logo

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্ক কনস্যুলেট জেনারেল এর যৌথ উদ্যোগে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উদযাপন

রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর যৌথ উদ্যোগে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উদযাপন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদসহ এ সরকারের সকল নেতৃবৃন্দের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অত:পর দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়।

Picture

আলোচনা পর্বের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্্রকাননে ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে, আর সেদিন থেকে এই স্থানটি পরিচিতি পায় মুজিবনগর নামে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য এই সরকারের কোন বিকল্প ছিল না মর্মে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।

alt alt    
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “মুজিবনগর সরকারের অসংখ্য চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা সুচারুরূপে সরকার পরিচালনা করেছেন। এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ তারা সে সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যন্ত রেখেছিলেন। এর থেকে প্রমাণিত হয় এ সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছিল অত্যন্ত সফল”।

altalt
প্রবাসী বাংলাদেশীগণ যাতে বাংলাদেশ ভ্রমণকালে তাদের সন্তানদের মুজিবনগর পরিদর্শনের সুযোগ করে দেন সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুজিবনগর দিবসের ইতিহাস জানবে, তাৎপর্য অনুধাবন করবে এবং স্থানটি ঐতিহাসিক টুরিস্ট স্পট হিসেবেও আরও গুরুত্ব পাবে”। রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসি বলেন, “মুজিবনগর সরকার শুধু মুক্তিযুদ্ধই পরিচালনা করেননি, প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে বিশ্ব জনমতকে পক্ষে এনেছে”।

altalt
মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের ফলেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের অধীনে কর্মরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী কূটনীতিকগণ সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য আনেন যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের স্বীকৃতি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী ও আব্দুল বাতেন। আলোচনা পর্ব শেষে মুজিবনগর সরকারের প্রয়াত সকল সদস্য, জাতীয় চার নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।অনুষ্ঠানটিতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট জেনারেল এর সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি উপস্থিত ছিলেন।


Copyright © 2010 Boston Bangla Newspaper.