Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/images/stories/2015/April/05/03/images/banners/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

মহাঅপরাধের নাম মিয়ানমার।আবু জাফর মাহমুদ

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ভাষণ দিতে এসে দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে আর কোনো দমন অভিযান চালানো হয়নি। একই কথা বলেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা ।এই  বক্তব্য নাকচ করে কফি আনান বলেন, সহিংসতা যদি বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে এখনো দলে দলে মানুষ কেন দেশ ছাড়ছে? এর কারণ কি ক্ষুধা, সন্ত্রাসী দলের তৎপরতা, নাকি রোহিঙ্গাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভয়? কফি আনান জোর দিয়ে বলেন, কারণ যা-ই হোক, সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।এদিকে এইচআরডব্লিউ বলছে, ৫ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত ৬৬টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ তাদের হাতে থাকা স্যাটেলাইট ছবিতে রয়েছে।
এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের উপ পরিচালক ফিল রবার্টসন বিবৃতিতে বলেন, রাখাইনের সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেন পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে, ওই স্যাটেলাইট ছবিতেই তা স্পষ্ট।তিনি বলেন, “বার্মিজ মিলিটারি শয়ে শয়ে রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে; হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।”   
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সেইসঙ্গে মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সব ধরনের আমন্ত্রণ স্থগিত করেছে ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট।সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকারীদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের আলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং জ্যেষ্ঠ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের সব আমন্ত্রণ স্থগিত করবে। পদক্ষেপগুলো নেয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।”
এছাড়া, মিয়ানমারে সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর রয়েছে যেসব প্রতিরক্ষা চুক্তি, তা পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছে ইউরোপীয় কাউন্সিল।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের তথ্য অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তবে ২৮ দেশভুক্ত ইইউ তা মেনে নেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, “রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিপীড়ন ও বর্বর হামলার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে হবে। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসন্ধান মিশনকে অবাধে অবিলম্বে রাখাইনে তদন্তের সুযোগ দিতে হবে।”  
বিবৃতিতে বলা হয়, “রাখাইনে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এখনও সেখানে অগ্নিসংযোগ, জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। নির্বিচারে গুলি করা হচ্ছে, বসানো হয়েছে স্থলমাইন। নারীদের ওপর নিপীড়ন চলছে। এটা মেনে নেয়া হবে না এবং অবিলম্বে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ৫ লাখের বেশি মানুষের দেশত্যাগ দৃঢ়ভাবে এ ইঙ্গিত দেয়, সংখ্যালঘুদের বিতাড়নের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “শরণার্থীদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে হবে। রাখাইনে জাতিসংঘ, রেডক্রসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ পূর্ণ বাস্তবায়ন তথা দেশহীন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। এ কাজে তারা মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের তাদের আদি নিবাসে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক তৈরির জন্য নেপিডোকে পরামর্শ দেয়া হয়। কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গঠনমূলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দেশটির প্রশংসা করা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে।
বাংলাদেশ সফররত মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি আজ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব।আজ সকালে কক্সবাজার পৌঁছে তিনি ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক ঘুরে দেখেন এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মালয়েশিয়ার মানবউন্নয়নমন্ত্রী রিচার্ড রিওদ ও স্থানীয় পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ একা নয়। নতুন করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা


জীবহত্যা মহাপাপ : রোহিঙ্গারা কী জীবের বাইরে?

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

Picture

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই নারী ধর্ষণের যথেষ্ট আলামত পেয়েছে। শিশু নির্যাতনের খোঁজ অবধি পেয়েছে। কিন্তু জোরালো তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মিয়ানমার সরকার বলছে, রাখাইনরাজ্যের নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের সংবাদ সঠিক নয়, মিথ্যে গুজব। তাহলে কোন সুখে লাখো রোহিঙ্গা নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে আসছেন! ধর্ম নিয়ে কোনো বিতর্ক নয়। ধর্ম বিতর্ক করার জিনিসও নয়। তারপরও একটি জিনিস বারবার অন্তরে খোঁচা দিচ্ছে। বুদ্ধদেব জীবনভর যে মহাবাণী প্রচার করে গেছেন, তার মাঝে অহিংসা পরম ধর্ম, জীবহত্যা মহাপাপ, ইত্যাদি উক্তি কালজয়ী হয়ে আছে। প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গারা কি তাহলে জীবের বাইরের কিছু? নাকি বুদ্ধদেবের এ মহাবাণী তাদের জন্য নয়?

আমরা বিশ্বাস করি, ধার্মিক ব্যক্তি কখনও সন্ত্রাস হতে পারে না। কারণ ধর্ম ও সন্ত্রাসের মাঝে রাতদিনের ফরক। তাই আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেনো, ধার্মিক হোন। কোনো ধর্মই তার অনুসারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেয় না। তাই আপনি ধর্মের বুলি উচ্চারণ করে সন্ত্রাসী করলে মনে করা হবে ধর্মের পোশাক পরে আপনি অধর্ম করছেন। ধর্ম নিয়ে সংঘাত আরম্ভ করছেন। কোনো ধর্মই এরূপ কর্মকাণ্ডের অনুমোদন দেয় না। ইরশাদ হচ্ছে ‘যে ব্যক্তি প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে, সে যেনো সব মানুষকেই হত্যা করলো। আর যে কারোর জীবন রক্ষা করে, সে যেনো সবার জীবন রক্ষা করলো। (সুরা মায়িদা : ৩৩)। তাছাড়া মানবতার নবী (সা.) বিদায়হজের ভাষণে বলেছেন সাবধান! ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোরো না। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে।’ আরও বলেছেন ‘কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে না।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, জাতি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এরপরও এখনও রোহিঙ্গা মুসলমানরা নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসছে নাফনদীর তীরে। বিভিন্ন গণমাধ্যমই এর বড় সাক্ষী। এই হত্যাযজ্ঞ মানবতাহীন কাজের নিন্দাসহ কার্যকরী স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া দরকার। মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। আপন বিবেককে জাগ্রত করা দরকার। সর্বোপরি আগত রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা চাই। সরকার প্রধানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনে তৎপর হওয়া আমাদের ইমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য।

লেখক : শিক্ষার্থী, গওহরডাঙ্গা মাদরাসা, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ


সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যুদ্ধের বিপরীত যাত্রা।আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

পাকিস্তানের মাওলানা হাফিজ সাঈদকে গ্রেফতার করতে ও্যাশিংটন ১০মিলিয়ন মার্কিণ ডলার ঘোষণা জারির পর জাতিসংঘ তাকে এবং তার দল জমাতে দাওয়াকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান সরকার তাকে গৃহবন্দী করে জানিয়ারি মাসে।তাকে এন্টি টেরোরিজম এক্ট(আটা)র ধারায় আটক দেখানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে আমেরিকার মন রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত গিলেছিলো পাকিস্তান।

এদিকে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ দুদিন পর অর্থাৎ ১৫ই অক্টোবর রোববার হাফিজ সাঈদ ও তার দলের বিরুদ্ধে দেয়া সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।সম্ভবতঃ জাতিসংঘ তাকে শীঘ্রই অভিযোগ মুক্ত করতে চলেছে।পাঞ্জাব সরকারের এক কর্মকর্তা সুপ্রীম কোর্টের একটি রিভিউ বোর্ডকে জানিয়েছেন, প্রাদেশিক সরকার হাসিজ সাঈদ এবং তার দলকে সন্ত্রাসের অভিযোগ তালিকায় এবার আর অন্তর্ভূক্ত করেনি।  

১৩ই অক্টোবর শুক্রবার তার আইনজীবী এ কে ডোগার জানিয়েছেন পাঞ্জাব সরকার তার ডিটেনশনের মেয়াদ আরো  ৩মাস দীর্ঘ করেছে।তিনি দাবি করেন, যেহেতু তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ নেই তাকে এবং তার ৪ সঙ্গী আব্দুল্যা ওবায়েদ,জাফর ইকবাল,আব্দুর রহমান আবিদ এবং কাজী কাশিফ নিয়াজকে মুক্তিদেয়া হউক। লাহোর হাইকোর্ট এই আবেদনের সুনানী আশা করছে এবং সাঈদ ও তার দলের বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগের প্রমাণ দাখিল করতে নির্দ্দেশ দিয়েছে।সন্ত্রাসের প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হয়নি।বিচারপতি মুজাহির নাখভি আগেই সরকার পক্ষকে সতর্ক করে রেখেছিলেন, তথ্যপ্রমাণাদি হাজির করতে অপারগ হলে সাঈদকে তিনি মুক্তির আদেশ দেবেন।   

২০০৮সনে মোম্বাই সন্ত্রাসের জন্যে তাকে অভিযুক্তকারী ভারত-আমেরিকা বলয় নি;সন্দেহে এই বাস্তবতায় বড় শব্দ করার যুক্তি হারিয়ে ফেলছে।পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের অভিযোগে চাপে রাখার কৌশলের বেড়াজাল থেকে বের হবার এই ঘটনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির অনেক ঘটনা বিশ্লেষণে সহায়ক হবে আশা করি। এতে বিশ্বপরিস্থিতিতে নয়ামেরুকরণের একটা আভাসও মিলে।  

সন্ত্রাসবাদের অজুহাত খাড়া করে কোন কোন দেশকে বা কোন দেশের সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলে সরকার পতন করানো বা সরকারপ্রধানকে হত্যা করার ঘটনা কয়েক দশকে বিশ্বের দেশে দেশে দেখা গেছে।অহরহ এই ঘটনা ঘটছে।জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে হত্যা করে হত্যাকারীদের অনুগত কাউকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সরকারের।

 আমেরিকায় ইলেক্টরেল ভোটারদের বিশেষ কৌশলে ধনবীর ডোনাল্ড ট্রাম্ফকে নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট ঘোষণা দেয়ার পর থেকে তিনি হোয়াইট হাঊসের প্রধান ক্ষমতাধর আইকন হলেন।যাকে ইচ্ছে তাকে ধমক দেন,যাকে ইচ্ছে তাকে বরখাস্ত করেন।যেখানে ইচ্ছে সেখানে বোমা ফেলার আদেশ দেন।পাকিস্তানকে ধমক দেয়ার পর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এই দেশ ঘাড় সোজা রেখে শিং উঁচু করে আভাস দিয়েছে আর কিছু না হোক আফগানিস্থানে আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলাম তাহলে।

 মোদীর সাথে ফিস ফিস করে বেশী মদ গিলোনা।জঙ্গিইহুদী নেতাদের চেয়েও পিছলা এই জঙ্গিহিন্দুরা।মোদী চীনের সাথে আপোষ করতে অন্ধকারে যোগাযোগ রাখে।ওদিকে তোমাকে দেখায় পীরিতের অভিনয়। সোজা হয়ে যাও পুরানা আত্নীয়তা রাখো যতটুকুন দরকার, বেশী হুমকি ধমকি দিওনা।তোমাকে না হলেও পাকিস্তানের এখন চলে।বরঞ্চ পাকিস্তান হারালে তুমি অনেক কিছু হারাবে।

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সবাই দেখলো।জাতিসংঘ দেখলো।কেবল দেখলেনা তুমি,মোদী এবং  নেতানিয়াহু-এই তিন মানব।তোমাদের মুখে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ সম্পুর্ণ বেমানান।দুনিয়া কি দেখছেনা সন্ত্রাসের উৎস শক্তি কারা?কারা সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষক? কারা সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে শসস্ত্র করে এবং সন্ত্রাসের ফলে আর্থিক,ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক লাভ করছে? বিরান করছে সম্পদের অধিকারী বিভিন্ন দেশ জাতি সমাজকে। দুর্বল লোভী নেতৃত্বকে কিনে নিয়ে নিঃস্ব করছে গরীবদেরকে।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের নামে দ্বিমুখীনীতি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জঙ্গিদেরকে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং কেজিবির সাবেক পরিচালক ভ্লাদিমির পুটিন।এই অস্পষ্টতা বিদায় করতে এবং সন্ত্রাস নির্মূলের লড়াইকে জোরদার করতে যৌথ প্রচেষ্টার আহবান জানান তিনি।রাশিয়ার আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের ১৩৭তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে ১৪ই অক্টোবর শনিবার এই মত প্রকাশ করেন।

তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, দ্বিমুখীতাবাদ বাদ দিয়ে এবং গোপন এজেন্ডা গ্রহন না করেই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই জরুরী।তিনি মন্তব্য করেন,কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক  স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত হবেনা।তিনি বলেছেন,কু-মতলবে বিদেশী হস্তক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেছে,সন্ত্রাসবাদে ঠেলে দিয়েছে।

 উল্লেখ করা দরকার,দ্য ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বা আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিলো ১৮৮৯সনে।এবং ১৭৩টি দেশের সাংসদ এবং ১১টি আন্তঃসংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করেছে।আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, জাতি গোষ্ঠীর মধ্যেকার সম্পর্ক উন্নয়ন,মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো এবং সাংসদীয় ধারার উন্নয়নে অবদানের নীতিতে বিশ্বাসী এই প্রতিষ্ঠান।বাংলাদেশের সাবের হোসেন সভাপতি থাকায় এই মহান অনুষ্ঠানের তিনি সভাপতিত্ব করেছেন। রাশিয়ার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের স্পীকারগণ এতে উপ্সথিত ছিলেম।রাশিয়ান প্রেসিডেণ্ট আই পি ইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরীকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশীপ এওয়ার্ড তুলে দিয়ে সম্মানিত করেন।    

আজ ভারত বাংলাদেশ মিয়ানমার অঞ্চল জুড়ে যে রাষ্ট্রীয় নাশকতা ও সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে তাতে ভুক্তভোগী সাধারণ নীরিহ মানুষ।সরকারগুলো পত্রিকা টেলিভিশনে বলে যাচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিজ্ঞার কথা। অথচ তারা একত্রে একই নীতিতে সন্ত্রাসী ভয়ানক অপরাধী।মাত্র কয়েকজন প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর মানুষের সিন্ডিকেটের এই অমানবিক তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ- ধর্ম জাতি নির্বিশেষে।তাদের এই সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদী অপরাধের পেছনে কারা সমর্থন জোগাচ্ছে?   

এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট যে নীতির কথা ঘোষণা দিয়েছেন এবং বিশ্বরাজনীতির যে চিত্র তুলে ধরেছেন,তাতে বাংলাদেশ এবং তার আশপাশের জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।ইরান সিরিয়ার মানুষের চিন্তার প্রতিফলন হয়েছে।তার এই চিন্তার অনুভূতি কে স্বাগতঃ জানাই।কথা হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক বা সরকার প্রধানরা যে রাজনীতির গুরুত্ব প্রকাশ করেন তাতে থাকে তাদের জাতীয় স্বার্থের হিসেব নিকেশ।এই হিসেব নিকেশের সাথে তাল মিলিয়ে ভুক্তভোগী জাতিগুলো তাদের নেতা এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজ নিজ জাতির স্বার্থে গড়তে পারলে একটি নয়া বিশ্বধারা চালু করা সম্ভব হতে পারে। 


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে চাই = সিরাজী এম আর মোস্তাক

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন করে যেভাবে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন, তেমনি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং শাসন ক্ষমতায় আজীবন চাই। এটি আষাঁঢ়ে প্রত্যাশা নয়। এখনই উপযুক্ত সময়। শুধু নির্বাচনে জয়ী হয়ে নয়, বর্তমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্থায়ীভাবে ক্ষমতা লাভের সুযোগ এসেছে। মায়ানমারের সামরিক জান্তা আরাকানের ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রত্যাখ্যান করে রোহিঙ্গাদের প্রতি জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এটি আর মায়ানমারের নিজস্ব বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য কঠিন বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশ রীতিমতো সার্বভৌমত্ব সংকটে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছে। মায়ানমারের ঘাতকদের ধিক্কার জানাচ্ছে। বিশ্ববাসীর এ প্রতিবাদ বাংলাদেশের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। বিশ্ববিবেকের সমর্থন নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানস্বরূপ আরাকান বিজয়ের এখনই উপযুক্ত সময়। মাননীয় নেত্রীকে চাই, আগামী নির্বাচন ইস্যু বাদ দিয়ে আরাকান দখলে দেশবাসীকে সংগঠিত করবেন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের শাসনকর্তা হয়ে আজীবন আসীন থাকবেন।
শুধুমাত্র বিশ্ব মানবতার স্বার্থেই আরাকান দখল করতে হবে। এজন্য দুটি বিষয় অতি জরুরী। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং দেশের ষোল কোটি নাগরিককে সুসংগঠিত করা। বাহ্য দৃষ্টিতে কতিপয় পরাশক্তির ধৃষ্টতা পরিলক্ষিত হলেও বিশ্বমানবতার সামনে তাদের স্থায়ীত্ব একেবারেই ক্ষীণ। তাই অশুভ পরাশক্তি জুজুর ভয়ে ভীত না হয়ে বিশ্ববিবেকের সমর্থন নিয়ে দ্রুত আরাকান অভিযান করা উচিত।


আরাকান অভিযানে প্রথমত আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ঢেলে সাজাতে হবে। গতবছর ০১ জুলাই, ২০১৬ তারিখে গুলশান হলি আর্টিজান হামলায় ব্যর্থ সেনাভিযানের জন্যই বিদেশি নাগরিকগণ হত্যার শিকার হন। সেদিন মাত্র ৬/৭ জঙ্গি গ্রেনেড মেরে ২ পুলিশ হত্যা ও ৪০ পুলিশকে আহত করে। তারপর জঙ্গিরা হোটেলে প্রবেশ করে আশ্চর্য্যজনকভাবে ১৫ বন্দিকে নিরাপদে ফেরত দেয়। তখন জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়া হয়। তারা সারারাত ২০ বন্দীকে নির্মমভাবে হত্যা করে হোটেলের রক্তাক্ত মেঝেতে নিরবে কাটায়। পরদিন সকালে অপারেশন থান্ডারবোল্ট শুরু হলে জঙ্গিরা নিহত হয়। জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়া ও দেরিতে অপারেশন পরিচালনায় বিশ্ববাসী অবাক হয়। সম্প্রতি আরো বহু ঘটনায় দেখা যায়, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মাঝে বন্দুকযুদ্ধে শুধুমাত্র পুলিশের কাছে আটক ব্যক্তিরাই নিহত হয়। এতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ভিত্তিহীন জঙ্গি-সন্ত্রাস নিকৃষ্টভাবে প্রচার হয়েছে। তাইতো মায়ানমারের মতো স্বল্প ক্ষমতার দেশও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। তারা রোহিঙ্গাদেরকে সংখ্যালঘু মুসলিম না বলে বাঙ্গালি জঙ্গী-সন্ত্রাসী নামে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ভারতও সেদেশের বাঙ্গালি ও রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা করছে। এজন্য এখনই প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তিমত্তা দেখাতে হবে। সফলভাবে আরাকান দখল করে দেশের আয়তন বৃদ্ধি ও দৃঢ় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
একইভাবে আরাকান বিজয়ে বাংলাদেশের ষোলকোটি নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সকল নাগরিকের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সাড়ে সাত কোটি নাগরিককে যেভাবে সম্পৃক্ত করেছিলেন, এখনও তাই করতে হবে। আরাকান জয়ের পর ষোলকোটি নাগরিকের মাঝে বৈষম্য করা যাবেনা। প্রতিটি নাগরিককে বীরযোদ্ধা ঘোষণা করতে হবে। যেমনটি ১৯৭১ এর পরে করা হয়নি। তখন ৩০লাখ বাঙ্গালি প্রাণ বিসর্জন করলেও তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। ফলে আজও বাংলাদেশে লাখো শহীদের বংশ ও পরিবারের কোনো অস্তিত্ব নেই। শুধুমাত্র দুই লাখ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকাভুক্তদের সন্তান-সন্ততিদেরকে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশিদেরকেই ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী সাব্যস্ত করে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশে মারাত্মক বৈষম্য, অনৈক্য ও ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে। আরাকান বিজয়ের পর এসকল বৈষম্য বাতিলের দৃঢ় ঘোষণা দিতে হবে। তবেই বাংলাদেশের ষোলকোটি নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হবে। লাখ লাখ প্রত্যাখ্যাত রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরাকান জয় করবে।
অতএব আমরা মাননীয় নেত্রীকে চাই, তিনি দেশের সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষায় অযথা সময় নষ্ট না করে আরাকান দখলে মনোনিবেশ করবেন। বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি-যুদ্ধাপরাধী না খুঁজে, সকল নাগরিককে আরাকান অভিযানে সুসংগঠিত করবেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা আরাকান দখলে জীবন-পণ লড়াই করবো। মাননীয় নেত্রীকে একক, অদ্বিতীয় ও স্থায়ী শাসকরূপে গ্রহণ করবো। তিনি বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধি করে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের কর্ণধাররূপে আজীবন থাকবেন, এটাই চাই।
শিক্ষানবিস আইনজীবী, ঢাকা।


টরন্টোতে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্কের সমাধান কী?

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

ড. মঞ্জুরে খোদা (টরিক) : টরন্টোতে একই দিনে বাঙালিদের একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক চলছে। কারণ একই দিনে বিভিন্ন সংগঠন/ব্যক্তির একাধিক অনুষ্ঠান হলে দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি কমে যায়। এই ক্ষোভটা কেবল লক্ষ্য করেছি সংগঠক ও আয়োজকদের মধ্যে। কিন্তু আপনারা কি একবারও আমন্ত্রিতদের বিড়ম্বনার কথা ভেবেছেন? যখন কোন আয়োজনে উদ্যোক্তারা যার যার পরিচিত ও ঘনিষ্টদের অনুষ্ঠানে নিশ্চিত উপস্থিতি আশা করেন, তখন কেমন বিপত্তি-বিড়ম্বনাটা দেখা দেয়? সেটা নিয়ে মান-অভিমান, ভুল বুঝাবুঝি ও কেমন বিরূপ সম্পর্ক হয় তৈরী হয়, সেটা ভেবেছেন..?
আমার বিবেচনা, কমিউনিটির অবয়ব বিবেচনায় একাধিক অনুষ্ঠান হতেই পারে। দর্শক-শ্রোতা-আমন্ত্রিতারাই তাদের রুচি, সংস্কৃতি, মানসিকতা অনুযায়ী সেটা ঠিক করে নেবে, কে কোথায় যাবে। তাতে আশা করি আয়োজক/উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরী হবে এবং অনুষ্ঠানের মানও বাড়বে। দর্শক-শ্রোতারাও তখন যে কোন অনুষ্ঠান অনেক বেশী উপভোগ করবে!
বৃহত্তর টরেন্টেতে প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি বসবাস করে। সেখানে একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ৪ টি অনুষ্ঠান হলে তো কোন সমস্যা দেখি না। ৫০ হাজারের মধ্যে ১ হাজার বাঙালিও যদি ৪টি অনুষ্ঠানে ভাগ হয়ে যায়, তাতেও ২৫০ জন করে গড়ে উপস্থিত থাকবে। আর দুই হাজার হলে- সেটা হবে গড়ে ৫০০ করে। সেটাই বা কম কিসে? আর কর্মকান্ড বাড়ালে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যাও বাড়বে। এখানে যে জায়গাগুলোতে এই অনুষ্ঠান হয়, তার সব জায়গায় ৫০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা নেই। তাহলে সমস্যা কোথায়? গুটিকতক মানুষের/পরিচিতের মধ্যে এই আয়োজনগুলো সীমাবদ্ধ না রেখে, তার পরিসরকে আরও বৃদ্ধি করতে হবে। পরষ্পর অভিযোগ না করে এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।

Picture
আমি তো বাহবা প্রদান করি বাঙালি কমিউনিটিকে, ভাগ্যিস সংগঠনগুলো একই জায়গায় একই এসময়ে যার যার অনুষ্ঠান আহ্বান/ঘোষণা করেনি! সেটাই তো আমাদের সৌভাগ্য! সেটা হলে তো লঙ্কাকান্ড! অনেক বাঙালি একসাথে থাকবে, দলাদলি, লাঠালাঠি করবে না, এটাই বা কম পাওয়া কিসে? এর জন্য আমাদের শুকরিয়া আদায় না করে, বরং ক্ষোভ প্রকাশ করছি! আসলে যে কোন বিষয়ে আমরা একক কৃতিত্ব আশা করি। অনেকের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতে চাই না, নিজেদের যোগ্যতা-শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে অনিচ্ছুক।
তারপও কমিউনিটির আয়োজক, সংগঠক ও ব্যক্তিত্বরা যদি মনে করেন একই দিনে সমমনা ও সমধারা বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠান আয়োজন করলে, তাতে বিশৃংখলা তৈরী হয় এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভেদ-বিভ্রান্তি বাড়ে, তাহলে তা নিয়ন্ত্রনে একটা “প্রোগ্রা মনিটরিং কমিটি/সেল” গঠন করা যেতে পারে। তাতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরী হতে পারে এবং কমিউনিটিতে শৃংখলা ফিরে আসবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেন্টার বা সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষ কোন একটি সংগঠনকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। যারা অনুষ্ঠান করবে তাদের আবেদনের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেই কমিটি/সংগঠন এই বিষয়ে ক্রমবিন্যাসের সিদ্ধান্ত জানাবে।
অনুষ্ঠান হোক, অনুষ্ঠান আরও বাড়ুক, দর্শক-শ্রোতা বাড়ুক, অনুষ্ঠানের মানও বাড়ুক! শত ফুল ফুটতে দাও, বৈরিতা ছাপিয়ে কমিউনিটির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাক!
লেখকঃ প্রাবন্ধিক-গবেষক, এবং সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।


আপ্লুত হৃদয় = লেখক : এস ই ইসলাম

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

আছো তুমি আখিঁর ও মাঝে
মম হৃদয় বানী সাঁেজ,
বাজে তান পুরাটার তারে।
তব আখিঁর আবেদন,
পেয়েছে পূর্ণতা মম প্রাণে।
আকূল ও আবেগে আপ্লুত হৃদয়ে,
প্রভাত প্রাতে খুজেঁছি তোমারে,
হে মোর প্রিয়া, প্রিয়া।
নিশিতে আখিঁর ও ভুবনে রবে
রাখিবে তোমার আচঁলের ছায়ে
সৌরভিত হবে নিবির পূর্নিমাতে
একাকি জাগিবে তব অঙ্গঁনে
ভাবনায় পাবে সুবাসিত সঙ্গ।
মিটিতে ও পারে একাকিত্ব।


বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাঁ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার---এস ইবাদুল ইসলাম

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাঁ নাগরিক, যাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে আশ্রয় দেওয়া হয় বাংলাদেশে। সেই রোহিঙ্গাঁ নাগরিকদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আর্ন্তজাতিক কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে আর্ন্তজাতিক চাপ সৃষ্টি অব্যহত রাখতে পরার্মশ দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সাথে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে অবৈধ অভিবাসি হিসেবে চিহ্নিত করা অপচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা চ্যালেঞ্জকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন চ্যালেজ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় কমিঠির বৈঠকে।
সংসদ ভবনে বুধবার কমিটির সভাপতি ডা: দীপু মনির সভাপতিতে¦ অনুষ্টিত সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, মোহাম্মদ ফারুক খান, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স এবং বেগম মাহজাবিন খালেদ সভায় অংশ গ্রহন করেন। সভায় রোহিঙ্গা সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মিয়ানমারের অভ্যান্তরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর সাম্প্রতিক নৃশংস নির্যাতনের প্রেক্ষিতে আবারও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহনকরেছেন। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ব্রিটেন, সুইজারলেন্ড, ইউনেসকো, ইউএনএফপিএ সহ বিভিন্ন দেশ ও আর্ন্তজাতিক সংস্থা থেকে প্রতিনিধি কর্তৃক পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কর্তৃক বলপূর্বক মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় শিবির পরির্দশন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।এছাড়া যে সকল রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বসবাস করছে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন করে যারা আসছে তাদেরও ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার পরার্মশ দেওয়া হয়।এবং প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারত সহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী সুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সর্ম্পক বজায় রাখার ওপর ও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সুতরাং আমি লেখক হিসাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি পাঠক সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি যে বন্ধু প্রীতি দেশ গুলো যাতে আমাদের বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা ফেরত কার্যক্রম কে ত্বরান্বিত করতে অগ্রনী ভুমিকা রাখেন। এতে করে নিপিড়িত নির্যাতিত রোহিঙ্গারা ও তাদের নিজ দেশে পৌঁছতে পারবে। সেটাই হবে বর্তমান প্রেক্ষাপটের ন্যায্য সমাধান। আর এই সমাধানটি হয়ে গেলে এটি ইতিহাসের পাতায় মানবতার বিশাল জয়’ বলে পরিগনিত হবে।


একটি অশ্লীল শিরোনাম ‘প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেয়েছেন’ - শাহ আলম ফারুক

শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

এই দেশে এর আগে ২০ জন প্রধান বিচারপতি ছিলেন । কাউকে নিয়ে এমন তোলপাড় হয় নি কখনো, দেশের একুশতম প্রধান বিচারপতি মি: সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে  আগস্টের প্রথম থেকে যা হচ্ছে । ষোড়শ সংশোধনীর রায় এবং রায় সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে প্রধান সরকারী দলের প্রতিক্রিয়া এক অর্থে নজীরবিহীন। নির্বাহী বিভাগের শীর্ষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পাতি নেতা এমপি যে যেভাবে পেরেছে প্রধান বিচারপতিকে আক্রমণ করেছেন । এর মধ্যে কারো ভাষা ছিল অপক্ষাকৃতে শালীন । কারো ভাষা মাত্রাতিরিক্ত অশ্লীল ও অশোভন । এর মধ্যে প্রায় অন্তরীণ প্রধান বিচারপতিকে তাঁর ইচ্ছার বাইরে চিকিৎসার জন্য ছুটি প্রদান নিয়ে বেশ জমজমাট কিছু দৃশ্য জাতি অবলোকন করেছে । অসুস্থ বলে ছুটি নেয়ার কথা প্রচার করে শেষ রক্ষা হয় নি বলে শেষ পর্যন্ত মাননীয় আইনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন ডেকে সেখানে মি: সিনহার ছুটির দরখাস্ত প্রকাশ করেছেন । যে স্বাক্ষরের সাথে আবার বিভিন্ন জাজমেন্টে দেয়া স্বাক্ষর মেলে না বলে অভিযোগ উঠে।

সে যাক এরিমধ্যে একটা খবর খুব ফলাও করে প্রচার হলো প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেয়েছেন । একটা দেশের প্রধান বিচারপতি অন্য দেশে  তিন বছরের ভিসা পেয়েছেন এটা এমন কি বিশেষ খবর যে তা ফলাও করে জানাতে হয় । যদিও অস্ট্রেলিয়া এ পর্যন্ত কোন দেশের প্রধানপতির ভিসার আবেদন রিফিউজ করেছে কি না জানা নেই ।

অস্ট্রেলিয়া হোক ইউরোপ হোক কিংবা আমেরিকা কানাডা হোক সাধারণত: ভিসা ইস্যুর ব্যাপারে যথেস্ট সতর্ক থাকার চেস্টা করে । তাই বলে যে কোন সরকারের উচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত কোন ব্যক্তির ভিসা আবেদন তারা রিফিউজ করবে অবস্থা অত আশংকাজনক স্তরে যায় নি । কিন্তু বাংলাদেশে যে ভাবে এমনকী ইত্তেফাকের মত পত্রিকায় যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে নিউজটি প্রধান বিচারপতির অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাবার খবর ছাপা  হয়েছে তাতে হতবাক হতে হয় । নিউজটি পড়ে যে কারো মনে হতে পারে যে প্রধান বিচারপতির হয়তো ভিসা না পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল । ব্যতিক্রম হিসেবে, মাঝে মাঝে মোদী বা আমাদের দেশের বিশেষ কোন বাহিনীর ব্যাপারে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা থাকে, আবার তা এক সময়ে প্রত্যাহার বা পূণর্বিবেচিতও হয় ।
সে যাক হয়তো আমরা সবাই মিলে প্রধান বিচারপতিকে এমন ধরাশায়ী করে ফেলেছিলাম যাতে মনে হতে পারে এমন শক্তিহীন মানুষকে হয়তো অস্ট্রেলিয়ানরা ভিসা নাও দিতে পারতো !  একজন মন্ত্রী যখন বলে ফেলেন- তাঁর (প্রধান বিচারপতি) যদি সামান্যতম জ্ঞান থাকে, সামান্যতম বুঝ থাকে, তাহলে স্বেচ্ছায় চলে যাবেন। তা না হলে সেপ্টেম্বর মাস থেকে আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।’ শেষমেশ এমন এক পরিস্থিতি সৃস্টি করা হলো যে তাকে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হলো ডেট লাইন অনুসারে সেপ্টেম্বরের পর পর অক্টোবর মাসে।
এমন কিছু পদ আছে যেটা যত না ব্যক্তিক তার চেয়েও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সাংবিধানিক গুরুত্বের । মি: সিনহা ব্যক্তিগতভাবে প্রধান বিচারপতি হলেও প্রধান বিচারপতি পদটি ব্যক্তি মি: সিনহাকে ছাড়িয়ে অনেক বেশি মর্যাদামন্ডিত ও শ্রদ্ধেয়। একটা বিশেষ ব্যক্তির পর্যবেক্ষণ কে কেন্দ্র করে যারা প্রধান বিচারপতি তথা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন করেছেন ইতিহাস কখনো তাদের ক্ষমা করবে না- এ আশাটুকুতো করাই যায় ! নইলে হতাশা ছাড়া যে কোন ভবিষ্যৎ থাকে না।

শাহ আলম ফারুক : লন্ডন প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী
আইনজীবী, সাবেক সিনিয়র তদন্ত কর্মকর্তা,
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক )
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


অনুত্তর প্রশ্ন ! -সুহাস বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

কোথায় থাকো স্রষ্টা তুমি? কোথায় তোমার বাড়ী ?
দেখতে তুমি কেমন প্রভু? পুরুষ কিংবা নারী ?
স্রষ্টা বলে জানে তোমায়, নানান ধর্ম - জাতে ,
বিশ্ব জুড়ে বিশ্বাসীরা ডাকছে দিনে রাতে!
তোমার কথা বলে গেলো মুসা, ঈসা, নবী !
কেউ দেখেনি তোমার কায়া, কেউ আঁকেনি ছবি !
ধর্ম লইয়া এলো প্রচারক দূত, পুত্র বলে ?
ধর্মের  নামে ভাগ হয়ে গেলো মানুষেরা দলে দলে !
কেনো দিলে তুমি এতো প্রচারক? গ্রন্থ, গ্রন্থ,বাণী ?
ধার্মিকেরা বাণী পড়ে পড়ে করে যায় হানাহানী !
তুমি জানি সদা সর্বজ্ঞ, সবার মন যে জানা !
ধর্ম দূতেরা ভুল করে যাবে, কেন করিলেনা মানা ?
স্রষ্টা আছো ? কেমন আছো? কেউ ভাবে না যে তাহা !
তোঁমার কাছে চেয়েই গেলো, যার মন চায় যাহা।
কোথায় আছো স্রষ্টা তুমি, কোথায় দেখা পাই ?
বিশ্বাস ছাড়া, বিশ্বাস করা, অন্য পথ কি নাই?
বিশ্বাসে দেখি বিড়ম্বনা, বিশ্বাসী বিভ্রান্তে !
মতবাদে বিশ্বাসীরা, ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে ?


মুসলিম হলেই সন্ত্রাসী, অন্যরা নিঃসঙ্গ শিকারি!

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

হিসেবেই বিশ্বাস করেন। লাস ভেগাসের সন্ত্রাসী হামলার পরপরই মার্কিন সংগীত শিল্পী আরিয়ানা গ্রান্ডে তার টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে দাবি জানান, ওই হামলাকে তার প্রকৃত নামে আখ্যায়িত করতে। এর আগেও কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরাতে সিনেমা হলে হামলাকারী জেমস হোমস (হামলায় ১২ জন নিহত হয়), কিংবা নর্থ ক্যারোলিনায় গির্জায় হামলাকারী (হামলায় ৯ জন নিহত হয়), সেগুলো মার্কিন প্রশাসনে ‘নিঃসঙ্গ হামলাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
লন্ডন সাবওয়ে হামলার হোতা কে এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিলÑ তা বিন্দুমাত্র প্রকাশিত হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উক্ত ব্যক্তিকে ‘পরাজিত সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে তার ‘মুসলিম ব্যান’ এর যৌক্তিকতা তুলে ধরার প্রয়াস চালান। নেভাডা অঙ্গরাজ্যের আইনে সন্ত্রাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধিমালা থাকলেও এসব ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দেওয়া হয়নি।

Picture

ইরাকি বংশদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক মেহেদি হাসান তার প্রবন্ধে বলেছেন, প্রতি তিনজন কথিত ‘মুসলিম জিহাদি’র দুজনই পাশ্চাত্যে জন্মলাভ করেছে কিংবা পাশ্চাত্য ভাবধারায় লালিত-পালিত।
এ প্রসঙ্গে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি পাশ্চাত্যের যুবসমাজের উদ্দেশে লেখা পত্রে যথার্থই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এ প্রশ্ন তুলতেই হবে, পাশ্চাত্যে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তিরা যারা বুদ্ধিবৃত্তিক এবং পাশ্চাত্য মানসিকতায় বেড়ে উঠেছেÑ কেন এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে? এটা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য, তাদের কেউ কেউ মাত্র দু-একবার যুদ্ধ ক্ষেত্রে গিয়েই এতটা উগ্রবাদী হয়ে পড়েছে। এমনকি নিজেদের সহযোদ্ধাদের বুলেটে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিতেও দ্বিধা করছে না?’

গার্ডিয়ান পত্রিকার এলান ট্রেভিসের প্রকাশিত ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই ফাইভ’ এর এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ‘ধর্মান্ধ মুসলিম’ হওয়া তো দূরের কথা, এসব সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তিই ধর্মীয় আচার পালনই করে না; বরং তারা মাদকাসক্ত এবং অসামাজিক জীবনযাপন করে থাকে।
মেহেদী হাসানের প্রবন্ধে দেখা যায়, পাশ্চাত্য যাদের মুসলিম সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করতে ক্ষণকালও দ্বিধা করে না, তাদের অধিকাংশেরই অ-ইসলাম সংশ্লিষ্ট সহিংস ইতিহাস বিদ্য মান। যেমন লন্ডন হামলার হোতা ৫২ বছর বয়সী খালেদ মাসুদ, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যেই এবং ২০০৩ সালে জেলে অবস্থানরত অবস্থায় খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করে। ইসলাম গ্রহণের আগেই তার রয়েছে নৃশংস ঘটনা ঘটানোর ক্রিমিনাল হিস্ট্রি। ১৯৮৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে, আবার ২০০০ সালে এবং ২০০৩ সালে (ইসলাম গ্রহণের আগেই) তার বার বার সহিংস কর্মকা-Ñ কিংবা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার ইতিহাস কারোর অজানা নয়। প্রখ্যাত ব্রিটিশ একাডেমিক এড্রিয়েন হিল্টন এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছেন, ‘ইসলাম খালেদ মাসুদকে সহিংস করে তোলেনি; বরং আগে থেকেই সে একটা অমানুষ ছিল।’
কিন্তু কে শোনে কার কথা! মার্কিন প্রশাসন, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সেবাস্টিয়ান গোর্কা ফক্স নিউজকে জানাচ্ছেন, ‘যুদ্ধটা বাস্তবিক! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসী আইন আর মুসলিম ব্যান যুক্তিযুক্ত।’

লেখক : কলামিস্ট


দেশী বৌদ্ধদের কি দোষ, ওদেরকে কেন মারছেন?

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

ইমতিয়াজ মাহমুদ : এখন রোহিঙ্গাদের কথা কি বলবো? ওদের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা তো আমাদের আছেই। আমাদের সরকারও ওদেরকে সাহায্য করছে। আমাদের সরকার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক ফোরামে নিয়ে গিয়ে সেখানে মায়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে করে ওরা রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নেয়, ওদের অধিকার রক্ষা করে, ওদেরকে আইনের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাবস্থা করে। আর মানবিক সাহায্যের ব্যাপারে তো আমাদের দেশের সকলেই একমত- অনেকটা জাতীয় ঐক্য যেন তৈরি হয়েছে।

কিন্তু আমাদের দেশী বৌদ্ধদের কি দোষ। ওদেরকে কেন মারছেন? এটা কি ধরনের অন্যায়? এটা কি ধরনের প্রতারণা? এটা কি ধরনের ভণ্ডামি? এটা তো পুরা ভণ্ডামি রে ভাই। কেন এটাকে ভণ্ডামি বলছি?
মায়ানমারের কাছে আমরা কি দাবী করছি? আমরা দাবী করছি যে রোহিঙ্গারা হিন্দু কি মুসলিম কি বৌদ্ধ সেটা মুখ্য বিষয় নয়, ওরা প্রায় হাজার বছর ধরে বার্মায় বসবাস করছে, ওরা বার্মার নাগরিক, ওদের বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা অন্যায়। বলছি না আমরা এই কথা? বলছি না যে কেবল ধর্মের কারণে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদেরকে ভিন্ন চোখে দেখতে পারে না? বলছি তো। তাঁর মানে আমরা কোন নীতিটা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি? আমরা চাইছি যে একটা জনগোষ্ঠীর সাধারণ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন করা যাবে না। তাইলে আমরা কেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অন্যদেরকে মারবো। এটা ভণ্ডামি না? বার্মাকে বলবো ধর্মের কারণে বৈষম্য করছ- সেটা অন্যায়, আর আমরা নিজেরা ধর্মের কারণে মানুষের উপর অত্যাচার করবো?
একটা ভিডিও পাঠিয়েছেন এক বন্ধু, সেখানে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রাণভয়ে কাতর হয়ে ওকে যা বলতে বলছে তাই বলছে ক্যামেরার সামনে। আশপাশ থেকে গালাগালি আর হুমকির আওয়াজ ভেসে আসছে। এটা নাকি বেনাপোলের ঘটনা। আমার পিচ্চি দোস্ত অংপ্রু (আমি ওকে ডাকি বাবু বলে), ওর কাছে আরও কয়েকজনের কাছে শুনলাম চট্টগ্রামে অক্সিজেন এলাকায় নাকি হুমকি দেওয়া হয়েছে, ১৬ তারিখের মধ্যে সকল বৌদ্ধদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাইলে ওদের খবর আছে। অক্সিজেন এলাকায় অনেক পাহাড়ি আদিবাসী বাস করে- অনেকেই ছাত্র, অনেকে শহরে নানারকম চাকরী বাকরি করে।
কিছুদিন আগে মিরপুরে একটি বৌদ্ধ বিহারে হুমকি দিয়েছে। বৌদ্ধদেরকে মেরে ফেলা হবে, কিয়াং ভেঙে ফেলা হবে ইত্যাদি। মিরপুরে নাকি পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে বিহারের আশেপাশে। কিন্তু দেশের অন্যত্র? পাহাড় থেকে ছেলেমেয়েদের বার্তা পাই। ওরা ভয় পাচ্ছে। অজানা অচেনা লোকজন আনাগোনা করছে। রাতের অন্ধকারে কারা যান ট্রাক নিয়ে একখান থেকে আরেকখানে যাচ্ছে।
আমি ভয় পাচ্ছি। ভয় পাচ্ছি, তবে কি রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের মানবিক সহানুভূতিকে ব্যাবহার করে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এদেশে সাপ্রদায়িক অশান্তি তৈরি করবে? আপনারা যারা লিবারেল গণতন্ত্রমনস্ক মানুষরা আছেন, আপনারা কিছু বলবেন না? আমরাও কি তবে মায়ানমারের মতোই মানুষ মারতে থাকবো? মানুষই তো। মায়ানমারের ওরা রোহিঙ্গা মারছে, ওরাও মানুষ, আর আমাদের বৌদ্ধরাও মানুষ। মানুষই তো। শেষ বিচারে মৃত্যু তো হয় মানুষেরই।
মেহেরবানি করে সকলে একটু বলেন, মুখ খোলেন। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস আমরা সহ্য করবো না। বৌদ্ধ বলেই কাউকে মারতে ধরবেন না, হেনস্তা করবেন না। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষকে অত্যাচার করা সেটা সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের কাজ।
হিন্দু উগ্রবাদী, মুসলিম উগ্রবাদী এরা সকলেই এক এই ব্যাপারে। আর আছে ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার বানাতে চায় ওরা। আমাদের এখানে জিয়াউর রহমান যেরকম আমাদের জাতীয় পরিচয়ে আর রাজনীতিতে ধর্মীয় উপাদান ঢুকিয়েছিলেন, একইভাবে মায়ানমারের মিলিটারি শাসকরাও ধর্মীয় উপাদান ঢুকিয়েছে। জিয়াউর রহমান ঢুকিয়েছেন ইসলাম আর বার্মার ওরা ঢুকিয়েছে থেরোবাদি বৌদ্ধ ধর্ম। আপনি যদি আসলেই উদার গণতন্ত্রী হয়ে থাকেন, আসলেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকেন আর আসলেই যদি আধুনিক হয়ে থাকেন তাইলে আপনাকে এদের বিরুদ্ধে কথা বলতেই হবে।
এমনকি আপনি যদি রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রকৃতই সহানুভূতিসম্পন্ন হয়ে থাকেন তাইলেও আপনাকে বৌদ্ধদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমার এই প্রিয়তম স্বদেশে ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হাতে মানুষ হত্যা সহ্য করবো? আপনি বলেন, করবেন?
(ফেসবুক থেকে নেওয়া)