Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/media/images/banners/media/system/js/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

নিউয়র্কের খবর

বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নয় : প্রধানমন্ত্রী

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্‌স নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে : বিএনপির সঙ্গে যেকোনো রাজনৈতিক সমঝোতার কথা নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে না আসে।শুক্রবার সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী নই। তাই বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া কারও উচিত হবে না।শেখ হাসিনা বলেন, যারা হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি, বঙ্গবন্ধুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং দেশকে ধ্বংসে বিশ্বাসী তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে না।তিনি বলেন, যারা আমার বাবা-মাকে হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে কখনও সমঝোতা হতে পারে না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সফলতার সম্পর্কে তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার অথবা তার বাবা-মার খুনিদের কারও সঙ্গে সমঝোতার চিন্তা করা অসম্ভব। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে আমি বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের মৃত্যুর পর তাকে ফোন করা এবং সান্ত্বনা দেয়ার জন্য তার অফিসে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার অফিসে প্রবেশ করার অনুমতি দেননি।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারে, তাহলে ৭ থেকে ৮ লাখ শরণার্থীকেও খাওয়াতে পারবে।তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে শেখ রেহানার সঙ্গে কথা বলেছি। সেও একই মতামত ব্যক্ত করেছে।চীন ও ভারতের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, চীন ও ভারতসহ সকল দেশের কূটনীতিকরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। তারা সবাই শরণার্থীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, চীন ও ভারত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বাংলাদেশের পাশে এগিয়ে এসেছে। তারা সব ধরনের সহযোগিতা করছে।শেখ হাসিনা বলেন, ৫টি প্রতিবেশি দেশের সঙ্গেই মিয়ানমারের বিরোধ রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত নির্বিশেষে সকল বেসামরিক মানুষকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহণকে সফল ও ফলপ্রসূ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে অবদান রেখে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, স্থপতি নভেরা আহমেদ ও হামিদুর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের দাবি নিউ ইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিমানের যে সর্বনাশ সেটা বিএনপি করে গেছে। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে লোকসান দেখিয়ে বিমানকে ধংস করেছে।১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে চলাচলের অনুপযোগী মাত্র দুটি বিমান ছিল। আমরা নিউ ইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালুর ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশন কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।গত দুবছর আগে জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রবাসীদের। সেই সূত্র ধরে নিউ ইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, '৯৬ সালের আগে যদি কারো কাছে বিমানবন্দরের কোনো ছবি থাকে তাহলে একটু দেখে নেবেন ওই সময়ের বিমানবন্দরের অবস্থা কতটা শোচনীয় ছিল। একটা বোর্ডিং ব্রিজও ছিল না ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু এখন সবকিছুই ঠিক করা হয়েছে। নতুন বিমানও কেনা হয়েছে।


মুসলমানরা কেন রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়ায়?” : নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ হাসিনা

বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ: নিউইয়র্ক থেকে : নিউইয়র্কে এযাবতকালের বিশাল এক নাগরিক-গণসংবর্ধনা সমাবেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী সামনের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দেবেন প্রার্থীর আচার-আচরণ এবং সামগ্রিক গুনাবলী বিবেচনা করে। বড় গাড়ি, বাড়ি আর টাকা দিয়ে ভোট পাওয়া যাবে না। জনগণের মন জয় করেই নির্বাচনে জিততে হবে। গত ৮ বছরে যে অর্জন সে সব বিস্তারিতভাবে এলাকার মানুষের কাছে জানাতে হবে।’ সমাবেশে উপস্থিত প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমার এই বার্তা নিজ নিজ এলাকার নেতাদের কাছে পৌছে দিন। কারণ, সামনের নির্বাচনে সকল ভোটার তার ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই নির্বাচিত করনে।’ এ সময় তিনি তার ভাগ্নি বৃটিশ এমপি টিউলিপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘জনপ্রিয়তা কীভাবে বাড়াতে হয় সে হচ্ছে তার অনন্য উদাহরণ। প্রথম নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে সে জয়ী হয়েছিল। পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের সে ব্যবধান ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বৃটেনে ভোট চুরি করা সম্ভব নয় অর্থাৎ টিউলিপ তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সব সময় ভোটারদের মন জয় করতে সচেষ্ট থেকেছে।’ শেখ হাসিনা আরেকটি মৌলিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে বলেন, ‘এলাকাবাসী গভীর পর্যবেক্ষণ রাখেন তার নেতা বানানোর ক্ষেত্রে। তাই দলীয় নেতা-কর্মীদের সন্তানরাও যাতে প্রতিবেশীদের সাথে সৎ-সম্পর্ক এবং ভালো আচরণ করে।’

নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ হাসিনা। ছবি-বাপসনিঊজ
দলীয় নেতাকর্মীদের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরো বলেন, “আমি আমার এমপিদেরও বলেছি, আপনারা দেখেন, শেখেন। কীভাবে ভোটারের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করা যায়। ওই বড় বড় গাড়ি-বাড়ি হলেই ভোটাররা ভোট দেবে না। ভোটারের সমস্যা জানতে হবে। সেগুলোর সমাধান করতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে আপনজন ভাবতে হবে। আগামীতে নির্বাচন। এই ইলেকশনটা বিরাট চ্যালেঞ্জ, এটা মনে রাখতে হবে।”প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সামনেই নির্বাচন আসছে। আমাকে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের ভোট পেতে হবে। জনগণ যেন পছন্দের প্রার্থী বাছাই করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে চাই।’


১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া এ নাগরিক সংবর্ধনা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে হোটেল ম্যারিয়ট মারকুইসের বলরুমে। আগের বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এবার সুধীজনের প্রবেশ পথকে সুবিন্যস্ত করার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের আসনবিশিষ্ট হলরুম ভাড়া করায় কোন ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি কাউকেই।
নিউইয়র্কে বসবাসরত ৩ কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর এবং শহীদ হাসানের নেতৃত্বে স্থানীয় বিশিষ্ট শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেন। তবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয় প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব কর্তৃক ‘মুজিব বাইয়া যাওরে’ গান দিয়ে।

alt
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ সভাসহ নিউইয়র্কে তাঁর ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রবাসীদের ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাস দেখে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।’ তাঁর প্রতি প্রবাসীদের ভালোবাসার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের এ ভালোবাসাই তাঁকে প্রেরণা জোগায়। এ সময় তিনি প্রবাসীদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। প্রতিটি খাতে দেশের উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক সময় আমাদের যারা ক্ষুধা আর ভিক্ষুকের দেশ মনে করত, এখন তারা সম্মানের চোখে দেখে। বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ।
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন প্রধান বক্তা। তবে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন খুবই স্বল্প সময় এবং সংক্ষেপেই অনেক কথা বলেছেন তার নানার ভঙ্গিতে। জয় বলেছেন, ‘প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। বাংলাদেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, বিদ্যুতের অভাব নেই। আমরা এখন পাশের দেশের (রোহিঙ্গা)নাগরিকদের সাহায্য করার কথা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি।’


জয় উল্লেখ করেন, ‘মালয়েশিয়াকে আজকের পর্যায়ে আনতে সে দেশের মানুষ মাহাথির মোহাম্মদকে ২০ বছর ক্ষমতায় রেখেছিলেন। ২০১৪ সালের আগের নির্বাচনে অনেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আমাদেরও একজন মাহাথির দরকার। আমি এখন গর্বভরে সকলকে জানিয়ে দেই যে, আমাদের মাহাথিরতো (তার মা শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে) আমাদের সামনেই আছেন।’ এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা বিপুল করতালিতে মেতে উঠেন এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানান।
এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  আইরিন পারভিন,,আওয়ামী লীগ নেতা  ফারুক আহমদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুর রহিম বাদশা, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন ভ’ইয়া এবং সেক্রেটারি শাহীন আজমল, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মমতাজ শাহনাজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, শ্রমিক লীগ সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য শাখার নেতারা।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ মঞ্চে উপবেশন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনে এক বেলা খেয়েও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে, কিন্তু এই শরণার্থীদের যে ফিরিয়ে নিতে হবে, সে কথা মিয়ানমারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “মিয়ানমারকে আমরা বলেছি, আপনাদের নাগরিক, তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাদেরকে নিরাপদ রাখতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে। তাদের ওপর জুলুম অত্যাচার চলবে না।”
তিনি বলেন, “তাদের (মিয়ানমার) ওপর যেন চাপ সৃষ্টি হয়। তাদের নাগরিক তারা ফেরত নিয়ে যাবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে। সেটাই আমরা চাই।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে দুর্ভাগ্য যে, মিয়ানমারে যে ঘটনা ঘটেছে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, মেয়েদেরকে ধর্ষণ করা, এমন পরিবেশ-পরিস্থিতি যেখানে সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে দলে দলে মানুষ এসেছেৃ আমরা কী করব? মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছে।”


কক্সবাজারে গিয়ে নিজের চোখে রোহিঙ্গাদের এই দুর্দশা দেখে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার কেবল নিজেদের কথা মনে হয়েছে। আমরাও তো একদিন এইভাবে ওই হানাদার পাকিস্তানিদের কারণে এ ঘর থেকে ওঘরেৃ আমাদের আশ্রয় খুঁজে বেড়াতে হয়েছে। আমাদের ঘড়বাড়ি সব জ্বালিয়ে ছারখার করেছে। সমগ্র বাংলাদেশে আমাদের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে। মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে।
“আমাদের দেশের মানুষও তো আশ্রয় নিয়েছিল। ভারতে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ছিল। আজকে যখন তারা বিপদে পড়েছে, অবশ্যই তাদের জায়গা দিতে হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেছে, এত মানুষের খাবার দেবেন কীভাবে? আমি তাদের একটা কথাই বলেছি; ১৬ কোটি মানুষ আমাদের। এই ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাবার দিতে পারি তাহলে এই সাত-আট লাখকে খাবার দিতে পারব না?”

alt
বাংলাদেশের মানুষকে ‘অনেক উদার’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রয়োজনে তারা একবেলা খাবে। অন্যবেলার খাবার এই আশ্রিত মানুষকে তুলে দেবে সেই মানসিকতা তাদের আছে। আমরা সেখানে লঙ্গরখানা খুলে দিয়েছি, চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।”
“কিন্তু মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতেই হবে,” জোরের সঙ্গে বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, কোনো দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটুক, তা বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশী কোনো দেশে কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে দেওয়া হবে না- সরকার তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
“আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। দেশের মানুষের কল্যাণ চাই। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আমরা করতে চাই। কাজেই সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ সমুন্নত রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করাৃ আমরা সেই ব্যবস্থা নিতে চাই।”

alt
রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আজকে জাতিসংঘে যাদের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে, প্রত্যেকেই কিন্তু এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ সচেতন।
শেখ হাসিনা কয়েক ঘন্টা আগে ওআইসির এক শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “জাতিসংঘে ওআইসির এক বৈঠকে আমি প্রশ্ন রেখেছি, আজকে মুসলমানরা কেন রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়ায়? আপনারা সকলে কেন এক হন না? কেন সকলে ঐক্যবদ্ধ হন না?”


শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন খাতের আগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন।
“আমরা দেশের উন্নতি চাই। আর তারা মানুষকে পুড়িয়ে মারে। ধ্বংসাত্মক কাজ ছাড়া তারা আর কিছুই করতে পারে না।”
টানা ৪০ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং তার দুই পুত্রের বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম, ঘুষ, দুর্নীতি, এতিমদের অর্থ চুরির অভিযোগ সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশ এগিয়ে যায়, আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে।


৫৫ ফুট নৌকায় নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সংবর্ধনা-মঞ্চ

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ৫৫ ফুট দীর্ঘ নৌকার ওপর মঞ্চ তৈরী এবং মঞ্চের পেছনের স্ক্রীনে ৬ দফার প্রতিকসহ টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো হবে নিউইয়র্কে শেখ হাসিনাকে ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে। ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে ‘ম্যারিয়ট মারকুইজ’ হোটেলের বিশাল বলরুমে এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের ডজনখানেক অঙ্গরাজ্য থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত প্রবাসীরা অংশ নেবেন।

Picture

এটি শুরু হবে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের অবিস্মরণীয় গানের মধ্য দিয়ে এবং তা পরিবেশন করবেন ৩ কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর এবং শহীদ হাসান। এসব তথ্য জানানো হয় ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন থেকে। ‘নাগরিক সংবর্দ্ধনা’ সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য রাখবেন বলে জানান সিদ্দিকুর রহমান।

alt
জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো জানানো হয়, স্থানীয় সময় ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার অপরাহ্ন সোয়া ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পর হাজারো প্রবাসী তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানাবে। এ ব্যাপারে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের নজরেও দেয়া হয়েছে সামগ্রিক পরিস্থিতির তথ্য। এসব উপস্থাপনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আরো বলেন, ‘ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, শেখ হাসিনা হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ব শান্তি মডেলের প্রণেতা এবং সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের মধ্য দিয়ে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব প্রাপ্ত রাষ্ট্রনায়ক, তাই তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদানের নামে যদি কেউ অশালীন আচরণ করতে চায়, তাহলে মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা তার দাতভাঙ্গা জবাব দেবে।alt

প্রচলিত রীতি অনুযায়ীই এহেন অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।’জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে টানা নবমবারের মত নিউইয়র্কে আসছেন শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে আওয়ামী পরিবারের পক্ষ থেকে গৃহিত নানা কর্মসূচির আলোকে ড. সিদ্দিক আরো জানান, ‘২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে শেখ হাসিনা ভাষণদানের সময় বাইরে ব্যাপক সমাবেশ ঘটিয়ে বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির সমর্থনে স্লোগান দেয়া হবে। এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান কার্যক্রমের সাথে আন্তর্জাতিক মহলকে পরিচিত করার প্রয়াস চালানো হবে। এ ব্যাপার বিভিন্ন প্রকাশনা বিতরণ করা হবে সমাবেশ থেকে।’alt

সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, জাতিসংঘের এবারের সাধারণ পরিষদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নের্তৃবৃন্দের সামনে মিয়ানমারের তথাকথিত নোবেল শান্তি পদকপ্রাপ্ত নেতা অং সাং সূকী-র মানবতা বিরোধী অপরাধ শাস্তি দাবী এবং সংখ্যালঘু ধর্মীয় জাতি গোষ্ঠি নিশ্চিহ্ন করায় এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে জোরাল বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের নানামুখি উন্নয়নের কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার তিন টার্ম শাসন কালে গণতান্ত্রিক সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিস্ময়কর উন্নতি বাংলাদেশকে আজ একটি নি¤œমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরীত করেছে। যা আগামী ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ এ উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হবে বলে বিশ্বসূচকে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনার দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

alt

ড. সিদ্দিক জানান, ‘২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ায় পুত্র, পুত্রবধূ, নাতীদের সাথে পারিবারিক সময় কাটাবেন। সে সময় আমরা চেষ্টা করবো সাংগঠনিক ও সামনের বছরের জাতীয় নির্বাচনে প্রবাস থেকে কীভাবে সহায়তা দিতে পারি, তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার।’২৯ সেপ্টেম্বর রাতে শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করবেন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে।alt

সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়ার আন্তরিক সহায়তা কামনা করা হয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ,  যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান  নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, স্টেট আওয়ামী লীগ,  যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।


নিউইয়র্কে সিলেটীদের মিলনমেলায় জাতীয় স্বার্থে সকলের ঐক্য কামনা

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

Picture

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্‌স নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে : পশ্চিমে ছড়িয়ে থাকা সিলেট অঞ্চলের লোকজনের মেলা বসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীতে। বাঙালি অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকার ইয়র্ক কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দু দিনব্যাপী জালালাবাদ বিশ্ব সিলেট সম্মেলন। আজ রোববার শেষ হবে এ সম্মেলন।

alt

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য গ্রেস মেংসহ অন্যান্য অতিথি ও আয়োজকেরা বেলুন উড়িয়ে সিলেট বিশ্ব সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সবার জন্য উন্মুক্ত সিলেট বিশ্ব সম্মেলনের আয়োজন এবং ব্যবস্থাপনায় রয়েছে নিউইয়র্কের জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন।
জালালাবাদ সিলেট বিশ্ব সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানালেন সংগঠনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জালালাবাদ সিলেট বিশ্ব সম্মেলন নিয়ে প্রবাসীদের উৎসাহ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।21751299_10214699022534959_7445103552930037132_n-600x450

বিশ্ব সিলেট সম্মেলন আহ্বান “আয় প্রাণের মাঝে যায়”। সংস্কৃতির অবগাহনে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ নিয়ে কথা বলবেন সম্মেলনে আগত বিশিষ্ট লোকজন। সম্মেলনে আমেরিকাসহ বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে অনেকেই অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে সংগীত, নৃত্য, মিলন মেলা, আত্মকথা, পরিচিতি, শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রজন্মের অনুভূতি, শিকড়ের সন্ধানে, সিলেটী খাবার ও অন্যান্য স্টল আছে। ঐতিহ্যের ও সংস্কৃতির আয়োজনে ভরপুর থাকবে পুরো দু দিনের অনুষ্ঠান।

alt

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কোনো বিশেষ অঞ্চল নিয়ে এমন একটি বিশ্ব সম্মেলন রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জেড চৌধুরী জুয়েল বলেন, সব জায়গা থেকে ব্যাপক সহযোগিতা পাওয়া গেছে। এ বিশ্ব সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে সম্মিলিত আওয়াজ উঠবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

alt
সিলেট বিশ্ব সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত থাকছেন- ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, দেশ রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন, ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি সি এম তোফায়েল সামি, অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ খলীকুজ্জমান, মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ।

alt
এ ছাড়া ভারত থেকে এসেছেন দৈনিক যুগ শঙ্খ পত্রিকার সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ, গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার প্রধান অমলেন্দু চক্রবর্তীসহ অনেকে। যুক্তরাজ্য কানাডা, জাপান ও জার্মানি থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এরই মধ্যে নিউইয়র্কে এসেছেন।


নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী = জেএফকে এয়ারপোর্ট স্লোগানে মুখরিত

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

alt

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইতিহাদ এয়ারওয়েজের বিমানটি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্থানীয় সময় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে পৌঁছায়।

alt

প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রীমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ।

alt

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় অত্যন্ত প্রফুল্ল এবং হাস্যোজ্জল ছিলেন শেখ হাসিনা। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি সকলের কুশলাদিও জানতে চান।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক আগমনে উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক। স্থানীয় সময় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বড় সফরসঙ্গী দল নিয়ে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর এক/দেড় ঘন্টা আগ থেকে সেখানে বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার হাতে নিয়ে বিমান বন্দর টার্মিনালে সমবেত হন আওয়ালীগ-বিএনপি’র হাজারো নেতা-কর্মী। তবে এবার আওয়ামী পরিবারের বিশাল উপস্থিতির কারণে স্বল্প সংখ্যক বিএনপি’র নেতা-কর্মীর কাল পতাকা প্রদর্শনের অস্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়।
‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য গ্লোবাল পীচ-শেখ হাসিনা’, চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ শেখ হাসিনা’, ‘চ্যাম্পিয়ন অব হিউম্যান রাইটস-শেখ হাসিনা’, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি-শেখ হাসিনা ওয়েলকাম’, ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বিশ্বশান্তির অগ্রদূত-শেখ হাসিনা’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত অবস্থায় জেএফকে এয়ারপোর্টে দলীয় নেতা-কর্মীরা স্বাগত জানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুর থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেএফকে এয়ারপোর্টের ৪ নম্বর টার্মিনাল ছিল প্রবাসীদের দখলে। শত শত প্রবাসীর হাতে ছিল শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর প্লেকার্ড-পোস্টার-ব্যানার। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ প্রভৃতি সংগঠনের ব্যানারে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নারী-পুরুষেরা। 

alt

এয়ারপোর্ট থেকে প্রশাসনের নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি বহর সহ শেখ হাসিনা ম্যানহাটানে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে উঠেছেন। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হোটেলে অবস্থান করেই তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। হোটেল লবিতে শেখ হাসিনাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ। এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর থেকে অপরাহ্ন সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেএফকে এয়ারপোর্টের ৪ নম্বর টার্মিনাল ছিল প্রবাসীদের দখলে। শতশত প্রবাসীর হাতে ছিল শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর প্লেকার্ড-পোস্টার-ব্যানার। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ প্রভৃতি সংগঠনের ব্যানারে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নারী-পুরুষেরা। আগের মত এবারও বিএনপির পক্ষ থেকে জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাড়া মেলেনি। ২৫/৩০ জনের মত জড়ো হয়েছিলেন কিন্তু আওয়ামী পরিবারের হাজারো প্রবাসীর উপস্থিতির কারণে কাল পতাকা প্রদর্শনের অস্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়। যদিও বিএনপির হুমকি-ধামকির কারণে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

alt

স্বাগত-সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারমান নিজাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, লুৎফুল করিম, শামসুদ্দিন আজাদ, সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান এবং আবুল কাশেম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদিকা আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক লীগের সভাপতি খোরশেদ খন্দকার, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সভানেত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, যুব সম্পাদক মাহাবুর রহমান টুকু, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাখাওয়াত বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা তারেকুল হায়দার, সেবুল মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী মফিজুর রহমান, মাসুদ হোসেন সিরাজি ও আমিনুল ইসলাম কলিন্স, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মমতাজ শাহানা, সবিতা দাস প্রমুখ।

অপরদিকে, লন্ডন থেকে গ্রীণ সিগন্যাল না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অধ্যাপক দেলোয়ার-গিয়াস-জিল্লুর-বাবুল-বাতিন- জাকির-সাঈদ গ্রুপের কেউই জেএফকে এয়ারপোর্টে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেননি। এদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে বাবু-মিল্টন-জসীম গ্রুপ জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে কাল পতাকা প্রদর্শনসহ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্ত তা সফল হয়নি। এক ধরনের হতাশায় এই গ্রুপের কর্মীরা জেএফকে ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। অপর গ্রুপের নেতৃবৃন্দ জানান, সাড়ে বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।


‘দ্যা ক্লিনটন ডেমোক্রিটক ক্লাবের উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটিকাউন্সিলম্যান পল এ ভ্যালনের নির্বাচনী র‌্যালিতে ৩ বাঙ্গালী

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ ঃ গত ২৯ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নিউইয়র্কের কুইন্সের বে-সাইডের ৪১ এ্যভিনিউ এবং ২১৩ ষ্ট্রীটে ঐতিহ্যবাহী বেয়ার গার্ডেনে মুলধারার ‘দ্যা ক্লিনটন ডেমোক্রিট ক্লাবের উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির ১৯ ডিষ্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সিটি কাউন্সিলম্যান পল এ ভ্যালনের ২য় মেয়াদে নির্বাচনে আজ ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারীতে ভোট প্রদানের জন্য সাপোর্ট এন্ড গেট আউট দ্যা ভোট এ র‌্যালিতে তিন বাঙ্গালী  প্রতিনিধি আমন্ত্রিত অথিতি হিসাবে যোগদান করেন।

এরা হলেন বিশিষ্ট কম্যুনিটি এক্টিভিষ্ট ও উক্ত ক্লাবের সদস্য দেলোয়ার মানিকের নেতৃত্বে  আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের সভাপতি সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ও শিশু প্রতিনিধি শিমন মানিক অংশ নেন। খবর বাপসনিউজ।

ক্লাবের প্রেসিডেন্ট চাক এপেক সভার প্রারম্ভে উপ¯ি’ত সবাইকে আšতরিক শুভেচছা জানান। সম্মানিত বিশেষ অথিতি হিসাবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্ট্যাট সিনেটর টবি ট্রটেস্কি ও কুইন্স পার্ক কমিশনার ডরোথি লিওয়ান্ডেস্কি ছাড়াও নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ।


এতে মুলধারার বিপুল সংখ্যাক নির্বাচিত ও কমিউনিটির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পল এ ভ্যালনকে সমর্থন করেন। সভাপতির মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত র‌্যালীর পূর্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মালিনি শাহ,মনিকা ডুমিটিমোকোসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, সিটি কাউন্সিলম্যান পল এ ভ্যালনের বড় ভাই পিটার ভ্যালন জুনিয়র সুপ্রিম কোর্টেও বিচারপতি, তিনি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বাবা নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের বংশানুক্রমে তারা ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার। তাদের অত্যান্ত ঘনিষ্ট দেলওয়ার মানিক এক্টিভিষ্ট ও সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খাকন।


বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউড অব পারফর্মিং আটস-বিপার আনন্দরাতি “উত্তরাধিকার”-১০ অনবদ্য জারিন মাইশা

বৃহস্পতিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ : জারিন মাইশা। প্রবাসে জন্ম নেয়া নতুন প্রজন্মের অন্যতম নতুন প্রজন্মের শিল্পী। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা এবং ভিন্ন পরিবেশে নতুন প্রজন্মের অনেকে ঠিক মত বাংলাই বলতে পারে না।

Picture

অনেক অভিভাবক চেষ্টা করেও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তুু কিছু সংখ্যক অভিভাবক বজ্রকঠোর সঙ্কল্প নিয়ে নিজ নিজ সন্তানদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দেয়ায় এগিয়ে আসেন। অটল সংঙ্কল্পে অভিভাবক এবং নতুন প্রজন্মরা যে সফল হবেন তার প্রমাণ জারিন মাইশা।

alt

বাবা সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং মা নার্গিস রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, ভালবাসা এবং অনুশাসনে জারিন মাইশাকে গড়ে তোলেন আদর্শ সন্তান হিসাবে। আমেরিকায় অধ্যায়নের পাশাপাশি সন্তানের হাতে তুলে দেন বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির প্রদীপ। সেই প্রদীপের আলোতে আলোকিত এখন প্রবাসের বাংলাদেশী কম্যুনিটি। প্রবাস কম্যুনিটির গর্বের সন্তান জারিন মাইশা।

alt

এই উজ্জল প্রদীপ তৈরিতে বাবা-মার পাশাপাশি যে প্রতিষ্টানের অবদান, সেই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার ও অনুশীলন কেন্দ্র বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউড অব পারফর্মিং আটর্স। মাত্র ৪ বছর বয়সেই বাবা মা জারিন মাইশাকে তুলে দেন নিলুফার জাহান, সেলিমা আশরাফ ও এ্যানি ফেরদৌসের হাতে। গানে জারিনের হাতেখড়ি পড়ে নিলুফার জাহানের কাছে, পরিপূর্ণ শিল্পী করার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিলো সেলিমা আশরাফের উপর। আর নাচের গুরু ছিলেন এ্যানি ফেরদৌস, বাংলার শিক্ষক নিনি ওয়াহেদ এবং আবৃত্তির শিক্ষক ইভান চৌধুরী।

alt
শিল্পী জারিন মাইশা ব্যতিক্রমী প্রতিভাধর একটি মেয়ে। তার অনেক গুণ। সবদিক বিবেচনায় বলতে হবে মাইশা গড গিফটেড। ঐশ^রিক অবদান না থাকলে এত গুণ থাকতে পারে না। জারিন একজন ভাল নৃত্য শিল্পী, একজন ভাল চিত্রশিল্পী ও নন্দিত আবৃত্তিকার। গত ২৯ জুলাই প্রমাণ করেছে সে একজন ভাল কন্ঠ শিল্পী।খবর বাসনিঊজ।

alt
বিপার আয়োজনে জারিন মাইশার একক সঙ্গীতানুষ্ঠান উজ্জল কর হে আজি আনন্দরাতি “উত্তরাধিকার”-১০ এষ্টোরিয়ার পিএস ২৩৪ স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। হল ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে সাবিনা শারমিন নিহার ও নাদিয়া ইসলাম দৃষ্টির উপস্থাপনায় দু পর্বের এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিলো উত্তরাধিকার-১০ এর চার জন শিল্পীর পরিবেশনা। নাদিয়া আহমদ, অনিতা হিলালী, নাদিম আহমদএবং আকাশলীনা আহমদ দুটো সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তবে নাদিম আহমদ ছিলেন ব্যতিক্রম।

alt

তিনি সঙ্গীত নয় তবলায় তারানা পরিবেশন করেন। তাদের উপস্থাপন করে বিপার নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি আসিফ, লামিয়া, আমিন, প্রমা ও দিদাত। সুরের ভেলা মূলত এদের মাধ্যমেই শুরু হয়। তবে সুর সাগরের যবনিকাপাত করেন জারিন মাইশা।

alt

দ্বিতীয় পর্বে জারিন মাইশার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা কেমন হবে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় ছিলো। কারণ তাকে কখনো সঙ্গীত পরিবেশন করতে দেখা যায়নি। অথচ গান শুনে তো সবাই অবাক। এত সুন্দর পরিবেশনা অনেক দিন প্রবাসের দর্শকরা শুনতে পাননি। তার গায়কি, উচ্চারণভঙ্গি, গলার নিখুঁত কারু কাজ-সবই ছিলো চমৎকার এবং সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। তাকে নতুন প্রজন্মের একজন শিল্পী নয় পরিপূর্ণ শিল্পীই প্রতীয়মান হয়েছে।

alt

ক্লাসিক, মর্ডান, নজরুল, রবীন্দ্র থেকে শুরু করে হিন্দি গানও পরিবেশন করেছে। প্রমাণ করেছে সে সব ধরনের গানেই পারদর্শী। তার কন্ঠের যাদুতে হল ভর্তি দর্শক আবেগ আপ্লুত হয়েছেন, মন্ত্রমুগ্ধের মত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঠায় বসে থেকে উপভোগ করেছেন মনমাতানো সঙ্গীতগুলো। শুরু করেছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দিয়ে। বারটি গানের মধ্যে বেশি গেয়েছেন ছায়াছবির গান।

alt

তার পরিবেশিত গানের মধ্যে ছিলো বাংলাদেশের লিজেন্ট শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের গাওয়া এ মন তোমাকে দিলাম, প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ রচিত এবং মেহের আফরোজ শাওনের গাওয়া ‘আমার আছে জল, কলকাতার নচিকতার ‘যেভাবে তুমি সকাল দেখ’, বাপ্পা মজুমদার ও ফাহমিদা নবী ,একট যদি তাকাও তুমি, বাউল সম্্রাট আব্দুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ ভারতের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী শেয়া গোসাল ও প্রনব বিশ^াসের ‘যাও পাখি বল’ নজরুল সঙ্গীত ‘মম মায়াময় স্বপনে’, রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আমারো পরানে যাহা চায়’ হিন্দি গান আও হে জাগ এবং শেষ করেন বাবা-মার পছন্দের গান শিল্পী নাদিম নিয়াজীর গাওয়া ‘আকাশে ঐ মিটি মিটি তারার সাথে’।  

alt

জারিন মাইশার গানকে আরো আবেগময় এবং আবেদনধর্মী করে তোলেন সহকারি শিল্পীরা। নজরুল সঙ্গীতের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন পম্পি ও তানজিলা, রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে কবিতা আবৃত্তি করেন মিজানুর রহমান বিপ্লব, মন্দিরায় শহীদ উদ্দিন এবং শ্রেয়া ঘোষালের গানের কন্ঠ জারিনের আর প্রণব বিশ^াসের গলায় ছিলেন চন্দন চৌধুরী।

alt

বলতে গেলে খালি গলায় রবীন্দ্র সঙ্গীতটি যেন অসাধারণ হয়ে ওঠে। অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশনার জারিনের অনুষ্ঠানটি এতই চমৎকার ছিলো যে তখন শুরু এবং কখন শেষ হয়েছে তা অনেকেই বুঝতে পারেননি। নিমিষেই যেন শেষ হয়ে গেল।

alt

দর্শকদের করতালিতে সিক্ত হলো জারিন মাইশা। শুধু কী করতালি।

alt

তার ভূয়সী প্রশংসা করে অনুভূতি জানিয়েছেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন , কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, পেন্ডোরা চৌধুরী, বিশিষ্ট সঙ্গীত বিশারদ মুত্তালিব বিশ^াস। আরো বক্তব্য রাখেন এ্যানি ফেরদৌস, নিলুফার জাহান, সেলিমা আশরাফ, মামুন’স টিউটোরিয়ালের শেখ আল মামুন, শিল্পী তপন মোদক, সৈয়দ মিজানুর রহমান ও নার্গিস রহমান। মাসুদ বিন মোমেন জারিন মাইশার আরো উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করেন এবং প্রবাসে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের হাতে বাংলা ভাষা এবং বাংলা সংস্কৃতির মশাল তলে দেয়ার জন্য বিপাকে ধন্যবাদ জানান।

alt
কামীম আহসান বলেন, জারিন মাইশা অনেক গুণে গুণান্বিত। সে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে রচনা লিখে প্রথম হয়েছে। তার হাতের লেখা ছবির মত। তার নৃত্য আমি দেখিছি, এমন কি চিত্রাঙ্কনও দেখেছি। তিনি বিপা এবং জারিন মাইশার অভিভাবককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিপা এই প্রবাসে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা উজ্জল প্রতিষ্ঠান। আর উত্তরাধিকার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাধর শিল্পীদের উপস্থাপন করছে, তাদের শুধ শিক্ষাই দিচ্ছে না।

alt
মুত্তালিব বিশ^াস রবীন্দ্র নাথের কবিতার উদ্ধতি দিয়ে বলেন, ‘বালিকা আমি তোমার পরিবেশনায় অভিভূত। আমি আশা করি জারিন মাইশারাই আমাদের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করবে এবং আরো জারিন মাইশার সৃষ্টি করবে। তিনি আরো বলেন, জারিন মাইশার আবৃত্তি ও অপূর্ব। তার পরিবেশনায় আমি অবাক। সে আমাদের মুখ উজ্জল করবে। এ্যানি ফেরদৌস অনুষ্ঠান সফল এবং স্বার্থক করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের। কারণ এই প্রজন্মের শিল্পীদের আমরা শুধু শিখাচ্ছি না, আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারছি। তবে এই কাজটি অত্যন্ত কঠিন। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অর্থের। অনেক কষ্ঠ করে ২৫ বছর ধরে আমরা এই কাজটি করে যাচ্ছি। তিনি বিপার এই অগ্রযাত্রায় যারা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নিলুফার জাহান বলেন, আমার কাজটি বেশ কঠিন। কারণ ছোট্র ছোট্র শিশুদের কন্ঠে, মননে, চিন্তা এবং চেতনায় গান তুলে দিচ্ছি।

alt
সেলিমা আশরাফ বলেন,আগামী মাসে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে বিপার শো আগামী ১৮ আগষ্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই শোতে বাংলাদেশে যার যার আতœীয়-স্বজনকে যাবার অনুরোধ জানান।
শেখ আল মামুন বলেন, জারিন মাইশা শুধু একজন ভাল শিল্পী নয়,সে একজন ভাল শিক্ষকও বটে।সৈয়দ মিজানুর রহমান বিপা এবং আগত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাবার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে জারিনও বিপা এবং তার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, আমার বাবা- মা এবং শিক্ষকদের জন্যই আমি আজকে এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি।

alt
শিল্পীকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সহযোগিতা করেছেন তবলায় পিনাকপানি গোস্বামী,কীবোর্ডে মাসুদুর রহমান, অক্টোপ্যাডে তুষার রঞ্জন দত্ত, গীটারে জোহান আলমগীর এবং মঞ্চ করেছেন আক্তার আহমেদ রাশা, সাউন্ড ও লাইনে বিডি সাউন্ড। আরেকজন সহযোগিতায় ছিলেন জারিন মাইশার ছোট ভাই মাহাদি।অনুষ্ঠানে জারিন মাইশার শিক্ষক এবং শিল্পীদের ফুল দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়। ফুল তুলে দেন বিপার ছোট্র শিশু শিল্পীরা।


নিউইয়র্কে উৎসব-আনন্দে শেষ হলো‘বাংলাদেশ কনভেনশন’

বৃহস্পতিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘প্রবাসে শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হোক আমাদের নতুন কিছু করার প্রত্যয়’-এমন সংকল্পে উজ্জীবিত হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে নিউইয়র্কে শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ কনভেনশন।’

Picture

সমাপনী দিবসে কনভেনশনের প্রধান অতিথি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এটি ভয়ংকর একটি সমস্যা। এথেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখার জন্যে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

alt

একইসাথে পরম করুণাময়ের নিকট প্রার্থনা জানাতে হবে দেশত্যাগী রোহিঙ্গা এবং বন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশীরা যাতে শীঘ্রই পরিত্রাণ লাভে সক্ষম হন।’ টেক্সাস অঙ্গরাজের হিউস্টন এবং লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউঅর্লিন্সে ভয়াবহ হারিকেন ও জলোচ্ছ্বাসের তান্ডবে ক্ষতিগস্তদের পাশে দাঁড়াতেও প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।

alt

বাংলাদেশ কনভেনশনের মাধ্যমে প্রবাস প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে রাখার এ উদ্যোগের নেপথ্য সংগঠকদের তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এভাবেই প্রতিটি প্রবাসী যে বাংলাদেশের বিশেস দূত, তার সাক্ষ্য রাখছেন।’ এ সময় মঞ্চে ছিলেন বাংলাদেশ কনভেনশনের উদ্যোক্তা ও কনভেনর আলমগীর খান আলম।

alt

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে বেলোজিনো মিলনায়তনের ভেতরে ও বাইরের এ কনভেনশনে সর্বস্তরের প্রবাসীর সমাগম ঘটে। এতে অনুষ্ঠিত সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ অবসানে মার্কিন ও জাতিসংঘ প্রশাসনে লবিং জোরদারের পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতি লালন ও বিকাশে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহবান উচ্চারিত হয়।ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠা প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত রাখতেও বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করা হয় এবং কম্যুনিটিভিত্তিক সম্প্রীতি জোরদারকল্পে সকলকে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার আহবান জানান বক্তারা।

alt
ঈদুল আযহার দিন সন্ধ্যায় কোরবানী পশুর মাংস দিয়ে ডিনার গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু এ কনভেনশনে কিংবদন্তী কন্ঠযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাও প্রদর্শন করেন সহযোদ্ধা ও কন্ঠযোদ্ধারা। কনভেনশনের মূলমঞ্চের সামনে এই শিল্পীর ছবি রেখে সকলে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শন করেন সদ্য প্রয়াত এই শিল্পীর প্রতি। এ সময় সম্প্রতি ইন্তেকাল করা আরেক কন্ঠযোদ্ধা মঞ্জুর আহমেদ ও লাকী আকন্দের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

alt

সেমিনার ও আলোচনায় অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা এম এ সালাম এবং গিয়াস আহমেদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, , মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, কম্যুনিটি লিডার শাহনেওয়াজ ও বিলাল চৌধুরী প্রমুখ।

alt
প্রবেশ মূল্যহীন এই কনভেনশনের বিভিন্ন পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ৩ কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর এবং শহীদ হাসান, প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভিন, সেলিম চৌধুরী, মুক্তা সারওয়ার, বিউটি দাস, শাহ মাহবুব, সাইরা রেজা, শাহরিন সুলতানা, জাকারিয়া মহিউদ্দিন, মীরা সিনহা প্রমুখ। সম্মেলনের বাইরের খোলা মাঠে বসেছিল খাদ্য কাপড়ের স্টল। ছিল চুরি আর গহনার স্টলও। নানা বয়েসী ছেলে-মেয়েরা ঈদ-উৎসবে এ কনভেনশনে আসায় ৩দিনই বর্নাঢ্য এক আমেজ ছড়িয়ে ছিল জ্যাকসন হাইটস এলাকায়।


নিউইয়র্কে যাত্রা শুরু হলো নারী ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর

বৃহস্পতিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ:নারীদের কল্যাণে নিউইয়র্কে যাত্রা শুরু হলো “নারী ওয়ার্ল্ডওয়াইড” নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের। ২৮ আগস্ট, সোমবার ছিল নারী ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর কমিটি পরিচিতি সভা। এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হয় বিশিষ্ট মঞ্চশিল্পী রওশন আরা হোসেনকে।


নতুন এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত আছেন: বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লেখক পূরবী বসু, শিক্ষাবিদ নাঈমা খান, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, কমিউনিটি অ্যাক্টভিস্ট খোরশেদুল ইসলাম, অ্যাটর্নী অশোক কর্মকার এবং কমিউনিটি অ্যাক্টভিস্ট ওয়াসি চৌধুরী। এদেরকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে উপদেষ্টা কমিটি।

alt
এছাড়া কার্যকরী কমিটিতে রয়েছেন সভাপতি: পপি চৌধুরী, সহ-সভাপতি: জেসমিন আরা, সাধারণ সম্পাদক: তপন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক: প্রীতম চৌধুরী, ট্রেজারার: পিয়াল দীপ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক: নাসরিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক: বাবলী হক। কার্যকরী সদস্য হিসেবে আছেন আলেয়া চৌধুরী ও মিলি সুলতানা।


উক্ত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় উপদেষ্টা জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেন, স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য কয়েকজন নারী একত্রিত হয়ে চালু করা যেতে পারে একটি রেস্টুরেন্ট, যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মচারী পর্যায়ে সবাই থাকবেন নারী। পূরবী বসু বলেন, প্রয়োজনে আমরা বেকার নারীদের জন্য যে কোন বড় রেস্টুরেন্টের একটি কর্ণার ভাড়া নিয়ে তাদের নিজেদের তৈরি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারি। খোরশেদুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের তথ্য মতে মাত্র ১ ভাগ সম্পদ নারীদের হাতে আছে, যদিও তারা পুরুষের তুলনায় পরিশ্রম বেশি করে। ব্রংক্সে অবস্থিত নারীকল্যাণ সংস্থা স্বপ্না’র কর্মকান্ড উল্লেখ করে নাঈমা খান বলেন, স্বপ্না আমেরিকান এক মহিলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বাঙালি মহিলাদের নিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।

স্প্যানিশ বেকারীগুলি সাধারণত সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে। ঐদিনটিতে তিনি বেকারী ভাড়া নিয়ে সেখানে সদস্যদের তৈরি খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করার ব্যবস্থা করেন। এরপর সারা মাসে যে লাভ হয়, তার সাথে সরকার থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ যুক্ত করে সদস্যদের একাউন্টে ফিরিয়ে দেন। আমরাও এরকম কিছু করতে পারি। পপি চৌধুরী বলেন, অনেকে হাতের কাজ জানেন, রুটি, পিঠা, আচার বানিয়ে সাপ্লাই দেন বিভিন্ন দোকানে। আর্থিক সমস্যার কারণে এদের নিজেদের পক্ষে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এরকম কিছু মহিলাকে নিয়ে সমবায়ভিত্তিক একটি দোকান ভাড়া নিয়ে প্রত্যেকের হস্তজাত পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে সেখানে।


অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনয় শিল্পী জামালউদ্দিন হোসেন, বিশিষ্ট মঞ্চশিল্পী রওশন আরা হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কাজী শফিকুল হক, লেখক ও সাংবাদিক তপন চৌধুরী, লেখক নাজমুন নাহার পিয়ারী, বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ও লেখক মিনা মাশরাফী, লেখক ফাহিম রেজা নূর, জাকিয়া ফাহিম, লেখক জেসমিন আরা, লেখক নাসরিন চৌধুরী, লেখক আলেয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনীয়ার ইরশাদ আহমেদ, জসিম সরকার, গ্রেটার খুলনা সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শেখ আনসার আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, সহ সভাপতি শেখ আনসার আলী, সহ সভাপতি কাজী ওয়াহিদ এলিন, সাধারণ সম্পাদক মুরারী মোহন দাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি মাহাবুব আলী বুলু, সহ সভাপতি আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট নূর ইসলাম বর্ষণ সহ আরো অনেকে।


নন্দিত কথা শিল্পী হুমায়ূন আহমদ স্নরণে লোকসংগীত ও লোকজ মেলা

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

Picture

প্রধান উপদেষ্টা ডাঃ হামিদুজ্জামান, সদস্য সচীব নূর ইসলাম বর্ষণ,কনভেনার আমিনউল্লাহ,কো-কনভেনার ফাহাদ সোলায়মান,উপদেষ্টা আনোয়ার খন্দকার ,নাঈমা খান সহ আরো অনেকেই।

অনুষ্ঠানটি তিনটি পর্বে ভাগ করা।প্রথম পর্বটির উপস্থাপনায় ছিলেন লেখক কবি এবিএম সালেহ উদ্দিন।

alt

এতে অংশ গ্রহণ করেন ড.আজিজুল ইসলাম, জাকিয়া খান,হাসানূর রহমান,অবিনাশ চন্দ্র আচার্য,মেহের আফরোজ শাওন,বাঙালী পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহমদ,ঠিকানার এমএম শাহীন,বাঙলা পত্রিকা ও টাইম টিভির কর্নধার তাহের ,ডাঃমেছের,ডাঃ সিনহা মনসুর,আতোয়ারুল আলম,মাহবুব আলী বুলু প্রমুখ।

এরা প্রত্যেকেই এদের মূল্যবান বক্তব্যের মধ্যেই লোক সংগীতের প্রচার প্রসারের কথাই ব্যাক্ত করেছেন।তাঁরা গল্প কথায় লোক সংগীতকে শেকড়ের কাছে নিয়ে গ্যাছেন।

alt

নতুন প্রজন্মের জন্য ভীষণ জরুরী তাই নাট্যাভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন,এই বিষয়টিকে করতে হবে আত্নিক।শুধুমাত্র গতানগতিক অনুষ্ঠানের মতো পোষাকী করা চলবে না।নতুনের কাছে পৌঁছুতে হলে হতে হবে নিত্য নৈমত্বিক।সাংবাদিক কৌশিক বলেন লোক সংগীত আমাদের নিজস্ব অর্জন।

ভাওয়াইয়া পল্লীগীতি ,লালন,হাসন রাজা এর মধ্যে প্রাচ্য প্রতীচ্যের কোন ঢং নেই।তিনি বলেন রবীন্দ্র সংগীতে আমরা প্রাচ্যের ছোঁয়া পাই।নজরুল গীতি মধ্যপ্রাচ্য বা আরব্য গন্ধ পাই।লোকজ একেবারে সেই এলাকার অন্তরের রঅভিব্যাক্তি যা অন্যকোন কিছুকে ধার করে পাওয়া নয়।তিনি আরও বলেন বিশ্বের আর কোথাও এমন অর্জন নেই যা আছে আমাদের বাংলায়।

alt

সকলের কথা শেষে আজীবন সম্নানঅনা পদকে বিশেষ অতিথিদের সন্মানিত করা হয়।এদের মধ্যে -ড.আজিজুল ইসলাম, জাকিয়া খান,শিশু সাহিত্যিক হাসানূর রহমান,অবিনাশ চন্দ্র আচার্য,ছদরুন নূর,মেহের আফরোজ শাওন।বিশেষ ব্যাক্তি বর্গের হাতে সম্নান-অনা তুলে দেন যথাত্রুমে ঠিকানা পত্রিকার এম এম শাহীন,বাঙালী পত্রিকার কৌশিক আহমদ।

বাঙলা পত্রিকার  তাহের।অনুষ্ঠানে সম্নানিত বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষাবিদ নাঈমা খান, ডাঃ মেছের,ডাঃ সিনহা মনসুরআতাউরুল আলম,মাহবুব আলী বুলু।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে থাকে হুমায়ূন আহমদের গানে দলীয় নৃত্য।নতুন প্রজন্মের নিবেদিত পারফরম প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়া।এর পর কোরাস গানে অংশ গ্রহণ করেন একদল হলুদ লালের সমাহারে শিল্পী বৃন্দ।সাথে নিয়ে শিশু কিশোর।পরে একক গানের মধ্য দিয়ে গডিয়ে যাচ্ছিলো সময়।

alt

হলে উপচে পডা জনতার ঢেউ।হুমায়ূন লোকজ মেলার সার্থক রুপায়ন ।

alt

আরো প্রানবন্ত হলো সন্চালকদের মধু বচনে।

জসীম উদ্দীনের কবর কবিতাটি নিয়ে গেলো কোন সুদূর অতীত জীবনের কাছে।যে জীবনের ছোঁয়ায় আবেগ আপ্লুত করলেন ইব্রাহীম সহ নতুন প্রজন্মের মেয়ে।তার নিটুল চোখের পদ্ন ঢে্উ তোলা কবিতার প্রাণ আরো মর্মকেস্পশর্শ করলো পাঠকের মনের মনিকোঠায়।

alt

আর এই অনুষ্ঠানটিকে প্রান্জল করতে যার ভূমিকা ছিলো অগ্রগন্য তিনি উপস্থাপিকা দীমা নিফারতিতি।সর্বশেষ আকর্ষণীয় শিল্পী কৃষ্ণাতিথি শারমীন ইব্রাহীমের দ্বৈত উপ্সথাপনা।

alt

উপস্থিত ক্ষেত্রে অতি নিপুনতার সংগীত গুরু তপন বৈদ্য জনাব বর্ষণকে নিয়ে যে ক্লাসিক ধ্রুপদ তৈরী করলেন।সে সুরের সম্নোহনী সূধা রসে সকলে সিক্ত হয়ে সুখের ঢেকুর তুলেই ঘরে ফিরলেন।


নিউইয়র্কে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর আলোচনা

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ ঃ বাংলাদেশে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলোর মতো যদি গ্রাম পর্যায়েও গ্রাম পরিষদ নামে আরেকটি স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে তোলা হয় সেটা এলিট বা বিত্তবানদের দ্বারা দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা অন্যান্য কাঠামোগুলোর তুলনায় কম থাকবে। কারণ এটা সাধারন মানুষের নাগালের মধ্যে একটি প্রতিষ্টান হবে। যদি কোন প্রতিষ্টান সাধারন মানুষের কাছ থেকে  দূরে থাকে তাতে সাধারন মানুষের অভিগম্যতা কম থাকে। সাধারন মানুষের শক্তি হচ্ছে তার সংখ্যা আর এলিট শ্রেণী বা বিত্তবানদের শক্তি হচ্ছে অর্থ। আর অর্থ বেশী বলে তাদের পেশী শক্তি বেশী। গ্রাম পরিষদ নাগালের মধ্যে বলে সাধারন মানুষের সংখ্যার শক্তি প্রকাশের সুযোগ থাকে। যার ফলে এই প্রতিষ্টান থেকে গ্রামের কৃষক, ক্ষেতমজুর, ভূমিহীনসহ দরিদ্র মানুষদের উপকার হবে। তাই স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলোর মধ্যে গ্রাম পরিষদ হলে সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ বেশী উপকৃত হবে।


প্রোগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ এর উদ্যোগে গত ২৭ আগষ্ট রবিবার বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর এক আলোচনায় গ্রন্থের লেখক জাতিসংঘের সিনিয়র অর্থনীতিবিদদের অন্যতম ড. নজরুল ইসলাম উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। খবর বাপসনিঊজ।


প্রোগ্রেসিভ ফোরামের সহ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বাবুলের সভাপতিত্ত্বে ও সাধারন সম্পাদক আলীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় ড. নজরুল ইসলাম রচিত “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার শুরুতে লেখকের গ্রন্থের সার সংক্ষেপ নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রোগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম। তিনি লেখকের গ্রন্থের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, গ্রাম পরিষদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। একদিকে তা স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিন্ম ধাপের ভূমিকা পালন করবে,অন্যদিকে তা সমবায়ী গ্রামের পরিচালনা পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। সমবায়ী গ্রাম গ্রামের সুপ্ত সম্ভাবনার সর্বোত্তম বাস্তবায়নের পথ উন্মোচিত করবে। তিনি বলেন, সমাজতন্ত্রের সমবায়ে সাধারনতঃ জমির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকতো না,ফলে নীট উৎপাদনের প্রায় পুরোটাই শ্রমের ভিত্তিতে বিতরণ হতো। বিপরীতে বঙ্গবন্ধুর সমবায়ে জমির ওপর ব্যক্তিমালিকানা অক্ষুন্ন ছিল। ফসলের তিনভাগ হওয়ার কথা ছিল। এক ভাগ জমির মালিকানার ভিত্তিতে,এক ভাগ শ্রমের ভিত্তিতে আরেক ভাগ “গ্রাম তহবিল”এর জন্য। এই তহবিল দ্বারা গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম পরিচালনা হওয়ার কথা ছিল।


অনুষ্ঠানে লেখকের গ্রন্থের আরো আলোচনা করেন,  ওয়ার্কাস পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য মাহমুদুল ইসলাম মানিক, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. প্রদীপ কর, লেখক ও গবেষক আহমেদ মাযহার, ড. জিয়া উদ্দিন আহমদ, নারীনেত্রী গণমাধ্যমকর্মী নিনি ওয়াহেদ,নারীনেত্রী লেখিকা সামসাদ হুসাম, সৈয়দ ফজলুর রহমান, ওবায়দুল্লাহ মামুন, জাকির হোসেন বাচ্চু, সংগীত শিল্পী তাহমিনা শহীদ, হারুন,হিরু চৌধুরী প্রমূখ।


সভায় বক্তারা বলেন, ড. নজরুল ইসলাম তাঁর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাংলাদেশের গ্রাম গ্রন্থে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বাংলাদেশের জন্য গ্রামভিত্তিক একটি গণমানুষের উন্নয়নে কার্যকর স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। লেখক বঙ্গবন্ধু যে সমবায়ী গ্রামের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বহুবছর পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা তুলে ধরেছেন। বক্তারা গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো সৃষ্টির দাবীতে ব্যাপক জনমত সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশে নীতি নির্ধারকমহল থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ পর্যন্ত লেখকের এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল সমূহ জনমতের ওপর গুরুত্ত্ব দিতে আগ্রহী হবে এবং গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে যে শূন্যতা বিরাজ করছে তা পূরণে এগিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে লেখক ড. নজরুল ইসলাম তাঁর রচিত গ্রন্থের ওপর আলোচনা করার জন্য এধরনের প্রোগ্রাম আয়োজনে প্রোগ্রেসিভ ফোরামকে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ও উপস্থিত সকল কে ধন্যবাদ জানান। তিনি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের ওপর তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে বাংলাদেশের এ যাবত কালের সকল সরকার গ্রাম পর্যায়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন প্রনয়ণ করেছে। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সরকারগুলোর উদাসীনতা বা গুরুত্ব না দেয়ার কারণে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বা উপেক্ষিত। তবে যেহেতু সরকারসমূহ তা একেবারে বাদ দিয়ে রাখেনি তাই গ্রাম পর্যায়ে একটি স্থানীয় সরকার কাঠামো প্রতিষ্ঠার দাবী সকল রাজনৈতিক দল অবহেলা বা না মানার কারণ নেই। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমবায়ী গ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বর্তমান সরকার করবে না অন্য কেউ করবে তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না। তবে বাংলাদেশে যে সকল বাম প্রগতিশীল সংগঠনসমূহ তাদের যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তা পূরণেও তাদের এই অভিমূখে নজর দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টাউটদের বিতাড়নের কথা বলেছিলেন। যদি শক্তিশালী গ্রাম ভিত্তিক আরেকটি স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে ওঠে তাহলে ইউনিয়ন পরিষদে টাউটদের দৌরাত্ত্ব কমবে। লেখক বলেন,তিনি তার এই গ্রন্থে গ্রামভিত্তিক স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ্এবং ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামোর গঠন পদ্ধতি ও কার্যক্রম কেমন হবে তা সকলের মতামতে ঠিক হবে। লেখক সবশেষে তাঁর গ্রন্থের প্রস্তাবনাকে আরো সমৃদ্ধ করতে প্রোগ্রেসিভ ফোরামের মতো অন্যান্য সংগঠন, ব্যক্তি সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


 সভায় “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার শুরুতে লেখকের গ্রন্থের সার সংক্ষেপ নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রোগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম বলেন,

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম-নজরুল ইসলাম- পুস্তক আলোচনা

পৃষ্ঠাঃ২  গ্রামের সকল সকল প্রাপ্ত বয়স্কদের  ভোটে নির্বাচিত ‘গ্রাম
পরিষদ’ গঠন।গ্রাম পরিষদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে।একদিকে তা স্থানীয় সরকার
কাঠামোর  সর্বনিম্ন ধাপের ভূমিকা পালন করবে; অন্যদিকে  তা সমবায়ী গ্রামের
পরিচালনা পরিষদ হিসেবে কাজ করবে।

পৃষ্ঠা ৩  সমবায়ী গ্রাম গ্রামের সুপ্ত  সম্ভাবনার সর্বোত্তম  বাস্তবায়নের
পথ উন্মোচিত করবে। সমবায়ীকরণের ফলে গ্রামের জমি ও জল সম্পদের  সঙ্গে
গ্রামের শ্রমজীবিরা সম্পৃক্ত হবেন; এবং তার ফলে  এসব সম্পদের যথাযথ
ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যৌথচাষ ছাড়াও  অনুকুল জাতীয় পরিস্থিতি
এবং গ্রামের আভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সাপেক্ষে সীমাবদ্ধ পরিধির  এবং
স্বেচ্ছামূলক ভূমি সংস্কার  এবং প্রগতিশীল এবং  গণমুখী  উদ্যোগ  গ্রহন
সম্ভব হবে, এবং তা গ্রামের  সমবায়ীকরণকে অপেক্ষাকৃত গভীর চরিত্র দিতে
পারবে।

৪পৃষ্ঠাঃ  সমাজতন্ত্রের সমবায়ে সাধারনত জমির উপর ব্যক্তিগত মালিকানা
থাকতোনা,ফলে নিট উতপাদনের প্রায় পুরোটাই শ্রমের ভিত্তিতে বিতরিত হতো।
বিপরীতে, বঙ্গবন্ধুর সমবায়ে জমির উপর ব্যক্তিমালিকানা অক্ষুন্ন ছিল।
ফসলের তিন ভাগ হওয়ার কথা ছিল। একভাগ জমির মালিকানার ভিত্তিতে, একভাগ;
একভাগ শ্রমের ভিত্তিতে;আর একভাগ ‘গ্রাম তহবিল’এর জন্য।এই তহবিল দ্বারা
গ্রামের কল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার  কথা ছিল।

পৃষ্ঠা ৫ ইতিমধ্যে সমাজতন্ত্রের  মডেলের পরিবর্তন ঘটেছে।বিশেষত, গণচীন
এবং ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, নিম্ন মানের উৎপাদিকা শক্তির
কৃষিতে যৌথচাষ সফল করা কঠিন। এমনকি যেসব ‘সমাজতান্ত্রিক’ দেশে কৃষি
প্রযুক্তি উন্নত পর্যায়ে পৌছেছিল,সেসব  দেশেও যৌথচাষ সম্বলিত সমবায়
কাঙ্খিত সাফল্য প্রদর্শন করতে পারেনি। জাতিয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে
বর্তমান পর্যায়ে পুরো গ্রাম-ভিত্তিক যৌথচাষের প্রস্তাবনাটি পরিত্যাগ করাই
শ্রেয়।

পৃষ্ঠা৮ শুধু কৃষি উৎপাদন নয়,বঙ্গবন্ধুর সমবায়  ছিল ‘বহুমুখী সমবায়’।তিনি
গ্রামোন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয়,তথা গ্রামের বাইরের সকল সম্পদও গ্রাম
সমবায়ের মাধ্যমে প্রবাহিত করার কথা ভেবেছিলেন।

পৃষ্ঠা ১৩ সমবায়ের মাধ্যমে  গরিব কৃষকরা  যৌথভাবে উৎপাদন যন্ত্রের
মালিকানা লাভ করবে।অধিকতর উৎপাদন বৃদ্ধি ও ম্পদের সুষম বন্টন ব্যবস্থায়
প্রতিটি ক্ষুদ্র চাষী গনতান্ত্রিক অংশ ও অধিকার পাবে। জোতদার ,ধনী চাষীর
শোষণ থেকে তারা মুক্তি লাভ করবে সমবায়ের সংহত শক্তি দ্বারা।–বঙ্গবন্ধু

পৃষ্ঠা ১৯ ঃ ১৭৯৭ সালে কর্নওয়ালিস বাংলায় চিরস্থায়ী ব্যবস্থা প্রবর্তন
করেন। একটি নির্দিষ্ট খাজনার বিনিময়ে জমির উপর জমিদারদের নিরঙ্কুশ
মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।খাজনা অনাদায়ে ‘সানসেট ল’ তথা ‘সূর্যাস্ত আইনে’
জমিদারি নিলামে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।নবাবী  আমলে বাংলার
জমিদারদের-যাদের বেশিরভাগ ছিলেন মুসলমান-এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ
খাওয়াতে বেগ পেতে হয়। তদুপরি কোম্পানির রাজস্ব সর্বোচ্চ করার উদ্দেশ্যে
জমিদারদের উপর আরোপিত খাজনা বেশ উচ্ছহারেই নির্ধারিত  হয়। এই উভয়বিধ
কারণে এবং সূর্যাস্ত আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলে ক্রমে ক্রমে পূর্বেকার
জমিদারী সমূহ আংশিক কিংবা  সম্পূর্ণভাবে নব্য ধনী
বেনিয়া(ব্যবসায়ী)শ্রেণির হাতে চলে যেতে থাকে,যারা  কিছুটা হলেও বাণিজ্যে
পারদর্শী ছিল। শেষোক্তদের বেশিরভাগ ছিলেন হিন্দু। এভাবেই কালক্রমে বাংলার
(বিশেষত পূর্ব বাংলার) মুসলমান কৃষক শ্রেণির উপর  একটি মূলত হিন্দু
জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।

পৃষ্ঠা ২২  ১৯৪০ সনে ফ্লাউড কমিশন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তথা জমিদারী প্রথা
বাতিল এবং সকল প্রকার মধ্যস্বত্ত্বের বিলোপ সাধনের সুপারিশ করে। তার ঠিক
আগেই শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মহাজনী শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৩৮এ
বঙ্গীয় কৃষি ঋণগ্রস্থ আইন ও তা বাস্তবায়নে ‘ঋণ শালিসী বোর্ড ও খাজনা
বৃদ্ধি ১০ বছরের জন্য স্থগিত করতে ‘বংঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব (সংশোধন) আইন
করেন।

ভূমি সংস্কার ও  জমির সিলিং করার আন্দোলন

১৭৯৭ সালের কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে সামন্ত যুগে জমির
তুলনায় মানুষ কম ছিল। অনেক জমি পতিত প
জমিদারি ব্যবস্থা বা মধ্যস্বত্ত্বার বিলোপ করে যারা প্রকৃত চাষাবাদ করে
ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ সিলিং ধার্য করে বাড়তি জমি চাষীদের
হাতে জমি দেয়ার চিন্তা চেতনা বহু পুরোনো।

পৃষ্ঠা ২২-২৪,  ১৯৪০ সনে ফ্লাউড কমিশন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তথা জমিদারী
প্রথা বাতিল এবং সকল প্রকার মধ্যস্বত্ত্বের বিলোপ সাধনের সুপারিশ করে।
তার ঠিক আগেই শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মহাজনী শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে
১৯৩৮এ বঙ্গীয় কৃষি ঋণগ্রস্থ আইন ও তা বাস্তবায়নে ‘ঋণ শালিসী বোর্ড ও
খাজনা বৃদ্ধি ১০ বছরের জন্য স্থগিত করতে ‘বংঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব (সংশোধন)
আইন করেন।

১৯৫১ সালে ইষ্ট বেঙ্গল  স্টেট  একুইজিশন এন্ড টেন্যান্সি বিল আইনে পরিণত
হয় যা সাধারন ভাবে ‘জমিদারী উচ্ছেদ আইন’ বলে পরিচিত; এই আইনে খোদ কৃষকদের
‘মালিক’ বলে অভিহিত করা হয়;সরকার বা রাষ্ট্রকে রাজস্ব বা জমি-খাজনার
একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করে সকল মধ্যস্বত্ত্ব বাতিল করা হয়। তবে
বর্গা প্রথা বাতিল হয়না। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের ফলে বেশিরভাগ হিন্দু জমিদার
ভারতে অভিগমন এই আইন পাশ করাকে সহজ করে দেয়। এই আইনে আরও ছিল ১০০ বিঘা
সিলিং। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হয়না। ১৯৫৪ সনে  যুক্তফ্রন্টের  ২১ দফাতেও
১০০ বিঘা  সিলিংয়ের দাবিটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট সরকারকে
অচিরেই উচ্ছেদ করা হয়। আইয়ুব আমলে (১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯) সিলিং৩৬৫ বিঘায়
উন্নীত করা হয় ফলে কোন ভূমি সংস্কার বাস্তবায়িত হয় না। ১৯৭০ সালে  আওয়ামী
লীগ কর্মসূচিতে ১০০ বিঘা সিলিং অন্তর্ভুক্ত করে। ১৯৭২ সালের ১৫ আগস্ট
‘বাংলাদেশ জমি মালিকানা(সীমাবদ্ধকরণ) আদেশ জারি হয়।এই আদেশ বলে জমির
মালিকানার উপর ১০০বিঘা সিলিং আরোপিত হয়। এই আদেশ অমান্যকারিদের ৬ বছর
কারাদন্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান
রাখা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভিতরেই প্রতিরোধ দেখা দেয়।
পৃষ্ঠা ৩০ ভূমি সংস্কারের পক্ষে  প্রবল যুক্তি থাকা সত্ত্বেও তা
বাস্তবায়িত হচ্ছেনা কেন ? ভূমি সংস্কারের  পথে দুই ধরণের সমস্যা
বিরাজমান।১।জমি স্বল্পতার সমস্যা ২।প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তি ভারসাম্যের
সমস্যা। এই ২ সমস্যা নিয়ে লেখক ১০ পৃষ্ঠাব্যাপি আলোচনা করেছেন।যাতে
রাশিয়া,চীন, ভিয়েতনাম,কিউবা এবং ২ য় বিশ্বযুদ্ধোত্তর জাপান, কোরিয়া ও
তাইওয়ানের ভূমি সংস্কার যা বিদেশি শাসক শক্তির প্রভাবে করা তা আলোচিত
হয়েছে।


সংস্কারের জন্য প্রয়োজন ভূমি স্বার্থ বিরোধী শক্তির রাজনৈতিক ক্ষমতা।
সেটা হতে পারে সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে কিংবা  ভূমি স্বার্থ বিরোধী
বিদেশি শাসন প্রতিষ্ঠার ফলে। এই শর্ত পূরিত না হওয়ার কারণেই বিশ্বের বহু
দেশে  ভূমি সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর মতো অবিসংবাদিত নেতার
পক্ষেও  বাংলাদেশে ভূমি সংস্কার  বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ৪০ এর দশকে
ময়মনসিংহ,রংপুর,দিনাজপুর,সিলেটে মনিসিংহ, বারীন রায়, এদের নেতৃত্বে
তেভাগা,টংক, নানকার  বিরোধী বিশাল আন্দোলন গড়ে ওঠে। এসব কৃষক আন্দোলন
সমসাময়িক জাতীয়  এবং বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে তেমন সম্পর্কযুক্ত
ছিলনা।পূর্ব বাংলার রাজনীতি তখন  পাকিস্তান আন্দোলনের খাতে প্রবাহিত হয়।
ফলে কৃষকদের বীরত্বপূর্ণ আন্দোলন কোন বৃহত্তর রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক
পরিবর্তন আনতে পারেনা। অচিরেই বাংলাদেশের রাজনীতি ‘বাঙালি জাতিয়তাবাদের
ধারায় অগ্রসর হয়।

বঙ্গবন্ধুর সমবায়ের প্রস্তাব এবং রাজনৈতিক আপোষ

পৃ ৪১-৪৩ বঙ্গবন্ধু একাধারে ক) উৎপাদন বৃদ্ধি খ)গ্রামের ভিতর ন্যায় ও
সমতা প্রতিষ্ঠা গ)জমির মালিকদের রাজনৈতিক বাধা প্রশমন ঘ)গ্রামের পরিধিতে
সমতা এবং জাতীয় পরিধিতে সমতার মধ্যে সঙ্গতি স্থাপন (তেভাগা আন্দোলনের
দাবিও ছিল অর্ধেকের পরিবর্তে ফসলের এক তৃতীয়াংশ পাবে জমির মালিক।)সমবায়
কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি কারো জমি নিয়ে নিচ্ছেন না বঙ্গবন্ধু তাঁর এই
আপোষের প্রতিই জমির মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন।
পৃ ৪৪-৫০ পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আলোচনায় লেখক সমাজতান্ত্রিক
দেশ গুলোর পতন  এবং সোভিয়েত,চীন,ভিয়েতনাম ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর উপর
আলোচনা করে দেখিয়েছেন,এসব দেশে সাধারনভাবে কৃষিতে যৌথ মালিকানা এবং যৌথ
চাষের পরিবর্তে পরিবারভিত্তিক মালিকানা ও চাষের প্রসার ঘটেছে।

পৃ ৫২-৫৫  ভূমি মালিকানা পরিস্থিতি

১৯৬০ সনে গড় জমির জোতের আয়তন ছিল১,৪ হেক্টর ২০০৮ সালে তা কমে ০,৪৬ হেক্টর
হয়েছে। আবাদি জমিহীন গ্রামীন পরিবারের সংখ্যা মোট

পরিবারের  সংখ্যার অনুপাত হিসাবে ১৯৭০ সনে ২০ শতাংশ থেকে ২০০৮ সনে ৪০ %
শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে । এক হেক্টরের কিমি. আবাদী জমি সম্পন্ন পরিবারের
সংখ্যা মোট পরিবারের সংখ্যার

অনুপাত হিসাবে ১৯৮৩-৮৪ সনের ৬২ শতাংশ থেকে ২০০৮ সনে  ৮৬ শতাংশে
পৌছেছে।১৯৭৮ এর জরীপ অনুযায়ী উপরের ৯ শতাংশ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ৪৮ শতাংশ
জমি ছিল।বর্গায় দেয়া জমির

পরিমান১৯৮৮ সালের ১২ শতাংশের তুলনায়২০০৪

সনে ৩২ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।মাত্র এক পঞ্চমাংশ বড় চাষী  আজকাল নিজের জমি
নিজেরাই চাষ করেন।মাঝারি ও বড় চাষীরা যেন কৃষিকাজ একরকম ছেড়েই দিয়েছেন।
অর্থাৎ অর্ধেক  জমির মালিকরা এখন বহুলাংশে খাজনাভোগী(রেন্টিয়ার),

পরজীবি শ্রণিতে পরিণত হয়েছে।

অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক গ্রমীণ পরিবারের কোন আবাদী জমি নেই,এবং দেশের মোট
কৃষি জমির প্রায় তিনভাগের একভাগের বেশি  বিভিন্ন ধরণের বর্গায় চাষ হচ্ছে।
গবেষণা মতে বড় জোতের তুলনায় ছোট জোতের এবং বর্গা জমির তুলনায় নিজ জমির
উৎপাদনশীলতা সাধারণত বেশি হয়। সেজন্য ভূমি সংস্কার প্রয়োজন,সেক্ষেত্রে ২
বাধা রাজনৈতিক  শক্তির ভারসাম্যের সমস্যা এবং জমি স্বল্পতার সমস্যা আজো
আছে বা তীব্র হয়েছে। আগে বর্গার সাধারণ রূপ ছিল ভাগ চাষ।এখন তা চুক্তি
প্রথাতে বিবর্তিত হয়েছে। বর্গাদাররা অর্থের বিনিময়ে জমি ভাড়া নিয়ে নিজেরা
উৎপাদনের সব খরচ বহন করেন এবং পুরো ফসলের অধিকারি হন।
পৃ ৫৭-  সমবায়ী গ্রামের অব্যাহত প্রয়োজনীয়তা
গ্রামের প্রধান সম্পদ হলো জন-জমি-জল।গ্রামের সমবয়ীকরণ জমি এবং জল সম্পদের সঙ্গে সকল

শ্রমজীবিকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করতে পারে। ফলে তা গ্রামের শ্রম
সম্পদের বিভিন্নমুখী বিনিয়োগ এবং নিয়োজনের ক্ষেত্র উন্মোচিত করতে
পারে,এবং গ্রামের জীবনে আমূল ইতিবাচক পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশে
সবচেয়ে দৃশ্যগোচর বিষয় হলো ‘প্রচুর কাজ সম্পাদনের অপেক্ষায় পড়ে আছে,অথচ
প্রচুর লোক কাজ ছাড়া বিচরণ করছে। তাই কিভাবে উৎপাদনশীল কাজ সবচেয়ে শ্রমঘন
পদ্ধতিতে এবং সবচেয়ে কম বাড়তি মজুরী-দ্রব্যাদির প্রয়োজনীয়তা উদ্রেক করে
সম্পাদন করা যায়,নীতি নির্ধারকদের জন্য তা একটি জরুরী প্রশ্ন। কৃষিকাজ
ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন পুঁজি নির্মাণমূলক কাজে,যেমন ভৌতিক অবকাঠামো
নির্মাণে শ্রমের উৎপাদনশীল নিয়োগের বহু এবং  বিভিন্ন  সুযোগ  রয়েছে।
সমবায়ী গ্রামের পক্ষে মূল যুক্তি সমূহ
১।সমবায়ীকরণের  মাধ্যমে গ্রামের জমি ও জল সম্পদের উপর গ্রামের সকলের অংশীদারিত্ব

প্রতিষ্ঠা  দ্বারাই  এ কর্মোদ্যোগ সম্ভব হতে পারে।

২।নদনদী এবং জলাশয়সমূহের সংস্কার এবং উন্নয়ন--সমবায়ীকরণের মাধ্যমে
গ্রামকে নিজস্ব শক্তি ও উদ্যোগের মাধ্যমে এরূপ স্থবিরতা ও চলৎশক্তিহীনতা
থেকে মুক্তি দিতে পারে।দেশের নদ নদী এবং জলাশয়ের  বর্তমান দুরবস্থা এবং

ক্রমবর্ধমান জলাবদ্ধতার জন্য বিদেশিদের পরামর্শে নদ নদীতে বাঁধ দেয়ার
অবরোধ  পন্থাই মূলত দায়ী।

প্লাবন ভূমি এবং নদী খাত –উভয়ের জন্যই এই পন্থা ক্ষতিকর হয়েছে(ব্যাখ্যা)।
৩।নদ-নদী সংস্কার ও পরিচর্যা এবং আন্তগ্রাম সহযোগিতা—বাংলাদেশের জনসংখ্যা
প্রতি বর্গমাইলে ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে।যদি বড় নদ-নদীর আয়তন দেশের মোট আয়তনের
৫% হয় তাহলে তাহলে প্রতি বর্গমাইলে নদীখাতের জন্য ২০,০০০ বাংলাদেশি পাওয়া
সম্ভব।এই বিপুল জন সম্পদ দ্বারা নিশ্চয়ই নদী খাতের এক বর্গমাইল সংস্কার
সম্ভব।

৪ঃ। সমবায়ী গ্রাম এবং বিকল্প নদী কৌশল-বদ্বীপ পরিস্থিতিতে নদীখাত এবং
প্লাবনভূমি একে অপরের পরিপূরক। অথচ বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে অবরোধ
পন্থা বা বেড়ীবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে  প্লাবনভূমিকে নদীখাত থেকে অবরুদ্ধ
বা বিচ্ছিন্ন করে প্লাবন ভূমিকে বন্যা থেকে রক্ষা করা ও বেশি ফসল উৎপন্ন
করা।প্রতিবছর উন্নয়ন বাজেটের ২০ ভাগ এখাতে ব্যয় হয়।দেশের নদ-নদী জলাশয়ের
বর্তমান দুরাবস্থা ও জলাবদ্ধতার জন্য অবরোধ পন্থাই দায়ী। প্লাবন ভূমি ও
নদী খাত উভয়ের জন্যই এই পন্থা ক্ষতিকর হয়েছে।
গ্রামের সমবায়ীকরণ নদ-নদীর প্রতি অবরোধ পন্থা

পরিত্যাগ করে উন্মুক্ত পন্থা গ্রহনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। উন্মুক্ত
পন্থা বাস্তবায়নের জন্য যে বিপুল পরিমান শ্রমের প্রয়োজন হবে,তা গ্রামের
সমবায়ীকরণ  ভিন্ন সংগঠিত করা কঠিন।উন্মুক্ত পন্থাজনিত কর্মকান্ডের ফলে
জমি ও পানি সম্পদের উন্নয়ন হবে।সম্পদ উন্নয়নের কাজে  শ্রম দিতে
শ্রমজীবিরা এগিয়ে আসবেন কারন এসব সম্পদ উন্নয়নের সুফলের ভাগিদার তাঁরাও
হবেন। সুতরাং নদ-নদীর উন্মুক্ত পন্থা বাস্তবায়নের জন্যও গ্রামের
সমবায়ীকরণ প্রয়োজন।শুধু দেশে নয় ভারতেও এই অবরোধ প্রথায় পানি
প্রত্যাহারের নীতি  অনুসরণের কারনে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ ।
৫।জলবায়ু পরিবর্তন ও সমবায়ী গ্রাম- জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের গ্রামের
সমবায়ীকরণের প্রয়োজণীয়তাকে  আরও জরুরী করে তুলেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন- নদ-নদীর প্রতি উন্মুক্ত পন্থা-সমবায়ীগ্রাম।
৬। নিয়োজন এবং বিনিয়োগের অন্যান্য ধারা- উপযোগী  প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর
উপস্থিতিতে গ্রামবাসীরা নিজেরাই স্বনির্ভরতার ভিত্তিতে এসব উদ্যোগ নিতে
পারে।কৃষি ছাড়াও যৌথ বিনিয়োগের দ্বারা হিমাগার,প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে
শিল্প প্রতিষ্ঠা,গ্রামে সোলার প্যানেল,বায়ুচালিত টারবাইন,কম্পিউটার
কেন্দ্র ইত্যাদি স্থাপনেও গ্রাম স্বনির্ভরভাবে উদ্যোগ নিতে পারে।

৭। আন্তঃখাত সংযোগ ,শিল্প,ও বৃহত্তর গ্রামীন অর্থনীতি-

৮। জনসংখ্যা উত্তরণ-জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি বছরে
১৯’২ লক্ষ। সমবায়ী গ্রামে শ্রমজীবি দরিদ্রদের জীবনে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা
বৃদ্ধির ফলে অধিক (পুত্র) সন্তান

গ্রহনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাসের যে প্রবণতা,তা ক্রমে হ্রাস
পাবে। সমবায়ী গ্রামের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাস্তবায়নে
অংশগ্রহনের সুযোগ তাদেরকে একটা নতুন মর্যাদাশীল নতুন অবস্থানে উন্নীত
করবে এবং তা জনসংখ্যা উত্তরণেও সহায়ক হবে।
৯। গ্রামের স্বস্থানভিত্তিক নগরায়ন-কে সুগম করবে। বিদ্যুৎ,
পানি,গ্যাস,পয়নিস্কাশন ইত্যাদি ভৌতিক উপযোগ এবং
শিক্ষা,চিকিৎসা,সাংস্কৃতিক সেবা ইত্যাদি সামাজিক উপযোগ  সৃষ্টি হলে
গ্রামেই মানুষ থাকবে জাপানের মতো।
১০। সমবায়ী গ্রামের অন্যান্য সম্ভাবনা-গ্রামকে যুথবদ্ধ এককে রূপান্তরিত
করা গেলে তা এক নতুন প্রাণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করতে পারে।বিভিন্নমুখী
সহযোগিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত হতে পারে।  এতটুকু পর্যন্ত নজরুল ভাইকে
পাঠিয়েছি ২৩ আগষ্ট রাতে ই মেইলে খ

পৃ ৭১    সমবায়ী গ্রাম ও স্বেচ্ছামূলক ভূমি সংস্কার – এর ক্ষেত্রে জাতীয়
পর্যায়ে ভূমি সংস্কার ও সমবায়ী গ্রামের নিজস্ব উদ্যোগ।– গ্রামের
বিষয়গত(অবজেকটিভ)উদ্যোগ-গ্রামে কি পরিমান জমি লভ্য,কি তার বিতরণ ইত্যাদি
দ্বিতীয়ত বিষয়ীগত(সাবজেকটিভ), অর্থাৎ গ্রামে সচেতনতার মাত্রা
কতটুকু,প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা সম্পন্ন কর্মীদের উপস্থিতি কতটুকু,গ্রামের
শ্রমজীবি ও দরিদ্ররা কতখানি সংগঠিত ইত্যাদির উপর।পাশাপাশি বহিস্থ জাতীয়
পর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি ভারসাম্যও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করবে।গ্রাম কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ যতো বেশি হবে,ততোই
জমি ও জল সম্পদের সঙ্গে  শ্রমজীবিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামের
সমবায়ীকরণ অর্থবহ ও গভীর হবে। এক্ষেত্রে মূল করনীয় হলো গৃহীত নিয়মাবলী
এবং তার বাস্তবায়ন পদ্ধতিকে সকলের নিকট স্বচ্ছ রাখা,এবং গ্রামের সকলের
সমান ভিত্তিতে (গনতান্ত্রিক)অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।ছোট পরিবর্তনের মধ্য
দিয়েই বড় পরিবর্তনের পটভূমি ও পূর্বশর্ত সৃষ্টি হয়।একলাফে বড় পরিবর্তন
কদাচিৎ ঘটে।

পৃ৭৫ সমবায়ী গ্রাম ও গ্রাম তহবিল – সমবায়ী গ্রামে গ্রাম তহবিলের মৌলিক
ভূমিকা।স্বেচ্ছামূলক ভূমি সংস্কার সত্ত্বেও  অনেক ভূমিহীন ও ভূমিস্বল্প
পরিবার জমি পুনর্বিতরনের পরিধির বাইরে থেকে যাবেন।সুতরাং গ্রামের জল ও
জমি সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ গ্রাম তহবিলে জমা হতে হবে।তবেই এসব
সম্পদের উপর যাদের প্রত্যক্ষ মালিকানা নেই তারাও (তথা দরিদ্র শ্রমজীবিরা)
এসব সম্পদের উন্নয়নের কাজে শরীক হওয়ার  প্রণোদনা অনুভব করবে। সেটাই হলো
সমবায়ী গ্রামের সম্ভাবনার চাবিকাঠি।–গ্রামীন জীবনের জন্য তা একটি মৌলিক
পরিবর্তন ডেকে আনার সম্ভাবনা রাখে।(গ্রাম তহবিলের দুই উৎসঃ অভ্যন্তরীণ ও
বহিস্থ সূত্র-ব্যাখা)।–সম্পর্ণত গ্রামের উদ্যোগেও অভ্যন্ত্রীণ সূত্রের আয়
অর্জন সম্ভব।অর্থাৎ ,এ ধরনের আয়ের জন্য বহিস্থ আইনের প্রয়োজন নেই।গ্রামের
সকলের সম্মতির ভিত্তিতে তা অর্জিত হতে পারে।
জমি ও জল সম্পদের উপর চাঁদা সমবায়ী গ্রামের সাফল্যের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ,কারণ এই চাঁদার মাধ্যমেই গ্রামের শ্রমজীবীদের কাছে দৃশ্যমান
হবে যে,তাদের শ্রম নিয়োজনের ফলে সাধিত জমি ও জল সম্পদের উন্নয়নের সুফলের
ভাগিদার তাঁরাও হতে পারছেন। সমবায়ী গ্রামের সাফল্যের চাবিকাঠি এই সংযোগ
প্রতিষ্ঠার মধ্যেই বহুলাংশে নিহিত।

পৃ ৭৮ সমবায়ী গ্রাম কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন ইস্যু—বঙ্গবন্ধুর
সমবায়ী গ্রামের স্বপ্নটি এখনও প্রাসঙ্গিক এবং যৌথচাষের প্রবর্তন ছাড়াও তা
গ্রামের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের
উন্নয়ন প্রক্রিয়ার গনতন্ত্রায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে
পারে।কীভাবে ? --আভ্যন্তরীণ সক্ষমতা-(গ্রামে শিক্ষিত লোকে
উপস্থিতি,যোগাযোগ ও প্রচার মাধ্যমের উন্নতি,জনশক্তি রপ্তানি,ক্ষুদ্রঋণ
কর্মসূচি ও মহিলাদের হিসাব,এন জি ওর উপস্থিতি ও মানুষের সাংগঠনিক
অভিজ্ঞতা।গ্রামের সমবায়ীকরণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি
করতে পারে;সময়ে গ্রামের ইতিবাচক পরিবর্তন জাতীয় পরিস্থিতির উপরও শুভ
প্রভাব ফেলতে পারে।)পর্যায়ক্রমতা- (প্রথমে গুচ্ছ গ্রামে,পাইলট
প্রকল্প,সচেতন ও অগ্রসর,অতীত সংগ্রামের গ্রামে শুরু করা,দক্ষতায়
স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্যত্র প্রসার)।
বৈচিত্র্যের স্বকৃতি—প্রতিটি গ্রামের পরিস্থিতির দিকে নজর দেয়া।

পৃ-৮১ গ্রাম পরিষদ গঠন-সমবায়ী গ্রামের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ-স্থানীয়
সরকার ও অর্থনৈতিক একক বা সমবায়ী গ্রাম পরিষদ।সামাজিক একক হিসেবে গ্রামের
যথার্থতা।
প্রাক ঔপ্নিবেশিক আমল-- ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত-মৌর্য্য
সাম্রাজ্যে,সম্রাটের গ্রাম,কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে গ্রামের
বিবরণ,কারুশিল্পীদের পরে গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া হয়ও শস্য চাঁদা চালু;এভাবে
“স্বয়ংসম্পূর্ণ”  গ্রামের উদ্ভব ঘটে।শ্রম বিভক্তি বর্ণ বিভক্তিতে
পরিণত।গ্রাম পঞ্চায়েত প্রথা খাজনা আদায় ও গ্রামের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব
ছিল।বৃটিশ আমল- ওয়ার্ড-ইউনিয়ন বৃটিশের সৃষ্টি।সিপাহী বিদ্রোহের পর সনাতন
গ্রাম পঞ্চায়েতকে পুনরুজ্জীবিত করে,গ্রাম চৌকিদার নিয়োগ,পাকিস্তান
আমল—কিছুই করেনি গ্রামের জন্য বঙ্গবন্ধু আমল—তিনি জানতেন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড
বৃটিশ সৃষ্ট কৃত্রিম একক-কোন ঐতিহাসিক শেকড় নেই।ইউনিয়নের দুর্নীতিতে
বিক্ষুব্ধ ছিলেন তাই ১৯৭৫ সনে সরাসরি প্রতিগ্রামে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে
সমবায় গঠনের কর্মসূচি ঘোষনা করেন।তারপর বঙ্গবন্ধু হত্যা। জিয়াউর রহমানের
আমল---১৯৮০ সনে “স্বনির্ভর গ্রাম সরকার” বিধিমালা জারি করেন।এতে
“স্বনির্ভর গ্রাম তহবিল” গড়ার বিধান রাখা হয়।৮০ সনে গ্রাম সরকার নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হয়,এবং নির্বাচিত সদস্যদের একটি মহা-সমাবেশ রাজধানী ঢাকায়
অনুষ্ঠিত হয়।এর পর জিয়ার মৃত্যু। এরশাদ আমল—এরশাদ নিজেকে
“পল্লীবন্ধু”হিসেবে জাহির করেন। এবং১৯৮৯ সনে “পল্লী পরিষদ আইন” করেন,তা
কার্যকরী করার আগেই তার পতন হয়।
খালেদা জিয়া সরকার---৯১ তে নির্বাচিত হয়ে “স্থানীয় সরকার কাঠামো
পর্যালোচনা কমিশন” গঠিত হয়। এই কমিশন “গ্রাম সভা” গঠনের সুপারিশ করে।
কিন্তু এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়না।
শেখ হাসিনা সরকার---৯৬ তে ক্ষমতা গ্রহনের পর স্থানীয় সরকার (গ্রাম পরিষদ)
আইন ৯৭ প্রণীত হয়। এতে ওয়ার্ড ভিত্তিতে গ্রাম পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা।
ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেদন পেশকেই মূল কাজ বিবেচনা করা হয়। আইন প্রণীত হলেও
বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
খালেদা জিয়া সরকার ---হাসিনা সরকারের ৯৭ গ্রাম পরিষদ আইন বাতিল করে ২০০৩
সালে  গ্রাম সরকার আইন প্রনয়ন করে। কিন্তু নির্বাচনের পরিবর্তে
“মনোনয়ন”এর বিধান রাখা হয় যার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে
সুপ্রীম কোর্ট ২০০৩ সালে  গ্রাম সরকার আইনকে ‘সংবিধান পরিপন্থী বলে রায়
দেয়।

পৃ-৯২ গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিষয়ক বিভিন্ন প্রস্তাবের
তুলনা—বাংলাদেশে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়ে
আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ঠ ভিত্তি আছে। দেশের সংবিধানে স্থানীয় সরকার বিষয়ে
জোরালো সমর্থন ব্যক্ত হয়েছে। আরো আছে এগুলো গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে
নির্বাচিত হবে এবং এগুলোর এখতিয়ার বেশ সম্প্রসারিত চরিত্রের হবে।
সংবিধানের এই সমর্থনকে ভিত্তি করে গ্রাম পর্যায়ে  গনতান্ত্রিক
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ সহজেই অগ্রসর হতে পারে। স্বাধীনতার
পর প্রায় সব সরকারই গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো  গড়ার কোনো না
কোনো উদ্যোগ গ্রহন করেছে। অর্থাৎ গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
গড়ার বিষয়ে দেশে একটি সাধারণ ঐক্যমত্য আছে।এটাও একটা ইতিবাচক দিক।

স্বাধীনতার পর  গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ার বিভিন্ন উদ্যোগ সন উদ্যোগ গ্রহনকারী সরকার উদ্যোগ

১৯৭৫

বঙ্গবন্ধু

সমবায়ী গ্রাম

১৯৮০

জিয়াউর রহমান

্স্বনির্ভর গ্রাম সরকার

১৯৮৯

হুসেইন মু এরশাদ

পল্লী পরিষদ আইন

১৯৯১

খালেদা জিয়া

গ্রাম সভা গঠনেরসুপারিশ

১৯৯৭

শেখ হাসিনা

গ্রাম পরিষদ আইন

২০০৩

খালেদা জিয়া

গ্রাম সরকার আইন

গ্রাম পরিষদের জন্য ৪ টি প্রস্তাবনাঃ ১। ওয়ার্ড নয় গ্রাম হবে ভৌগলিক ও
সামাজিক একক । ২। গ্রাম পর্যায়ের স্থানীয় সরকারের কাঠামোকে মৌলিক ধাপ
হিসেবে গ্রহন করা।৩।সাধারন মানুষের গনতন্ত্র চর্চার সহজলভ্য সুযোগ দিয়ে
গনতান্ত্রিকতাকে গ্রাম পরিষদ গঠন ও কার্য সম্পাদন।৪। গ্রামকে অর্থনৈতিক
একক হিসেবে স্থানীয় সরকারও সমবায়ী গ্রাম পরিচালনা পরিষদের দ্বৈত ভূমিকা
পালন।

এক্ষেত্রে প্রতিবেশি ভারত ও চীনের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
পৃ ১০০ ভারতের অভিজ্ঞতা –মহাত্মা গান্ধী “গ্রাম স্বরাজ”এর স্বপ্ন
দেখেছিলেন। ভারতে সংবিধানেও রয়েছে যে, “রাজ্য সমূহ গ্রাম পঞ্চায়েত গঠন
করবে এবং তাদেরকে স্বশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব প্রদান
করবে”।এখন ভারতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বেশ সুসংহত হয়েছে।২’৪ লক্ষ পঞ্চায়েত
রয়েছে।মোট প্রতিনিধি সংখ্যা২৮ লক্ষ,যার ৩০ শতাংশের বেশি মহিলা,১৯ শতাংশ
নিচু জাতি বা শিডিউল কাষ্ট,১২শতাংশ শিডিউল ট্রাইব ও অন্যান্য পশ্চাদপদ
কাষ্ট(বেশিরভাগ রাজ্যে)।৫০হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের দৈনিক আয় ব্যয়ের হিসাব
এখন ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।ওমবাটসম্যান,সামাজিক হিসাব-পরীক্ষা,আদর্শ হিসাব
ব্যবস্থা,ইত্যাদির প্রবর্তন পঞ্চায়েতের হিসাব রক্ষনকে  একটি নতুন পর্যায়ে
নিয়ে যাচ্ছে।পঞ্চায়েতের কাজের মূল্যায়নের ইন্টারনেটে প্রচার ভাল কাজকে
উৎসাহিত করছে এবং মন্দ কাজকে নিরুৎসাহিত করছে।এখন পঞ্চায়েতকে আদায়কৃত
করের অংশীদারী করে দিয়েছে।এছাড়া ভাল কাজের জন্য “সম্পাদনা”
(পারফরমেন্স)বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তদুপরি কিছু রাজ্য পঞ্চায়েতসমূহকে
পাঁচটি মন্ত্রনালয়ের ফান্ড,ফাঙ্কসানস এবং ফাঙ্কশানারীর অংশীদারী করে
দিয়েছে। এগুলো হলো  কৃষি,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,সমাজ-কল্যাণ,মহিলা ও শিশু।
“মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ নিয়োজন নিশ্চিত আইন” এবং “পশ্চাদপদ এলাকার
অনুদান তহবিল” বাস্তবায়নে পঞ্চায়ত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করছে।ভারতের উন্নয়নের জন্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সহায়ক বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
লক্ষণীয়,দক্ষিণ এবং পশ্চিম ভারতের অপেক্ষাকৃত উন্নত রাজ্য সমূহে পঞ্চায়েত
ব্যবস্থাও অধিকতর শক্তিশালী।

পৃ ১০৩ চীনের অভিজ্ঞতা—চীনে গ্রাম সরকারের ভূমিকা ভারতের গ্রাম
পঞ্চায়েতের চেয়ে আরও অগ্রসর চরিত্রের।আইন অনুযায়ী  গ্রাম সভায় গ্রাম
নির্বাচন কমিটি কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচনে  প্রত্যক্ষ এবং গোপন ভোটে এবং
প্রকাশ্য ভোট গণনার ভিত্তিতে তিন বছরের জন্য গ্রাম সভার সদস্যদের মধ্য
থেকে “গ্রাম কমিটি” নির্বাচিত হবে। গ্রাম কমিটিকে  স্বশাসনের  মূল
গণ-সংগঠন হিসেবে  বিবেচনা করা হবে, এবং এই কমিটি গ্রাম সভার নিকট দায়বদ্ধ
থাকবে এবং প্রতিবেদন পেশ করবে। গ্রাম কমিটি ৩ থেকে ৭ সদস্য বিশিষ্ট হবে।
একজন চেয়ারম্যান,একজন ভাইস চেয়ারম্যান,বাকীরা সদস্য হবেন। মহিলা এবং
সংখ্যালঘু নৃতাত্বিক গ্রুপ থেকে সদস্য রাখার বিধান আছে। গ্রামবাসীরা শুধু
নির্বাচনের অধিকারী নন এসব সদস্যদের প্রত্যাহারও করতে পারবেন।
নির্বাচকমন্ডলীর (তথা গ্রাম সভার সদস্যদের মধ্যে) এক পঞ্চমাংশ কাউকে
প্রত্যাহারের প্রস্তাব করলে গ্রাম সভায় সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রস্তাব ভোটে
দেবে। গ্রাম কমিটি বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গ্রাম গ্রুপ গঠন করতে
পারবে এবং প্রতি গ্রাম গ্রুপ নিজেদের নেতা নির্বাচিত করতে পারবে। চীনের
গ্রাম সরকারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সমবায়ী
গ্রাম সংক্রান্ত বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নের জন্য যে গ্রাম
পরিষদ গঠন করা দরকার তার এখতিয়ার কিছুটা বিস্তৃত হওয়া দরকার। গ্রাম
পরিষদকে স্থানীয় সরকারের ভূমিকার পাশাপাশি  সমবায়ী গ্রামের পরিচালনা
পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।গ্রাম পরিষদকে ম্যাক্রো বা গ্রামের
পরিধিতে  বিভিন্ন ভৌতিক ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ,উপযোগ সরবরাহ, এবং
উৎপাদন  কার্যক্রম  সংগঠন এবং  পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশের
গ্রাম পরিষদের আইনকে  এমন হতে হবে, যাতে  তারপক্ষে উপর্যুক্ত উদ্যোগ
গ্রহনের  সুযোগ থাকে।
পৃ১১০ সমবায়ী গ্রামের রাজনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং উপসংহার—গ্রাম কর্তৃপক্ষ
মানুষের সবচাইতে নাগালের মধ্যকার প্রতিষ্ঠান হবে। তাদের প্রাত্যহিক
জীবনের সমস্যাবলী  নিয়ে আলোচনা ও সমাধান প্রয়াসে এর বিকল্প নেই।
প্রতিযোগী হওয়ার পরিবর্তে ইউনিয়ন পরিষদ পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে।
--গ্রাম কর্তৃপক্ষের অবস্থান গ্রামের মানুষের অত্যন্ত নাগালের মধ্যে
হওয়ায় তাতে সাধারন মানুষের সংখ্যার শক্তির প্রকাশ অপেক্ষাকৃত সহজ হবে। সে
শক্তির উপর নির্ভর করে গ্রামের সমবায়ী চরিত্রকে আরও গভীরতার দিকে  নিয়ে
যাওয়ার পথ সুগম হবে।এরজন্য প্রয়োজন হবে উপযোগী প্রয়াস ও নেতৃত্বের
-গ্রামের অভ্যন্তরে এবং গ্রামের  বাইরে,স্থানীয় এবং জাতীয়  পর্যায়ে।
বস্তুত সূচনায় গ্রামের সমবায়ীকরণকে একটি পৃথক লক্ষ হিসেবে উপস্থিত করার
প্রয়োজনও নেই।  গ্রাম ভিত্তিক স্থানীয় সরকার গঠন,সেই সরকারের তহবিল
প্রতিষ্ঠা,এই তহবিলের মাধ্যমে বিভিন্ন  উন্নয়নমূলক এবং কল্যানধর্মী
কর্মকান্ডের উদ্যোগ গ্রহন এবং সম্পাদন, ইত্যাদি কাজই  গ্রামকে একটি
সমবায়ী চরিত্র দেবে। এই সমবায়ী চরিত্রকে আরো গভীর করা যায় কিনা,সে
প্রশ্নের উত্তর সময় এবং পরিস্থিতিই নির্ধারন করবে।– এই কর্মসূচির মধ্যে
গোটা জাতির  স্বার্থ নিহিত। গণমানুষের কাছে এই কর্মসূচি তুলে ধরা,এই
কর্মসূচী কীভাবে  গ্রামের মানুষের জীবনের গুনগত ইতিবাচক পরিবর্তন সূচনা
করতে সক্ষম তা পরিস্কার করা,এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে গোটা
জাতির টিকে থাকার সংগ্রামে এই কর্মসূচি কীভাবে সহায়ক হবে তা
যুক্তিনিষ্ঠভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই কাজগুলি যদি উদ্যম সহকারে সঠিকভাবে
করা যায় তবে সমবায়ী গ্রাম এবং গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো
সৃষ্টির দাবীর পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তখন  রাজনৈতিক
দলসমূহ এই জনমতের প্রতি  সম্মান দেখাতে প্রবুদ্ধ হবে এবং গ্রাম পর্যায়ে
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত যে শূণ্যতা বিরাজ করছে তা পূরণে এগিয়ে যাবে।