Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/images/images/templates/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

জম্মু-কাস্মীরে চীন পাকিস্তান ঐক্যের ভয়!আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

ভারত-মার্কিণ দম্ভ কেঁপে কেঁপে উঠছে এই ছোট্ট সংবাদে।জম্মু কাস্মীরে চীনের প্রভাব বেড়ে চলেছে অতিমাত্রায়।কাস্মীরিদের উপর জুলুম নিপীড়নের রাজনৈতিক-সামরিক দখলদারিত্বের নেহেরু ধারা এখন চীনা ভয়ে পালাবার পথ নিয়েছে।কাস্মীরিদের স্বাধীন জীবনযাপনের অধিকারের দাবীর মুখে দলন নিপীড়ন ওগণহত্যার বিজাতীয় আগ্রাসন  যুদ্ধাপরাধে রূপ নিয়েছে।চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর বিস্তৃতির পথ ধরে জম্মু-কাস্মীরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব আসছে।

এই প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় কেন্দ্রীয় রাজনীতির সন্ত্রাসধারার পিঠে বজ্রপাতের ভয় দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশ স্বাধীন যোগাযোগ অর্জন করার পর প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিবেশীরা ভয় পায় বাংলাদেশ সীমান্তের গরীব ভারতীয় প্রদেশগুলো যদি বাংলাদেশের প্রেরণায় পেট ভরে খাবার পাবার পথ নিতে থাকে?পশ্চিম ভারতীয়দের শাসকগোষ্ঠীর তাতে হিংসা।উত্তর পূর্ব ভারতের ভারতীয়রা তাই আঞ্চলিক বিদ্বেষের শিকার।চীনা সমৃদ্ধির সামান্য বাতাসের দোলায় জম্মু-কাস্মীরে অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার জোয়াড় দেখা দিলে নতুন ভয় মাথা তুলছে।তারই লক্ষণ প্রকাশ পেলো জম্মু-কাস্মীর সরকারে।  

ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছিলেন,ভারতীয় সেনাবাহিনী দু’টি ফ্রন্টে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।তাকে এখন  জানতে বুঝতে হবে ‘দুই’ এখন একিভূত হয়ে একশক্তিতে রূপ নিয়েছে।ভূটান থেকে অরূণাচল প্রদেশ পর্যন্ত, লাদাখ থেকে জম্মু কাস্মীর পর্যন্ত এবং শ্রীলংকা থেকে মালদ্বীপ পর্যন্ত একটাই ফ্রন্ট হয়ে গেছে।চীন-পাকিস্তান এখন অভিন্ন হয়ে গেছে।ঘিরে ফেলেছে ভারতকে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাফালাফি এবং মুসলমান তাড়িয়ে ভারতকে হিন্দু-রাষ্ট্র ঘোষণা করার লেফট রাইট করতে করতে উত্তর প্রদেশ সহ উগ্রহিন্দু প্রভাবিত রাজ্যগুলোয় যে উম্মাতাল অস্থিরতার দাবানল চালু করেছে তাদেরকে ভারতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে সীমান্তমুখী করার পরিস্থিতি হয়ে গেছে।স্বাধীন বাংলাদেশকে ত্রিপুরা মনিপুরের স্ট্যাটাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশ বিভাগের একজন যুগ্মসচিবের অধীনে নিয়ন্ত্রণ করে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাড়ানো জিহবার অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে ভেতরে ভেতরে।এই জয়ন্ত বিশ্বাস উল্লেখিত এলাকা ছাড়াও মরিশাস,টেগো এবং আসামের বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করেন।

আমরা বাঙালিরা জনতার স্বাধীনতাযুদ্ধ করে নিজেদের বাংলাদেশ গড়েও যেখানে সার্বভৌম থাকতে পারলামনা প্রতিবেশী দের বিশ্বাসঘাতকতায়,এই বাঙালিরা নিশ্চয়ই কোমর সোজা করার জন্যে নিশ্বাসের ব্যায়াম করার সুযোগ পাবো।মাথা তুলে নিজের দেশবাড়ীতে বসবাস ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবো।নয়াদিল্লীর হুকুমের দাসথেকে মুক্ত থাকার জন্যে একটা ভারসাম্যমূলক আঞ্চলিক পরিবেশ পাবো।অথবা রাজনৈতিক জীব জানোয়ারদের অনৈতিক লিপ্সার পক্ষে ‘সেনাদাস’ হয়ে পশ্চিম ভারতীয়দের পুরোপুরি অধীনস্থ হবার পক্ষে জাতীয় সংসদ এবং সরকারে শপথ নেবো।দুটোর একটা।

অতীতে প্রধান প্রধান রাজনীতিবিদরা নিজের ক্ষমতা ও অর্থ লিপ্সার গোপন পথে জনগণকে প্রতারিত করেছেন।ব্যবসায়িক লুটেরাদেরকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেরা লুটের সর্দারি করেছেন,দেশপ্রিয় সেনাবাহিনীকে হত্যা ও চাকরিচ্যুত করে পরদেশী সেনাবাহিনীর প্রভাবে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিদেশীদের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে লুন্ঠনের ভাগাভাগি করেছেন।রাজনীতির নামে দেশের মানুষদেরকে বিভক্ত করে দেশব্যাপী কৃত্রিম নৈরাজ্য বিস্তৃত করেছেন। বাংলাদেশকে ভাবতে হবে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে।এই ভাবনার ফল যা-ই হয়,সাহসী ও দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত নেতৃত্বই সম্ভাব্য সুযোগে পরিস্থিতির সদব্যবহার করতে পারবে।এই ধারণা বিশ্লেষকদের। ভৌগোলিক বিশেষ সুবিধার কারণে ভারত,চীন,আমেরিকা,রশিয়া,আরব দেশগুলো এবং ইওরোপীয় ইউনিয়ন সহ সবার কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম।   

জম্মু-কাস্মীর রাজ্য সরকারের গণপুর্ত মন্ত্রী নঈম আখতার যথার্থ সময়ে গণমাধ্যমে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাজির করার সাহস করেছেন।যেকথা তার দেশের কেন্দ্রীয় সরকার গোপনে রেখে ভারতবাসীদের বিভ্রান্তির অতলে ডুবিয়ে রেখেছেন। তিনি ২০ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সাক্ষাতকারে বলেছেন,জম্মু কাস্মীরে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে এবং এবিষয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারত সরকারের কথা বিনিময় হওয়া জরুরী।
তার এই দায়িত্বজ্ঞানবোধ তাকে রাজনীতিক ও মন্ত্রিত্বের সীমানার অনেক উর্ধে তুলেছে। বলেছেন,"কাস্মীরে আগের মতো পরিস্থিতি আর নেই,পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে গেছে। বিষয়টি এখন আর কেবলমাত্র ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।এর মধ্যে বড় শক্তির হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে"। বলেছেন,এখন তো পাকিস্তান একা নয়,এখন চীনও এসে পড়েছে।জেনারেল বিপিনকে একথা বুঝতে হবে।পাকিস্তানওচীন এখন আর ভিন্ন নেই।  

পিপলস ডেমোক্রাটিক পার্টি(পিডিপি)র নেতা নঈম আখতার বলেন,“এটা কেউ কেন দেখছেনা যে,চীন সন্ত্রাসী সংগঠন জৈশ-ই-মুহাম্মদকে কোলে তূলে নিয়েছে।যারা বারবার জাতিসংঘে মাওলানা মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করার বিরোধীতা করছে।পাকিস্তানের হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা শোনা যাচ্ছে,তবে চীনের প্রভাব থাকায় মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছেনা।এরকম পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে পাকিস্তানের সাথে সংলাপ চালানো ভালো। কেন্দ্রীয় সরকারকেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।আমরা এব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কারো কাছে দাবি জানাচ্ছিনা এবং এটা আমাদের অধিকার”।

পিডিপি সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা হওয়া দরকার।ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী১৯৯৮সনে মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ পিডিপির প্রতিষ্ঠাতা।জম্মু কাস্মীরের সরকার গঠন করেন ২০০২সনে।২০১৬সনে জানুয়ারী মাসে তার মৃত্যুর পর তারই উত্তরাধিকারী ও কণ্যা মুফতি মেহবুবা দলের নেতৃত্ব নিয়েছেন এবং জম্মু কাস্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

পিডিপি ভারতীয় জনতা পাটি(ভিজিপি)র সাথে কোয়ালিশন সরকার চালাচ্ছে।পিডিপি ক্ষমতাসীন থাকলেও এই দলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের অনেকে দল ছেড়ে চলে গেছেন দলে দূর্নীতি ও অরাজকতার অভিযোগে।

দল ছাড়া নেতাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে মুফতি সাঈদের অনুপস্থিতিতে দলের অবস্থা রাজনীতি থেকে সরে গেছে।তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী তে অর্থাৎ গতমাসে দল ত্যাগ করলেন গুজ্জার অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী জাফর আলী খাতানা।পিডিপি নেতারা গুপ্তহত্যার ভয়ে থাকে।তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অজ্ঞাত মানুষের গুলির আঘাতে। কাস্মীরের স্বাধীনতাযোদ্ধারা তাদেরকে রাজাকার বলেই চিহ্নিত করেছে।

জম্মু কাস্মীর ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় একটি প্রদেশ।এটা হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে হিমাচল এবং দক্ষিণে পাঞ্জাব প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত।দুদেশের নিয়ন্ত্রণ রেখা পাকিস্তান প্রশাসিত আজাদ কাস্মীর এবং গিল্গিট-বাল্টিস্তানথেকে জম্মু কাস্মীরকে   বিভক্ত করেছে। প্রকৃত বিভক্তিরেখা চীনা শাসিত পূবে আক্সাল চীন।ভারতীয় শাসনতন্ত্রের ৩৭০ আর্টিক্যাল অনুযায়ী জম্মু কাস্মীর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।তিব্বতের সীমান্তে আক্সাই চীন ১৯৬২সন থেকে চীনের দখলে আছে।চীন-ভারত যুদ্ধে যায়গাটা ভারতের হাতছাড়া হয়ে যায়।


জম্মু কাস্মীরে তিনটি অঞ্চল রিয়েছে।জম্মু, কাস্মীর উপত্যকা এবং লাদাখ।শ্রীনগর হচ্ছে গ্রীস্মের এবং জম্মু হচ্ছে শীতকালীন রাজধানী।ভারতের প্রদেশগুলোর মধ্যে জম্মু এন্ড কাস্মীরই হচ্ছে একমাত্র মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল।


আবু সাঈদ রতন এর“মাকড়সার জালে মুক্ত জীবন”

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিঊজ:আবু সাঈদ রতন দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কে স্বপরিবারে বসবাস করছেন। বহুমাত্রিক তার কর্ম ও জীবন। একাধারে সাংবাদিক, নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, সংগঠক। “মাকড়সার জালে মুক্ত জীবন” বি‌ভিন্ন পত্র‌িকায় প্রকা‌শিত ২৬ টি ন‌ির্বা‌চিত কলাম ন‌ি‌য়ে তাঁর প্রথম বই ।


“মাকড়সার জালে মুক্ত জীবন” বইটি পাওয়া যাচ্ছে ।প্রকাশক সাহিত্য বিকাশ। ‘সাহিত্য বিকাশ’ (স্টল নং ১৫৬-১৫৭) সোহরাওয়ার্দি উদ্যান এবং মুক্তধারা নিউইয়র্ক(স্টল নং ১০০/১০) বাংলা একাডেমী চত্বর


রাশিয়ার মুখ্যভূমিকা চাইছে প্যালেস্টাইন।আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

প্যালেস্টাইন আমেরিকার উপর নির্ভরশীলতায় বিপদাপন্ন।শান্তি ওনিরাপত্তার নিরন্তর কূটনীতিতে তারা ইজরাইলকে পেছনে ফেলে নতুন পথে পা ফেলেছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার এতোদিনের নেয়া মধ্যস্থতার নেতৃত্ব থেকে নিজেকে সরে নিয়ে হুকুমের আনুগত্য আশা করে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটালেন।এই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ এর শরণাপন্ন হয়েছেন প্রেসিডেণ্ট আব্বাস।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির উদ্দেশ্যে  গঠিত রাশিয়া,জাতিসংঘ,ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং আমেরিকার সমন্বয়ে দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ গঠিত হয়েছে ২০০২সালে।তিনি সম্ভবতঃ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাব করবেন জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে।যে প্রস্তাব এতোদিন আমেরিকার অনুরোধে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিলো।আমেরিকা চেয়েছে ইজরাইল-প্যালেস্টাইন আলচনায় সমাধান।আমেরিকা এই অবস্থান হারালো ট্রাম্পের পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হবার পর।
এদিকে ইজরাইলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আছেন আভ্যন্তরীণ চাপের মুখে।ঘুষ,দূর্ণীতির বিরুদ্ধে তিনি তার স্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদের পদত্যাগের দাবিতে ১০সপ্তাহ লাগাতার বিক্ষোভের মধ্যে খবর এলো প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে চলছে বিক্ষোভ।বাড়ির সামনে বিক্ষোভের পর টেলিভিশন সাক্ষাতে তিনি বলেছেন তিনি পদত্যাগ করবেননা।প্রধানমন্ত্রিত্ব ভোগ করবেন।ইসরাইলি পুলিশ জানিয়েছে,ঘুষ দূর্নীতি,প্রতারণা ও অবৈধভাবে ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ঠ তথ্যপ্রমাণ আছে।যদিও নেতানিয়াহু বলেছেন,অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। ২০১৪সালে ইজরাইলের আরেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট ও অনুরূপ অপরাধের দায়ে দেড় বছর জেল খেটেছেন।         
ইজরাইলে আভ্যন্ত্রীণ গোলযোগের এই সন্ধিক্ষণে সিরিয়ার আকাশে ইজরাইলের জঙ্গি বিমান এফ-১৬ অনুপ্রবেশের পর গুলির আঘাতে পুড়ে ধ্বংস করে সিরিয়ার বিমান বাহিনীর ক্ষমতার উচ্চতার প্রমান মিলেছে।ইজরাইলের পরমাণু সজ্জিত এই জঙ্গি বিমান বহরের এতো তাড়ি শনির দশা ভর করতে পারে তা কল্পনাতীত থাকায় হিসেব পালটে গেছে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প গ্যাং পার্টির। অপরদিকে প্যালেষ্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেণ্ট মাহমুদ আব্বাস রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সাথে পরামর্শ সভায় বসেছিলেন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া অগ্রসরের যত্থার্থ সমর্থন সংগঠিত করার প্রত্যয়ে।আব্বাস চাইছেন আমেরিকার বর্তমানের বিতর্কিত আকাঙ্ক্ষাকে পেছনে ফেলেই বিশ্বসমর্থিত পথের ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে,প্যালেষ্টাইনকে ইজরাইলী দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে।  
 
 এই দুই ঘটনার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ এবং কূটনীতির চর্চা।উভয় ক্ষেত্রেই ইজরাইল এবং আমেরিকার বর্তমান অবস্থান অসুবিধায় ভারাক্রান্ত। ১২ই ফেব্রুয়ারী পুটিন-আব্বাসের সাক্ষাৎ এবং আলোচনা হয়েছে মস্কোয়।কৃষ্ণসাগরের নয়নাভিরাম রিসোর্ট ‘সোচী’তে এই মিলন হবার কথা থাকলেও রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান দূর্ঘটনার কারণে সভাস্থল পরিবর্তন হয়েছে।
ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে রাশিয়া এবং অন্যান্য শক্তিগুলো যেনো এই শান্তি প্রক্রিয়া স্পন্সর করে।যেহেতু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে দাম্ভিকতার সাথে শান্তিপ্রক্রিয়া বিধ্বস্ত করার অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
  প্যালেস্টাইনবাসীদের ভাষায় ওয়াশিংটনের পক্ষপাতদুষ্ট এবং একতরফা জোরজবরদস্তিমূলক নীতি শান্তির পথের প্রধান বাধা হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী করার সমর্থনে একতরফা ঘোষণা দিয়েছিলেন গত বছর৬ই ডিসেম্বর।যা আমেরিকার বিগত সরকারগুলোর প্যালেষ্টাইন-ইজরাইল নীতির সাথে এই ঘোষণা বিরোধাত্নক। অর্থাৎ আমেরিকার জনগণ ও রাজনীতিবিদরাও ট্রাম্পের জেরুজালেম বিষয়ক ঘোষণার সাথে দ্বিমত করছেন।
প্যালেস্টাইনের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোভাব  শত্রুতার।জাতিসংঘে রিলিফ এবং ওয়ার্ক্স  এজেন্সি ফর প্যালেষ্টেনিয়ান রেফ্যুজি্‌স(ইউ.এন.আর.ডব্লিউ.এ)সংস্থার তহবিল বাতিলের হুমকি দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান আরো শত্রুতার করেছেন।প্রেসিডেণ্ট আব্বাসের কূটনৈতিক উপদেষ্টা মাজদি আল খালিদি  বলেছেন,রাশিয়া এবং পুটিন আন্তর্জাতিক শান্তি ফোরামের ফ্রেম ওয়ার্কের আওতায় কার্যকর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।তিনি সুনির্দ্দিষ্টভাবে বলেছেন,ইউ এন সিক্যুরিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং ২০০২সালে মাদ্রিদে গঠিত দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ এর সদস্য রাশিয়া ইজরাইল-প্যালেষ্টাইন শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে যথার্থ শক্তি।মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির উদ্দেশ্যে  রাশিয়া,জাতিসংঘ,ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং আমেরিকার সমন্বয়ে দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ গঠিত হয়েছে।

আগামী মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন হবে।ঠিক তার আগেই এই বৈঠক একটি সময়োচিত পদক্ষেপ নিশ্চয়ই।তাছাড়া আমেরিকার নিয়ন্ত্রিত শান্তি প্রচেষ্টার হাল হকিকত প্রকাশ হবার বর্তমান প্রেক্ষাপটে আব্বাস নিশ্চয়ই আরেকটি সুযোগ নেবেন।তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্যে আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশ বা ইন্টার্ন্যাশানাল কনফারেন্স আয়োজনের ব্যবস্থা নেবেন।এই প্রস্তাব তিনি উত্থাপন করতে পারেন জাতীয় সংঘে সাধারণ অধিবেশনে।
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতাযোদ্ধা)।


ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস - ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস নামে বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে একটি নতুন দিবস পালনের অপসংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এটি এখন বিশেষ বিশেষ মহলে পালন করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ ও মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশায় একটি ব্যবসায়িক মহল এবং হোটেল ব্যবসায়ীরা এর সাথে যুক্ত হয়ে এটি পালনকে উৎসাহিত করছে। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন ডে’র ইতিহাস ও ভিত্তি কী?

‘‘আজকাল অনেক মুসলিমই প্রকৃত বিষয়টি না জেনে নানা রকম বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা করে থাকে। তারা কেবল তাদের সাংস্কৃতিক নেতাদের মতোই এসব ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসারী। তারা এটি খুবই কম উপলব্ধি করে যে, তারা যা নির্দোষ বিনোদন হিসেবে করে তার শিকড় আসলে পৌত্তলিকতায়, যা তারা লালন করে তা হলো অবিশ্বাসেরই প্রতীক। তারা যে ধারণা লালন করে তা কুসংস্কার থেকেই জন্ম। এমনকি ইসলাম যা পোষণ করে এসব তার প্রত্যাখ্যান। ভালোবাসা দিবস আমেরিকা ও ব্রিটেন বাদে গোটা ইউরোপে মৃত হলেও হঠাৎ করেই তা মুসলিম দেশগুলোয় আবার অনুপ্রবেশ করেছে। কিন্তু কার ভালোবাসা? কেন এ দিবস পালিত হবে?

অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে তারা যেমন করে, এ বিষয়েও কথিত আছে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে উর্বরতা ও পশুর দেবতা বলে খ্যাত লুপারকাসের (Lupercus) সম্মানে পৌত্তলিক রীতিনীতির একটি অংশ হিসেবে রোমানরা ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন শুরু করে। এর মূল আকর্ষণ হলো পরবর্তী বছরের লটারির আগ পর্যন্ত বর্তমান বছরে লটারির মাধ্যমে যুবকদের মাঝে যুবতীদের বণ্টন করে দেয়া। এ দিন উদযাপনে অন্যান্য ঘৃণ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে একটি ছিল, এক টুকরো ছাগলের চামড়ায় আবৃত যুবতীদের দু’জন যুবক কর্তৃক উৎসর্গকৃত ছাগল ও কুকুরের রক্তে ভেজা চাবুক দিয়ে প্রহার করা। মনে করা হতো ‘পবিত্র যুবক’দের প্রতিটি পবিত্র (?) আঘাত দ্বারা ওই সব যুবতী ভালোভাবে সন্তান ধারণে সক্ষম হবে। খ্রিস্টান সম্প্রদায় যথারীতি লুপারকালিয়ার (Lupercalia) এ ঘৃণ্য রীতিকে বন্ধ করার বৃথা চেষ্টা করল। প্রথমে তারা মেয়েদের নামে লটারির বদলে ধর্মযাজকদের নামে লটারির ব্যবস্থা চালু করল। এর উদ্দেশ্য হলো, যে যুবকের নাম লটারিতে ওঠবে সে যেন পরবর্তী একটি বছর যাজকের মতো পবিত্র হতে পারে। কিন্তু খ্রিস্টানরা খুব কম স্থানেই এ কাজে সফল হলো।

একটি জনপ্রিয় খারাপ কাজকে কিছু পরিবর্তন করে তাকে ভালো কাজে লাগানোর প্রবণতা বহু পুরোনো। তাই খ্রিস্টানরা শুধু লুপারকালিয়া থেকে এ উৎসবের নাম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন করতে পারল। পোপ গ্যালাসিয়াস (Gellasius) ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের সম্মানে এটি করল। তথাপি খ্রিস্টান কিংবদন্তিতে ৫০-এরও বেশি বিভিন্ন রকম ভ্যালেন্টাইন আছে। এদের মধ্যে মাত্র দু’জন সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যদিও তাদের জীবন ও চরিত্র এখনো রহস্যাবৃত। একটি কিংবদন্তি হলো, যেটি বেশি প্রকৃত ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন হলেন ‘প্রমিকদের যাজক’- যে নিজেকে কারাগারপ্রধানের মেয়ের প্রেমে জড়িয়ে ফেলেন।
কিন্তু কিছু মারাত্মক অসুবিধার জন্য ফ্রান্স সরকার উল্লিখিত লটারি ১৭৭৬ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কালপরিক্রমায় এটি ইতালি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানি থেকেও উঠে যায়। এর আগে সপ্তদশ শতাব্দীতে পিউরিটানরা যখন শক্তিশালী ছিল সে সময় ইংল্যান্ডে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু রাজা দ্বিতীয় চার্লস এটি ১৬৬০ সালে পুনরুজ্জীবিত করেন। ইংল্যান্ড থেকেই এটি নতুন বিশ্বে আগমন করে যেখানে এটিকেই টাকা বানানোর ভালো মাধ্যম হিসেবে নিতে ইয়াংকিরা (আমেরিকানরা) উদ্যোগী হয়। ১৮৪০ সালের দিকে ইস্টার এ হল্যান্ড ‘হোয়াট এলস ভ্যালেন্টাইন’ (What else Valentine) নামে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আমেরিকান ভ্যালেন্টাইন ডে কার্ড বানায় এবং প্রথম বছরই ৫০০০ ডলারের কার্ড বিক্রি হয় (তখন ৫০০০ ডলার অনেক)। সেখান থেকে ভ্যালেন্টাইন ডে ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
এটি হ্যালোইনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষ ভূত এবং অপদেবতার মতো পোশাকে সজ্জিত হয়ে পৌত্তলিকদের একটি প্রাচীন শয়তানপূজার পুনঃপ্রচলন করে। পৌত্তলিকেরা এর নাম দেয় সামহাইন (Samhain) যা সোয়েন (Sowen) হিসেবে উচ্চারিত হয়। যেমনটি ভ্যালেন্টাইন ডে’র ক্ষেত্রে ঘটেছিল। খ্রিস্টানরা এর নাম পরিবর্তন করে ঠিকই, কিন্তু পৌত্তলিক শিকড় পরিবর্তন করতে পারেনি। দৃশ্যত নির্দোষ অনুষ্ঠানেরও পৌত্তলিক শিকড় থাকতে পারে। পূর্বকালে মানুষ ভূতপ্রেতকে পেত, বিশেষভাবে তাদের জন্মদিনে। একটি প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, মন্দ প্রেরণা একজন ব্যক্তির জন্য অধিক বিপজ্জনক যখন কেউ প্রাত্যহিক জীবনে একটি পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। যেমন জন্মদিনে বা একটি বছরের শুরুতে। কাজেই সে ব্যক্তির পরিবার ও চার পাশের বন্ধুবান্ধব হাসি-আনন্দের মাধ্যমে জন্মদিনে তাকে মন্দ থেকে রক্ষা করত, যাতে তার কোনো ক্ষতি না হয়। কী করে একজন সচেতন মানুষ ভাবতে পারে ইসলাম অনৈসলামিক ধারণা এবং বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত অযৌক্তিক আচার অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উদাসীন থাকবে?

এটি একটি বিশাল ট্র্যাজেডি যে মিডিয়ার মাধ্যমে নিত্যবাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক অপপ্রচারে মুসলমানেরা ভালোবাসা দিবস (Valentine day) হেলোইন (Halloween) এবং এমনকি সান্তাক্লজকেও (Sant claus) আলিঙ্গন করে নেয়।’’ (ইম্প্যাক্ট ইন্টারন্যাশনাল, লন্ডন, মার্চ ২০০১।

ভালোবাসা প্রকাশের জন্য অথবা ভালোবাসবার জন্য পৃথক কোন দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। হৃদয়ঘটিত দুর্নিবার আকর্ষণে মনে মিলন ঘটে চলেছে সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে। প্রেম-ভালোবাসা স্রষ্টার অপার রহস্যময় সৃষ্টিক আকর্ষণ। পৃথিবীর কোন বাঁধায় প্রেম পরাস্ত হয় না। কবিতার ভাষায় বলা যেতে পারে- ‘যাকে ভালোবাসি তুলনা খুঁজিনা তাঁর বিশ্বময় সৌন্দর্যে/উপমা অলঙ্করণে, অথবা অবাক মুগ্ধকর অনিবার্য আকর্ষণে।/ অস্তিত্বে, রক্তকণিকায় মিশে আছে সে/ তাঁকে ভালোবাসি নিঃশর্ত আবেশে,/তবু সে বুঝে নাতো হায়, ভালোবাসিবারে/ আছে কীযে দায়!’ ভালোবাসা এমনই নির্মোহ দুর্নিবার চুম্বকাকর্ষণ। ভালোবাসা- নির্ভরতা, আস্থা, বিশ্বাস।

আমাদের করণীয়

এই হল ভ্যালেন্টাইন বা ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস। এ রকম একটি পৌত্তলিকতা ও কুসংস্কারভিত্তিক অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মতো একটি দেশে, যেখানে জনগণের শতকরা ৯০জন মুসলমান সেখানে কিভাবে পালিত হতে পারে? ইসলাম আমাদের প্রকৃত ও অকৃত্রিম ভালোবাসাই শিক্ষা দেয়, যা এ ধরনের অনুষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না। আমাদের দেশে এটি বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশা এবং ব্যভিচারের একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। এটি মুসলমানদের এবং বাংলাদেশীদের সংস্কৃতির অংশ নয়। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির এমন কোনো অংশই, যা অশ্লীল এবং অশালীন, আমাদের দেশে অনুমোদন করা উচিত নয়। উপরন্তু বর্তমানের কর্পোরেট দুনিয়া লাগামহীন বিত্তের পেছনে ছুটছে। যে কাজে অর্থ উৎপাদন হবে, সেটাই তাদের কাছে পূজনীয়। সে কাজকেই তারা বাণিজ্য ও পণ্য বাজারজাতের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। কখনো বিনোদনের নামে পণের বিজ্ঞাপন দেয়, কখনো সংস্কৃতির নামে। কিন্তু সবকিছুর মূলে থাকে বাণিজ্য। এই যে বিভিন্ন ধরনের খেলা, ক্রিকেট, ফুটবলÑ আরও যত খেলা আছে; এগুলো দ্বারা পণ্য বাজারজাত করা মূল উদ্দেশ্য। ধরুন, কোমল পানীয়ের কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা বিজ্ঞাপনের পেছনে খরচ করছে। এ টাকা সেখানে খরচ না করলে মানুষ পণ্য চিনবে না।

ভালোবাসা দিবস বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন'সডে (সক্ষেপে ভ্যালেন্টাইন'স ডে) একটি বার্ষিক উৎসবের দিন যা ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রেম এবং অনুরাগের মধ্যে উদযাপিত করা হয়। এই দিনে মানুষ তার ভালোবাসার মানুষকে ফুল, চিঠি, কার্ড, গহনা প্রভৃতি উপহার প্রদান করে দিনটি উদ্‌যাপন করে থাকে। ২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন'স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন'স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন' দিবস ঘোষণা করেন।

ভালবাসা অবশ্যই একদিনের জন্যে নয়, তা সারা জীবনের। ব্যক্তিগতভাবে যদিও 'ভ্যালেন্টাইন ডে' উদযাপন পছন্দ করিনা I

ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোন দিনের প্রয়োজন নেই !

আমি ৩৬৫ দিনই ভালোবাসার পক্ষে! কান্না, অভিমান, দুঃখ, ভুল বুঝাবুঝি--- এসব কিছুর শেষেও ভালোবাসা থাকবে আমি তাই চাই! হোক তা বছরের যে কোন দিন--- ১লা জানুয়ারি, কিংবা ৭ই মে, অথবা ২৯ ডিসেম্বর! why only 14th feb?? cmon!! বাকি ৩৬৪ দিন কি তাহলে?? আম্মু আব্বু, ফ্যামিলি, ফ্রেন্ডস , আর সেই বিশেষ কাউকে প্রতি সেকেন্ডে, প্রতি beat এ feel করাই আমার কাছে বেশি আনন্দের। কাজেই এক বিশেষ দিবসেই কেন আমাকে ভাবতে হবে--- 'প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস–তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ'' !! আমি আমার সর্বনাশ ৩৬৪ দিনই ঐ চোখে দেখতে চাই!!

আমাদের দেশে নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হয় ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন। সাংবাদিক শফিক রেহমান ১৯৯৩ সালে তার সাপ্তাহিক ’যায়যায় দিন’ পত্রিকার মাধ্যমে তথাকথিত ভালোবাসা দিবসের আনুষ্ঠানিক আলোকপাত করেন এবং সেই থেকে বাংলাদেশে দিবসটির ব্যপকত্বের সূচনা হয়।

ফেব্রুয়ারী মাস আমাদের ভাষার মাস। যে জাতি উর্দুর আগ্রাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য লড়াই করেছে, মায়ের ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে নিজেদের সংস্কৃতিকে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই জাতি আজ নিজেদের জাতিসত্তার ইতিহাসকে ভুলে গিয়ে ভিনদেশী নোংরা সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে। ভালোবাসার জন্য আলাদা একটি দিন পালন করা কি অতীব জরুরি? দিনক্ষণ নির্ধারন করেই কি আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন বা আপনজনদেরকে ভালোবাসতে হবে? ভালোবাসা তো প্রাণের সম্পদ। এটাকে বিশেষ একটি দিনের গন্ডিতে নিয়ে আসা কতটুকু যৌক্তিক? আমাদের প্রত্যেকের জন্ম হয়েছে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। তাই বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে ঢাক ঢোল পিটিয়ে এই রকম একটি দিবস পালন করার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করিনা।

মানুষ আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। শরীর, মন ও আত্মা নিয়ে মানুষ। মানুষের এইসব উপাদান নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে তবুও মানব রহস্যের অনেক কিছুই অজানা। মানুষ যেসব বিষয় নিয়ে চর্চা করে তার একটি হলো ভালোবাসা। দুনিয়াতে সবচেয়ে সুন্দর ও মধুময় সম্পর্কের নাম ভালোবাসা। ভালোবাসা কোনো একদিনের বিষয় নয়, এটা চিরকালের ব্যাপার। ভালোবাসাকে বিশেষ একটি দিনে ঘটা করে পালন করার সংস্কৃতি চালু করার কোনো মানে হয় না। কারণ ভালোবাসা শব্দটি পৃথিবীর কোন দার্শনিক, কবি কিংবা পন্ডিত আবিষ্কার করেননি। যিনি আবিষ্কার করেছেন তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহতায়ালা। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে আমাদের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। অথচ আমাদের এই নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ভিনদেশীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনের শিকার। এ অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে না পারলে আগামী দিনে আরো ভয়াবহতা নেমে আসবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাবো, কোনো রাষ্ট্রে সামরিক আগ্রাসন চালানোর আগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হতো। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরুতেই বিদেশী শক্তি সে দেশের জনগণের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে দুর্বল করে দিত যাতে করে সামরিক আগ্রাসন চালানো সহজ হয়ে যায়। ভারতবর্ষের ইতিহাসেও আমরা তা দেখতে পাই। মাছের পচন যেমন শুরু হয় মাথা থেকে, ঠিক তেমনি একটি দেশ বা জাতির পচন শুরু হয় তার সংস্কৃতি থেকে। ভ্যালেন্টাইন ‘ডে’র ইতিহাস যদি মুসলমানের সন্তানেরা জানতো তাহলে এরকম ভালোবাসা দিবসের আয়োজনকে থুথু নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ করতো। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তারা আজ ভ্যালেন্টাইনের নোংরা সংস্কৃতিতে গা ভাসিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আমাদের দেশে এই বাণিজ্যিক ভালোবাসার সংস্কৃতি আমদানি করেছিলেন সাংবাদিক শফিক রহমান।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। এ দেশে মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমান। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম হওয়ার কারনে এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে ইসলামী তথা মুসলিম সংস্কৃতির মেলবন্ধন সেই সুদীর্ঘ কাল থেকে। আর বাঙালি হিসেবে আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সংস্কৃতির এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এদেশের গণমানুষের সাহিত্য, সংগীত, উৎসব, পোষাক, ভোজনরীতি ইত্যাদির আলাদা আলাদ রূপ বিরাজমান। যা আমাদের বাঙালি স্বকীয়তাকে বহন করে চলছে। তদুপরি আমরা অনুকরণ প্রিয় জাতি হিসেবে ভিনদেশী অনেক সংস্কৃতি কাল-পরিক্রমায় বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি দোষের কিছু নয় কেননা পৃথিবীতে কোন সংস্কৃতিই ইউনিক নয়। কালের বিবর্তনে সমযের পরিক্রমায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতির জগতকে সমৃদ্ধ করে অন্যের সংস্কৃতি দিয়ে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন বাচ-বিচার না করে নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে কোন বিষয়কে নিজেদের সংস্কৃতিতে একীভূত করে নিই। আবহমান বাংলার চিরায়িত সংস্কৃতি ও স্বকীয়তার বিকাশকে বিনষ্ট করতে পরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে বহু আগে থেকেই। সাম্রাজ্যবাদী কিংবা মিশনারী আদিপত্যবাদীরা নানান ছলে আমাদের সমাজে তাদের সংস্কৃতির জাল বিস্তার করছে। কেউ আবার তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এভাবে আমরা নিত্য প্রভাবিত হচ্ছি কোন না কোন বিজাতীয় অপসংস্কৃতির।

বর্তমানে প্রচলিত ভ্যালেন্টাইন ডে এমন একটি সংস্কৃতি যার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বা অনুসঙ্গ কোন ভাবে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি কিংবা মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি আমাদের জন্য কোন সুন্দর ও হিতকর ফলাফলও বয়ে আনবেনা। অথচ আজ বাংলাদেশের তরুন-তরুনী থেকে শুরু করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ভ্যালেন্টাইন সংস্কৃতিতে পাগলপারা। শুধু যে তরুন সমাজ এতে মত্ত তা কিন্তু নয় আমাদের সমাজে যারা ’সুশীল’ নামে পরিচিত তারা সহ সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রায় সকলে এই দিনকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখা যায়। দিনটি উপলক্ষ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় থাকে বিশেষ আয়োজন। বিশেষ করে আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেল গুলোতে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। রাজধানী ঢাকা সহ অনেক জায়গায় দিনটি উপলক্ষে বিশেষ র‌্যালী, কনসার্ট সহ বিভিন্ন আয়োজন থাকে যেখানে খরচ হয় বিরাট অংকের টাকা।

যে দেশে এখনো লক্ষ মানুষ বাসস্থানের অভাবে রাস্তার ধারে, রেল ষ্টেসনে রাত কাটায়, মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হাজারো মানুষ দুমুঠো অন্নের তাগিদে ময়লার স্তুপ থেকে উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে সেই দেশে এই অনৈতিক ও অপসংস্কৃতির চর্চা করে লক্ষ লক্ষ টাকার অপচয় করার যৌক্তিকতা কতটুকু তা আমাদের ভাবা উচিত। একদিকে আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা কিংবা ইভটিজিং রোধের কথা বলবো আর অন্যদিকে ভ্যালেন্টাইন ডে কিংবা থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপনের নামে নারী-পুরুষের অবাধ ও অনৈতিক মেলামেশার সুযোগ করে দিব তা তো হতে পারেনা।

সংস্কৃতি সময়ের হাত ধরে তার জায়গা করে নেবে দেশ-কালের দেয়াল ভেঙ্গে কিন্তু যে সংস্কৃতি আমরা গ্রহণ করছি তা আমাদেরকে কতটুকু মানবিক করে তুলছে ভেবে দেখা জরুরি। সংস্কৃতি যদি আমাদেরকে মানবিকতার পরিবর্তে অশ্লীলতা বা অনৈতিকতা শিক্ষা দেয় তাহলে সেই সংস্কৃতি বর্জন করা-ই বাঞ্ছনীয়।

সত্যিকার অর্থে ভ্যালেনটাইনস ডে একটি প্রতিবাদ বা শোক দিবসের নাম হওয়া উচিত ছিলো। তা না হয়ে এটি হয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বিবাহ করা প্রত্যেক মানব সন্তানের মৌলিক অধিকার। সে বিবাহ করার অপরাধে যদি কাউকে মৃত্যুদÐ দেয়া হয় তাহলে এর চেয়ে বড় অবিচার আর কি হতে পারে? তার চেয়ে বেশি মনে কষ্ট দেয় যখন বিবাহের এই সার্বজনীন অধিকার ও কর্তব্য পালনের ঘটনাটি অবলম্বন করে তার ঠিক বিপরীত কাজটি অর্থাৎ বিবাহ বহির্ভূত নারী-পুরুষের মিলনকে উৎসাহিত করার জন্য নোংরামিকে জাগিয়ে তোলা হয়। আর এই সুযোগে কিছু বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ী তাদের পণ্যের প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে চ্যানেলগুলোতে অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে আমাদের দৃষ্টির সামনে অশ্লীলতার পসরা তুলে ধরে।
আমাদের ভেবে দেখা প্রয়োজন বিশ্বভালোবাসা দিবস উদযাপন করলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কোনো উপকার হবে কি না? যদি না-ই হয়ে থাকে তাহলে কেন ভিনদেশীয় সংস্কৃতির জোয়ারে আমরা গা ভাসিয়ে দিচ্ছি? দিন ক্ষণ ঠিক করে আমাদের বাবা-মা, ভাই-বোনদের কেন ভালোবাসতে হবে? আমার জন্ম তো হয়েছে ভালোবাসার পরশ দিয়ে। জন্মের শুরুতেই আমরা বাবা-মাকে ভালোবেসে বড় হয়েছি। আমাদের মায়েরা শত কষ্ট সহ্য করে ভালোবাসার পরশ দিয়ে আমাদের মানুষ করেন। ভালোবাসা তো আমাদের প্রাণের সম্পদ। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে দিন সূর্যটা অধিক নিকটবর্তী হয়ে যাবে, আল্লাহর আরশের নিচে আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষ আরশের ছায়ার নিচে স্থান পাবে। তার মধ্যে ঐ দুই ব্যক্তি থাকবে যারা আল্লাহর সন্তুুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবেসেছিলো।’ আমাদের ইতিহাস ভুলে গিয়ে আমরা ভিনদেশীয় সংস্কৃতি উদযাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। বিশ্ব ভালোবাসার নামে যে, বেহায়াপনা-অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ছে তরুণ-তরুণীরা তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এমনিতেই আমাদের তরুণ-তরুণীদের অপসংস্কৃতির হাত থেকে রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তারপর আবার নতুন নতুন দিবস পালনের নামে নোংরামির পথকে প্রসারিত করতে দেয়া মোটেও সুখকর নয়। ভালোবাসা দিবস আমাদের সংস্কৃতি না হলেও মিডিয়ার বদলৌতে সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়েছে। মিডিয়াগুলো ভালোবাসা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠন প্রচার করে দেশীয় সংস্কৃতিকে আরো পিছনে ঠেলে দিচ্ছে। যারা ইসলামী মূল্যবোধের কথা শুনলেই নাক ছিটকান তাদের কাছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের গুরুত্ব থাকতে পারে। কিন্তু বিবেকমান মুসলমানের বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের প্রতি বিন্দু মাত্র আগ্রহ থাকা উচিত নয়। সমাজের বিবেকমান মানুষের বিবেকের কাছে বিনীত প্রশ্ন করতে চাই, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের মাধ্যমে আমরা কি নারী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণের মতো ঘৃন্যতম কাজ থেকে আমাদের তরুণীদের রক্ষা করতে পেরেছি? যে দেশের চলন্ত বাসে নারীরা ধর্ষিতা হয় সেদেশের জনগণের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস মোটেও সুখের বার্তা বহন করে নিয়ে আসবে না। ভালোবাসা দিবসের ফলে সমাজে অসামাজিকতা, অনৈতিকতা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নগ্নতা ও অবৈধ যৌনতার প্রতি আসক্তি বাড়ছে। মানবিক, নৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ মারাত্মক হ্রাস পাচ্ছে। ভালোবাসার দিবসে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহর, পার্ক, রেস্তোরাঁ, ভার্সিটির করিডোর, টিএসসি, ওয়াটার ফ্রন্ট, ঢাবির চারুকলার বকুলতলা, আশুলিয়া, পাঁচ তারকা হোটেলগুলোর হল রুম সর্বত্র প্রেমিক-প্রেমিকার অশ্লীল ভালোবাসার নোংরামিতে জয়জয়কার। একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে নিয়মিত মার্কেটিং করে যুবসমাজের মধ্যে এই ব্যভিচারের প্রসার বাড়াচ্ছে। অবিলম্বে পারিবারিক মূল্যবোধ সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী এই অশ্লীল ভ্যালেন্টাইনস ডে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।


সিরিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশের কড়া শাস্তি পেলো ইসরাইল।আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

ইসরাইলের এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমান চিবিয়ে ছোবরা করে দিলো সিরিয়ার আসাদ বাহিনী!এই “রাক্ষস-খেকো” খবরটি  দিলো  সংবাদ মাধ্যম।শোনেছিলাম রাক্ষসে মানুষ খেয়ে ফেলছে।দেখছি,রাক্ষসদেরও এক থাবায় খেয়ে ফেলার শক্তি অর্জন করেছে ছোট্টরা।এহলো পরিবর্তনের খবর।আমেরিকান বিশ্লেষকরা বলছেন,এটি ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যনীতির কপালে প্রতিরোধের আঙুলের নিশানা।   
শনিবার সিরিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশ করলে ইজরাইলি এফ-সিক্সটিনটির গুঁড়িয়ে দেয় সিরিয়ার বিমানবাহিনী।ইসরাইলি পাইলট দুজনের অবস্থা আশংকাজনক।তবে এখনো চিকিৎসাধীনে আছেন।খবর পেয়ে ইসরাইল আরো বেশী ফায়ার ওপেন করে।সিরিয়ার বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা করে।সিরিয়াকে আক্রমন করলে আক্রমণ হয় রাশিয়াকে,আক্রমণ হয় চীন-ইরান এবং ইরাক, লেবানন,ফিলিস্তিন এবং ইয়েমেনকে।তাই,সিরিয়ার পক্ষে সমর্থনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির খবর জানাচ্ছে মিত্ররা। এতে শিয়া-সুন্নী বিভেদের নেকাব ফেলে দেয়ার নয়া চেহারার উত্থান আসছে।  
এই উত্তেজনার মধ্যে নেতানিয়াহুকে টেলোফোন করেন বিশ্বনেতা পুটিন।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হয় এমন যেকোন পদক্ষেপ যেনো ইসরাইল না নেয়।এই অনুরোধ তিনি করেছেন। ১০ফেব্রুয়ারী শনিবারের এই ফোনালাপ ইসরাইলের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,“সিরিয়ার বিভিন্ন অবস্থানে ইসরাইলী বিমানবাহিনীর ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ যে হয়েছে সে সম্পর্কে পুতিন-নেতানিয়াহু কথা বলেছেন।টেলিফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভয়াবহ সংঘাত যেতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়”।  
 
বাস্তবতা হচ্ছে আমেরিকা জোর করে সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি করতে দখল নিচ্ছে।যে কারণে সিরিয়াতে প্রেসিডেণ্ট বাশারকে উৎখাতে ব্যর্থ হয়েও মার্কিণ সেনারা ফেরত আসেনি।অবস্থান নিয়ে রেখেছে সিরিয়ায়।কেবল তা নয়।তুরস্কের সীমান্তে অনুগত সন্ত্রাসীবাহিনী লেলিয়েছে এই যুদ্ধের প্রয়োজনে।

অতর্কিতে ৭ইফেব্রুয়ারী রাতে সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর উপর হামলা করে শতাধিক হত্যা করার পর নতুন করে সামরিক হামলা বাড়ানোর পথে অগ্রসর হচ্ছে হোয়াইট হাউস।ইজরাইলের এফ-সিক্সটিন যুদ্ধ বিমান সিরিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশ করানো এবং ইসরাইলের ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপের মধ্যে এই উস্কানীরই ইঙ্গিত আছে মনে করা  যায়।আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের সাথে ফ্রান্স যুক্ত থাকার কথা আলাপ হচ্ছে কূটনৈতিক মহলে। রাশিয়া এই ক্ষেত্রে সংযত অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ এড়ানোর কূটনৈতিক পথ নিয়েছে।      
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাট্টিসের কড়া আপত্তির মুখে ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতা প্রকাশ্যে এসে যায়।তবে মুখ রক্ষার একটা সুযোগ তজ্জন্য দরকার।ও সামান্য সুযোগ যেনো এখন উঁকি দিলো। নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধোম্মাদ গোষ্ঠীটির জন্যেই যেনো সিরিয়ায় এই নয়া উত্তেজনা।কোন বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক ছাড়াই এই সব আক্রমণ।বিগত পরাজয়ের প্রতিশোধের ছায়া রয়েছে এতে।তা ছাড়া ইজরাইলের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চুরিদারির অভিযোগে বেকায়দায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নিজের গুরুত্ব দেখানোর সর্বশেষ ধাপে অঘটনের ঘটনাকে তার অবলম্বন করতেই পারেন।   

ইসরাইলে নেতানিয়াহুকে মন্ত্রীপরিষদ সহ পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রীকে তার স্ত্রীসহ গ্রেফতার করার দাবিতে চলমান লাগাতার বিক্ষোভ সোয়া দুই মাসে পৌঁচেছে।এই পরিস্থিতিতে গদি রক্ষা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্যেই সিরিয়ার উপর বলপ্রয়োগের বাড়াবাড়ি বলে ধরে নিয়েছেন বিশ্লেষকরা।    

ওয়াশিংটন পোষ্ট তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে,২০১৭সালের মে মাসে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আয়োজনের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা পেশ করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসকে আদেশ দিলে মিঃ জিম তা প্রত্যাখ্যান করেন তাস্র সামরিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। ট্রাম্প কোন চিন্তাভাবনা না করেই তাৎক্ষণিকভাবে যা মনে আসে সে নির্দ্দেশই  দিয়ে দেন বলে ম্যাট্টিসের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোষ্ট প্রতিবেদন করে।
 
তবে ফিলিস্তিনের হামাস বরাবরের মতো শক্ত অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সিরিয়ার সমর্থনে।বার্তা সংস্থা কুদস প্রেস ইন্টার ন্যাশানালকে দেয়া বক্তব্যে হামাস মেতৃবৃন্দ বলেছেন,“আমরা নিশ্চিত করছি যে,ইসরাইলে শত্রুতার ও  আগ্রাসনের যে সাহসী জবাব সিরিয়া দিয়েছে আমরা তার প্রশংসা করি এবং ফিলিস্তিনের জনগণ ও হামাস অবশ্যই সিরিয়ার পক্ষে দাঁড়াবো”। হামাসের সামরিক শাখা  ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডআরেকটি বিবৃতি দিয়েছ।তারা বলেছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার মোকাবেলার জন্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেয়া হয়েছে।মজুখপাত্র আবু ওবায়দা জানিয়েছে সিরিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি।  
গোলানে দায়েশদের এবং আফরিনে অপর সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে গিয়ে ইজরাইল এবং আমেরিকা যে সিগনাল পেয়েছে তাতে তারা সিরিয়ার সাথে আগের ধারায় বেয়াদবি করা স্থগিত রাখতে পারে।ওরা হয়তো ভাবতেই পারেনি এফ-সিক্সটিনকে উলটাপালটা করে দেবার যোগ্যতা সিরিয়ার থাকতে পারে।নিতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের বাহিনীকে কৌশল পাল্টাতেই হবে।নতুবা ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ খবর হতে পারে।

রাশিয়া-চীন-ইরান-তুরস্ক-সিরিয়ার মিত্রতার কথা নতুন নয়।সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ফেলার পর সোভিয়েত রাশিয়াকে সম্পুর্ণ বিকলাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি।ইজরাইলের হয়ে ভাড়াটিয়া খাটতে ট্রাম্প এর চদেয়ে বাড়াবাড়ি কেন করতে যাবে?এতে আমেরিকার জন্যে ঝুঁকি বাড়ছে নিজেদের বৈদেশিক স্থায়ী শত্রুদের শক্তি বাড়িয়ে দেবার বাস্তবতায়। চীন নিজের প্রতিরক্ষার জন্যে শক্তির ইতিহাসের যে ঈর্ষণীয় সফলতা অর্জন করেছে তা তা আমেরিকাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে।চীন এবং রাশিয়া সিরিয়া হারাতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারকে উদাসীন থেকে কেবল চেয়ে চেয়ে দেখবে মনে করার কোন কারণ নেই।
    
আমেরিকান শক্তিশালী এফ-৩৫ মোকাবেলার ব্যবস্থা হাতের মুঠোয় এখন চীনের। রাশিয়ায় সহযোগীতা এতে রয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন আভাসে ইঙ্গিতে। এই আবিস্কার হচ্ছে জে-২০ ষ্টিলথ। আমেরিকার পঞ্চম প্রজন্মের বিমান গুলোর জবাবে গড়া হয়েছে এই নয়া শক্তিরাজ।আমেরিকান এফ ২২ এবং এফ ৩৫কে মনে করা হয় শ্রেষ্ঠ স্মার্ট শক্তি। ওগুলোর অপারেশন স্তব্ধ করে দিতেই চীনের এই নয়া উদ্ভাবন।প্রেসিডেণ্ট পুটিন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ফোন করে যে সতর্ক করেছেন তা কেবল একটি ঘটনাকে ঘিরে নয়,আর যাতে সামনে না যায় সে বিষয়ে আমেরিকা এবং ইজরাইল উভয়ের জন্যে তা মঙ্গলের বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি করা হলে সেই যুদ্ধে অনেকেই জড়িয়ে পড়বে।
যাহোক,সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণলয় জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তাপরিষদের প্রধানের কাছে ইজরাইলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে।সিরিয়ার বাহিনী ইজরাইলে কোন আঘাত হানতে চায়নি।এমতাবস্থায় ইজরাইল ও আমেরিকা কে যুদ্ধাপরাধী বলে  অভিযোগ করছে সিরিয়া।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থেমেছে বলা যায়না।দখলের জোর প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধনক্সা আকস্মিক কোন ঘটনা নয়,যা নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তিতে সমাধান সন্ধান করা যেতে পারে।ওখানে যুদ্ধ এবং তার প্রতিরোধ,শত্রুতা এবং দালালির দীর্ঘ ইতিহাস ঐতিহ্যকে এড়িয়ে সমাধানের কোন হিসেব যুক্তির কিনারা পাবেনা।শক্তির বিপরীতে শক্তির সাথে কৌশলের সাথে বিশ্বজনমতের সমর্থনের একটা বাস্তব গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে।


রায়ের আগেই খালেদাকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ও ‘কুখ্যাত’ হিসেবে চিহ্নিত করল বিএনপি

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

স্বদেশ রায় : বিএনপিতে অনেক সিনিয়র আইনজীবী আছেন। তাদের অনেকেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার প্রমুখ। এ ছাড়াও যিনি দীর্ঘদিন মামলাটি পরিচালনা করেছেন, আবদুর রেজ্জাক খান, তিনিও বিজ্ঞ আইনজীবী। বিএনপির বর্তমান আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, এই বিজ্ঞ আইনজীবীরাই মামলার মেরিট দেখে বুঝতে পেরেছেন, এ মামলায় বেগম জিয়ার সাজা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার এই বিজ্ঞ আইনজীবীগণ খালেদার পক্ষে যে কোন ভাল গ্রাউন্ড পাননি তার প্রমাণ মিলেছে ৭১ টেলিভিশনের একটি নিউজে। তরুণ প্রজন্মের শক্তিশালী রিপোর্টার ফারজানা রূপার এই রিপোর্টটিই বিজ্ঞ আইনজীবীদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে দিয়েছে। ফারজানা রূপা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও খুবই ভাল আইনজীবী হিসেবে পরিচিত মাহবুব উদ্দিন খোকনের কাছে জানতে চান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ঠিকানা কোথায়? জনাব মাহবুব অত্যন্ত সদালাপী ও খুবই উৎফুল্ল মানুষ হিসেবে কোর্ট প্রাঙ্গণে পরিচিত ও জনপ্রিয়। তিনি ফারজানা রূপার এ প্রশ্নে বিব্রত হয়ে অনেকটা সঙ্কুুচিত মুখে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের লার্নেড সিনিয়রদের একটি প্যানেল আছে, তারা বলতে পারবেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এতিমখানা তো হয়নি। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত রাগত স্বরে বলেন, ঠিকানার জন্য এত ওয়ারিড হচ্ছেন কেন? আর বিএনপি নেতা আবদুল্লা আল নোমান একেবারে অসহায় মুখে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তার পরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, ঠিকানাটা আমার জানা নেই।

যে সকল বিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে ফারজানা রূপা কথা বলেছেন, এই বিজ্ঞ আইনজীবীরা কোনরূপ গ্রাউন্ডওয়ার্ক না করে মামলা করবেন তা কখনও হতে পারে না। তবে এই সব মামলার রিপোর্ট এডিট করতে বসে আমাদের মতো আইনের বাইরের লোকদের সামনেও দুটো বিষয় পরিষ্কার হয়। এক. কোন আইনজীবী খুবই কোর লিগ্যাল পয়েন্টে বক্তব্য রাখছেন। দুই. কোন আইনজীবী পল্টনের ময়দানের বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন বা প্রতিপক্ষের যুক্তি খ-ন না করে তথাকথিত রাজনৈতিক বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন। যেমন, যখন ষোড়শ সংশোধনীর মামলা চলছিল তখন খুবই ডিটেলইস রিপোর্ট করা হয় জনকণ্ঠে। রিপোর্টার আরাফাত মুন্নাকে নির্দেশই দিয়ে রেখেছিলাম তুমি সবার বক্তব্য টেপ করে হুবহু লিখবে। তারপরে কতটুকু ছাপা হবে সেটা পরের বিষয়। ওই ডিটেইলস রিপোর্ট পড়তে পড়তে অনেক সময় জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক তোয়াব খান ভাইকে বলেছি, কেন যেন মনে হচ্ছে আমাদের বিজ্ঞ এ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য পল্টনের রাজনৈতিক বক্তব্য হচ্ছে। তিনি প্রতিপক্ষের হাল্কা যুক্তিগুলোও খ-ন করছেন না। ঠিক তেমনিভাবে এখানে মওদুদ আহমদসহ বিজ্ঞ আইনজীবীদের বক্তব্যগুলো যখন এডিট করেছি, তখন পড়তে পড়তে সেগুলোকে আইনী বক্তব্যের থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য মনে হয়েছে বেশি- যা তাঁরা প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধনে বলেন। বিশেষ করে মওদুদ আহমদের বক্তব্যকে তো শতভাগ রাজনৈতিক বক্তব্যই মনে হয়। বিএনপির অন্য সিনিয়র আইনজীবীদেরও বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা। দুর্নীতির বিষয়টি খ-নের চেষ্টা থেকে তাঁরা বেশি জোর দিয়েছিলেন রাজনৈতিক বিষয়ে। কেন তাঁরা এমনটি করেন সেটা তাঁরাই ভাল বলতে পারবেন। তবে এখন বিএনপি নেতাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তাঁদের সকল বিজ্ঞ আইনজীবী মামলার মেরিট দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন- এখানে প্রকৃত অর্থে দুর্নীতি করা হয়েছে। তাই রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। এ কারণেই তাঁরা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে কোর্ট থেকেই রাজনীতিটা শুরু করেন।

Picture

এখন তারা মামলার রায় প্রভাবিত করার জন্য ইতোমধ্যে দুটো কাজ করেছেন। এক, তারা নানান বক্তব্য ও বিবৃতিতে বলছেন, মামলার রায় তাদের বিপক্ষে গেলে তারা রাজপথে নামবেন। এমনকি তাদের অঙ্গ সংগঠন নিয়ে তারা সেভাবে মিটিংও করছেন। সেই মিটিংয়ের ঘোষণাপত্র পত্রিকায় আসছে। অর্থাৎ, তারা বিচার বিভাগকে রাজপথের হুমকি দেখাচ্ছেন। ষোড়শ সংশোধনী মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি অবাঞ্ছিত, জাতীয় চেতনা ও স্বাধীনতাবিরোধী কথা লিখলে তা নিয়ে যখন পার্লামেন্টে আলোচনা হয়, তখন তারা বলেছিলেন, এই আলোচনা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ। পার্লামেন্ট সার্বভৌম। পার্লামেন্টই আইন তৈরি করে। পার্লামেন্টই বিচার বিভাগের কাঠামো দেয়। তার পরেও তাঁরা সেদিন এ কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে এখন তারা একটি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার আগেই কেমন রায় হলে তারা মানবেন, কেমন রায় হলে মানবেন না- এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। এগুলো কি বিচার বিভাগতে প্রভাবিত করা নয়? সর্বোপরি, বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য তাদের পার্টির থেকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদের পার্টির নেতা নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে এসেছেন, বেগম জিয়ার সাজা হলে তারা নির্বাচনে যাবেন না। নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ পক্ষান্তরে বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ। নির্বাচন কমিশনকে এই কথা বলার পরে এখন তারা বিদেশী কূটনীতিকদের বলবেন, বেগম জিয়ার সাজা হলে তারা নির্বাচনে যাবেন না।

শুধু এখানেই শেষ নয়, বিএনপির বিজ্ঞ আইনজীবীরা বিএনপিকে বেগম জিয়ার সাজার বিষয়ে এতটাই নিশ্চিত করেছেন যে, তারা তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা ইতোমধ্যে বদল করেছেন যা ইতোমধ্যে মিডিয়ায় এসেছে। যেখানে বলা আছে, ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোন পর্যায়ের যে কোন নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তারা হলেন : (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮ এর বলে দ-িত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ ও কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।’ এই ধারা বাদ দিয়ে গত ২৮ তারিখ তাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেন। অবশ্য একটি সূত্র থেকে সর্বশেষ যে সংবাদ পেয়েছি- সেখানে দেখা যাচ্ছে বিএনপি ভিন্ন কিছু পরিবর্তন করেছে। তবে সেটাও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

যা হোক, তাদের এই দলের গঠনতন্ত্র বদলের বিষয়ে দলীয় যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত তাদের দুই বছর আগে হয়েছিল। তবে অন্য কয়েক নেতা টেলিভিশনে বলেছেন, সরকার তাদের দল ভাঙ্গার চেষ্টা করছে বলে তারা এ কাজটি করেছে। অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে বলা হয়েছে- ‘বিএনপি দল ভাঙ্গার চেষ্টায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে- এই আশঙ্কায় গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দিয়েছে বিএনপি।… বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, তাদের কাছে তথ্য আছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে ভাঙতে সরকারের একটি মহল থেকে চেষ্টা ও তৎপরতা চালানো হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর এই তৎপরতা গতি পেতে পারে। এই মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাজা হলে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ব্যক্তি দলের সদস্যপদের অযোগ্য হবেন বলে যে কথাটি গঠনতন্ত্রে আছে, তা সামনে এনে একটি মহল বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য দলের একটা অংশকে ব্যবহার করতে পারে।’

রায়ের আগেই বিএনপির এই গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, বিএনপির বিজ্ঞ আইনজীবীরা তাদের নিশ্চিত করেছেন, এই মামলায় বেগম জিয়ার দুর্নীতি স্পষ্ট। এখানে সাজা হবেই। আর তাদের আইনজীবীদের কাছ থেকে বিএনপি এতটাই নিশ্চিত হয়েছে যে, তারা দলের গঠনতন্ত্র বেগম জিয়ার সাজা হওয়ার আগেই পরিবর্তন করলেন। যার ফলে বেগম জিয়ার সাজা হওয়ার আগেই তারা প্রমাণ করলেন, বেগম জিয়া দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি। যিনি সমাজে কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত। তাই মামলার রায়ের পরে যে কথা বিএনপির প্রতিপক্ষ বিএনপিকে বলত সে কথা তারা নিজেরাই তাদের নেত্রীকে কাজের মাধ্যমে বললেন এবং এমনভাবে উপস্থিত করলেন যে, বেগম জিয়াকে তারা নিজেরাই দুর্নীতিপরায়ণ মনে করে। অবশ্য এটা বিএনপির জন্য একটা শুভ লক্ষণ। কারণ, সত্যকে উপলব্ধি না করলে সঠিক রাজনীতি করা যায় না। বেগম জিয়া হাওয়া ভবনের মাধমে দেশে যেভাবে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের কোন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কখনই করেননি। বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সরকার থেকে পদত্যাগ করে বাসে চড়ে কোর্টে যেতেন আইন পেশা চালানোর জন্য। দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সততা, তাঁর ইতিহাস পৃথিবীজোড়া। এ নিয়ে কোন কিছু লেখারও নেই, মন্তব্য করলে তাঁকে বরং ছোট করা হয়। এর পরের প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী। তাঁর সততা ও নিষ্ঠা ইতিহাসের একটি উদাহরণ। এর পরের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার পরে শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক জরিপে শেখ হাসিনা বিশ্বের পাঁচজন সৎ নেতার ভেতর তৃতীয় অবস্থানে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের একমাত্র নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াই দুর্নীতিপরায়ণ। একটা সরকারের প্রধান যখন দুর্নীতিপরায়ণ হয় তখন ওই দেশে কোন ভাল কিছু আশা করা যায় না। তাই দলীয়ভাবে বিএনপি তাকে দুর্নীতিপরায়ণ চিহ্নিত করে শুধু তাদের দল ভাঙ্গা ঠেকাতে যে পথ নিয়েছে অর্থাৎ এখন থেকে যে কোন দুর্নীতিপরায়ণ ও সামাজিকভাবে কুখ্যাত ব্যক্তি বিএনপির সদস্য হতে পারবে। এর ভেতর দিয়েও একটা প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এলো, বাস্তবে সামাজিকভাবে অনেক কুখ্যাতরা এখন বিএনপিতে- নইলে পেট্রোলবোমা মেরে তারা মায়ের পেটের শিশুকেও হত্যা করে কীভাবে? আর ভবিষ্যতে বিএনপি একটি দুর্নীতিবাজ ও কুখ্যাত ব্যক্তিদের ক্লাবে পরিণত হবে।


লন্ডনে বিএন‌পি-অা’লী‌গের জু‌তাবাজি অার জা‌লিয়া‌তির রাজনী‌তি

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

মুন‌জের অাহমদ চৌধুরী : বুধবার লন্ড‌নে বাংলা‌দেশ হাইক‌মিশ‌নে ঢু‌কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমা‌নের ছ‌বি ভাংচুর ক‌রে‌ছে যুক্তরাজ্য বিএন‌পির নেতাকর্মীরা।এর অা‌গে এই হাইক‌মিশ‌নে হামলা হ‌য়ে‌ছিল ১৩ বছর অা‌গে। বুধবার শুধু ভাংচুর করেই থামেনি তারা। জা‌তির জনক, ‌যে মানুষ‌টির হাত ধ‌রে এ‌সে‌ছে বাংলা‌দে‌শের স্বাধীনতা, অামরা পে‌য়ে‌ছি একটা স্বাধীন দেশ সে নেতার ছ‌বি‌টি হাইক‌মিশন ভব‌নের বাই‌রে এ‌নে জু‌তোপেটা ক‌রে তারা।ঐ অসভ্য, অসুস্থ কর্মকা‌ন্ডের ভি‌ডিও অার ছ‌বি তুলে তারা অাপ‌লোড ক‌রে নি‌জে‌দের ফেসবু‌কে।

অা‌মি বি‌স্মিত হই,যারা এ কান্ড‌টি ঘ‌টি‌য়ে‌ছেন তারা কেউ নিরক্ষর নন। তা‌দের সবার প‌রিবার অা‌ছে। তা‌দের অ‌নে‌কে এ‌দে‌শে বহুবছর ধ‌রে অা‌ছেন,সভ্যতা,মানবতা মানবার শপথ নি‌য়ে নি‌য়ে‌ছেন ব্রি‌টিশ পাস‌পোর্ট। এ‌দের ক‌য়েকজন বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের সরোচ্চো ডি‌গ্রিধারী। তারা বাস ক‌রেন ব্রি‌টে‌নের ম‌তো এক‌টি সভ্য রা‌ষ্ট্রে। বেগম খা‌লেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রা‌য়ের অা‌গের দিন ঘটা‌নো হয় এ ঘটনা। অামার খুব জান‌তে ই‌চ্ছে ক‌রে এ ঘটনা ঘ‌টি‌য়ে বিএন‌পির ম‌তো এ‌কটি দল কী রাজ‌নৈ‌তিকভা‌বে অজর্ন করলো ? যারা জু‌তো মারার কী‌র্তি‌টি কর‌লেন, তারা এ ঘটনার মধ্য দি‌য়ে কী বার্তা দি‌তে চাই‌লেন?

দুই.

বৃহস্প‌তিবার দুপুরবেলা অা‌গের দি‌নের বিএন‌পির এ কুকী‌র্তির প্র‌তিবা‌দে বি‌ক্ষোভ সমা‌বেশ ডাকে যুক্তরাজ্য অাওয়ামীলীগ। স্থান সেই বাংলা‌দেশ হাইক‌মিশন চত্বরই। সভার অা‌গেই অাওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা নি‌য়ে অা‌সেন শহীদ রাষ্ট্রপ‌তি জিয়াউর রহমান,খা‌লেদা জিয়া ও তা‌রেক রহমা‌নের ব‌ড়ো অাকৃতির কিছু ফ‌টো। সভা চলাকা‌লে মি‌ডিয়ার সাম‌নেই নেতাকর্মীরা মহান‌ন্দে জু‌তোপেটা কর‌তে থা‌কেন বিএন‌পির এ তিন নেতার ছ‌বি। সেসব উ‌চিত শিক্ষা,অার জু‌তোর জবা‌বে জু‌তো দি‌য়ে দ্যার্হীন(!)

প্র‌তিবা‌দের ছ‌বি অাওয়ামীলী‌গের কিছু নেতা অাপ‌লোডও ক‌রেন নি‌জে‌দের ফেসবু‌কে। ভি‌ডিও‌তে দেখলাম,ঐ সভায় অাওয়ামীলী‌গের একা‌ধিক নেতা নি‌জে‌দের বক্ত‌ব্যে ব‌লে‌ছেন, ‘তা‌রেক রহমা‌নের নি‌র্দে‌শে বিএন‌পি লন্ডন হাইক‌মিশ‌নে হামলা চা‌লি‌য়ে‌ছে’।  অামার ভেত‌রে প্রশ্ন জা‌গে,জু‌তো মারামা‌রির প্র‌তিবা‌দের ধারায় তারা বঙ্গবন্ধু অার তা‌রেক রহমান‌কে কোন কাতা‌রে নামা‌লেন বা উঠা‌লেন?

Picture

‌তিন.

বাংলা‌দে‌শে অাওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাক‌লে এখানকার বিএন‌পির নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী লন্ডন সফ‌রে এ‌লে বি‌ক্ষো‌ভের না‌মে প্রধানমন্ত্রীর গা‌ড়িবহ‌রে জু‌তো ও ডিম ছু‌ড়ে মা‌রেন। অাবার,‌বিএন‌পি ক্ষমতায় থাক‌তে একই কায়দায় কাজ‌টি কর‌তেন অাওয়ামীলী‌গের নেতাকর্মীরা। এই কাজ‌টি‌কে অাবার দু দ‌লের নেতাকর্মীরাই ব‌লেন বি‌ক্ষোভ প্রদর্শন অার প্র‌তিবাদ ! অা‌মি যুক্তরাজ্য অাওয়ামীলীগ অার বিএন‌পির ক‌য়েক সি‌নিওর নেতা‌দের এ ব্যাপা‌রে প্রশ্ন ক‌রে‌ছি। তাদের উত্তর ঐ পরস্প‌রের প্র‌তি দোষা‌দোষী‌তেই সীমাবদ্ধ। অাওয়ামীলী‌গের নেতারা ব‌লেন,অামরা নই,‌বিএন‌পি যুক্তরা‌জ্যে জুতো অার ডিম ছোঁড়াছু‌ড়ির রাজনী‌তি অা‌গে শুরু ক‌রে‌ছে। বিএন‌পি নেতারা ব‌লেন,না অাওয়ামীলীগই অা‌গে শুরু ক‌রে‌ছে।

ইদা‌নিং, নতুন এক ধর‌নের ভন্ডামীবাচক নির‌পেক্ষতার কথা বল‌ছেন ক্ষমতাসীনরা।  সরকা‌রের কোন অন্যায় কা‌জের সমা‌লোচনা কর‌লেই বলা হয়, বিএন‌পি তো ক্ষমতায় থাক‌তে এর‌চে‌য়েও খারাপ কাজ ক‌রে‌ছে।

এমন উত্ত‌রে অা‌মি ভে‌বে পাই না,‌কোন রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের নেতা বা কর্মী কী ক‌রে অতটা নীচতায় ভু‌লের জা‌ষ্টি‌ফি‌কেশন ক‌রেন।

চার.

বাংলা‌দেশ হাইক‌মিশন এ‌দে‌শে বাংলা‌দে‌শের প্র‌তি‌নি‌ধিত্ব ক‌রে,‌ অাওয়ামী‌লীগ বা বিএন‌পির নয়। মা‌নি, যখন যে দল ক্ষমতায় থা‌কে দে‌শে,এখানকার সে দ‌লের নেতা‌দের কথা হাইক‌মিশ‌নের কর্াদের শুন‌তে হয়। বাংলা‌দে‌শেও তো সব সেক্ট‌রে একই বাস্তবতা। ক্ষমতা দল  পাল্টা‌য়,‌ বাস্তবতা ঘু‌রে-‌ফি‌রে একই থা‌কে।

লন্ড‌নে বাংলা‌দেশ দুতাবা‌সে কিন্তু এবারই প্রথম হামলা নয়। প্রায় তে‌রো বছর অা‌গে সা‌বিহ উদ্দীন অাহ‌মেদ যখন লন্ড‌নে বাংলা‌দে‌শের হাইক‌মিশনার তখন হাইক‌মিশ‌নে হামলা চা‌লি‌য়ে‌ছিল তখনকার বাংলা‌দে‌শের বি‌রোধীদল অাওয়ামীলীগ ও তা‌দের সহ‌যোগী সংগঠ‌নের নেতাকর্মীরা।

অা‌মি একজন পরবাসী বাংলা‌দেশী। দেশ ছে‌ড়ে যতদু‌রে যাই বাংলা‌দেশ‌কে ঠিক ততখা‌নি হৃদ‌য়ের মমতায় লালন ক‌রি অন্ত‌রে। একজন বাংলা‌দেশি হি‌সে‌বে এখানকার বিএন‌পি জামাত,অাওয়ামীলীগের রাজনীতি অামা‌কে ল‌জ্জিত ক‌রে। রাজনী‌তির নাম ভাঙ্গি‌য়ে প্রবা‌সের বু‌কে মি‌ডিয়া কাভা‌রেজ পাবার না‌মে এখানকার বি‌বি‌সির প্রধান কার্যালয় তারা ঘেরাও ক‌রেন। উ‌দ্দেশ্য,য‌দি বি‌বি‌সির খব‌রে একটুখা‌নি তা‌দের ছ‌বি অার নামটা ছা‌পে। কিন্ত‌,হায়। বি‌বি‌সি কর্পক্ষ উ‌ল্টো পু‌লিশ ডে‌কে অাপদ তাড়ায়। এখানকার বাংলা‌দেশী রাজনী‌তি‌বি‌দেরা সংবাদ স‌ন্মেলন ক‌রে ঘোষণ দেন তারা বাংলা‌দে‌শের প্রধানমন্ত্রীর বিরু‌দ্ধে অার্ন্তজা‌তিক অাদাল‌তে মামলা ক‌রে‌ছেন। এ বিরল কৃ‌তিত্ব (!) দে‌খি‌য়ে তারা নিজ দ‌লের নেতার কা‌ছে ক্রে‌ডিট নেন,বাহবা কুড়ান,‌মি‌ডিয়ায় কাভা‌রেজ পান। সংবাদ স‌ন্মেল‌নে প‌রিচয় ক‌রি‌য়ে দেন মামলার সং‌শ্লিষ্ট ব্যা‌রিষ্টার‌কেও।

প‌রে খোজঁ নি‌য়ে দেখা যায়,মামলা তো দু‌রের কথা,‌কোন অ‌ভিযোগই নেই হে‌গে অব‌স্থিত অান্তর্জা‌তিক অাদাল‌তে এ না‌মে। জে‌নেভার অার্ন্তজা‌তিক অাদাল‌তের ও‌য়েবসাই‌টে যোগা‌যো‌গের জন্য দেয়া ই-‌মেই‌লে এক‌টি বা‌রো লাই‌নের টাইপ করা চি‌ঠি পা‌ঠি‌য়েই তারা দাবী ক‌রে‌ছেন মামলা করার! অার অার্ন্তজা‌তিক অাদাল‌তের প্যা‌নেল ভুক্ত অাইনজী‌বি ছাড়া কেউ সে অাদাল‌তে মামলা প‌রিচালনাও কর‌তে পা‌রেন না।

এখানকার বাংলা‌দেশি রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের এক শ্রেনীর নেতারা নিয়‌মিতই প‌ত্রিকা অার টিভি চ্যা‌নে‌লের অ‌ফি‌সে হা‌জির হন। ভাই,‌নিউজ ক‌রে দি‌তে হ‌বে। ‘অমুক…ইস্যু‌তে ব্রি‌টিশ প্রধানমন্ত্রী‌কে স্মারকলি‌পি দি‌য়ে অাসলাম’। প‌রে খোজঁ নি‌য়ে দেখা যায়,,তারা টেন ডাউ‌নিং ষ্ট্রি‌টে ব্রি‌টিশ প্রধানমন্ত্র‌ীর কার্যাল‌য়ের বাই‌রে নিরাপত্তার দা‌য়ি‌ত্বে কর্মরত পু‌লিশ কনষ্টেবলের সা‌থে হা‌সিমু‌খে করমর্দন ক‌রে দি‌য়ে এ‌সে‌ছেন স্মারক‌লি‌পি।যে কন‌ষ্টেবলের দা‌য়িত্ব অাস‌লে গেটম্যা‌নের।

এ‌দে‌শে বিএন‌পি অাওয়ামীলী‌গের কমপ‌ক্ষে একডজন সি‌নিয়ার নেতা‌কে চি‌নি, যারা এদে‌শে নি‌জে‌দের নাম পা‌ল্টে‌ছেন একা‌ধিকবার। ব্যাংক থে‌কে নি‌জে‌দের কোম্পানির  না‌মে লোন নি‌য়ে কোম্পানি গা‌য়েব ক‌রে নি‌জে‌দের না‌মেরও এক দুইটা অক্ষর বা টাই‌টেল এ‌দিক সে‌দিক ক‌রে ব‌নে গে‌ছেন অন্য  ব্যা‌ক্তি ! অ‌নে‌কের পাস‌পো‌র্টের নাম এক,এ‌দে‌শে রাজনী‌তি ক‌রেন ভিন্ন না‌মে। অ‌নে‌কের ভিন্ন ভিন্ন না‌মে র‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশি, ব্রি‌টিশ ও ইউ‌রোপিয়ান পাস‌পোর্ট। ইন্সু‌রেন্স,‌সা‌র্টি‌ফি‌কেট,‌ জা‌লিয়া‌তির বহু ঘটনায় এ‌দে‌শে জেল খে‌টে‌ছেন এখ‌নো খাট‌ছেন বাংলা‌দেশি রাজনী‌তির  বি‌শিষ্ট রাজনী‌তি‌বিদ ও সমাজ‌সেবক (!) প‌রিচয় দেয়া এসব নেতারা।

থাক,লজ্জার কথা অার না ব‌লি। লজ্জার জবা‌বে লজ্জা দি‌য়ে,ঘৃনার জবা‌বে ঘৃনা দি‌য়ে কোন‌দিন সুস্থ রাজনী‌তির দিন অাস‌বে না। বিকৃ‌তির ধারায় কখ‌নো উ‌ন্মেষ হ‌বে না সু‌দি‌নের স্বরূপ। কিন্তু,মুশ‌কিল হ‌লো,অামা‌দের রাজনী‌তি‌বিদ‌দের সেটা কে বোঝা‌বে? রাজনী‌তির না‌মে তারা প্রবা‌সের বু‌কে অার কত ল‌জ্জিত কর‌বেন অামা‌দের? অার কতটা কা‌লিমা লেপন কর‌বেন বাংলা‌দেশী প‌রিচ‌য়ে?

উত্তর কার কা‌ছে চাইব?

বাংলাদেশের একজন সন্তান হিসেবে অামি লজ্জিত অাজ খুব প্রিয় জন্মভূ‌মি, তোমার কা‌ছে। বি‌দে‌শের বু‌কে বাংলা‌দেশ, তোমার নামটাকে বা‌রে বা‌রে অপমা‌নিত হ‌তে দেখ‌তে হ‌চ্ছে ব‌লে।

লন্ডন ১২ই ফেব্রুয়ারী

‌লেখক,সাংবা‌দিক,সদস্য রাইটার্স গীল্ড অব গ্রেট ব্রি‌টেন।


জিয়া পরিবার ও বিএনপির দুর্নীতি

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত চার দলীয় জোট সরকারের আমলকে। সেই সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা টাকার ভাগ নিতেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার কুলাঙ্গার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো’র দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে খুব বাজেভাবে পরিচিতি পেতে হয়েছিল। দেশে ব্যাপকভাবে দুর্নীতির কারণে টান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স (সিপিআই) এ বাংলাদেশে পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বের মধ্যে প্রথম হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমল ছিল সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতিপরায়ন এই সরকারের শাসনামলে খুব একটা প্রকাশিত না হলেও ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিকে বিএনপির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং সার্বিক সমর্থন দেওয়ার খবর প্রকাশিত হতে থাকলে খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। ওই সময়েই তাদের দুর্নীতির জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় যা এখন বিচারাধীন রয়েছে। এই প্রবন্ধে বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দুই কুলাঙ্গার পুত্রের আলোচিত দুর্নীতি মামলা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

কোকোর সিমেন্সের দুর্নীতি কেলেঙ্কারী:

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করে সিমেন্স। বিভিন্ন অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আরাফাত রহমান কোকোর কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মামলা করে যা নম্বর 1:09-cv-00021(JDB)। এই ব্যাংক হিসাবগুলোতে ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গচ্ছিত ছিল। আরাফাত রহমান কোকো সিমেন্স এবং চাইনা হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাছ থেকে তার অ্যাকাউন্টে ঘুষ হিসেবে নিয়েছিল ওই টাকা। মার্কিন বিচার বিভাগ কোকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বায়েজাপ্ত করার মামলা করেছিল কারণ তার সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকউন্টের কিছু টাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল। কোকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মার্কিন ডলারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তার ঘুষের টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে বিদেশ থেকে ঘুষ ও জোরপুর্বক টাকা আদায় করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় পড়ে । তার মামলার বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তার অ্যাকাউন্টের লেনদেন হয়েছে বিদেশে বসে এবং ঘুষ ও জবরদস্তিমূলকভাবেই তিনি ওই অর্থ নিয়েছিলেন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে কোকোর ওই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তাই বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে কোকোর মানি সিমেন্স ঘুষ কেলেঙ্কারী নিয়ে কাজ করে। কোকো জাসজ (ZASZ) নামে একটি সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানীর নামে তার ঘুষের অর্থ রেখেছিল যা তার পরিবারের সদস্যদের অদ্যাক্ষর নিয়ে গঠিত। ( যাফরিয়া কোকোর বড় মেয়ে, আরাফাত রহমান কোকো নিজে, কোকোর স্ত্রী শর্মিলা এবং জাহিয়া কোকোর ছোট মেয়ে এই চার জনের নামের অদ্যাক্ষর নিয়ে জাসজ নামের কোম্পানীটি গঠিত হয়েছিল।) আরাফাত রহমান কোকো ঘুষের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে বিপুল পরিমাণে অর্থ জমা করেছিল, এমন প্রমাণ পাওয়ার পর সেদেশের সরকার ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকারকে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত দিয়েছিল। এর আগে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনকারী হিসেবে আরাফাত রহমান কোকোকে বাংলাদেশের একটি আদালত ২০১১ সালে ৬ বছরের জেল দিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সিঙ্গাপুরে ফেয়ারহিল নামে একটি কোম্পানীর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাকে আরো ৫.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল।

তারেক ও মামুনের মানি লন্ডারিং দুর্নীতি:

মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার ঘনিষ্ট বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও মানি লন্ডারিং নিয়ে তদন্ত করেছে এবং বাংলাদেশের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি। এফবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, তারেক ও মামুন তাদের সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্মান কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর পরিচালক এবং চীনের হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন এর এদেশীয় এজেন্ট খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ নিয়েছিল। হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর লোকাল এজেন্ট হিসেবে টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের কাজ পাওয়ার জন্য তারেক ও মামুনকে ওই টাকা দিয়েছিল ঘুষ হিসেবে। এফবিআইয়ের এজেন্ট ডেব্রা লাপ্রিভেট গ্রিফিথ এই বিষয়ে তারেক ও মামুনের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের আদালতের সামনে সাক্ষ্য দেন যে, ব্যবসায়ী খাদিজা ইসলাম সিঙ্গাপুরে মামুনের সিটি ব্যাংকে (তারেকের বন্ধু মামুনের সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার: ১৫৮০৫২-০১৬-০০৮) ওই টাকা জমা দিয়েছিলেন। ওই একই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারেক রহমানের নামে সাপ্লিমেন্টারি গোল্ড ভিসা কার্ড ( যার নাম্বার: ৪৫৬৮-৮১৭০-১০০৬-৪১২২) ইস্যু করা হয়। সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকের কাছ থেকে সাপ্লিমেন্টারি গোল্ড ভিসা কার্ড নিতে তারেক রহমান তার পাসপোর্টের একটি ফটো কপি জমা দিয়েছিল ( তারেক রহমানের পাসপোর্ট নাম্বার: Y ০০৮৫৪৮৩) যেখানে তার পিতার নামের জায়গাতে লেখা ছিল মৃত জিয়াউর রহমান এবং মাতার নাম ছিল বেগম খালেদা জিয়া। তারেক রহমান এই কার্ড বিভিন্ন দেশে যেমন; গ্রিস, জার্মানী, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রমোদ ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করেছিল এমন তথ্যই উঠে এসেছে এফবিআইয়ের তদন্তে। এভাবে মোয়াজ্জেম হোসাইন এবং মারিনা জামান ঘুষের টাকা মামুনের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়েছিল যে অ্যাকাউন্টে তারেক রহমানের সরাসরি ছিল। ২১ জুলাই ২০১৬ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত তারেক রহমানকে সাত বছরের জেল এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে মানি লন্ডারিং এর জন্য। দেশের সর্বোচ্চ আদালত শুধু রায়ই দেননি তখন রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল যে, এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ ‘ ফিনানশিয়াল ক্রাইম’ ছিল এবং এ ধরনের কাজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের একটি বাধা। মামুনের অ্যাকাউন্টে খাদিজা ইসলামের দেয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে খোঁজ পেয়ে সুপ্রীম কোর্ট তারেক সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন ওই টাকাটা ঘুষের টাকা। কিন্তু তারেক রহমান এবং তার বন্ধু মামুন ওই টাকাকে পরামর্শক ফি হিসেবে নিয়েছে।

Picture

নাইকো দুর্নীতি কেলেঙ্কারী:

২০১১ সালেল ২৩ জুন কানাডার একটি আদালত বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার সরকারের জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসাইনের দুর্নীতি মামলার বিষয়ে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পেয়েছিল। মোশাররফ কানাডার কোম্পানী নাইকোকে অনৈতিকভাবে সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে একটি দামি গাড়ি উপহার পেয়েছিল নাইকোর কাছ থেকে যার আর্থিক মূল্য ছিল কানাডিয়ান ডলারে ১,৯০,৯৮৪ ডলার। নাইকো আরো ৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার ঘুষ দিয়েছিল মোশাররফকে তার স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য। আর নাইকো একেএম মোশাররফ হোসাইনকে ওই ঘুষ দিয়েছিল এটা নিশ্চিত করতে যে, নাইকো বাংলাদেশ থেকে তাদের ঠিক করা দামে গ্যাস কিনতে পারবে এবং তা বিক্রী করতে পারবে এবং গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরনের কারণে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জরিমানা আরো কমানো হবে।। ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রিট পিটিশনের ( পিটিশন নাম্বার: ৫৬৭৩) রায় দেয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ, এফবিআই এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ২০০৩-০৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালীন সময়ে নাইকোর কাছ থেকে বড় ধরনের ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল অনৈতিকভাবে তাদের সুবিধা দেয়ার নামে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আদেশের লক্ষণীয় বিষয় হলো, নাইকো একেবারে নির্লজ্জভাবে ঘুষ দিয়েছিল। নাইকোর এজেন্ট কাশিম শরীফকে ৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল এবং ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভুইয়ার মাধ্যমে ৫ লাখ ডলার দিয়েছিল। আর নাইকো তাদেরকে পরামর্শক হিসেবে এইসব টাকা দিয়েছিল যা তৎকালীন সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্তাদের প্রদান করতে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। আর এইসব সকল তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তাদের তথ্যপ্রমাণ এটাই প্রমাণ করে যে, নাইকো তাদের বাংলাদেশী এজেন্টদেরকে সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথমে বার্বাডোজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কাশিম শরিফ এবং সেলিম ভুইয়ার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকাগুলো দেন। পরে ওই টাকা চলে যায় তারেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের অ্যাকাউন্টে।

জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে এফবিআইয়ের বিশেষ প্রতিনিধির সাক্ষ্যঃ

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন -এফবিআই’য়ের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি ডেবরা লাপ্রিভেট গ্রিফিথ কয়েক বছর দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করেছেন। বাংলাদেশে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিভাবে দুর্নীতি হয়েছিল তা নিয়েই মূলত তিনি তদন্ত করেছেন। ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে তিনি যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেখানে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং জিয়া পরিবার নিয়ে বাস্তবতার নিরীখে কিছু মন্তব্য করেন। সেই সময়ের সরকার এবং জিয়ার পরিবারের ঔদ্ধত্যের কারণে কিভাবে তখন দেশে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি হয়েছিল তা তিনি তুলে ধরেন। এখানে গ্রিফিথের করা কিছু মন্তব্য কোন প্রকার সম্পাদনা ছাড়াই আক্ষরিকভাবে তুলে ধরছি।

কিছু “পরামর্শক” এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিলো যারা টাকাটা ঐসকল সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের কাছে পৌছে দেন। গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ও তার ভাই হাফিজ ইব্রাহিম, এই দুইজনই মুলত তারেক রহমান ও মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন ক্ষমতাসীনদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের কাছে টাকা স্থানান্তর করে। যারা পরে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ঘুষ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়। বাংলাদেশ কাজ করতে ইচ্ছুক এমন অনেক প্রতিষ্ঠান এধরনের মধ্যস্ততাকারীদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিতো যাদের আসলে টেলিযোগাযোগ, জলবিদ্যুৎ, তেল বা গ্যাস এধরনের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ জ্ঞান নেই। ক্ষমতাশালী লোকদের সাথে তাদের সুসম্পর্ককে ব্যবহার করেই ঘুষ প্রদান করতো।

কয়েকজন আমার কাছে এই বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে যে কোন ধরনের কাজের চুক্তি পেতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে মামুন বা তার ভাই হাফিজ ইব্রাহিমকে টাকা দিতে হতো যারা পরে সেই টাকা প্রধানমন্ত্রীর দুই ছেলে তারেক ও কোকোর কাছে পৌঁছে দিতো। আমরা যতগুলো দুর্নীতির মামলার তদন্ত করেছি প্রতিটি তদন্তই একথা সমর্থন করে, এবং আরো প্রমাণ বের হয় যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এমনকি নিচুপদস্থ অনেক সরকারী কর্মকর্তারাও ঘুষের টাকা পেতেন।

উদাহরস্বরুপ, সিমেন্স দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিঙ্গাপুরে আরাফাত রহমানের ঘুষের ব্যাপারে সেদেশের তদন্ত কর্মকর্তারা একটি অফিসে তল্লাশী চালান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওয়ারিদ টেলিকমের আরাফাত রহমানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে একটি ‘পরামর্শক চুক্তি’র কাগজ খুজে পান। আরাফাত রহমানের টেলিকম খাতে কোন দক্ষতা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন প্রমাণ নেই এবং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতাও তার নেই। আরাফাত রহমান আরব আমিরাতে বাড়ি কেনেন এবং আরব আমিরাত থেকে টাকা তার সিঙ্গাপুরের একাউন্টে টাকা জমা করার তথ্য আমার তদন্তে উঠে আসে।

তারেক রহমান সম্পর্কে উইকিলিকস যা বলেছিল:

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে এক গোপন তারবার্তায় তারকে রহমান সম্পর্কে লেখেন। যা পরে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী উইকিলিকসের ফাঁস করা নথিতে পাওয়া যায়। মরিয়ার্টি তারেক রহমান সম্পর্কে লিখেন:

“তারেক রহমান বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির জন্য দায়ী যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে…

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও ভয়ঙ্কর এবং একটি দুর্নীতিপরায়ণ সরকার ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতীক।

তারেক রহমানের প্রকাশ্য দুর্নীতি মার্কিন সরকারের তিনটি লক্ষ্যকে, যথাঃ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন এবং জঙ্গিবাদ নির্মুল করার মিশনকে প্রচণ্ডভাবে হুমকির সম্মুখীন করেছে…… আইনের প্রতি তার প্রকাশ্য অশ্রদ্ধা বাংলাদেশে জঙ্গিদের মূল শক্ত করতে সহায়তা করেছে”

জিয়া পরিবারের অন্যান্য দুর্নীতির মামলা যেগুলো বিচারাধীন রয়েছে:

যেসব মামলায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে সেই মামলার বাইরেও জিয়ার পরিবারের বেগম খালেদা জিয়া,তার পুত্র তারেক রহমান এবং বিএনপির অন্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর ওই সব মামলাগুলো বিগত ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতি দম কমিশন করেছিল। এর একটি মামলাও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা হয়নি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাঃ ২০১১ সালের ৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে। জিয়াউর রহমানের নামে একটি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার বেআইনি লেনদেনের কারণে এই মামলা করা হয়। খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামী করে চার্জশীট প্রদান করা হয়।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন রমনা থানায় খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও আরো চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দেশের এতিমদের জন্য বিদেশি দাতা সংস্থা থেকে আসা ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকার অনুদান আত্মসাৎ করে। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট কোর্টে চার্জশীট দাখিল করা হয়। মামলার কাজ শেষ হয়েছে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে রায় ঘোষনার কথা রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন শাহবাগ থানায় খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে এই মামলা দায়ের করে। মামলায় বলা হয়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কন্ট্রাক্টর নিয়োগের ব্যাপারে অভিযুক্তরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করেছেন। মামলাটি এখন ঢাকা জজকোর্টে প্রক্রিয়াধীন আছে। খালেদা জিয়া এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করেন যা ২০১৬ সালের ২৫ মে আদালত খারিজ করে দেন। মামলার প্রক্রিয়া চলতে এখন আর কোন বাধা রইলো না।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন খালেদা জিয়াসহ আরো ১৪ জনের নামে এই মামলা দায়ের করে। মামলায় বলা হয় চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর কন্টেইনার ওঠানামার কাজ গ্যাটকোকে দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ১৪৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। খালেদা জিয়া দুই দফায় এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন যা আদালতে খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে অভিযোগপত্র দাখিলের অপেক্ষায় আছে মামলাটি।

নাইকো দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন খালেদা জিয়াসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ এগারো জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। খালেদা জিয়া মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১৮ই জুন হাইকোর্ট এই আবেদন খারিজ করে দিলে খালেদা জিয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশনে লিভ টু আপিলের আবেদন করেন। ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার এই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং বিচারিক আদালতকে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আদেশ দেয়। মামলার চার্জ গঠনের শুনানির কাজ এখন প্রক্রিয়াধীন।


পুটিনের মাথায় বিশ্বসমর্থনের রাজমুকুট আসছে।আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি প্রকৃতই প্রাণের শক্তিতে আরো সজিব হতে দেখে নিজেই প্রাণশক্তিতে আরো প্রেরণা অনুভব করলাম।মার জাতির জন্যে লিখতে বসলাম।শারীরিক জোরের দিকে আর তাকেতে পারলামনা।ইচ্ছে হলোনা ওটা ভাবি।আল্লাহ্‌ তার সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার এই বৃষ্টি দেখিয়ে যেনো আমাকেই জানালেন,জীবনের জন্যে আমার দিকে তাকাও।আমিই তোমাদের সকলের স্রষ্টা এবং মৃত্যুর একমাত্র মালিক।আমিই একমাত্র শক্তি,আর কোন শক্তি নেই।সবই আমার ইচ্ছার ফসল।তোমরা যুদ্ধ বোঝ,পারমানবিক বোমা বুঝ-আমাকে বুঝোনা?  

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যে লাল সংবাদ ইজরাইলের রাস্তায় রাস্তায়।প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রীপরিষদের সবার দূর্নীতির বিরুদ্ধে রাজধানী তেলাবিবের একটানা নবম সপ্তাহের বিক্ষোভ চলছে।গত রাতের বিক্ষোভেও হাজার মানুষের মিছিলের আগ্নেয়গিরি ক্ষোভের উত্তপ্ত লাভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছে।এখনো তিনি এবং তার বিভ্রান্ত খেলোয়াড়রা যেনো সাবধান হন।বিক্ষোভকারীরা বলেছেন এবং হাতে উত্তোলিত প্ল্যাকার্ডের ভাষায় জানিয়েছেন নিতানিয়াহু তার পরিবার এবং মন্ত্রীপরিষদের সকলেই দূর্নীতিগ্রস্থ এবং ভয়ানক অপরাধী।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘুষনেয়া,প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের।তাকে গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে দুটি আলাদা মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে।এর একটি হচ্ছে;ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে নেয়া উপহারের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বিনিময়ে পত্রিকায় ভালো কভারেজ দেয়ার জন্যে পত্রিকার মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক করে দেয়া। অপর মামলা হচ্ছে, জার্মানি থেকে সাবমেরিন কেনার ক্ষেত্রে দূর্নীতি।    

এই ক্ষমতাধর রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ অনেক আগে থেকেই।দাগি দূর্নীতিবাজরূপে ইজরাইলে তিনি কুখ্যাতি পেয়েছেন এবং তাদের কাছে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ভয়ানক অপরাধী।এই দেশে বড় দাগের রাজনীতিকরা বড় অপরাধী হয়েই থাকেন এবং এটা যেনো তাদের নৈতিকতার অংশ.২০১৪সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্টের বিরুদ্ধে আনীত ঘুষবৃত্তি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেড় বছর জেলখাটতে হয়েছে।এখন নেতানিয়াহু তার স্ত্রী এবং মন্ত্রীদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি উঠেছে প্রবল বিক্ষোভে।  
Picture
আমেরিকার প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হবার সময় রাশিয়ার সাথে দেশের স্বার্থ বিরোধী সমঝোতার অভিযোগ তদন্তরত সেরা গোয়েন্দাদেরকে একের পর এক বরখাস্ত করে তিনি এখনো ক্ষমতায় আছেন প্রবল সমালোচনার পরেও।তার একই পথের দোস্ত নেতানিয়াহুও ইজরাইলে ক্ষমতায় টিকে আছেন পরিবারশুদ্ধু দূর্নীতিগ্রস্থ হবার অভিযোগ কাঁধে নিয়ে।সেক্ষেত্রে তিনি আরো এগিয়ে আছেন কয়েকডিগ্রী।তার সমগ্র মন্ত্রী পরিষদকেই অপরাধী বলছেন বিক্ষোভকারীরা। সবার বিদায়ের মধ্যেই ইজরাইলে দূর্নীতির বিচার দেখতে চেখতে চেয়েছে তারা।   
নিজেরদের মহাঅপরাধগুলো ঢাকবার উপায় হিসেবে তারা  নিজেদের দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে ব্যস্ত করে রাখছেন। আমেরিকার দীর্ঘকালের মিত্রদেরকে আমেরিকার শত্রুশিবিরে ঠেলে দিচ্ছেন অন্যদের সাথে নিজ নিজ হিসেব নিকেশের নয়া বিবেচনায়।পঞ্চাশদশকের শুরু থেকে আমেরিকার প্রধান মিত্র পাকিস্তান্র উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন। ভেবেছেন,ভারতের নয়া জঙ্গি শাসকদের সাথে নেতানিয়াহু ষ্টাইলে পীড়িত বাড়িয়ে আমেরিকার জনগণের মুখে টেপ লাগাবেন।অস্ত্র বিক্রয় করে লাভবান হয়েছে নেতানিয়াহু এবং তার দেশ।বিক্রীর কমিশনে লাভের মধু নেতানিয়াহু এবং মোদীর জিহবায় লেগেছে,আমেরিকার সাথে অস্ত্র কেনার চুক্তি করে যে চুক্তিভঙ্গ করে হোয়াইট হাউসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে তার কি হলো?জবাব কি হোয়াইট হাউসের?    

আমেরিকার নয়া ধরনের রাজনীতিকের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কি পাকিস্তান হা করে থাকে?  তাতো নয়।নিজের হাঁটুর জোর থাকলে নয়াদিগন্ত উম্মোচনের ক্ষমতা মানব জাতির জন্যে স্রষ্টা নিজেই দিয়ে রেখেছেন।প্রশ্নটা হচ্ছে,কে কিসের উদ্দেশ্যে স্রষ্টার উপহার কাজে লাগায়।   

পাকিস্তান-চীন যৌথভাবে পাকিস্তানে তৈরী জে এফ-১৭ জঙ্গিবিমান থেকে দৃষ্টি সীমার বাইরে বিমান থেকে ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ এবং ‘ইনফ্রারেড’ ধীর গতির লক্ষ্যবস্তুর উপর সফল নিক্ষেপ করেছে ২ফেব্রুয়ারী শুক্রবার।পাক বিমানবাহিনী নিশ্চিত  করেছে এটি লক্ষ্যবস্তুকে যথার্থভাবে আঘাত করেছে। পাকিস্তানী সোনমিয়ানি ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে ছোঁড়া এই বিমান উড্ডয়ন করেছিলো।    

পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারি মুসলমান দেশ পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের সাথে বিবাদে জড়িয়ে ব্যস্ত রেখে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমান দেশগুলোয় যুদ্ধের দামামার আওয়াজ তুলে নেতানিয়াহুদের পক্ষে আমেরিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছেন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ইরানের ইসলামী গার্ড বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, শিগগীরই আমেরিকা ইসরাইল,সৌদি আরব এবং তাদের মিত্রদের পতন হবে।ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের উরমিয়া শহরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

এদিকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ফিলিস্তিনি হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে কথিত সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।৩১জানুয়ারী তিনি এই সিদ্ধান্ত জারি করেন।তুরস্ক ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলেছেন,তার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি ও সঙ্ঘতি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করবে।আরো বলেছেন,ট্রাম্পের এই ঘোষণা জেনেও আঙ্কারা হামাসকে দেয়া মানবিক সহায়তা চালু রাখবে এবং গাজায় উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ফেব্রুয়ারী শুক্রবার লেবাননের হিজবুল্লাহকেও কালোতালিকাভুক্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং  পররাষ্টমন্ত্রণালয় বিব্ব্রিতি দিয়েছে একইদিন।মার্কিণ পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে,হামাসের সামরিক শাখা যারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করছে তাদের সঙ্গে হানিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।ইসমাইল হানিয়া ইসরাইলের নাগরিক হত্যায়ও জড়িত বলেও দাবি মার্কিণ পররাষ্ট্র দফতরের।

হোয়াইট হাউস ৩ফেব্রুয়ারী বিবৃতিতে বলেছে,নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাণিজ্য বন্ধ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা হয়েছে।


আমিনুল ইসলাম মামুনের গল্পের বই বিড়াল ও তেলাপোকা

বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : ছোটদের জন্য সাতভাই চম্পা প্রকাশনী থেকে এবারের বইমেলায় এলো সাহিত্যিক ও সাহিত্য সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম মামুনের গল্পের বই ‘বিড়াল ও তেলাপোকা’। বইয়ের গল্পে একটি কর্মঠ তেলাপোকা ও একটি অলস বিড়ালের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ছোটদের জন্য শিক্ষণীয় এ গল্পের বইয়ের কভার ও ভেতর পুরোটাই চার রঙে ছাপা; যা বইটি পাঠে শিশুদেরকে একটু বেশিই মনোযোগী করে তুলবে।     

শিশুদের জন্য ইতোপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে লেখকের বেশকিছু বই। বইগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ দুষ্টু ছেলের দল (ছড়া-২০০৪), কানামাছি (ছড়া-২০০৭), তারা জ্বলে কথা বলে (ছড়া-২০১৪), পরীর নাম লজ্জাবতী (শিশুতোষ গল্প-২০১৫), ভূত দেখেছি কয়েকবার (শিশুতোষ গল্প-২০১৫), ছড়ায় ছড়ায় বর্ণমালা (ছড়া-২০১৬), ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে (ছড়া-২০১৬), ঝুমঝুম রেলগাড়ি (ছড়া-২০১৬) প্রভৃতি।     
আমিনুল ইসলাম মামুন সম্পাদনা করছেন ‘তুষারধারা’ নামক একটি সাহিত্য বিষয়ক ম্যাগাজিন। তার এবারের বইমেলায় সাতভাই চম্পা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘বিড়াল ও তেলাপোকা’ বইটি মেলার ৫৫২ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। বইটির প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন শিল্পী সোহাগ পারভেজ। মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা মাত্র।  

বইটির রকমারি লিংক:  https://www.rokomari.com/book/154641/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%93-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE
==০==

Picture

বই পরিচিতিমূলক তথ্য:

বই   : বিড়াল ও তেলাপোকা
লেখক  : আমিনুল ইসলাম মামুন
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান: সাতভাই চম্পা প্রকাশনী    
বইয়ের ধরণ : শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ: সোহাগ পারভেজ
বাঁধাই: পিন বাইন্ডিং   
ফর্মা সংখ্যা : ২ ফর্মা
মূল্য: ১০০ টাকা মাত্র
প্রকাশনার ঠিকানা    : সাতভাই চম্পা প্রকাশনী ৪৫ পি. কে. রায় রোড, বাংলাবাজার (৫ম তলা) ঢাকা-১১০০।
              
বইটির রকমারি লিংক: https://www.rokomari.com/book/154641/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%93-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE


লেখকের প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ :
১.    দুষ্টু ছেলের দল (ছড়া-২০০৪)
২.     কানামাছি (ছড়া-২০০৭)
৩.    তারা জ্বলে কথা বলে (ছড়া-২০১৪)
৪.    পরীর নাম লজ্জাবতী (শিশুতোষ গল্প-২০১৫)
৫.    ভূত দেখেছি কয়েকবার (শিশুতোষ গল্প-২০১৫)
৬.    ছড়ায় ছড়ায় বর্ণমালা (ছড়া-২০১৬)
৭.     ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে (ছড়া-২০১৬)
৮.     ঝুমঝুম রেলগাড়ি (ছড়া-২০১৬)   
৯.    বিড়াল ও তেলাপোকা (শিশুতোষ গল্প-২০১৭)    
            
বইমেলায় প্রাপ্তিস্থান: সাতভাই চম্পা প্রকাশনী [স্টল # ৫৫২]  


অনুপ্রেরণার এক আঁধার সুলতানা নাহার

শনিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

কিন্তু পরিবারকে কী করে বোঝাবেন তিনি? এর মধ্যে মেডিকেল ও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেলেন। পরবর্তীতে বুয়েটে সুযোগ পেয়ে সেখানে ভর্তিও হয়ে গেলেন। কিন্তু তাঁর মগজের নিউরন দখল করে নিয়েছিল নক্ষত্র, গ্রহ-গ্রহাণু আর ধূমকেতুরা। সেখান থেকে মুক্তির কোনো উপায় ছিল না। স্বপ্নতাড়িত সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন ফিজিকস পড়তে। তিনি অ্যাস্ট্রনমি (জ্যোতির্বিদ্যা) পড়বেন—এটাই তার তীব্র ইচ্ছা।
সুলতানা নাহার লাজুক প্রকৃতির। সত্তরের দশকের মেয়ে। সমাজ তখনো অনেক চুপসে আছে। সুলতানার কর্ম ও ধর্ম একটাই—পড়াশোনা। বাসা, বিশ্ববিদ্যালয় আর পড়াশোনার বাইরে তেমন সময় কাটেনি তাঁর। অনার্সের রেজাল্ট বের হলো। তাঁর শিক্ষক এসে জানালেন, তুমি ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছ! সুলতানা উচ্ছ্বসিত। পরিবারের কাছে খুব গর্ব নিয়ে সে খবর দিলেন। যে মেয়েটি ডাক্তার হয়নি বলে পরিবার কষ্ট পেয়েছে, সে এখন ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট! তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিকস ডিপার্টমেন্ট থেকে! আত্মীয়-স্বজনরা বাবা-মাকে বোঝাল, মেয়েটা যেনতেন নয়! কয়েক দিন পর এল ইতিহাস গড়ার সংবাদটা। তাঁর শিক্ষক এসে বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিকস ডিপার্টমেন্ট থেকে এর আগে কোনো মেয়ে অনার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়নি। সুলতানাই প্রথম নারী! প্রথম হওয়ার গল্পটা এখানেই শেষ নয়। সুলতানা মাস্টার্সেও ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হলেন। সত্যিকারের অধরা হয়ে গেলেন!গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুলতানা নাহারগেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুলতানা নাহারঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই তাঁর গবেষণায় হাতেখড়ি। অধ্যাপক এ এম হারুন-অর-রশিদের অধীনে গবেষণা করলেন। এবার দেশের পাট চুকাতে হবে। স্বপ্ন যাঁর যত বড়, শ্রম তার তত বেশি—সুলতানা সেটা জানতেন। ১৯৭৯ সালের বাংলাদেশে যখন অসংখ্য ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করতে চাইত না, সুলতানা তখন পাড়ি দিলেন আটলান্টিক মহাসাগর। পৌঁছালেন আমেরিকায়। পিএইচডি করলেন অ্যাটমিক থিওরিতে। পোস্টডক করলেন। এরপর শুরু করলেন নিজের গবেষণা। এই সুলতানা নাহারকে খুঁজে পাই আমি। যোগাযোগ করি। দীর্ঘ সময়ের কথায় তাঁকে জানি। তাঁর কর্মকে জানি। তাঁর লক্ষ্যের অটুটতা আমাকে শিহরিত করে।
সুলতানা নাহার অ্যাস্ট্রো ফিজিকসের গবেষক। মহাকাশের বস্তুদের নিয়ে তাঁর গবেষণা। আমেরিকার ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির রিসার্চ প্রফেসর তিনি। কথা বলার আগে খুব দ্বিধা ছিল মনে। তাঁর কয়েকটি গবেষণাপত্র পড়ে নিলাম আগেই। পড়ে বুঝলাম, সাদামাটা মনের মানুষ। প্রচণ্ড পরিশ্রমী! আমেরিকা ছাড়াও তিনি ভারত, মিশর ও অন্যান্য কয়েকটি দেশে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশে স্কুল-কলেজ পরিচালনাসহ অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করেন। বাবা-মায়ের নামে চালু করেছেন ফাউন্ডেশন ও বৃত্তি। পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় অবদানের জন্য প্রতি বছর দিচ্ছেন ‘রাজ্জাক-শামসুন’ গবেষণা পুরস্কার।
সুলতানা নাহারের দৃঢ় প্রত্যয় আর সাহস আমাকে মুগ্ধ করেছে। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে, আশির দশকের একটি মেয়ে গবেষক হতে চেয়েছে-এটা অভাবনীয়! আমার কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা তাঁকে নিবেদন করলাম। যদিও এর চেয়ে অধিক প্রাপ্য তাঁর। তিনি বললেন, এই যে মহাবিশ্বকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানছি, এই জানাতেই আমার আনন্দ! এর চেয়ে বড় আনন্দ যে আমারও জানা নেই, হে বিদুষী! আপনি আমাদের গৌরব! বাঙালি নারীর জন্য অনুপ্রেরণার আঁধার!

ড. রউফুল আলম: গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া (UPenn), যুক্তরাষ্ট্র।