Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/images/stories/2015/April/05/04/images/stories/2015/April/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

সৃষ্টিকর্তাই মহাপরাক্রমশালী । আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

রাজনীতি ও সমরবাদিতার সাথে ধর্মকে গুলিয়ে ফেলে দখলতন্ত্র চালু হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে।
মুসলমানদের প্রথম কেবলার মসজিদ বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের কাছ থেকে কেড়ে নেবার চক্রান্তকারীদের মুখপাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্ফ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সহ সারা দুনিয়ায় কোনঠাসা হয়ে গেলেন।আল্লাহ্‌র ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে মহাশক্তিধর ভাবতে দুনিয়ায় যুগে যুগে নমরুদের অনুসারীর উত্থান হয়ে আসছে।তাদের সবাই আল্লাহ্‌র দেয়া শাস্তির উদাহরণ হয়েছেন মানবজাতির কাছে।কেউই মহাপরাক্রমশালী সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌র দেয়া নির্ধারিত সীমার বাহিরে যাবার চেষ্টা করে শাস্তি থেকে রক্ষা পায়নি। তা যেমন অতীতে হয়েছে,বর্তমানেও তাই,ভবিষ্যতে কোন ব্যতিক্রম হবেনা।
 ইহুদীদের মধ্যেকার কে না জানে ফেরাউনের পরিণাম?যে আল্লাহ্‌র সাথে নিজেকে তূলনা করে বিলাসজীবনের সেরা নিদর্শন বানিয়ে তাকে বেহেশত বলে চ্যলেঞ্জ করেছিলেন।অথচ তাকে তুচ্ছদের চেয়েও  তুচ্ছে পরিণত হতে বাধ্য করা হয়েছিলো। তাচ্ছিল্যের পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিলো আল্লাহ্‌র হুকুমে মৃত্যুর কাছে আত্নসমর্পনের আগে।সমুদ্রে ডুববার আগে।  
খৃষ্ঠান সম্প্রদায়ের মধ্যেকার কে না জানেন যে  হযরত ঈষা(আঃ) কে আল্লাহ্‌র নবী  না মেনে তাকে যারা শুলে গেঁথে প্রাণ কেড়ে নিতে উদ্যত হয়েছিলো আল্লাহ্‌র অলৌকিক ক্ষমতায় তাকে তিনি উপস্থিত জালেমদের মধ্য থেকে সরিয়ে নিলেন।
 আবার মরিয়ামের পুত্র ঈষাকে দুনিয়ায় পাঠাবেন তার প্রার্থনা পূরণ করতে।তাকে আল্লাহ মানবজাতির শিক্ষক ও পথ প্রদর্শক অর্থাৎ একজন মহান নবী করেছিলেন।আল্লাহ্‌র এই প্রিয় নবী শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ(দঃ)এর উম্মত হয়ে আল্লাহ্‌র কাছে হাজির হওয়াকেই অধিকতর সম্মানিত বলে জেনেছেন এবং তার এই প্রার্থনা মনজুর চেয়েছেন। কোরআন,জবুর,ইঞ্জিল ও তওরাত গবেষণাকারীরা এসব কথা সব সময় প্রচার করে এসেছেন।তবে আল্লাহ্‌ নিশ্চয়ই তার পরিকল্পনাই কার্যকর করবেন।      
আমরা আমেরিকানরা দেখছি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্ফ এবং হোয়াইট হাউস কোনঠাসা হয়েছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন ইস্যু বিষয়ে অতি সাম্প্রতিক ভোটাভূটিতে।এতে আমেরিকা প্রতিনিধি ভোটে তাকে সমর্থন দিতে সারা দুনিয়ার কোন দেশকে পায়নি।বিশ্ব সুপারপাওয়ার আমেরিকার জন্যে এই পরিস্থিতি একটি নয়া উদাহরণ হয়ে গেলো। হোয়াইট হাউসের বিগত প্রশাসনের কালে সারা বিশ্বকে দেখেছি আমেরিকার সমর্থনে।অল্প কদিনের ব্যবধানে আমেরিকার নেতৃত্ব হয়ে গেলো ইতিহাসের অংশ।এই অবস্থা থেকে আমেরিকাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে।মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে হবে।এই প্রত্যাশা আমেরিকানদের।  
নাগরিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের রাজনৈতিক প্রকৌশল বা টেকনোলজি কি হতে পারে?প্রেসিডেণ্ট ওবামার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের মতে আমেরিকার স্বার্থরক্ষার ও মর্যাদা টিকিয়ে রাখার একমাত্র পথ হচ্ছে কূটনৈতিক উপায়।বিশেষ করে ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি সম্পর্কিত ঘটনায় দেখা গেছে আমেরিকার অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহ সকল প্রতিযোগীই আমেরিকার উদ্যোগে দৃঢ় সমর্থন করেছে।বর্তমানে ট্রাম্ফ প্রশাসনের কালে ট্রাম্ফ হার্ড লাইনে চলছে ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে।ট্রাম্ফ অবশ্য নিজেই গৌরব প্রকাশ করেন এই বলে যে,তিনি এবং তার প্রশাসন অতীতের কারো মতো নন।তারা অনেক শক্ত এবং শক্তিশালী, সাহসী।    
জার্মান বংশদ্ভূত ডোনাল্ড ট্রাম্ফ উত্তর কোরিয়াকে উস্কে দিয়ে আমেরিকার প্রশাসন অনেক সফল হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন।ভিন্নমত হচ্ছে উত্তর কোরিয়ায় যুদ্ধ করার ক্ষমতা আমেরিকার নেই।মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমান রাষ্ট্রগুলো রাজতন্ত্রের  পৃষ্টপোষকতার বিনিময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্ফ প্রশাসন এবং নেতানিয়াহু প্রশাসনকে তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করতে একমাত্র সহযোগী হয়েছে।
 যুদ্ধংদেহীদের প্রভাবের বাস্তবতায় এসেছে  পরিবর্তন । প্রচলিত কূটনীতিকে অতিক্রম করে শক্তিচর্চায় অগ্রাধিকার দেখাচ্ছে ওরা।বিশ্বরাজনীতির প্রতিযোগীতার কৌশলে আঘাত হানছে এই বিশেষ শক্তি।চেষ্টা করছে আর ব্যর্থ হচ্ছে বিবেকের শক্তিকে বিভক্ত করতে,করতে দূর্বল।দুনিয়ার জাতিসমূহ এই বর্বরতার কাছে হেরে যেতে হচ্ছেনা রাজি।তারা ফিরিয়ে দিচ্ছে ট্রাম্ফ ও নেতানিয়াহুর আবদার।এই গোষ্ঠীটি দানবীয় অপরাধের চাপের নীচে মানবজাতিকে থেতলে দিতে উদ্যত হয়েছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কাছে ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্ফের ঘোষণা অনুসরণ করে ইহুদি দখলদারিত্বকে স্থায়ী করার লক্ষ্যে জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী করার সমর্থন দিতে।সংস্থাটির  পররাষ্ট্রনীতি  বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনিতা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন গতকাল।
১২ই ডিসেম্বর  (সোমবার) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসলেসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি আরো বলেছেন, বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন মেনে চলবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহু প্যারিস থেকে ব্রাসেলসে গেছেন। ২২ বছরের মধ্যে এটা ইসরাইলের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন সফর।     
  গত বুধবার বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু ইউরোপের বহু দেশ এর বিরোধিতা করেছে। এমনকি ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ চেক প্রজাতন্ত্র বলেছে, ট্রাম্পের পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য খারাপ। তবে নেতানিয়াহু অনেকটা পীড়াপীড়ি করে বলেছিলেন, "আমি বিশ্বাস করি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ কিংবা বেশিরভাগ দেশ বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং তেল আবিব থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে নেবে।
 এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু মঙ্গলবার বলেছেন, “কয়েকটি আরব দেশ খুবই দুর্বল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যেন তারা আমেরিকাকে অত্যন্ত ভয় পায়।” তিনি আরো বলেন, “যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় নি আমরা সেইসব দেশের প্রতি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানাব।”     
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বুধবার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র যে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সেখান থেকে এ সংস্থার সদস্য দেশগুলোকে আমেরিকার “আমি পরাশক্তি, আমি যা খুশি তাই করতে পারি” -এই মানসিকতার বিরুদ্ধে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে।  
 ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক ব্যর্থতার পর এখন বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নুরুদ্দিন জানিকলি'র সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি আরও বলেছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় পরাজয়, ইরাকের কুর্দিস্তানকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার কেলেঙ্কারির পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার পর চলমান পরিস্থিতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি ও তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নুরুদ্দিন চানিক্‌লি টেলিফোনে আলাপ করেছেন। দু জনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্প ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘বড় ভুল’ বলে উল্লেখ করেন।
ফোনালাপে দুই মন্ত্রী ইরান ও তুরস্কের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে কথা বলেন। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বার বার মার্কিন নীতির ব্যর্থতা বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পতন এবং ইরাকের কুর্দিস্তানকে বিভক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় মার্কিন নীতি ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যর্থতা ঢাকতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসময় বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছেন।
এতে সংঘাত বাড়ছে।আমেরিকা ও ইজরাইলের প্রতি বিশ্বসমাজের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে,যে ধারায় আমেরিকা হারাচ্ছে নেতৃত্ব।শুন্যতা পূরণে নেতৃত্বে উঠে আসছে নয়া শক্তির জোট।
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও  বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংস্থা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান)।


কবি শফিকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কবিতা

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

॥স্বাধীনতার গান
(মুক্তিয়ুদ্ধকালীন সময়ে হারিয়ে যাওয়া কবিতাটি স্মৃতি থেকে লেখা)

কবিতায় আর গানে বহুবার
স্বদেশকে নিয়ে কাব্য করা হল সার
বুকের রক্তে লিখবো এবার স্বাধীন বাংলাদেশ ॥

যুগে যুগে কত হায়েনারা হানা দিয়ে এখানে
ফিরে গেছে তারা ব্যর্থ হয়ে
উদ্ধত প্রতিরোধের মুখে মুক্ত রেখেছি স্বদেশ ॥

যখন উদ্ধত অন্যায় অবিচার
স্বদেশের প্রিয় মাটিতে করেছে বাহু বিস্তার
ভালবাসার অহংকারে মোকাবিলা করেছি আপ্রাণ॥

আমাদের চেতনায় চেতনায় এখন
সেই দুঃসাহসের দৃপ্ত প্রতিফলন
আমরা পথে নেমেছি যখন, কে রুখবে এ অগ্রাভিযান ॥

জনতার বাধ ভাঙা জোযারে
কাপন জাগাবো কাযেমী স্বার্থের প্রাচীন প্রাচীরে
শোষকের ভিত নড়ে উঠবে এবার ॥

শোষকের হাতে যারা হয়ে বঞ্চিত
মিথ্যে ভাগ্যকে দায়ী করছে প্রতি নিয়ত
তাদেরকে প্রকৃত শত্রু চিনিয়ে দেবো এবার ॥

ঘুমিয়ে আছে যারা তাদের ঘুম ভাঙবো এবার
মানুষের হাতে ফিরেয়ে দেবো হৃত অধিকার-
মুক্ত করবো প্রিয় স্বদেশ আমার বাংলাদেশ ॥


বঙ্গবন্ধুর অবিনাসী সৃষ্টি আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ ---এস ই ইসলাম

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বাংলা মায়ের হৃদয়ে অন্তশ্রাবী আঘাত, বোবা মুখের গলুদ হাহাকার, প্রতিশোধের আগুনের তীব্রতায় সমগ্র বাঙালী জাতি, এরই মাঝে দীপজ্বালা পথে আলোক শিখার মত অবির্ভূত বাংলা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিনাসী দেশ প্রেমের কালজয়ী প্রভাত প্রতীম পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর অবিনাসী সৃষ্টি আজকের স্বাধীন এই বাংলাদেশ। মানুষের মন প্রান উজার করা সমর্থন ও তার প্রতি স্বশ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাংলার এই বিজয়। ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস তাঁর জীবনের সর্ব শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশাল বটবৃক্ষ। তাঁর ব্যাক্তিত্বকে বিশ্লেষন করলে দেখা যায় তিনি এ বাংলার প্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ট রাজনীতিবিদ। তবে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ব্যাপার যে আইয়ুবখান ১৯৬৯ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীতে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হতে অব্যহতি দিয়ে নিজেই পদত্যাগ করেন এবং ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। আইয়ুব খানের হৃদয়ে ঐ ঝড় উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর ঝড়। মূলত বঙ্গবন্ধুর জীবনে একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সংগ্রাম এবং বাংলার মানুষের মুক্তির জাগরণ। এই জাগরণ অনেক সাধনা ও ত্যাগের ফলে শেষ পর্যন্ত জয়গানে পরিনত হয়েছে। এ জাতিকে হৃদয়ে সাহস নিয়ে পথ চলতে ও জাতির স্বপ্নকে স্বার্থক এবং সফল করার প্রতিটি সংগ্রামী পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধু সফল হয়েছেন।
তার একক চিন্তা চেতনা সুদুর প্রসারী ভাব প্রকাশের স্বার্থক হয়ে যায়। মহাকাব্যের মহানায়কের মতই অতিবাহিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন পরিত্রুমার পথ চলা। মূলত মহাকাব্যের মহা নায়ক কখনও পরাজিত হন কেবল মাত্র নিয়মিত নির্মম পরিহাসের কাছে। বঙ্গবন্ধুর জীবনে আমরা একই অবয়ব দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে আজ বেঁচে নেই চলে গেছেন চিরতরে না ফেরার দেশে। নিয়তির নির্মম পরিহাসকে বরন করে তিনি চলে গেছেন। রেখে গেছে রবি ঠাকুরের অজঢ় কবিতা ও অবিনাসী গানের মত তার সংগ্রাম মূখর কর্মকান্ডের অক্ষয় ঘঠনা আশ্রিত বিষ্ময়কর ইতিহাস। এ জাতিকে দিয়ে গেছেন সম্পুর্ণ স্বাধীন একটি দেশ। তিনি রেখে গেছেন তার আদর্শ উত্তরসূরী। আজ স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে যে, ভাষনটি বিশ্বের দরবারে স্বীকৃত পেল একমাত্র শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক ভাষন হিসাবে। প্রায়াত কাল জয়ী নেতা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম! এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!
গত ২ বছর পূর্বে সংবাদ কনিকা বগুড়া পত্রিকাটিতে প্রকাশিত হয়েছিল আমার লেখনিতে তা হলো ‘বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষন সমগ্র জাতির হৃদয়কে স্পর্শ করে’ কথাটির স্বীকৃতি এ ভাবেই মিলে যাবে ভাবিনী। আজ আমি সত্যি খুবই অনন্দিত। স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ আজ উপভোগ করছি এ বাংলাতে আমরা চিরদিনই স্বাধীন মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এ বাংলা আশ্রিত, কবিতা গল্প, গান আমাদের অনাবিল আনন্দ ও তৃপ্তি দান করে। সত্যিই মহান নেতা জাতির পিতা জীবন বৃক্ষের মাঝে মহান মহিমায় ফোঁটা একটি অবিনাসী ফুল হয়ে বাঙ্গালী জাতিকে সুরভী বিতরণ করছেন। কবিগুরু রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে হৃদয়ে লালন করে বাংলার যে নির্যাতন, যে জুলুম, শ্রী ও পুষ্টি তার সবটুকু জনগনদের মাঝে বিতরণ করেছেন। মহাকাব্যের মহিরথে হারিয়ে যাবেন তিনি তার দার্শনিক তত্বে মাহিমাদৃত ‘সোনার তরী’ কবিতায় প্রকাশ করেছেন।
ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই তার ছোট সে তরী
আমারই সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।

অর্থাৎ বাংলাভাষীদের জন্য নেওয়ার মত যা কিছু রবিঠাকুরের কবিচিত্তে সঞ্চত ছিল, সবই তিনি দিয়েছেন। দেওয়ার মত কিছু আর বাকি নেই। বঙ্গবন্ধু তেমনি বাঙ্গালী জাতির জন্য যা কিছু দেওয়ার সব কিছু দিয়ে এ জাতির পাত্র খানি পরিপূর্ণ করে গেছে। বর্তমান বিশ্বে বাঙ্গালী জাতিসত্বার বিকাশের পথে এক অনবদ্য কান্ডারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরসূরী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই এখন স্বাধীন বাংলায় তারই বাবার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে আতœনিয়োগ করেছেন। তিনি সম্পুর্ণ ভিন্নধর্মী চিন্তা, চেতনা ও সাহসীকতা এবং স্বপ্নের সংমিশ্রনে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য তথ্য নির্ভর প্রযুক্তি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। শেখ হাসিনার স্বপ্নময় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প নিয়ে অনেকে অট্রহাসি করেছে কিন্তু আজ শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প’ বাস্তব রুপ নিতে চলছে।
১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিন ব্যাপি জাতীয় প্যারেট গ্রাউন্ডে কুজ কাওয়াজ ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কনসহ নানা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।


পাঠকদের অনুরোধে কবিতাটি পুনরায় ছাপা হলো

হে মহান বাংলার স্থাপতি

লেখক : এ্যাড. এস ই ইসলাম
উৎসর্গ : বঙ্গবন্ধুর পরিবার বর্গ

হে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা
তোমার কৃতিত্ব বাংলার স্বাধীনতা,
লাল সবুজের পতাকা দিয়েছো
দিয়েছো পৃথিবীর মানচিত্রে,
স্বাধীন দেশের পরিচয়।

হে বঙ্গবীর মহানায়ক
তোমার সততায় উড়ছে,
শ্বেত কবুতর স্বাধীনতা দিবসে।
সমর যুদ্ধো জয়ের উল্লাসে
বাংলার মাটি আজও হাসে।
খাঁটি বাঙালীর পরিচয়ে
এ সবই তোমার অবদান।

বাঙালীর হৃদয়ে তুমি রবে,
স্মৃতি হয়ে অম্লান।
তোমার কৃতিত্ব রবে,
সারা বাংলায়।
তুমিই হলে বাংলার সংবিধান।


জঙ্গিবাদ ও প্রকৃতিপ্রেমী = আলম শাইন

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

নিজকে পাখিপ্রেমী কিংবা প্রকৃতিপ্রেমী বলে পরিচয় দিতে সংকোচবোধ করছি গত সপ্তাহ থেকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মাচরের জঙ্গি প্রশিক্ষণের ঘটনায় হতচকিত হয়ে গেছি দেশবাসীর সঙ্গে আমিও। বিশেষ করে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার ২৯.১১.২০১৭ তারিখের শিরোনাম ‘পাখিপ্রেমীর আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ’ আমাকে বিচলিত করেছে খানিকটা। সংবাদ পাঠে আরো বিচলিত হয়ে পড়ি জঙ্গিদের কূটকৌশল জানতে পেরে। বিষয়টা নিয়ে আমার প্রিয় মানুষদের একজন দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু বকর চৌধুরী ভাইয়ের সঙ্গে মতবিনিময়ও করি। তিনিও হতবাক হয়েছেন জঙ্গিদের অপকৌশলের সংবাদে। কারণ আমরা দু’জনই প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ; পাখিপ্রেমী তো বটেই। পাখ-পাখালি কিংবা প্রকৃতি নিয়ে লেখালেখি করে মানুষকে উৎসাহিত করি প্রকৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে। অথচ সেই ভালো কাজটিকে কলুষিত করে দিল কি-না জঙ্গিবাদীরা। বিষয়টা জঘন্য! ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে আমাদের। ভাগ্যিস আমাদের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সচেষ্ট ছিল, না হলে আরো বড় ধরনের নাশকতা ঘটার সম্ভাবনা থেকে যেত।

জঙ্গিবাদ নিয়ে ইতিপূর্বেও লিখেছি। তাই হয়তো একই কথা বারবার আসতে পারে। কথাগুলো বারবার আসলেও বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের। কেন বারবার লিখছি? কেন আমাদের সন্তানেরা বিপথগামী হচ্ছে? সেই বিষয়টি আগে মাথায় আনতে হবে এবং বুঝেশুনে তার প্রতিকারও করতে হবে। নিজে প্রতিকার করতে না পারলে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রথমত বলতে হয়, জঙ্গিবাদ শব্দটা নতুন নয়, তবে এদের কর্মকাণ্ড নতুন করে ধরা দেয় আমাদের কাছে প্রায়ই। অর্থাৎ নতুনরূপে নতুন আইডিয়া নিয়ে জঙ্গিরা কিছু একটা করার বদ্ধপরিকরে গোপনে নাশকতায় অংশ নিয়ে নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে রক্তপাত ঘটিয়ে থাকে। তেমনি একটি নতুন আইডিয়ার প্রমাণ পেলাম আমরা পদ্মার চরের ঘটনায়। এ ধরনের হরেক আইডিয়া জঙ্গিদের মাথায় গিজগিজ করছে, যা দেশের উন্নয়মূলক কোনো কাজে খাটাতে পারে না এই বিপথগামী মানুষগুলো।

জঙ্গিদের মূল উদ্দেশ্যটা কি হতে পারে তা মিশনে অংশগ্রহণকারীদেরও জানার বাইরে থাকে। তারা জানে মিশন সফল করা মানে হচ্ছে স্বর্গপ্রাপ্তি। সফল করতে না পারলেও সমস্যা নেই, অংশগ্রহণ করলেই হবে, এমনটি-ই ওদের ইন্ধনদাতার পরামর্শ। ফলে কিছু তরুণকে প্রলোভনে পড়ে বিপথগামী হওয়ার সংবাদ জানতে পারি আমরা। এ ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি বিত্তশালীদের সন্তানরা এগিয়ে আছে। যাদের অধিকাংশই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তন্মধ্যে যেটি লক্ষণীয় সেটি হচ্ছে এরা বেশিরভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রশ্ন হতে পারে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে গিয়ে তরুণরা কেন জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে? যদিও এ প্রশ্নের সঠিক জবাব আমাদের জানা নেই, তবে ধারণা করা যেতে পারে বিপথগামী হওয়ার অন্যতম কারণগুলো। যেমন: পাবলিক ভার্সিটিগুলোতে রাজনৈতিক চর্চার পাশাপাশি রয়েছে নানাধর্মী বিনোদনের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা অতি ব্যস্ত থাকেন লেখাপড়া, বিনোদন কিংবা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে। তাছাড়া পাবলিক ভার্সিটি পড়ুয়ারা এমনিতেই মেধাবী ছাত্র। তার ওপর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকে ভার্সিটি পেরিয়ে দ্রুত কিছু একটা করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। যা লক্ষ্য করা যায় না বেসরকারি ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। তাদের অধিকাংশ অভিভাবকদের রয়েছে অঢেল সম্পদ। ফলে পারিবারিক সচ্ছলতার বিষয় নিয়ে তাদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন পড়ে না। এরা ব্যবসায়ী কিংবা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও নিজেরা রাজনৈতিক চর্চা থেকে দূরে থাকেন। কারণ প্রাইভেট ভার্সিটিতে সে ধরনের সুযোগ নেই।

এদের মধ্যে আবার অনেক শিক্ষার্থী আছেন তারা বিভিন্ন কারণে হতাশায় ভুগে থাকেন। সেই কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে বাবা-মায়ের সম্পর্কের অবনতি কিংবা নিজের প্রেমে ব্যর্থতা দেখা দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। সব মিলিয়ে যখন শিক্ষার্থীরা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে দিগি¦দিক হারিয়ে ফেলে সেই সুযোগে কাছে ভিড়তে থাকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। খুব কাছে টানতে চেষ্টা করে তখন তারা। বিভিন্ন কৌশল খাটিয়ে এক সময় শিক্ষার্থীটিকে কব্জা করে ফেলেন। ধীরে ধীরে প্ররোচিত করে স্বর্গপ্রাপ্তির লোভ দেখিয়ে একসময় নাশকতা কর্মকাণ্ডে পাঠিয়ে থাকেন, যা ঘটছে সাম্প্রতিক সময়েও।

নব্বই দশক পরবর্তীতে জঙ্গিবাদের বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত হয় ব্যাপকভাবে। ইতিপূর্বে শব্দটি মানুষের জানা থাকলেও চাক্ষুষ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখার সুযোগ হয়নি। নব্বই দশক পরবর্তীতে বিভিন্নরূপে বিভিন্ন নাম ধারণ করে এবং নতুন কৌশলে জঙ্গি সংগঠনগুলো আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। অবশ্য তার প্রতিকারও করছেন আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকজন। বড় ধরনের অনেক নাশকতা থেকে রক্ষা করেছেন তারা দেশবাসীকে। হিম্মত দেখিয়ে জঙ্গিদের মোকাবিলাও করেছেন; প্রাণও বিসর্জন দিয়েছেন কেউ কেউ। সাধুবাদ জানাতে হয় তাই তাদেরকে।

লেখক: কথাসাহিত্যিক
বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ


সততায় তৃতীয় স্থান অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

ফজলুল হক খান: মানবকণ্ঠ কলামপানামা পেপার্স এবং প্যারাডাইস পেপার্স সম্প্রতি অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য প্রচার করে মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে টাকা পাচারের তালিকায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের নাম উঠে এসেছে। রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন দেশের সরকারে আছেন আবার কেউ কেউ সরকার প্রধানও আছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত কেলেঙ্কারিতে কেউ কেউ সরকারি পদ হারিয়েছেন কেউ কেউ অভিযোগের ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন। এক কথায় বিশ্ব রাজনীতিতে যাদের সৎ বলে মনে করা হতো তাদের অনেকেই হয়েছেন কলঙ্কিত এবং তালিকায় প্রকাশিত ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক, কখন, কে মানিলন্ডারিং কেসে ফেঁসে যায় এ ভয়ে।

এবার পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্স বিপরীতধর্মী এক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের ৫ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, যাদের বিদেশে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ৫টি প্রশ্নের উত্তরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে।

প্রশ্ন ৫টি হলো (১) সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে তিনি কি তার রাষ্ট্রের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন? (২) ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তার সম্পদ কতটুকু বেড়েছে? (৩) গোপন সম্পদ গড়েছেন কিনা? (৪) সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা? (৫) দেশের জনগণ তার সম্পর্কে কী ভাবেন?

এই ৫টি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্স ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণা সংস্থাটি মাত্র ১৭ জন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন অর্থাৎ পাসের হার মাত্র ৯.৮২ ভাগ। ১৭৩ জন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে সৎ ও পরিচ্ছন্ন সরকারপ্রধান হিসেবে ৯০% মার্ক পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। ৮৮% মার্ক পেয়ে ২য় স্থান অধিকার করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। ৮৭% মার্ক পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫% মার্ক পেয়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবাগ। ৮১% মার্ক পেয়ে ৫ম স্থান অধিকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানী।

উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সন্দেহ নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এমন কোনো অভিযোগও উত্থাপিত হয়নি। তবে একটি বিষয় বিবেচনার যথেষ্ট দাবি রাখে। রাজধানী শহরের একটি নামিদামি স্কুলের শিক্ষার মান এবং মফস্বল এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষার মান কখনো এক নয়। রাজধানীর নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৯০% মার্ক পেয়ে প্রথম হওয়ার চেয়ে মফস্বল এলাকার একটি স্কুলের একজন ছাত্র ৮৭% মার্ক পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করা মেধা, অধ্যবসায়, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠার দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। জার্মান, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিবেশের ক্ষেত্রে প্রতি সূচকেই আমরা পিছিয়ে আছি এ কথা অস্বীকার করতে পারি না। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ।

Picture

জনসংখ্যার চাপ, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। এসব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৮৭% মার্ক পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করা সম্ভব হয়েছে শুধু তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা ও সততার কারণে। মানুষের সদিচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিবেশেও বিজয় অর্জন সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বিজয় তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। জার্মান সিঙ্গাপুরের মতো উপযুক্ত পরিবেশ পেলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম স্থানের অধিকারী হতেন এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

তবে ওই প্রতিবেদনে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ কথা সত্যি, কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এরপরও সান্ত¡নার বিষয় হলো মাথায় পচন ধরেনি। শরীরে এক আধটু ক্ষত হলে চিকিৎসায় সারানো যায় কিন্তু মাথায় পচন ধরলে কোনো চিকিৎসায় কাজ হয় না। এ প্রসঙ্গে খলীফা হারুনুর রশীদের একটি ঘটনা উপস্থাপন করতে চাই। একদিন খলীফা হারুনুর রশীদ শাকীক নামক একজন দরবেশের কাছে কিছু উপদেশ প্রার্থনা করলেন। দরবেশ শাকীক বললেন, হে খলীফা! মনে রাখিও, তুমি একটি ঝরনা সাদৃশ্য আর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে তোমা কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সে উৎস হতে উদ্ভূত ক্ষুদ্র ও বৃহৎ নদী-নালা সমূহের ন্যায়। ঝরনা স্বয়ং পরিচ্ছন্ন ও নির্মল থাকলে তা হতে নদী-নালায় নিঃসৃত মলিনতা তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু উৎসটি স্বয়ং অপরিষ্কার ও মলিন হলে উহা হতে নির্গত মলিন ও অপরিষ্কার পানি সমস্ত নদী-নালায় ছড়িয়ে পড়ে উহাদিগকে অপরিষ্কার করে ফেলে। অর্থাৎ তুমি নিজে ভালো হলে তোমার কর্মচারীরা ও অন্য মন্ত্রীরা মন্দ হলেও ক্রমশ: ভালো হতে বাধ্য। পক্ষান্তরে তুমি মন্দ হলে তোমার কর্মচারী ও মন্ত্রীরা ভালো থাকলেও ক্রমশ: মন্দ হয়ে যাবে। দরবেশ শাকীকের উপদেশ অনুযায়ী আমাদের সৌভাগ্য যে আমাদের ঝরনা ধারা অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনো পরিচ্ছন্ন ও নির্মল। তাকে অপরিচ্ছন্নতা ও মলিনতা এখনো স্পর্শ করেনি। তাই সরকারের বিরুদ্ধে যে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বাংলাদেশের ৭৮ ভাগ মানুষ মনে করে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৎ ও ব্যক্তিগত লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে। তার কোনো গোপন সম্পদ নেই। এ কথা যেমন সত্য তেমনি দেশের মানুষ আরো জানে তিনি সৎ, নির্ভীক ও ধার্মিক। তার যেমন সততা আছে, তেমনি সাহস আছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জীবনের একটাই স্বপ্ন, একটাই ব্রত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা গড়ে তোলা, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বাংলার মানুষের মাঝেই বেঁচে থাকা। যার জীবনের ব্রত এমন মহৎ এমন সুন্দর তাকে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারে না-পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্সের প্রতিবেদন তাই প্রমাণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর এই গৌরবময় অর্জন বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্থান করে দিয়েছে তবে নিজ দলের মধ্যে এর একটা নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অর্জন আগামী নির্বাচনে জয়লাভের জন্য যথেষ্ট, আমাদের আর তেমন কাজ করার দরকার নেই তবে সেটা হবে মারাত্মক ভুল। এ প্রসঙ্গে আমি একটা উদাহরণ উপস্থাপন করছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চার্চিল। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ছিলেন জেনারেল এবং ময়দানে যুদ্ধ করা সেনাপতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং একজন শক্তিশালী নেতা। চার্চিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন।

যুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ব্রিটেনবাসী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার অবদান অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা বিবেচনায় আনেনি। তারা ভোট দিয়ে জিতিয়ে দিয়েছিল শ্রমিক দলকে। এই দৃষ্টান্তকে স্মরণ রেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে, শুধু নেত্রীর সাফল্যের ওপর ভর করে রাজনীতিতে এগোনো যাবে না। আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, প্রধানমন্ত্রীর সততার অর্জন নিয়ে প্রচার-প্রচারনা তেমন নেই। শুধু যারা পত্র-পত্রিকা নিয়মিত পড়েন তারাই খবরটা জানেন। ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করার পর যেমন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে এক্ষেত্রেও তেমন প্রচারণা চালানো উচিত।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সের প্রতিবেদনে যেহেতু সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেহেতু সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এদিকটিতে প্রয়োজনীয় দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এর দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। সরকারের কোনো ব্যক্তি কিংবা দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রধানমন্ত্রীর এত বড় সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ হোক তা আমাদের কারো কাম্য নয়।

লেখক: গীতিকার, প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক


জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু = সৈয়দ সাইফুল ইসলাম

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পর আমরা ৪৬তম বিজয় দিবস পালন করতে যাচ্ছি। এত বছর পর খুব হতাশা নয়- দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, স্বাধীনতা যারা চায়নি, যারা ৩০ লাখ মানুষের জীবন নিয়েছে, ৬ লাখ মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে তাদের সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে। পৃথিবীতে এ ধরনের সহাবস্থান আর কোনো দেশে ঘটেনি।
আমাদের নতুন যে প্রজন্ম, তাদের চোখে অনেক স্বপ্ন। দীর্ঘকাল অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যার পর স্বৈরশাসকসহ যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা যে রাজনীতি করেছে, যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, তা সবার জানা রয়েছে। ওই রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাতা বলেছিলেন, দেশের রাজনীতিকে তিনি ডিফিকাল্ট করে তুলবেন। সত্যি সত্যি তিনি একসময় এসে দেশের রাজনীতিকে ডিফিকাল্ট করে তুলেছিলেন। তারপর তিনি দেশে যে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, যার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আবার অন্য কোনো কৌশলে পাকিস্তানকে ফিরিয়ে আনা। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাসকে পাল্টানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তারাই স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দলের নেতাকর্মীদের জেলে রেখেছে, হত্যা করেছে, নানাভাবে হয়রানি ও অপদস্থ করেছে। একপর্যায়ে এ দলটিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ভুল অর্থ দিতে শুরু করেছে। এসবের উদ্দেশ্যই ছিল এ দেশটিকে আবার পাকিস্তান বানানো। এজন্য অনেক নীলনকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু মুসলিমদের নিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। কিন্তু এদের ডিফিকাল্ট রাজনীতি ও নানা অপকৌশলের কারণে দেশে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভাবাদর্শ ও স্বাধীনতার পক্ষের জোটকে নানা ধরনের নিপীড়নের মধ্যে ফেলেছে।
তারাই যুদ্ধাপরাধীদের এ দেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিল, বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। তাদের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি করেছিল। যারা এখনও বাংলাদেশ স্বীকার করে না, সেই তাদেরই মন্ত্রিত্বের পর্যায়ে তুলেছিল।
অন্যদিকে এ দেশের মানুষ দেরিতে হলেও স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে জনগণই এ স্বাধীনতার চেতনার জোটকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আমরা অনেক জঞ্জাল, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়েছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জঞ্জালমুক্ত হয়েছে। প্রগতি, সমৃদ্ধি ও গতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বাংলাদেশের উন্নতি দেখে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ বিস্মিত হয়ে যাচ্ছে।
একসময় যে যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমতায় বসেছিল, সেই জামায়াত-আলবদরদের বিচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েই হয়েছে। বিচার হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যার। এ বিরাট অর্জনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। এটি দেশবাসীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল, শেখ হাসিনার সরকার না থাকলে এটি সম্ভব হতো না। ধীরে ধীরে আমাদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে। এই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ছিল গৌরবের।
তবে একটি বিষয়, জামায়াতের পাশাপাশি এতদিনে দেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের সংখ্যা বাড়ছে। একটি রাজনৈতিক দল অনেক অসৎ শক্তির ভয় দেখিয়ে এবং রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে আবারও ক্ষমতায় বসতে চায়।
সামনেই আমাদের একটি নির্বাচন। এর আগেও একটি দল তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা দেশকে কী দিয়েছে? উল্লেখযোগ্য কিছুই দিতে পারেনি। আজকের ৪৬তম বিজয় দিবসে আমার আবেদন থাকবে, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এ দলটিকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। তা না করে অন্য কোনো পক্ষকে চাইলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে না। যারা ভোট দেবে, তারাও একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যারা বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদেরই আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। তা না হলে দেশের উন্নয়নমুখী যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো ব্যাহত হবে। দেশ পিছিয়ে পড়বে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
শ্রুতিলিখন : সৈয়দ সাইফুল ইসলাম


গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ উন্নয়ন—অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গণতন্ত্রের চেয়ে কর্তৃত্বপরায়ণতার ইতিহাস দীর্ঘ। ইতিহাসখ্যাত জননন্দিত শাসকদের বেশিরভাগই ছিলেন জনহিতৈষী কর্তৃত্ববাদী, তাছাড়া গণতন্ত্র প্রকৃতি বা ঈশ্বরের আইন এমন কথাও ধর্মগ্রন্থ থেকে জানা যায় না। উদার বা গণতান্ত্রিক সমাজেরও বিকল্প ভাবনা আছে। বিকল্পগুলো অসম্ভব বা অবাস্তব এমনটিও বলা যাবে না। হয়ত ভাবনাগুলো এখনো সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছে না বা পরীক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত হয়নি। গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন। কোনটি আগে? কোনিট পরে? নাকি দুটিই এক সঙ্গে সমানতালে চলবে? এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন উভয়ের পক্ষেই যথেষ্ট বক্তব্য রয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই একটি দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এমন ধারণা হোঁচট খেয়েছে। যদি চীনের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। চীনের ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য আগের যেসব মডেল এবং তত্ত্ব ছিল, সেগুলোকেই কেবল উন্নয়নের নেপথ্যের শক্তি হিসেবে স্বীকার কিংবা সমর্থন করা যায় না। শুধু গণতন্ত্রেই উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব এ ধারণা চীন ভেঙে দিয়েছে। কেননা উদার গণতান্ত্রিক আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাথাপিছু আয় এবং জীবন যাত্রার মান দ্বিগুণ হতে ৩০ বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। কিন্তু গণতন্ত্রহীন সমাজতান্ত্রিক দেশ চীনে প্রতি ১০ বছরে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণে উপনীত হয়েছে। এমনকি আমাদের নিকটবর্তী দুইটি দেশ মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা যায়। দেশ দুুটিতে যে পরিমাণ উন্নয়ন কিন্তু সেই পরিমাণ গণতন্ত্র নেই। অর্থাত্ যেটাকে আমরা পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র বলে থাকি যেটা সেখানে নেই। যদিও শাশ্বতভাবে মনে করা হতো, গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু চীন, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা তা সমর্থন করে না। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইমেরিটাস প্রণব কুমার বর্ধন যেমনটি বলেছেন, ‘ডেমোক্রেসি এন্ড ডেভেলপমেন্ট: এ কমপ্লেক্স রিলেশনশিপ’ বইয়ে। তাঁর মতে, “গণতন্ত্র অনেকসময় জনপ্রিয় দাবির প্রতি সংবেদনশীল—, যা আসলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ভিন্ন। এখানে গণতন্ত্র বলতে বোঝানো হয় নির্বাচন এবং কতগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে। কর্মসূচিগুলো হলো— হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ, বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ ইত্যাদি। আমরা এগুলোকেই গণতন্ত্রের উত্কৃষ্ট উপাদান বা রূপ হিসেবে বেছে নিয়েছি। আমি মনে করি, গণতন্ত্র আমাদের অবশ্যই লাগবে। কারণ গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্রই। কিন্তু গণতন্ত্রকে খুঁজতে হবে ভিন্ন ফর্মে। অমর্ত্য সেন যেমনটি বলেছেন, তাঁর ‘দি আরগুমেনটিভ ইন্ডিয়ান্স’ বইয়ে। তাঁর মতে “উন্নয়ন মানে মুক্তি। সে অনুযায়ী গণতন্ত্র মানেই উন্নয়ন। উন্নয়ন বিষয়টির সঙ্গে রাজনৈতিক ও মানবিক মুক্তি, সামাজিক সুযোগ, স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তার বিষয়গুলো যুক্ত।” তবে রাজনীতি কম হওয়াটাই বরং ভালো। কারণ বাংলাদেশে তথাকথিত রাজনৈতিক যুদ্ধংদেহী কর্মসূচিগুলোকেই রাজনীতি বলা হয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যুদ্ধংদেহী এবং আক্রমণাত্মক কর্মসূচির মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই। কাজেই যুদ্ধংদেহী এবং আক্রমণাত্মক কর্মসূচিনির্ভর রাজনীতি যত কমবে, ততবেশি উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, মানুষের কথা বলার অধিকার, মানবাধিকার, অর্থাত্ মৌলিক অধিকার বিঘ্নিত করতে হবে। অমর্ত্য সেন যেমনটি বলেছেন, গণতন্ত্রহীন কর্তৃত্ববাদী চীন, মালয়েশিয়া বা সিংগাপুরের তুলনায় আমাদের দেশের জনগণ ঐতিহ্যগতভাবে উদার গণতন্ত্রে বেশি আগ্রহী এবং মুক্ত আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই সমাধানের পথ খুঁজতে অভ্যস্ত। যার কারণেই হয়ত টেলিভিশনের টকশোগুলো এত জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু রাজনীতির নামে আমাদের দেশে যেসব নেতিবাচক চর্চা হয়, তা কাম্য নয়। যেমনটি আমরা দেখেছি ২০১৪-১৫ সালে নির্বাচনের আগে ও পরে পেট্রোল বোমায় মানুষ পোড়ানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট ধ্বংস, পশু, গাছপালা নিধনসহ নানা সহিংস কর্মকাণ্ড। আমরা যদি এই সহিংস রাজনীতি পরিহার করতে পারি, তাহলে উন্নয়নের সঙ্গে এ রাজনীতিকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারব।                                                                       


স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই আমাদের দেশে দীর্ঘ সময় সামরিক শাসন ছিল। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আমাদের গণতন্ত্র কোনো না কোনোভাবে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিল। আর এটা করা হয়েছিল ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট, তথাকথিত নির্বাচন কিংবা সংসদ চালাবার নামেই। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টেই থাকতেন। এমনকি বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া ‘উত্তরপাড়াতেই’ ছিলেন। কাজেই আমাদের তথাকথিত গণতান্ত্রিক চর্চায় ক্যান্টনমেন্টের একটা প্রভাব ছিল। যদিও আমাদের পূর্বের নির্বাচন এবং সামনের নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা এবং সমালোচনার অনেক বিষয় রয়েছে। তারপরও আমরা কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হচ্ছি, কোনো সামরিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নয়। ১৯৭২-৭৩ সাল থেকে শুরু করে প্রায় ৩৪ বছর লেগেছে আমাদের মাথাপিছু আয় ৫২৩ ডলারে নিয়ে আসতে। কিন্তু ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল অর্থাত্ মাত্র ১০ বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় ১৬শ ডলার ছাড়িয়েছে। মানুষের আয় বেড়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে টেকসই করে, যেমনটি বলেছেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম পশেভোরেস্কি তাঁর ‘ডেমোক্র্যাসি এন্ড ডেভেলপমেন্ট: পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউশন এন্ড ওয়েলবিয়িং ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড ১৯৫০-১৯৯০’ বইয়ে।

তার গবেষণায় দেখা যায় “গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় মানুষের আয় বেড়ে গেলে এবং একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছে গেলে সেদেশে আর কখনো গণতান্ত্রিক শাসনের পতন হয় না।” বর্তমানে আমাদের জাতীয় সংসদ কতটা কার্যকর? তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এর আগের সংসদ কতটা কার্যকর ছিল? কিংবা তারও আগের সংসদ, যেটা তথাকথিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল, সে সংসদ কেমন ছিল? আমরা বলি সংসদে বিরোধী দল থাকতে হবে, গণতন্ত্রে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদে বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে ৭৪ শতাংশ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেনি। ৪১৮ দিনের মধ্যে মাত্র ১০দিন বিরোধী দলীয় নেত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। অষ্টম সংসদে বিরোধী দলের অনুপস্থিতির হার ছিল ৬০%। তাহলে মানে দাঁড়াচ্ছে, গণতন্ত্র হচ্ছে কেবল ভোট, নির্বাচন ও ক্ষমতা। দৈনন্দিন চর্চা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সবার অংশগ্রহণ নয়। গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বড় অনুষঙ্গ হচ্ছে বিতর্ক। অর্থাত্ যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিতর্কের মাধ্যমে সবার মতামত এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংজ্ঞায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত গণতন্ত্র নয়। এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত ৭ মার্চের ভাষণে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ন্যায্য কথা যদি একজনও বলে তবে তিনি যেই হোক না কেন, সংখ্যায় বেশি হলেও আমরা সেটা মেনে নিবো।’ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র মানে সেটাই। বেশিসংখ্যক লোক বললো বলেই সেটা গণতন্ত্র এমন সংজ্ঞা অন্য দেশে থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের এখানে প্রযোজ্য নয়। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ৭ মার্চের ভাষণে জাতির জনক গণতন্ত্র বলতে যা বুঝিয়েছেন, সেটা হলো ন্যায্য কথার গণতন্ত্র। মানুষ এবং সমাজ ব্যবস্থা এগিয়ে যাবেই, এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সময় লাগবে। পৃথিবী নামক গ্রহটি প্রায় চারশ’ কোটি বছরের পুরোনো। প্রায় ৪০ কোটি বছর আগ পর্যন্ত ডাইনোসরের অস্তিত্ব ছিল। ফুল, ফল, বৃক্ষ ৩০ কোটি বছর আগে থেকেই ছিল। কিন্তু মানুষ বলতে আমরা যাদেরকে বুঝি তাদের বয়স দুই লাখ বছর এবং বস্ত্রপরা মানুষের বয়স ৩৫ হাজার বছরের বেশি না। কাজেই সভ্যতার বিকাশে সময় লেগেছে। ইউরোপ এবং আমেরিকার দেশগুলোতে উদার গণতন্ত্র বলতে আমরা যা বুঝি, তা শত শত বছরের পরম্পরার মধ্য দিয়ে এসেছে। আমাদের মতো অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গণতন্ত্র একটি নাজুক ফর্মে রয়েছে। অর্থাত্ নাজুক ফুলের মতো। অর্থাত্ গণতন্ত্র একটু আঘাত পেলেই ঝলসে যায়। আমেরিকান চিন্তাবিদ রবার্ট কেগান তাঁর “ইজ ডেমোক্রেসি ডিক্লাইন?” বইয়ে উল্লেখ করেছেন, গণতন্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন আগাছা জন্মায়। কাজেই গণতন্ত্রের যত্ন করতে হয়। আর এই যত্ন বলতে তিনি বুঝিয়েছেন গণতন্ত্রের সাথে অর্থনৈতিক সামঞ্জস্য। অর্থাত্ গণতন্ত্রের নেপথ্যে অবশ্যই অর্থনৈতিক সমর্থন থাকবে। সেখানে যদি অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক একটি পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে পৃথিবীতে ১% লোকের হাতে ৫০% লোকের সম্পদ কুক্ষিগত। দুই বছর আগেও শতকরা ৪৮% লোকের সম্পদ ছিল ১% লোকের কাছে। ইকুইলিটি ট্রাস্ট এক গবেষণায় বলেছে— যুক্তরাজ্যের ১০০ ধনী ব্যক্তি সেদেশের মোট জনসংখ্যার ৩০%-এর সমপরিমাণ সম্পদের মালিক। অক্সফার্মের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালে ৮০% মানুষ মোট বৈশ্বিক সম্পদের মাত্র ৫.৫%-এর মালিক ছিল। বর্তমানে বিশ্বের ৬২ জনের কাছে ৩৬০ কোটি জনের সমপরিমাণ সম্পদ আছে। এটা দুই বছর পূর্বে ছিল ৮০ জনের কাছে। কাজেই মানুষের সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে। আমরা যেটাকে পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র কিংবা ভোটাভুটির গণতন্ত্র বলছি, অর্থাত্ মিডিয়ায় অবাধ কথা বলার গণতন্ত্র, সবকিছুই হুমকির সম্মুখীন হবে যদি  আয় বৈষম্য ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কাজেই পেটে ক্ষুধা থাকলে সুন্দর সুন্দর গণতন্ত্রের কথা আর বের হবে না।

গণতন্ত্র অবশ্যই মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বাড়ায়। আমরা রাস্তায় বৃদ্ধ লোকের রিকশায় উঠব কিনা। তখন মনে হবে এতো বুড়ো লোকের রিকশায় আমি উঠবো কী করে? তার কষ্ট হবে। তার কষ্টের কথা চিন্তা করে রিকশায় না উঠলে তিনি দুপুরে খেতে পারবেন না। কাজেই বৃদ্ধের রিকশায় উঠব কী উঠব না, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওই বৃদ্ধ দুপুরে খেতে পারবে কী পারবে না। গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন বলতে বিভিন্ন সমাজ ব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন নিয়ামক রয়েছে। তবে গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন একসাথে করার জন্য দরকার উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। কেবল উন্নয়ন করলেই হবে না। কারণ সিরিয়া, ইরাক এবং মিশরে উন্নয়ন হয়েছিল। কিন্তু ডলারের ভিত্তিতে উচ্চ ও মধ্য আয়ের দেশগুলো টিকেনি। না  টেকার কারণ হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতা। সেখানে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। সৌদি আরব এখন মাথাপিছু আয়ের হিসাবে অনেক ধনী। অর্থবিত্ত, প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ। সৌদি বাদশা যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে বিমানে করে স্বর্ণের সিঁড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমি মনে করি, সৌদি আরবের সে অর্থনীতিও টিকবে না। কারণ সৌদি আরবে যে শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান, তাতে আগামী ২০/৩০ বছরের মধ্যে তাদের  অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

নগরের সকলের ভোটে ক্ষমতা পালাবদলের যে ব্যবস্থা গ্রিক থেকে এসেছে, সেটাই তো গণতন্ত্র। আমরা দীর্ঘ সময় ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিলাম। কাজেই আমাদের এখানে গণতন্ত্রের কাঠামোও সেই ধাঁচের। বিশেষ করে ব্রিটিশ কাঠামোর। ভারতের সাথেও আমাদের গণতন্ত্রের মিল রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আসল গণতন্ত্র। সমাজে অন্যের ভালো মতামত গ্রহণ করার মন-মানসিকতা তৈরি না করা পর্যন্ত গণতন্ত্র সফল হবে না। এটা করতে না পারলে পাঁচ বছর পরপর সরকার পরিবর্তন হবে কিন্তু গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাত্ সরকারের পরিবর্তন হবে। আর ধর্ম আমাদের এখানে একটি বড় ফ্যাক্টর। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম ঘোষণাপত্র দেয়। সেখানে বলা ছিল, রাষ্ট্র হচ্ছে ইহজাগতিক, ধর্ম হচ্ছে পরজাগতিক। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা স্থান পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রথম ঘোষণাপত্রেই ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় ধর্ম হয়ে যায় প্রধান ইস্যু। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। রংপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ নিহিত আছে। এদেশের প্রায় সব নির্বাচনের সময়ই আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান হাতিয়ার হয় ধর্ম। এছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না। গণতন্ত্রের চর্চা আর ধর্মের অপচর্চা একসাথে চললে কোনোদিনই গণতন্ত্র টেকসই হবে না।


আজিজুল মালীক চৌধুরী: একজন সফল মানুষের প্রতিকৃতি-------সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

১২ মার্চ, ২০১৫ বুধবার সকালে সেলফোন বেজে ওঠে। রিসিভ করতেই এ পাশ থেকে “করুণ কণ্ঠ ভেসে এলো। আমি হেলাল। আপনার মালীক ভাই আর নেই।” কথাটা শোনার সাথে সাথেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। মালীক ভাই আমার প্রিয় মানুষ। পরম আপনজন। সেই ১৯৭৫ সালের কথা। আমি তখন সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। লেখালেখি শুরু করেছি। পাশাপাশি সংকলন ‘জীবন মিছিল’ প্রকাশ করছি। সংগঠন করার নেশাও পেয়েছে। ‘ধোপাদিঘির পার শাপলা কুঁড়ির আসর’ গঠন করেছি। সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা শাপলা কুঁড়ির আসরের কর্মকর্তাবৃন্দ এলেন। সেই সময় জেলা শাপলা কুঁড়ির আসরের অন্যদের সাথে এলেন আজিজুল মালীক চৌধুরী এডভোকেট। সেই থেকে পরিচয়। পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠতা। এক সময় শাপলা কুঁড়ির জাতীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আমি চাঁদের হাটের সাথে জড়িয়ে পড়ি। ১৯৮০ সালে চাঁদের হাট সিলেট শাখা পুনগর্ঠণ করে কার্যক্রম চালিয়ে আসতে থাকি। এক সময় আজিজুল মালীক চৌধুরীকে সভাপতি হিসেবে নিয়ে আসি। তিনি সভাপতি এবং আমি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাঁদের হাট সিলেট শাখার কার্যক্রম চলতে থাকে। মালীক ভাই একজন সজ্জন, বিনীয় ও স্পষ্টভাষী লোক। তিনি সব সময় নিয়ম মেনে চলতেন। নিয়মের বাইরে কোনো কিছু পছন্দ করতেন না। ঘড়ির সময় দেখে তিনি চলাফেরা করতেন। সময়কে মূল্য দিতেন।
মালীক ভাইয়ের সাথে সংগঠন করতে গিয়ে কোনো দিন কোনো রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়নি। তিনি আমাকে খুব ¯েœহ করতেন। পরামর্শ দিতেন। অত্যন্ত চমৎকার দিক নির্দেশনা দিতেন। সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিতেন সবকিছু। গুছিয়ে কথা বলতেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক চলে যাই। মাঝে মাঝে দেশের টানে, মায়ের টানে চলে আসি দেশে। দেশে এলেই মালীক ভাই এর সাথে দেখা হতো ৩নং বার হলের সেই ছোট রুমটিতে। পাশে বসাতেন আদর করে। মালীক ভাইর সান্নিধ্য পেতাম।
দেশে যে কয়দিন থাকার সুযোগ পেতাম মালীক ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসতাম। ২০১৫ সালে সামাজিক সংগঠন ‘স্বদেশ ফোরাম সিলেট’ কমিটি গঠন করি। মালীক ভাইকে সভাপতি করার প্রস্তাব করলে তিনি প্রথম দিকে রাজি না হলেও আমার পীড়াপীড়ি ও ব্যক্তিগত অনুরোধ তিনি ফিরিয়ে দেননি। পরবর্তীতে মালীক ভাই সভাপতি পদে সম্মতি দেন। তাঁকেই সভাপতি করে ‘স্বদেশ ফোরাম সিলেট’ গঠিত হয়।
আজিজুল মালীক চৌধুরী একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল তাঁর প্রবল। তিনি ছিলেন সিলেটের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের একজন উজ্জ্বল প্রিয় মুখ। প্রতিদিন তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়াতেন বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি বিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মৃত্যু সংবাদে সবার আগে ছুটে যেতেন এই প্রিয় সফল মানুষটি।
সিলেটের ক্রীড়া অঙ্গণেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত। সিলেট স্টেডিয়ামে তাঁর ছিলো নিয়মিত যাতায়াত। তিনি সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথেও জড়িত ছিলেন ওতোপ্রোত ভাবে। একসময় তিনি ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তিনি ছিলেন নিরহংকার, সৎচরিত্রের আদর্শ মানুষ। সদালপি ও হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন সবসময়। তিনি সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতিও ছিলেন। জেলা বারের আইনজীবিদের সাথে ছিলো তাঁর আত্মার সম্পর্ক। ব্যক্তিগত লোভ-লালসার উর্ধ্বে ছিলেন তিনি। জীবনে বিত্তের পেছনে ছুটেননি, ছুটেছেন চিত্তের পেছনে। বিত্তশালী আজিজুল মালীক হননি ঠিকই কিন্তু জীবনে হয়েছেন একজন সফল সমাজসেবক।
সেলফোনে মালীক ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ জানান যিনি, তিনি হলেন মালীক ভাইয়ের আদরের একমাত্র জামাতা। নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটির সুপরিচিত নাম। ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল। একজন সমাজসেবী ও সংগঠক। জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর ফোন পেয়ে সাথে সাথে আমার ছোট ভাই আবদালকে সংবাদ জানাতে ফোন দিলে জানতে পারি সে মালীক ভাইয়ের বাসায়। এরপর ফোন দিলাম সিলেট সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি পুলিন রায়কে। তিনিও মালীক ভাইয়ের বাসায়। ২০১৫ সালে তিন মাস দেশে অবস্থানকালে মালীক ভাইয়ের সাথে অনেক অনুষ্ঠানে একসাথে ছিলাম। সেইসব মধুর স্মৃতি বার বার মনকে শিহোরিত করে। বিশেষ করে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে বঙ্গবীর ওসমানীর কবর জিয়ারতের স্মৃতিটা বার বার চোখে ভাসছে। ওইদিন রাতে ‘স্বদেশ ফোরাম সিলেট’ আয়োজিত বঙ্গবীর ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় সভাপতিও ছিলেন তিনি। আমাদের সাথে তাঁর শেষ অনুষ্ঠান ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেট সাহিত্য পরিষদ ও স্বদেশ ফোরাম সিলেট এর আয়োজনে মা কমিউনিটি সেন্টারে। নিউইয়র্কে যাবার দুদিন আগে সিলেট জেলা বারের ৩নং হল রুমে দেখা করে বিদায় নিয়ে তাঁর দোয়া চেয়ে আসি। তিনি একটি ডায়েরি এবং ২০১৫ সালের একটি টেবিল ক্যালেন্ডার উপহার দেন।
এমন অনেক অনেক স্মৃতির কথা মনে পড়ে, তাঁকে ঘিরে। লিখতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যায়। ভাবনারাজ্যে ভাবনাগুলো কেমন খন্ড খন্ড চিত্র হয়ে ভেসে ওঠে। মনটা ডুকরে কেঁদে ওঠে। কেমন শূণ্যতা অনুভূত হয় চারপাশে। মালীক ভাইয়ের স্মৃতিগুলো ভুলবার নয়। ভুলবার নয় আকাশের মতো উদার মনের মানুষটাকে। তিনি ছিলেন আমার সাংগঠনিক জীবনে চলার পথের অভিভাবক। এমন একজন অভিভাবককে হারিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হলো আমার-আমাদের সকলের।
উল্লেখ্য, এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী ১৯৪৫ সালের ১৬ জানুয়ারি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের চরমোহাম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মদন মোহন কলেজ সিলেটের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল মালীক চৌধুরী এবং মাতা মরহুমা আছিয়া খাতুন চৌধুরী। তিনি ১৯৬০ সালে লালাবাজার হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৩ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে আইএ, ১৯৬৫ সালে এম সি কলেজ থেকে বি.এ এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল বি পাশ করেন। তিনি ১৯৬৮ সালের ৪ ডিসেম্বর সিলেট জেলা বারে যোগদান করেন। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি


মতামত = কথামালার রাজনীতি এবং পরকালের ভাবনা : আবু সাঈদ রতন

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

মানুষের জীবনে চরম সত্য কথাহলো সকলকেই মরতে হবে। কেউ হয়তো স্বভাবিক মৃত্যু বরণ করেন; আবার কেউবা অস্বাভাবিকভাবে। যেভাবেই হউক, মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এই উপলব্ধি আমরা অনেকেই করতে চাই না।
আমাদের হাবভাব দেখে মনে হয়-আমরা অমর। আমাদের সম্পদ চীরস্থায়ী, চাহিদার বাইরেও আমরা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলি। দেশ বিদেশে আমরা অর্থ নামে বেনামে লুকিয়ে জমা করি। ধনী-গরীবের ব্যবধান এভাবেই পুরো বিশ্বে বাড়তে থাকে। এই জীবন মৃত্যু নিয়ে সাধারণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতেই ব্যাখ্যা করা হয়, আলোচনা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের মাঝে যখন এই বিষয়ে বক্তব্য আসে তখন কিন্তু অবাক হতেই হয়।
প্রিয় পাঠক, উপরের কথাগুলো বলা হচ্ছে - সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে (প্রকারান্তরে আওয়ামীলীগকে) বলেছেন, আপনাদের সময় প্রায় শেষ। শেষ সময়ে ঘোঁ ঘোঁ করে লাভ নেই। ক্ষমতা শেষ হলে কী করবেন? পরকালের চিন্তা করেন। যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন আমরা ক্রমশো আধারে ঢেকে যাচ্ছি। গভীর সংকটে দেশ। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন দেশের গণতন্ত্র এখন গভীর খাদের কিনারে।
অপর দিকে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিই এখন খাদের কিনারে। অন্য একজায়গায় নিজ দলের সমাবেশে বলেছেন টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী এসবকে দলে জায়গা দেওয়া হবে না। অন্য দলের সাথে আদর্শের ঐক্য করেনা- স্বার্থের ঐক্য করেন।
উপরোক্ত রাজনৈতিক কথামালা থেকে আমরা একটি বিষয়ে বুঝতে পারি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা নেত্রীদের মনে আত্বপোলব্ধি এবং পরকালের ভাবনা কিছুটা হলেও এসেছে। আওয়ামীলীগকে পরকালের ভাবনা ভাবতে বলে মির্জা ফখরুল কি বুঝাতে চেয়েছেন? মৃত্যুর পর পরকাল? নাকি রূপক অর্থে ক্ষমতা হারানোর পরের সময়কে বুঝাতে চেয়েছেন? পরকাল তো আর ক্ষমতায় কে আছে -কে নেই সেই বিচার করে আসে না। যে কোন সময় যে কারো জন্য এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ধরে নিলাম মির্জা ফখরুল ক্ষমতা হারানোর পরের সময়টাকে বুঝাতে চেয়েছেন। কারণ এই উপলব্ধি বিএনপি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে কি অবস্থা হয় তা এখন বিএনপি-জামায়াতই বুঝতে পারছে। আওয়ামীলীগের উচিৎ এর থেকে শিক্ষা নেওয়া। মির্জা ফখরুল হঠাৎ করেই সরকারের বিরুদ্ধে এতো কঠোর কথা বলা শুরু করলেন কেন? এটা কি বিএনপির নীতি নির্ধারকদের কাছে তার অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য? না কি সহ্যের বাধ ভেঙ্গে গেছে? সময় বলে দিবে এর উত্তর। তবে রাজনীতিকে ঘিরে কথামালার রাজনীতি বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছে।


ডা. মিলন চত্তরে ফুল দিতে গিয়ে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে  বলেন, আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্য করে নি। তাহলে কি আমরা ধরে নিবো স্বার্থের কারণে আদর্শকে দুরে ঠেলে দিতে হবে? আদর্শবিহীন রাজনীতি আমাদের দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে যাবে তা ভাবার সুযোগ এসেছে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠেছে ক্ষমতায় যেতে হলে এককভাবে কোনদলই প্রয়োজনীয় সমর্থন আশা করে না বা নির্ভর করতে পারছে না। তাই আদর্শহীনদের সাথে করেই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বৃহৎ  রাজনৈতিক দলগুলো।
বিএনপি যে কারণে জামায়াতকে নিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছে সেই কারণে আওয়ামীলীগ জাতীয়পার্টিকে নিয়ে জোট করে ক্ষমতায় গিয়েছে। জামায়াত রাজাকার এবং জাতীয়পার্টি স্বৈরাচার তকমা নিয়ে রাজনীতিতে বহাল তবিয়তে আছে। জনগণ এখান থেকেই বাছাই করে নিচ্ছে রাজাকার নাকি স্বৈরাচার। স্বৈরাচারি মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিন্তু রাজাকার মনোভাবকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটা সমাজের ক্যান্সারের মত। সুযোগ পেলেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করে দিবে উই পোকার মত।
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদিতে তথাকথিত খাদের কিনার থেকে তুলে আনতে হলে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে গণতন্ত্রের প্রাকটিস জরুরী। দলের নেতা নেত্রীদের কথা বলায় স্বাধীনতা দিতে হবে। দলের কোন কর্মকান্ড জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে নিজ দল থেকেই প্রতিবাদ করতে হবে। কিন্তু আমরা কি তা করছি? দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন দলকে স্বৈরাচারি হতে শেখায়। দেশের অগ্রযাত্রায় জনগণতে মূল্যবান ভূমিকা  রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কথামালার রাজনীতিতে কথাগুলো শুধু কথার কথা হউক আমরা তা চাই না। আমরা চাই রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা যা বলবেন-তা যেন তারা নিজেরাই আগে বিশ্বাস করেন। ইতিহাস বলে জনগণ শেষ পর্যন্ত সত্যের পথেই থাকে।
আর পরকালের ভাবনা? তাতো সকলের জন্যেই।
-লেখক, সম্পাদক ইউএস বাংলা নিউজ, নিউইর্য়ক


মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতির হালচাল।আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

সৌদি রাজপরিবারের আগ্রাসনের জিহবায় এবার জাতিসংঘের হাত উঠছে।যুদ্ধ-কবলিত ইয়েমেনের ওপর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেয়ার কথা বলেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী মার্ক লোকক শুক্রবার এ কথা বলেছেন।তিনি বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব জোটের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের কারণে দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ আজ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশটির ওপর থেকে অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে।

মার্ক লোকক বলেন, “অবরোধ আংশিক তোলা হয়েছে কিন্তু পুরোপুরি তোলা হয়নি। যদি আমরা ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে চাই এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে চাই তাহলে এ অবরোধ অবশ্যই তুলে নিতে হবে।” তিনি বলেন, ইয়েমেন এমন বিপর্যয়ের কিনারায় রয়েছে যা বহু দশক ধরে বিশ্ব দেখে নি।জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, “যুদ্ধের কিছু আইন-কানুন আছে এবং লোকজনকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।”

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর বর্বর সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এতে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে এবং ঘর-বাড়ি ও না ধরনের অগণিত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে।১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ নভেম্বরকে "আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে।নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে ফিলিস্তিনীদের অধিকারকে সমর্থন জানালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

 বার্তা সংস্থা রিয়া-নোভস্তি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এক অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মন্তব্য করেন।রুশ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় আরও বলেন, ফিলিস্তিনীদের মাঝে বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।একইসঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের উপর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা উচিত বলেও অভিনন্দন বার্তায় উল্লেখ করেন তিনি। মি. পুতিন  গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চলতি মাসের প্রথম দিকে হামাস ও ফাতাহ আন্দোলন জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁচেছে। আশা করা হচ্ছিল- এ চুক্তির পর দু দলের মধ্যে এক দশকের  মতানৈক্য দূর হবে। তবে এই চুক্তির ফলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের  প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষুব্ধ হয়েছেন। চুক্তির পর তিনি দাবি করেছেন, নতুন সরকারের তরফ থেকে অবশ্যই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক ছিন্ন এবং হামাসের সামরিক শাখা বিলুপ্ত করতে হবে। একই দাবি জানিয়েছে আমেরিকা।  

গত সেপ্টেম্বরে হামাস ও ফাতাহ আন্দোলন মিশরের রাজধানী কায়রোয় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে হামাস গাজায় তাদের প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেয় এবং মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আমন্ত্রণ জানায়। ঐক্য প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ২০০৭ সালের পর থেকে গাজায় হামাস ও পশ্চিম তীরে ফাতাহ আন্দোলনের শাসন চলছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। পবিত্র আাল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এ যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।গতকাল (শুক্রবার) ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দেন। তার এ বিবৃতি ফিলিস্তিনের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করা হয়।

আব্বাস বলেন, ইসরাইল নিরাপত্তার নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যে নতুন এ দমন-পীড়ন শুরু করেছে। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের পক্ষে আমি ঘোষণা করছি যে, ইসরাইল তার নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।” গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে মাহমুদ আব্বাস এ বিবৃতি দিলেন।   

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা এবং জামাতা জেরার্ড কুশনার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সফরের সময় ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কথিত শান্তি প্রক্রিয়া আবার শুরু করার লক্ষ্যে কুশনার দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর সেনারা ট্যাংক ও বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি অবরোধের কারণে যখন গাজার জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত তখন এই হামলা চালালো ইসরাইল।

ইজরাইলি সেনারা এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার বেইত হানুন এলাকায় ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের চারটি অবস্থানে তারা হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সেনারা দাবি করেছে, সীমান্তে তাদের অবস্থানে গাজা থেকে ১৫টি মর্টারের গোলা ছোঁড়ার পর তারা কামানের গোলা বর্ষণ ও বিমান থেকে হামলা করেছে। ইসরাইলি হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি।

এদিকে ইরাক ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের সীমান্তবর্তী কিরকুক প্রদেশের ওপর সোমবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরাকি বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে কিরকুকে অবস্থানরত কুর্দি পিশমার্গা বাহিনী শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর হাতে কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ আসার পর সেখানকার সব সরকারি অফিস আদালত থেকে কুর্দি পতাকা নামিয়ে ইরাকের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী এবাদি কিরকুকে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের প্রতিটি জনগণ ইরাকের জাতীয় পতাকার মালিক এবং এই পতাকা দেশের প্রতিটি প্রান্তে আকাশে উড়বে।

লেবানননের পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা কমেছে।হারিরির কার্যালয় থেকে গতরাতে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেমনটি জেনেছেন যে, সবকিছু ইতিবাচক ভাবে চলছে এবং যদি এভাবে চলে তাহলে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন ও সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরিকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ আগামী সপ্তাহে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করব।”লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে বার্তা পাঠিয়েছেন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।হিজবুল্লাহ মহাসচিবের ওই বার্তা


বিদেশ মানে যন্ত্রণা, নয় ফুলের বিছানা

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

লেখকছোটকাল থেকে একটি প্রবল ইচ্ছা আমার মাঝে কাজ করত আর তা ছিল বিদেশ যাওয়া। অনেক ছোট থাকতে নাটক ‘দুবাইওয়ালা’ দেখে এই ইচ্ছাটা আমার মধ্যে বাসা বেঁধেছিল। এই নাটকটি আমাদের এলাকায় তথা চট্টগ্রাম এলাকায় খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ছোট-বড়, যুবক-যুবতী—সবার কাছে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। অনেক আগের কথা, নাটকটির কোনো দৃশ্য বা থিম আজ আমার মনে পড়ছে না। তথাপিও নাটকটির কথা মনে পড়লে আজও আমার হৃদয় এক অজানা আবেশে জড়িয়ে যায়।

তখন আমাদের চট্টগ্রামের মানুষ দুবাই যাওয়ার জন্য ঘর-বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিত। দুবাই নিয়ে চট্টগ্রামে অনেক আঞ্চলিক ভাষার গান মানুষের মুখে মুখে ছিল। গানগুলো তখন স্টাইলিশ যুবক-যুবতীদের ঠোঁটের মধ্যেই থাকত। বিয়ে বাড়িতে মাইকে দুবাইকে নিয়ে গান না বাজালে চলতই না। তখন আমার ভালো করে বুঝ হয়নি, তবও মনের মধ্যে কেন যেন বিদেশের স্বপ্ন বাসা বেঁধেছিল। মনে হয়, দুবাইয়ের কথা শুনতে শুনতে তা মনে গেঁথে গিয়েছিল।
দুবাই ছাড়াও আরও একটি কারণে বিদেশের প্রতি আমার চরম অনুরাগ কাজ করত, তা হলো রেঙ্গুন শহর। আমার মায়ের মুখে এই শহরটির কথা শুনতে শুনতে আমি মনের অজান্তে কোনো এক অজানা দেশে হারিয়ে যেতাম। তখন দুবাইয়ের নাম চট্টগ্রামের মানুষ জানত না। তাদের একমাত্র স্বপ্নের দেশ ছিল রেঙ্গুন। যা বার্মা তথা মিয়ানমারের রাজধানী, বর্তমানে ইয়াঙ্গুন নামে পরিচিত। আমার দাদা বা দাদার-দাদাদের আমলে এই রেঙ্গুন শহর নিয়ে মানুষ স্বপ্ন দেখত। রেঙ্গুন শহর নিয়েও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক পুরোনো গান আছে।
বর্তমান যুবক-যুবতীদের স্বপ্নের দেশ লন্ডন, আমেরিকার মতো রেঙ্গুন শহর ছিল তখনকার যুবকদের স্বপ্নের দেশ। মায়ের কাছে শুনেছি, রেঙ্গুন শহরে গিয়ে অনেকে আর কোনো দিন ফিরে আসত না। অনেকে বিয়ে করে, সংসার করে জীবন কাটিয়ে দিত সেখানে। অনেকে আবার বহু বছর পর বিবাহিত বউ নিয়ে ফিরে আসত। মায়ের কথাগুলো আজ খুব বেশি মনে পড়ছে। কারণ আমার মায়ের ভাষ্যটা হুবহু লন্ডন শহরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এখানে আমার অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, যাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছে কিন্তু তাদের চতুর্থ প্রজন্মরা বাংলাদেশ চেনে না। অনেক বাঙালিরা বিদেশিদের বিয়ে করে বাংলাদেশ নামের দেশটাকে আর চিনতে চায় না।

Picture
দিন পাল্টাচ্ছে কিন্তু মানুষের চিন্তা ভাবনাগুলো একই রয়ে গেছে। তখন ছিল রেঙ্গুন শহর আর এখন লন্ডন শহর। অতীতে মানুষ অজানাকে পুঁজি করে রেঙ্গুন শহরে যেত আর হারিয়ে যেত। এখনো কাহিনি অনুরূপ রয়ে গেছে, মানুষ স্বপ্নের দেশ ইংল্যান্ডে আসার পর আর দেশে ফেরত যেতে চায় না। বিভিন্ন কারণে, মানুষ এসব দেশে থেকে যেতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যে নাগরিকত্ব না পাওয়ার কারণে মানুষ তার নিজের দেশে ফিরে যেতে পারে। তবে অনেকেই জীবনের শেষ বেলায় ফেরে বিধায়, তাদের দুই কুল হারায়। দুই কুল বলতে, সংসার ও জীবনের কোনো সুখ তারা পায় না। সেদিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে মানুষ এক কুল হারায়। যাকে আমি বলি জীবন। জীবনের মধুমাখা সুখপাখি হারিয়ে যায়।
প্রথম যখন লন্ডন শহরে এসেছিলাম, স্বপ্নের দেশের শহরগুলো যে প্রাণহীন, তা বুঝতে পেরেছিলাম। নিজের দেশে অনেক সুখে ছিলাম তা টের পেয়েছিলাম। সারা জীবন লন্ডন, আমেরিকার জন্য পাগল ছিলাম। মনে মনে ভাবতাম, সেসব দেশ কেমন জানি। ভাবতাম, সেসব দেশের মানুষ অনেক সুখে থাকে। আহা যদি যেতে পারতাম! সত্যি কথা বলতে, আমি সেসব দেশের পাখি, মাটির কথাও ভাবতাম। ভাবতাম আহা স্বপ্নের দেশের পাখিরাও কত সুখে থাকে! যদি আমার কাছে পাখির মতো ডানা থাকত! আমিও তো স্বর্গের দেশগুলোতে যেতে পারতাম।
কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন। যা লন্ডন শহরে পা ফেলে টের পেতে শুরু করেছি। আজও কষ্টের বোঝা বয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোন অজানা কারণে লন্ডন শহরটাকে ভালোবেসে ফেলেছি, জানি না। যদি কখনো এ শহর থেকে চলেও যাই, ভুলতে পারব না এই শহরকে এবং এই শহরের মানুষ ও আলো-বাতাসকে!

মোহাম্মদ আবদুল মালেক: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।