Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/images/banners/plugins/system/pc_includes/modules/mod_gk_news_highlighter/scripts/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

তাঁকে আমরা গুরু বলে ডাকতাম

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

বাপ্ নিউজ : আবদুল জব্বার (১৯৩৮–৩০ আগস্ট ২০১৭)চলে গেলেন বহু জনপ্রিয় বাংলা গানের শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার। তাঁর গাওয়া ‘ও রে নীল দরিয়া’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘পিচঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’, ‘শত্রু তুমি বন্ধু তুমি’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’সহ বহু বাংলা গান এখনো সমান জনপ্রিয় বাঙালির কাছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনের তারকা এবং তাঁর সহকর্মীরা ব্যক্ত করলেন তাঁদের প্রতিক্রিয়া

কী দরদ ছিল তাঁর গলায়

ফারুক, অভিনেতা

‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি যখন ধারণ করা হয়, পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের ডাকে তখন স্টুডিওতে গিয়েছিলাম। চূড়ান্ত রেকর্ডিংয়ের আগে মহড়ায় হারমোনিয়াম ও তবলায় যখন গানটি গাওয়া হচ্ছিল, তখন খুব একটা পাত্তা দিইনি। কিন্তু যখন ফাইনাল টেক হলো, তখন গানটি আমাদের নাড়া দিল। আমি অবশ্য বলেছিলাম, যেহেতু অভিনয় করব, আমার ঠোঁটের সঙ্গে গানটি মানানসই হতে হবে। সিনেমা ডিরেক্টরস মিডিয়া, তখনকার পরিচালকেরা ভীষণ বিচক্ষণ ছিলেন। কাকে দিয়ে কোন গান গাওয়াতে হবে, সেটা তাঁরা সঠিকভাবেই নির্ধারণ করতেন। কী দরদ ছিল তাঁর গলায়। কম শিল্পীকেই পাওয়া যায়, যিনি এতটা দরদ ঢেলে গাইতে পারেন। দারুণ মেধাবী লোক ছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই কণ্ঠ তিনি নষ্ট করে ফেলেন। তাঁর মতো কণ্ঠ এ দেশে খুব কম পাওয়া যায়। তাঁর এই গান সব শ্রেণির মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও ছড়িয়ে গেছে গানটির জনপ্রিয়তা।

সম্পর্কের জায়গা সব সময় ঠিকঠাক ছিল

সৈয়দ আবদুল হাদী, সংগীতশিল্পী

আবদুল জব্বার আমার দীর্ঘদিনের সহযাত্রী। সেই ষাটের দশক থেকে আমরা একসঙ্গে, দারুণ সম্পর্ক ছিল। ওই সময়ে আমাদের দেখা হতো রেডিওতে। কথা ও আড্ডা হতো। আমাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হতো, রাগারাগি হতো। কিন্তু আমাদের সম্পর্কের জায়গাটা ঠিকঠাক ছিল সব সময়। গত বছর একটা অনুষ্ঠানে যখন আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তখনো তিনি অসুস্থ ছিলেন। ওই সময়ে আমার সঙ্গে অনেক কিছু নিয়ে কথা হয় তাঁর। ওটাই আমার সঙ্গে জব্বারের শেষ দেখা।

তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন

সাবিনা ইয়াসমীন, সংগীতশিল্পী

জব্বার ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। কোনটি রেখে কোনটি বলব। আমার যখন সাত-আট বছর বয়স, তখন থেকেই তিনি আমাকে চিনতেন। আমার বড় বোন যখন তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতে যেতেন, আমিও সঙ্গে যেতাম। সেই থেকে শুরু। তারপর তো নিজে নিয়মিত গান গাওয়া শুরু করলাম। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমরা দ্বৈতকণ্ঠে গান করেছি। অনেক গান তো মানুষের মুখে মুখে ছিল ওই সময়। যেমন ‘জীবনও আঁধারে, পেয়েছি তোমারে’, ‘সুরে আগুনে’, ‘লাজুক লতা’—এ রকম বেশ কিছু গান। সবচেয়ে খারাপ লাগছে যে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজন প্রিয় মানুষ চলে গেলেন।

তাঁর হাত ধরেই চলচ্চিত্রে গান করি

খুরশীদ আলম, সংগীতশিল্পী

১৯৬৫ সালের দিকে জব্বার ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। পরিচয়ের পর একদিন বললেন, ‘ছোট ভাই, চলো গান গেয়ে আসি।’ আমাকে নিয়ে গেলেন টাঙ্গাইলের করটিয়া কলেজে। ওই দিনই আমি প্রথম মঞ্চে গান করেছিলাম। তা-ও প্রায় ১৫ হাজার দর্শকের সামনে। শুধু তা-ই নয়, তাঁর হাত ধরেই আমি চলচ্চিত্রে গান করি। মতিমহল সিনেমাসহ বেশ কিছু সিনেমায় গান করেছি আমি। আমাকে অনেক স্নেহ করতেন তিনি।

তাঁকে আমরা গুরু বলে ডাকতাম

রফিকুল আলম, সংগীতশিল্পী

তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, সর্বকালের গানের যোদ্ধা ছিলেন। আমরা যখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান করতাম, তখন তাঁকে ডাকতাম গুরু বলে। তিনি আমাদের শাগরেদ বলে ডাকতেন। মজার ব্যাপার হলো, তিনি সরাসরি আমাদের কিছু শেখাতেন না, নানা ধরনের উপমা দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। আমার সঙ্গে এ বছরও দেখা হয়েছে একটা টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে। আমাকে বলেছিলেন, ‘গান তো করতে চাই, কিন্তু শরীরের দুটো জিনিস খুব যন্ত্রণা দিচ্ছে।’ আমি তাঁর সঙ্গে মজা করে বললাম, ‘আপনি ওই দুটো জিনিস দিয়ে গান করবেন নাকি।’ আমার কথা শুনে তিনি হেসে ফেললেন। এককথায়, তিনি অসাধারণ মানুষ ছিলেন।

আমরা একটি গোল্ডেন ভয়েজ হারালাম

আলম খান, সুরকার ও সংগীত পরিচালক

তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৬৭ সালে এক রেকর্ডিংয়ে। তখন আমি যন্ত্রশিল্পী এবং জব্বার কণ্ঠশিল্পী। আমার সুরে তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন শ্লোগান ছবিতে, ‘কী সুখ পাও তুমি’ গানটি। এরপর ‘ও মনের ময়না’সহ আরও কিছু গান করেছেন। সারেং বউ ছবির ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি আমি তাঁর কথা মাথায় রেখেই সুর করেছিলাম। কিন্তু যখন প্রস্তাব করি তিনি বলছিলেন, খান (আমাকে এভাবেই সম্বোধন করতেন), আমি তো গান গাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। ১৯৭৮ সালের কথা, তিনি সত্যিই গান গাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে বলেছিলাম, গানটা আপনার জন্যই সুর করা হয়েছে। এই গান অন্য কেউ গাইতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হন এবং গানটি গাইলেন। আজ আমি বলব, আমরা একটি গোল্ডেন ভয়েজ হারালাম।


Add comment


Security code
Refresh