমাদের পাশে ছিল না ।  আজ ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা বিতারন ও হাজার অধিক রোহিঙ্গা নিধনে জাতিসঙ্ঘসহ সকল রাষ্ট্র গণহত্যার স্বীকৃতি দিচ্ছে । অথচ ১৯৭১ সালে রুহিঙ্গাদের চেয়ে ১০গুন বাঙালি বিতারন ও ৩০০০ গুন বাঙালি নিধনে  তারা ছিল নিরব । কাজেই তাদের স্বীকৃতি আদায়ে বিদেশে আমাদের মিশন গুলোও সংশ্লিষ্ট দেশ গুলোতে গণহত্যা বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত্য তুলে ধরার পাশাপাশি জোরদার কুটনউতিক তৎপরতা চালাতে হবে । আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন । তারা জাতিসংঘ ও জেনেভায় যোগাযোগ করেছেন । মহান মুক্তিযুব্দে যে সকল দেশ বাংলাদেশর পাশে ছিল সেই রাস্ত্রগুলির স্বীকৃতি সবার আগে আদায় করতে হবে । এটা হবে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ । তারপর বাকি দেশগুলোকে  উদু্বব্ধ করতে হবে ।


“স্বাধীনতা যুদ্ধে দুই মহান নেতার নেতৃত্ব “ = প্রদীপ মালাকার

রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

নিউইয়র্ক থেকে : দুই নেতার একজন হলেন বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অপর জন হলেন ৭১-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী ও ঐ সময়ের বাঙালীর বিপদের অকৃত্রিম বন্ধু শ্রীমতিন্দিরা গান্ধী।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই পাকিস্তানী সামরিক, বেসামরিক শাসক গোষ্ঠীর আচরণ ও বৈষম্যের কারণে খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহুবার জেল খেটেছেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র আন্দোলন ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালী জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। একবার বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ হলেন খুব সম্ভবত ৬৬’র শেষ দিকে এবং কারাগারে কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান মনি সিং এর সাথে দেখা হয়। বঙ্গবন্ধু মনিবাবুর সাথে আলাপচারিতায় পূর্ব পাকিস্তানকে কিভাবে স্বাধীন করা যায় সেই বিষয়ে মত বিনিময় করেন। এ বিষয়ে কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন জেনারেল সেক্রেটারী মরহুম ফরহাদ সাহেব তার রচিত বইয়ে উক্ত তথ্যটি উল্লেখ করে যান। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি শুধুই একটি নিছক মামলা ছিল না। এ মামলাটি মিথ্যা হলেও শাসক গোষ্ঠীর কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানের সংহতির প্রতি হুমকি স্বরূপ। ইতিপূর্বে ১৯৬৫ইং সনের ৬ই সেপ্টেম্বরের পাক ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে শত্রুর দয়ায় অরক্ষিত থাকে। তখন থেকেই বঙ্গবন্ধু নিজেদের পায়ে দাড়ানোর কথা সক্রিয় ভাবতে থাকেন। তারপর ১৯৭০ এ উপকূল অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ গোর্কির কারণে দশলক্ষ মানুষের সলিল সমাধিতে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর অবহেলা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য বঙ্গবন্ধুকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন। বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ৭০-এ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। সামরিক জান্তা বাঙালীদের হাতে ক্ষমতা চলে যাচ্ছে দেখে সেইদিন থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু করে দেয়। এবার দেখা যাক ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, আমি যদি তোমাদের আদেশ দিতে নাও পারি, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো। অর্থাৎ তিনি জানতেন শত্রু আক্রমণ করবে। সেইক্ষেত্রে তিনি আটক বা নিহতও হতে পারেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বাঙালী যখন রক্ত দিতে শিখেছে দরকার পড়ে আরও রক্ত দিবে; ইনশাল্লাহ্ বাঙালীকে মুক্ত করে ছাড়বোই। এখানেও রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু আরও মনে করতেন বাঙালীর মুক্তির সনদ ৬ দফা সামরিক জান্তা কখনও মেনে নিবে না। পশ্চিমারা মনে করতো ৬ দফা দাবী মানার অর্থই হবে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত শাসনের নামে বিনা বাধায় পাকিস্তানের সংহতি বিপন্ন হওয়া। তার উপর ৭ই মার্চের জনসভা থেকে বঙ্গবন্ধুর ৪ দফা শর্ত ঘোষণা ছিল গোদের উপর বিষফোড়া। কাজেই বঙ্গবন্ধু প্রচন্ডভাবে বিশ্বাস করতেন পাকিস্তানীরা এ সকল দাবী মেনে নিবে না। বঙ্গবন্ধুর এ সকল দাবীর ব্যাপারে ছিলেন অনমনীয়। কাজেই পাকিস্তানীরা যে শক্তি প্রয়োগ করবে সে ব্যাপারে তিনি আগেভাগেই সতর্ক ছিলেন। সেই জন্য ৭ই মার্চের পরে ও আগে ঢাকা ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন হলে বিশেষ করে ইকবাল হল, জগন্নাথ হল, রোকেয়া হল, মোহসীন হলে বাঁশের কিংবা ডামী রাইফেলের মাধ্যমে ট্রেনিং চলতো। প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়, মার্চ মাস এলেই টিভি চ্যানেলগুলোতে ঐ সময়ের মহড়া দেখানো হয়। এই জন্যই সামরিক জান্তার শ্যোন দৃষ্টি ও ক্ষোভ ছিল এ সকল হলগুলির উপর এবং সার্চ লাইট অপারেশনে প্রথমেই এই হলগুলোতে আক্রমণ চালানো হয়। জেঃ ইয়াহিয়া লোক দেখানো মিটিং এর নামে তার দলবল ও ভুট্টোকে নিয়ে ঢাকায় আসেন বঙ্গবন্ধুর সাথে মিটিং করার জন্য এবং পাশাপাশি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সৈন্য সমাবেশ করতে থাকেন।

২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু আলোচনার অগ্রগতি না দেখে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বলেন, শত্রু শক্তি প্রয়োগ করবে নিশ্চিত। আক্রমণ করার সাথে সাথে তিনি যেন অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে গিয়ে বিপ্লবী সরকার গঠন করেন। সবশেষে যখন চুড়ান্তভাবে আলোচনা ভেঙ্গে যায় এবং বঙ্গবন্ধুর কাছে খবর পৌছে ইয়াহিয়া ২৫শে মার্চ ক্যান্টনমেন্টে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করছেন তৎক্ষণাৎ বঙ্গবন্ধু তার সহকর্মী সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দিন আহমেদ, কামরুজ্জামান, মনসুর আলীসহ অন্যান্য নেতাদের সাথে মিটিং করে তাদের নির্দেশ দেন তারা যেন নিরাপদ স্থানে চলে গিয়ে বিপ্লবী সরকার গঠন করেন। এ প্রসঙ্গে বিরোধী বিএনপি নেতাদের আরেকটি প্রশ্নের আলোচনা না করলে বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশমা ও কুশলী নেতৃত্ব সম্বন্ধে ধারণা করা যাবে না। বিরোধী প্রতিপক্ষ নেতারা প্রায়ই বলে থাকেন, পাক বাহিনীর হামলা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু কেন জাতিকে অরক্ষিত রেখে এবং সকল নেতাদের ছেড়ে পাক বাহিনীর কাছে ধরা দেন। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের লেখা ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার ছিল ধারাবাহিকতার ফসল’ শিরোনামে লেখা থেকে জানা যায় শাহরিয়ার কবিরের নেওয়া এক সাক্ষাতকারে সংসদ সদস্য চিত্তরঞ্জন সুতার জানিয়েছেন ১৯৬৯ সালে লন্ডনে ভারতীয় কতৃপক্ষের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলোচনা হয়। বঙ্গবন্ধুর অভিপ্রায়ে ১৯৬৪ সালে বিএলএফ বা বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের অনুকাঠামো গঠিত হয়। তিনি আরো বলেন, ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারীতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভারতের সাহায্যের বিষয়টি চুড়ান্ত করার জন্য যে আলোচনা করেছিলেন সেখানে বিএলএফ নেতাদের সম্ভাব্য গেরিলা প্রশিক্ষণের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ১৮ই জানুয়ারী পুরো বিষয়টি তাজউদ্দিনকে জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, চিত্তরঞ্জন বাবু শাহরিয়ারকে আরও জানিয়েছিলেন ২৫শে মার্চের আগে বঙ্গবন্ধু তাকে কলকাতা পাঠিয়েছিলেন দুইটি বাড়ী ভাড়া করার জন্য। যাতে সময় এলে আওয়ামী নেতৃবৃন্দ জড়ো হয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। সম্প্রতি ভারতে তৎকালীন ১৯৭১ সনের বিএসএফ প্রধান রুস্তমজীর আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে যেসব তথ্য বিধৃত হয়েছে তার সঙ্গে চিত্তরঞ্জনের সাক্ষাতকারের মিল ও ধারাবাহিকতা আছে। ২৫শে মার্চের আগে ইন্দিরা গান্ধী রুস্তমজীকে প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান গোলক মজুমদার রুস্তমজীর নির্দেশে ২৬শে মার্চের পরে তাজউদ্দিন আহমদকে খুঁজে বের করেন এবং দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। কাজেই বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাহায্য, সহযোগিতা ও গেরিলা যুদ্ধের ব্যবস্থাও করে যান। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ সহকর্মীদের প্রচন্ড চাপের মুখে দেশবাসীকে ছেড়ে যেতে রাজী হননি। তিনি বলেছিলেন, আমি জাতির এই দুর্যোগময় সময়ে চলে গেলে জাতি ভুল বুঝবে এবং  হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে না পেয়ে অনন্যোপায় হয়ে আরও বেশি হত্যা চালাবে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু যদি দেশের মুক্তাঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে নেতৃত্ব দিতেন; তাহলে নিজ দলে যেখানে বিশ্বাসঘাতক, কনফেডারেশনের সমর্থক ও সুবিধাবাদী খন্দকার মোশতাকের মত নেতারা রয়েছেন, সেখানে বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা বা স্বাধীনতা সংগ্রাম বিঘিœত হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল বেশি। আর ভারতে আশ্রয় না নিয়ে তিনি বিচক্ষণতার কাজটিই করেছেন। প্রথম প্রথম ভারত সরকারের কাছে বঙ্গবন্ধুর গুরুত্ব থাকলেও পরবর্তীতে আর সেটা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। ভারতের মাটিতে অবস্থান করে নিজ মত প্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে না। ২৫শে মার্র্চ রাতে মিটিং শেষে সহকর্মীদের বিদায়ের ঘন্টা দুয়েক পর আসেন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ও ফজলুল হক মনি। বঙ্গবন্ধু তোফায়েলের হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তাদের বলেন দেশের বাহিরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার জন্য। তোফায়েল ও মনি পায়ে ছুঁয়ে সালাম করে চলে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু পিলখানার ইপিআর-এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেন। এবং সেই সাথে নিজ পরিনাম জানা সত্ত্বেও  নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন।  এখানেই রাজনীতির সুদক্ষ দাবা খেলোয়াড়ের মত বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ নেতৃত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। ছাত্রজীবনে ইংরেজী প্রবন্ধে পড়েছিলাম থ্রি কোশ্চেনস্ অর্থাৎ তিনটি প্রশ্ন। এই তিনটি প্রশ্ন বঙ্গবন্ধুর জীবনে সফল প্রয়োগ দেখা যায়। তিনটি প্রশ্ন হলো, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক সময়ে সঠিক শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করা বা সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা। অর্থাৎ ৭ই মার্চের ভাষণে নির্দিষ্ট সময়ে জনগণকে জানানো, সঠিক সময়ে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সঠিক সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত করা।

অপরদিকে আরেক নেতা ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের সাথে অপর নেতা ইন্দিরাগান্ধীর নেতৃত্বের কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও দুই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন থাকলেও ৭১এ মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের সাথে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বের কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর বিশাল নেতৃত্বের কিছু খন্ডিত অংশ এখানে আলোচনা করা যাক।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের সেনা প্রধান জেনারেল মানেকশর নেতৃত্বে অপর দুই বিমান ও নৌবাহিনী প্রধানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্দিরাগান্ধীর সাথে দেখা করতে যান। সময়টা সম্ভবত আগস্টের মাঝামাঝি। তখন বাংলাদেশে প্রবল বন্যার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ইন্দিরা গান্ধী জেনারেল মানেকশকে দেখেই কুশলাদি বিনিময়ের পর জিজ্ঞেস করেন, মুক্তিবাহিনীর খবর কি? জবাবে জেঃ মানেকশ জানায়, মুক্তিবাহিনী কোনরকমে পাকবাহিনীর সাথে লড়ে টিকে আছে। আমরা আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি শুধু আপনার আদেশের জন্য। বাংলাদেশে এখন প্রবল বন্যা চলছে। পাক বাহিনীর অধিকাংশ জোয়ান সাঁতার জানে না। মুক্তি বাহিনী জনগণ পক্ষে আছে, আপনি আদেশ দিলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিতে পারব। ইন্দিরাগান্ধী একথা শুনে তির্যকভাবে তাকিয়ে রাগান্বিত স্বরে বলেন, আমরা কেন পাকিস্তান আক্রমণ করতে যাব? আক্রমণ করলে এতদিন যাবৎ পাকিস্তান যে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল তা মুসলিম বিশ্ব, পশ্চিমা বিশ্ব, জাতিসংঘ তথা বিশ্ববাসীকে বুঝতে সক্ষম হবে। পাকিস্তান বলবে, এই দেখো, আমরা যে এতদিন বলছি ভারত আগ্রাসী, সা¤্রাজ্যবাদ এবং অনুপ্রবেশকারী পাঠিয়ে পাকিস্তানের অখন্ডতা নষ্ট করছে, এই আক্রমণই তার প্রমাণ। আমরা তা করবো না। আপনি সামরিক নেতা, সামরিক ক্ষেত্রে আপনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রাজনীতির দাবা খেলা তথা আন্তর্জাতিক রাজনীতির খেলা আপনারা বুঝবেন না। সময় হলে অবশ্য অবশ্যই পাকিস্তান তার স্বার্থে ভারত আক্রমণ করবে। কাজেই ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করবে না। মনে রাখুন, আমি যদি আপনাদের আদেশ দিতে নাও পারি আপনারা শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। হামলা হওয়ার সাথে সাথে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। এ আমার আগাম আদেশ। তার কয়েক মাস পর অর্থাৎ অক্টোবরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মেরুকরণ ঘটে। দীর্ঘদিন বুর্জোয়া আমেরিকার সাথে কমিউনিস্ট চীনের যে হিম শীতল সম্পর্ক ছিল পাকিস্তানের জোর দূতিয়ালির কারণে হেনরি কিসিঞ্জারের চীন সফরের মাধ্যমে তা উষ্ণ সম্পর্কে পরিণত হয়। এই ঘটনায় ইন্দিরাগান্ধী খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লে গান্ধীজির বিচক্ষণ ও গুণধর বাঙালী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডি.পি. ধরের পরামর্শে অপর সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ২০ বৎসরের মৈত্রী চুক্তি করেন। এই চুক্তির প্রথম ও প্রধান শর্ত ছিল, দুই দেশের যে কোন একটি দেশ তৃতীয় পক্ষ দ্বারা আক্রান্ত হলে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে যাবে। এই চুক্তির ফলে উপমহাদেশসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির চেহারা পাল্টে যায়। চুক্তি হওয়ার কয়েকদিন পরে পুনরায় গান্ধিজী তিন বাহিনীর প্রধানদের তার অফিসে ডেকে পাঠান। আবারও মিসেস গান্ধিজী জেনারেল মানেকশকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা জানতে চাইলে, মানেকশ বলেন, ভাল নয় একটি আধুনিক সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর সাথে ১৭দিনের ট্রেনিং আর পুরাতন অস্ত্র দিয়ে কতদিন টিকে থাকা যায়, গান্ধিজী নির্দেশ দিলেন এখন থেকে কালবিলম্ব না করে মুক্তিবাহিনীকে আগের চেয়ে দ্বিগুণ অত্যাধুনিক সব ধরণের অস্ত্র, রসদ ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সাহায্য পাঠাবার দ্রুত ব্যবস্থা করুন। মুক্তি বাহিনীর দামাল ছেলেরা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র পেয়ে নতুন উদ্যোমে পাক বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়লে রণাঙ্গনের চেহারা পাল্টে যায়। নভেম্বরে দেখা যায় রণাঙ্গণে পাকিদের বিভিন্ন চৌকিতে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা হামলার পাশাপাশি সম্মুখযুদ্ধও দেখা যায়। আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার, পূর্ব পাকিস্তানে মুক্তিবাহিনীর চাপ বেড়ে যাওয়া ও তাদের হাতে ভারতীয় অস্ত্রের ব্যবহার দেখে পাক বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। অবশেষে মুরুব্বী যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে জেনারেল ইয়াহিয়া পূর্ব পাকিস্তানের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ৩রা ডিসেম্বর ভারতের অমৃতসর, জয়পুর, জম্মুকাশ্মীরসহ বিভিন্ন শহরে বিমান, আক্রমণ করলে তৎক্ষণাৎ ভারতীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তখন ৩রা ডিসেম্বর কলিকাতায় প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভায় থাকাবস্থায় আক্রমণের খবর পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টারে চড়ে রাজধানীতে যাওয়ার পথেই আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দেন। পূর্ব রণাঙ্গনে ১৩ দিনের যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করে একটি নূতন স্বাধীন দেশ ও জাতির জন্ম লাভে সাহায্য করে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উপরিল্লিখিত ঘটনার মধ্য দিয়েই দুই নেতার দুর্লভ নেতৃত্ব ও দুরদর্শিতার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আলাদাভাবে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক নিয়ে লেখার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমার উপরিল্লিখিত ক্ষুদ্র লেখাটির বিবরণীতে বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে জাতিকে প্রস্তুত করা, নেতৃত্ব ও মাহেন্দ্রক্ষণে স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ আছে। তারপরেও দুই একটা কথা না বললে হয় না। দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই প্রমাণিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু আটক হওয়ার পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। এরপরও এ বিষয়ে বিতর্ক করা সংবিধান ও আদালত অবমাননার শামিল।

যারা জেনে শুনে নিজেরা ইতিহাস বানাতে চায় বা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় ইতিহাসের নিজস্ব গতিধারায় একদিন এসকল জ্ঞানপাপী শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতারা এমনভাবে ছিটকে পড়বেন যে একদিন তাদের ছাত্র, ভক্তরা তাদের খোঁজও নিবে না। যে সকল ছাত্র/ভক্তদের মিথ্যা ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে. মগজ ধোলাই করা হচ্ছে, একদিন তারাই সত্য জানার পর এসকল শিক্ষক, রাজনীতিককে ঘৃণা করবে। বেশি দূরের ইতিহাস নয়, পলাশী যুদ্ধের অন্যতম খলনায়ক রবার্ট ক্লাইভ দেশে ফিরে গেলে নবাব সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে অন্ধকোপের মিথ্যা প্রচারণার কারণে দেশের মানুষ তাকে শাস্তি দেয় ও ঘৃণা করে। এরকম অসংখ্য উদাহরণ আছে। আজ যারা বিশেষ মহল বা গোষ্ঠীকে খুশী বা মনোরঞ্জনের জন্য জাতির গর্ভভরা মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে চায় ইতিহাস তাদের শাস্তি দিবে এটাই ইতিহাসের অমোঘ বিধান।


আওয়ামী লীগে অবিলম্বে কঠোর শুদ্ধি অভিযান দরকার = আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

আমার শৈশবে ‘শিশু সাথী’ নামে এক শিশু-মাসিকে ‘বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা’
নামে একটি গল্প পড়েছিলাম। গল্পটির সারমর্ম ছিল ঘোগরা বাঘের সঙ্গে
সম্মুখযুদ্ধে না পেরে তাদের দলে মিশে গিয়ে তাদের ধ্বংস করার চেষ্টা
করেছিল। সম্প্রতি কালের কণ্ঠে ‘জামায়াত-শিবির থেকে আওয়ামী লীগে পদধারী’
শীর্ষক খবরটি পাঠ করে শঙ্কিত হয়েছি এবং শৈশবে পড়া গল্পটির কথা মনে
পড়েছে।খবরটিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় বিএনপি ও
জামায়াত-শিবির থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলে যোগ দেওয়া হচ্ছে, তাকে আর
দলবদল বলা যায় না, বলা যায় অনুপ্রবেশ। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৯ সাল
থেকে। আর এই অনুপ্রবেশ স্রোতের আকার ধারণ করে ২০১৪ সালে চারদলীয় জোটের
সহিংস আন্দোলন দমে যাওয়ার পর থেকে। ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর গণভবনে এক সংবাদ
সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বিএনপি ও জামায়াত-শিবির থেকে আওয়ামী লীগে
আসা চলবে না। তার পরও অনুপ্রবেশ থেমে নেই। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের,
বিশেষ করে জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে ঢুকে অনেকেই বড় বড় পদ
বাগিয়ে নিয়েছে।’

এই অনুপ্রবেশকারীরা কে কোথায় আওয়ামী লীগে উচ্চপদ দখল করেছে, তার একটা
দীর্ঘ তালিকাও প্রকাশ করেছে কালের কণ্ঠ। একটি উদাহরণ, ‘২০১৬ সালে বিজয়ের
মাসে আওয়ামী লীগে যোগ দেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারঘরিয়া জামায়াতের
আমির মাওলানা আবুল খায়ের। একই বছর ১ অক্টোবর যোগ দেন জেলা জামায়াতের
নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা সোহরাব আলী। জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন
শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নেতা আফরোজ জুলমত আলী, জামায়াত নেতা
আবদুল্লা হেল বাকি ও মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁরা সবাই
একাধিক নাশকতা মামলার আসামি। আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তাঁদের
মামলাগুলো ধামাচাপা পড়ে। খবরটিতে সারা দেশেই আওয়ামী লীগে জামায়াতিদের
অনুপ্রবেশ এবং উচ্চপদ দখলের দীর্ঘ তালিকা দেওয়া হয়েছে। এর পুনরুল্লেখের
দরকার নেই। তবে এই দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
‘জামায়াতপন্থীরা সিদ্ধান্ত নিয়েই আওয়ামী লীগে প্রবেশ করছে। কারণ তারা
জঙ্গি হয়ে বাইরে থেকে কিছু করতে পারেনি। এখন ভেতরে ঢুকে তাদের উদ্দেশ্য
হাসিল করতে চায়।’

প্রতিবেদনটি পড়ার আগে আওয়ামী লীগে জামায়াতের অনুপ্রবেশের খবরটি জানতাম,
তা যে এত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, জানতাম না। কয়েক বছর আগের কথা, এক
মন্ত্রী এসেছেন লন্ডনে। হাইকমিশনে তাঁর সঙ্গে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার
ঘরোয়া বৈঠকে আমিও হাজির ছিলাম। প্রয়াত মিজারুল কায়েস তখন হাইকমিশনার।
মন্ত্রী মহোদয় গর্ব প্রকাশ করে সেই বৈঠকে বলেছিলেন, তিনি দিনাজপুরে প্রায়
দুই হাজারের মতো জামায়াতিকে আওয়ামী লীগে এনেছেন। আমরা শঙ্কিত হয়ে বলেছি,
এটা কি ভালো হলো? তিনি গলা উঁচিয়ে বলেছেন, ভালো হলো না কেন? এভাবে দেশের
সব জামায়াতিকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসতে পারলে জামায়াতের অস্তিত্ব আর থাকবে
না। আমি মৃদুস্বরে বলেছি, আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে কি? তিনি আমার
প্রশ্ন না শোনার ভান করেছেন।

শত্রুকে নিপাত করার জন্য কী কৌশলে তাদের দলে ঢুকে উদ্দেশ্য সফল করা যায়
তার প্রাচীনকালের উদাহরণ তো ট্রোজান হর্সের গল্প। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের
সময়ও শত্রুদলে অনুপ্রবেশ করে শত্রুকে শায়েস্তা করার বহু বিবরণ জানা যায়।
ব্রিটিশ আমলের অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগাররা নির্বাচনে হেরে গিয়ে ফজলুল
হকের দলে ঢুকে কিভাবে তাঁকে কিছুকালের জন্য নেতা মেনে পরে তাঁকে আছড়ে
দূরে ফেলে দিয়েছিল, সে কাহিনি তো এখন এক ইতিহাস।

বাংলাদেশের রাজনীতিতেও জামায়াত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতা ও
স্বাধীনতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল
হিসেবে গড়ে ওঠা বিএনপিকে দখল করে নিজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের
দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়। যত দিন বিএনপিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থক
প্রবীণ নেতারা ছিলেন তত দিন জামায়াতের এই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। কিন্তু ‘বাপ
কা বেটা’ তারেক রহমান সাবালক হয়ে উঠতেই জামায়াতিরা তাঁর কাঁধে ভর করে এবং
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নেতাদেরও একে একে দল থেকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করে।

তারেক রহমান ঘোষণা করেন, ‘বিএনপি ও জামায়াত একই পরিবারের লোক।’ তাঁর
কল্যাণে একাত্তরের ঘাতক ও স্বাধীনতার শত্রুদের গাড়িতে মন্ত্রিত্বের পতাকা
ওড়ে। শুরু হয় জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ও
ইতিহাসের অবমাননার যুগ। এই যুগের অবসান হয়েছে এবং একাত্তরের শীর্ষ
ঘাতকদেরও সাজা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি জামায়াতের কবলমুক্ত হতে পারেনি।
অনেকেই বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি যদি জেতে, তাহলে জয়টা হবে
জামায়াতের, বিএনপির নয়। বিএনপির খোলসে জামায়াত ক্ষমতায় যাবে। শুরু হবে
দেশে একাত্তরের  চেয়েও ভয়াবহ অত্যাচার। আমাদের একটি সুধীসমাজ এই সত্য
জেনেও ‘হালাল গণতন্ত্র’ চেয়ে প্রচ্ছন্নভাবে এই নয়া বর্গিদের সমর্থন
দিচ্ছে।

তবু বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটা নীতিগত মিল আছে। জামায়াত মৌলবাদী দল
এবং বিএনপি কাছাকাছি সাম্প্রদায়িক দল। ভারতের বিজেপির মতো তারও একটি
অসাম্প্রদায়িক নামের খোলস আছে। ভারতে শিবসেনা ও বিজেপির মধ্যে মৈত্রী হতে
পারে; কিন্তু কংগ্রেস ও শিবসেনার মধ্যে মৈত্রী হতে পারে না। শিবসেনা
হিংস্র মৌলবাদী দল এবং কংগ্রেস সম্পূর্ণ বিপরীত সেক্যুলার গণতান্ত্রিক
দল। অনুরূপভাবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সেক্যুলার গণতান্ত্রিক দল এবং
জামায়াত শুধু হিংস্র মৌলবাদী দল নয়, স্বাধীনতার শত্রুও। এই দলের
নেতাকর্মীদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা খুলে দেওয়া দেশ ও জাতির জন্য ভয়ংকর
সর্বনাশের সূচনা করবে।

জামায়াত বিএনপিকে আগে দখল করেছে। এখন বিএনপি ক্ষমতায় নেই। জামায়াতের কাছে
তার প্রয়োজন অনেক কম। প্রয়োজন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। তাই পরিকল্পনামতো
চলছে দলে দলে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ। আওয়ামী লীগ, বিশেষ করে শেখ হাসিনা এ
সম্পর্কে সতর্ক হোন। আওয়ামী লীগে অবিলম্বে প্রয়োজন কঠোর শুদ্ধি অভিযান।
নইলে আগামী নির্বাচনে জিতেও দেশকে রক্ষা করা যাবে না।

দুর্ভাগ্যক্রমে ভারতে এবং বাংলাদেশেও সেক্যুলার গণতান্ত্রিক শিবির দুর্বল
ও বিভ্রান্ত। কংগ্রেসের নতুন নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচনে জেতার জন্য
শিবসেনাদের নীতি অনুসরণ করছেন। তিনি সাম্প্রতিক গুজরাট নির্বাচনের সময়
নিজেকে শিবভক্ত ঘোষণা করে প্রতিটি শিবমন্দিরে গিয়ে পূজা দেন। কংগ্রেস
ভারতে একটি রামমন্দির তৈরিরও ঘোষণা দিয়েছে। গুজরাটের নির্বাচনে কংগ্রেস
ভালো করলেও জয়ী হয়নি। শিবসেনা ও বিজেপির ধর্মীয় রাজনীতির অনুসরণ করে
কংগ্রেস আগামী সাধারণ নির্বাচনে জিতবে তার আশা কম। রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস
নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করতে গিয়ে তাঁর বাহুতেই শক্তি জুগিয়ে চলেছে।

বাংলাদেশের শেষ ভরসা, আওয়ামী লীগ এখনো কোনো বালকোচিত নেতৃত্ব দ্বারা
পরিচালিত নয়। নেতৃত্বে আছে শেখ হাসিনার মতো দীর্ঘদিনের সংগ্রামী ও অভিজ্ঞ
নেতৃত্ব। বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান ‘অনুপ্রবেশের রাজনীতি’ সম্পর্কে শেখ
হাসিনা সময় থাকতে সতর্ক হবেন এবং দলের মধ্যে কঠোর শুদ্ধি অভিযান শুরু
করবেন—এটা শুধু আমার নয়, সারা দেশের সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষের আশা।


শিব্বীর আহমেদ’র কবিতা ”বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ” নিয়ে খুব শিঘ্রই প্রকাশিত হচ্ছে গান ”বজ্রকন্ঠে স্বাধীনতা”

শুক্রবার, ৩০ মার্চ ২০১৮

”বজ্রকন্ঠে স্বাধীনতা” গানটির অডিও রেকর্ডিং ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। গানটির সুর করেছেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সুরকার ও শিল্পী শফিক তুহিন। গানটিতে তিনি কন্ঠও দিয়েছেন। এছাড়াও গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন এ প্রজন্মের এনটিভি ক্লোজআপ তারকা শিল্পী কিশোর দাস ও চ্যানেল আই সেরাকন্ঠের শিল্পী রুমানা আকতার ইতি। এছাড়া গানটির কোরাসে কন্ঠ দিয়েছেন শিল্পী স্বরলিপি, সাজিদ, রাফি, রুকু, ইমরান, লুনা ও অয়ন। গানটিতে গীটার বাজিয়েছেন কেডী এবং পুরো গানটির মিউজিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মানাম আহমেদ।

Picture

শিল্পী ও সুরকার শফিক তুহিন তার সুরের যাদুর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ২০১১ সালে। এছাড়াও তিনি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০০৬, ২০১১, এবং ২০১৩, বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোর্টস ইউনিট (সিজেএফবি), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার ২০০২, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার ২০০৩, সিজেএফবি পুরস্কার ২০০৪, বিনোদন বিচিত্রা পারফরমেন্স পুরস্কার ২০১১, টেলিভিশন রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার ২০০৭ সহ আরো অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

এদিকে ২০১৪ সালে সেরা কন্ঠ রিয়েলিটি শো তারকা রুমানা আকতার ইতি। তার সুরেলা কন্ঠ দিয়ে তিনি ৫ম স্থান অধিকার করেছিলেন। তার প্রিয় আইডল দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সামিনা চৌধুরীর হাত ধরে দারুন ভাবে সঙ্গীতের জাতীয় পর্যায় নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। সদা হাসিখুশি রুমানা আকতার ইতি তার অসাধারণ গায়কী কন্ঠ দিয়ে সকল শ্রোতার অন্তরে দারুনভাবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

alt

কিশোর দাস ক্লোজআপ ওয়ান তারকা শিল্পী। চট্টগ্রামের ছেলে কিশোর ছোটবেলা থেকে কিশোর তবলা ভালো বাজাতেন। পাঁচ বছর তবলা বাজানো শিখেছেন। এর পাশাপাশি গানের চর্চাও চালিয়ে গেছেন। স্কুলে পড়াকালীন এলাকায় গানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হতেন তিনি। ওস্তাদ মিহির লালা, ওস্তাদ প্রকাশ চন্দ্র শীল- এর কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ওপর তালিম নেন কিশোর। সংগীতের প্রতি ভালোবাসার কারণে ঢাকার মগবাজারে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন কম্পোজ স্ট্যান্ড নামের গানের স্টুডিও। ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার পর নিজের তিনটি একক অ্যালবাম ছাড়াও ২০টি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কিশোর। গেয়েছেন ২৩টি নাটকের টাইটেল সং।

গানটি নির্মানে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতার জন্য আতিকুর রহমান, আকবর হায়দার কিরন, মিনহাজ আহমেদ, স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসান, মনিরুল হক, জোবেদা লুনা, ফখরুল ইসলাম কামাল, রবিউল ইসলাম, মেহবুবা আক্তার, সাজিদুল হক, সেলিনা আক্তার লিজা, শহিদুল হক, জুবায়ের খান ও মুশফিকুল ইসলাম সহ আরো অনেকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ।

প্রায় সাত মিনিটের এই গানে ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ২৫ মার্চ কালোরাত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় এবং বিজয়ের প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসাবে চিন্নিত হবে বলে লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ জানিয়েছেন। বর্তমানে গানটির ভিডিও নির্মান কাজ চলছে। শিব্বীর আহমেদের নির্দেশনা ও পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু সহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ফুটেজ ছবি সংগ্রহ ও সংযোজনের কাজ করছেন এক সময়ের চলচ্চিত্র জগতের ভিডিও নির্মাতা আবদুল্লা চৌধুরী। খুব শিঘ্রই গানটি বিশ^ব্যাপী রিলিজ করা হবে বলে জানিয়েছেন লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ।


মহান স্বাধীনতা দিবস ও কিছু বেদনার কথা = এবিএম সালেহ উদ্দীন

বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮

মার্চ মাস আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসের প্রতিটি দিন ও সময় খুবই তাৎপর্যময়। এ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। আমাদের অস্তিত্ব ভিসারী জাগরণের মাস। এই আগুনঝরা মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।
১৯৭১ এর পচিঁশে মার্চ বাঙালি জীবনের একটি কলঙ্কজনক ইতিহাস। পচিঁশে মার্চের কালো রাতে ঢাকা শহরের ঘুমন্ত মানুষের উপর তৎকালীন
পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ন্যাক্কারজনক বর্বোরচিত হামলা শুরু করেছিল। সেই হামলার মাধ্যমে বাংলার মানুষকে ঠেলে দেয়া হয় এক ঘোরতর বিপদের দিকে। পাকিস্তানী শত্র“ সৈন্যদের নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞে সমগ্র ঢাকা শহর পরিগণিত হয়েছিল একটি মৃত নগরীতে। ঢাকাসহ সমগ্র দেশময় ছড়িয়ে পড়েছিল হানাদার বাহিনীর নৃশংস হত্যাকান্ড ও পৈচাশিকতার তান্ডব।
সেই ভয়াল রাতে সে সময়কার কোন কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিজেদের জীবন বাচাঁনোর জন্য অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিলেন। একই রাতে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বন্দী হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হন। এ সময় সমগ্র দেশ ভীতিকর পরিস্থিতি ও অনিশ্চিয়তার সম্মূখিন হয়। শহর ছেড়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনত্র চলে যায়। ফলে,জনমনে দেখা দেয় চরম উৎকন্ঠা।
২৬শে মার্চ প্রাত:øাত কুয়াশায় যখন বাংলার পত্র-পল্লব মমতার নির্যাসে মাখামাখি,অন্ধকার গুচে সুপ্ত আলোক রশ্মির উঁকি-ঝুকি। সেই সময় বাংলাদেশের এক দুর্গম পর্বতের গহিন হতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য বাংলার জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান ধ্বনিত হলো। এ যেনো ঘোর অমানিশায় মহা দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার বিদূরণের জন্য সঞ্জীবনী শক্তি এবং সমুদ্ভাসিত আলোর ঝলকানি।
ইথারে ইথারে মেজর জিয়ার ভরাট কন্ঠে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের আহবান ছড়িয়ে পড়লো সমগ্র দেশময়। বাংলার দিশেহারা মানুষ স্বাধীনতার জন্য সঠিক পথের সন্ধান পেলো।  শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। অত:পর বাংলার পথে-প্রান্তরে, আনাচে-কানাচে তথা সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে গেল স্বাধীন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
বলাবাহুল্য, প্রথমে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান আছে। তৎকালীন রমনার রেসক্রোস ময়দানে (সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) সেই ভাষণটির মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের এবং জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিলেন। যদিও পঁচিশে মার্চের পর আওয়ামী লীগের মুখচেনা কতিপয় নেতা (যাদের অনেকে পরবর্তীতে উড়ে  এসে জুড়ে বসেছিলেন। তাদের কেউ কেউ এখনও সুবিধাজনক অবস্থানে  আছেন) ভারতে পালিয়ে গিয়ে বিলাসবহুল দিন যাপন করেন। অথচ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মর্ম অনুযায়ী তাদের উচিত ছিল দেশের অভ্যন্তরে থেকেই সবকিছুর মোকাবেলা করা এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া। তা না করে দলের আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে তারা জনগণ ও দেশের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। দু:খজনক হলেও সত্যি যে, এই কারণে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্ত ঘোষণায় দলীয়ভাবে কেউ এগিয়ে আসেন নি।
অথচ বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সেখানে তৎকালীন কালীন পাকিস্তান আর্মীর মধ্য থেকে ধ্র“বতারার মতো এক দু:সাহসী বাঙালি সেনা নায়কের আবির্ভাব ঘটলো। তিনি হলেন মেজর জিয়াউর রহমান। যিনি প্রথমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। মেজর জিয়ার সেই ঘোষণায় বাংলার মানুষ দলমত নির্বিশেষে জেগে উঠলেন।
এখানে সবকিছুর উর্দ্ধে নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে দেখা যাবে যে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের মর্মটি তেমনই ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানের কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরবার উদাত্ত আহবান যেনো একই সূত্রে গাঁথা । কিন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, বর্তমান আওয়ামী লীগ ও তার সরকার সেটি মানতে রাজি নন। তারা জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমার্ন্ডাস এবং সর্বোপরি কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীকে এব্যাপারে কোন ক্রেডিট কিংবা যথাযথ: সন্মান জানাতে চান না ! তারা বুঝতে পারছেন না যে, এতে বঙ্গবন্ধুকেই হেয় করা করা হয়। কারণ জিয়ার কন্ঠে স্বাধীনতার দ্বিতীয় ঘোষণাটি বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল।
বলাবাহুল্য মেজর জিয়ার আহবানের পরই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন
পাকিস্তানী স্বৈরতন্ত্রী সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে পূর্ব পাকিস্তানের
সেনাবাহিনী,ইপিআর,পুলিশ,আনসার বাহিনীসহ প্রায় সকল সিভিল সার্ভিসের লোকজন মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন। কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক মেনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে মেজর জিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণায় গুটি কতেক সুবিধাবাদী ছাড়া সামরিক বাহিনীর প্রায় সবাই পাকিস্তানের সরকারি বাহিনী থেকে বের হয়ে আসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যয়ে সকল স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সকল সেকটর কমান্ডার এবং তাঁদের অধীনে সমগ্র মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন।
স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাসের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু ও মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় কোন দ্বিমত দেখা দেয়নি। ইহাই সঠিক এবং সত্য ইতিহাস। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় বর্তমানে সেই আবহাওয়া পাল্টে গেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, জিয়াকে স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিলে বঙ্গবন্ধুকে খাঁটো করে দেখা হয়। কথাটি একদম ঠিক নয়। এতে একজন গ্রেট রাজনৈতিক নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা আরো বেশি উচ্চকিত হয়ে ওঠে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর সাথে এই বিষয়ে কেউকে তুলনা করাও হচ্ছেনা।
 স্বাধীনতা সংগ্রাম ও  মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়ার দু:সাহসী অভিযাত্রার অবদানকে অস্বীকার করাটা একটি অনৈতিক ও আত্মঘাতি কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। এতে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন অসন্মান করা হয় তেমনই মুক্তি ঐতিহাসিক দলীলকেও অবমাননা করা হয়।
দু:খজনক ও বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে,বর্তমানে সেই ঐক্যপ্রত্যয়ী ইতিহাসের বিপরিতে একটি রাজনৈতিক বখাটে পেশি শক্তির উদ্ভব ঘটেছে যারা  ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানোর অচেষ্টা করছেন।  অথচ ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে সত্যকে তুলে ধরা। সত্যের প্রকাশ। সত্যকে চাপা দিয়ে মিথ্যার আয়ু বেশিদিন টিকে না। দার্শনিক রবসন বলেছেনÑ“মিথ্যা এবং মিথ্যাবাদী সব সময় সত্যকেই ভয় পায়। সত্য কখনো মিথ্যাকে ভয় পায় না”।
অতএব, আমাদের সত্যের বিপক্ষে থাকা উচিত নয়। স্বাধীনতার এইসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে খুব কষ্ট লাগে কীভাবে কেমন করে আমরা অন্যজনের অবদানের কথা ভুলে যাই। এতে কী লাভ আমাদের ? এ মুহুর্তে শেখ সাদী’র দু’টি লাইন মনে পড়ছেÑ“কভু যদি কারো কথা করো আলোচনা/ অসাক্ষাতে নিন্দা তার করো না। বলিতে না পারো যাহা চোখের উপরে/বলিও না বলিও না তাহা অগোচরে”।

কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কৃতজ্ঞতার বিষয়ে কুরআন পাকে আয়াত নাজিল হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের পয়গাম্বর বিশ্বনবী(দ) এর আহবান হচ্ছে;“কখনো কোন মানুষ যেনো অকৃতজ্ঞ না হয়,কেননা মনুষ্যত্বের মাপকাঠি হচ্ছে কৃতজ্ঞতাবোধ”।
শেখ সাদীর একটা বিখ্যাত উক্তি“অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে কৃতজ্ঞ কুকুর অনেক শ্রেয়:”। টমাস হার্ডি বলেছেনÑ“ অকৃতজ্ঞ মানুষ কখনো পরিপূর্ণ মানুষ নয়”।  
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অবদানের সঠিক মুল্যায়ন সেভাবেই হওয়া বাঞ্চনীয়। গায়ের জোরে কোন বিকৃতি চাপিয়ে দেয়াটা অন্যায় এবং অনভিপ্রেত: এবং অকৃতজ্ঞতারই শামিল। গুটি কতেক স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার আল-বদর ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অবদান আছে। সেইসব অবদানকে অস্বীকার করা অকৃতজ্ঞতা নামান্তর ছাড়া আর কিছু নয়।
তিক্ত হলেও সত্যি যে,বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে পালিয়ে আরাম-আয়াশে থাকা কতিপয় মুখচেনা রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দলীয় লোকজনের বলয়ে স্বাধীনের পর দেশে ফিরে নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে পরিচিত করবার একটি নির্লজ্জ অপপ্রয়াস চালায়। এই সুবিধাবাদীরা ক্ষমতার বিশেষ স্থানগুলো দখল করে নেয় এবং মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহনকারী বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন শুরু করে। তারা স্বাধীনতার সকল সুবিধাদি ভোগ করে।  ঢাকা শহরের পাকিস্তানী কিংবা অবাঙালীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধন-সম্পদ এবং তাদের বাড়ি-ঘর সমূহ নিজেদের নামে লিখিয়ে নেয়।  দেশ স্বাধীনের পর কেউ কেউ ঢাকা শহরের হিন্দুদের ঘর-বাড়িও কতিপয় মুখচেনা রাজনৈতিক মোড়ল ও ক্ষমতার জোরে দখল করে নেয়। ফলে দেখা গেছে
পাকিস্তান আমলে যার কিছুই ছিল না । স্বাধীনতার পর সরকারের পদলেহন করে তারাই ঢাকা শহরের বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছে। এ কথাগুলো কারো কাছে ভাল না লাগলেও ইহাই সত্যি যে, আজ সুবিধাবাদীদের দৌড়াত্বই বেশি।
স্বাধীনতার পরই ভারতের শোষণমূলক চাপিয়ে দেয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় অকুতভয়ী  মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলীলের মতো সেক্টর কমান্ডারকে পর্যন্ত জেল খাঁটতে
হয়েছে । কর্নেল ওসমানীসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা অবহেলার শিকার হন। দু:সাহসী মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর মতো লোকও আজ  বাংলাদেশে চরম অসন্মান ও অবহেলার শিকার।
অথচ বঙ্গবন্ধু কিংবা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তেমন কোন বিকৃতি ঘটেনি;যেমনটি এখনকার সুবিধাবাদী ভূঁইফোর বুদ্ধিজীবিদের দ্বারা ঘটে চলেছে। এদের সাথে কতিপয় কবি-সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক নামধারি লোকজনও আছেন।  যারা নিজেদের সুবিধাদি এবং পদক লাভের আশায় সরকারকে বিভ্রান্ত করছে। এইসব সুবিধাবাদী শ্রেণী পৃথিবীর ইতিহাসে সব শাসকদের পেছনেই চাটুকারের কাজ করেছে। তেমনই বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারের সাথেও সুবিধাবাদীদের একটা বিরাট অংশ সর্বদাই জড়িয়েছিল এবং এখনও অনেকে তাই করছেন।  
তিক্ত হলেও সত্যি যে, প্রতিটি সরকারকে ডোবানো কিংবা জনবিচ্ছিন্ন করবার পেছনে এইসব চাটুকারবৃত্তির হীন স্বার্থপর সুবিধাবাদীদের একটা বিরাট ভুমিকা থাকে। যারা দেশ ও গণমানুষের স্বস্তি-শান্তি এবং কল্যাণের পরিবর্তে এমন সব অনাকাঙ্খিত বিষয়কে টেনে এনে সরকার ও দেশের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সাধারণ মানুষ তথা জন-জীবনের উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির চরম অবনতির পেছনেও সেরকম কিছু অনাকাঙ্খিত বিষয়কেই মূখ্য ধরে নেয়া যায়। এটা জাতির জন্য বেদনাদায়ক এবং  চরম গ্লানিকর।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে,মার্চ মাস আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতার মাস। আমাদের মুক্তির মাস। তার আগের ফেরুযারি মাসটি ছিল আমাদের সম্মিলিত শোক, গৌরব ও চেতনার মাস। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের ঐতিহ্যগাঁথা চেতনার মাসে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি নির্বিঘেœ আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারিনি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই বিডিয়ার বিদ্রোহের নামে আমাদের সেনা বাহিনীর চৌকষ সেরা অফিসারদের এক জায়গায জড়ো করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল ফেব্র“য়ারি মাসে। ২৫শে ফেব্র“য়ারির সেই নৃশংসতার শিকার অধিকাংশ সেনা অফিসারই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। মহান স্বাধীনতার মাসে সে বিষয়গুলো মর্মান্তিকভাবে আমাদের চেতনাকে শিহরিত করে।
 অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সরকারের ভিতরের একটি গ্র“প এবং সেনা নায়ক মইনুদ্দীনের চক্র মিলে দেশ ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরীখ্যাত সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার উন্মত্ত-উল্লাসেই মূলত: বিডিয়ার বিদ্রোহ ঘটানো হয়েছিল বলে জনমনে সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিডিয়ারকে ধ্বংস করে দিয়ে একটি তল্পিবাহক বর্ডার গার্ডের হাতে সপে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। ফলে, প্রতিনিয়ত ভারতীয় দস্যুসেনাদের হাতে নির্মম-নৃশংসভাবে বাংলাদেশী নাগরিক মারা যাচ্ছে। কোন প্রতিকার নেই। নেই কোন প্রতিরোধ।
এদিকে সরকারের মেয়াদ শেষের প্রান্তিকে এসেও বর্তমানে একই অশনি সংকেত ! বাংলাদেশের আকাশ জুড়ে সেই আগের মতো ধ্বংসাত্মক শকুনে ছেঁয়ে যাচ্ছে। ঘোর অমানিশার এক অশূভ ছাঁয়া প্রকট হয়ে উঠছে। সরকারের ঘাড়ে ঈগল আর মানববিধ্বংসী প্রেতাত্মা এসে ভর করেছে। বাংলাদেশের সর্বত্র রাজনৈতিক গুম,নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের মাত্রা বেড়েছে ভয়ংকর ভাবে। এ ব্যাপারে সরকারেরই বড় দায়িত্ব জন নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
একদিকে বিরোধী রাজনৈতিক ধারাকে গলা টিপে হত্যা করার চক্রান্ত(!) অন্যদিকে পুলিশ,র‌্যাব ও সরকারি দলের ক্যাডারদের হাতে নির্মম ভাবে মানুষ মরছে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের এতকালের তিলে তিলে গড়ে ওঠা শান্তি ও স্বস্তির যে আবহ সৃষ্টি হয়েছিল;তার উপর প্রত্যক্ষ আঘাত শুরু হয়েছে। সব কিছুই অশান্ত। কোথাও শান্তি নেই,স্বস্তি নেই।
স্বাধীনতার মাসে উচিত দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক হানাহানির উর্দ্ধে থেকে মহান স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যকে সন্মান করা এবং যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা। অতীব দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, সেটি বর্তমানে নেই। সরকার তার দলীয় নিপীড়নে বিরোধী রাজনৈতিকধারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ নির্বিঘেœ সভা-সমিতি মিছিল-মিটিং করতে পারছেনা। স্বাধীন দেশে এরকম ঘটনা কলংকেরই জন্ম দেয়। স্বাধীনতার মাসে মুক্তিযুদ্ধে যাদের প্রত্যক্ষ অবদান ছিল; তাদের অনেকেই বিরোধী দলে। অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে তারা তাদের সন্মানটুকু পাচ্ছেন না।
শুধু তাই নয়, এই মহান মাসে স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়ার সহধর্মীনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইহা সরকারের একটি প্রতিহিংসামূলক অবিবেচনাপ্রসূত নির্দয় আচরণ! সরকারের উচিত অতীতের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা নেয়া এবং রাজনৈতিক দলন-নিপীড়নের পথ থেকে সরে এসে গণতন্ত্রের মুক্তচর্চার ব্যবস্থা করা। সরকারের উচিত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় ও অমানবিক আচরণ থেকে দূরে থাকা এবং তাকে মুক্তি দিয়ে গণতন্ত্রের পথকে সুগম করা। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোন রাজনীতি করি না। কিন্তু আমরা চাই বাংলাদেশে সুশীল রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি হোক এবং গণতন্ত্রের পথ চালু থাকুক।
সরকারের উচিত সহনশীল থাকা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বিঘেœ সভা-সমিতির সুযোগ করে দেয়া। স্বাধীন দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নীতির উপর হস্তক্ষেপ না করা।
সরকারের পক্ষ থেকে জন নিরাপত্তা বিষযে খুব একটা পদক্ষেপ নেই। বরং মনে হয়, অন্যমতের রাজনৈতিক ধারাকে গলা টিপে হত্যা এবং গণ মানুষের অধিকারের প্রতি আঘাত করাই যেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধান কাজ। আইন আদালতের অবস্থাতো অথৈবচ। বিচার ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপ তো এখন একটা কালচারে পরিণত হয়ে গেছে। দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের প্রধান বিচারপতির উপর খড়গ চাপিয়ে দেশছাড়া করবার কলঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। সর্বোপরি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করে একনায়কতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থপনার দিকে দেশকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত বলেই মনে করছেন সুশীল সমাজ। তেমনই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাংক,বীমাসহ বাণিজ্যিক খাতে অনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী চক্র মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। যাদের একটা গ্র“প বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশাল অংকের টাকা চুরি করে সফলভাবে বিদেশে পাচার করতে পেরেছে। তৎকালীন অর্বাচিন ও অথর্ব গভর্নরের কোন বিচার এবং প্রকৃত রহস্যের উদঘাটন এবং অপরাধিদের কোন বিচার হয়নি।
শেয়ার বাজারের  ক্ষেত্রে ধস্ নেমেছে অনেক আগেই। যদিও একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের অবস্থা এরকম হওয়া কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশে তা অবলীলায় হচ্ছে।
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পরিবৃদ্ধি ঘটেছে। গণমানুষের অধিকার রক্ষা হচ্ছে না।
স্বাধীনতার মাসে গণমানুষের আনন্দ-উল্লাসের পরিবর্তে বেদনা-বিষাদ হাহাকার এবং  কষ্ট-নির্যাস গ্লানিবোধের ছায়াই ক্রমান্বয়ে প্রকট হয়ে উঠছে । যার অন্যতম কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশে মুক্ত গণতন্ত্র চর্চার কোন পরিবেশ নেই।! স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটেনি। সর্বত্র অবক্ষয়ের ধ্বংসাত্মক পদধনি। সারাদেশে নৃশংসতা ও পাশবিক অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। বিরোধী রাজনীতি করার অপরাধে গুম,নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে। স্বাধীন দেশে এধরণের ঘটনা দু:খজনক ও বেদনাদায়ক। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক জীবনে নিরাপত্তার অভাবে যে অসহায়ত্ব বিরাজ করছে তা থেকে মানুষকে মুক্ত হতে হবে। স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেন সকল নাগরিক সমানভাবে ভোগ করতে করতে পারেন মহান স্বাধীনতার মাসে সে প্রত্যাশাই রইল।
পরিশেষে উইলিলয়াম ফ্রেডারিকের একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানবো। তিনি বলেছেন:“Ñ খাঁচায় আবদ্ধ পাখির কন্ঠে যে গান,সে গানে শুধু বন্দীত্বের সুরই ফুটে ওঠে”।
বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যেন স্বাধীন ও মুক্তভাবে নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারেন। সাম্য-মৈত্রীর বন্ধনে সবাই যেন বসবাস করতে পারেন যার যার অধিকারের মর্যাদায়।
সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
লেখক:কবি ও প্রাবন্ধিক।


উন্নয়নশীল বাংলাদেশ ও আমাদের মুক্তির সংগ্রাম—অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন একবার, আর ‘মুক্তি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন পাঁচ বার। ‘স্বাধীনতার’ চেয়ে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ শব্দ ‘মুক্তি’। মুক্তি বলতে সকল বঞ্চনা, বৈষম্য, শোষণ, সংকীর্ণতা, কুপম-ুকতা, চেতনার দীনতা থেকে মুক্তি বুঝিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম চলছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের সিঁড়িতে পা রেখেছে। ২০২৪ সালে চূড়ান্ত সমাবর্তন হবে। নির্দিষ্ট তিনটি মানদ-ের সবকটিতে উত্তীর্ণ হয়েই বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা, যে হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে এই উত্তরণ ঘটলো এগুলো বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত কোনো পরিসংখ্যানের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়নি। সূচকসমূহ জাতিসংঘের নিজস্ব পদ্ধতিতে তাদের সংগৃহীত পরিসংখ্যান নির্ভর। যদিও পরিসংখ্যান সবসময় সত্য কথা বলে না। ১৯০৬ সালে মার্ক টোয়েন তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ‘সংখ্যা কখনো কখনো আমাকে বিভ্রান্ত করে।’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেনজামি ডিজরেলি নাকি বলেছিলেন, ‘মিথ্যা তিন প্রকার: মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান।’ যার কারণে পরিসংখ্যান ব্যবহার না করেই বলা যায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বদলে গেছে বাংলাদেশ। ৭ মার্চ ১৯৭১ -এ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে বলা হয় রাজনীতির কবি (পোয়েট অব পলিটিক্স)। বঙ্গবন্ধু রচিত শ্রেষ্ঠ কবিতা তার ৭ মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা এবং ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যটি তৈরি করেছেন তার কন্যা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর দিকে তাকালেই মনে পড়ে যাবে ‘৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’র স্থাপত্য রূপ এটি।
Picture
উন্নয়নশীলতার পথে যাত্রার উদযাপন চলছে সারাদেশে, বেদনাদায়ক ঘটনা হচ্ছে তারও বিরোধিতা হচ্ছে। কারা এর বিরোধিতাকারী। বিরোধিতাকারী তারাই যারা যুগে যুগে বাঙালিত্ব ও বাঙালির অগ্রযাত্রার বিরোধিতা করেছিল। জামায়াত-বিএনপি-পাকিস্তানি অপশক্তির দোসররা। যারা ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট দেশটাকে বদলে পূর্ব পাকিস্তান কায়েম করেছিল। অনেকে বলেন বিএনপি নামক দলটির কোনো আদর্শ নেই। তারা ভুল বলে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের চেতনার বিরোধিতাই এই দলটির আদর্শ। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল বাম-ডান-দক্ষিণপন্থী, মধ্যপন্থী, দলছুট, সুবিধাবাদী সকল অপশক্তির প্লাটফরম হচ্ছে বিএনপি।                                                                 অতএব সমগ্র জাতি যখন উন্নয়নশীল দেশের যাত্রাকে স্বাগত জানাচ্ছে, প্রেস ব্রিফিং করে পল্টন থেকে তার বিরোধিতা করছে বিএনপি। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক তালিকা ভুক্তির সার্টিফিকেটটি দিয়েছে জাতিসংঘ। এটি গ্রহণ না করে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস না দেখিয়ে বাংলাদেশের আর কী করার ছিল। বিএনপি এবং সুশীল জাতীয় কিছু ব্যক্তির কথা মনে হচ্ছে শিক্ষক পরীক্ষা নিয়ে কোনো ছাত্রকে তৃতীয় শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণীতে প্রমোশন দেয়ার পর ছাত্রের বলা উচিত, ‘না ভাই আমি চতুর্থ শ্রেণিতে উঠবো না, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার চাপ বেশি, তাছাড়া তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ফ্রি টিউশন পাওয়া যায় স্কুলে, আমি তৃতীয় শ্রেণিতে থেকে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিলাম।’ বিরোধী দল থেকে সরকারের পরিসংখ্যানকে বিশ্বাসযোগ্য নয়- বলা হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের ছোঁয়াকে বুঝতে তো পরিসংখ্যানের প্রয়োজন নেই বিদ্যুতের যে লোড শেডিং নেই, রাস্তা পাকা, সবাই যে কর্মব্যস্ত তা তো সে নিজেই দেখতে পাচ্ছে। যে দেশে মহিলাদের পেশার ঘরে নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে লিখতে হতো গৃহিণী। এখন কেবলই গৃহিণী বলতে আর কেউ অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না। গ্রামের প্রত্যেক মহিলাই কোনো না কোনো ইনকাম জেনারেটিং কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। তীব্র অভাব অনটন বলতে যা বুযায় তা এখন একেবারে নেই বললেই চলে।
মাথাপিছু আয় বেড়েছে, গড় আয়ু বেড়েছে, পরিবারের জন্য পণ্য ও সেবা ক্রয়ের সংখ্যা ও পরিমাণ বেড়েছে। মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে, চিকিৎসা সেবা নাগালের মধ্যে এসেছে, ব্যয়ও বেড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে আয় না বাড়লে ব্যয় বাড়ল কীভাবে। তাছাড়া একজনের ব্যয় তো অন্য জনের আয়ও বটে। তবে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। আয় বাড়ার সাথে আয়ের বৈষম্য কমাতে হবে। আমরা অসহনীয় মাত্রায় বৈষম্য রেখার একেবারে কাছাকাছি আবস্থান করছি। দুর্নীতির ব্যাপকতা আমরা কমাতে পারিনি। শিক্ষার পরিমাণগত ব্যাপকতা বাড়লেও মানগত গভীরতার দিকে আমাদের আরও অনেক মনোযোগী হতে হবে।


Who is Architect of Higher Developing Bangladesh = Mohammad Ahsanul Karim

শুক্রবার, ১৬ মার্চ ২০১৮

In response to a recent article in the “Bangla Insider” which states that Professor Graham Allison, Professor Arthur Applbaum and Professor Christopher Avery of Harvard Kennedy School (HKS) of Government have produced `a number of research studies’ on Prime Minister SheikhHasina of Bangladesh for her policies and programs regarding miracle development of Bangladesh. I am expressing my thanks to Learned Professors of HKS for their interest and research studies.

Paddy and vegetable growfaster as its life are seasonal and give one seasonaloutput. But tree whose life is over hundred years, needs about a decade yearsgrowing to give output in many season-years.Usually a set of structures and institutions of larger state remain effective over hundred years. So minimum a decade takes to re-build thoseand also a decade may needfor expected full output.

Building of ‘Higher Developing Bangladesh’has been stared from in 1982. Here I shall inform and complementto Learned Professors of HKS the chorological initiatives and reform events including the thoughts and programs for enriching their research studies. Bangladesh was familiar as a ‘Global Beggar Basket’ in 1970s. Over 69% people were under poverty. Per capita GDP growth rate was about 0.9% (=3.4-2.5) in 1970s. Same is now about 6.0% (=7.3-1.3) in 2017 and 22.5% people are under poverty. None would remain hardcore poor after couples of years. NowBangladesh is a Global Role-Model’.

Most global economies suffered from recession during 2008-13, but Bangladesh maintained over 6.0% growth rate. Global and national including UN agencies and institutions have mentioned it miracle/wonder. Based on data of 2010s, those agencies and institutions credited it to PM Sheikh Hasina as she is the head of Government during the time. If the thoughts-programs-initiatives, implementing- maturity time for impacts, and output of reforms are considered, virtually her role is still very less in relation to prior-others for appreciation.

21

Higher Developing Bangladesh is generating from my thoughts, reform programs and initiatives (Progressive Democratic Reform Programs. 1985 and Progressive Democracy, 1991, Points Regarding Amendment, 2010 and Statement Submit to Supreme Court, 2011). A unison grew amid the Leaders of four parties (JP, BNP, AL & JSD) about the programs also for joint-lettering. So Governments changed but same set of reforms are continued on my reminding.

Bangladesh inherited autocraticstate area infrastructure (SAI) institution and autocratic defense structure institution in 1947 and 1971 respectively; and also crafted autocratic government system after Independence. Increasing autocraticgovernance and decreasing citizen rights, therefore, were self-generating from those structures-institutions. Without democratic reforms of those (SAI institution, defense structure and government system), Bangladesh was a poor and various crises country.

Successfully I could able to re-structure the bottom two-layers of SAI institution in 1982-84. President Ershad did not agree to reduce his autocratic power even after constitutional approval of Military Rule. So I could not to re-structure Bangladesh into 9/10 divisions, the most vital part of the SAI institution in building “Higher Growing Democratic Bangladesh”. As a result, country changed from autocratic to growing anarchic/terrorist state after 1984.

During severe political instability in 1988-90, there was another possibility of Coup. As president agreed, I could successfully able to upgraded Regional Cantonments from 5 (five) to 8 (eight) (one remain quasi-regional as was without GoC). Afterwards, new defense structure ensures self-cheek and made difficult for Coup. My proposal is defense structure shall be based on 9 Regional Cantonments with 2 personnel per 1000 people for internal defense/security. It is neither PM Hasina’s theory nor her programs and initiatives.

The SAI institution was loose after creating 64 districts maintaining earlier 4 divisions. For this reason, Ershad-Government also faced increasing budget crisis for deceasing revenue collection even by raising tax-rates. As a result, Government fell for the people’s up-rise in end of 1990 after two consecutive severe flood. I could not able to enacting Bicameral Parliament for want of time and opportunity, but become succeed in bringing a constitution amendment of “Maximum two terms president system” (9th Amenmend).

Next, BNP formed Government withPM Khaleda Zia. Of basic reform programs, she implemented income tax-structure from long prevailing 0-50% rates to democratic 0-25% (1992); and alsotwo new divisions (1995) out of 5/6 ones. Both made the market economy gradually more effective and added over 2.0% Growth rate. Though rate become about half, but those reforms also raised collection of income tax-revenue from 1.1% to now 3.0% of the GDP by 2003/04. It is also neither PM Hasina’s theory nor her initiative.

Afterwards AL formed Government headed also by heart political leader PM Sk. Hasina with my little help. So she re-divided Village-Union into 9 Wards (that added only about 0.3% to prevailing growth rate) and Old-age Allowance in 1997, the first part of my programs for reduction poverty. But did not create remaining 3/4 divisions to add 3.0% growth rate for keeping her autocratic power. Next BNP Government did not brought any changes as was not fell in severe crisis in the tenure. I utilized the severe crises situation or benefit opportunities of Government in reforming.

AL again formed Government in 2009. PM Hasina created only Rangpur Division (2010) as no easyand least cost alternative to solve the regular mass famine. It did not add 1.0% growth rate as her negative 7th National Pay Scale (NPS). Government agencies become more corrupted as she deliberately delayed to revise NPS or allowance as per time. She also knows if NPS as like as India-Pakistan is implementedas per my advice, modeland yearly revision policy, 3.0% growth rate would be added immediately for a couple decades.

AL Government also would not face severe political crises for a decade if enacted theCTG system during election in the 15th Anmd for which she fought and established. It has also national consensus and Supreme Court’s direction. So I advised the following ‘time-needed reforms’ on necessity in continuation of earlier implemented ones (also mentioned in my CV) in a Seminar on February 26, 2012 before coming to USA:

  1. a)Creation of Mymensingh and Camilla Divisions;
  2. b)Upgrading Sylhet Cantonment into a regional one and founding another;
  3. c)Creation of Bicameral Parliament and a followable Model;
  4. d)Care Taker Government (CTG) from the Second House and a followable Model;

Govt. completedUpgradation of the 8thregional (Sylhet) Cantonment by creating GoC in 2013; andfor her interest, immediately founded permanent another in Barisal with a temporary the9th(Ramu)onefor strengthening the self-check against a Coup. During a student-mov against VAT on academic fees, Government withdrew it and committed for the Mymensingh and Comilla divisions in Feb, 2015 on my reminder. But she only created only the Mymensingh division in Oct, 2015.

As it may add 20.0m votes to AL in coming election, PM Hasina implemented 2nd part of my poverty elimination program, Universal Child Allowances (2017) upon my reminders. Knowing that it shall also add 1.3% growth rate, she did not create rest 2 divisions over 3 years as it shall reduce her despotic power and shall ensure better governance and citizen rights. So, poverty reduction is neither PM Hasina’s theory nor her initiative.

After discussing several times about my reform programs in late 1980s, she also committed to enact for Bicameral Parliament if AL Government earn with necessary majority. She added my four advice in the 15th Amnd, but dishonored her commitment of Bicameral Parliament for autocratic power. As the political crisis is increasing, she may create restMymensingh and Comilla divisions. But it may reduce, but may not be sufficient against the growing political crisis. State life is not economic only, but also social, cultural and political.

Without knowing the chronological time of reforms, maturity time for impact, output of those, etc. evaluating PM Hasina based on current data as smart statesman would be “incorrect” where she had virtually no role. The actual reality is that she tries for increasing her despotic and mal-practices power even by the cost democracy and development for the nation. Another example would clear it further.

As new 8th division (Mymensingh) would increase about 0.8% to running growth rate, she has made 8th NPSinstitution more negative (0.3%). Consequently, government financed agencies including education sector are becoming more ineffective and corrupted. The intention is to weaken the morality and impact of gentles-educates for creating better environment of marshal-men and corrupted political leaders.

After dividing Bangladesh into planned10 divisions, the sustainable growth rate shall be added 1.3% by five years. Optimal National Pay-scales shall add3.0% growth rate immediately. Afterward Unitary Bangladesh based on 10 divisions would remain higher growing as Japan, S.Korea; and future federal Bangladesh based on10 provinceswould be also as W.Germaney and Malaysia. Bicameral Parliament shall ensure political stability, democracy, citizen rights and better governance. After completing DID Model, Bangladesh would be a ‘Global Role-Model of “Higher Developing Democratic Country”.

List of implemented programs of mine has become larger day by day since 1982. Now it has become unbelievable that how a person brought so many basic reforms without state-authority! However, higher developing Bangladesh is not only generated from my thoughts, reform programs and initiatives, but also agreements and actions of Ex-President H M Ershad, Ex-PM Khaleda Zia and PM Sheikh Hasina. Since 1982,   per capita GDP growth rate is increased was about 5.1%(=6.0-0.9).Ex-President Ershad’s reforms generated less growth rate (1.2%), but were the most difficult and fundamental parts of the DIDmodel. PM Hasina (1.4%) would surpass Ex-PM Khaleda (2.5%), if she creates rest two divisions [2.7% (=1.4+1.3)].

PM Hasina would surpass Ex-President H M Ershad if she implemented Bicameral Parliament.If the rest two divisionsare implemented which PM Hasina committed over three years with Bicameral Parliament,those reforms shall institutionalize developing democracy, governances, human rights, public security as well as lowering terrorism and corruption. Human laws and enforcement institutions are not as neutral, impersonal, powerful and continuous as structural institutional of the state.

Higher Developing Bangladesh is not output of 3 years but over 33 years of my constant and repeated initiatives and reminders. I had to suffer a lot also. Without recognizing my thoughts, reform programs and initiatives as well as actions of Ex-President H M Ershad and Ex-PM Khaleda, only recognizing PM Hasina as “The Architect” of Sustainable Higher Developing Democratic Bangladesh”shall be bogus, ridiculous, incorrect, injustice, nepotism or favoritism for Learned Professors of HKS and UN Agencies. I have trust on them.

=================================================
*Mohammad Ahsanul Karim is conceptual initiator of DID (Democratic Institutional Development) Model and the incomplete basic democratic structural and institutional reform programs in Bangladesh since 1982. He is author of the books, Progressive Democracy (1991) and Points of Constitution Amendment (2011) and few articles on democratic reforms. He is also Initiator of Democratic Political Economic Thoughts against Capitalist and Socialist Schools (contact: এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। ).

 

www.banglainsider.com/feature/14122/হার্ভার্ডে-শেখ-হাসিনা-চর্চা


ইতিহাসের বিরল বিস্ময়।আবু জাফর মাহমুদ

শুক্রবার, ১৬ মার্চ ২০১৮

আমেরিকান প্রশাসনে আবার বড় ঘটনা ঘটলো।সেক্রেটারী অব ষ্টেট রেক্স টিলারসনকে বিনা নোটিশে দায়িত্বচ্যুত করেছেন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।আমেরিকার ইতিহাসে ১২০বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে ঘটলো এঘটনা।বিশ্লেষকরা বলছেন,উগ্রবর্ণবাদী ধারার অভ্যুত্থানের ক্ষমতায়ন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।

তুমুল বিশ্লেষণ চলছে ট্রাম্পের অস্বাভাবিক পদেক্ষেপের।তবে কেউ কেউ বলছেন,নীতিগতভাবে দ্বিমতে পথ  চলার চেয়ে একমতে পথ চলা অধিক নিরাপদ,সেই পথ যতই ঝুঁকিপূর্ণ হউক।আন্তর্জাতিক বিষয়ে,বিশেষ করে ইরান চুক্তি এবং উত্তর কোরিয়া নীতি সহ যাবতীয় কূটনৈতিক পদ্ধতিতে দ্বিমতের কারণেই এই পরিবর্তন হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।অপরবিশ্লেষকরা বলছেন,ট্রাম্প এই রদবদল করেছেন,প্রশাসনে তার কৃতকর্মের সমালোচনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং বিশেষ বলয়ের পক্ষে তার ওয়াদা কার্যকর করার অম্ভাব্য অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার পরিকল্পনায়।   

একান্ত অনুগত এবং উগ্রইহুদী বলয়ের পছন্দের লোক বলে পরিচিত মাইক পাম্পিওকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ।মাইককে কিছুদিন আগে সিআইএ পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো।তার রেখে আসা পদের দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন জিনা হেস্পেল।তিনি ছিলেন সি আইএ’র উপ-পরিচালক।সিআইএ’র ইতিহাসে প্রথম মহিলা পরিচালক হলেন তিনি।ট্রাম্পের এই আকস্মিক বজ্রপাতে আমেরিকা সহ বিশ্বময় বিস্ময় ছড়ালেও ইসরাইলে চলছে ফুর্তি-নৃত্যের ঢেউ।   

১৩ইমার্চ মঙ্গলবার দুপুরে টিলারসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটা ফোন কল পেয়েছেন।তাঁকে বহিস্কার করার তিন ঘণ্টারও বেশী সময় পর ওয়াশিংটন পোষ্টই প্রথম এই সংবাদ করেছে।যদিও এর আগেই প্রেসিডেণ্ট টুইট করে নিজেই জনসমক্ষে তার ক্ষমতা প্রকাশ করেছেন।জানিয়ে দিয়েছেন তিনি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দু’পদে  পরিবর্তন এনেছেন।

টিলারসন ছিলেন আফ্রিকা সফরে।সেখানেই তিনি জানলেন তাকে দায়িত্বচ্যুত করা হয়েছে।বিষয়টি সব দিক থেকেই বিস্ময়ের।গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার নেতার দাওয়াত নিয়েছেন প্রেসিডেণ্ট সামিটে অংশ নিতে।এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেক্রেটারী অব ষ্টেট কিছুই জানেন না।তাকে জানানো হয়নি।তাই সংশয় দেখা দিয়েছে,ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে।তিনি কি বাহিরের সূতার টানেই আমেরিকার ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘাড় ভেঙ্গে চলেছেন? ট্রাম্পের টুইটের হুবুহুঃ

Mike Pompeo, Director of the CIA, will become our new Secretary of State. He will do a fantastic job! Thank you to Rex Tillerson for his service! Gina Haspel will become the new Director of the CIA, and the first woman so chosen. Congratulations to all!

5:44 AM - 13 Mar 2018

এদিকে আমেরিকার পররাষ্ট্রবিষয়ের কুটনৈতিক তৎপরতায় পেশাদার কূটনীতিকদের সততা এবং মর্যাদাবোধ, দেশবাসী  জনগণের মহানুভব কার্যক্রমের প্রশংসা এবং বিশেষভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম মেট্রিসের সাথে ভাবে মিল সহ পারস্পরিক কূটনৈতিক সমর্থনের কথা বলিষ্টতার সাথে স্বীকার করেছেন পদচ্যুত টিলারসন।লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো তিনি সামান্যও প্রশংসা করেননি ট্রাম্প বা তাঁর পলিসির।তিনি ৩১মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁর ডেপুটি সেক্রেটারি জন সুলিভান নিয়মানুসারে এবং যর্থার্থতায় দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করেই তিনি দায়মুক্ত হবেন।রাশিয়ান হস্তক্ষেপ সম্পর্কে তিনি সুস্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন।

টিলারসনের সাথে ট্রাম্পের মতবিরোধ প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিলো।কয়েক মাস আগেই টিলারসনকে অপসারণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন বিতর্ক কাঁধে নিয়ে।ন্যাটো এবং রাশিয়া,ইরান ও উত্তর কোরিয়া,মুসলিম রাষ্ট্র ও স্পেনিশ জাতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের উপায় নিয়েই মূলতঃ মতান্তরের সূচনা।এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের উত্তেজনাময় সম্পর্ক,মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে সরাসরি আক্রমণাত্নক পৃষ্টপোষকতা,আফগানিস্তান ও সিরিয়ার ভবিষ্যত প্রশ্নেও গভীর মতবিরোধ চলে আসার কপ্তহা নানাভাবে প্রকশা হয়ে এসেছে।

অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিতে অভিজ্ঞতাশুণ্য একজন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।আমেরিকায় উগ্র জাতিয়তাবাদী চেতনা উস্কে দিয়ে তিনি আমেরিকার সামাজিক ঐতিহ্যগত মূল্যবোধে যে আঘাত এনেছেন,তাকে নিজের আকাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক পথ বলেই গ্রহন করেছেন বলে অনেকের ধারণা।সেনেটে ডেমক্র্যাটিক পার্টির সদস্য সংখ্যা ৪৯।আর মাত্র দুটা সদস্য হলেই অর্থাৎ ৫১হলেই তারা সংখ্যাগরিষ্ট।আজ পেনসেল্ভেনিয়ায় নির্বাচনে কংগ্রেস জিতলো।অর্থাৎ রিপাবলিকান আসনটি ১৫বছর দখলে রাখার পর ট্রাম্পের ইমেজ এবং নীতির প্রভাবে আসন হারালো।নভেম্বর পর্যন্ত আরো অনেক আসন জিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট পার্টি।

সম্ভবতঃকংগ্রেসেও রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে।যেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির দায় নিতে হবে ট্রাম্পকে।রিপাবলিকানরা ইচ্ছে করলেও ট্রাম্পের বিরোধীতা করতে পারছেনা এবং কষ্টের সাথে হজম করতে হচ্ছে এই অরাজনৈতিক বেপরোয়া স্বৈরাচারকে।ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও তা হারাতে হচ্ছে কেবল একজনের স্বেচ্ছাচারিতার ফলে।

আমেরিকায় রিপাবলিকান অথবা ডেমোক্র্যাট পার্টির মেজরিটি বা মাইনরিটিতে তেমন কিছুই যায় আসেনা।বড় ভয়ংকর বিষয়টি হলো উগ্রডানপন্থী সাধা বর্ণবাদী ধারা উস্কে দিয়ে যে অস্থিরতা ছড়াচ্ছেন,তাতে আভ্যন্তরীণ সংঘাত বিস্তৃতির দাবানলের উত্থান ঘটেছে।বর্ণবাদী সংঘাত কোন যুক্তিতেই কারো জন্যে আনন্দের নয়।ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্পের নামে হলেও ব্যবসায়ী ক্ষ্যাপা ক্ষমতাবান এই প্রেসিডেণ্ট দেশটাকে দুনিয়ার প্রধানশক্তি থেকে তলানির তলদেশে নিয়ে চলেছেন।এই নির্গমণ পথ হতে যত তাড়াতাড়ি রক্ষা পাওয়া যায়,ততই নিরাপদ।

ট্রাম্প নিশ্চয়ই আরও অনেককে এভাবেই দায়িত্বচ্যুত করবেন।সহসাই করবেন।যে ধারা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে বিপর্যস্থ করে তুলতে পারে।বিশ্লেষকরা ভাবছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের  অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের ভেতর ভালো যোগসাজশ রয়েছে যাতে জাতীয় স্বার্থে তারা দলীয় সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করবেন।সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করবেন।উগ্রবর্ণবাদী এবং ষড়যন্ত্রকারী শক্তি বনাম আমেরিকার বিজ্ঞ দেশপ্রেমিকদের সচেতনতা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রনে টেনে রাখবে।দেশের ভেতরে বর্ণবাদীদেরকে সশস্ত্র করার পথ থেকে ফিরে দাঁড়াবে।  

এদিকে রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন,সিআইএ ডাইরেক্টরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বময় আমেরিকার স্বার্থরক্ষায় ট্রাম্পের নেয়া উগ্রপন্থাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকি সম্পর্কিত ঘটনার ভেতরের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তার মত আর কেউ জানেননা। পাম্পিউ জটিল ইন্টেলিজেন্স ইস্যুতে এবং সাম্প্রতিক দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সাথে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ওভাল অফিসে সবসময় ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেণ্টের সাথে পরামর্শ করেছেন।

আমেরিকার ইতিহাসে বিরল বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প।ইতিহাসে নাম লিখালেন তিনি ভিন্ন ভাবে।অতীতের রেকর্ডের বাইরে নিজের নাম আসছে তাঁর।বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে উগ্রবর্ণবাদে আমেরিকার কল্যাণ চিন্তায় তিনি সুফল দেখাতে পারলে তাকে স্বাগতঃ জানানো হবে।আর প্রচলিত চিন্তার সাথে সংঘাতে জড়িয়ে এইবর্ণবাদী কৌশল কাউকে সাময়িক পরচিতি দিলেও মানব সভ্যতার নিরন্তর ধারায় আমেরিকার নেতা কি দাপট বজায় রাখতে পারবেন?নাকি গোপনে আপোষ করে মাথা নীচু করবেন?

আমেরিকান নাগরিকরা দেশকে বিশ্বনেতার মর্যাদায় আশা করে কুটনৈতিক বন্ধুত্ব বজায় রেখে,মিত্রশক্তির সাথে সংঘাতে গিয়ে প্রতিযোগীদের শক্তি বাড়িয়ে নয়।বাহিরে আমেরিকা নেতৃত্ব রক্ষার ঝুঁকির মধ্যে আভ্যন্তরীণ একতার মেরুদন্ডে আঘাত করে করে কি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ হবে?নাকি নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার চেষ্টা হচ্ছে এটা?আমেরিকার সমৃদ্ধির পক্ষে আমেরিকান জনগণ।         

 

(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতাযোদ্ধা)।