Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও সাংবাদিকদের সম্মানে ব্যতিক্রমী নৌ-ভ্রমণ = ‘নিউইয়র্কের ইস্ট রিভারে ভাসমান

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

উল্লেখ্য, ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ায় চলে গেছেন। সেখানে তিনি তার পুত্র, পুত্রবধূ এবং নাতনীদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।চমৎকার আবহাওয়ায় ইস্ট রিভারের এ নৌ-ভ্রমণে সকলকে স্বাগত জানান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি মীর শিবলী। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো জাহাজের প্রথম, দ্বিতীয় এবং ওপরের খোলা জায়গা কলকাকলিতে মুখরিত হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে আগ্রহী তিন শতাধিক প্রবাসীর এ সমাগমে বাঙালি সংস্কৃতির পূর্ণ জাগরণ উজ্জীবিত হয়। অর্থাৎ জাতিসংঘের শহর নিউইয়র্কের ইস্ট রিভারে ভাসমান এই জাহাজটি পরিণত হয় একখ- বাংলাদেশে। কেউ যদি শীর্ষে বাংলাদেশের একটি পতাকা উড়িয়ে দিতেন তাহলে ঝলসে উঠতো ‘সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ব মডেলে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ’ নতুন এক অবয়বে। 

একদিকে চারপাশের মনোরম দৃশ্য অবলোকন, আরেকদিকে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ‘টেকসই উন্নয়নে ডিজিটাল বাংলাদেশ’র ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। জাতিসংঘ অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহে আসা বাংলাদেশের বেসরকারি স্যালেটালাই টেলিভিশন একাত্তর-এর বিশেষ প্রতিনিধি নাজনীন মুন্নীর সঞ্চালনায় সেমিনারের আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র চেয়ারম্যান এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, এসডিজি সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারমান নিজাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হাসান এবং পিপল এন টেক-এর সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ।সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ‘এ২আই’ প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী। তিনি স্লাইড-শো’র মাধ্যমে সকলকে অবহিত করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের অবলম্বনে পরিণত হয়েছে সারা দেশে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টারগুলো।

Picture

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রশাসনিক স্বচ্ছ্বতা এবং জবাবদিহিতার পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। এসডিজি সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যাপক প্রসার ঘটায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যাগুলোও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনা সহজ হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধানও ত্বরিৎ হয়ে যাচ্ছে।। এভাবেই টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ কাজ করছে। 

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং এগিয়ে যাবো। এক্ষেত্রে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা উত্তরণ ঘটিয়ে এগিয়ে যাওয়াকে অব্যাহত রাখতে হবে।’ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এমডিজি অর্জনের পথ ধরেই বাংলাদেশ এসডিজির পথে এগিয়ে চলেছে। তবে এসডিজির যেসব ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, তার বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিশেষ  করে টেকসই উন্নয়নের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটাতে যে অর্থের প্রয়োজন তা আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পাবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত দৃঢ়চেতা রাষ্ট্র নায়ক না হলে সে সব দেশে এসডিজি অর্জনের পথ সুগম হবে বলে মনে করি না।’ ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, আসছে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে ফ্লোরিডায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কেন্দ্র উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। তারপর বৈপ্লবিক উন্নয়নসাধিত হবে তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরে। এভাবেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধ্যান-ধারণা অপরিসীম ভূমিকা রাখছে। নিজাম চৌধুরী বলেন, ‘গত ৮/৯ বছরে ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষনীয়। বিশেষ করে কানেকটিভিটিতে অপ্রত্যাশিত অর্জন উন্নয়নশীল বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। একইভাবে এসডিজির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন সূচকের উর্দ্ধগতি অনেকেরই সপ্রশংস দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে।’ 

রাটগার্স ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মাহমুদ হাসান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে সাফল্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে দেশব্যাপী যে জাগরন সৃষ্টি হয়েছে তা অটুট রাখতে হবে।’

ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ সেমিনারের বিষয়বস্তুর আলোকে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কিংবা সমাপ্তির পরই বন্যায় ভেসে যাচ্ছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত। এচিত্র প্রায় প্রতি বছরের। তাই টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বিবেচনায় রাখা জরুরি।’

সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ সেলিম উদ্দিন, একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম এবং যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আব্দুল কাদের মিয়া। সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় সহায়তা করেন প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ, সেমিনারের প্রধান সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান, সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন, ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ রিজু, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কাশেম, নির্বাহী সদস্য নিহার সিদ্দিকী, কানু দত্ত এবং আজিমউদ্দিন অভি, সদস্য আমজাদ হোসেন, মিশুক সেলিম, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জাহেদ শরীফ প্রমুখ। 

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক রেজাউল করিম রেজনুসহ এফবিসিসিআইয়ের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, মনমাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাথবর, পিপল এন টেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিফ, বাংলাদেশি আমেরিকান ডেমোক্রেটিক লিগের প্রেসিডেন্ট খোরশেদ খন্দকার, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নুরুল আজিম, নির্মাণ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাবুল, মোবাশ্বির হোসেন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সেক্রেটারি জেনারেল মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কমিউনিটি লিডার আব্দুল কাদির চৌধুরী শাহীন, মিনহাজ সাম্মু, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, প্রেসক্লাকের নির্বাচন কমিশনার আকবর হায়দার কিরন, শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মনিকা রায়, কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান, চলচ্চিত্র পরিচালক আবুল বাশার চুন্নু, অ্যাপেক্স ক্লাব অব নিউইয়র্কের মোহাম্মদ সবুর হোসেন জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাখাওয়াত বিশ্বাস, বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী সদস্য সাদী মিন্টু, জামালপুর জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব সালেহ শফিক, কক্সবাজার অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এবং সাবেক সভাপতি আল জুবায়ের মানিক প্রমুখ। 

ভ্রমণের আনন্দে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল প্রবাসের প্রিয়শিল্পী শাহ মাহবুব, প্রমি ও রায়ান তাজের জনপ্রিয় কিছু গান। সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শারমিন রেজা ইভা।


Add comment


Security code
Refresh