Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

মায়ানমার বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস টার্গেট,বলি হলো বাংলাদেশ = আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আজ থেকে ৬৫বছর আগে ১৯৪৮সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ভারতের শেষ স্বাধীন মুসলিম সালতানাত বা রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পতন ঘটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হায়দ্রাবাদের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরাজয় ও ভারতীয় সেনাদের মাধ্যমে সংঘটিত ব্যাপক গণহত্যায় ২লক্ষাধিক মুসলমানের জীবন কেড়ে নিয়ে।এদের বেশীর ভাগ ছিলেন নারী শিশু ও বেসামরিক মুসলমান।পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌র মৃত্যুর একদিন পর ১২ই সেপ্তেম্বরে শুরু হয়েছিলো এই অভিযান।ভাবতে ভাবতেই আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমান ও হিন্দুদের মেরে ফেলার নৃশংসতা ও বাংলাদেশে বিপর্যয় পাঠানোয় ভারতীয় ও মায়ানমারের যৌথ সামরিক কৌশলে মনোযোগ গেলো।আসছে বাংলাদেশে বিপর্যয়ের চ্যালেঞ্জ!       

প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের ভান্ডার লুন্ঠনের লক্ষ্যে আরাকানের রোহিঙ্গা জাতির নিধনযজ্ঞ এবং রাজনীতিতে  পরস্পরিক শত্রুতায় বিভক্ত অসংগঠিত বাংলাদেশের উপর ১০লক্ষাধিক সর্বহারা রোহিঙ্গার স্থায়ী বসবাসের গোপন সমঝোতা হবার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে গোয়েন্দা সূত্রে।বাংলাদেশ প্রথমে প্রকাশ্যেই রোহিঙ্গা জাতি নির্মূলে মায়ানমার সরকারকে যৌথ অপারেশনের প্রস্তাব দিয়েছিলো ভারতের পথ ধরে।সেটা দেখতে লাগে মায়ানমার-ভারত-বাংলাদেশ সরকারের সিন্ডিক্যাট।তবে বিশ্বপরিস্থিতি ও বাংলাদেশের সমাজ জীবনের  আকাঙ্ক্ষার নিরীখে লোকদেখানো মায়ার অভিনয় চালু হয়েছে বলিউড,ঢালিউড এবং হলিউডের ষ্টাইলে।ধন্যবাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে! জাতিসংঘে অনেক বক্তা সর্বহারা মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে বক্তৃতা দিয়ে মানবতা নিয়ে রাজনৈতিক ঠাট্টা করবেন ।সবাই নীচ জাতের মানুষ নন,অনেকে তাদের বিশ্বাষ বা নীতির আলোকে ভূমিকা নেবেন।তবে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা সরিয়ে নেবার জন্যে ভিক্ষা অথবা বিনয়ে কোন ফল আসবেনা। দরকার হবে যোগ্যতার।  

 রোববার ১৭ই সেপ্টেম্বর ইরান এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রধান যথাক্রমে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে আরো পদক্ষেপ নেবার জন্যে মুসলমান বিশ্বের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।তারা বলছেন রোহিংগা শরণার্থীদের জন্যে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা খুবই সামান্য। রোহিঙ্গাদের ত্রান বিতরণে গোটা মুসলিম বিশ্বের সকল সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাগুলোর সম্পদ এবং স্থাপনা ব্যবহারের আহবানও জানিয়েছেন তারা।

  রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নয়,ভারতের উচিত মিয়ানমারের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া– প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব দিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল। প্রভাবশালী সাবেক এই কূটনীতিক বাংলা ট্রিবিউনকেও ১৭ই সেপ্টেম্বর রোববার  সরাসরি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ যদি ভারতের কাছ থেকে এ ব্যাপারে বেশি কিছু আশা করে, তাহলে ভুল করবে।ঢাকাকে বুঝতে হবে, দিল্লির পক্ষে এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।’ তিনি ভারত সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক। মোদী যেকথা নিজের মুখে বলেননি,সেকথাটাই ভারত সরকারের পক্ষে মিঃ কানোয়াল বলেছেন।বাংলাদেশ এই সহজ কথাটা বুঝেই পথ নির্দ্দিষ্ট করে নিতে পারে।    

বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতির চাপে সরে এসেছে মিয়ানমারের সাথে যৌথভাবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোকাবেলা করার নিজের প্রস্তাব থেকে।বিজিবি আর কোন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাচ্ছেনা,ঠেলে দিচ্ছেনা নাফ নদীতে।রোহিঙ্গাদের প্রতি দেশের ভেতরে বাহিরে বাংলাদেশীদের সহানুভূতির তুফান এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের বাস্তবতায় ভারতীয় হিংসাত্নক ধারা থেকে বাস্তবতার পথে চলে আসে সরকার।এতে মূল অবদান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা ডিজি এফ আই এর।

বলতে গেলে তারাই বিপজ্জনক অবস্থান থেকে সরকারকে রক্ষা করেছে এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কাজে প্রশাসনের পেছনে সক্রিয় সহায়তা দিয়ে চলেছে।নেগোসিশনটাও করেছে তারা।প্রতিরক্ষা শক্তি থেকে এই পদক্ষেপ না নিলে শেখ সরকারের কি বিপর্যয় হতো,তা কল্পনার অতীত।বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ পরিস্থিতির সাথে তাল মিলাতে পারার জন্যে।প্রতিরক্ষাবাহিনী রাজনৈতিক কৃতিত্ব নেয়না,তা পছন্দ ও করেনা এই মহান পেশা। সুনাগরিকরা যা করে এনন জাতীয় ইস্যুতে কৃতিত্ব হবার কথা সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের পদের নামে।

বাংলাদেশে ৪০টির বেশী রাষ্ট্রের দূতাবাস বা হাই কমিশনের কর্মকর্তারা ১২ই সেপ্টেম্বর উখিয়া টেকনাফ এবং বান্দর বনের নাইক্ষংছড়ি সফর করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলে নৃশংসতার চিত্র বুঝবার চেষ্টা করেছেন। সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।কুটনীতিবিদদের এই প্রতিনিধিত্বকে মনে করা যায় ঘটনা রেকর্ড করা এবং নিজ নিজ রাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে মায়নমার এবং আমেরিকা,চীন,রাশিয়া,ভারত ও ইজরাইলের সাথে স্বার্থের সম্পর্কের ভিত্তি অনুযায়ীই ওসব রাষ্ট্র ভূমিকা নেবেন।জাতিসংঘের অধিবেশনে আলোচনায় সুবিধার জন্যে এসব কূটনীতিবিদদের শরণার্থী শিবির সরেজমিনে দেখার গুরুত্ব অবশ্যই প্রচুর।দুপুর বেলা পর্যন্ত তারা ওখানে থেকে ফিরে আসার পর পর মায়ানমার সেনাবাহিনী আবার আগুন দেয় মংডু এলাকায় রোহিঙ্গাদের ঘর বাড়ীতে।  

ভেবে দেখা দরকার জাতিসংঘের মহাসচিব মানবাধিকার কমিশন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান,বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব,নোবেল লরিয়েটসদের অনুরোধ বা নিন্দাকে পরোয়া না করে জাতিনিধনে কেনো তারা এতো উম্মাদনায় মেতেছে?কিসে তাদের এতো শক্তি?কোথেকে আসে তাদের এই প্রশ্রয়?নিশ্চয়ই মায়ানমারের হানাদারগোষ্ঠী এখানে কেবলমাত্র প্রচলিত কূটনীতি দিয়ে এই মহাসমর্থন অর্জন করেনি।গোপন রহস্য রয়েছে ঘটনার পেছনে।মায়ানমারে অনেকগুলো গেরিলা গোষ্ঠী আছে চীন থাইল্যান্ড সীমান্তে।সেসব গেরিলা গোষ্ঠীদেরকে নির্মূল বা তাদেরকে দেশান্তর করে দিচ্ছেনাতো মায়ানমার সরকার।তাহলে রোহিঙ্গাদের অপরাধটা কি?অথবা আরাকান বা রাখাইন রাজ্যের দোষটা কি?  

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বঙ্গোপসাগরের পারের এই রাজ্যটি হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের খনির অঞ্চল।  অপরদিকে এই এলাকাটা সামরিক ঘাঁটির জন্যে বেশ চমৎকার পছন্দের স্থান সামরিক কৌশলগত বিবেচনায়।তাই এই যায়গা জনশুন্য করা হয়েছে জাতি নিধন কর্মসূচীর মাধ্যমে।ফলে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ও প্রকৃতি থেকে তাড়িয়ে গরীব এই রোহিঙ্গাদেরকে আরো মানবেতর দারিদ্রতায় ঠেলে দেয়া হয়েছে।দুনিয়ায় নরকের চিত্র করা হয়েছে আরাকানে। অপরদিকে দুর্দশাগ্রস্থ ও দূর্নীতিগ্রস্থ বিভেদ বিভক্ত ও নেতৃত্বহীন প্রতিবেশী বাংলাদেশকে বাধ্য করা সহজেই সম্ভব হয়েছে যেখানে লোভী ও সেরা দূর্নীতির লোকরাই রাজনীতি ও নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রক।                    

প্রধানমন্ত্রীকে আসতে হয়েছে জাতিসংঘে অধিবেশনে যোগ দিতে।চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে ত্রাণবাহী কার্গো বিমান।এতে স্থানীয় জেলাপ্রশাসক সরকারের পক্ষে ত্রান গ্রহ্ন করছেন এবং চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে কয়েকবার নির্বাচিত  বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাসদের কেন্দ্রীয় কার্য্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দীন খান বাদল উপস্থিত থাকেন বলে টেলিভিশনে দেখা যায়।


তিনি আমাদের গর্বের ধন

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

এম. নজরুল ইসলাম : টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এখন নিজের পরিচয়েই পরিচিত। কিন্তু তাঁর আরেকটি পরিচয়ে বাঙালি মাত্রই শ্লাঘা অনুভব করে। তিনি যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকার।

হ্যাঁ, তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেই পারে বাঙালি। বিলেতে নতুন প্রজন্মের বাঙালি প্রতিনিধি তিনি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাঙালির ঘরে জন্ম নিয়ে ব্রিটেনের শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায় যে চার বাংলাদেশির নাম এসেছে, সে তালিকায় তিনিও আছেন। রাজনীতি যাঁর রক্তের উপাদান উত্তরাধিকার সূত্রে, তিনি বিদেশেও সক্রিয় হবেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মায়ের একনিষ্ঠ যতœ ও পারিবারিক ঐতিহ্য, এই দুইয়ের মিশেলে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তাঁর পরিচয় এখন কারো কাছে অজানা নয়। সেই কোন সময় থেকেই আমরা শুনে আসছি, ‘বাঙালির ছেলে বিজয় সিংহ হেলায় লংকা করিল জয়’।

Picture

একালের বাঙালি মেয়ের লন্ডন জয় বাঙালিকে নতুন গৌরবে অভিষিক্ত করে। এই বাঙালি মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। যিনি উচ্চারণ করতে পারেন, ‘গ্রান্ডফাদারের আদর্শই আমার চরিত্র গঠন করেছে। পারিবারিক ঐতিহ্যই আমাকে একজন স্ট্রং সোস্যালিস্টে পরিণত করেছে।’ এই গ্রান্ড ফাদার আর কেউ নন, বাঙালির হাজার বছরের আকাক্সিক্ষত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই বাঙালি কন্যাকে নিয়েই সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শংসা উচ্চারণ, ‘সন্দেহ নেই, বঙ্গবন্ধুও চাইতেন, বাঙালি তার জাতীয় স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা নিয়ে জেগে উঠুক এবং বিশ্ব জাতীয়তার মোহনায় আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে মিলিত হোক। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ছেলেমেয়েরা তাঁর সেই সাধই পূর্ণ করেছে বলে মনে হয়। যদি তা না হতো তাহলে বিলাতে বাস করে, উচ্চশিক্ষা লাভ করে, চারদিকে এত অর্থবিত্তের পেশা থাকতে টিউলিপ রাজনীতিকে তাঁর পেশা হিসেবে গ্রহণ করতেন না।’ বাঙালি মেয়ে টিউলিপ নিজের চেষ্টাতেই আজকের এই অবস্থানে উঠে এসেছেন। হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসন থেকে ২০১০ সালে টিউলিপ প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে এ আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে সংসদে কথা বলছেন নিয়মিত।

রাজনীতি ও সমাজকর্মে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন নানামুখি কাজের ভেতর দিয়ে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফিলিপ গ্লউড অ্যাসোশিয়েটস, সেভ দ্য চিলড্রেন, বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের সাবেক লেবার এমপি ওনা কিং, টুটিং এলাকার লেবার এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে লন্ডনের নির্বাচিত মেয়র সাদেক খান, লেইটন ওয়ানস্টেড এলাকার সাবেক লেবার এমপি হ্যারি কোহেনের সঙ্গে কাজ করেছেন। ক্যামডেন ও ইজলিংটন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের গভর্নর, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সদস্য ও এমপি টিসা জোয়েলের পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। লেবার পার্টির ইয়ং লেবার অফিসার হিসেবে কাজ করছেন টিউলিপ সিদ্দিক। লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ড-এর লিডারশিপ ক্যাম্পেইনের ফিল্ড ডেপুটি ডিরেক্টর ছাড়াও লন্ডন লেবার পার্টির প্রেস অফিসার, গ্রেটার লন্ডন অথরিটির রিসার্চার হিসেবে কাজ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তিনি ।

২০১৫ সালে ব্রিটিশ সংসদ সদস্য হিসেবে লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী মনোনীত হয়েছিলেন টিউলিপ। ২০১৭ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে চাইল্ড কেয়ার এবং আর্লি এডুকেশন অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) নিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ওয়েস্টমিনিস্টারে ১০ ভালো বক্তার তালিকায় প্রথম কোনো বাঙালি এমপি হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। ব্রিটিশ রাজনীতিতে তিনি ্এরই মধ্যে একটি পাকা আসন তৈরি করতে পেরেছেন। আমরা আশা করি, এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী শুভ প্রভাব বিস্তার করবে।

মানুষের ইচ্ছাশক্তি তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ আমরা পাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারে। ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে জাতির জনককে হত্যার পর তাঁর জীবিত দুই কন্যার রাজনীতির প্রতি বিমুখ হওয়ার কথা ছিল। তাঁরা দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হতে পারতেন। কিন্তু তাঁরা সেপথে যাননি। দেশের প্রতি ভালবাসার টানে দেশসেবাকেই ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য টিউলিপ নিজেকে তাঁর পরিসরে যোগ্যতার সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন। এবং তিনি তা পেরেছেন। যেখানে সংস্কৃতি সম্পূর্ণ আলাদা, সেখানে তিনি শুধু নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেননি, নিজেকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়েতুলেছেন। এ সবই সম্ভব হয়েছে তাঁর ইচ্ছাশক্তির গুণে, যা তিনি অর্জন করেছেন তাঁর পারিবারিক সংস্কৃতি থেকে। তিনি সেই ঐতিহ্যের ধারক, যেখানে চ্যালেঞ্জ নেওয়া থেকে কাওকে পিছিয়ে আসতে দেখা যায়নি। টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক প্রমাণ করেছেন, দূরপ্রবাসেও বাঙালি নিজেকে তুলে ধরতে পারে। টিউলিপের এই অর্জন আমাদের সবাইকে গৌরবান্নিত করে। বাংলাদেশের মানুষও তাঁর কৃতিত্বের অংশীদার।

আজ তাঁর জন্মদিন। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের মেরটন কাউন্সিলের মিটচাম এলাকায় ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর টিউলিপ সিদ্দিকের জন্ম। বিশ্ব নাগরিক হিসেবে যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিষয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তাদের তালিকার শীর্ষে আছেন টিউলিপ। বিলেতে বাঙালির প্রতিনিধি হিসেবে এই সংগ্রামী জাতির মুখ আরো উজ্জ্বল করুন তিনি। বিশ্বের দরবারে বাঙালিকে পৌঁছে দিন বিশ্ব নাগরিকের সম্মানজনক অবস্থানে। জন্মদিনে তাঁকে আমাদের অন্তহীন শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন টিউলিপ। লেখক: অস্ট্রিয়া প্রবাসী লেখক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক


“দুঃখের দহনে, করুন রোদনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়!” : ফারুক ওয়াহিদ

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী- ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় কণ্ঠশিল্পী, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক পাওয়া শিল্পী আবদুল জব্বার- ‘দুঃখের দহনে, করুন রোদনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়’ হয়ে চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন- আমাদের আর কোনোদিন গান শোনাবেন না। ৩০ আগস্ট বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও সারা বাংলায় অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন- মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৬ সালে তিনি মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

বঙ্গবন্ধুকে গান শোনাচ্ছেন আব্দুল জব্বার

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে গান গেয়ে রণাঙ্গনে যুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। এই শিল্পীর গাওয়া ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অংসখ্য গানে গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর গান শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেছিলেন। এছাড়াও তখন ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেছেন যা ট্রেনিংরত মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি মুজিবনগর বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে সেসময় বিভিন্ন সময় গণসঙ্গীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক, ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকার। এছাড়াও ২০০৩ সালে বাচসাস পুরস্কার, ২০১১ সালে সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস(আজীবন সম্মাননা) এবং জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তাঁর গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়?/ দুঃখের দহনে, করুন রোদনে,/ তিলে তিলে তার ক্ষয়!’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ কালজয়ী গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
আবদুল জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। তিনি ১৯৬২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র ‘সংগমের’ গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৬৮ সালে ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু’ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৬৮ সালে পীচ ঢালা পথ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে ‘পীচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি’ এবং ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে ‘সুচরিতা যেওনাকো আর কিছুক্ষণ থাকো’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’ গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৭৮ সালে সারেং বৌ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে ‘ও রে নীল দরিয়া’ গানটি দর্শক জনপ্রিয়তা পায়। তার প্রথম মৌলিক গানের অ্যালবাম ‘কোথায় আমার নীল দরিয়া’ ২০১৭ সালে মুক্তি পায়। আব্দুল জব্বারের প্রথম স্ত্রী গীতিকার শাহীন জব্বার যার গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, ফাতেমা তুজ জোহরার মত জনপ্রিয় বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পীরা। তাদের সন্তান মিথুন জব্বারও একজন সঙ্গীতশিল্পী। জব্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকেয়া জব্বার মিতা যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
এই কিংবদন্তি শিল্পী অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন- যেগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং এখনও মানুষের মুখে মুখে। যেসব চলচ্চিত্রে গান গেয়েছিলেন- সংগম (১৯৬৪), নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৭), পীচ ঢালা পথ (১৯৬৮), এতটুকু আশা (১৯৬৮), ঢেউয়ের পর ঢেউ (১৯৬৮), ভানুমতি (১৯৬৯), ক খ গ ঘ ঙ (১৯৭০), দ্বীপ নেভে নাই (১৯৭০), বিনিময় (১৯৭০), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), নাচের পুতুল (১৯৭১), মানুষের মন (১৯৭২), স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা (১৯৭৩), ঝড়ের পাখি (১৯৭৩), আলোর মিছিল (১৯৭৪), মাস্তান (১৯৭৫), সূর্যগ্রহণ (১৯৭৬), তুফান (১৯৭৮), অঙ্গার (১৯৭৮), সারেং বৌ (১৯৭৮), সখী তুমি কার (১৯৮০), কলমিলতা (১৯৮১) এবং আরো অনেক ছবিতে অসংখ্য গান গেয়েছেন।
১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের তীর্থভূমি তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নং রোডের বাড়িতে ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই তরুণ শিল্পী আবদুল জব্বারকে আটকিয়ে রেখেছিলেন- উদ্দেশ্য প্রতিদিন ধানমন্ডি ৩২ নং রোডের বাড়িতে শত শত মিছিল আসতো এবং বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য এবং শ্লোগান শেষ হলেই বলতেন ‘এই জব্বার লাগা’ বলার সাথে সাথেই জব্বারের ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অংসখ্য দেশাত্ববোধক জ্বালাময়ী গান গেয়ে মিছিলকারীদের উৎসাহ দিতেন এবং অনুপ্রাণিত করতেন। কিংবদন্তি শিল্পী বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার এই দুঃখিনী বাংলায় শুধু একবারই আসেন শুধু একবারের জন্য- শিল্পীর গাওয়া ‘প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে’- কিন্তু আজ সেই দিনটি এসেছে শিল্পীর নিজের খবরই কাগজের পাতা ভরে।

alt

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা; ২ নং সেক্টর, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া


ষোড়শ সংশোধনী বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে এই ‘আত্মঘাতী যুদ্ধ’ বন্ধ হোক = সোহরাব হাসান

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ খাড়া করেছেন, তার অনেকটাই অসার প্রমাণিত হয়েছে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি কেবল সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ নয়, অতীতে আরও পাঁচ প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চ আদালতের অনেক বিচারপতি রাষ্ট্রপতির এ-সংক্রান্ত ক্ষমতা (নিম্ন আদালতের ১৫শ বিচারকের নিয়ন্ত্রণ, অপসারণ ইত্যাদি প্রশ্ন) বাতিল চেয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায় ও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের প্রধান অভিযোগ—এতে সামরিক শাসক প্রবর্তিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখা, সংবিধানে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে খাটো করে দেখা হয়েছে। এই তিন অভিযোগের প্রথমটি রায় এবং পরের দুটি শুধুই পর্যবেক্ষণ, তবে এ জন্য প্রধান বিচারপতিকে দোষারোপ করার ভিত্তি নেই। এর কোনোটিই সত্য নয়।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জিয়াউর রহমান করলেও এর উৎস চতুর্থ সংশোধনী। চতুর্থ সংশোধনীতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ থেকে সরিয়েরাষ্ট্রপতির হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। জিয়াউর রহমান সেটি নিজের হাতে না রেখে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত করেন। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীতেও তা টিকিয়ে রাখা হয়। দ্বিতীয়ত, ১৫শ বিচারক নিয়ন্ত্রণে ১১৬ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, মাসদার হোসেন মামলার রায় অনুযায়ী বিচার বিভাগ পৃথক করার পর সেটি আর কার্যকর থাকে না। মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ ও বদলির কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতে প্রত্যর্পণের কথা থাকলেও সরকার সেখানে ফিরে যেতে চায় না। অথচ সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফেরত নেওয়ার আইন করেছে। অধস্তন আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বাহাত্তরের সংবিধানে যে ক্রান্তিকালীন বিধানাবলি সংযোজন করা হয়েছিল, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও তার অবসান হয়নি। স্বাধীনতার আগের আইন (যখন বিচার বিভাগ পৃথক ছিল না)দিয়েই অধস্তন আদালত পরিচালনার কথা ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ নতুন করে পুনর্ব্যক্ত করেছে। অর্থাৎ এই ক্ষমতা তারা রাষ্ট্রপতির হাতেই রাখতে সংকল্পবদ্ধ। এমনকি একে তারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবেও ঘোষণা করেছে।

আরও বিস্ময়কর হলো আওয়ামী লীগ জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনকে অবৈধ দাবি করলেও সেই শাসনের এমন কিছু ধারা
বহাল রেখেছে, যা বাহাত্তরের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদি সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের নামে কোনো দল বা সংগঠন করা যাবে না। জেনারেল জিয়া সেটি বাতিল করে দেন এবং অদ্যাবধি তাঁর ফরমানই সংবিধানে বহাল আছে। আওয়ামী লীগ ধর্মবাদী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেও পঞ্চম সংশোধনীর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কে নীরব। এই স্ববিরোধিতা নিয়ে আর যা-ই হোক সেক্যুলার বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করা যায় না।

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ—নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা, বিচার বিভাগ। কিন্তু ব্রিটিশ রাজনীতিক এডমন্ড বার্গের মতবাদ
মেনে নিলে উল্লেখিত তিনটি স্তম্ভের সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যমকে যুক্ত করা যায়। গণমাধ্যম স্বাধীন হলে রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক নাও হতে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করে রাষ্ট্র মানেই সরকার বা নির্বাহী বিভাগ, তার হাতেই সব ক্ষমতা থাকবে, অন্যরা উপগ্রহ মাত্র। তাঁরা ভুলে যান যে রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের পরিপূরক, কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। এই তিন স্তম্ভের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তার সমাধান পাওয়ার ব্যবস্থা সংবিধানেই আছে।

আমরা জাতি হিসেবে যে কতটা অদূরদর্শী ও অবিবেচক ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করে সেটাই প্রমাণ করেছি। রায়ে আদালত যদি কোনো ভুল করে থাকেন, আইনি পথেই তার প্রতিকার খোঁজা উচিত ছিল। কিন্তু রাজপথে-মঞ্চে বিচার বিভাগকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কিংবা প্রধান বিচারপতিকে গণ-আদালতে বিচার করার রণহুংকার দেওয়া কেবল সংবিধান লঙ্ঘন নয়, গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারেরও পরিপন্থী। আদালতের রায় যেমন সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, তেমনি সংসদে পাস করা কোনো আইনকেও শাশ্বত ভাবার কারণ নেই। জাতীয় সংসদের আইনই যদি চূড়ান্ত হতো তাহলে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার বন্ধে প্রণীত ইনডেমনিটি আইনটি কখনোই বাতিল করা যেত না।

দুর্ভাগ্যজনক যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল-সংক্রান্ত রায় এখন আর আইনি বিতর্কের মধ্যে সীমিত নেই। এটি হয়ে পড়েছে মির্জা ফখরুলের ভাষায় ‘আগুন নিয়ে খেলা’ এবং ওবায়দুল কাদেরের ভাষায় ‘সাপ নিয়ে খেলা’। এই রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের ক্ষুব্ধ ও বিএনপির নেতাদের আহ্লাদিত হওয়ার কারণ দেখি না। আদালত যদি রাজনীতিকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে থাকেন, দলনির্বিশেষে করেছেন। রায়ে সব আমলের সমালোচনা করা হয়েছে। বিএনপি সরকার যে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগকৃত হাইকোর্টের ১০ জন বিচারককে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছিল, তাও কিন্তু করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতির আদেশবলে। উচ্চ আদালত সেই আদেশকে বাতিল করেছেন বলেই তাঁরা পরবর্তীকালে চাকরি ফেরত পেয়েছিলেন। নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতির আদেশের পবিত্রতা রক্ষা করলে তাঁরা চাকরি ফেরত পেতেন না। রাষ্ট্রপতির নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের অনিয়ম-বিচ্যুতি কেবল বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ আমলেও হয়েছে।

তিন সপ্তাহ ধরে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যে ভাষায় প্রধান বিচারপতিকে গালমন্দ করেছেন, কোনো গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতিকেরা সেটি করতে পারেন না। রায়ের পর্যবেক্ষণ যতটা আমরা পড়েছি, জেনেছি তাতে তিনি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করে কিছু বলেছেন বলে মনে হয় না। বরং তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বহুবার বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর অসাধারণ অবদানকে স্বীকার করেছেন।

দ্বিতীয়ত, প্রধান বিচারপতি যে ‘আমিত্বের’ কথা বলেছেন, বা একক ব্যক্তি দ্বারা কোনো দেশ গঠিত হয় না বলে রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সেটি কোনো ব্যক্তি বিশেষকে লক্ষ করে নয়; বরং আমাদের রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক একনায়কত্ববাদের কথা বলেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হতে পারে, আইনি তর্কও চলতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই রায় নিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করা গণতান্ত্রিক রীতির পরিচয় নয়। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে ষোড়শ সংশোধনীর রায় ছাপিয়ে প্রধান বিচারপতির দেশপ্রেম, ধর্মবিশ্বাস ইত্যাদি নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। এখানে দু-একটি উদাহরণ তুলে ধরছি: ২৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতির বিচার জনতার আদালতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে জনতার আদালত তৈরি হচ্ছে।’ একই দিন বিএমএ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আপনার বাংলাদেশের কিছুই পছন্দ হয় না। আপনি বাংলাদেশ ত্যাগ করলেই পারেন। আবোলতাবোল কথার কিন্তু একটা সীমা আছে।’ যুব মহিলা লীগের মানববন্ধনে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা পাকিস্তানপ্রেম দেখান। কারণ, তিনি পাকিস্তানের দালাল।’ তবে আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত দুই মন্ত্রী-খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তর্জন-গর্জনে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক রায় লিখে দিয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের কথা মেনে নিলে আওয়ামী লীগ সরকার একজন পাকিস্তানপন্থী লোককে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’প্রধান বিচারপতি বানিয়েছে। তাও যোগ্যতা বিবেচনা করে নয়, সংখ্যালঘু হিসেবে অনুগ্রহ করে। তাঁদের জানা উচিত, বাংলাদেশের অনেক আগেই একজন হিন্দু পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। কোনো পত্রিকার সম্পাদক রায় লিখে দিয়েছেন বা লেখা রায় পেনড্রাইভে তাঁর কাছে চলে আসার কথা বলা কেবল ব্যক্তি নয়, গোটা বিচারব্যবস্থার প্রতিই অশ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। প্রধান বিচারপতিকে পাকিস্তানে পাঠানো কিংবা জনতার আদালতে বিচার করার হুমকি নিশ্চয়ই রাজনৈতিক সুরুচি বা শালীনতার পরিচয় নয়। যখন কোনো মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে, তাঁর মাধ্যমে পদায়ন পাওয়া ব্যক্তিকেই খাটো করা হয় না, নিয়োগকর্তা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও হেয় করা হয়। সে ক্ষেত্রে তো প্রধান বিচারপতি সংসদ ও নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে যে শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, সেটাই সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

তবে আদালতের রায় নিয়ে কেবল ক্ষমতাসীন দলটিই বাড়াবাড়ি করেনি, বিরোধী দল বিএনপিও শুরু থেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছে। দেশের উত্তরাঞ্চল বন্যায় ভাসছে, সারা দেশে রাস্তাঘাট বেহাল, দুর্গত মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারী হচ্ছে—এসব
কিছুই বিএনপি নেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে না। তাঁরা রায় নিয়ে এমন ডঙ্কা বাজালেন যে মনে হচ্ছিল ক্ষমতার কাছাকাছি চলে এসেছেন। কিন্তু রায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত শাসনকে যে ব্যানানা রিপাবলিক এবং তাকে ‘নোংরা রাজনীতির নিয়ামক’বলে বিএনপির নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, অথচ সে বিষয়ে তাঁরা একটি কথাওবলছেন না। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের অপব্যবহার যে বিএনপি আমলেও বেশ ঘটেছে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়াই তিন জেলা জজকে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে পাঠানো তার একটি উদাহরণ মাত্র।

যখনই দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসনের ঘাটতির কথা আসে, আওয়ামী লীগ নেতারা বুলন্দ আওয়াজ তোলেন, স্বাধীনতার পর বেশির ভাগ সময় তাঁদের ভাষায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশ শাসন করেছে বলেই এই দুর্গতি। তাহলে ৪৬ বছরের দায় কেন আওয়ামী লীগ নিজের কাঁধে নিল এবং বিচার বিভাগকে শত্রুর কাতারে দাঁড় করাল?

রায়ে ক্ষমতাসীনেরা যদি সত্যি সত্যি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তঁাদের উচিত রিভিউর জন্য আবেদন করে প্রতিকার চাওয়া। আদালতকে রাজপথে নিয়ে আসা যেকোনোভাবেই কারও জন্য কল্যাণকর নয়, সে কথাটিই আরও পরিষ্কার করে বলেছেন
প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, ‘এবারের বিতর্কে যদি বিচার বিভাগের ক্রেডিবিলিটি নষ্ট হয়, তাহলে নির্বাহী বিভাগের ক্রেডিবিলিটিও নষ্ট হবে, তাহলে নির্বাহী বিভাগের ক্রেডিবিলিটিও রক্ষা পাবে না। বিচার বিভাগের মর্যাদা যতটা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, তা উদ্ধারে বহু যুগ লাগবে। আওয়ামী লীগের যেসব মন্ত্রী ও নেতা লাগামহীন কথাবার্তা শুরু করেছেন, তাঁরা যেন সতর্ক হন। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শূন্যাবস্থা সৃষ্টি করে তাঁরা যেন সেই শূন্যাবস্থা পূরণে একটি অপশক্তির পথ খুলে না দেন। (আগুন নিয়ে খেলা, যুগান্তর, ২৮ আগস্ট ২০১৭)।

বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে এই ‘আত্মঘাতী যুদ্ধ’ বন্ধ হোক।

সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।

এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


ভূচর পাখি কালচে দামা = আলম শাইন

সোমবার, ২৮ আগস্ট ২০১৭

ভূচর পাখি। শীতে পরিযায়ী হয়ে আসে। এতদাঞ্চলে প্রজনন ঘটে না। চেহারা মোটামুটি আকর্ষণীয়। প্রাকৃতিক আবাসস্থল তুষারপাত হয় এমন তৃণভূমি অঞ্চল। পাথুরে এলাকায়ও দেখা যায়। বিচরণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। পুরুষ পাখির গানের গলা ভালো। গাছের উঁচু ডালেবসে খুব ভোরে এবং গোধূলীলগ্নে গান গায়। স্বভাবে লাজুক। বেশির ভাগই একাকি বিচরণ করে। প্রজনন মৌসুমে জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায়। খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় লতাগুল্ম কিংবা ঝোঁপের নিচে। পরিত্যক্ত বা স্যাঁতস্যাঁতে এলাকার লতাপাতা উল্টিয়ে এবং ঘন ঘন ঠোঁট চালিয়ে খাবার খোঁজে। দ্রুত দৌড়াতে পারে, অসম্ভব দ্রুত। দুই পা একত্রিত করে লাফানোর মতো দৌড়ায়। গাছের উঁচুতে বিচরণ করে না। মাঝারি আকৃতির ফাঁকাডালে বেশি দেখা যায়। দেশের সর্বত্র দেখা যাওয়ার নজির নেই। বৈশ্বিক বিস্তৃতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী হুমকি নয়।

alt
পাখির বাংলা নাম:‘কালচে দামা’, ইংরেজী নাম:‘নাউম্যান’স থ্রাস’(Naumann’s Thrush) বৈজ্ঞানিক নাম: Turdus naumanni।
প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ২৩-২৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৩-৮১ গ্রাম। মাথা, ঘাড় ও পিঠ জলপাই বাদামির সঙ্গে কালো ছিট। ডানার প্রান্ত পালক পাটকিলে। লেজ কালচে জলপাই। চোখের ওপর দিয়ে সাদা চওড়া টান ঘাড়ে ঠেকেছে। গলা আঁশটে ক্রিমসাদা। বুক থেকে লেজতল পর্যন্ত কালো-সাদা বুটিক। চোখ কালো। উপরের ঠোঁট কালচে, নিচের ঠোঁট হলদে জলপাই। পা ময়লা হলদে, নখ কালচে।
 প্রধান খাবার: কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় ও কেঁচো।
প্রজনন মৌসুম মে থেকে জুন। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। সাইবেরিয় অঞ্চলে অধিক প্রজনন ঘটে। বাসা বাঁধে ভূমি থেকে ২-৭ মিটার উঁচুতে। গভীর কাপ আকৃতির বাসা। উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করে শৈবাল, শুকনো ঘাস ও লতাপাতা। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় ১৪-১৫ দিন।
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ। ধষধসংযরহব@মসধরষ.পড়স


ভারতীয় সেনা অফিসার কর্নেল শ্রীকান্ত পুরোহিত কি জঙ্গি?

শুক্রবার, ২৫ আগস্ট ২০১৭

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিতের জামিন হয়েছে ৫বছর পর।জঙ্গিবাদী তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।প্রমাণের আলামত গোপন করতেই এতো দীর্ঘসময় লেগেছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, হিন্দু জঙ্গি  স্বয়ং এই বিশাল বাহিনীর কমান্ডিং রেংকের অফিসাররা? ঘটনা নতুন নয়।তবে সামরিক বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা চাকরীরত থাকা অবস্থায় জঙ্গিবাদী বিদ্বেষের নেতৃত্ব করার বাস্তবতা নিশ্চয়ই ভারতের নত্যন পরিচয় দিচ্ছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী বা প্রতিরক্ষাবাহিনীর এই নতুন পরিচয় কি ভারতে জন্যে শান্তি স্থিতিশীলতা ওসমৃদ্ধি উৎপাদনে সক্ষম?প্রতিবেশী দেশ ও সমাজের সাথে সৌহার্দ্য বাড়াবার লক্ষণ?নাকি স্থায়ী তিক্ততার আগ্নেয়গিরি গড়ার পথ? এশিয়া প্যাসিফিকের এই বিশাল জনসংখ্যার দেশের এই রাজনৈতিক ধারার বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানী,  রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের  গবেষণার প্রাধান্যে উঠে আসছে বলেই ধারনা করা যায়। সন্দেহভাজন হিন্দু জঙ্গি পরিচয়ে সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতারের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রমান হাতেনাতেই ধরা পড়লো। মুসলমান সংখ্যাধিক্য এলাকায় বোমাবর্ষণ করে বিশেষ ধর্ম বিশ্বাসী মানুষ হত্যা করা এবং ভয় বিভীষিকা ছড়ানোর এই লোমহর্ষক নিষ্ঠূরতায় কর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত গ্রেফতার হওয়ায় ভারতে উগ্রপন্থী জঙ্গিবাদের উৎসের প্রকৃত চেহারা উম্মোচিত হলো।
 তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ২৯সেপ্টেম্বর ২০০৮ মালিএগাঁও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বোমাবর্ষণের জিনিষ সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন।এই সিরিজ বোমা হামলায় ৬জন মৃত্যু বরণ করে এবং আহতের সংখ্যা ছিলো অনেক।এই মানুষগুলো মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে আসছিলো।বোম্বে হাইকোর্ট ২০১৬সনে তাঁর জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলো।তিনি প্রায়ই ৯বছর জুডিশিয়াল কাষ্টডিতে আটক আছেন।তার এই ঘটনা বেরিয়ে আসার পর রেডিক্যাল হিন্দু জঙ্গিবাদের রাষ্ট্রীয় করনের আলামত চলে আসলো।
এসপ্তাহের নয়া খবর হলো লেঃকর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিতের জামিন হয়েছে ন্যাশানাল ইনভেষ্টিগেষান এজেন্সীর আপত্তির কড়া অবস্থান দেখানোর পরও।ধারণা করা হচ্ছে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিত্বকে সরকারীকরণ ও রাষ্ট্রীয়করণ করে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে বলেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্ত কর্ণেল সাহেব জামিন পাচ্ছেন এবং সামরিক বাহিনীতে ফিরে যাবেন।এতে অর্থ কি দাঁড়ায়? এটা পরিষ্কার হলো, তিনি অভিযোগমুক্ত না হলেও সামরিক বাহিনীতে কর্মরত থাকার সুযোগ তাকে দেয়া হচ্ছে।ভারতীয় সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা মুসলমান হত্যার সন্ত্রাসকে অনুমোদন দেয়।নীরিহ নির্দোষ ভারতীয় নাগরিক মুসলমান হবার দায়ে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তার হত্যার টার্গেট হওয়াকে নীতিসিদ্ধ করেছে।এমতাবস্থায় ভারতকে বা ভারত সরকারকে মুসলমান বিদ্বেষী বলা যায়।বলা যায় জঙ্গি সন্ত্রাসী।  
লেঃকর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত এবং স্বামী অসীমানন্দ সাম্প্রতিককালের জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছিলো। অসীমানন্দ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবা সংঘ(আর.এস.এস)র কর্মী। তিনি ২০০৭ সনে সমযোতা এক্সপ্রেস হামলা এবং আজমীর শরীফ দরগাহ্‌ হামলার   প্রধান পরিকল্পনাকারীরূপে অভিযুক্ত তালিকাভূক্ত আসামী। তিনি আরো সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ড এবং বোমা বিস্ফোরণে মূল পরিকল্পনাকারী বলে সনাক্ত করেছে ন্যাশানেল ইনভেষ্টিগেষন এজেন্সি বা এন.আই.এ।ভারতের এই তদন্ত সংস্থা সে দেশে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবিষয়ক ঘটনাবলী তদন্ত পারদর্শী।তাদের মতে, অসীমানন্দ মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও সহ বহু সন্ত্রাসী ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে।২০০৬সনের মালেগাঁও বোমাবাজিতে ৪০জন ভারতীয় মুসলমান নাগরিক হত্যা করা হয়েছিলো। খাজা মঈন উদ্দীন চিশতির মাজার শরীফে হামলায় ৩জন হত্যা ও কমপক্ষে ১৫জন জখম হয়েছিলো।ভারত-পাকিস্তানে যোগাযোগের ট্রেন সমঝোতা এক্সপ্রেসে প্রায় ৭০জন যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছিলো।
 অসীমানন্দ গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০১০সনে। সন্ত্রাসের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিলো।ট্রেনের ঘটনা সহ ২০০৬-২০০৮ দুই বছরে  আরো ৫টি বড় আকারের সন্ত্রাসের কথা সে স্বীকার করেছিলো।হিন্দু মৌলবাদী জঙ্গিত্বের লক্ষ্যে ভয় ভীতি ছড়িয়ে তাদেরকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই এই সন্ত্রাস করা হয় বলে সে জানায়। সন্ত্রাসী সুনিল যোশী দেবেন্দ্র গুপ্তের ঘনিষ্ট বন্ধু এই স্বামী অসীমানন্দ আর এস এস সংগঠনের ছায়ায় সন্ত্রাস করে করে নাম কামিয়েছে।
গ্রেফতার হয়েছে সাজাও পেয়েছে অপরাধ প্রমান হবার পর।ঝারখন্ডে জামতাদা এলাকার এই লোক জিলা প্রচার সম্পাদকের পদে ছিলেন আর এস এসের।তাদের সাথে তৃতীয় অপরাধী ব্যক্তিটির নাম ভবেশ প্যাটেল। তার নাম আর এস এসের কোন পদ পদবীতে না থাকলেও প্রধান অপরাধীরূপে আদালতে প্রমানিত হয়েছিলো আজমীর শরীফ দরগাহে বোমা আক্রমণ করে মুসলমান হত্যার অপারেশনে। এই অপরাধী অসীমানন্দ আদালতে স্বীকারও করেছে সে হায়দ্রাবাদে মক্কা মসজিদে,সমঝোতা ট্রেন এবং মালেগাঁও বোমাবাজি করে হত্যাকান্ড ঘটানোর সত্যতা।  
মৌলবাদী ধর্মান্ধ হিন্দু জঙ্গিবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই তিনি রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেকে অধিক ঠেলে দিয়েছেন।মুলতঃভারতে এই ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গিবাদকে বিভিন্ন প্রদেশে এবং সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে প্রশ্রয় দেয়ার কারণে দেশটায় আভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা তুফানের বেগে ছড়িয়ে পড়ছে।তারপরও আদালত যখন স্বামী শ্রীকান্তকে নির্দোষ বলে খালশ দেয়, তাতে কি মানুষ প্রশ্ন করছেনা আদালতের বিচারক কেনা বেচা হয়েছে কিনা?
অর্থাৎ সরকারী দল ভিজেপি আর এস এসের আনুগত্যের প্রমান মিলছে কি এই নির্দোষের দূষণে?  ভারতে কম্যুনিষ্টদের বিরুদ্ধে শসস্ত্র লড়াই করেছে আর এস এস। এই হিন্দু জঙ্গিদের মধ্যে অনেকেই এই লড়াইকে তাদের আদর্শ বলে গণ্যও করে। স্থানীয় মাস্তানীর জন্যে সবাই এই জঙ্গিবাদ ধারণ করেছে কথাটা ঠিক নয়।


হোয়াইট হাউস কুর্সির কিচ্ছা কাহিনী = আব্দুল মালেক

বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট স্টিভ ব্যাননকে তার চাকরি থেকে অবশেষে সাত মাসের মাথায় বরখাস্ত করা হলো। সূত্র মতে ব্যাননকে দুই সপ্তাহের জন্য সময় দিয়ে পদত্যাগ অথবা বরখাস্ত এই দুটি বিকল্প দিয়ে অবশেষে বাধ্য করা হলো সরে যেতে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা হাকাবি স্যান্ডার্স ব্যাননের প্রস্থান নিশ্চিত করেছেন, এই বলে ‘হোয়াইট হাউসের প্রধান স্টাফ জন কেলি এবং স্টিভ ব্যানন পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছেন যে শুক্রবারই হবে তার কর্মের শেষ দিন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো বড়সড় এক ছুটি কাটাচ্ছেন তখনই ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে ঘটে গেল শেতাঙ্গ উগ্র বর্ণবাদী নাম অভিহিত হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট, ক্লু ক্লাক্স ক্লান ও নিও নাৎসীদের সঙ্গে মানবতাবাদী কর্মীদের ভয়াবহ সংঘর্ষ- এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট যখন উভয় পক্ষকে সমভাবে দোষারোপ করে বক্তব্য দিলেন তখন এটি সমগ্র আমেরিকায় তুলেছে প্রবল সমালোচনার ঝড়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসীনের পর থেকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ভবনে পরিস্থিতি একে একে এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে মিডিয়া কর্তৃক যাকে আখ্যা দেয়া হয়েছে ‘সিভিল ওয়্যার ইন হোয়াইট হাউস!’ একের পর এক হায়ার ফায়ারের গোলাগুলির মধ্যে অবস্থাটি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করল হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট স্টিভ ব্যাননের এই বরখাস্ত। তার পূর্বে কম্যুনিকেশন ডিরেক্টর এ্যান্থনি স্ক্যারামুচি গত ২৫ জুলাই নিয়োগ পেয়ে বরখাস্ত হলেন ১১ দিনের মাথায়। মুচির আগে আগে গেলেন হোয়াইট হাউস চিফ রেনো প্রিভিস। মুচিতো স্বপদে যোগদান করেই মিডিয়ায় প্রকাশ্য বিষোদ্গার করা শুরু করেছিলেন প্রিভিসের বিরুদ্ধে। অথচ রিপাবলিকান দলের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন প্রিভিসের সর্বাত্মক সমর্থনের বলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্টাককির্ন হোয়াইট হাউসের যাত্রা পথ সহজ হয়েছিল অনেকটাই। লোকে বলে তদানীন্তন হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ প্রিভিসকে উৎখাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে প্রেসিডেন্টই নাকি তলে তলে ইন্ধন যুগিয়েছেন তার তখনকার ‘প্রিয়মানুষ’ নিউইয়র্ক ওয়াল স্ট্রিটের এই এ্যান্থনি স্ক্যারামুচিকে। কিন্তু বড়র পিরিতি এমনি বালুর বাঁধ যে মাত্র ১১ দিনেই মুচির হাতের চাঁদ পরিণত হলো রজ্জুতে-দড়ি হাতে তাকেও বিদায় হতে হলো। প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার সম্পর্কে অনাগ্রহ দেখিয়ে ইতোপূর্বে ট্রাম্প তাকে ও বাই বাই করলেন যেমনটি হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। ইতোপূর্বে তো ট্রাম্পের হাতে ফায়ার হতে হয়েছে ফর্মার এফবিআই প্রধান জেমস কৌমিকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হায়ার করা নতুন হোয়াইট হাউস চিফ সিভিলিয়ান নন, তিনি ছিলেন ট্রাম্প মন্ত্রিসভার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান। তিনি হচ্ছেন একজন সাবেক জেনারেল নাম জন কেলি। জে. কেলি গত মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড একাডেমি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ট্রামকে একটি ক্ষুরধার তরবারি হস্তান্তর করে মজাদার এক ঠাট্টা করেছিলেন : ‘প্রেসকে শায়েস্তা করার জন্য এটি ব্যবহার করুন, স্যার।’ তখুনি রতœ হিসেবে ট্রাম্পের নজর কেড়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের নতুন প্রধান হিসেবে এখন জেনারেল সাহেবের নিজেরই কিছু অস্ত্রের প্রয়োজন। তবে অবাধ্য সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে নয়, হোয়াইট হাউসের পশ্চিম ডানাকে শায়েস্তা করার জন্য। সামরিক বাহিনীর কায়দায় অদ্ভুতভাবে তিনি ফল ইন করালেন হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টাসহ সমুদয় ২০০ জন্য কর্মীকে। প্রিভিস সাহেব হোয়াইট হাউসের চীফ অব স্টাফ থাকাকালীন অবস্থায় ওয়েস্ট উইঙ্গে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। তাকে একেবারে পাত্তা না দিয়ে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রপতির কাছে সরাসরি রিপোর্ট এবং প্রতিশ্রুতি আদায় করার রীতি প্রচলন করেছিলেন। হোয়াইট হাউসকে শিক্ষা দেয়ার মতো বিশ্বের কঠিনতম দায়িত্ব পালন এক জন জেনারেলের পক্ষে সম্ভব কিনা তা দেখার বিষয়। তাছাড়া অভিজ্ঞ সমরবিদ হলেও রাজনীতির সঙ্গে কখনই তার কোন যোগ সূত্র ছিল না। তাই প্রেসিডেন্টের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের কাছে লবিং করতে কতটুকু সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারবেন সেটা বলা মুশকিল। তা ছাড়া সমালোচকরা বলেন ওয়েস্ট উইংয়ের যাবতীয় সমস্যার মূলে যেখানে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট সেখানে কোথায় লাগবেন জেনারেল সাহেব!
আমেরিকার বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে এফবিআইয়ের গঠিত একটি স্পেশাল কাউন্সিল জোরেশোরে তাদের তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এক ফেডারেল গ্রান্ড জুরির মাধ্যমে তদন্ত করছে প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর রবার্ট মুলারের নেতৃত্বে এই কাউন্সিল। ইলেকশন ক্যাম্পেনকালীন সময়ে ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে এর অন্তর্ভুক্ত থাকছে রাশিয়া কর্তৃক মার্কিন নির্বাচন হ্যাকিংসহ প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেন বিষয়। মুলারের স্পেশাল কাউন্সিল ও এফবিআই ব্যাপারটি নিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। এই সংশ্লিষ্টতায় ট্রাম্প ক্যাবিনেটের প্রথম ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার মাইকেল ফ্লিনের সঙ্গে রাশার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছে এই অভিযোগে মাত্র ২৪ দিনের মাথায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এবার নতুন করে হোয়াইট হাউসের কাছে সাবেক সেই এডভাইজার ফ্লিনের রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বিষয়ে নথিপত্র চেয়েছেন রবার্ট মুলার। প্রসঙ্গ ক্রমে স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে পলা জোন্স নামে এক নারী যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি ল’ স্যুট দায়ের করেছিলেন। ফলে পারজুরি এবং অবস্ট্রাকশন অব জাস্টিসের কারণে কংগ্রেস ক্লিনটনকে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন করেছিল গ্রান্ড জুরি। আর এই বর্তমান গ্রান্ড জুরি তদন্তের স্বার্থে যে কোন ব্যক্তিকে যেমন সমন জারি করতে পারবে তেমনি পারবে যাবতীয় নথিপত্র তলব করতেও। এসব ব্যাপারে কোন তথ্য গোপন করা কিংবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া অপরাধ বলে গণ্য হবে। সুতরাং সহজেই অনুমেয় স্পেশাল কাউন্সিল একটি কঠিন ঠাঁই। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম হোয়াইট হাউসের অধিবাসী হওয়ার পর থেকেই তার এক সময়ের বন্ধুদেশ রাশিয়ার গেরো আক্ষরিক অর্থেই তার পিছু ছাড়ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার বিষয়টিকে ‘উইচ হান্টিং’ আখ্যা দিয়ে আসছেন শুরু থেকে। কিন্তু ইদানীং সেই মন্তব্য ঘটমান ঘনঘটার হালে পানি দিতে অপারগ।
নির্বাচন ’১৬তে নিজ ক্যাম্পেনের রাশান সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প খুবই রুষ্ট ও বিক্ষুব্ধ। নানা মহল থেকে অভিযোগ এসেছে রাশান ইনভেস্টিগেশন বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কৌমীকে বরখাস্ত করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য হলো যে প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কৌমি বরখাস্ত হওয়ার পূর্বে তিনটি অকেশনে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন রাশিয়ান ইনভেস্টিগেশনের টার্গেট কি ট্রাম্প নিজেই এবং প্রতিবারেই এর জবাব পেয়েছিলেন না সূচক। তিনি এই বরখাস্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল রোজেনস্টাইনের কৌমি বরখাস্ত সংক্রান্ত একটি মেমো যেটিকে তিনি এ্যাটর্নি জেনারেল জেব সেশনের হাতে হস্তান্তর করেছিলেন। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় বসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ট্রাম্পই রোজেনস্টাইনকে নিয়োগ দেন। আশ্চর্যের কথা প্রশাসন কর্মকর্তারা যে রোজেনস্টাইনের লিখিত মেমোকেই বহুল বিতর্কিত কৌমি বরখাস্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবার সেই একই ব্যক্তি কিছু দিন পরেই রবার্ট মুলারকে প্রধান করে গঠন করেছেন এমন শক্তিশালী কাউন্সিল। যার মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারাভিযান কালে রাশিয়ান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট যে কোন লিঙ্ক অথবা সমন্বয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফেডারেল অপরাধের ধারায় ক্রিমিনাল চার্জ আনার ক্ষমতা প্রদান করেছেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল। যাই হোক ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন তদন্ত কাজে মুলার যে দু’ডজনের বেশি এ্যাটর্নি নিয়োগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে হিলারি ক্লিনটনের সমর্থক ব্যক্তিরা। তিনি আরও বলছেন সবচেয়ে বড় কথা রবার্ট মুলার স্বয়ং একজন অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই চীফ এবং বহুল আলোচিত চাকরিচ্যুত এফবিআই প্রধান কৌমির বন্ধু।
প্রেসিডেন্টের চারপাশে পুতিনের দেশ নিয়ে চলছে নানা ঘটন অঘটন। বর্তমান এ্যাটর্নি জেনারেল জেব সেশন তার এ্যাটর্নি জেনারেল পদটি নিশ্চিতকরণ শুনানির শপথের সময় বলেন, যে নির্বাচনকালীন সময়ে রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কখনও যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে খবর প্রকাশিত হয় যে আমেরিকায় নিযুক্ত সে সময়ের রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসালাকের সঙ্গে তার দু’বার সাক্ষাত হয়েছিল। চলবে...
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

(শেষাংশ)
এ্যাটর্নি জেনারেল হয়ে পরবর্তীতে ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তদন্ত কাজ থেকে তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করছেন। কিন্তু তার ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এই স্পেশাল কাউন্সিল গঠন করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেব সেশনের বিরুদ্ধে অত্যšন্ত ক্ষুব্ধ হলেন স্বভাবতই। একাধিক টুইটের মাধ্যমে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন এই বলে যে জেব এভাবে তার কাছ থেকে সরে যাবেন সেটি জানলে তিনি তাকে এ্যাটর্নি জেনারেল বানাতেন না। নির্বাচনকালীন সময়ে সেশনসই প্রথম সিনেটর যিনি প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। কিন্তু এমন কঠিন মন্তব্যে গুঞ্জন উঠেছিল ট্রাম সেই শুভাকাক্সক্ষী সেশনকে বরখাস্ত করতে যাচ্ছেন। সে কারণে তাকে সমর্থন করে রুষ্ট সিনেটর বন্ধুগণ প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে হুঙ্কার ছেড়েছে সেশনকে সরালে পরিণতি ভাল হবে না। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রিভিসকে বিদায় করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান থেকে জেনারেল কেলিকে হোয়াইট হাউস চীফ হিসেবে নিয়োগ দিলেন তখন জেব সেশন্স ফের ট্রাম্প মুখো হয়ে ঘোষণা দিয়েছেন মিডিয়ায় গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। বলা বাহুল্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টসহ নানা মিডিয়ায় ৬০টিরও অধিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা মার্কিন মডার্ন প্রেসিডেন্সি যুগে সৃষ্টি করেছে সর্বোচ্চ রেকর্ড। ট্রাম্প বলেন এটি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকা- ছাড়া আর কারও নয়। কারণ আমেরিকার ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থা এক বাক্যে বলছে নির্বাচনে রাশিয়ান হস্তক্ষেপের কথা। ইন্টেলিজেন্স কমিটি সেটি নিয়ে তদন্ত করছে এবং বব মুলারের নেতৃত্বে স্পেশাল কাউন্সিলের তদন্ত জাল ছড়িয়ে পড়ছে নানাদিকে।
খবরে এসেছে ৩০ বছর ধরে ট্রাম্পের পার্সোনাল সেক্রেটারি রোহন গ্রাফকে সিনেট কমিটিতে শুনানির জন্য হাজিরা দিতে ডাকা হয়েছে। কৌমির অপসারণের ব্যাপারে তথ্য চেয়ে বিদায় নেয়া হোয়াইট হাউস চীফ রেনো প্রিভিসকে কে তলব করেছে স্পেশাল কাউন্সিল। ইতোপূর্বে ট্রাম্পের ক্যাম্পেন চেয়ারম্যান পল ম্যানফোর্টের ভার্জিনিয়ার আলেকজেন্দ্রিয়াস্থ গৃহে কোর্ট কতৃক সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে এফবিআইএর একটি তদন্তকারী দল। লবিস্ট পল কর্তৃক বিদেশী ব্যাংকে লেনদেন, ট্যাক্স রেকর্ডসহ যাবতীয় নথিপত্র তারা সার্চ করেছে। এর পূর্ব দিনে পলকে হাজির হতে হয়েছিল সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে। পল ম্যানফোর্ট হলেন একজন খ্যাতনামা আমেরিকান আইনজীবী, লবিস্ট এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা এবং ইতোপূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড, রোনাল্ড রিগান, জর্জ বুশ এবং জিওপি দলনেতা বব ডোলের পরামর্শক ছিলেন। উল্লেখ্য, এক সময় তিনি রাশান সমর্থন পুষ্ট সাবেক ইউক্রেন সরকারের পক্ষে মার্কিন কংগ্রেসে লবিং করেছিলেন। এ বিষয়ে জনকণ্ঠে আমার একটি লেখা ‘ইউক্রেনে উত্তাপ ও আমেরিকান লবিং ব্যবসার মধুমাস’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল বিগত ১৪ সালের ৩১ মে তারিখে। যাই হোক একই কমিটিতে হাজিরা দিয়ে রাশিয়া বিষয়ে আড়াই ঘণ্টা জেরার সম্মুখীন হতে হয়েছে ট্রাম জামাতা কুশনারকেও। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডোনাল্ড জুনিয়র ক্যাম্পেনকালে রাশান সরকারের একজন ল’য়ারের সঙ্গে নিউইয়র্কে মিটিংয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার কারণে তাকেও সেখানে হাজিরা দিতে হবে। ডোনাল্ড জুনিয়র যদিও বলেছেন হিলারি শিবির সম্পর্কে গোপন তথ্য দেয়া হবে বলে তাকে এক ই-মেইলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এ রকম কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি বলে বৈঠকটিকে তিনি নিষ্ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এভাবেই ট্রাম ক্যাম্পেনে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠজনেরা জড়িয়ে যাচ্ছেন তদন্তের জালে। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটু একটু করে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলছে সেই জাল। নির্বাচনে রাশিয়ান সংশ্লিষ্টতা ক্রমশই যেন একটি আশঙ্কাজনক পরিণতির দিকে ধাবমান। হোয়াইট হাউস কুর্সির ওপর ঘন কালো মেঘের বিস্তার দেখে ট্রাম্প সাহেব নিশ্চুপ বসে নেই। ভার্জিনিয়ার এক বিশাল র‌্যালিতে উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চানÑএখানে কি কোন রাশান আছেন?
Ñসমস্বর জবাব ছিলÑনা!
-না রাশান নেই, আপনাদের ভোটেই আমি জিতেছি।
এরপর তার মন্তব্য ছিল ‘এসব বলার কারণ হিলারির পরাজয় তারা মেনে নিতে পারেনি।
এই কথা শুনে ট্রাম্প শিবিরের মানুষজন দাবি করলেন লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হত্যার পেছনে হিলারির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করার। ট্রাম তার বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের উদ্দেশে বললেন এর বদলে বরং হিলারির ডিলিট করা ৩৩ হাজার ই-মেইলের তদন্ত করতে। তিনি প্রশ্ন তুলে আরও বলেন ‘ওবামার শাসন আমলে কথিত এই ঘটনাটি ঘটেছিল কিন্তু এই তিনি কোন তদন্ত করেননি কেন ? ‘সে যাই হোক মার্কিন নির্বাচন পরিচালনাকারীরা দাবি করেন নির্বাচনের সময় রাশিয়া ভোটিং মেশিনগুলো হ্যাক করতে পারেনি।
মার্কিন মিডিয়ায় আশঙ্কা প্রয়াস করা হচ্ছে ট্রাম্প নাকি মুলারকে বরখাস্ত করার কথা বিবেচনা করছেন। যদিও হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা সিএনএনের কাছে দেয়া তার এক বন্ধুর এই মন্তব্যকে বলেছেন স্র্রেফ গুজব এবং সেটি তার ভাবনার মধ্যেই নেই বরং তিনি মুলারকে সহযোগিতায় করে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে আশ্বস্ত হয়নি কংগ্রেস। বরং রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট এক জোট হয়ে এমন একটি নয়া আইন করতে যাতে রাষ্ট্রপতি এই কাজ করতে না পারেন। এই দুই পার্টির যুগল মিলনে প্রেসিডেন্ট সাহেব প্রথম সাত মাসে তার নির্বাচন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আইন পাশে কোন সফলতা অর্জনে সক্ষম হননি। এসবের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হেলথ কেয়ার রিফর্ম ও ইমিগ্রেশন। ট্যাক্স রিফর্ম ,মক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ইত্যাদির কোনটাই আলোর মুখ দেখতে সক্ষম হয়নি। ওবামা কেয়ার বাতিল করে তদস্থলে একটি নয়া হেলথ কেয়ার বিল পাসের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন বিল পাসের প্রাক্কালে রিপাবলিকান সিনেট সদস্যরা মধ্য রাতে যখন প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছিলেন তখন শেষ মুহূর্তে নিজ দলের প্রবীণ সিনেটর যিনি বর্তমানে ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত এরিজোনার সিনেটর ম্যাককেইন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটরদের সঙ্গে শলাপরামর্শ শুরু করলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট তাকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। রাত সাড়ে তিনটায় টিভিতে দেখা গেল বিশ পঁচিশজন ডেমোক্র্যাট ম্যাককেইনকে ঘিরে ধরে কথা বলছে। এরপর বিল পাসের সিদ্ধান্তমূলক ভোটটি না সূচক দিয়ে অধিবেশন ত্যাগ করলেন। বিলটি পাশ না হওয়ায় ট্রাম্প দলের সিনেটরদের তিরস্কার করে বললেন -আজ তারা ওবামা কেয়ার বহালে সহায়তা করলেন অথচ সাত বছর ধরে তারাই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।
এত দুর্বিপাকের ভেতরেও ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নতি এবং স্টক মার্কেটের সর্বোচ্চ সূচকে অবস্থান এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি যা জুলাই মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৬ বছরের মধ্যে বেকারত্বের সর্বনিম্ন হার এবং সর্বপরি নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যে তার দৃঢ় অবস্থান। ২০২০ সালে ৫২% রিপাবলিকান তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। তবে জাতীয়ভাবে তার সমর্থন মাত্র ৩৬% যা ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণে সর্বনিম্ন। তবে এর বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন কি বেড়েছে। সেটি আলোর দিকে তুলে ধরলে দেখা যাবে সাম্প্রতিক সমীক্ষায় গরিষ্ঠ মার্কিন লোকজন মনে করে ট্রাম্প বিরোধিতা করা ছাড়া তাদের আর কোন এজেন্ডা নেই। তারা ধরেই নিয়েছিল হিলারি নির্বাচনে জিতবেন, কিন্তু হোয়াইট হাউস কুরসি হারানোর বেদনায় তারা এখনও উদ্বেল। তাই বলতে হয় ইয়ে এক কিচ্ছা কুরসি কি কাহানি!
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


রেমের নামে নারীর দেহ ভোগ চলছে !

বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭

আহমেদ ফিরোজ : বিষয়টি ঘৃণার নয় লজ্জারও বটে । বর্তমানে আমাদের দেশে প্রেমের আড়ালে যে সব অপকর্ম হচ্ছে তা পশ্চিমাদেরও হার মানিয়েছে । প্রেমের আড়ালে নারী দেহ ভোগ চলছে । বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বা হোটেলে আমাদের অতি আধুনিক তরুণ তরুণীরা প্রেমের নামে মিলিত হচ্ছে শাররিক সম্পর্কে। শুধু এখানেই শেষ নয়, মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও হচ্ছে তাদের যৌন সম্পর্ক l এসব ভিডিও কম্পিউটার এর মাধ্যমে পৌঁছে যায় সবার হাতে । সমাজের ছোট বড় সব বয়সের ছেলে মেয়েরা দেখতে থাকে অতি আধুনিক প্রেমিক প্রেমিকাদের দ্বারা তৈরী করা এসব ভিডিও ।
তবুও দেখার কেউ নেই । এমন কি প্রেমিক প্রেমিকাদের হাতে তৈরী করা এসব নোংরা ভিডিও প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মেমোরি কার্ডে তে কপি হচ্ছে বিদ্যুতের চেয়েও দ্রুত গতিতে । বিদেশি পর্ণো ভিডিও নয় আমাদের দেশের পর্ণো ভিডিও দিয়েই সয়লাব প্রতিটি কম্পিউটার । আমি অনুসন্ধান করেছি , পেয়েছি প্রেমিক প্রেমিকাদের দিয়ে তৈরি করা ভিডিও । এর মধ্যে ৯৯ ভাগ ভিডিওই হচ্ছে স্কুল কলেজের পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের । কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা এসব নোংরা কাজে লিপ্ত আছে । বেশ কিছু ভিডিও আমি চেক করেছি । শুধু মাত্র একটি ভিডিও বাদে সব কয়টি ভিডিওতে ছাত্রীরা নিজ ইচ্ছেই মিলিত হয়েছে শারীরিক সম্পর্কে । এইটি প্রথম বার নয় ? এর আগেও তারা বেশ কয়েক বার শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়েছিল । সেটা তাদের কথা থেকে বুঝা যায় ।

Picture
এই সব ভিডিও করা হয়েছে মেয়েদের কে ব্যাকমেল অথবা ফ্রি সেক্স করার জন্য ।
যে সমস্ত কুলাঙ্গারা প্রেমের ফাঁদ ফেলে নারীদের দেহ ভোগ করে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করে মেয়েদের সম্মান ধূলায় মিশিয়ে দিচ্ছে । যেসব নারীরা যৌন কেলেঙ্কারী তে ইজ্জত হারিয়েছে এবং সমাজ থেকে মুখ লুকিয়েছে ? নারী অধিকার দাবী করনেওয়ালা নারী বাদীরা কি তাদের হারানো ইজ্জত ফিরিয়ে দিতে পারবে ?
যে সমস্ত কুলাঙ্গারা প্রেমের নামে নারীর দেহ ভোগ করতেছে ? সে পরবর্তীতে এই নারীকে বিয়ে করবে ? না করলে মেয়েটির জীবনের অবস্হা কিরকম একটু ভাবুন । জানিনা এই অবুঝ গদা মূর্খ নারীরদের বুঝ হবে কবে ?

আহমেদ ফিরোজ , সাংবাদিক ও লেখক । ভিয়েনা, অষ্ট্রিয়া ।


স্মৃতির পাতা থেকে আমার দেখা - ভয়াল একুশ আগষ্ট

সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

কলন্কময় গ্রেনেড হামলায় আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম আইভি রহমান সহ চব্বিশ জন নেতা কর্মীকে হারিয়েছি ।তৎকালীন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি -জামাত সরকারের মুলপরিকল্পনা ছিল এই গ্রেনেড হামলা করে  বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে  হত্যা করা । এই বিভৎস ঘটনাকালীন আমি  পূর্ব হতে ট্রাক মন্চের কাছে অবস্থান করে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সহ জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাষনের সমাপ্তি মহুর্তে এই জঘন্য গ্রেনেড হামলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে মহান আল্লাহর রহমতে আমি গ্রেনেডের আঘাত হতে রক্ষা পেয়েছিলাম । রক্তাক্ত নিহত-আহতদের মাঝে আহাজারি-আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ট্রাক মন্চ থেকে গাড়ীতে উঠানো মহুর্ত পর্যন্ত যে কয়েকজনের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম । শুধু গ্রেনেড হামলা নয়, খুনি চক্র হত্যার চেষ্টায় বঙ্গবন্ধু কন্যাকে লক্ষ করে গাড়ীতে গুলি ছুড়ে ছিল । পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  টিয়ার সেল, কাদনে গ্যাসে/ আঘাতে  নেতাকর্মীদের ছুটাছুটিতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ঘটনাস্থলে নিহত আহতদের মধ্যে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান রক্তাক্ত  অবস্থায় অন্যান্যের সাথে নেয়া হাসপাতালে পৌঁছা মহুর্তে জ্ঞান ফিরে নূতন জীবন অনুভব করেছি । ঞ্জান পেয়ে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে এনামুল হক আবুল ভাই ( বর্তমানে পন্টন থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি) আমাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছিলেন । পরদিন 16 আগষ্ট ধানমন্ডি সুধাসদন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর অন্যতম সদস্য শ্রদ্ধেয়া সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে ঢাকা বিভিন্ন হাসপাতালে গ্রেনেড হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলাম ।


অপর দিকে গ্রেনেডের আঘাতে প্রায় মৃত অবস্থায় নারী নেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম আইভি রহমান কে  শেষে ক্যান্টনম্যান্টে সিএমএইচ এ  রাখা হয়েছিল। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও আইভি রহমানের ছেলে মেয়ে সহ আমাদের কাউকে হাসপাতালে প্রিয় আইভি রহমানকে দেখতে দেয়নি । বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিএমএইচএ আইভি রহমান কে দেখার নামে নাটক করার সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত আইভি রহমানের ছেলে মেয়ে সহ আমাদের কে হাসপাতালের একটি কক্ষে আটক করে রাখা হয়েছিল । তারপর 24 আগষ্ট বেগম আইভি রহমানকে মৃত ঘোষণা করা হয় ।
এই জঘন্য স্মরণীয় ঘটনা বলে শেষ করা যাবে না ।


এ তুফান ভারি দিতে হবে পাড়ি নিতে হবে তরী পার........... শেখ আখতার উল ইসলাম

সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

সম্প্রতি  সংবিধানের ষোঢ়ষ সংশোধনী বাতিল করে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এর মাননীয় প্রধান বিচার পতি সহ আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিদের রায় ও মতামত নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আজ তুফান বয়ে চলেছে। বিচার বিভাগ তথা জাতীয় জীবনে এ রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা নিয়ে আজ এগিয়ে এসেছে। দেশ ও জাতির প্রতিটি ক্রান্তি লগ্নে জাতির বিবেক আইনজীবী সহ বিচার বিভাগ এগিয়ে এসেছে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে। দেশের মানুষের মাঝে  বর্তমানে  যে হতাশা আর বেদনা বিরাজ করছে তার প্রতিফলন ঘটিয়ে দীর্ঘ এই রায় দেশ ও জাতিকে আগামী দিনের পথ নির্দেশনা দিবে। চরম হতাশায় নিমজ্জিত দেশ ও জাতিকে এক নতুন আশার আলো দেখাবে। অহেতুক বিতর্ক না করে তাদের এ মূল্যবান মতামত ও পর্যবেক্ষন কাজে লাগিয়ে রাজনীতিবিদ আর নীতি নির্ধারকেরা তাদের কর্মসূচি প্রণয়ন করে দেশ ও জাতিকে  এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। বিশেষ প্রযোজনে তাদের রায় ও মতামতের কোন অংশের পরিবর্তন-পরিমার্জন করতে চাইলে রিভিউ আবেদন করে তা সংশোধন  করা যেতে পারে। কিন্তু এই রায় নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার কোন ভাবেই কাম্য নয়।দল বাজী আর দল কানা কিছু লোক ব্যাক্তি ও গোষ্টি সার্থে যে ভাবে অযাচিত-অহেতুক মন্তব্য করে চলেছেন তা জাতির জন্য কোন শুভ ফল বয়ে আনবেনা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতায় যাওয়ার ও ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য নিরন্তর এক প্রতিযোগিতা চলছে। হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর, লাঠি, গুলি , টিয়ারগ্যাস আর ক্ষমতার দ্বন্ধে ধ্বংশের দ্বার প্রান্তে আজ বাংলাদেশ। প্রায় প্রতিদিনই একটা না একটা অঘঠন ঘঠেই চলছে। মসনদের অন্ধ মোহ, লোভ লালসা আর প্রতিহিংসার আগুনে আজ জ্বলছে বাংলাদেশ। পুড়ছে সম্পদ,  মরছে মানুষ । এক অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। দেশের সাধারন নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ক্ষমতার দ্বন্ধ ততই বাড়ছে। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য আর ক্ষমতাহীনরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। গণতন্ত্রের নামে তারা চালু করেছে, এক অদ্ভূৎ- উদ্ভট পরিবারতন্ত্র। মধ্যযুগীয় রাজা-রাণীর আচরনে তারা  হয়ে পড়েছে অভ্যস্থ। নিজেদের দুর্নীতিবাজ- দুর্বল উত্তরাধিকারকে মসনদে বসানোর স্বপ্নে তারা আজ বিভোর। পূর্বসূরির গুণকীর্তন করে মসনদ দখল রাখার এক অদ্ভূৎ পায়তারায় তারা লিপ্ত হয়ে আছে। মাঝে মাঝে অলিক স্বপ্নের ফুল ঝুরি ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করছে। তাদের চার পাশ ঘিরে রয়েছে মৌ-লোভী, চামচা, চাটুকার , মোসাহেব। আর এ ভাবেই চামচা -চাটুকার পরিবেষ্টিত হয়ে এক পুতুল  ও এক পুতুলের মা দেশটাকে নিয়ে পুতুল খেলা খেলছে। বাংলাদেশে আজ রাজনীতির নামে চলছে দল বাজী আর অপরাজনীতি, চলছে শোষনের গণতন্ত্র আর ক্রীতদাসের আর্থনীতি।
 বাংলাদেশ যার জন্ম হয়েছিল এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে। এক দীর্ঘ সংগ্রাম আর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মাধ্যমে। যে যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিল রাম, রহিম, জন, পল। যে যুদ্ধে ইজ্জত দিয়েছিল গীতা, সীতা, সখিনা, জরিনা। বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম নেই যে গ্রামে শহীদ মিনার নেই, নেই শহীদের কবর কিংবা বীরঙ্গনার আর্তনাদ। বাংলাদেশের এমন কোন এলাকা নেই, যেখানে পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংশ যজ্ঞের চিহৃ নেই। সৌভাগ্য এ দেশের মানুষের যে লাওস, কম্বোডিয়া কিংবা ভিয়েৎনামের মত সুদীর্ঘ কোন যুদ্ধ তাদের করতে হয়নি। ভাগ্যবান বাঙ্গালী জাতি সে যুদ্ধে পেয়েছিল এক অসাধারন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সূদৃঢ় এক জাতীয় ঐক্য আর মহান আল্লাহর আশির্বাদ। যার ফলে আধুনিক মারনাস্ত্রে সু-সজ্জিত  পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ট শক্তিশালী একটি সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ খালি হাতে মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে পরাজিত করে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্টা লাভ করেছিল স্বাধীন- সার্বভৌম- অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ, বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জন্মের পিছনে যেমন রয়েছে এক রক্তাক্ত করুণ ইতিহাস, তেমনি রয়েছে এক সুদীর্ঘ আন্দোলন -সংগ্রামের সফল ইতিহাস। যে আন্দোলন- সংগ্রামের মুল লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য ছিল শোষন- বঞ্চনাহীন এক সূখি- সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্টার স্বপ্ন । যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিল জাতির বীর শহীদেরা , যে স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক আর স্বাধীনতার ঘোষক। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রতিটি বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে সূখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। মানুষে মানুষে কোন ভেদা ভেদ থাকবেনা। থাকবেনা হিংসা, বিদ্ধেষ, মারা মারি, কাটা কাটি। থাকবেনা অভাব- অনটন। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন শোষন-বঞ্চনাহীন এক সূখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। তারা উভয়েই ছিলেন পরস্পরের সম্পূরক, পরস্পরের পরিপূরক।  তাদের জীবৎদ্বশায় তারা কখনও কল্পনা ও করেননি যে তাদের করুণ পরিনতির পর তাদের দুর্বল উত্তরাধিকার এক দিন মসনদে আরোহন করে এ ভাবে তাদের স্বপ্নের সমাধি রচনা করবে। মহান স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠা ঐক্য বদ্ধ জাতি সত্বাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে পরস্পর বিপরিত দুটি ধারায় জাতিকে বিভাজিত করে তারা মূখো মূখি দাড় করিয়ে দিবে। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিমযে অর্জিত রাষ্ট্রিয় মৌল নীতিমালা বিসর্জন দিয়ে তারা
 ব্যার্থ রাষ্ট্রের পথে দেশটাকে  নিয়ে যাবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অর্জিত রাষ্ট্রিয় মৌল নীতিমালা- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ বিসর্জন দিয়ে তারা বাংলাদেশে শোষনের গণতন্ত্র ও ক্রীতদাসের অর্থনীতি চালু করবে।            
বাংলাদেশ এমন একটি দেশ গণতন্ত্রের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, শোষন-বঞ্চনাহীন সমাজব্যবস্থার জন্য যে দেশের মানুষের রয়েছে এক দীর্ঘ লড়াই আর সংগ্রামের অতিত ইতিহাস। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলে ও সত্য যে সদ্য স্বাধীন দেশে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলাতে গিয়ে  স্বাধীনতার বীর যোদ্ধারা একে অন্যের মূখো মূখি দাড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় আত্মহননের পালা, নৈস্বর্গে ভাঙ্গন। একাত্তরের রণাঙ্গনের সাথীরা একে অন্যের শত্রু হয়ে উঠেন। পিছন থেকে মদদ যোগায় স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি। সদ্য স্বাধীন , বিধ্বস্থ, ধ্বংশ স্তুপের মাঝে যখন জাতি রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চলছে তখন আতুড় ঘরে তাকে ধ্বংশ করার প্রচেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠে স্বাধীনতার পরাজিত রাজাকার আর তাদের দোসরেরা। দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনা লগ্নে, পচাত্তরের পনরই আগষ্ট তারা আঘাত হানে স্বাধীনতার সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ঘাঠিতে। নিষ্টুর-নির্মম ভাবে স্বপরিবারে তারা হত্যাকরে বাঙ্গালী জাতি রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ৩ রা নভেম্বর জেলের অভ্যন্তরে নিষ্টুর-নির্মমভাবে হত্যাকরে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতীয় চার নেতাকে। চক্রান্ত আর ষঢ়যন্ত্রের নীল নকশায় অত:পর তারা মুক্তিযুদ্ধাদের নিধন প্রক্রিয়া শুরু করে। অভ্যূত্থান আর পাল্টা অভ্যূত্থানের মাধ্যমে তারা বীর মুক্তিযুদ্ধা কর্ণেল খালেদ মোশাররফ, হুদা, হায়দারকে নির্মম ভাবে হত্যাকরে। ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহেরকে। শিখন্ডি বানিয়ে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াকে। ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসে নিষ্টুর-নির্মম ভাবে তারা জিয়াকে ও খুন করে। চক্রান্ত আর ষঢ়যন্ত্রের নীল নকশায় জিয়া হত্যার আসামী করে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে স্বাধীনতা যুদ্ধের ১২ জন বীর সেনানীকে। ঢাকা থেকে ঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মেজর মন্জুরকে। ক্ষমতার মসনদে অরোহন করে পাকিস্তান ফেরত সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্দ এরশাদ। নব্বইয়ের গণঅভ্যূহথানে এরশাদের পতনের পর সর্বশেষ তারা বেচে নেয় স্বাধীনতার দুই বীরের দুর্বল-দেউলিয়া উত্তরাধিকারকে।  
বাংলাদেশের সামনে আজ  এক বিরাট নতুন চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাস-দুনর্িিত-কালোটাকা-অস্ত্র আর মাদকের কাছে জিম্মী আজ গোটা দেশ বাসী। খুন-ধর্ষন-ঘুম-চুরি-ছিনতাই-রাহাজানী- বিচারবহির্ভূত হত্যা কান্ড আর জঙ্গীবাদের থাবায় জাতির অস্তিত্ব আজ সঙ্কটাপন্ন।পরস্পর বিপরিত দুই ধারায় বিভাজিত রাজনীতি আজ চরম দুর্বিত্তায়নের কবলে নিপতিত। রাজনীতির নামে দেশে চরম অরাজকতা বিস্তার লাভ করেছে। দেশ ও জাতির চরম এ ক্রান্তি লগ্নে জাতির বিবেক- সংবিধানের রক্ষক মাননীয় বিচারপতি বৃন্দের প্রদত্ত দিক নির্দেশনা সে চ্যালেঞ্জ মোকবিলায় সহায়ক রূপে কাজ করতে পারে। সে জন্য জনগণের ম্যান্ডেট আর অদালতের নির্দেশ  এর প্রতি সম্মান দেখিয়ে সকলকে নিয়ে পারস্পরিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে।প্রয়োজনে পঞদশ সংশোধনীতে রেখে দেওয়া রাষ্ট্র ধর্ম বাতিল করে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অর্জিত রাষ্ট্রিয় চার মৌলনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ পূণ:প্রবর্তন করতে হবে। মধ্যযুগীয় ক্রীতদাসের ন্যায় দরিদ্রের রক্তে ভেজা শ্রম বিক্রি করে গড়ে উঠা অর্থনিিতর পরিবর্তে উন্নয়নের অর্থনীতি চালূ করতে হবে। শ্রমিকের হাড় ভাঙ্গা খাটুনি আর রক্তে ভেজা অর্থ কেড়ে খাওয়া মধ্য সত্বভোগীদের হাত থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে। শোষন-বঞ্চনাহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্টার জন্য অংশিদারিত্ব মুলক গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে। মসনদের অন্ধ মোহ আর লোভ লালসার কারনে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোন ধরনের ব্যার্থতা কিংবা আপোষকামিতা হবে আত্মহননের সামিল। আমাদের ভূলে , আমাদের হঠকারিতায় যদি এবার ও পদস্কলন ঘঠে , তবে তলিয়ে যাবে সমাজ, সভ্যতা ও দেশ।
শেখ আখতার উল ইসলাম
সভাপতি- বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি
কক্ষ নং ১৪১, সুপ্রীমকোর্ট বার ভবন,ঢাকা।


বণ্যার ধাক্কায় ভেসে যায় শিশু,বুড়ো মা বাবা। আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

উজানের দেশ ভারত থেকে নেমে আসা ঢল এবং মৌসুমী ভারি বৃষ্টিপাত।প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় বেছে নিয়ে সকল বাঁধ খুলে দিলেই সৃষ্টি হলো ভয়ানক বণ্যা।এবণ্যায় বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে অর্ধকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আরো বণ্যা আসছে। নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার ৯২ ভাগ পানিই ভারত থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর উজানের। বাকি ৮ ভাগ পানি স্থানীয় বৃষ্টিপাত থেকে আসে। এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে অন্ততঃ ৭৭ জনের।বণ্যার তোড়ে স্রোতের ধাক্কায় মায়ের হাত থেকে শিশু সন্তান কেড়ে নেবার ঘটনা ঘটেছে।।বৃদ্ধ মা বাবাকে স্রোতের শক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে ধরে রাখতে পারেননি অনেকে।মানুষ হতবিহবল হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।প্রিয়জনদের ধরে রেখেও আটকে রাখা আর গেলোনা বন্যার দাপটে।একটা ছবিতে দেখা গেলো এক বৃদ্ধ মাথায় আসবাব পত্র নিয়ে নিজ বাড়ী থেকে নিরাপদে থাকার জন্যে হাঁটছে পানির মধ্য দিয়ে খোঁজ নেই তার বৌ-ঝি নাতি-নাতনিদের। এযেনো কোরআনে বাইবেলে তওরাত যবুরে বর্ণিত রোজ কেয়ামতের দিনের আলামতের মতো।যখন সব প্রাণের ধবনিতে একটাই কথা;ইয়া নফসি,ইয়া নফসি।এরকম এক ভয়াল নিরুপায় পরিস্থিতি বাংলাদেশে বণ্যায়।  
 মানুষের অমানবিক নিষ্ঠুর লুটেরা রাজনীতির সৃষ্ট এই দুর্যোগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলেই পরিচিত।ভারত নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশে সরকারেরও এই বিষয়ে মুখ খুলে শব্দ করার লক্ষণ নেই। ভারত সরকারের প্রয়োজনে,ভারত সরকারের আশ্রয়ে গড়া এবং টিকে থাকা বাংলাদেশের কোন সরকারই বাংলাদেশীদেরকে দেয়া শাস্তির চাপের প্রতিবাদ করতে পারবেনা।এমনকি বিষয়টি উত্থাপন করারও সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশে পানিসম্পদ মন্ত্রী সব সময় ভারতের  পছন্দের হয়ে আসছে দেশের প্রথম সরকারের সময় ছাড়া। বাংলাদেশকে পানিতে তলিয়ে কোঠি কোঠি বাংলাদেশীদেরকে দুর্বিসহ মানবেতর অবস্থায় ঠেলে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে চলেছে এসকল নেতৃত্ব।এক অস্বাভাবিক হায়েনা যেনো বাংলাদেশের এই ক্ষমতাবান সভ্যতায় দৌড়ঝাঁপ করছে।তোষণ ও বিনিময়ে নিজের ব্যক্তিগত ফায়দা আদায় হয়ে গেছে রাজনীতির লক্ষ্যবস্তু।কেউ করছেন দেশের স্বার্থের বিনিময়ে অপরাধের ক্ষমতা ভোগ অন্যেরা দিয়ে চলেছেন নীরব সমর্থন। ১৬কোটি মানুষই আজ এই বলদর্পীদের কাছে জিম্মী হয়ে আছে। কথা হচ্ছে, এখন জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে মানুষ ও প্রকৃতি বাঁচানোর।এই দায়িত্ব কাদের? নেতৃত্বই কি এই সংকট থেকে উদ্ধারের প্রধান কর্মী নয়?  
 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৮/১৮/১৭ শুক্রবার পর্যন্ত দেশের ২৭ জেলার ১৩৩ উপজেলা ও ৪৩টি পৌরসভা এ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ১১ লাখ ৪১ হাজার পরিবারের ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৭০৬ জন বানভাসি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তথ্য পাঠিয়েছেন মাঠ কর্মকর্তারা। চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় দফার এ বন্যায় এ পর্যন্ত ছয় লাখ ১৮ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ বলেছেন, “চলমান বন্যা বিস্তার ও স্থায়ীত্বে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের দুটি বড় বন্যার মতো ভয়াবহ না হলেও এবারের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ওই দুই বছরের হিসাব ছাড়িয়ে গেছে।দেশে বড় বন্যাগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ সালে প্রায় ৬৮ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। আর ১৯৮৮ সালে বন্যা কবলিত হয়েছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা। সে সময় অনেক এলাকায় বন্যা দুই মাসের বেশি সময় স্থায়ী হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ পায়।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পদ্মায় পানি বাড়ায় অবনতি হচ্ছে দেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলার পরিস্থিতির।এদিকে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। বন্যায় সড়ক এবং রেল লাইন তলিয়ে যাবার কারণে, বিভিন্ন এলাকাও যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। বাড়িঘর পানিতে ডুবে বা ভেঙে যাবার কারণে গৃহহীন হয়ে বন্যাকবলিত লাখো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধ, সড়ক বা কোনো আশ্রয় কেন্দ্রে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাবার কারণে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।  কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগবালাই।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে,  ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি কমা অব্যাহত থাকলেও গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বাড়বে।
 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, রাঙামাটি, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন বন্যা কবলিত।অন্যদিকে, আগস্টের শেষভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় তৃতীয় দফা বন্যার আশংকা তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে দুই দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কারণে দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
 এ বছর জুলাই মাসের দ্বিতীয়ার্ধে মৌসুমের প্রথম বন্যায় অন্তত ১৩ জেলার অনেক উপজেলা প্লাবিত হয়। অগাস্টে চলমান বন্যায় ২৭ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।এর মধ্যে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ফের বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
পদ্মার পানি বাড়ার কারণে মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। আগস্টের ২৪-২৫ তারিখ থেকে উজানে ফের বৃষ্টি বাড়তে পারে। বাংলাদেশেও বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে ঈদের আগে থেকে বা সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে আবার বন্যা দেখা দিতে পারে। তাতে দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষ।এদিকে, ভয়াবহ বন্যায় বিধবস্ত দিনাজপুরের দূর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং বানভাসি মানুষকে ত্রাণ বিতরণের জন্য আগামীকাল সকালে দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সকাল ১১টায় দিনাজপুর জেলা স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র এবং বেলা ১২টায় বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন ও বন্যার্তদের