Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/images/images/components/com_gk3_photoslide/thumbs_small/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

টোরন্টো মেয়র জন টরি সকাশে এনকেইএনএ’র প্রতিষ্টাতা ও সিইও ফেরদৌস বারী জন

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিউজ : সম্প্রতি কানাডার টোরন্টো সিটি মেয়র জন টরির আমন্ত্রণে নারায়নগঞ্জ কালচারাল এন্ড এডুকেশন অব নর্থ আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা ও আহবায়ক এবং সিইও ফেরদৌস বারী জন সাক্ষাৎ করেছেন। খবর বাপসনিউজ। উল্লেখ্য, ফেরদৌস বারী জন গত মাসে অনুণ্ঠিত টোরন্টো সিাট নির্বাচনে কাউন্সিলার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়ে মুলধারায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন। ফেরদৌস বারী জন টরন্টো সিটির মেয়র জন টরির সাথে মতবিনিময় কালে টোরন্টো প্রবাসী বাঙ্গালীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সিটির সুযোগ ও সহযোগীতার ব্যাপারে আলোকপাত করেন। মেয়র জন টরি নারায়ণগঞ্জ কালচারাল এন্ড এডুকেশন অব নর্থ আমেরিকার কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ^াস দেন।

Picture
ছবিতে কানাডার টোরন্টো সিটি মেয়র জন টরির সাথে নারায়নগঞ্জ কালচারাল এন্ড এডুকেশন অব নর্থ আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা ও আহবায়ক এবং সিইও ফেরদৌস বারী জন।


বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭

alt

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত নূর চৌধুরী ১৯৯৬ সাল থেকে কানাডায় বসবাস করছেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল অব. নূর চৌধুরীকে কানাডা  থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করার দাবি নিয়ে দু’দেশের প্রধান মন্ত্রী, পররাস্ট্র মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন রকমের চেষ্টা চললেও দু’দেশের কিছু আইনগত কারণে সম্ভব হয়ে উঠছে না। বহিস্কার প্রক্রিয়া চেষ্টার ধারাবাহিকতায় কানাডা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে  মন্ট্রিয়লের এ মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মানববন্ধনে বিভিন্ন রকমের ব্যানার ফেস্টুন প্লেকার্ড নিয়ে াবপুল সংখ্যাক  প্রবাসীরা উপস্থিত শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলেন।

alt

মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়া, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, আওয়ামীলীগ নেতা শ্যামল দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মুহিবুর রহমান, ফনিভূষণ ভট্টাচার্য, ইতরাদ জুবেরী সেলিম, অমলেন্দু ধর, বাবলা দেব, জিয়াউল হক জিয়া প্রমুখ। বক্তারা কানাডা একটি মানবাধিকারের দেশ, এ দেশে আত্মস্বীকৃত খুনির আশ্রয়স্থল হতে পারেনা বলে মন্তব্য করে অনতিবিলম্বে নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরৎ দেওয়ার জন্য কানাডার প্রধান মন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান। মানববন্ধন চলাকালে মূলধারার মানুষরা গাড়ীর হর্ণ বাজিয়ে সমর্থণ জানান। কানাডাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বেশ ক’জন কর্মকর্তাকেও মানববন্ধনের পাশে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। মানববন্ধন শেষে মন্ট্রিয়লর একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তাসহ স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতৃবৃন্দ এক সভায় মিলিত হয়ে আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে মত বিনিময় করেন। জানাযায়, কানাডার বিভিন্ন প্রবিন্স ও শহর থেকে বাংলাদেশী প্রবাসীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে কানাডার প্রধান মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

alt

অপরদিকে কানাডায় পালিয়ে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি নুর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে লেখা বাংলাদেশি কানাডিয়ান কিশোরী মাশকুরা তাবাসসুম তাথৈ গত মার্চে লেখা  চিঠির ইতিবাচক জবাব দিয়েছে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।সম্প্রতি তাথৈকে লেখা পাল্টা চিঠিতে জাস্টিন ট্রুডোর দপ্তর থেকে তার বিশেষ সহকারি জীবন সিং স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘জনাব’ নুর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি সম্বলিত চিঠিটি জননিরাপত্তা ও জরুরী অবস্থা প্রস্তুতি মন্ত্রী রালফ গুডেল এবং, আইন মন্ত্রী ও এটর্নি জেনারেল জুডি উইলসন রেনোল্ড এর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

alt

কানাডা থেকে কাউকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার জননিরাপত্তা ও জরুরী অবস্থা প্রস্তুতি মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় ও এটর্নি জেনারেলের দপ্তরের বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, ‘আমরা আশা করি, চিঠির বিষয়বস্তু যথাযথ বিবেচনা পাবে’।গত মার্চ ৮ তারিখে বাংলাদেশি কিশোরী তাথৈ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক চিঠি প্রেরণ করে। সেখানে তাথৈ লিখেছিল যে, বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আত্মস্বীকৃত খুনি নুর চৌধুরী কানাডাকে তার নিরাপদ আশ্রয় বানিয়ে ফেলেছে। গত ২১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নুর চৌধুরী টরেন্টোতে নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপন করছে। কানাডার মতো একটি দেশ নুর চৌধুরীর মতো আত্মস্বীকৃত খুনির নিরাপদ আবাসস্থল হতে পারে না।

alt

কানাডায় ‘রিফিউজি স্ট্যাটাস’ আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত, এমনকি ডিপোর্টেশন আদেশ মোকাবেলা করার পরেও কানাডা থেকে নুর চৌধুরীকে আইনি কারণে বহিষ্কার করা যাচ্ছে না। অন্য কোন দেশে ফেরত গেলে ফাঁসির সাজা ভোগ করতে পারেন, এমন কোনো ব্যক্তি কানাডা ভ্রমণে আসলে, নিজে উদ্যোগী হয়ে না ফেরত গেলে, তাকে সরকার জোর করে ফেরত পাঠাতে পারবে না মর্মে ২০০১ সালে কানাডার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তারই সুফল ভোগ করছে বঙ্গবন্ধুর খুনি নুর চৌধুরী। কানাডার অভিবাসন এবং উদ্বাস্তু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে চারবার নুর চৌধুরীর দরখাস্ত নামঞ্জুর করেছে।

Picture

তাথৈ লিখেছিল, ‘অন্যদের মতো আমিও আশায় বুক বেঁধে আছি, মানবতাবিরোধী অপরাধ করা নুর চৌধুরীকে অচিরেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, যাতে করে সে তার সাজা ভোগ করতে পারে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার দায়ে নুর চৌধুরীসহ আরও ১১জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেয়। আসামিদের অনেকের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। নুর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে এক্ষেত্রেও ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি’।

alt

গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিলো। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্র এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের রাতে এই নূর চৌধুরীই না-কি গুলি করেছিলেন জাতির পিতাকে। সেই কাল রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে খুনিরা মেতে উঠেছিল হত্যার উল্লাসে। বঙ্গবন্ধু, তার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, ভাই, ভাগ্নে, ভাগ্নের স্ত্রী, কাজের লোক-সহ ২১ জনকে হত্যা করা হয় সেই রাতে। সেই দিন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা আর শেখ রেহেনা বিদেশে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ  নেওয়ার পর খুনি নূর চৌধুরী সপরিবারে কানাডায় পালিয়ে যান।


কোপেনহেগেনে বাঙালি-ডেনিশ মিলনমেলা

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ডেনমার্ক থেকে : উত্তর-ইউরোপের হাড়কাঁপানো শীতের বিদায়ের অপেক্ষাটাই ছিল শুধু। শীত শেষ হতেই বাংলাদেশ দূতাবাস আর ডেনমার্কে বসবাসরত বাঙালিদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হলো। গত ২০ মে শনিবার পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদে বাল্টিক সাগরের তীরঘেঁষা নয়নাভিরাম বাংলাদেশ দূতাবাসের সবুজ চত্বরে বর্ণিল আয়োজন ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় উদ্‌যাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ও পিঠা উৎসব। বাংলাদেশ দূতাবাস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

alt

বিপুলসংখ্যক ডেনিশ নাগরিক ও প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন ডেনমার্কে সফররত বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। অতিথিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অভূতপূর্ব আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ধরনের অনুষ্ঠান বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নূতন প্রজন্মের মাঝে হাজার বছরের বাঙালি কৃষ্টি-কালচারের শেকড় প্রোথিত করবে বলে মন্তব্য করেন। ডেনমার্কে বসবাসরত সব শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশিদের বিশেষকরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের কাছে পেয়ে তিনি উচ্ছ্বাসে অভিভূত হন।উল্লেখ্য, পরিবার-পরিজন নিয়ে ৩০০ জনের বেশি বাঙালি ও প্রায় ৫০ জন ডেনিশ অতিথির আগমনে দূতাবাস চত্বর মুখর হয়ে ওঠে।

alt

বর্ষবরণ ও পিঠা উৎসবকে সামনে রেখে পুরো দূতাবাস চত্বরকে বাঙালিয়ানা সাজে সাজানো হয়। ডেনমার্কে বসবাসরত গিনেজবুকে নাম লেখানো পথ চিত্রশিল্পী রুহুল আমিন কাজলের আঁকা রঙিন নকশা আর আলপনা আগত অতিথিদের বিস্ময়াভিভূত করে। এ ছাড়া আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে এমন সব চারু-কারু, নকশি ও তাঁতের তৈরি জিনিস দিয়ে মঞ্চ সাজানো হয়। শুরু থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশি শেখ ফাতেমা ওয়ারার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

alt

‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে উপভোগ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর প্যারিস থেকে আসা বাংলাদেশি কূটনীতিক ও স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী ফারহানা আহমেদ চৌধুরী আর প্রবাসী শিল্পী নাইম অর্ণব ও ওমর ফারুকের গাওয়া একের পর এক গান আগত অতিথিদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয়। অবাক বিস্ময়ে বিদেশি অতিথিরা বাংলা গানের বিশাল সম্ভার আর সুরের মূর্ছনা উপভোগ করতে থাকেন। ডেনিশ সংগীতশিল্পী জিমের গাওয়া গান অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা দেয়। সার্বিক শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও তবলায় ছিলেন প্রবাসী সাঈদ শোয়েব। গানের ফাঁকে বাংলা গানের তালে লিয়া, মৃত্তিকা, অপূর্বা, অহনা আর টিনার নাচ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মোহিত করার পাশাপাশি আগত বিদেশি অতিথিদের কাছে ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ নতুন এক বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেয়।

alt

অনুষ্ঠানে দূতাবাস আর প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের পরিবেশনায় বিরিয়ানি, পিঠা-পুলি, দই-মিষ্টি, শিঙারা-সমুচা, জর্দা পায়েসসহ হরেকরকম বাঙালি খাবারের বিপুল আয়োজন করা হয়। মুখোরোচক বাংলাদেশি খাবারের বৈচিত্র্য আগত বিদেশি অতিথিদের মাঝে বিস্ময়ের জন্ম দেয়। ডেনমার্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ও তার সহধর্মিণী রুবি পারভীন অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও অনুষ্ঠানে আসার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

alt

মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে নববর্ষের কল্যাণময় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সকল মতানৈক্যের ঊর্ধ্বে থেকে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

alt

বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা অবদি বর্ষবরণের এই জমজমাট আয়োজন চলে। দূতাবাসের প্রথম সচিব শাকিল শাহরিয়ার সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রথমবারের মতো ডেনমার্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে হয়ে যাওয়া বর্ষবরণের এই আয়োজন আগত অতিথিদের মনে বহুদিন সুখস্মৃতি হয়ে থাকার পাশাপাশি জন-কূটনীতিতে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আগত অতিথিদের দৃঢ় বিশ্বাস।


সুইজারল্যান্ড আ.লীগের নতুন কমিটি

সোমবার, ২২ মে ২০১৭

রোমান রহমান, বাপ্ নিউজ : সুইজারল্যান্ড থেকে : তাজুল ইসলামকে সভাপতি ও শ্যামল খানকে সাধারণ সম্পাদক করে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি করা হয়েছে।রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে সুইজারল্যান্ড  আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শেষে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি।শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম বশিরুল আলম সাবু , ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, বিদায়ী সভাপতি হারুন ব্যাপারী ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক কারার কাউসার।অন্যান্যদের মধ্যে আরও ছিলেন জার্মান আওয়ামী লীগের নর্দার্ন ভেস্টফালেনের সভাপতি যুবরাজ তালুকদার ,নুরুল ইসলাম , লোকমান ভূঁইয়া প্রমুখ।

Picture

সু্ইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জহিরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব খলিলুর রহমান সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। পরে নির্বাচনে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম সভাপতি পদে ও শ্যামল খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।নির্বাচনে সভাপতি পদে আরও ছিলেন নজরুল জমাদার ও হারুন ব্যাপারী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আরও ছিলেন আমজাদ চৌধুরী, লেকু রহমান , কারার কাউসার ,ইশরাক আহমেদ নিপুন ,কাজী শওকত আজগর রিপন ও আশরাফুল আলম। সম্মেলনে যোগ দেন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে নেতাকর্মীরা।


মেহের আফরোজ চুমকিকে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা

সোমবার, ২২ মে ২০১৭

সফিউল সাফি, বাপ্ নিউজ : ডেনমার্ক থেকে : ডেনমার্কে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ সভাপতি মোস্তফা মজুমদার বাচ্চু। সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা বাবু সুভাষ ঘোষ, মাহবুবুল হক, হাসনাত রুবেল, রাফায়েত হোসেন মিঠু এবং ফ্রান্স আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিক্কুজ্জামান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোকন মজুমদার, জাহিদ বাবু ও নাসির সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম টিটু ও সফিউল সাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার সাইদুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মোসাদ্দেকুর রহমান রাসেল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, ভাষা শহীদ, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ও মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বাংলাদেশে মহিলা ও শিশুদের জন্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাদেরকে দারিদ্র্য সীমার নিচে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

Picture

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- গোলাম কিবরিয়া শামিম, মোহাম্মদ সেলিম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রাসেল, অভিবাসন সম্পাদক আরিফুল হক আরিফ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সম্রাট, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ইউসুফ আহম্মেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কোহিনুর আক্তার মুকুল, ধর্ম সম্পাদক কচি মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নীরু সুমন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কৃষি সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক রেজাউল হক রেজা, মহিলা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা চাপা, যুব ও ক্রিড়া সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন খান, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মোতালেব হোসেন, শ্রম সম্পাদক গোলাম রাব্বি, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক লায়লা আক্তার সীমা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক সামছুদ্দিন, দফতর সম্পাদক দেবাসীষ দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নয়ন।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- কার্যকরী কমিটির সদস্য মোসাদ্দিকুর রহমান রাসেল, রনি, ওমর, আমির জীবন, ফজলে রাব্বি, সামসুল আলম, সোহেল আহমেদ, শামীম খান, সাফায়েত অন্তর, তাসবির হোসেন, মাঞ্জুর আহমেদ মামুন, মাসুম বিল্লাহ, মনসর আহমেদ, মোহাম্মাদ ইউসুফ, শাওন রহমান, সাইদুর রহমান, নাজমুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, হাসান শাহীন, তুহীন, আরিফুল হক আরিফ, আজাদুর রহমান, রাজ্জাক, নাজমুল হোসেন, দোলনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


কানাডার বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে হাজারো মানুষের ঢল

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

সদেরা সুজন, বাপ্ নিউজ : কানাডা :চোখ ঝলসানো আয়োজনে পর্দা নামলো কানাডার বাংলাদেশী কমিউনিটির সর্ববৃহৎ ইনডোর ইভেন্ট বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০১৭ এর। যেমনটি প্রত্যাশা করা হয়েছিলো তেমনটিই ঘটলো। প্রথমদিনের টিকিট ছিলো সোল্ডআউট। টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে। দ্বিতীয়দিনেও সোল্ডআউট হয়েছে টিকিট। পুরো অডিটোরিয়ামে তিল ধারণের স্থান ছিলো না।  কানাডার সর্বাধিক পঠিত বাংলা সংবাদপত্র সাপ্তাহিক বাংলামেইল আয়োজিত তৃতীয় বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের দুইদিনের পর্দা উঠেছে এভাবেই।টানা দুইবারের উপচেপড়া দর্শক আর অভাবনীয় সাফল্য নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিলো তৃতীয় বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের। গত ১৩ মে শনিবার সন্ধ্যায় জমকালো এই ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কানাডাস্থ হাইকমিশনার মিজানুর রহমান খান। প্রধান অতিথি ছিলেন অন্টারিও কানাডার ইমিগ্রেশন ও সিটিজেনশীপ মিনিস্টার লরা এ্যালবানিজ। 

alt

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্টারি কানাডার বিরোধীদল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান প্যাট্রিক ব্রাউন এমপিপি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি কামরুন নাহার আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারি’র প্রেসিডেন্ট এবং ভিসি ড. অমিত চাকমা, টানা তিনবারের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি, বিশিষ্ট কলামিস্ট, শেরিডিয়ান কলেজ সিনেটের স্পীকার ড. মোজাম্মেল খান, হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের এমডি দেবাশীষ চক্রবর্তী ও টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পার্থি কান্ডেভাল ও ইয়র্ক রিজিওনাল পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পল চ্যাং।

Picture

উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন ফেস্টিভ্যাল কমিটির চেয়ারম্যান রেজাউল কবির, চীফ কনভেনর আব্দুল হালিম মিয়া, কনভেনর শহিদুল ইসলাম মিন্টু, সিবিএ’র পরিচালক ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শরিফ সালাম, ফেস্টিভ্যালের পাওয়ারড বাই রিয়েলটর আব্দুল আউয়াল, কো-টাইটেল স্পন্সর ওকপার্ক মর্টগেজ গ্রুপের ম্যানেজিং পার্টনার আসাবউদ্দীন খান আসাদ, কানাডা ন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন ইনকের সিইও মোহাম্মদ হাসান, অক্সফোর্ড কলেজের সিইও ওয়াজিউদ্দীন, রেড্ডিস ক্লিনিকের সিইও ডা. ডি ডি রেড্ডি, ফেস্টিভ্যালের চীফ কো-অর্ডিনেটর ইউসুফ শেখ, কোঅর্ডিনেটর নাজমুল মুন্সী, সিরাজুল ইসলাম, এনআরবি টিভির কো-চেয়ারম্যান মাশকে জান্নাত, চীফ এ্যাডমিনিস্ট্রেটর স্বপ্না দাশ, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আফিয়া বেগম প্রমুখ। সাপ্তাহিক বাংলামেইল আয়োজিত তৃতীয় বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের দুইদিনের টানা ছয়ঘন্টার আয়োজনে উপস্থাপনা করেন অজন্তা চৌধুরী, দিলারা নাহার বাবু, আসমা হক, ফারহানা আহমেদ ও মাহবুবুল হক ওসমানী।

alt

স্থানীয় গুণী শিল্পীদের পরিবেশনাও ছিলো প্রশংসনীয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন রোবেন ইউসুফ, আইরিন আলম, মুক্তি প্রসাদ, সঙ্গীতা মুখার্জী, সুমী বর্মন, শাওন ইউসুফ, মাশকে জান্নাত, রাফিকা রশিদ ডোনি ও শাহানা কাজী। নৃত্য পরিবেশন করেন বিপ্লব কর, অবন্তী মুখার্জীসহ আরো অনেকে। উদ্বোধনী পর্বে ওস্তাদ দীপঙ্কর গাঙ্গুলির বাশিঁর সুরের মূর্চ্ছনায় আলোড়িত হয় দর্শক হৃদয়। মিসেস সাউথ এশিয়া কানাডা ২০১৬ বিজয়ী শর্মিনী রায় নারী উন্নয়ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। মন্ট্রিয়লের কানাডা-বাংলাদেশ সলিডারিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান সংগঠক জিয়াউল হক জিয়া। দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস ছিলেন দুইদিনের আয়োজনেই। আর অবশেষে সকল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলা সঙ্গীতের দুই জীবন্ত কিংবদন্তী সাবিনা ইয়াসমীন এবং সৈয়দ আব্দুল হাদী টানা কয়েকঘন্টা দর্শক হৃদয় মাতিয়ে রাখেন। এবং সর্বশেষ তারা দ্বৈত গানও পরিবেশন করেন। মধ্যরাত অবধি চলে তাদের পরিবেশনা। তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বাড়ি ফেরেন দর্শক। বাংলা সঙ্গীতের জীবন্ত দুই কিংবদন্তী শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন এবং সৈয়দ আব্দুল হাদীকে এনআরবি টিভি এবং নাহিদ’স ভাসাভী’স কালেকশনের পক্ষ থেকে এনআরবি নাহিদ’স ভাসাভী’স কালেকশন এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

alt

নাহিদ’স ভাসাভী’স কালেকশন এর পক্ষে নাহিদ আক্তার এই দুই শিল্পীর হাতে এ্যাওয়ার্ডটি তুলে দেন।  বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের কনভেনর শহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, কৃতজ্ঞতা দর্শক, স্পন্সর, কলা-কুশলী এবং ভলান্টিয়ারদের। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় আজকের এই সাফল্য। চীফ কনভেনর আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, তৃতীয় বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে চতুর্থ বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রস্তুতি শুরু হলো। পরপর তিনটি সফল আয়োজন প্রমাণ করে আমরা ঐক্যবদ্ধ।বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০১৭ উপলক্ষে শুভেচ্ছাবাণী দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রি জাস্টিন ট্রুডো, অন্টারিও কানাডার প্রিমিয়ার ক্যাথলিন উইন, টরন্টো সিটির মেয়র জন টরি, অন্টারিও কানাডার সিটিজেনশীপ ও ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ল্যরা এ্যালবানিজ, এডুকেশন মিনিস্টার মিটজি হান্টার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার মিজানুর রহমান খান, টরন্টো পুলিশের সাবেক চীফ বিল ব্লেয়ার এমপি, ন্যাথানিয়েল এরিস্কিন-স্মিথ এমপি, অন্টারিও কানাডার প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা প্যাট্রিক ব্রাউন এমপিপি।


মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

বুধবার, ১৭ মে ২০১৭

Picture

কামাল বলেন,  প্রবাসীদের সুবিধার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সম্মতিতে বর্তমান জালান পাহানে হাইকমিশন অফিস ভাড়া নেয়া হয়েছে। এই হাইকমিশন ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী আইনগত ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, শাখাওয়াত হক জোসেফ, মামুন আহমেদ, যুবলীগের আহ্বায়ক তাজকির আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু হানিফ, শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম হাওলাদার, সেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন সেলিম প্রমুখ।


স্পেন আ.লীগের সম্মেলন উপলক্ষে মাদ্রিদে এমএ গনি

সোমবার, ১৫ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : মাদ্রিদ থেকে : স্পেন আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে দেশটির মাদ্রিদে গেছেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ গনি। এ সময় মাদ্রিদ বিমান বন্দরে তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

Picture

মাদ্রিদ বিমান বন্দরে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন তপন, ডেনমার্কের সাধারণ সম্পাদক ও ঢামেকসুর সাবেক ভিপি ড. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, পর্তুগালের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম, গ্রীসের সভাপতি রাকিব মৃধা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামাদ মাতবর, স্পেনের সভাপতি শাকিল খান পান্না, সহ-সভাপতি আখতার হোসেন আতা, জাকির হোসেন, দুলাল সাফা, রিজভী আলম, আব্দুল কায়ুম সেলিম, রুবেল খান, আব্দুর রহমান, জাকির হোসেন জহির, হাসানুজ্জামান, আব্দুল কাদের, সবুজ আলম, ফয়জুর রহমান, সায়েম সরকার, তোতা কাজী, জসিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ফেসবুকে পরিচয় : অন্যের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মালয়েশিয়ায় পলায়ন

সোমবার, ১৫ মে ২০১৭
 

বাপ্ নিউজ : মালয়েশিয়া থেকে : ভালোভাবেই সংসার চলছিল মো. রকিবুল হক ও এস এম সোনিয়া হালিমা হামিদের। একে অপরকে ভালোবেসেই ২০০২ সালে বিয়ে করেন তারা। ২০০৯ সালে তাদের ঘরে জন্ম নেয় প্রথম সন্তান। পরবর্তীতে তাদের সংসারে আসে আরও একটি কন্যা সন্তান।

কিন্তু তাদের দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসারে হঠাৎ করেই ভাঙনের সুর তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে স্বামীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও সোনিয়া মালয়েশিয়ায় যান। দীর্ঘ ২৮ দিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলে স্বামী রকিবুলের সন্দেহ হয়। তারপরও সন্তান ও সংসারের স্বার্থে সবকিছু মেনে নেন স্বামী।

একই বছরের নভেম্বরে রকিবুল স্ত্রী সোনিয়ার ব্যাগে তার পাসপোর্টের ফটোকপি পান এবং সেখানে স্বামীর নামের জায়গায় আলী রেজা সোহেল নামে এক ব্যক্তির নাম দেখেন। রকিবুল স্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্ত্রী তখন কাগজ ছিঁড়ে ফেলেন।

malaysia

এরপর থেকে স্ত্রী সোনিয়ার প্রতি রকিবুলের সন্দেহ বাড়তে থাকে। রকিবুল জানতে পারেন, আলী রেজা সোহেলের সঙ্গে সোনিয়ার ফেসবুকে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। একপর্যায়ে সোনিয়া আলী রেজা সোহেলের সঙ্গেই মালয়েশিয়া চলে যায়।

রকিবুল হক জানান, ওই ঘটনার কিছুদিন পর থেকেই তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বাসা থেকে উধাও হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও স্ত্রী-সন্তানদের হদিস পাচ্ছিলেন না তিনি। পরে এক মাধ্যম থেকে জানতে পারেন, সোনিয়া ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ায় যান এবং এ কাজে সোনিয়ার ভাই মাহফুজ আলম জিতু সহযোগিতা করেন।

Picture

এ খবরে রকিবুল ঢাকার একটি থানায় স্ত্রীর ভাই মাহফুজ আলম জিতু ও তার স্ত্রী মরিয়ম রহমানের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করেন। আসামিদের গ্রেফতারের পর একদিনের রিমান্ড শেষে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় পুলিশ।

কিন্তু এতেও যখন কাজ হচ্ছিলো না, তখন স্ত্রী ও সন্তানদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য রকিবুল নিজেই চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়া যান। সেখানে রকিবুল আইনের আশ্রয় নেন। মইনুদ্দিন চৌধুরী বনি নামে এক বাংলাদেশির সহায়তায় রকিবুল তার স্ত্রী ও আলী রেজা সোহেলের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার বান্দরকিনা থানায় মামলা করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ৫ মে আসামিদের গ্রেফতার করে। পরে দুইপক্ষকে মুখোমুখি করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে আলী রেজা সোহেল সোনিয়াকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। এমনকি দুই সন্তানকে নিজ সন্তান বলে দাবি করেন। দাবির স্বপক্ষে কাগজপত্রও দেখান তিনি।

malaysia

এ সময় রকিবুল ২০০৮ সালের ২২ মার্চ তারিখে দেয়া সোনিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নামের জায়গায় নিজের নামের প্রমাণ দেখান। এতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দ্বিধায় পড়েন এবং সমাধান দিতে অপারগতা জানান।

স্ত্রী-সন্তান কেউই তার নয়- এমনটা জানার পর এর শেষ দেখতে চান রকিবুল। তিনি আবারও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন আকামা ইসলামে (আইন প্রয়োগকারী সংস্থা)। বিষটি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করার জন্য গত ৯ মে আলী রেজা সোহেলকে গ্রেফতার করে আকামা ইসলাম। তবে সোনিয়া অন্তঃসত্তা থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী রকিবুল হক বলেন, ‘সোনিয়ার সঙ্গে আমার এত বছরের সংসার। আমার এই সোনার সংসারে ফেসবুকের মাধ্যমে কাল হয়ে ঢুকে আলী রেজা সোহেল। আমি এই বাচ্চার বাবা এটাও তারা এখন অস্বীকার করছে। প্রয়োজনে আমি ডিএনএ পরীক্ষা দিতেও রাজি। আমি তাদের বাবা এই পরিচয়টি আমি চাই। আলী রেজা সোহেল আর সোনিয়াকে দেশে ফেরত নিয়ে এদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হোক।’

রকিবুলকে মালয়েশিয়ায় সব কাজে সহযোগিতা করেছেন মইনুদ্দিন চৌধুরী বনি৷ এ প্রসঙ্গে বনি বলেন, ‘এই ছেলেকে (আলী রেজা সোহেল) বাংলাদেশে আইনের আওতায় আনলেই বেরিয়ে আসবে সন্তান ও স্ত্রী কার। কেন তারা ভুয়া কাগজপত্র বানালো। এখানে তারা যা দেখিয়েছে সব ভুয়া, তাদের কথাবার্তায় অনেক ফাঁক-ফোকর রয়েছে।


ডেনমার্কের সাব্বির মুন্সী কে অব্যাহতি

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক এম,এ,গনি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলেন ,- সাব্বির আহমেদ  কে  ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ এর সকল  পদ ও প্রাথমিক সদস্য  থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। সাব্বির আহমেদ এর বিরুদ্ধে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত পূর্বক একজন রোহিঙ্গা প্রমাণিত  হওয়ায় ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্য থেকে অব্যাহতি প্রদান  করা হল। দীর্ঘদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়ায় ইউরোপ আওয়ামী লীগ এর শীর্ষ  নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কুৎসিত কটূক্তির অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগ ও প্রমাণিত হয়।  একজন রোহিঙ্গা  জাতিগত ভাবে মায়ানমার দেশের নাগরিক।জাতিগত ভাবে অন্য দেশের কোন  নাগরিক  আওয়ামী লীগ কোনরূপ সদস্য হইতে  পারিবে না। সাব্বির আহমেদ এর অব্যাহতি  অদ্য ১১ মে থেকে  কার্যকর বলিয়া  গণ্য  হইবে ।দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগ এর পদ ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হইবে। আগামীতে ইউরোপ আওয়ামী লীগ কে মজবুত ও শক্তিশালী করার জন্য যে কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে আরো বেশি কঠোর হবেন বলে উল্লেখ করেন। কেননা সুশৃঙ্খল কর্মীও নেতাদের মাধ্যমে সংগঠন শক্তিশালী হয়। জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংগঠনে ঘাপটি মেরে থাকা বেঈমান মুনাফেকদের চিন্নিত করে শাস্তির আওতায়  আনতে হবে।


ব্রিসবেনে নানান আয়োজনে বৈশাখী মেলা|| উপচে পড়া ভীড়

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

alt

এই আমি যখন বিদেশ বিভুঁইয়ে বৈশাখী মেলার কথা শুনি, মঙ্গল শোভাযাত্রার কথা শুনি, পিঠা পুলির কথা শুনি, বাংলাদেশিদের নাচ গান আবৃত্তির কথা শুনি, তখন কি আর বসে থাকতে পারি? গত ৬ মে শনিবার আমাদের ব্রিসবেন শহরের স্টেফোর্ডের কিয়ং পার্কে হয়ে গেল এখানকার বাঙালিদের সবচেয়ে বড় মেলা, যে মেলার জন্য সারা বছর মানুষ প্রতীক্ষায় থাকে, সেই বৈশাখী মেলা | প্রতিবারের মতো এবারও মেলার আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন ব্রিসবেন | এবারই প্রথমবারের মতো মেলা চলেছে সারা দিন জুড়ে | সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত | অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মেলার প্রথম পোস্টার যখন ছাড়া হলো, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না | বলে কী? সারা দিন অনুষ্ঠান করার মতো কলাকুশলী এবং শিল্পী ব্রিসবেন শহরে পাবে কোথায়?

Picture

এ বছর মেলায় আরেকটি নতুন সংযুক্তি ছিল বাংলা ব্যান্ডের ওপেন এয়ার কনসার্ট | সকাল ১১টায় মেলার মাঠে পৌঁছে দেখি বিশাল কিয়ং পার্কের চারপাশে ১৫-২০টি স্টলে বাঙালি খাবার, গয়নাগাটি ও পোশাক আশাকের সমারোহ | কয়েকটি স্টলে ইলিশ পান্তা আর ভর্তার আয়োজনও দেখলাম | চায়ের আয়োজনও ছিল | অনুপদা ও আমার কাছে এই চায়ের দোকানটি অল্পক্ষণের মাঝেই প্রিয় হয়ে উঠেছিল | কন্ডেন্সড মিল্কের এই চা কমপক্ষে পাঁচবার তো খেয়েছি | এইবারই প্রথম দেখলাম বাংলাদেশিদের স্টলের পাশাপাশি ৩-৪টি বিদেশি স্টলও মেলায় যোগ দিয়েছে | কিয়ং পার্কের বিশাল সবুজ প্রাঙ্গণ চেহারা বদলিয়ে মেতে উঠেছিল লাল, সাদা আর বাসন্তী রঙে | পায়জামা পাঞ্জাবি পড়ে ছোট ছোট বাচ্চারা বাবা-মায়ের হাত ধরাধরি করে হাঁটছে, ফুচকা খাচ্ছে | কী অপূর্ব সুন্দর লাগছিল সবাইকে! অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শামিমের তথ্য মতে এবার প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি এবং আড়াই শ বিদেশি মেলায় এসেছিলেন | আমার এত বছরের ব্রিসবেন জীবনে এত বাঙালির সমাগম একসঙ্গে আগে কখনো দেখিনি |

alt

স্টল দেখতে দেখতে হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেল অ্যাসোসিয়েশনের স্টলের পাশের জাকারান্ডা গাছের নিচে মাদুরের ওপর রাখা একটি ডোনেশান বক্সের ওপর | আমাদের জয় সেখানে বসে আছে | পাশে তার দুই শিশুপুত্র | বাক্সে লেখা—সুনামগঞ্জ হাওরের দুর্গতদের জন্য সাহায্য করুন | জয়ের মতো আমি নিজেও হাওর পাড়ের মানুষ | জয় জানাল, সে পাকা ফলের ভর্তা বানিয়ে বিক্রি করছে | বিনিময়ে যা পাবে সব সুনামগঞ্জের দুর্গতদের কাছে পাঠিয়ে দেবে | অনুপদা আমাদের পরিচিত সকলকে উৎসাহিত করছেন | অনেককেই দেখলাম ৫-১০ ডলারের বিনিময়ে ভর্তা কিনে খাচ্ছেন | জয়ের দুই শিশুপুত্রকে দেখলাম ডোনেশান বাক্সে টাকা ভরছে | পরম মুগ্ধতায় উদ্ভাসিত তাদের চোখমুখ | দেশের জন্য কিছু করার এমন প্রত্যয় আর শিক্ষা নিয়েই আমাদের সন্তানেরা বেড়ে উঠুক |

alt

গত বছরের মেলায় অতিথি হয়ে এসেছিলেন কুইন্সল্যান্ড সরকারের মন্ত্রী ড. অ্যান্থনি লেইনহ্যাম | এবারেও তাঁকে অতিথি করা হয়েছে | তিনি আমাদের সঙ্গে মঙ্গল শোভাযাত্রায়ও অংশ নিলেন | সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুনমুন আফরোজ ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শামিমের যৌথ পরিচালনায় এই পর্বটি খুবই উপভোগ্য ছিল | ছোট ছোট বাচ্চারা নেচে গেয়ে শোভাযাত্রায় ঘুরল | আমরাও ঘুরলাম | শোভাযাত্রার ঘুরতে ঘুরতে মনের অজান্তে চলে গিয়েছিলাম শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফেলে আসা বৈশাখী মেলার দিনগুলোতে |

১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের বৈশাখী মেলায় সারা সিলেট শহর যেন নেমে আসত ক্যাম্পাসের এক কিলোতে | বাসন্তী রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি আর বেলি ও গোলাপ ফুলে একাকার হয়ে যেত চারদিক | বর্ষবরণের গানগুলোর মাঝে এখনো কানে বাজে মাকসুদের সেই বিখ্যাত গান—‘লেগেছে বাঙালির ঘরে ঘরে একি মাতন দোলা, লেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয় মাতন দোলা’ | মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে, অ্যান্থনি লেইনহ্যাম খুব সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্য রাখেন | এখানকার মন্ত্রীদের কথা বরাবরই খুব উপভোগ্য হয় | তারা আমাদের দেশের মন্ত্রীদের মতো বাচাল না | দুই-চার বাক্যে যা বলার সব বলে দেন | এই ভদ্রলোকের কথা আমি আগেও কয়েকবার শুনেছি | আজকে আবার বিমোহিত হলাম | কয়েকটি বাক্যে তিনি বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে পুরোপুরি তুলে ধরলেন | খুব স্পষ্ট করে বললেন যে, ‘তোমাদের সংস্কৃতি অনেক কালারফুল এবং সমৃদ্ধ’ | 

alt

শিশুদের উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণকে তিনি খুব প্রশংসা করলেন | এক ফাঁকে তার সরকার যে বহু সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে এবং বাঙালি সংস্কৃতি যে তার সরকারের বহু সংস্কৃতি নীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে, তা বলতেও ভোলেননি | আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অ্যান্থনি লেইনহ্যামের অংশগ্রহণ এবং এমন স্বীকৃতি ব্রিসবেন বাঙালি কমিউনিটির জন্য একটি বড় পাওয়া | কারণ আমাদের কমিউনিটির বয়স এখন ২৫ বছরেরও বেশি | আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবেশ করা শুরু করেছে | মন্ত্রীর এমন বক্তব্য তাদের মনে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে |

এর পরের টানা দেড় ঘণ্টা একে একে গান, নাচ, আবৃত্তি আর অভিনয় মাতিয়ে গেল ব্রিসবেনের বাঙালি শিশুদের কমিউনিটি স্কুল ‘ব্রিসবেন বাংলা স্কুল’-এর ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা | এখানে কিছু কথা বলা প্রাসঙ্গিক | বিদেশে আসার পর অনেকের কাছে প্রায়ই একটি কথা শুনতে হয়, বাংলা সংস্কৃতির চর্চা নাকি দেশের বাইরে হয় না | বিশেষ করে বিদেশে যে সব ছেলেমেয়েরা বড় হয়, তারা নাকি বাংলা সংস্কৃতি তেমন জানে না, রীতিনীতি মানে না, আদবকায়দাও জানে না | তাদের যতই বাংলাদেশি রীতিনীতিতে দীক্ষিত করা হোক, তারা তা মেনে চলতে চায় না বা পারে না | এইতো কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এসেছিলেন আমাদের গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে | একটি ভিডিওতে দেখলাম, ব্রিসবেনের কমিউনিটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাংলা স্কুলের শিশুদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথম জেনারেশন দেশীয় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করে যায়, সেকেন্ড জেনারেশনে এসে সেটা আর থাকে না।’ কথাটি শুনে খুব বড় একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম | তাহলে কি আমাদের বাচ্চারা বাংলাদেশের কোনো কিছুই ধারণ করবে না? এটা কী ঠিক? আমার কিন্তু তা মনে হয় না |

alt

মেলার এই পর্বে আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম বাঙালি সংস্কৃতিকে যেভাবে উপস্থাপন করল, নিজ চোখে সেটা না দেখলে বিরাট একটি অতৃপ্তি থেকে যেত | প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়ে নাচ-গান, আবৃত্তি ও অভিনয়ে পুরো স্টেজ মাতিয়ে রাখল | শুদ্ধ উচ্চারণে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশের ষড়্ঋতুর যে বর্ণনা দিল তা সত্যি মনে রাখার মতো | আর এদের নাচ এবং গানের কথা কী বলব? ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’—আরিয়ান, সাবেহ ও নীল অসম্ভব সুন্দর করে গাইল | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে’ নিয়ে এল আমাদের জারিবা এবং তার বন্ধুরা | এদের গানের ঘোর কাটতে না কাটতেই লামিয়া, আবসারা, মালিহা, অরিন পরপর নিয়ে এল অনেকগুলো নাচ | সুন্দর সুন্দর সব গানের সঙ্গে যেমন ‘ধিমতানা’ (যাও বলো তারে, মেঘের ওপারে বৃষ্টি বন্দনা জুড়ে ধরণিতল), ‘আকাশে-বাতাসে চল সাথি উড়ে যাই চল ডানা মেলে’ অথবা ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ ওরা খুব সুন্দর করে নাচল | ‘সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি’ গানের তালে তালেফা রিশা ও তার বন্ধুদের নাচ দেখতে দেখতে হুমায়ূন আহমেদের একটি নাটকের দৃশ্য মনে পড়ে গেল যেখানে শাওন এবং একদল গায়ক-গায়িকা এই গানটির তালে তালে নাচছেন | আজ মনে হলো আমাদের ফারিশা এবং তার বন্ধুরাও শাওনের দলটি থেকে কোনো অংশে কম না। নাচের এই পর্বে আমি এবং আমার মেয়ে রিদার জন্য অপেক্ষা করছিল সবচেয়ে বড় বিস্ময় | রিদার বান্ধবী সাহার ‘ভালো করিয়া বাজান গো দোতারা সুন্দরী কমলায় নাচে’ এই গানের সঙ্গে কী অপূর্ব করে নাচল | ওর নাচ এবং নাচের সাজে দেখে রিদা আস্তে করে আমাকে বলল, বাবা দেখো সাহারকে একদম ছোট একটা বাঙালি কনের মতো লাগছে | এখানে মনে রাখতে হবে, এই ৩০ থেকে ৪০ জন ছেলেমেয়ের সবাই এখানে জন্মেছে | এখানকার স্কুলে পড়াশোনা করে | এদের কারও বয়স ১০ বছরের বেশি নয় | শুধু তাই নয়, আমাদের এই দ্বিতীয় প্রজন্ম যাদের বয়স পনেরোর ওপরে তারাও মেলায় এসেছে পুরো বাঙালি সেজে | অনেক ক্ষেত্রে আমাদের থেকেও এদের বেশি বাঙালি মনে হয়েছে | এরা স্টেজে যা করে দেখাল তা আমাদের অনেকেই কখনো করেছে বা করতে পারবে বলে মনে হয় না | ব্রিসবেনের বাঙালি শিশুদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির শক্ত এই গাঁথুনিটি গড়ে দেওয়ার কৃতিত্বের অনেকটাই বাংলা স্কুলকে দিতে হবে |

alt

নাসিমা কালাম মিতুর উপস্থাপনায় এর পরের পর্বটি সাজানো হয়েছিল মূলত আমাদের কমিউনিটির নিজস্ব শিল্পীদের নিয়ে | জেডি, এলিন শারমিন, কুশল, মাহবুব, লাজ পারিশা, মিথুন, বন্দিতা, প্রিন্স, মাইশা রহমান, অজয়, রুদ্র শোভন, কান্তা ও পাশা প্রমুখ প্রায় দুই ঘন্টা নাচ গান এবং আবৃত্তি দিয়ে আমাদের আবিষ্ট করে রেখেছিল | এই পর্বে ব্রিসবেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে | তবে ব্রিসবেন বাংলা রেডিওর নিয়মিত কয়েকজন শিল্পীর পরিবেশনা আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে | বিশেষ করে অবনি মাহবুবের গান এবং স্বাগতা দাসের আবৃত্তি ভোলার মতো নয় | অবনি তার মতো করেই রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন কিন্তু স্বাগতা মহাভারতের চরিত্র দ্রৌপদীর নিজস্ব কিছু কথা নিয়ে লেখা একটি কবিতা এবং পশ্চিমবঙ্গের জেলা বাঁকুড়ার আঞ্চলিক ভাষার আরেকটি কবিতা পড়ে আবৃত্তির যে কারুকাজ দেখালেন, তা খুব সচরাচর চোখে পড়ে না | এই পর্বে আরও দুজন শিল্পীর পরিবেশনা আমার অনেক দিন মনে থাকবে | সুচরিতা দাস এবং ইমন চৌধুরী | সুচরিতা দাস ব্রিসবেনের খুব পরিচিত একজন শিল্পী | অনেক অনুষ্ঠানে তাকে একাই পাঁচটি সাতটি গান গাইতে আমি দেখেছি। ইমন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক, এখানে কিউইউটিতে পিএইচডি করছেন | ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি’ গানের তালে তার মনকাড়া নৃত্য দেখে আমার পাশে দাঁড়ানো এক অস্ট্রেলিয়ান দর্শকের অভিমত সোজা বাংলায় অনুবাদ করলে হয়-আমি জীবনে খুব কম এমন সুন্দর নৃত্য দেখেছি |

alt

এই পর্বের সমান্তরালে বাচ্চাদের আঁকিবুঁকি, ফানগেম এবং পেইন্টিংয়ের আরেকটি পর্ব চলছিল | অনেকেই বাচ্চাদের গালে হাতে তুলি আর রঙের ব্যবহারে নানান রঙের আলপনা আর ফুলের চিত্র এঁকে দিচ্ছেন | ছবির মতো সুন্দর এই বাচ্চাগুলো গালে, হাতে আলপনা নিয়ে নিয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে | কী অপূর্ব রকম ভাবে মানিয়ে গিয়েছিল! আমার মেয়ে রিদা তার বান্ধবী সাহারকে নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে ছবি আঁকল | রিদা সাধারণত প্রকৃতির ছবি আঁকে | মেলায় লাল সাদার এত জমকালো উপস্থিতি দেখেই হোক অথবা সাহারকে বাঙালি পোশাকে দেখেই হোক, সে লাল সাদার জমিনে কুলা এবং প্রজাপ্রতির ছবি আঁকল | এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ খেয়াল করলাম, মেলার মাঠ লোকে লোকারণ্য | কারণটি অবশ্য আগেই জানা ছিল | তাই অবাক হইনি | মুনমুন আফরোজের পরিচালনায় ঠিক ৪টা থেকেই স্টেজে ওঠার কথা ছিল নব্বই দশকের জনপ্রিয় উইনিং ব্যান্ডের বর্তমান ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট জামান আলী চন্দন |

বাংলাদেশ থেকে কোনো জনপ্রিয় শিল্পী এখানে আনতে অনেক খরচের হিসাব করতে হয় | সাধারণত একটি নির্দিষ্ট টিকিটের বিনিময় মূল্য ছাড়া চন্দনের মতো জনপ্রিয়দের কনসার্টের ব্যয় বহন করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় | ব্রিসবেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন সেই কঠিন কাজটি করে দেখাল | এখানে আমরা যারা প্রবাসী, তাদের প্রায় অর্ধেকের বেশি চন্দনদের সমসাময়িক শিল্পীদের গান শুনে শুনে বড় হয়েছি | সুতরাং চন্দনের গান শুনতে ব্রিসবেনের বাঙালিদের ঢল নামবে সেটা মোটামুটি আমার ধারণাতেই ছিল | কিন্তু যা ধারণাতে ছিল না সেটা হলো এত বছর পরেও, তিনি ঠিক সেই ৯০ দশকের মতো করেই গাইবেন ও বাজাবেন | উইনিং থেকে যেহেতু চন্দন একাই এসেছিলেন স্থানীয় কয়েকজন তার সঙ্গে বাজিয়েছেন | যদিও তার সঙ্গে যারা বাজিয়েছেন তাদের দু-একজন তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এর পরেও চন্দনতো চন্দনই | তিনি একাই টেনে নিয়ে গেছেন | মন্ত্রমুগ্ধের মতো সবাইকে আটকে রেখেছেন প্রায় তিন ঘণ্টা | একে একে শুনিয়েছেন ‘হৃদয় জুড়ে যত ভালোবাসা’, ‘ইচ্ছে করে’, ‘ওগো সোনার মেয়ে’, ‘ওই দূর পাহাড়ের ধারে’—দর্শক নন্দিত সবগুলো গান |

alt

সভাপতি বিকাশ সিকদার যখন মেলার সমাপ্তি টানতে তার পুরো কার্যকরী পরিষদকে নিয়ে স্টেজে উঠলেন, তখনো আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম | সংবিৎ ফিরে যখন বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলাম তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না যে পুরো একটি দিন এমন উন্মাদনা আর উৎসবের মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি | আমার মতো হতভাগারা যারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, রূপ, গন্ধ, বর্ণ বুকে নিয়ে মৃতের মতো প্রবাসী জীবনে পড়ে আছে, তাদের জন্য এই রকম অনুষ্ঠান এক পরম পাওয়া | আর এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য ব্রিসবেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সকল কর্তাব্যক্তিদের অসংখ্য ধন্যবাদ |

শেষ করার আগে অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি দুটি অভিমত দিতে ইচ্ছে করছে | তারা যদি বৈশাখী মেলা এত দেরিতে না করে বৈশাখের প্রথম শনিবারে করেন তাহলে ভালো দেখায় | আর সে কাজটি করার জন্য তারা তাদের বাৎসরিক কার্যসীমা এমনভাবে নির্ধারণ করতে পারেন যাতে বৈশাখী মেলাটি নতুন কমিটির হাতে না পড়ে বিদায়ী কমিটির শেষ অনুষ্ঠান হিসেবে পড়ে | এতে নতুন কমিটিকে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় এমন বড় অনুষ্ঠানের ঝামেলায় মধ্য দিয়ে যেতে হবে না | একই সঙ্গে বিদায়ী কমিটির শেষ অনুষ্ঠান হিসেবে থাকলে তারাও এক বছর সময় হাতে নিয়ে আরও জমকালো, আরও পরিপাটি করে বৈশাখী মেলা করতে পারবেন |

আর দ্বিতীয়টি হলো—অ্যাসোসিয়েশনের উচিত বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে শুধু বাঙালি বা পরিচিত গণ্ডির মধ্যে না রেখে অন্যান্য যেসব দেশ বাংলা নববর্ষ পালন করে সেসব দেশের প্রবাসী কমিউনিটিকেও সম্পৃক্ত করা | ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ আমাদের সঙ্গেই বাংলা নববর্ষ পালন করে | নেপালেও ‘ফুলেল নববর্ষ’ নামে বাংলা নববর্ষ পালিত হয় | এ দিনটি নেপালে সরকারি ছুটি থাকে | ব্রিসবেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন যদি ব্রিসবেনভিত্তিক এই সবগুলো কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে পারে তাহলে আমাদের সংস্কৃতির যেমন প্রসার ঘটার একটি সুযোগ থাকবে তেমনি এই ‘বৈশাখী মেলা’ এক সময় ব্রিসবেনের অন্যতম প্রধান বহুসাস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও স্বীকৃতি পাবে বলে আমি মনে করি |

*মুহম্মদ জে এ সিদ্দিকী (শামিম): বিজ্ঞানী ও শিক্ষক, গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া |