Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/images/stories/2015/April/05/06/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

বাংলাদেশের খবর

শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমান দেশ গেছেন

বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসইনিউজ:শিশু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শিশু শিরি সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, যুক্তরাষ্ট্রস্থ সোহ্রাওয়ার্দী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি, প্রবাসের অন্যতম বার্তা সংস্থা বাপস্নিউজ এর চেয়ারম্যান ও নিউইয়ার্কস্থ শিল্পী- সাহিত্যিক- সাংবাদিক গোষ্ঠী বনলতা’র প্রধান পরিচালক প্রবীণ শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমান ও স্ত্রী পারভীন রহমান এক মাসকাল বাংলাদেশ সফরে গত ১৯ মাচ সোমবার কাতার এয়ারলাইন্স যোগে নিউইর্য়ক হতে ঢাকা রওনা হয়েছেন।খবর বাপসনিঊজ।

Picture

এক মাসকাল বাংলাদেশ অবস্থানকালীন সময়ে হাসানুর রহমান কিছু সেমনার ও সভায় যোগদান করবেন এবং নিজ প্রতিষ্ঠিত শিশু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শিরি শিশু সাহিত্য কেন্দ্রের ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটির পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করা ছাড়াও বাংলাদেশের কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিষ্টের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হবেন। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার অন্তর্গত নিজ গ্রাম লালোরে তাঁর অকাল প্রয়াত মা দৌলতুন নেসা শিরি’র স্মরণে স্থাপতি স্মৃতি সৌধের ফলক পরিদর্শন করবেন। সময় সাপেক্ষে নাটোর প্রেসক্লাব ও পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য, নাটোরের “মা শিরি” নামে অভিহিত তাঁর মা প্রয়াত দৌলতুন নেসা শিরি একজন মমতাময়ী মা হিসেবে তাঁর সময়ে এলাকায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহিলা ছিলেন। হাসানুর রহমান ও স্ত্রী পারভীন রহমান এপ্রিল শেষ সপ্তাহে নিউইর্য়ক ফিরে আসবেন বলে আশা করা যায়।


জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর জমকালো সুবর্ণ জয়ন্তী ও পুর্নমিলনী অনুষ্ঠান ২০১৮ উদযাপিত

বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন,রুহুল আমিন রাজু,বাপসনিউজ: ঢাকা বিভাগের বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবের ৫০তম বার্ষিকী সুবর্ণ ও পূর্ণমিলনী ২০১৮ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১০ মার্চ শনিবার বিকাল ৩টায় স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

alt
সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করবেন জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা কালিন শিক্ষার্থী জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ) ইনামুল হক ভূঁঞা শাহজাহান। খবর বাপসনিউজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ ( কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান , কটিয়াদি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াহাব আইনউদ্দিন, বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান ভূঁঞা, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ঊপ-পরিচালক ভা. আব্দুল মুক্তাদির ভূঁঞা বাচ্চু,কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান কেয়া, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির রাব্বানী, কটিয়াদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লিয়াকত আলী খান,১০ নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান রোস্তম,১০নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুর্শিদ উদ্দিন,১০নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ভূঁঞা,প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান, ও জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুর্শিদ উদ্দিন ভূঁঞা।

alt
প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র- ছাত্রীদের আগমনে মুখোরিত হয়ে উঠে বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণ। ১ম পর্বটি শুরু হয় বেলা ১০ ঘটিকা থেকে। জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা কালিন শিক্ষার্থী জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ) ইনামুল হক ভূঁঞা শাহজাহান সভাপতিত্ব করেন ও প্রধান অতিথি ছিলেন জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিন কমিটির সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান। এই পর্বে সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কে ফুল দিয়ে বরণ এবং উত্তরীয় পড়িয়ে দেয়া হয়, সকলের জন্য ছিল ক্রেষ্ট ও মধ্যাহ্ন ভোজ, সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় প্রাক্তন কৃতি ছাত্রদের। খাবার বরাদ্দ ছিল সকল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক- শিক্ষিকাবৃন্দ ও রানিং স্টুডেন্টস্ দের জন্য। এরই মধ্যে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক , প্রাক্তন সহকারী প্রধান • জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের জমকালো সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী- ২০১৮ উদযাপিত হয়েছে।
alt
এই পর্বে সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কে ফুল দিয়ে বরণ এবং উত্তরীয় পড়িয়ে দেয়া হয়, সকলের জন্য ছিল ক্রেষ্ট ও মধ্যাহ্ন ভোজ, সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় প্রাক্তন কৃতি ছাত্রদের। খাবার বরাদ্দ ছিল সকল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক- শিক্ষিকাবৃন্দ ও রানিং স্টুডেন্টস্ দের জন্য। এরই মধ্যে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জনাবঃ নুরুজ্জামান, প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক আঃ মালেক, সভাপতি  ইনামুল হক ভূঞা ও (JEXSA) এর সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস ভূঞা বক্তৃতা রাখেন।প্রাক্তন ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রাক্তন দুই ছাত্র ও সংগঠনের নেতা ইমরান হোসেন ও সাজেদুল ইসলাম সেলিম। র্যাফেল ড্র এর মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে। ড্র এর প্রথম পুরস্কার ছিল একটি আকর্ষনীয় মোবাইল ফোন সেট যেটি জিতেছিল ইমরান হোসেন।

alt
২য় পর্ব শুরু হয় বেলা তিনটায়, এতে সভাপতিত্ব করেন আক্তারুজ্জামান,প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ -২ আসনের সাংসদ জনাবঃ এ্যাড. সোহবার উদ্দিন, অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ) জনাবঃ ইনামুল হক ভূঞা। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন,, প্রাক্তন ছাত্র ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ছিদ্দিকুর রহমান ভূঞাউপ- পরিচালক (অবঃ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনাবঃ ডাঃ মুক্তাদির ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান কেয়া,, অফিসার ইনচার্জ কটিয়াদী মডেল থানা, জাকির রব্বানী, ১০নং জালালপুর ইউনিয়ন, পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান রুস্তম, ১০নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, মুর্শিদ উদ্দিন ,১০নং জালালপুর ইউনিয়ন,পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, শাহনেওয়াজ ভূঞা,১০নং জালালপুর ইউনিয়ন, জালাল পুর ইউনিয়ন আওমিলীগ, জনাবঃ মুর্শিদ উদ্দিন প্রমুখ।

alt
প্রধান ও বিশেষ অতিথি বৃন্দ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষার মান, আধুনিকায় ও সার্বিক উন্নয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের জন্যে একটি মাইলফলক হিসেবে মনে করছেন অনেকেই।সবশেষে স্থানীয় ও দেশ বরেন্য শিল্পী মামুন, বৃষ্টি মনি ও শানুর পরিবেশনায় মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে রাত ৯ টা ১৫ ঘটিকায়।দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া সহপাঠীদের খুনসুটি, আড্ডা সেলফি ও ফটো শুটে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। মন ভরা অনন্দ, উচ্ছাস, আন্ততৃপ্তি ও এক বুক স্মৃতি নিয়ে সাবাই বাড়ি ফেরে আবার পুনর্মিলনের প্রতীক্ষায়।উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সনে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক, কটিয়াদী থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১০নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ দিনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ভূঁঞা। জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০তম সুবর্ণ রজত জয়ন্তী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূর্ণমিলনী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সভাপতি, বাপসনিউজ এডিটর, আমেরিকার মূলধ্রার রাজনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন।

alt
The gorgeous golden jubilee and reunion of the Jalalpure  Union high school at Jalalpure  Union.

Chief Guest of kishoreganj-2 SEAT MP Mr.Shurab Uddin add. So. from morning to former and present students, the school field of the students became a ̔ārita of the school field.

The 1st episode starts from 10 am from 10 am, Mr Enamul Haque Bhūñā. The Chief Guest was Mr. Akter's akalmrityu.

In this episode, all former students gave flowers and answers to the local students, for everyone, giving crest and lunch, not a tribute to the ex-portrait students. Food was allocated to all former and current teachers. For Śikṣikābr̥nda and of. Already the chief guest, special guests, former chief teacher Mr. Nuruzzaman, former assistant teacher Mr. :, President Mr. was, President Mr. Bhūñā Haque (Jexsa) General Editor Mr: Hassan Ferdous Bhūñā addressed the speech.

alt

Many of the students of the former students gave the memories of the memories. Hosted by former two students and organizations Mr. Imran Hossain and Mr: Sājēdula Islam Selim. The first episode of the raffle has ended. Draw the first episode of the raffle. Draw by the draw. The first prize was an interesting mobile phone set that won Imran Hossain.

The 2rd episode starts at three pm, Mr. Akter, the chief guest of kishoreganj-2 MP, member of kishoreganj-2 Constituency, Mr. Advocet Sorab uddin, the inauguration of the event, the district and public judge (retd), Mr. Enamul  Haque Bhūñā, was attended by the chairman of the district council of sub-District Council, Mr. Abdul Wahab Aynuddin,Re.bassman & sociel wark Siddqur Rahman Bhuyain,  Upazilla Executive Officer, at the night of the night of the day. , Deputy Director (retired) Health Department, Mr: DrAbdul motadir bhuyin. Free the, officer in charge of the office of Dr. Zakir Rabbani, former student and prominent academics, Mr. Fault Rahman Bhūñā, Chairman 10 No Union, Mr: Habibur Rahman Rustom, former chairman, Mr: Murshid Uddin and shah nawas  & Jalalpure  Union Awami League, President  Mr. Murshid Uddin.

alt

The main and special guests have promised the infrastructure, education quality, modern and global, as a milestone for a school in the school.

In the end of the end, the local and most of the country is the end of the event, the event of the event with the cultural event of the rain, the rain, and the sanu of the environment,

After a long time, I have been looking back to the school and photo shoot in a school shoot. with a heart full of fun, anyone, āntatr̥pti, and a book with a book back to the reunion again.


জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তী ও পুর্নমিলনী অনুষ্ঠান ১০ মার্চ শনিবার

বৃহস্পতিবার, ০৮ মার্চ ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন,রুহুল আমিন রাজু,বাপসনিউজ: ঢাকা বিভাগের বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবের ৫০তম বার্ষিকী সুবর্ণ রজত জয়ন্তী ও পূর্ণমিলনী ২০১৮ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১০ মার্চ শনিবার বিকাল ৩টায় স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

Picture

সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করবেন জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা কালিন শিক্ষার্থী জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ) ইনামুল হক ভূঁঞা শাহজাহান। খবর বাপসনিউজ।

alt

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিবেন কিশোরগঞ্জ-২ ( কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিবেন কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান , কটিয়াদি উপজেলা  আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াহাব আইনউদ্দিন,কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান কেয়া, বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান ভূঁঞা, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ঊপ-পরিচালক ভা. আব্দুল মুক্তাদিও ভূঁঞা বাচ্চু, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির রাব্বানী, কটিয়াদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লিয়াকত আলী খান,১০ নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান রোস্তম,১০নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুৃর্শিদ উদ্দিন,১০নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের  সাবেক চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ভূঁঞা ও জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুর্শিদ উদ্দিন ভূঁঞা।

alt

জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এক্্র ষ্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ও জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়-এর যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিন কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান। অনুষ্ঠান সূচিতে থাকবে আসন গ্রহণ, অতিথিদের বরণ,সম্মিলিত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা, বিভিন্ন ধর্ম থেকে পাঠ, স্বাগত বক্তব্যে, বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য, প্রধান অতিথি বক্তব, সম্মননা ক্রেষ্ট প্রদান, সভাপতি কর্তৃক সমাপনী বক্তব্য, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রীতি ভোজ ।

alt

উক্ত অনুষ্ঠানে এলাকার সবাইকে স্বাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক ও জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়  এক্্র স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস ভূঁঞা। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সনে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক, কটিয়াদী থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১০নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ দিনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ভূঁঞা। জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০তম সুবর্ণ রজত জয়ন্তী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূর্ণমিলনী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অভিনন্দন জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়  প্রাক্তন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সভাপতি, বাপসনিউজ এডিটর, আমেরিকার মূলধ্রার রাজনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন।


হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনা চর্চা

শুক্রবার, ০২ মার্চ ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চর্চা হচ্ছে। অন্তত তিনটি বড় ধরনের গবেষণায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি, বিচক্ষণতা এবং কৌশল নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।

ক্লাসরুমে শিক্ষকদের বক্তৃতায় বার বার উঠে আসছে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ। হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুলে শিক্ষকদের লেকচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আসছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাজ এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বদলে যাওয়া।

গর্ভমেন্ট বিষয়ে অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন। কেনেডি স্কুলে সরকার বিষয়ে পড়ান। এই কেনেডি স্কুল থেকে লেখাপড়া করে বেরোনো অন্তত ২১ জন এখন বিভিন্ন দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান। সরকার ও রাজনীতি বিভাগকেই হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল বলা হয়।

Picture

গ্রাহাম অ্যালিসন তাঁর লেকচারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির মডেল ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় ‘দারিদ্র থেকে উঠে আসা দেশগুলোতে সরকারের ভূমিকা’ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা উঠে এসেছে উদাহরণ হিসেবে।

গবেষণায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তিনি উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের সমন্বয় করেছেন।

হাভার্ডের কেনেডি স্কুলের আরেক খ্যাতিমান অধ্যাপক আর্থার অ্যাপলবাম, তিনি ‘পলিটিক্যাল লিডারশীপ এবং ডেমোক্রেটিক ভ্যালুস’ বিষয়ে এডামস প্রফেসর। তাঁর সাম্প্রতিক লেকচার গুলোতেও শেখ হাসিনা প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন। তাঁর নেতৃত্বে একদল পিএইচডি শিক্ষার্থী ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং শরণার্থী সমস্যা নিয়ে গবেষণা করছে। সেই গবেষণায় উঠে এসেছে রোহিঙ্গা শরণার্থী গ্রহণে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাহস।

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঠিক সিদ্ধান্ত একটি জাতিকে নতুন উচ্চতা দেয়, তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ সম্ভবত বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা।’ গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা সামরিক স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটিয়েছেন। এজন্য তাঁকে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে।’ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি শান্তিবাদী এবং সেক্যুলার রাজনীতির ধারাকে বেগবান করেছেন।

alt

অর্থার তাঁর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধতেও বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা সারাবিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

ক্রিস্টোফার অ্যাভেরি, কেনেডি স্কুলে পাবলিক পলিসি পড়ান। পাবলিক লিডারশিপ এবং ম্যানেজমেন্টের উপর তাঁর অনেকগুলো গবেষণা আছে। অ্যাভেরিও তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণায় শেখ হাসিনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার উন্নয়ন কৌশলকে তিনি জনপ্রিয় নেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে মনে করছেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় ‘শুধু নেতার জনপ্রিয়তার কারণে একটি অজনপ্রিয় দল কীভাবে ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকে, তার উদাহরণ হিসেবে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ এসেছে।

বিরোধপূর্ণ রাজনীতি বাংলাদেশের বিরোধী প্রতি পক্ষকে ধরাশায়ী করার রাজনৈতিক কৌশলকে অ্যাভেরি বলেছেন ‘ভালো রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে। জাতির পিতার পর হার্ভার্ডের বিশ্বখ্যাত ক্যাম্পাসে এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো রাজনীতিবিদকে নিয়ে এভাবে চর্চা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, সরকারের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, যিনি হার্ভার্ডে অধ্যাপনা করছেন, বলেন, ‘কেনেডি স্কুলে পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় সমসাময়িক রাজনীতি এবং বিশ্ব পরিস্থিতিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগে পড়ে সব আগামী দিনের বিশ্বনেতারা। শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের রোল মডেল। তাই আগামী দিনের বিশ্ব নেতারা তাঁকে নিয়ে চর্চা করবে এটাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে বিশ্বের অনেক কিছুই শেখার আছে।’

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই শিক্ষাবিদ বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশ নয় এখন তিনি বিশ্বের সম্পদ।’


জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ শুক্রবার সন্ধায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তাঁর এ ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন,বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি সবক’টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় লাভের পর একই বছরের ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লাখ শহিদ ও নির্যাতিত দুই লাখ মা-বোন, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সহযোগিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, আপনারা যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে আমাকে তৃতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছিলেন,আমি ও আমার সরকার প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য। বিগত চার বছরে আমার সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা আপনারাই বিচার করবেন। তবে আমি ও আমার সরকার আপনাদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নি¤েœ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণাঙ্গ বিবরন তুলে ধরা হলো-

alt

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।

২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ বছরপূর্তিতে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি। আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন।আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন। ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

তাঁর সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করাই আমার একমাত্র ব্রত। ‘‘বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়’’ – জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা আমার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ করব, স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলব।আমি আজকের দিনে শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি; ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি জানাই আমার সালাম।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কময় দিন। মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা সময় পেয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য। একটা প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করে যুদ্ধবিধ্বস্ত-ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশটিকে যখন গড়ে তুলছিলেন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনই চরম আঘাত এলো।ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে আমি ও রেহানা হারালাম প্রাণপ্রিয় মা, বাবা, তিন ভাই, ভ্রাতৃবধুদের এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজনসহ ১৮জন সদস্যকে।

বিদেশের মাটিতে ছিলাম বলে দুই বোন বেঁচে যাই, কিন্তু দেশে ফিরতে পারিনি আমরা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসক আমাদের দেশে আসতে দেয়নি। সর্বহারা নিঃস্ব রিক্ত হয়ে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ৬টি বছর বিদেশে কাটাতে হয়েছিল।১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন সকল বাধা অতিক্রম করে প্রিয় দেশবাসী আপনাদের সমর্থনে আমি দেশে ফিরতে সক্ষম হই। রিফিউজি হিসেবে আমাদের অমানবিক জীবনের অবসান ঘটে।

দেশে ফিরে একদিকে যেমন দলকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করি, অপরদিকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে উদ্ধার করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা চালাই।চারণের বেশে সমগ্র বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছি। আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে কী কী কাজ করতে হবে তারও পরিকল্পনা তৈরি করি।স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে যখন আপনাদের কাছে গিয়েছি, পেয়েছি অপার স্নেহ, ভালবাসা, পেয়েছি আত্মবিশ্বাস। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, বন্ধুর পথ অতিক্রম করে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পাই।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর এই প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সুযোগ পেল। বাংলাদেশের মানুষ সরকারি সেবা পেল। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ ব্যাপক উন্নতির পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অপার সম্ভাবনা দৃশ্যমান হতে থাকল। বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের সেবাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন জনজীবনে আস্থা সৃষ্টি করেছিল।

কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইজন সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজী, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়।

২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের র‌্যালিতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২৪ নেতাকর্মী হত্যা, ব্রিটিশ হাই কমিশনারের উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকু-ে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন।এমনি পরিস্থিতিতে জারি করা হল জরুরি অবস্থা। ৭ বছর দুঃসহ যাতনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশবাসী আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছিল। নির্বাচনের দিন ৫৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়। হত্যা করে প্রিসাইডিং অফিসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।২০১৩ থেকে ২০১৫-এই তিন বছরে বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় ৫০০ নিরীহ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গাড়ি, ২৯টি রেলগাড়ি ও ৯টি লঞ্চ পোড়ানো হয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাংচুর এবং ৬টি ভূমি অফিসে আগুন দেওয়া হয়। মসজিদে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় পবিত্র কোরআন শরীফ। তাদের জিঘাংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি রাস্তার গাছ এবং নিরীহ গবাদিপশু।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর – এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা।

প্রিয় দেশবাসী,
আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন।
দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।

প্রিয় দেশবাসী,
২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।১৯৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি আমলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ যখন দায়িত্ব ছাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি’র সময় মূল্যস্ফীতি আবার ৭ দশমিক এক-ছয় শতাংশে পৌঁছে। ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যষ্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক চার-আট বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি।বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি।৩০ প্রকার ঔষধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।

১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।সরকারি কর্মচারিদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না।

বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে।চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে।গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে।আমরা সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ চলছে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে সারাদেশে ব্যাপকহারে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। আমরা বেশ কয়েকটি বন্ধ কারখানা চালু করেছি। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে সমুদ্র সম্পদ আহরণ, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্লু ইকোনামি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে।সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। হতদরিদ্র ৩৫ লাখ মানুষকে বয়স্কভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিধবা, স্বামী পরিতক্তা, দুস্থ্য নারী ভাতা উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার। ৮ লাখ ২৫ হাজার জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা ভাতা পাচ্ছে।

সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতির পিতার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে বিশ্বসভায়।সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে। যে বাংলাদেশকে একসময় করুণার চোখে দেখত, সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানোয় করুণার পাত্র মনে করত; আজ সে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বসভায় সম্মানিত।

আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালা ১৯৭৪-এর আলোকে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছি। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে আমাদের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। বাংলাদেশ জেন্ডার সংশ্লিষ্ট এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বে ৫ম স্থান অর্জন করেছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে চলেছে। অতি সম্প্রতি আমাদের মেয়েরা অনুর্ধ-১৫ সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এরআগে আমাদের মেয়েরা এএফসি অনুর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে।

‘‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশি দেশগুলিসহ সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

প্রিয় দেশবাসী,
সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবধিান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে ২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।আমি আশা করি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।

কোন কোন মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ অশান্তি চান না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নিবেন না।

প্রিয় দেশবাসী,
আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক!

প্রিয় দেশবাসী,
স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আমরা আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। এসব যদি আপনাদের চাওয়া হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আপনাদের পাশে আছি।কারণ, আমরাই লক্ষ্য স্থির করেছি যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করব। শুধু লক্ষ্য স্থির করেই কিন্তু আমরা বসে নেই। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সকল বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

আসুন, দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ইনশাআল্লাহ।

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান রাব্বুল আল-আমিন আমাদের সকলের সহায় হোন।

খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।


যেখানে শেখ হাসিনা অনন্য ও অদ্বিতীয়

মঙ্গলবার, ০৯ জানুয়ারী ২০১৮

সব থেকে বিস্ময়কর ব্যাপার ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তাঁর বেঁচে যাওয়া রক্তের উত্তরসুরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনাকে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত করে রেখেছিল ওই সময়ের জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যাকে দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয় দেশের বাইরে।

আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসুরী শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে সম্মেলনের মাধ্যমে। তিনি দলের দায়িত্ব নিয়েই জেনারেল জিয়ার সামিরক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই বাংলার মানুষের ভাত ও ভোটের অথিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত হোন। শেখ হাসিনা মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির বুকে চেপে বসা জগদ্বল পাথরের মত সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং মানুষের ভোট অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বার বার বুলেট ও গ্রেনেডের মুখ থেকে বেঁচে ফেরা বহ্নিশিখা। তিনি তাঁর জীবন বাংলার মেহনতী দুখি মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের কল্যাণই তার রাজনীতির দর্শন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যেমন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উদার গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশেরও প্রতিচ্ছবি। তার রাজনীতির মূলমন্ত্র হলো জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। আর তাই বার বার স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক অপশক্তি তার উপর বুলেট ও গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণের বিপুল ভালোবাসা ও আর্শিবাদে তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন বাংলার মানুষের ভাগ্যন্নোয়নের জন্যই। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে বিশ্বের রাজনীতির ইতিহাসে সবচে কলঙ্কিত ঘটনা ঘটে। যুদ্ধক্ষেত্রে যে আর্জেস গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় সেই একই গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপর। ইতিহাসের বর্বরোচিত ওই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমাননহ নিহত হয় ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। বিভীষিকাময় গ্রেনেড হামলায় আহত আরো শত শত মানুষ। সেই গ্রেনেড হামলার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছিল বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া হাওয়া ভবনে জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছিল তারেক রহমান। ওই সব বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় আওয়ামী লীগরে সমাবেশে হামলা চালানোর। একাধিক বৈঠকে তারেক রহমানের সাথে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেয় তৎকালীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফর জামান বাবর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহম্মদ মুজাহিদ এবং আরো বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শেখ হাসিনাকে হত্যা করাই ছিল ওই হামলার প্রধান টার্গেট। মুফতি হান্নান পরে তার স্বীকারক্তিতে বলেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ওই হামলার সুষ্ঠু বিচার তো করেই নি বরং হামলার পরে সমস্ত আলামত মুছে ফেলতে চেয়েছে। নিরীহ এক জজ মিয়াকে আসামী বানিয়ে আষাঢ়ে গল্প ফাঁদতে থাকে।

Picture

বার বার মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া নেতৃত্ব বর্তমান বিশ্বে বিরল। বাংলাদেশের পরম সৌভাগ্য যে, এদেশের মানুষ শেখ হাসিনার মত ভিশনারী, কর্মঠ ও প্রচণ্ড সৎ এমন বিরল নেতা পেয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের বা উন্নয়নশীল দেশে একজন শেখ হাসিনার মত নেতা দেশকে কিভাবে দ্রুত এগিয়ে নিতে পারেন তা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে উল্টোপথে চলা বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ কখনো মসৃন ছিল। আর শেখ হাসিনাকে পথ চলতে হয়েছে আরো কঠিন বন্ধুর পথে। বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনীতিতে কখনো স্থিতিশীলতা আসেনি এতখানি যা শেখ হাসিনার সময়ে এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন নির্বাচতি বা অনির্বাচিত শাসক শেখ হাসিনার মত টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এই কথাটি এভাবে বলা যায় শেখ হাসিনার মত বিপুল জনপ্রিয়তা এবং জনগণ বান্ধব নেতা হিসেবে টিকে থাকতে পারেনি। এই দিক বিবেচনা করলে শেখ হাসিনা এমন এক রেকর্ড গড়েছেন যা এক কথায় অনন্য এবং অসাধারণ। শুধু অসাধারণই না এই ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা অদ্বিতীয়ও বটে। সামনের দিনেও শেখ হাসিনার মত বিপুল জনপ্রিয়তা এবং জনসম্পৃক্ততা ধরে রেখে এমন রেকর্ড কেউ করতে পারবে বলে বর্তমানে দেশের কোন মানুষ বিশ্বাস করে না।

কোন প্রধানমন্ত্রী সৎ ও আন্তরিক থাকলে যে দেশের উন্নয়ন হয় তার প্রমাণ শেখ হাসিনা। শুধু আন্তরিকতা বা সততায় শেখ হাসিনার শক্তি না। তিনি বিশ্বাস করেন আমরা পারি, বাঙালীরা পারে। শেখ হাসিনা বার বার একটি কথা বলেন আমরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি তাই কোন বিজয়ী জাতি কখনো মাথা নত করে থাকতে পারেনা। এই একটি মন্ত্রই শেখ হাসিনার হয়তো মূলমন্ত্র। তাই তো আমরা দেখি জাতির কলঙ্কতিলক যুদ্ধাপরাধী যারা বাংলাদেশর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাই শুধু করেনি হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট ও ধর্ষণের মত গুরুতর অপরাধ করেছিল তাদের বিচার করেছেন তিনি। আর এই বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি-জামায়াতসহ দেশী-বিদেশী নানা মহল শেখ হাসিনার উপর প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় সেটা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করেও কোন যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচাতে পারেনি। এখানেই শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং দৃঢ়তার প্রতি সবার অকুণ্ঠ সমর্থন।

এর আগের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বিদ্যুতের মত মৌলিক চাহিদার দাবিতে মানুষ রাস্তায় নেমেছে, প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার বিদ্যুৎ তো দিতেই পারেনি উপরন্তু বিদ্যুতের দাবিতে যে মানুষগুলো রাস্তায় নেমেছিল তাদেরকে গুলি করে মেরেছে। সেই সময়ের সাথে বর্তমানের তুলনা করলে দেখা যায় শেখ হাসিনা সরকার প্রধান হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং চলতি ২০১৮ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যৎ সুবিধার আওতায়। আর ২০১৮ সালের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা সম্ভব হবে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে।

শেখ হাসিনার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ এমন কিছুর সাক্ষী হয়েছে যা আমাদের কল্পনাতীত ব্যাপার ছিল। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক যখন বাংলাদেশর স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করে তখন শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পারে, আমরাও পারি। সম্পূর্ণ দেশের টাকায় বাংলাদেশর ইতিহাসে সবচে বড় মেগা প্রজেক্ট এই পদ্মাসেতুর কাজ এরই মধ্যে অর্ধেক শেষ হয়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সেতুর মূল কাজ শুরু হয়ে গত বছরেই সেতুর প্রথম স্প্যান বসেছে। এভাবেই চলতি বছরের শেষ নাগাদ আমাদের ইতিহাসে সবচে সফল মেগাপ্রজেক্টটি শেষ হবে। আর বাংলাদশে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০১৭ সালে অর্থনৈতিক সাফল্যে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে কান্ট্রি অব দ্যা ইয়ার ঘোণষা করেছে বিশ্ববিখ্যাত পত্রিকা দ্যা ইকোনোমিস্ট। অর্থনৈতিক অগ্রতিতে বাংলাদেশ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আর এমন উচ্চ গতির প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ এই মুহূর্তে বর্তমানে আর একটিও নেই। বাংলাদেশর মোট জিডিপির পরিমাণ এখন ২৫০ বিলিয়ন ডলার। মজার ব্যাপার হলো দেশের মোট জিডিপি ১৫০ বিলিয়ন ডলার হতে সময় লেগেছে প্রায় ৩৯ বছর আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ৯ বছরেই দেশ ১০০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনা অপরিহার্য এবং একই সাথে এই কথাও সত্য যে সরকারের ধারাবাহিকতা ধাকলে উন্নয়ন বেশি হয়। এই দুটি কারণ যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়কালে ঘটেছে তাই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার পর এমন নজিরবিহীন উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করতে পারছে। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন জীবনভর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। তার রক্তের যোগ্য উত্তসুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই পথের যাত্রী। পরম করুণাময় হয়তো তাকে বার বার বুলেট ও গ্রেনেডের মুখ থেকে জীবিত ফিরিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। বাংলার মানুষের ভালোবাসার প্রতিদানও প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এক বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। বর্তমানে বিদেশীরাও বাংলাদেশের সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে থাকেন। দেশে ও দেশের বাইরে ভিশনারী লিডার হিসেবে শেখ হাসিনার যে ঈর্শনীয় সাফল্য তা এক কথায় অনন্য ও অসাধারণ।


মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনীতির আমূল সংস্কার প্রয়োজন = আ স ম আবদুর রব

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে মহান বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জেএসডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও দেশে গণতন্ত্র, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, শোষণ মুক্তি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়নি। সাধারণ মানুষের জীবন-ধারন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারা প্রায় সকল ক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। অধঃস্তন আদালতের চাকুরীর শৃংখলা বিধি শাসন বিভাগের অধীনে ন্যাস্ত করে ন্যায় বিচারের সকল সম্ভাবনাই তিরোহিত করা হয়েছে। এসব কিছুই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থি।


রব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার আমুল সংস্কার প্রয়োজন। এ জন্যই আমরা সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছি। আমরা দেশের সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সমাজ শক্তি ও সকল শ্রেনী-পেশার জনগণকে যুক্তফ্রন্টের অংশীদার হয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর(অব:) আবদুল মান্নান, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জেএসডি সিনিয়র সহ সভাপতি এম এ গোফরান, গণ সাংস্কৃতিক দলের আহবায়ক আল মামুন, জেএসডি নেতা আতাউল করিম ফারুক, মো: সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, এ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশারফ হোসেন প্রমুখ।


মেয়র আনিসুল হক এর মৃত্যুতে জ্এেসডির শোক

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ:জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারন সম্পাদক আবদুল মালেক রতন এক বিবৃতিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আনিসুল হক ছিলেন সৃজনশীল, বিনয়ী, মিষ্টভাষী, সদা প্রানোচ্ছল এক ব্যাক্তিত্ব।একটি দল থেকে নির্বাচিত হলেও তার বিরুদ্ধে কখনও দলবাজীর অভিযোগ উঠেনি। সীমিত ক্ষমতা নিয়েও তিনি সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কাজে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করছি।


বি চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোট

মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

বাপ্‌স নিউজ : বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রধান করে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে। সোমবার রাতে উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় এক বৈঠকে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে এই জোট গঠন করা হয়।তবে এই জোটে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম নেই। প্রাথমিকভাবে যুক্তফ্রন্টে চারটি দল রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন। দলগুলো হলো সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য।

আব্দুল মালেক রতন বলেন, আজকের বৈঠকে বি. চৌধুরীকে প্রধান করে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। এই জোটের 'আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ' করতে আরও সপ্তাহ দুয়েক লাগবে। তৃতীয় একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।রাত সাড়ে আটটায় বৈঠকটি শুরু হয়। যদিও এর আগে জোট গঠনের উদ্দেশ্যে একাধিকবার বৈঠক করেন ওই সব দলের শীর্ষ নেতারা।এ সময় চারটি দলের শীর্ষস্থানীয় চার নেতা ছাড়াও বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি. চৌধুরী, জেএসবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন বৈঠকে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন নতুন ফ্রন্টের নীতি ও ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। জোটের গঠনকাঠামো ও কার্যপদ্ধতি পরে ঠিক করা হবে বলে জানানো হয়।


দেশের পরিস্থিতি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের অন্তরায় হয়ে উঠছে ...... আ স ম আবদুর রব

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ:জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জনগনের অবাধ রাজনৈতিক অধিকারহীনতা ও নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতের কারনে দেশের পরিস্থিতি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের অন্তরায় হয়ে উঠছে যা জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য প্রয়োজন দুই জোটের বাইরের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সমাজশক্তিসমুহের ঐক্যের মধ্য দিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা। জেএসডি এ লক্ষ্যে ২০১১ সাল থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আমাদের চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। যে কোন অবয়বেই হোক অবিলম্বে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির আত্মপ্রকাশে আমরা আশাবাদী। জনাব রব বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকার পরও এখন থেকে সকল সংসদীয় আসনে প্রার্থী তালিকা প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। আজ সকাল ১০ টায় দলের এক বিশেষ প্রতিনিধি সভার সভাপতির ভাষণে জনাব রব এসকল কথা বলেন।দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন দলের সাধারন সম্পাদক  আবদুল মালেক রতন, এম এ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো: সিরাজ মিয়া, মিসেস তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।


জেএসডি’র ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত : দেশের পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে..... আ স ম আবদুর রব

বৃহস্পতিবার, ০২ নভেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জাতীয় ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে সরকার অক্ষম হয়ে পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা ও সংবিধানের আমূল সংস্কার নিশ্চিত করা। প্রয়োজন পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ গঠন করে সেখান থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য দুই জোটের বাইরের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল দল ও সমাজ শক্তিকে নিয়ে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে। গত ১ নভেম্বর বিকেল ৩ টায় জেএসডির ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির প্রারম্ভিক বক্তব্যে জনাব রব এ সকল কথা বলেন।খবর বাপসনিঊজ।

জাতীয় প্রেসক্লাব বিলনায়তনে¡ অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক  মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সহ সভাপতি তানিয়া রব, সাধারন সম্পাদক  আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, এবং জেএসডি নেতা সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক  আতাউল করিম ফারুক, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক  সিরাজ মিয়া, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক  শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন,সাংগঠনিক সম্পাদক  কামাল উদ্দিন পাটওয়ারী ও  মোশারফ হোসেন প্রমুখ।