Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/media/federatii-sportive/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

“রাখাইন রাজ্যে তো রোহিঙ্গারা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি” - প্রদীপ মালাকার-নিউইয়র্ক,ইউএসএ

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

গত ২৫ শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে সেনাবাহিনীর গণহত্যা চালিয়ে  হাজার অধিক রোহিঙ্গা হত্যা, দুই শতাধিক রুহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া,শত শত নারী ধর্ষণ, কয়েক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা  ৪ লক্ষ্য ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় । দেখা দেয় মানবিক বিপর্যয় , চলমান সেনা অভিযানে ,  জাতিসংঘ সহ সারা বিশ্বের প্রতিবাদ,ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এ সমস্যার  সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছেন দেশটির স্টেট কাউঞ্ছিলার অং সান সুচি। তিনি যাচাই বাছাই সাপেক্ষে কিছু  মুসলমানকে ফেরত নিতে সন্মতি জানিয়েছেন । গত  ২১শে সেপ্টেম্বর নিকি  এশিয়ান বিভিউকে দেওয়া সাখ্যাতকারে তিনি  আরও  বলেন , ১৯৯৩ সালের বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ার কথা বলেন ।  ইতিপূর্বে মিয়ানমারের সেনা প্রধান ও  অন্যান্য কর্মকর্তারা ও দাবী করেন যাদের নাগরিত্বের কাগজ আছে তাদেরই যাচাই বাছাই করে ফেরত নেওয়া হবে ।    
মিয়ানমারের  ৫ কোটির অধিক জনসংখ্যার ৫% রোহিঙ্গা মুসলমান ,৫% রোহিঙ্গা হিন্দু ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতি গুষ্টি এবং বাদবাকি ৯০% বৌধব মগ।  অং সান সুচিসহ মিয়ানমারের শাসকরা রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেনি , তারা যে অন্যান্য জাতি গুষ্টির মত  একটি জাতি তা স্বীকার করে না।  তারা বাঙ্গালী মুসলমান ,তারা বহিরাগত ও সন্ত্রাসী এবং ১৯৭১ সালে যুদবের সময় থেকে সে দেশে অবেউধ্যভাবে বসবাস শুরু করেছে ।কাজেই বর্মীদের জন্য বার্মা । এতে স্পষ্টতই প্রমান হয় যে ,উগ্রজাতীয়তাবাদের  নাম করে তিনি(সুচি) রোহিঙ্গা নিধন ও বহিষ্কারের এক জঘন্য খেলায় মত্ত। ২৫শে আগস্টের পর  থেকে  উন্মাদপ্রায়, বর্বর ও সানপ্রদায়িক বর্মী সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠুর অত্যাচারে বাধ্য হয়ে লাখো রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে  বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে । মনে পরে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে টিক্কা খানের নৃশংস গণহত্যা ও অত্যাচারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এক কোটি বাঙ্গালী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল ।     নয় মাসের যুদবের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক চাপে কুট কৌশলী ইয়াহিয়া শুধু ৩০ লক্ষ্য ( যার সকলেই মুসলমান ) শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছিল ।   এখানেও শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে শুভঙ্করের ফাকি ১৯৯৩ চুক্তিকেই সমর্থন করেছে ।  এতে লক্ষ্য লক্ষ্য শরণার্থীর মধ্য থেকে যাদের কাগজ পত্র আছে বা নাগরিকত্ব প্রমান করতে পারবে  তারাই ফিরে যেতে পারবে , বাদবাকি অন্যরা নয় ।
এবার রোহিঙ্গাদের অতীত ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে দেখা যাক, তারা  পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি নৃতাত্ত্বিক  জনগোষ্ঠী । কুরুখ নামে অস্ত্রিক জাতির একটি শাখা পূর্ব ভারত থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ বছর আগে রাখাইন রাজ্যে বসতি স্থাপন করে । এরপর ক্রমান্বয়ে বঙ্গপোসাগরের উপকুলে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে । মধ্যযুগে স্বাধীন রাখাইনকে রোসাং বা রোসাঙ্গ বলা হতো । রোসাংথেকেই সনভবত  রোহাঙ্গা বা রোহিঙ্গার উৎপত্তি । তখন মুসলমানগণ এই রাজ্য শাসন করতেন । ফলে রাজভাষা ছিল ফার্সি । তবে বাংলা সাহিত্য চর্চার ও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল রোসাং রাজদরবার । মহাকবি আলাওল রোসাং দরবারে রাজ কবি ছিলেন । তিনি লিখেছিলেন মহাকাব্য পদ্মাবতী । এছারা সতী ময়না ও লুর-চন্দ্রানী ,সয়ফুলমুল, জঙ্গনামা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ রচিত হয়েছিল রোসাং রাজদরবারের  আনুকুল্যে ও পৃষ্ঠপোষকতায় ।     সপ্তম- অষ্টম শতাব্দীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয় ।প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যিয় মুসলমান ও স্থানীয় আরাকানিদের সংমিশ্রণে রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব হয় । পরবর্তীতে বাঙালি,পার্শি , তুরকি, মুঘল, আরব ও পাঠান,মধ্যএশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার মানুষের মিশ্রণে এই জাতি ত্রয়োদশ –চতুর্দশ শতাব্দীতে একটি পূর্নাঙ্গ জাতি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে । মিয়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, মংডু, কিওকতাও , মাম্ব্রা, পাত্তরকিলা, কাইউকপাইড , পুন্যাগুন ও পাউকতাই এলাকা এদের আস্থানা । আরাকান রাজ্যের  ভাষার নামও রোহিঙ্গা ।  আরাকানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের এউতিহাসিক পটভূমি রয়েছে ।ইতিহাস বলছে , রোহিঙ্গারা  আরাকানের ভূমিপুত্র ।
+  ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের আরাকান স্বাধীন রাজ্য ছিল ।    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মিয়ানমারের ( বার্মার ) দক্ষিণে বাস করত বৌদব ধর্মের অনুসারী “মগেরা” এবং উত্তরে ইসলাম ও হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী “রোহিঙ্গা “ সনপ্রদায়  । তবে আরাকান রাজ্যের মালভূমিতে “রাখাইন “ ওু সমতলে ”রোহিঙ্গ” জাতি গোষ্ঠীর লোকেরা বসবাস করত । মগেরা ছিল মূলত মঙ্গোলীয় এবং তাদের একটি অংশ জলদস্যু ছিল ।  “রোহিঙ্গাদের উৎস ও বিকাশ “ শীর্ষক এক গবেষণায় অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন , ‘রাজা ভোধাপোয়া আরাকান দখল করে বার্মার সঙ্গে যুক্ত করার আগে ১৪০৪ সাল থেকে ১৬২২ সাল পর্যন্ত ১৬ জন মুসলিম রাজা আরাকান শাসন করেন । আর এতেই বুজা যায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী  এ রাজ্যে উড়ে এসে জুড়ে বসেনি । রাজা  ভোধাপোয়া ১৭৮৪ সালে এ রাজ্য  দখলের পর বৌদব ধর্মের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে । তারপর বর্মীদের সঙ্গে তিনটি  যুব্দের (১৮২৫ , ১৮৫২, ও ১৮৮৫) পর ১৮৮৬ সালে ইংরেজরা বার্মায় কলোনি স্থাপন করে ।পরবর্তীতে ইংরেজরা বার্মাকে ভারতের অংশ হিসেবে শাসন করে ১৯১৯ সাল থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত । ওই বছর থেকে ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বার্মা ছিল ব্রিটেনের ক্রাউন কলোনি । বিদায়ের আগে ইংরেজরা বার্মার ১৩৯টি জাতি গুষ্টির তালিকা তেউরি করে । রোহিঙ্গাদের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি । আর এইখানেই অশান্তির বীজ বপন করা হয়েছে ।বার্মায় অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার যে বীজ ব্রিটিশরা বপন করে গিয়েছিল, কালান্তরে তাই এক আন্তর্জাতিক মানবিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে । শতাব্দীর পর শতাব্দী বার্মায় বসবাস করার পরও রোহিঙ্গারা আজ নিজ দেশেই পরদেশি। বার্মার প্রথম পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব  ছিল । কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন  সামরিক অভুয়ন্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর সবকিছু পাল্টে যায় , রাতারাতি রোহিঙ্গারা হয়ে যায় কালা ও বিদেশী । বাহ্যত তখন থেকেই শুরু হয় তাদের বিরুদবে অত্যাচার , অবিচার ও লাঞ্ছনা । তাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় ।        
পরবর্তীতে সামরিক শাসকগনও রোহিঙ্গাদের জাতিসত্তা ও  নাগরিক অধিকার  ধারাবাহিকভাবে  অস্বীকার করে  আসছে । তারই ফলসুশ্রীতে , ৮০র দশকে নির্যাতিত ,বঞ্চিত, ক্ষুব্ধ ও রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সহস্র আন্দোলনে নামে। তারা “ আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি “  সংক্ষেপে (আরসা ) নামে সহস্র সংগঠন গঠন করে মিয়ানমার শাসকদের বিরুদবে লড়াই করে যাচ্ছে ।  আর মিয়ানমারের সামরিক শাসকগন সেই সুযোগ নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ট বৌদব সনপ্রদা্যের মধ্যে  ঘৃণা ,বিদ্বেষ ছড়ানোর  লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রচারনা চালানো হয় যে, তারা রোহিঙ্গা নয় , তারা বিদেশী , বাঙ্গালী ও সন্ত্রাসী । কক্সবাজারের উখিয়াসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের বলেছেন ,আমরা বাঙালি নই , বার্মাইয়া । আমাদের দেশ বার্মা। সেখানে বাপ-দাদার ভিটি আছে , কবর আছে । আমরা আমাদের দেশে ফিরে যেতে চাই । কিন্তু কে তাদের দায়ভার গ্রহণ করবে ? চীন , ভারত , রাশিয়া, জাপানসহ ক্ষমতাধর দেশগুলি তো  প্রকারান্তরে মিয়ানমার সরকারকেই সমর্থন করেছে । ক্ষমতাধর এই দেশগুলি তাদের স্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছে । ফলে মিয়ানমারে এসব দেশের অর্থনউতিক বিনিয়োগের কাছে মারা গেছে বিশ্ব মানবতা ।        
দেশান্তরে যাওয়ার প্রবণতা  দীর্ঘদিনের  । ইউরোপের ইমিগ্রেনটরা গড়ে তুলেছেন আধুনিক আমেরিকা । বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ,অস্ট্রেলিয়া , ব্রিটেন ,ফ্রান্স, জার্মান সহ অনেক দেশে । মুঘলদের বংশধর তো ভারতেই অবস্থান করছেন  । তাদের কাউকেই এখন আর তাদের পূর্ব পুরুষদের দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না । তাই মিয়ানমারকে বুজতে হবে যে, শত শত বছর বার্মায় বসবাস করার পর  বর্তমান প্রজন্মের রোহিঙ্গারা কোনভাবেই বাঙালি নয় , তারা বর্মী । শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে ও  আমরা দেখি , সেই ব্রিটিশ আমলে কিছু লোক বার্মার কয়েকটি শহরে গিয়ে চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করেছে , কিন্তু ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর সেই আকর্ষণ আর অবশিষ্ট ছিল না  মহান মুক্তিযুদবের সময় বাঙালিরা সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে উগ্র বর্মীরা যে প্রচারণা চালাচ্ছে  তাও সত্য নয় ।     
রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের , এখানে বাংলাদেশ কোন প্রতিপক্ষ নয় কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর  গণহত্যা , অত্যাচার ,নির্যাতন থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ্য  রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তখন তো বাংলাদেশের উপর অযাচিতভাবে দায়িত্ব একটা এসেই পড়েছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সারা দিয়ে জাতিসঙ্ঘসহ আজ বিশ্ব বিবেক  রোহিঙ্গাদের পখ্যে । বাংলাদেশ  মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মানবিক কারনে  সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে , কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট এই সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই  করতে হবে । তবে সুচির রূপরেখায় তা অসনভব ।কারণ তিনি ১৯৯৩ সালের স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ মিয়ানমার চুক্তিকেই ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন । কিন্তু অধিকাংশ শরণার্থীর তো কোন  কাগজপত্রই নেই। আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে সমস্যার আশু ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে  সেফজোনসহ( সেইফ জোন হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে  নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘের শান্তি রক্ষীবাহিনীর  তত্তাবধানে নিরাপত্তা দেওয়া ) পাঁচ দফা দাবী  জানান । যা বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে । তাছাড়া সুচির নির্দেশে বহুদিন ধরে চলমান সংঘষ- সহিংসতার সংকট সমাধানে ২০১৬ সালে আগস্টে গঠিত  হয় এডভাইজারি কমিশন অন রাখাইন স্টেট । জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আননের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন  গত ২৪শে আগস্ট সুচি  সরকার বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেয় ।  তদন্ত রিপোর্টই সকল শ্রেণী , গুষ্টির , জাতি , ধর্মের অধিকার,নিরাপত্তার  নিশ্চিত করার কথা বলায় সকল মহলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে । কাজেই বল এখন সুচির কোর্টে ।সমস্যা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার , এর সমাধানও তাদেরই করতে হবে ।  বাস্থবতার নিরিখে মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব প্রদানের গ্যারান্টি দিয়ে তার সরকারকেই ফেরত নিতে হবে এই জনগোষ্ঠীকে । সারা বিশ্বের নজর এখন সুচির দিকে ।দেখা যাক শান্তিতে নোবেল পাওয়া  অং সান সুচি কি  করেন ?। ততদিনে সেই অপেখ্যাই রইল ।     


প্রবাসের তৃপ্তি

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

আমি চেষ্টা করি সেই জায়গাগুলোই ঘুরতে যেই জায়গা গুলোতে আমাদের বাংলাদেশীরা থাকেন না কারন ঐ জায়গা গুলোতে ঘুরতে গিয়ে ঐ জায়গার মানুষগুলোকে পরিচিত করাতে পারি আমার দেশ বাংলাদেশের সাথে।

আমি থাকি ইটালীতে, ইটালীর বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। তবে খুব ভালো ব্যবসায়ী ছাড়া সকল প্রবাসীরাই ইটালীর পার্সপোট নিয়ে ইউরোপিয়ান নাগরিক হয়ে পারি জমাচ্ছে ইংল্যান্ডে।

সেখানে রয়েছে অবাধ চাকুরী বাকুরী ও ব্যবসার সুযোগ তাছাড়াও সরকারী সুযোগ সুবিধা।তবে সরকারী সুযোগ সুবিধার দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ডেও আগামী ২০১৯ থেকে আসছে নতুন আইন।

কারন সরকারী সুযোগ সুবিধা ইউরোপিয়ানদের জন্য বন্ধ করতেই ইংল্যান্ড ইউরোপ ইউনিয়ন থেকে বিছিন্ন হয়েছে।
বর্তমানে ইটালীতে লিবিয়া থেকে এসে বাংলাদেশীদের সংখ্যা হয়েছে সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান।

ইটালিয়ান সরকার লিবিয়া থেকে আসা লোকদের রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি দিচ্ছে বসবাসের জায়গা, খাবার ও হাত খরচ এবং কর্মের জন্য করাছে বিভিন্ন কোর্স ।গত চার বছর ধরে ইটালীতে বন্ধ আছে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা।
সবকিছুর পরেও সুনিশ্চিত ভর্বিষত ইটালীতে না থাকলেও বসবাসের জন্য আমার মতে শান্তির একটি দেশ ইটালী কারন সৌখিন ও শিল্প উন্নত দেশগুলোর ভিতরে বিশ্ব বিখ্যাত দেশগুলোর একটি ইটালী।

Picture

কথায় আছে না হাতী মরলেও লাখ টাকা তেমন ইটালীর অর্থনৈতিক মন্দা হলেও খাবার দাবারে, পোশাকে ফ্যাশনে এখনও বিশ্বের এক নাম্বার।

আমি সপ্তাহে পাঁচদিন কর্ম দিনের পর শনিবার, রবিবার ঘুরতে খুব পছন্দ করি।কোন সপ্তাহে কাউকে বাসায় আমন্ত্রন করি এক সাথে খাওয়া দাওয়া গল্প করি।দুই মাসে একবার কোন না কোন ইটালীয়ান পরিবারকে আমন্ত্রন করি থাকি,তাদের সাথে পরিচিত করাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলোর সাথে, পাশাপাশি দেশের গল্প শুনাই তাদের কারন আমি সুদীর্ঘ এক যুগ আছি এই দেশটিতে ইটালীয়ানদের অবশ্যই জানাতে হবে আমাদের দেশের কথা।

যতবার ইটালীয়ান পরিবার এসেছে ততবার সব পরিবার গুলোর সাথে আড্ডা দিতে দিতে রাত ১ টা বেজে গিয়েছে।
মন মানসিকতায় ইটালীয়ানরা অনেক উদার তবে কেউ যদি খারাপ হয় তাহলে আমাদের জন্যই হয়েছে।
তারা বিদেশিদের অপছন্দের পিছনে অনেক কারন রয়েছে।
আজ ছোট একটা ভ্রমন কাহিনি তুলে ধরবো;

কয়েক বছর আগে আমার এক বন্ধু নিউজিল্যান্ড থেকে ইটালীতে আশায় পরিকল্পনা করলাম বিশ্ব বিখ্যাত ভেনিস নগরীতে গোটা রাত আমরা ঘুরবো পরিবার নিয়ে।

অনেকের রাতের ঘুরা অপছন্দ কিন্তু রাত জাগা যেহেতু আমাদের বন্ধুদের পছন্দ তাই আমরা পরিবার নিয়ে চলে গেলাম ভেনিসে।

রাত ১০ টায় ভেনিসের প্রথম পুল পার হয়ে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করলাম ভেনিসের মেইন পয়েন্ট সান মারকোর দিকে মার্চ মাস ভালো ঠান্ডা।

ছবি তুলছি আর আমরা হেঁটে চলেছি ,লোকজন বিদায় হচ্ছে বাড়ী ফিরছে আর আমরা ভিতরের দিকে যাচ্ছি।
রাতের ভেনিস যত দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি পুড়ান পুড়ান বাড়ী গল্লি এযেন আমাদের পুরানো ঢাকার তিপান্ন গলির শহর ,বাতাসে কেমন যেন একটা পরিচিত শহরের গন্ধ পাচ্ছি।

পরিবার সহ প্রিয় বন্ধুর সাথে গল্প করছি গরম কপি পান করছি আর হেঁটে চলেছি কি যে এক আনন্দের অনুভুতি মনে হচ্ছিলো এরকম এক আনন্দ মূখর রাতের জন্য মনে হয় অনেক বছর অপেক্ষায় ছিলাম।

সমস্যার সমস্যা হলো রাত বারোটার পর সব কপিশপ বন্ধ হয়ে গেল।

মাঝে মাঝে নেশাখোর দুই একজন এগিকে এদিকে ছুটছে প্রথমে ভয় ভয় লাগছিলো সাথে মেয়েরা আছে তারপর দেখলাম একটু পর পর এক এক মোরে দামী দামী দোকান পাহাড়ায় পুলিশ আছে ও টহল দিচ্ছে তখন নিশ্চিতে এগুতে থাকলাম।
অবশেষে রাত ২টায় সেই বিখ্যাত মেইন পয়েন্ট সান মারকো পেলাম।

কি চমৎকার লাগছে আলোক সজ্জায়, অদ্ভুত! কন কনে শীতেও পানির ঢেউ এর কলকলে শব্দ, মাঝে মাঝে গাং চিলসহ আরো কিছু নাম না জানা পাখির শব্দে মুখরিত করছিলো পরিবেশকে।

মনে হচ্ছে আমাদের জন্য সরকার খালি করে রেখেছে,আমরা ছাড়া কেউ নেই আশেপাশে।
ভেনিসে আমি বহুবার গিয়েছি কিন্তু এত তৃপ্তি কখনও পাইনী। আমাদের জীবনের সেরা রাত গুলোর একটি হবে সেই রাত।
প্রায় একঘন্টা সেখানে থেকে সামনে যেখানে নৌকাগুলো ( ভেনিসের বিখ্যাত গোন্দোলা) বাঁধা থাকে এবং বোর্ড গুলো ছাড়ে সেখানে হাটছি আর অদ্ভুত রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। মনে হচ্ছিল সকাল হতে যে সময়টা বাকি সেই সময় টুকু ঐখানেই বসে থাকি।

বাকি ছিলো অনেক সময় তাই ফিরতে শুরু করলাম ফিরছি আর মজার অতিতের গল্প করছি কারন বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছে সাত বছর পর।

আস্তে আস্তে এগুছি আমরা আর ভোর হওয়া শুরু করেছে একটা পোলের উপড় এসে আমরা থামলাম লোক জন বেরে যাচ্ছে কিছু টুরিস্ট কিছু কর্মজীবি লোক ছুটছে কর্মের তাগিদে বেশ মনোরম দৃশ্য ভালোই লাগছিলো।

মনেহলো বহুদিন পর ঢাকায় ভোর হওয়া দেখতে যেমন বের হতাম তেমনই বহু বছর পর বিদেশে দুই বন্ধু পরিবার নিয়ে একটা মনের বাসনা পূরন করলাম।

পুরো কুয়াশা ভরা সকাল হয়ে গেল আমরা পাশের একটা কাফেটেরিয়ায় সকালের নাস্তা করতে রাস্তায় বিছানো চেয়ার টেবিলে বসলাম ঘুম ঘুম ভাব কিন্তু একটা সুখের তৃপ্তি মুখে।

আজ এই পর্যন্তই থাক আবার অন্য কোন বিখ্যাত জায়গার সৌন্দর্য বনর্নার গল্প নিয়ে হাজির হবো।


লেবাননে হস্তক্ষেপের হাত আটকে গেছে কি?আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

কাতারের সঙ্গে যে আচরণ করছে লেবাননের সঙ্গে সেই একই আচরণ করার সমালোচনা আসছে সৌদি সরকা্রের সম্পর্কে।লেবাননের ওপর সৌদি  সরকার  নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে নেমেছে যেমন কাতারের উপর চলছে।তবে  লেবাননকে দূর্বল করার লক্ষ্যে ইজরাইলের স্বার্থ সৌদির চেয়ে সরাসরি বিধায় বিশ্লেষকরা বলছেন সৌদি সরকার ইজরাইলের নির্দেশ পালন করছে  এবং তাতে সমর্থন করছে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা.

হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেবাননের ভেতর থেকেই একটা বিরোধীতা চাইছে ইজরাইল-সৌদি-আমেরিকা বলয়। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী হারারিকে দিয়ে চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের বিশাল বোমাটি বেলুনের মতো ফেটেছে মনে করছেন অনেকে। হারারির পদত্যাগ সমস্যার সমাধান হয়নি।সৌদির সাথে জার্মান সম্পর্কে উত্তাপ বেড়ে গেছে সাদ হারারির পদত্যাগ সংবাদের পর।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল গতকাল (শুক্রবার) বার্লিন সফররত লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সৌদি আরবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আটক রয়েছেন বলেই হয়ত দেশটি ত্যাগ করতে পারছেন না। তিনি হারিরির বিষয়ে সৌদি সরকারের আচরণকে অস্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন। হারিরি অবিলম্বে লেবাননে ফিরে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন গ্যাব্রিয়েল।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব ১৮ই নভেম্বর শনিবার বার্লিনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে রিয়াদে ফিরিয়ে এনেছে। রিয়াদে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি প্রতিবাদ-লিপি দেয়ার কথাও ভাবছে রাজতান্ত্রিক সৌদি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র বিভাগ।

 এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব সফরে গিয়ে আকস্মিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করার দুই সপ্তাহ পর তিনি রাজতান্ত্রিক দেশটি ত্যাগ করলেন। হারিরি এরইমধ্যে ফ্রান্সে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে খবর এসেছে।

 সৌদি রাজপরিবার রাজতন্ত্রের পতনের ধারাবাহিক পরিস্থিতির দিকে না তাকিয়ে শত্রু খাড়া করে চলেছে ইরান,সিরিয়া, ইয়েমেন,কাতার ইরাক ও লেবাননকে।রাজতান্ত্রিক অপরাপর ক্ষুদ্র দেশগুলোয় জবরদস্তি করে তল্পিবাহক  সরকার বসিয়ে রাখলেও এরা মূলতঃ ইজরাইল আমেরিকাকে খাজনা দেয়ার কাজটাই করে দেশেষ চলেছে।আল্লাহ্‌র বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট খনিজ সম্পদ ও মেহেরবাণী প্রাপ্ত এই অঞ্চলের শাসকরা এমন পথ ধরে চলছে যাতে দিনের পর দিন  তাদের নিয়ত্রণে থাকা সম্পদ হারাচ্ছে এবং তা দখল করে চলেছে আল্লাহ্‌র আইন ও পথের প্রতি বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী শক্তিগুলো।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী শক্তিগুলো খুবই বিচিক্ষণতার সাথে ঈমান হারানো মুসলমান শাসকদেরকে কাজে লাগিয়ে বা দালাল নিয়োগ করেই মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ বিরোধ উস্কে দিচ্ছে এবং এই বিবাদকে যুদ্ধে রূপান্তর করে একদিক মুসলমাদে ঈমান দূর্বল করছে,দূর্বল করছে সামর্থ্য এবং অপরদিকে নির্ভরশীল করছে আল্লাহর পরিবর্তে এমন শক্তির উপর যার নিজেরই টিকে থাকার  নিজস্ব শক্তি নেই।

 সৌদিরাজপরিবার যা করছেন, তাতে অনেকে তাদেরকে ইয়াজিদের অনুসারী বলছেন।অথচ মুসলমানদের উৎপত্তি স্থলে এই সরকার রাষ্ট্রপরিচালনা করে চলেছে।বিশ্বের সকল মুসলমান আশা করছেন,সৌদি আরব সাম্রাজ্যবাদী খেলায় জড়িত থেকে নীরিহ মানুষ হত্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক। সারা দিনিয়ার মুসলমানদের নেতৃত্ব করুক ইসলামের পবিত্র পথে মহানবীর পথ ধরে। শিয়া সুন্নীর ব্যবধানের দেয়াল তুলে নিয়ে ইরান ইরাক সৌদি ইয়েমেন সিরিয়া লেবানন সবাই মিলে মধ্যপ্রাচ্যের সকল সমাজে শান্তির জন্যে পরস্পর পরস্পরের সহায়ক থাকুক। আধুনিক টেকনোলজির জন্যে ইওরোপ আমেরিকা সাথে বন্ধুত্ব করুক।চীন রাশিয়ার সাথে বন্ধন অটুট রেখে বিশ্ব নেতৃত্ব কাঠামোকে সমৃদ্ধ করুক।

তবে বাস্তবতা অন্যরকম।রাজপরিবারের ভেতরে যে আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাড়াকাড়ি চালু হয়েছে তাতে ইজরাইলের হস্তক্ষেপ এড়িয়ে নিজেদের জন্যে কল্যাণের পথ নেয়ার সুযোগ ও অবস্থা আপাততঃনেই বলেই বলা যায়।তাই ধরে নেয়া যায় সৌদি রাজতন্ত্র যেমন বিলোপের পথে দ্রুত ডুবছে,সৌদি আরবের নিরাপত্তাও দ্রুত বিঘ্নিত হচ্ছে। সৌদি আরব সরকার যে  সমর্থনহীন সরকার তা আবার নয়। তবে তাদের সমর্থনের মূল ভিত্তি কে বা কারা সেটা জানা দরকার আগে। যতক্ষণ পর্যন্ত সৌদি সরকার মুসলমান সমাজের সমর্থনপুষ্ট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অনিশ্চিত দূরপাল্লার রাস্তায় তাকে কেউ রক্ষা করতে পারবেনা বলে কোরআনের তফসিরকারকরা আভাস দিচ্ছেন।

ইসরাইলের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্যে সৌদি যুবরাজ সালমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার বিরোধীতা করে কুয়েতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বিরোধী মতের মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর। এই সম্মেলন ইসরাইল ও তার আরব দোসরদের কাছে একটি শক্ত জবাব বলে মনে করা হচ্ছে।রাজা বাদশাহরা ইজরাইলকে মুসলিম এবং আরব বিশ্বের স্থায়ী সদস্য করার জন্যে জোর অবস্থান নিয়েছে।রাজারা দেখাতে চায় ইজরাইল জোর দখলকারী কোন শক্তি নয়, অবৈধ রাষ্ট্র নয়। এটি একটি বৈধ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।  

 কিন্তু ইসরাইলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর সম্পর্কের বিরোধিতার জন্য কুয়েতের মত দেশে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন এ অঞ্চলে ইসরাইলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। অন্য কথায় পারস্য উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এই প্রথম এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের ফলে এ অঞ্চলের ইসরাইলমুখি প্রবণতা মারাত্মকভাবে হোঁচট খেলো।

কুয়েত সরকারের ওপর সৌদি সরকারের ব্যাপক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইসরাইল বিরোধী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের অর্থ হল মধ্যপ্রাচ্যের বিষাক্ত ক্যান্সার হিসেবে কুখ্যাত ইসরাইলকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার সৌদি অপচেষ্টার মুখে বড় ধরনের চপেটাঘাত। প্রতিবাদ উঠছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে।  

 এটা স্পষ্ট যে মুসলমানদের প্রথম কিবলার দখলদার এবং গণহত্যা ও শিশ-হত্যায় অভ্যস্ত বর্ণবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে আরব জনমতসহ বিশ্ব-জনমত। তাই এই সন্ত্রাসী জঙ্গি  শক্তির সঙ্গে আপোষ করার সৌদি সরকারী খায়েশ  প্রতিবাদে পড়ছে। নানা আন্দোলন, এনজিও এবং পেশাজীবী ও ধর্মীয় সংস্থাগুলোর তীব্র বাধার মুখে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক এবং তা সময়েরও দাবি। তারপরও বাস্তবতা হলো; প্রতিপক্ষ কখনো পরাজয় স্বীকার করে চুপচাপ থাকেনা,প্রবল শক্তিতে উত্থানের জোর চেষ্টা চালায়।ষেষ পর্যন্ত লড়াই করে।     

ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতান্যাহু এবং সৌদি রাজপরিবারের যুবরাজ সালমান চুক্তি করছেন।এই ছবি প্রমাণ করছে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো সংঘাতময় হচ্ছে।

 (লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান)। 


প্রাপ্তি : এস ইবাদুল ইসলাম

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সূর্যকে ভালোবাসি?
 হ্যা ভালোবাসি! জীবিকার জন্য
জোৎ¯œাকে ভালবাসি?
হ্যা ভালোবাসি!
 জীবন কে বাচিঁয়ে রাখতে।
 সূর্য তো প্রখর তাপে পূর্ন,
জোৎ¯œা কেমন শীতল, শান্ত
ফসল জন্মে সূর্যের তাপে।
মানব বেঁচে থাকার সাথে
জোৎ¯œার যোগাযোগ রয়েছে?
আছে তো ! আমাকে ভাবিয়ে তোলে।
সূর্য যখন চোখ বুজে বিশ্রামে যায়
জোৎ¯œা তখন নৃত্য করে
আলোর চোখ খোলে।
পৃথিবীর রুপ সেকি অনন্য
বাগান বিলাস ও শূন্য লতায়,
জোনকীরা আলোর পস্রা বসায়
আভাবী দূবর্ল ব্যক্তিটিও
জোৎ¯œাার আলোয় প্রান খুজে পায়।
নদীবক্ষে রুপালী ইলিশ
দলে দলে নৃত্য করে
জোৎ¯œার আলোক ¯œানে।
সূর্যের আলোয় সেই ইলিশ
প্রান হারায়।
এখানইে প্রকৃতির সৃষ্টির
প্রশ্ন থেকে যায়,
তবুও ভালবাসি প্রকৃতি
ভালবাসি সূর্যের তাপ
জোৎ¯œার হাসি ,
ভালবাসি তো আমি
এ অসিম প্রাপ্তি!!


রাজনীতি, গনতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসংগে:এস ই ইসলাম

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

লেখক : এস ই ইসলাম : রাজনীতি, গনতন্ত্র,নির্বাচন এ তিনটি বিষয়ের গুরুত্ব ব্যপক। এখানে এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু অলোচনা করা হলো।
রাজনীতি  (চড়ষরঃরপং): রাজনীতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। মুলত নাগরিক সরকার বোঝানো হয়। এছাড়াও অনেক সামাজিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। রাষ্ট্র বিজ্ঞান হচ্ছে শিক্ষার এমন একটি শাখা যা রাজনৈতিক  আচরন শেখায় এবং ক্ষমতা গ্রহন ও ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে। ইতিহাসে খ্্্্ুজে পাওয়া যায় রাজনৈতিক চিন্তার প্লেটোর রিপাবলিক, এরিস্টটলের রাজনীতি এবং কনফু সিয়াসের কিছু লেখনিতে।
একটি রাজনৈতিক দল হচ্ছে লোকদের এমন একটি দল যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করা এবং ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠন করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়।দলটি সমষ্ঠিগত কল্যান কিংবা তাদের সমর্থকদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু প্রস্তাবিত নীতি মালা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যমত পোষন করে। আর্ন্তজাতিক ভাবে রাজনৈতিক দলের পরিচয়ও পরিচালনা পদ্ধতিতে কিছু মিল থাকলেও অনেক ভিন্নতাও দেখা যায়। গনতান্ত্রিক দেশ গুলিতে নির্বাচক মন্ডলী সরকার পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক দলসমুহ নির্বাচন করে। অনেক দেশেই বহুসংখক শক্তিশালী রাজনৈতিক দল থাকে, যেমন জার্মান ও ভারত। আবার কিছু দেশে এক দলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, যেমন চীন ও কিউবা। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গুলো ছোট রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহনের সঙ্গেঁ দ্বিদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।এদেশের সব চেয়ে শাক্তশালী  দুটি দল আছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি।
গনতন্ত্রের ধারনা : সাধারন অর্থে গনতন্ত্র হচ্ছে মুলত সংখ্যাগরিষ্ঠদের স¦ার্থে গঠিত ও পরিচালিত সরকার। এর অর্থ এই নয় যে গনতন্ত্র সংখ্যালঘুর মতামত ও স্বার্থকে উপেক্ষা করবে। বরং গনতন্ত্রে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। সুতরাং গনতন্ত্র বিশ শতকে একটি জনপ্রিয় ধারনা, যা বতর্মানে সরকার পরিচালনার সর্বশ্রেষ্ট ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিনিধিত্ব মূলক সরকার বলতে দলীয় সরকারই বোঝায়। রাজনৈতিক দল ব্যতীত গনতান্ত্রিক  রাষ্ট্রের কথা কল্পনাই করা যায়না। রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন,দলীয় আদর্শের প্রচার সমর্থক গোষ্ঠী  এবং রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে উঠে।
নির্বাচন: গনতন্ত্রেক একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গনতন্ত্র চিন্তা করা যায়না। গনতন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যদে শাসন পরিচালনার জন্য নিবার্চনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে  অংশ গ্রহন করে ভোট দানের মাধ্যমে জনগন তার এই গনতন্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এজন্যই আমরা ও আশা করি বাংলাদেশের মত একটি গনতন্ত্রিক দেশেও একটি সুষ্ঠ ও সার্বজনিন গ্রহন যোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। তাই দৃষ্টি আকর্ষন করছি ঐ সকল দ্বায়িত্বে রত থাকা প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতি যারা তাদের উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব যেন যথাযথ ভাবে পালন করেন। নাগরিক তাদের প্রতিনিধি নিবার্চনে সুষ্ঠ ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সাংবাদিক ও অন্যান্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা যেন তাদের প্রতি অর্পিত দ¦ায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। ভোটকেন্দ্র যেন ভোটাদের জন্য নিরাপদ থাকে। এ বিষয়ে সরকার সহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি তারা তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি যে কোন আবেগের বর্শিভুত হয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন না করেন যাতে দেশ ও দেশের জনগনের ভাবর্মুতি উন্নত বিশ্বের কাছে ক্ষুন্ন না হয়। তাই আমাদের দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আবেদন, আপনারা অবশ্যই একত্রিত হয়ে আমাদেরকে একটি সুষ্ঠ নিবার্চনের পরিবেশ উপহার দিবেন।
পরিশেষে বলবো, ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী, শের-ই বাংলা একে ফজলুর হক, মাওলানা অবদুল হামদি খান ভাষানী, রুশবেল্ট, চার্চিল, এদের কথা উল্লেখযোগ্য। তাদের কথা আজও স্মরণীয়। মরিয়াও তারা অমর হয়ে আছেন তাদের কর্মের মাঝে।


‘লন্ডন -লুটনের গল্প ‘ - নুরুল ইসলাম খলিফা

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭

যুক্তরাজ্য ভ্রমনের বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করার শুরু থেকেই ফেসবুক বন্ধু লন্ডন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম সাহেব যোগাযোগ রাখছিলেন । ব্যক্তিগতভাবে তাকে আমি চিনতাম না , কিন্তু লন্ডনে দেখা হওয়ার পরে তিনি বলছিলেন যে, আমি যখন ইসলামী ব্যাংক বরিশাল শাখার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম , তখন তিনি বরিশাল পলিটেকনিকে পড়াশুনা করছিলেন এবং ব্যাংকে তার আসা যাওয়া ছিল । সেই সুবাদে আমাকে তিনি চিনতেন । তার লেখা ‘নির্বাচিত কলাম ‘ বইটি পড়ে তাকে একজন বোদ্ধা লেখক ও সুপন্ডিত বলেই মনে হলো ।
দেখা হওয়ার পরথেকেই তিনি আমাকে কিছুটা সময় দিতে চাইলেন । শীত এবং শারিরীক অসুস্থতার জন্য দূরে কোথাও যাওয়ার আগ্রহী ছিলাম না , তাই কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসবো বললাম । নির্দিষ্ট দিনে তিনি লন্ডন থেকে চলে আসলেন লুটনে এবং লুটনের কাছেই একটি পাঁচ তারা হোটেল লুটন হু (Luton hoo ) দেখতে গেলাম । লুটন শহর থেকে লন্ডনস্ট্রীট ধরে মাইল তিনেক রাস্তা হবে হয়তো । আমরা আট দশ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম । স্থানটি লুটন ও হারপেনডেন শহরের মাঝামাঝি । রেজাউল করিম সাহেবের সাথী জনাব বরকত উল্লাহ গাড়ী ড্রাইভ করছিলেন । ফাঁকে ফাঁকে গল্প করছিলাম আমরা তিন জন । প্রচন্ড শীতে যতক্ষন গাড়িতে থাকা যায় ততক্ষনই আরাম । গাড়ীর দরজা খুললেই শীত যেন ঝাপটে ধরে । লুটন শহরের কাছেই এমন একটি চমৎকার বাগান বাড়ি এবং তৎসন্নিহিত একটি অত্যাধুনিক পাঁচ তারা হোটেল আছে দেখে চমৎকৃত হলাম । ইতোপূর্বে এসে প্রায় মাস খানেক লুটনে থাকলেও এটা গোচরে আসেনি । খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম এটি একটি ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি । জনৈক স্যাকসন জমিদার ( Lord ) ডি হু পরিবারের মালিকানায় এ বাড়িটি ছিল প্রায় চার শ’ বছর । পরবর্তীতে হাত বদল হয়েছে অসংখ্যবার । বাড়িটি এর বাগান ও লেক সহ প্রায় ১২০০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত । এরই সামনের অংশে ২০০৭ সালের পয়লা অক্টোবর এই বিলাসবহুল হোটেলটি চালু হয় ।


সামনে চমৎকার সুসজ্জিত গার্ডেন ,ঝর্না ইত্যাদি । ফেব্রুয়ারীর এই কনকনে শীতে স্বাভাবিক ভাবেই গাছ গুলো পাতা শূন্য ; সামনের গার্ডেনটিও অনেকটা বিবর্ণ । কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হয়না যে ,বসন্তের ছোঁয়া পাওয়ার সাথে সাথে কতটা মোহনীয় ও মাধুর্যমন্ডিত হয়ে ওঠবে এই গার্ডেন এবং পত্র পল্লবে পরিবেষ্টিত বাগানবাড়ি । আমরা হোটেলে সংক্ষিপ্ত লাঞ্চ সেরে নিলাম যেহেতু দুপুর প্রায় পার হয়ে যাচ্ছিল । হোটেল লবিতে বসে গল্পসল্প করছিলাম । হোটেলের গেষ্ট আসছে যাচ্ছে যা মাঝে মধ্যে দৃষ্টি আকর্ষন করছিল । এই বিষয়গুলো মাঝেমধ্যে আমার মনকে ভিন্নদিকে ঘুরিয়ে দেয় । যেমন খেয়া ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের দেখে একই অনুভূতি জাগ্রত হয় । একদল এসে এপারে নামে , অপেক্ষমান লোকেরা আবার খেয়ায় ওঠে বসে । এপারে নেমে যাওয়া লোকেরা পথ ঘাট মাঠ-প্রান্তর পেরিয়ে তাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায় । ধীরে ধীরে তাদের কন্ঠশব্দ মিলিয়ে যায় , হ্রস্ব হতে হতে মিলিয়ে যায় তাদের ছায়া । নিজ গন্তব্যের দিকে ধাবমান এই যাত্রীরা অদৃশ্যের আড়ালে হারিয়ে যায় - খেয়াঘাটে তাদের তেমন কোনো প্রভাব আর থাকে না । কিন্তু ইতোমধ্যে আবার নতুন যাত্রীরা এসে ঘাট সরগরম করে তুলে ; তারা ওপারের যাত্রী । তারাও ওপারে নেমে এমন করেই এগিয়ে যাবে তাদের গন্তব্যে । খেয়া ঘাটে তাদের ক্ষনিকের পদচারণা ছাড়া আর কোনো চিহ্ন থাকবে না । লুটনহুর লবিতে বসে বোর্ডারদের ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে বিদায় হওয়া , হোটেলের ওয়েটারদের স্যালুট দেয়া এবং ব্যাগ-ব্যাগেজ গাড়িতে তুলে দেয়া একই সাথে নতুন বোর্ডাদের আগমন , তাদের অভ্যর্থনা দেখে আমার কেবলই দুনিয়ার জীবনে আসা যাওয়ার কথা মনে হচ্ছিল । বিমানবন্দরে কিংবা রেল স্টেশনে অথবা বাস স্ট্যান্ডে ঠিক একই অনুভূতি সৃষ্টি হয় আমার ।
ভাবছিলাম এই ক্ষনিকের আসা যাওয়ার ষ্টপেজে আমাদের কতইনা দর্প-কতইনা অহংকার ! অন্যের ঘাড়ের উপর পা রেখে নিজেকে উপরে তোলার এক কুৎসিত প্রতিযোগিতা দেখে অবাক হয়ে যাই । এ ধরনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকে জীবনের লক্ষ ভুলে যাই আমরা -ভুলে যাই নিজের অবস্থান । ভুলের ঘুর্নাবর্তে ঘুরপাক খেতে খেতে দেখি ওপারের খেয়া এসে গেছে । তখন হুঁশ হলেও লাভ নেই , কেননা পরপারের খেয়া এসে গেলে ওঠা না ওঠার কোনো স্বাধীনতা থাকে না । লুটন হু থেকে বের হয়ে আসতে আসতে এমন একটি ভাবনা আমার মনকে আচ্ছন্ন করছিল । রেজাউল করিম সাহেবকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ‘বাড়ির পাশের এই আরশী নগরের’ সন্ধান দেয়ার জন্য এবং আমার জন্য এতটা সময় ব্যয় করার জন্য । আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন !!


মিয়ানমারে ভবিষ্যত্ যুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো কি? নাদিরা মজুমদার

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭

শান্তি কী, শান্তি কাকে বলে—ব্রিটিশ ও জাপানি উপনিবেশের অধীনস্থ বার্মা
বা মিয়ানমার কোনোদিন জানেনি। কমসে কম ১৩৫টি নৃতাত্ত্বিক দল নিয়ে গঠিত
মিয়ানমারীয় সমাজ মোজাইকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা নিরন্তর বিবাদে
লিপ্ত। দশকের পর দশক ধরে সামরিক একনায়কত্ব দেশের বিরাট অংশে আপাত
প্রতীয়মান শৃঙ্খলা বজায় রাখে। মিয়ানমারীয়রা নিষ্ঠুর দমননীতি নামক মূল্যকে
মেনে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলের
ভিত্তিতে সেনাবাহিনী দেশের এক সাগর পরিমাণ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান
করতে অং সান সূ চি’র সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি হয়। বসবাসের জন্য,
রোহিঙ্গারা আরাকানের উত্তরাংশে (আধুনিক রাখাইনে) আসে ষোড়শ শতাব্দীতে।
ব্রিটিশ দখলদারির আমলে, কয়েকশ বছর আগে, বিশাল শ্রম-শক্তির অভিবাসন ঘটে।
এরা প্রায় সবাই মুসলমান, মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
রোহিঙ্গাদের জন্মহার স্থানীয় আরাকানি বৌদ্ধদের চেয়ে বেশি। মিয়ানমারের
চৌহদ্দি ছাড়িয়ে সুদূর করাচিতে, আরাকানাবাদে রয়েছে আরো লাখ পাঁচেক
রোহিঙ্গা। সত্তর ও আশির দশকে এরা আফগান সরকার ও আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের জন্মের পূর্ব থেকেই মক্কা শরীফে রয়েছে
তিন লাখ রোহিঙ্গা শ্রম-শক্তি, পরিবার ছাড়া। প্রকৃতপক্ষে, রোহিঙ্গারা পৃথক
নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নয়, সংখ্যালঘু।রোহিঙ্গা-ইস্যুর স্থায়ী সমাধানের
দৃঢ়সংকল্প নিয়ে সুচি কফি আনানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।
অজস্র প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সমস্যা সমাধানের সুপারিশসহ কমিটি একটি
রিপোর্ট তৈরি করে। এরপরে কী ঘটে সে প্রসঙ্গে আসার আগে সংক্ষেপে সু চি’র
পারিবারিক আবহের খবর নেওয়া যাক।

অং সান সু চি’কে পশ্চিম ‘গণতন্ত্রের আইকন’ হিসেবে প্রচার করে, তিনি
পশ্চিমের ‘ডার্লিং’য়ে পরিণত হন। যেমন : প্রেসিডেন্ট ওবামা দক্ষিণ এশিয়ায়
গেলেই সু চি’কে তার মিয়ানমারের বাড়িতে ‘হ্যালো’ না বলে দেশে ফিরে যেতেন
না। তবে সু চি’ সর্বাগ্রে খাঁটি জাতীয়তাবাদী। কোয়ালিশন সরকারে সু চি’র
পজিশন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো মনে হলেও আসলে ক্ষমতার রত্ন-ভাণ্ডার
জেনারেলদের হাতেই থেকে যায়।সূ চি’র বাবা ‘থেকিন আউং সান’ ছিলেন বার্মা
ইনডিপেন্ডেন্স আর্মির (বিআইএ) স্বনামধন্য নেতা ও ‘জাতির পিতা’। বার্মা
ব্রিটেনের উপনিবেশ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বার্মাকে স্বাধীন করতে তিনি
রাজকীয় জাপানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে গেরিলা
যুদ্ধ করেছিলেন।বার্মাকে নিয়ে ব্রিটিশ-জাপানি সংঘর্ষের দিনগুলোতে
নৃতাত্ত্বিক-বিবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৪২ সালে
জাপানি-বাহিনী রাখাইনে প্রবেশ করে এবং ব্রিটিশ রাজের (বর্তমানে
বাংলাদেশের) সীমান্তের কাছে ‘মংডু’ শহরে চলে আসে। ব্রিটিশ-বাহিনী
পশ্চাদপসরণ করে, ফলে রাখাইন তখন ‘ফ্রন্ট লাইন’ হয়। আরাকানের স্থানীয়
বৌদ্ধরা ‘বিআইএ’ ও জাপানিদের সঙ্গে সহযোগিতা করে, কিন্তু রোহিঙ্গারা
ব্রিটিশদের পক্ষে জাপানিদের (ও মিয়ানমারীয়দের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এটি
হলো ফ্যাসিস্ট-ইউফোবিয়ার ঝাপ্টায় মানুষ কেমন বোধশক্তি হারায় তার
ট্র্যাজিক উদাহরণ।বলাই বাহুল্য যে, ব্রিটিশ ও জাপানি, দুই বাহিনীই
নিজেদের সামরিক স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয় জনসমষ্টির বিদ্বেষ, সংঘর্ষ
ও সক্রিয় শত্রুতাকেই ইচ্ছামতো অপব্যবহার করে।জাপানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশরা
বিজয়ী হয়, আলোচনার মাধ্যমে ‘থেকিন আউং সান’ বার্মার স্বাধীনতা অর্জন
করেন, কিন্তু ১৯৪৭ সালে তিনি নিহত হন, সু চি তখন দুই বছরের শিশু। সেই
১৯৪৭ থেকে বার্মা, পরে মিয়ানমার নামে পরিচিত দেশটিকে সেনাবাহিনীর
প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্যাকশনগুলো শাসন করে আসছে।সু চি ব্রিটিশ শিক্ষায়
শিক্ষিত, আশি ও নব্বইয়ের দশকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঝগড়া করেছেন তিনি।
তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়, ‘পশ্চিমের’ শিক্ষিত সমাজ তাকে
‘মানবাধিকারের প্রগতিশীল রক্ষক’ বলে আখ্যায়িত করে। সু চি পশ্চিমের মাথার
‘তাজ’ এখন।

সু চি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে স্বদেশের
প্রতিনিধিত্ব করেন। সরল, কাঁচা বলতে যা বোঝায় (ইংরেজিতে বোধহয় হবে: নাঈভ)
ঠিক সেভাবে তিনি তার দেশের জনসমষ্টির সমস্যাবলীর বিস্তারিত বর্ণনাসহ
কিভাবে, কী উপায়ে সেগুলোর দ্রুত সমাধান করতে চান তার ব্যাখ্যা দেন, এবং
সর্বাগ্রে যে রোহিঙ্গা-ইস্যুর হিল্লা করা হবে, তাও বলেন। অর্থাত্
ক্ষণিকের জন্য কাঁচামনের সু চি স্বপ্ন দেখেন যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ
সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে অ্যাংলো-স্যাক্স মিত্রদের সহানুভূতি পাবেন। দেশে
ফিরে আসার পরে, সু চির আক্কেলগুড়ুম হয়, হাড়ে হাড়ে টের পান যে তার
প্রাক্তন মার্কিন মিত্ররাসহ পশ্চিম আসলে তার দেশের মিত্র নয়, শত্রু।
‘ফেইথ মুভমেন্ট’ তথা ব্রিটিশদের কল্যাণে নতুন নামকৃত “আরাকান রোহিঙ্গা
স্যালভেশন আর্মি” (অক্টোবর, ২০১৬) মংডু’র সীমান্ত পুলিশ ঘাঁটিতে
সন্ত্রাসী আক্রমণ চালায়, এবং অস্ত্রশস্ত্রের লুটপাট, কাস্টমস অফিসার ও
সৈন্যদের হত্যার ঘটনা ঘটে।কফি আনান ২৫ আগস্ট (২০১৭) যে রিপোর্টটি দেন,
তাতে প্রকৃত সমাধানের পরামর্শ/সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু সেই দিনই
টার্বো-ক্ষিপ্রতার সঙ্গে “আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি” কয়েকটি
কমান্ডে বিভক্ত হয়ে সেনা-ব্যারাক ও পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায়। এ পর্যন্ত
যতগুলো সশস্ত্র হামলা পরিচালিত হয়েছে, সবসময় আফগান যুদ্ধে অভিজ্ঞ
আতাউল্লাহ্ আবু আমার জুনজুনির নাম শোনা যাচ্ছে। (আতাউল্লাহ্র জন্ম করাচির
রোহিঙ্গা পরিবারে)। মিয়ানমার সেনাবাহিনী জিহাদিদের সন্ত্রাস দমনে এক
সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালায়। ফলস্বরূপ, তাদের পরিবাররা বাংলাদেশে পালিয়ে
আসে।পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সম্বন্ধে আমরা মোটামুটি জ্ঞাত। যেমন : সামরিক
অপারেশন স্থগিত হওয়ার পরেও উত্তর আরাকানে জ্বালাও-পোড়াও অব্যাহত থাকে,
এবং রোহিঙ্গারা দুর্গম পথ ঠেলে বাংলাদেশেই আসে। অথচ আক্রান্ত স্থানীয়
বৌদ্ধরা দেশের অভ্যন্তরে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এবং আজগুবি মনে হলেও দক্ষিণ
আরাকানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা উদ্বাস্তু হয়নি। ‘পশ্চিমের’ মিডিয়া উদ্বাস্তু
রোহিঙ্গাদের প্রাধান্য দেয়, হাইলাইট করে।আটাশে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে
ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব কো-অপারেশনের অনুরোধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা
পরিষদের মিটিং ডাকা হয়। সেই মিটিংয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সু চি’র
কয়েকজন মিত্র মিয়ানমারের কোয়ালিশন সরকারকে ‘গণহত্যা’র অভিযোগে অভিযুক্ত
করে। ইউরোপীয় আইনিবিধি অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক মানুষের হত্যাকাণ্ডকে
‘গণহত্যা’ বলে চিহ্নিত করা হয়, অপরদিকে মার্কিন আইনবিধি অনুযায়ী
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত পদ্ধতি বা ‘মেথড’ গুরুত্বপূর্ণ, তাই অপরাধী যদি
একজনকেই মাত্র হত্যা করে তো নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন ছাড়াও ওয়াশিংটন
যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। যেমন: যুগোস্লাভিয়া। ‘গণহত্যা’ নামক অভিযোগে
অভিযুক্ত মিয়ানমারে ভবিষ্যত্ যুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো
কি?কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স ২০০৭ সালের ‘সাফ্রান
বিপ্লব বা রিভিউলেশন’র সময় (পূর্ব-ইউরোপের দেশগুলোর “কালার রেভিউলেশন”র
কথা মনে করিয়ে দেয়) একনায়কের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিরোধ সৃষ্টির জন্য
‘ডার্লিং’ সু চি এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রতি অপরিমেয় ভক্তি-শ্রদ্ধা কি
প্রদর্শন করেনি? করেছে। তাহলে ২০১৭ সালে সহসা মিয়ানমারীয় সেনাবাহিনী,
এমনকি সু চি, এবং দেশের তাবত্ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ‘খারাপ লোক/ব্যাড গাইজ’ হয়ে
গেল! সু চি’র, সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতিশ্রুতির এবং জিহাদি
সন্ত্রাসীদের হামলার নিন্দা করা হোক— এর আবেদন কোথায় তলিয়ে গেল...২০১৩
সাল থেকে পশ্চিমের মিডিয়া সু চি ও মিয়ানমারকে অপছন্দ করতে থাকে। এই
সময়টায় আবার সিরিয়াতে বিভিন্ন নামে পরিচিত জিহাদিদের বিস্তার ঘটে।
কাকতালীয় কি? কে জানে! কিন্তু এই যে বিগত কয়েক বছর ধরে রাখাইনে সুসংহত
জিহাদি কমান্ডো আক্রমণ ঘটছে—কে বা কারা তাদের অর্থায়ন, ট্রেনিং, অস্ত্র
সজ্জিত করছে?তদুপরি আরাকান রাজ্যের ভূ-কৌশলগত গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায়
না। ভৌগোলিক সমস্থানিকতার কারণে, চীনের অভিনব সিল্ক-রোড ওরফে ‘বেল্ট এন্ড
রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর ‘ইউনান পাইপলাইন’ রাখাইনের মধ্য দিয়ে যাবে
এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে,
গভীর-সমুদ্রের বন্দর, তেল গ্যাস, নৌ-পথের পাহারাদারিতে চীনাদের
ইলেকট্রনিক সার্ভেইলেন্স পোস্ট—সে এক এলাহী কর্মকাণ্ড। কিন্তু
‘বিআরআই’-য়ের বিরোধীদল তো রয়েছে, এবং সু চি বিআরআই-য়ের ‘মোহ’ ত্যাগ করতে
ব্যর্থ হয়েছেন।সু চি কি হতোদ্যম হবেন? না, হবেন কেন? নিশ্চয়ই আসল খাঁটি
বন্ধুর খোঁজ পাবেন, যারা মিয়ানমারকে নৈরাজ্যের ভারে অবনত হতে দেবে না।n
লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


আপ নেত্রীর ট্যুইট,‘গরু মা, কিন্তু পিরিয়ড হয় না’!

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭

Picture

বর্তমানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর ১২ শতাংশ জিএসটি ধার্য করা হয়েছে।বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিরোধীদের পক্ষ থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিনকে জিএসটি-র আওতার বাইরে রাখার দাবি জানানো হচ্ছে। তাঁদের যুক্তি, দাম বেশি হওয়ার কারণে গ্রামীন তথা দরিদ্র মহিলারা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারেন না। তাঁরা চিরাচরিত পদ্ধতির ব্যবহার করেন। এতে ওই মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের অসুখের শিকার হতে হয়।

অসমের শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেবও স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর থেকে কর তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এ ধরনের দাবির সূত্র ধরেই আপ নেত্রী মোদি সরকারকে নিশানা করেছেন। গত শুক্রবার জিএসটি-তে রদবদল করা হয়। অনেক সামগ্রীকে ২৮ শতাংশের তালিকা থেকে কমিয়ে ১৮ এবং ১৮ শতাংশের আওতায় থাকা অনেক সামগ্রীর জিএসটি ১২ শতাংশ করা হয়। কিন্তু স্যানিটারি ন্যাপকিনের ক্ষেত্রে জিএসটি হারের কোনও বদল করা হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে ট্যুইটের মাধ্যমে বিঁধেছেন অলকা।


সনেটের ভিন্নরুপ ভিন্নভাবে = জুলি রহমান

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

নিয়মিত তোমরা যা করছো তা নিয়ে ভাবি আমি।
এই শহরের মাথাগুলো কিনেছো তোমরা চড়াদামে!
সুনামের ঝড় তাই  তোমাদের ভাগে
বাকীসব মস্তক বির্বণতার রুপ ভাবনা এমন?
কাকের পাখায় ঢাকেনা পৃথিবী ;সূর্যের প্রভা তাই সকলের।
বিটপী থেকে তৃণ পরিমান;সকলে সমান পায় রবির কিরণ।

মানুষ ও অমানুষে পার্থক্য কেমন ?
স্বীয় স্বার্থ মোহপাশ নিজের করে সুখ ভোগী যে জন?
শেকড়ে আগুন ঢেলে পাতায় পানি?
ধোঁয়াশার মগডালে থাকে না বীজের ফলন।
নিয়ম ভাঙার নিয়মে তোমরা বদনামী।
ঘোলা করো যত জল ;ইতিহাসে লিখা নাম
মুছবে কোন কালিতে?


মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির নয়া অধ্যায় = আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করিয়ে খুশীর চোটে যে হাসি হাসতে ইসরাইলি নেতা বেঞ্জামিন এবং সৌদি রাজপরিবার যতো বড় হা করে মুখ খুলেছেন,ততোটুকু হাসি দিতে পারলেন কি না জানা যায়নি।তবে লেবানন,হিজবুল্লাহ্‌ এবং মিশর,ইরান ও রাশিয়া যে পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভে প্রস্তুত হয়ে আছে,তা অনুমান করা সহজ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, তার দেশের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরব অপহরণ করেছে।এখন তাকে অবশ্যই সেখান থেকে মুক্তি দিতে হবে।লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আউন এ কথা বলেছেন এবং ১১নভেম্বর শনিবার দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট তার দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।বলেন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হচ্ছে দেশের রেড-লাইন এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগুলো রক্ষা করতে হবে।
পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি প্রতি সংহতি জানাতে রোববার দেশটির রাজধানী বৈরুতে ম্যারাথন দৌড়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।এ কথা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন।রোববারের এ ম্যারাথন দৌড়ে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেবে বলে তিনি আশা করেন। প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, এর মাধ্যমে সাদ হারিরির দেশে ফেরার দাবির প্রতিও সংহতি প্রকাশ করা হবে।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে আটক রেখে এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে সৌদি আরব লেবাননের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান বিবাদ  মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।তিনি আরো বলেছেন, “যদি দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়,তাহলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”  নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের গুতেরেস বলেন, “আমরা সত্যিই অনেক বেশি চিন্তিত এবং আশাকরি পরিস্থিতির আর অবনতি দেখতে হবে না।মধ্যপ্রাচ্যে যাতে আর কোনো যুদ্ধ না হয়,তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা চলছে তখন জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বললেন।তিনি আরো বলেছেন, সৌদি আরব, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং সংঘাত কবলিত এ অঞ্চলে নতুন করে আর কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে দেয়া ঠিক হবে না।
হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় লেবানন সরকার ও ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ সৌদি আরবকে দায়ী করছে। অন্যদিকে, পদত্যাগের সময় হারিরি অভিযোগ করেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহ লেবাননসহ কয়েকটি আরব দেশে হস্তক্ষেপ করছে। এছাড়া, তার জীবনের শংকাও দেখা দিয়েছে।এসব অভিযোগ নাকচ করেছে হিজবুল্লাহ ও ইরান।
লেবাননের সঙ্গে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে সেখান থেকে ইসরাইলের দিকে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসবে বলে ধারণা করছে ইহুদিবাদী সামরিক বিশেষজ্ঞরা।আরবি দৈনিক 'রায় আল ইউম' এ খবর দিয়েছে।ইহুদি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, সৌদি আরব লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধের উন্মাদনা ছড়ালেও ইহুদিবাদী ইসরাইল সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ভাবছে।
রাই আল ইউম ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা এখন এ আশঙ্কা করছেন,যুদ্ধ শুরু হলে লেবানন থেকে ইসরাইলের দিকে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসবে।এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের গভীরেও আঘাত হানতে সক্ষম।
ইতিপূর্বে ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান বলেছেন, হিজবুল্লাহ একটি বিশাল সেনাবাহিনীর মতো।ন্যাটোর কোনো কোনো সদস্য দেশেরও হিজবুল্লাহর মতো শক্তি-সামর্থ্য নেই।‌ইসরাইলি জঙ্গিবিমানগুলো আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সব সময় দক্ষিণ লেবাননে টহল দিলেও হিজবুল্লাহ চুপচাপ থেকে দ্রুততার সাথে তার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।  
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান পরোক্ষভাবে সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, "সৌদি আরবের এ কর্মকর্তা ইসলামি চেতনাকে ধারণ করেন না।" ১০নভেম্বর শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, 'উদারপন্থি' ইসলাম আর 'অনুদারপন্থি' ইসলাম মূল ইসলামকে দুর্বল করার জন্য পশ্চিমাদের সৃষ্টি করা একটি ধারণা।গত ২৪ অক্টোবর সৌদি রাজধানী রিয়াদে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন, সৌদি আরবকে তিনি 'উদারপন্থি ইসলামে' ফিরিয়ে আনবেন।"
এ প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, "উদারপন্থি ইসলামের ধারণা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে তৈরি হয়েছে।কিন্তু ইসলামে কোনো উদারপন্থি বা অনুদারপন্থি বলে কিছু নেই; ইসলাম একটাই। এ ধরনের পরিভাষা ইসলামকে দুর্বল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এখন এই ধারণা যে ব্যক্তি উচ্চারণ করছেন মনে করছি তিনি নিজেই এই ধারণা বিশ্বাস করেন।কিন্তু আপনাকে জানতে হবে এটা আপনার বিষয় নয়।" এরদোগান এসব কথা বলেছেন তবে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের নাম উল্লেখ করেন নি।
সৌদি আরবে ইসলাম যদিও সরকারিভাবে অনুসৃত আদর্শ তবে দেশটির সরকার ওয়াহাবি মতবাদ নামে একটি আদর্শ প্রচারের জন্য আলেমদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। এই একই আদর্শ চর্চা করে তাকফিরি সন্ত্রাসীরা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় বর্বরতা চালাচ্ছে।
সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সৌদি আরব ও কাতারসহ কয়েকটি আরব দেশ সরাসরি অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দিয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ইয়েমেনে এখনও সৌদি আরবের নেতৃত্বে আগ্রাসন চলছে। এ হামলায় সৌদি আরবকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সিরিয়ায় দায়েশ বা আইএসের পেছনে আমেরিকা ও ইসরাইল রয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণে জানা গেছে।ইসরাইল বহু আহত দায়েশ সন্ত্রাসীকে সেদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে চিকিৎসা করার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সিরিয়ায় দায়েশ পরাজিত হয়েছে এবং ইয়েমেনেও সৌদি আরব তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।এসব তৎপরতার ফলে কেবল মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।আর লাভবান হচ্ছে কেবল মুসলমানদের শত্রুরা।কোনো কোনো আরব দেশ যে অন্য মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে সে বিষয়টি এবার আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেও বেরিয়ে এসেছে।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের সঙ্গে আমেরিকার গোপন সমঝোতা রয়েছে এবং এ গোষ্ঠীকে মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, "আমার মতে আমেরিকার পূর্ণ উপস্থিতি, নজরদারি, সামরিক, রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতায় দায়েশের উত্থান ঘটেছে।"কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি এসব কথা বলেছেন।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিরাট অংশ দখল করে নেয়ার এক বছর পর  উগ্র এগোষ্ঠী আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তার শুরু করে।দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে তাদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং সেখানে বর্বর হামলা চালিয়েছে।হামিদ কারজাই বলেন, "গত দু বছর ধরে আফগানিস্তানের লোকজন এ সমস্যায় ভুগছে এবং এর বিরুদ্ধে কথা বলছে কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই করা হয় নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়েশের দোহাই দিয়ে আফগানিস্তানে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্যাপক বোমা ফেলেন।"হামিদ কারজাই বলেন, আগামী দিনগুলোতে দায়েশ আফগানিস্তানের আরো এলাকা দখল করবে।  
এদিকে, হারিরির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, "সৌদি আরব সিদ্ধান্তে পৌছেছে যে, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে মোকাবেলায় নিজের অনিচ্ছা প্রকাশ করায় সাদ হারিরিকে আগেই ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর উচিত ছিল।"
ওই সূত্রটি আরো বলেছে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার আগে সাদ হারিরি সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন।তিনি বলেন, "ওই সব বৈঠকে যা ঘটে থাকতে পারে,সে ব্যাপারে আমার বিশ্বাস হলো, হারিরি সৌদি কর্মকর্তাদের একথা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে গেলে লেবানন অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।আমার বিশ্বাস, সৌদি কর্মকর্তারা তার বক্তব্যে খুশি হতে পারেনি।
ফলে যা ঘটার তাই ঘটেছে।"গত ৪ নভেম্বর শনিবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণের মাধ্যমে সাদ হারিরি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং এখন সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন।এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে শুক্রবার সন্ধ্যায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে হিজবুল্লাহ মহাসচিব একথা বলেছেন।ইমাম হোসেইন (আ)’র শাহাদাতের চেহলাম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া তার এ ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, ফিউচার দলের প্রধান ৪৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তার সঙ্গে কাউকে যেতে দেয়া হয় নি। রিয়াদে যাওয়ার পর হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে সৌদি আরব লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মারাত্মকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, হারিরি যে ভাষায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তা থেকে পরিষ্কার হয় যে, তাকে এসব বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাকে এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, “হারিরি এখন সৌদি আরবে কারাবন্দী এবং নিজের দেশে ফিরতে পারছেন না। সৌদি আরব নিজের ইচ্ছা লেবানন সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে মধ্যে বিভেদের বীজ বোনার চেষ্টা করছে রিয়াদ এবং একে অপরের মুখোমুখি কর দিতে চাইছে।”
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, “লেবাননে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য সৌদি আরব ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে কোটি কোটি ডলার খরচ করতে প্রস্তুত রয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে সৌদি আরব লেবাননকে ধ্বংস করতে চায়। এই সৌদি আরবই ছিল ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধের প্রধান কারিগর।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, সাদ হারিরিকে আটক রেখে তাকে অপমান করা হয়েছে এবং এঅপমান গোটা লেবাননের জনগণের জন্য অপমান।তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং এর কোনো মূল্য নেই। লেবাননের চলমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন চমৎকারভাবে দেশ সামলে নিচ্ছেন এবং তাকে কাজের ক্ষেত্রে সব দল ও মতের লোকজনকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান হাসান নাসরুল্লাহ।
সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ শিগগিরি দেশ পরিচালনার ভার নিজের ছেলে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে খবর বের হয়েছে।যুবরাজ মুহাম্মাদ চলতি সপ্তাহে রাজপরিবারের বেশ কয়েকজন প্রিন্স ও বর্তমান এবং সাবেক মন্ত্রীকে দুর্নীতির দায়ে আটক করার পর এ খবর বের হলো।যুবরাজ মুহাম্মাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে; সাম্প্রতিক আটক অভিযানের মাধ্যমে সে পথ সহজ করা হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।১৯৩২ সালে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটিতে রাজতন্ত্রের আদলে পারিবারিক স্বৈর-শাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
গত মাসে অর্থাৎ ৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি রাজা সালমান মস্কোয় ক্রেমলিনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে রাশিয়া ও সৌদি আরবের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।বৈঠক শেষে পুতিন বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বিস্তারিত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।ওপেক মিটিং হবার আগে এই তেল বিষয়ক ব্যবসায়িক আলোচনা শেষ করে নিয়েছেন পুটিন।তেলের উপর উভয় দেশের অর্থনীতি নির্ভরশীল থাকায় বাস্তবতাই তাদেরকে বৈঠকে টেনেছে।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রাশিয়ার সাথে সৌদি রাজপরিবারের সম্পর্ককে কাছে টানার কাজটি হয়েছে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মনোযোগে।মে মাসে রাশিয়া সফর করে রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট ফান্ডে ১০বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা বলে এসেছিলেন তিনি।এই দুইদেশ বহুদিন যাবত বিভিন্ন বিরোধে যুক্ত।সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান সৌদির বিপরীতে।ইরান সিরিয়ার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি জরুরী হয়ে গেছে।আমেরিকার সম্পুর্ণ সমর্থন পেয়েও সৌদি রাজপরিবার ইয়েমেন-সিরিয়ায় কড়া মার খেয়ে চলেছে।তাই রাশিয়াও পরিস্থিতির সুযোগটা নিয়েছে বলা যায়।
রাজা সালমান তার মস্কো সফরের মধ্যদিয়ে রুশ-সৌদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতির সূচনা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এটি সৌদি রাজার প্রথম সফর।আগেরদিন বুধবার রাতে দেড় হাজার সঙ্গী নিয়ে চারদিনের সফরে রাশিয়ায় পা রাখেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদ।বিমান থেকে নামার সময় তিনি ব্যবহার করেন সোনার তৈরি চলন্ত সিঁড়ি।কিন্তু হুট করেই নষ্ট হয়ে যায় সেই সিঁড়ি।    
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের  চেয়ারম্যান)।


স্মৃতি বেলায় - এস ইবাদুল ইসলাম

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

বৃষ্টি ¯œাত শুপ্রভাত
পদ্ম দিঘির জল,
লাজুক, শালুক, দোলে।
শান্ত দিঘির জলে।
রাজহংস পাখনা মেলে খেলে
 গগনে জেগেছে রবি,
স্বোনালী আবির ঢেলে
এ এক অপূর্ব ভোরের ছবি।
ধানের শীষে লেগেছে দোল,
 প্রজাপতি উরে বেড়ায়,
মৌ মৌ ফসলের গ্রানে!
দিগবিদিগ দিশে হারা সন্ধ্যায়,
বিহঙ্গ ফিরে যায় আপন ঠিকানায়।
ডুবে থাকি আমি,
মুছে যাওয়া দিনের
স্মৃতির আঙ্গিনায়।
হিয়ার মাঝে জেগে আছে ওরা,
পুষ্পরাগে বিকশিত তারা।
উঁকি দিয়ে যায় মোর জানালায়,
সকাল বিকাল সাঁঝে!
স্মৃতির ভেলায় আমি ভেসে যাই,
হৃদয়ের অসীম অনুরাগে।

প্রকৃতিতে নামলো শীতের আমেজ
লেখক: এস ইবাদুল ইসলাম

শীতের শীতল পরশ নামলো প্রকৃতিতে। শীতল হাওয়া বইছে। কন-কন ঠান্ডা হাওয়া শুরুর সময় এসে গেছে। সত্তর দশকের একজন বাংলা ভাষী কবি লিখেছেন শীতকাল কবে আসবে সমপূর্ন ? জবাবে, এবার আমরা বলছি আগাম আসছে শীত। যদিও প্রকৃতিতে এখন হেমন্ত কাল। দিনের বেলায় গরম পরলেও রাতের শেষে  শীত পড়ছে। তবে তা এখনও তীব্র হয়নি। ষড় ঋতুর এদেশে একেকটি ঋতু আসে ভিন্ন ভিন্ন সাজে সেজে। তবে জলবায়ুর বিরাট পরিবর্তনের ধকলে ঋতুর কাল বদলে যাচ্ছে। এবার তো গ্রীষ্ম ও বর্ষা একাকার হয়ে গেছে। প্রকৃতির পালা বদলে বদলে যায় মানুষের জীবন ধারা। আর প্রকৃতিতে সাড়া জাগায়  তার পরিবর্তনে বদলে যায় সময়ের স্বাভাবিকতাও অস্বাভাবিকতায়। অনিবার্যভাবেই প্রকৃতিতে ঘটে কিছু পরির্বতন। শীতকালেই হেমন্তের ফসল কাটা শেষ হয়। নবান্নের সঙ্গে পিঠে পায়েসের আয়োজন হয়। এটা বাঙ্গালীর একটি অতি পরিচিত পর্ব।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে শীতের পিঠা বিক্রেতারা পিঠা বিক্রির পসরা সাজিয়ে বসেছে। শীত যেমন পিঠা পায়েস ওখেজুর গুর নতুন শাক-সবজির আমেজ নিয়ে আসে তেমনি তীব্র শীত প্রন্তিক মানুষের জীবন যাত্রাকে বিপন্ন করে তোলে। বিশেষ করে দারিদ্র জনের পর্যাপ্ত শীত ব¯্ররে অভাবে  দূর্ভোগের শিকার হয়। গৃহহীন, ছিন্নমুলেরা অসহনীয় কষ্টের শিকার হয়। এ সময় শীত জনিত নানা রোগ ব্যধির আক্রমন দেখা যায়, বিশেষ করে ঠান্ডা জনিত সমস্যা। শীতে অনেকের কাছে অনেক পছন্দের ঋতু। কাতির্কের মাঝামাঝি শীতের তীব্রতা বেশী থাকে। এসময় কুয়াশার চাদর বিছিয়ে ডেকে দেয় প্রকৃতিকে। শীতের প্রকপতা বাড়ে শত্য প্রবাহ বয়ে যায়। গুটি শুটি দিয়ে বসে থাকে ফুটপাতের মানুষ গুলো। লেপ তৈরীর ধুম পরে যায়। অর্থবান ব্যক্তিরা কিনে নতুন কম্বল ও শীতের বাহারী পোষাক। এই শীতে আমাদের দেশে সরকার সহ অর্থ বিত্তবান ব্যাক্তিরা শীতার্থদের শীতব¯্র ও কম¦ল বিতরন করেন। এর উপর নির্ভর করে দরিদ্রদের শীত কেটে যায়। দরিদ্র ব্যক্তিরা তো দেশে আছেই  এছাড়া এর সাথে যুক্ত হয়েছে মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত দশ লাখ রোহিঙ্গা। যাদের জন্য শীত ব¯্র, কম্বল সাহায্য প্রদানের জন্য এখনই তৎপরতা হতে হবে সরকার সহ সাহায্য প্রদান দাতা সংস্থা গুলোও সাহায্য প্রদানে বন্ধু বৎসল রাষ্ট্র গুলোকে।

‘কিশোর কবি শুকান্ত-সুর্যের কাছে উত্তাপ চেয়ে ছিলেন।
রাস্তার ধারের উলঙ্গ ছেলেটির জন্য’।

তেমনি ভাবে আমাদের ও মানবিকতার উ¤েœষ ঘটাতে হবে। আর তখনই শীত ঋতু কষ্টের না হয়ে হবে  উৎসবের ঋতু। শীতের নবীন ফসলের সাজে ও শিউলি ফুলের সেত ও জাফরানী রং এর সাজে সেজে উঠুক আমাদের  মন। সৌরভ ছড়িয়ে যাক বাংলার সকল প্রন্তরে।
আর শীতের আগুনের উত্তাপ সতেজ করুক আমাদের দেহ মন। সকালের শিশির বিন্দু ভরা ঘাস সুর্যের আলোয় উত্তাপিত হোক। দিগন্তে ভরে উঠুক হলদে রং এর শরিষার ক্ষেত্রের মনোরম শোভা নিয়ে, গাধা ফুলের রং এ রঙ্গিন হোক বিয়ে বাড়ির প্রঙ্গন। শীত আসুক আর্শীবাদ নিয়ে জীবন গতিকে গতিশীল করে ভরে উঠুক প্রাণ নির্মল সতেজতায়।