Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/media/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

যুক্তরাষ্ট্রের খবর

আমিনুল চৌধুরী সভাপতি ও জসিম উদ্দিন সম্পাদক কুমিল্লা সমিতির নতুন কমিটি

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ জ্যাকসন হাইটস্থ হাটবাজার পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা সমিতি আয়োজিত বিজয় দিবস উদযাপন ও সাধারণ সভা । আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জসিম উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এমদাদুল হক কামাল , বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদার , বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য আজাদ বাকির , সংগঠনের সাবেক সভাপতি হাজী আবু তাহের ভুইয়া ,  মনির হোসেন , শাহ আলম , সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিক রহমান দুলাল , সংগঠনের উপদেষ্টা করিম চৌধুরী , মাওলানা কুতুব উদ্দিন মাহ্মুদ , রফিকুল ইসলাম ভুইয়া , কাজী আবদুর রশিদ সহ আরো অনেকে । সভার শুরুতেই করিম চৌধুরী সংগঠনের প্রয়োজনে উপস্থিত সকলের সম্মতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে আমিনুল ইসলাম চৌধুরীকে তৃতীয় বারের মত সভাপতির নাম প্রস্তাব করেন । উপস্থিত সকলেই তা সমর্থন করেন । সাধারন সম্পাদক হিসাবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, সিনিয়র সহ সভাপতি হিসাবে সিরাজুল হক জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে মোঃ এ কাইয়ুম, অর্থ সম্পাদক হিসাবে ওমর ফারক এর নাম প্রস্তাব করলে উপস্থিত সকলেই তা সমর্থন করেন । পরবর্তীতে হাজী আবু তাহের ভুইয়া নির্বাচিত ৫ জনকে পূর্নাঙ্গ কমিটি করার জন্য ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত সময় দেন । আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি কবির হোসেন , খাইরুল ইসলাম খোকন , মনিরুল হক মজুমদার লিটন , নুরে আলম বিপু , নুরুল আলম , নাসির উদ্দিন , আবদুল মতিন প্রমুখ ।

Picture

২০১৮ - ২০১৯ এর পূর্নাঙ্গ কার্যনির্বাহী পরিষদ

সভাপতি  আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি সিরাজুল হক জামাল, সহ সভাপতি  কবির হোসেন, সহ সভাপতি  খয়রুল ইসলাম খোকন, সহ সভাপতি সোলাইমান ভূইয়া, সহ সভাপতি  লিয়াকত আলী, সহ সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, সহ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আমিন, সহ সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম বিপু, সহ সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম, অর্থ সম্পাদক ওমর ফারুক,প্রচার সম্পাদক আব্দুল মতিন, ক্রীড়া সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাসুদরানা রায়হান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাসেল সরকার, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, সমাজকল্যান সম্পাদক কামাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইভা ইসমত পপি, দপ্তর সম্পাদক  আবদুল হক ।
কার্যনির্বাহী সদস্য বদরুল হক আজাদ, ওয়াসীম উদ্দিন ভূইয়া, আকতার হোসেন, আনম আওয়াল, নাজমুল হাসান বাবু,  নুরুল আলম, মাঈন উদ্দিন,  খোরশেদ আলম, শামিমা রহমান রেখা, মোস্তাক আহমেদ, খন্দকার কায়সার আহমেদ,  আব্দুল মালেক,  আবদুল ওহাব রাজু, এসএম সাহরিয়ার আল ফাহাদ ।


যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা : সহস্রাধিক প্রবাসীর টিম যাবে নৌকা প্রতিকের নির্বাচনী প্রচারণায়

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক : ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক হাজারের অধিক প্রবাসীর সমন্বয়ে একটি টিম যাবে ঢাকায় এবং তারা নৌকা প্রতিকের ৫০ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। প্রবাসীদের অর্থেই ভাড়া করা হবে ৫০টি বাস/মিনিবাস এবং সবগুলো একটি মাত্রায় পোস্টার-ব্যানারসহ প্রচারণায় ব্যবহৃত হবে’। ২৯ জানুয়ারি সোমবার সন্ধায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির বৈঠক শেষে এ সংবাদদাতাকে এসব তথ্য জানান সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এই সভার উদ্ধৃতি দিয়ে ড. সিদ্দিক আরো জানান, ‘দলীয় সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সামনের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় ত্বরান্বিত করতে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্্স, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যানসাস, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, আরিজোনা প্রভৃতি অঙ্গরাজ্য থেকে ইতিমধ্যেই আগ্রহী প্রবাসীরা বাংলাদেশে যাবার জন্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। সকলের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। এই প্রচারাভিযান চালাতে উপ-কমিটি গঠন করা হবে। আর যারা সশরীরে বাংলাদেশে যেতে পারবেন না তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ এলাকার নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর জন্যে তহবিল পাঠাবেন এবং পাশাপাশি টেলিফোনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে ভোট চাইবেন। আত্মীয় স্বজনকে উদ্বুদ্ধ করবেন নৌকা প্রতিকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির জন্যে।’

Picture

‘কারণ, সামনের জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম এবং বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে, তার গতি অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিকল্প নেই’-উল্লেখ করেন ড. সিদ্দিক। প্রবাসের এই কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন এবং বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির সমর্থনে প্রবাসীদের সংঘবদ্ধ রাখার অভিপ্রায়ে বেশ কটি উপ-কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এই নেতা। উপ-কমিটিসমূহ প্রবাসে জামাত-শিবিরের সকল অপতৎপরতা রুখে দিতে সদা সোচ্চার থাকবে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে তার সাথে আন্তর্জাতিক বন্ধুদের পরিচিত করার পদক্ষেপ নেবেন।

alt

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয় জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, শামসুদ্দিন আজাদ, লুৎফুল করিম, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আবুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা এবং চন্দন দত্ত, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক এম এ মালেক, কৃষি সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, যুব সম্পাদক মাহাবুর রহমান টুকু, ত্রাণ সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন, শিল্প সম্পাদক ফরিদ আলম, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, আইন সম্পাদক শাহ বখতিয়ার হোসেন, জনসংযোগ সম্পাদক কয়সর আহমেদ, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, আলী হোসেন গজনবী, মিসবাহ আবদিন, আজিজুল হক খোকন, জুয়েল আহমেদ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সহ-সভাপতি হারুন ভ’ইয়া প্রমুখ।

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ জানান, ‘আমেরিকা প্রবাসীদের মত কানাডা, বৃটেন, অষ্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুজিব আদর্শের সৈনিকদেরকেও অনুরোধ জানানো হচ্ছে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিতে নিজ নিজ এলাকায় গমনের জন্যে।’ তবে সকলেই যেন ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারনার সমন্বয় সেলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন।


ফ্লোরিডায় দেশী উইন্টার ফেস্টিভাল সম্পন্ন

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সম্পন্ন হয়েছে দুইদিন ব্যাপী দেশী উইন্টার ফেস্টিভাল। ফ্লোরিডা ঢাকা ক্লাব ও বাংলাদেশ এম্বেসীর যৌথ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ শীতকালীন উৎসব দেশী উইন্টার ফেস্টিভালে অংশ নিয়েছেন ভারত বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডার জনপ্রিয় শিল্পীরা।

Picture

২৭ ও ২৮ জানুয়ারি জানুয়ারি ফ্লোরিডার বায়ন্টন টাইগার থিয়েটারে অনুষ্ঠতি হয়েছে ২ দিনের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় দেশী উইন্টার ফেস্টিভাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক ঢাকা ক্লাব ও বাংলাদেশ এম্বেসীর কর্মকর্তারা। আবহমান বাংলার দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে স্থানীয় ক্ষুদে শিল্পীদের পারফরমেন্স আলোড়িত করে দর্শকদের।

alt

দলমত ভুলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মিলন মেলা হয়ে উঠেছে ফ্লোরিডা দেশী উইন্টার ফেস্টিভাল। ফেস্টিভালে পাসর্ফোট নবায়নসহ দেশের নাগরিকদের ভ্রাম্যমান সেবা দিয়েছেন বাংলাদেশ কন্সুলেট অফিসের কর্মকর্তারা।প্রথম দিনে গান পরিবেশন করেছেন দিনাত জাহান মুন্নি, কৃষনা তিথি, টুটুল, ইমরাল্ড খাঁসহ স্থানীয় শিল্পীরা। শারমিন সোনিয়ার সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় খুদে শিল্পীরা নাচ ও গান পরিবেশন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্লোরিডার পাম বিচ সিটি মেয়র কাউন্সিলম্যানসহ ইলেকটেড অফিসিয়ালরা উপস্থিত ছিলেন।

alt

এছাড়া এনএবিসি’র চেয়ারম্যান দিনাজ খান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উদ্দিন, মেট্রোপলিটন আওয়ামী লীগের আহবায়ক কামাল আহমেদ, ঢাকা ক্লাবের উপদেষ্টা রানা খাঁন উপস্থিত ছিলেন।ফেস্টিভাল উপলক্ষে দেশীয় থ্রিপিচ শাড়ী কাপড়, প্রসাধনী, জুয়েলারী ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা রকম খাবারের স্টল বসে। ফ্লোরিডা ঢাকা ক্লাবের উদ্যোগে ৭ বছর ধরে এই ফেস্টিভাল অনুষ্ঠিত আসছে।নতুন প্রজন্মকে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য শিক্ষা দিতেই প্রতিবছর শীতকালীন এই উৎসবের আয়োজন করে আসছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।


নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় আহত মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের মৃত্যু, জানাজা শেষে মরদেহ দেশে প্রেরণ

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে : নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় আহত বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম গেরিলা মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ্য প্রায় ৪ মাস মৃত্যুর সাথে লড়ে তিনি গত ৩০শে জানুয়ারী সকাল ৮ টায় নিউইয়র্কের সেন্ট জন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে গত ৩১শে জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫ টায় কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ আলম গেরিলার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

Picture

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসুলেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাযা সম্পন্ন করা হয়। জানাযা শেষে মরহুমের আতœার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে এদিন রাত ১১ টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। কুষ্ঠিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, বাংলাদেশ সময় ২রা ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে মরদেহ গ্রহণ করবেন তার বড় মেয়ে জাকিয়া আক্তার। এর পর মিরপুর ১৪ ইব্রাহিমপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাযা শেষে বনানী কবরস্থানে স্ত্রীর কবরের পার্শ্বে তাকে সমাহিত করা হবে।alt

জানাযার নামাজে নিউইয়র্কে বাংলাদেদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন সিদ্দিকি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডাঃ আব্দুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা লাভলু আনসার, মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইনকের উপদেষ্টা মোঃ রাশেদুল আলম, মুন্সী মুর্তজা আলী, আলতাফ হোসেন, ইমদাদুল হক, সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান, সহ সভাপতি মোঃ আবু তালেব, মোঃ সাইদুর রহমান, আঃ রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক মুন্সী সাজেদুর রহমান টেন্টু, মরহুমের নিকট আত্মীয় ফয়সাল হাসান চপল, ডাঃ সায়েদা সরকার, ডাঃ রেজাউল, ইঞ্জিনিয়ার সামিউল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।alt

উল্লেখ্র, কুষ্টিয়ার সন্তান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ আলম গেরিলা গত ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে আটটার সময় জ্যাকসন হাইটস থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতারি কিল ঘুষি মেরে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায়। হামলার পর তিনি অনেকটা অবচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ তাকে প্রথমে কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার আরো অবনতি হলে পরে তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলমহার্স্ট হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয় তাকে। পরে সেন্ট জন হাসপাতালেস্থানান্তর করা হয়। তার ঘাড় ও মাথায় বেশি আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ডাক্তারা জানিয়েছেন, তার ঘাড়ে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার পর সেখান থেকে প্রচন্ড রক্ত ক্ষরণ হয়। সে সময় কুইন্স হাসপাতালে নেওয়ার সময় শাহ আলম পুলিশকে জানিয়েছিলেন কালো লোকরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ওই সময় শাহ আলম পুলিশকে কোন রকমে তার ছোট মেয়ের ফোন নাম্বারটা বলতে পেরেছিলেন। এর পর থেকে তার জ্ঞান আর ফিরেনি। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েই তার করুণ মৃত্যু হয়। এদিকে, বয়:বৃদ্ধ মো. শাহ আলম কেন এ পৈশাসিক হামলার শিকার হয়েছেন এর কারণ কেউ বলতে পারছে না। তবে এ ঘটনাকে কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ হেইট ক্রাইম বলে সন্দেহ করেন।

alt
ভিকটিম মো. শাহ আলমের স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নোভা (১৩) কে নিয়ে তিনি কুইন্সের জ্যামাইকার সাউথ রোড এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী ব্রেইন টিউমারে আত্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বড় মেয়ে জাকিয়া বিবাহিতা। স্বামীর সাথে ঢাকায় বসবাস করেছেন। শাহ আলমের দেশের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতগঞ্জের নজিবপুর গ্রামে। তিনি গেরিলা আলম নামে পরিচিত। চার বছর আগে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। মো. শাহ আলম জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী জিয়া উদ্দিন বাবলুর ভায়রা।


ফিলাডেলফিয়ায় ড. নীনার নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া সিটি এলাকা (কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-পিএ-০১) থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন লড়াইয়ে অবতীর্ণ ড. নীনা আহমেদ বলেছেন, ‘ভাগ্য গড়ার দেশ আমেরিকার নীতি-নির্ধারণে কোন বাংলাদেশি নেই। এই শূন্যতা পূরণ করতে চাই এবং কংগ্রেসে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ানদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে চাই।’

এই আসনের বর্তমান কংগ্রেসম্যান রোবার্ট ব্র্যাডি (Bob Brady) ১৯৯৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই কংগ্রেসম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই। এর ফলে নভেম্বরের নির্বাচনে তার জয়ী হবার কোন সম্ভাবনা নেই বলে ড. নীনা মাঠে নেমেছেন।

Picture

উল্লেখ্য, সাড়ে ৬ লাখ জনঅধ্যুষিত এই এলাকাটির সিংহভাগ ভোটারই ডেমক্র্যাট। অর্থাৎ দলীয় মনোনয়ন পেলেই জয় অনেকটা নিশ্চিত। আরও উল্লেখ্য, এই এলাকার মানুষের ৩৭.১ শ্বেতাঙ্গ। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের হার ৪৯.৫%। এশিয়ান-৪.৯%। ১৫% হলেন হিসপ্যানিক। অর্থাৎ অভিবাসীরা হলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং অশ্বেতাঙ্গরাই হচ্ছেন ড. নীনার ভোট ব্যাংক। দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত এ এলাকার অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কাজ করছেন ড. নীনা। তাকে ফিলাডেলফিয়া সিটি মেয়রের ইমিগ্রেশন কমিশনার এবং সর্বশেষ ডেপুটি মেয়র হিসেবেও অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন দীর্ঘ কয়েক বছর। সেই মেয়াদ ফুরোনোর আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের দিনই তিনি পদত্যাগ করেন। এসব কারণে ফিলাডেলফিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় ড. নীনাকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির নীতি-নির্ধারকরাই প্রার্থী হবার গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় নিউজার্সী রাজ্যের প্রিন্সটনের বাংলাদেশিরা ড. নীনা আহমেদের নির্বাচনী তহবিল গঠনের অনুষ্ঠান করেন। এটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিয়া হেলালি এবং শামসুন হেলালি। সঞ্চালনায় ছিলেন নিউজাসীর্র প্লেইন্স বরো থেকে দুই দুইবার নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান ও বিজ্ঞানী ড. নুরুন্নবী।

অনুষ্ঠানে ড. নীনা তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আসছে মে মাসে প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হবার জন্য আপনাদের সকলের দোয়া এবং সহযোগিতা চাই।

এই আসনের বর্তমান কংগ্রেসম্যান রবার্ট ব্র্যার্ড দীর্ঘ উনিশ বছর যাবৎ আছেন। তার এই উনিশ বছরে ফিলাডেলফিয়ায় সেই রকম উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। এর মধ্যে আবার বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির মামলা চলছে। সব মামলার তদন্ত হচ্ছে-এ অবস্থায় আমি সেই আসনটি ধরে রাখতে চাই-বলেন ড. নীনা।


যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সম্মেলন ১১ মার্চ : প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সম্মেলন আগামী ১১ মার্চ রোববার নিউইয়র্কের গুলশান টেরেসে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ  সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, বিশেষ অতিথি থাকবেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান আহমেদ।

এদিকে, সম্মেলন সফল করার লক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জাসদের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্রঙ্কসে গত ২৯ জানুয়ারী সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র জাসদ নের্তৃবৃন্দ গণসংযোগ করে। এসময় তারা ব্রঙ্কসে বসবাসরত জাসদের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

alt

জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র জাসদ সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম জিকুর পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা তোফায়েল চৌধুরী, জাসদ নেতা শওকত ওসমান লস্কর, আবুল ফজল লিটন, সৈয়দ মোশারফ হোসেন সাহান, শাহনুর কোরেশী, মনসুর আহমদ চৌধুরী, রুহেল চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্মেলন সফল করে তুলতে জাসদের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সহযোগীতা কামনা করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতৃবৃন্দ। সভায় জাসদের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করাসহ সম্মেলন সফল করার লক্ষে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, ওজনপার্ক, এষ্টোরিয়া, লং-অ্যাইল্যান্ড, জ্যাকসন হাইটসে কর্মী সভা ও বিভিন্ন পেশাজীবী নের্তৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান হয়। এছাড়া নিউজার্সিতে বসবাসরত জাসদের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কার্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মতবিনিময় সভা আয়োজনের কথাও জানান বক্তারা। এসময় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সভায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসহ জাসদের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দলীয় সকল কর্মসূচিতে সক্রীয়ভাবে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী।


ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুলের বিরুদ্ধে মামলা মিথ্যা প্রমাণিত

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : গৃহকর্মী নির্যাতন মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে আনা ৩৩টি অভিযোগ মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছেন কুইন্সের অপরাধ আদালতের বিচারক ব্যারি ক্রন। আদালত শাহেদুলের পাসপোর্টও ফেরত দিয়েছেন। শ্রমিক পাচার, গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগে গত বছরের ১২ জুন নিউইয়র্কে নিজ বাসা থেকে শাহেদুলকে গ্রেফতার করা হয়।alt নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে শাহেদুলের পক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি ডেনিয়েল আশরাক। শুনানি শেষে বিচারক ব্যারি ক্রন সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে মামলা থেকে শাহেদুলকে অব্যাহতি দেন। শাহেদুল ইসলাম জানান, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আদালত থেকে আমি অব্যাহতি পেয়েছি। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে- আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ছিল। ৩৩টি অভিযোগই আদালত খারিজ করে দিয়েছেন’। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, এ জন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ’। নিউইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি গৃহকর্মী রুহুল আমিন শ্রমিক পাচার, গৃহকর্মী নির্যাতন এবং মজুরি চাওয়ায় হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে ২০১৬ সালে আদালতে মামলা করেন। এ গৃহকর্মীকে তিনিই বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কে নিয়ে এসেছিলেন। রুহুল আমিন ২৬ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে শাহেদুলের পরিবারে কাজ করেছেন। গৃহকর্মীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ১২ জুন সকালে পুলিশ জ্যামাইকার বাসা থেকে শাহেদুলকে গ্রেফতার করে। ওই দিন শাহেদুলকে কুইন্সের অপরাধ আদালতে তোলা হলে ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলারে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। পর দিন ৫০ হাজার ডলারের বন্ড দিয়ে জামিনে মুক্তি পান শাহেদুল ইসলাম।


যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ছে ফ্লু ভাইরাস

সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষকেরা জানান, গত ১৩ বছরের মাঝে এবছরই এত বড় ধরনের সংক্রমণ দেখা গেল। এই বছরের সবচাইতে ক্ষতিকর ভাইরাসের ধরণটি হলো H3N2। এর ফলে প্রচুর বয়স্ক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এর প্রকোপ কবে কমবে সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না। একদম শিশু এবং বৃদ্ধ মানুষদের ঝুঁকি বেশি বলে জানায় সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) এর গবেষকেরা। এর কারণে শুধু ক্যালিফোর্নিয়াতেই ২৭ জনের মৃত্যু হতে দেখা গেছে। পুরো দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৩টি।

Picture

তারা আরও জানান, ২০০৯ সালের সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের পর সবচাইতে ক্ষতিকর ভাইরাস সংক্রমণ হলো এই মৌসুমের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। একে ইতোমধ্যেই ‘মহামারী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কারণ তা স্বাভাবিকের চাইতে অনেক দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং মানুষকে অনেক বেশি অসুস্থ করে দিচ্ছে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যাবার আগেই তারা অন্যের মাঝে ভাইরাস ছড়াতে পারে। কেউ এই ফ্লু দ্বারা আক্রান্ত হবার পর তার থেকে অন্তত ৬ ফুট দুরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে আক্রান্ত হবার পর যদি দেখা যায় কেউ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত জ্বর থেকে মুক্ত আছেন, তবে ধরে নেওয়া যায় তিনি ভাইরাস থেকে মুক্ত এবং অন্যের মাঝে তা ছড়াবেন না।

ফ্লু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, এই বছর মে মাস পর্যন্ত এই ফ্লু মৌসুম থাকতে পারে। ফ্লু থেকে সুস্থ থাকতে যারা এখনো ইনজেকশন নেননি, তাদেরকে দ্রুত নিতে বলা হচ্ছে। ইনজেকশন নিলে ফ্লু হবার সম্ভাবনা কমে যায়, এবং সংক্রমিত হলেও তাতে অসুস্থতার মাত্রা কম হয়।


আমেরিকা সফর, বাজারদর ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : আমার আমেরিকায় অবস্থানের শেষের অংশটি আর ভ্রমণসমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে নাই মূলত প্রবল শীতের জন্য। শুধু বরফ পড়াই নয়, একদিনে বোস্টন শহরে দেড়  ফুট বরফ পড়ল। আমি যে এলাকায় ছিলাম সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ থেকে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আবার ফিলস লাইক বলে একটি কথা আছে তা আবার আরও ডিগ্রি কম। এরই মধ্যে একদিন যাব ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবান শ্যাম্পেনে কারিশমা আর ড. মেহেদি বখতের আতিথেয়তায়। এই ছোট শহরেই আমাদের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ও সহকর্মী ড. খুরশিদ ভেরাইফ্লো নামের একটি স্টার্টআপ তৈরি করেছে, যাতে তার শিক্ষকেরা একসঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা বিধান করতে। পথে শিকাগো শহরের অদূরে বসবাস করা মাহমুদুর রহমান চৌধুরীর বাসায়। তারা তিন ভাই শিকাগো শহরে  থাকে। মাহমুদ চৌধুরী সিএসই বিভাগের শুরুর দিনগুলোতে শিক্ষকতা করেছেন, একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত করতে শ্রম, মেধা ও  সময় দিয়েছেন। এখনও পঞ্চাশোর্ধ বয়সে কঠিন সমস্যা সমাধানের যে টিনেজ আগ্রহ তা দেখে অবাক হতে হয়। তার আতিথেয়তায় দুই দিন  কাটিয়ে আমার এলাকার মেয়ে জারিনের বাসায় যাওয়ার পথে দেখলাম শেখ মুজিব ওয়ে, যা ১৯৯৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর শিকাগো কাউন্সিলের প্রোসিডিংসের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। আরবানা ও শ্যাম্পেনে এই দুই শহরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো রয়েছে বলে এর নাম ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় এট আরবানা শ্যাম্পেন। দুটি ছোট শহরই এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে গর্বিত।  গাজীপুরের নাম পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়ার লোভ সংবরণ করে ঢাকা শহর অনেক দূরে সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি। আমাদের গাজীপুরবাসী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অনেক  উদার মনের!

এবার আমাদের ভোগপ্রীতি নিয়ে কিছু কথা। আমার বড়ভাই মীর আবুল হোসেনকে ছোটবেলা থেকে দেখেছি বিরামহীনভাবে সেই ১৯৫৯ সাল থেকে দিনলিপি লিখতে। বাসায় বাজারের অভাব, নানা সমস্যা তাই বলে দিনলিপি লেখার সময়ের অভাব ছিল না। ১৯৬৩/৬৪ সালের দিকে একবার কলেরায় আক্রান্ত হলেন। গ্রামদেশে তখন কলেরা মানে নিশ্চিত মৃত্যু। এমন দুরারোগ্য ব্যাধিতে পড়েও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন রোগমুক্ত হওয়ার পর যাতে দিনলিপির জন্য নিজের দেহসংক্রান্ত, পারিবারিক, সামাজিক, আঞ্চলিক, দেশি ও বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের যেন অভাব না ঘটে। রোগমুক্তির পর তা করেছিলেনও। ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুর কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই দিনলিপি লিখে গেছেন। তার দিনলিপি আমাদের সমাজ ও দেশের দৈনন্দিন জীবনের একটি নির্মোহ চালচিত্র ধরে রেখেছে। প্রায় ষাট বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন। এ ছাড়াও মানিকগঞ্জ ও ঢাকাসহ তার কর্মস্থল এলাকার যাতায়াতের ভাড়া ও সময়ের চমৎকার তথ্য তাতে সন্নিহিত রয়েছে। যেমন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম, বই খাতা কলম পেন্সিলের দাম, স্কুলে ভর্তির ফি ইত্যাদি। 

Picture

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জাতীয় তথ্যাদি থাকা সত্বেও যেহেতু দিনলিপিটি ব্যক্তিগত তা থেকে তথ্য ব্যবহারের সুযোগ হয়নি। তবে সৌভাগ্যবশত সেই দিনলিপির জিম্মাদার আমি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বগুড়া এলাকায় পাকবাহিনী ও রাজাকারদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য জীবন বাজি রেখেও তিনি দিনলিপির বস্তা নিয়ে পালিয়েছেন। সেই সময় কিছু মূল্যবান কপি দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাতছাড়া হয়েছে। তার দিনলিপি স্বীয় কর্মস্থল শ্রম পরিদপ্তরে বিশ্বাসযোগ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত ছিল। এমনকি প্রাক-মোবাইল যুগে অফিসের টেলিফোনে প্রতি  কলে তিনি কতটা সময় ব্যয় করেছেন তার খতিয়ানও রয়েছে। এ সকল তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। তার সকল সহপাঠী শুধু নয়, তাদের পরিবার পরিজন সম্পর্কেও ‘সতীর্থ পরিচিতি’ নামক দিনলিপির সংযোজন হিসাবে একটি খণ্ড তৈরি করেছিলেন। আমাদের নিকট-দূর আত্মীয় অনাত্মীয়ের জন্ম, মৃত্যু, বিবাহবার্ষিকীর সব খবর আবার আলাদা করে, যত্ন করে আরেক খণ্ডতে রাখতেন। জীবনের সকল আয় ও ব্যয় কড়ায়-গণ্ডায় লিখে রাখতেন।

যা হোক, তার পাশে থেকে আমার বেড়ে ওঠা। তাই আমিও দিনলিপি লিখেছি কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায়  রাখতে পারিনি। এর জন্য যে অঙ্গীকার দরকার তার অভাব ছিল। তবে বাজার খরচ মোটামুটি লিখেছি। তাই দেশে আসার পর ৮৭ সাল থেকে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বৃদ্ধির কিছু তথ্য আমার কাছে  রয়েছে। সে সম্পর্কে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা রইল যে একজন চাকরিজীবীর জন্য দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তার আর্থিক জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে। যেমন ৮৭ সালে গরুর মাংসের দাম ছিল ৪০ টাকা কেজি, এখন ১২/১৩ গুন বৃদ্ধি পেয়ে তা ৫০০ টাকার উপরে হয়েছে, ফার্মের মুরগির মাংস ছিল ২০ টাকা কেজি, এখন তা ১৬০ টাকা অর্থাৎ আটগুন বেশি। অতি সম্প্রতি সদাশয় সরকারের ঔদার্য্যে চাকরীজীবীদের বেতনের যে আশাতীত উল্লম্ফন হয়েছে (চাকরীহীন যারা ব্যবসায়ী নয় তাদের খবর কে রাখে?), সেই সুবাদে  তারা হয়তো আগের মতো চলছে। তবে সমাজ ভোগোন্মত্ত হওয়ায় আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে ফলে আমরা তুষ্ট হচ্ছি না।

alt

মাহবুব হাসান চৌধুরীর বাসার ভেতরে

প্রতিটি বিদেশ ভ্রমণেই আমাদের এই ভোগী চরিত্রটি আমার কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ভারতে ট্রেনে তিন স্তরে শোয়ার ব্যবস্থা, আমাদের দুই স্তরে। আমাদের জনঘনত্ব ভারতের সাড়ে তিনগুন। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দেশ রাশিয়াতে হোটেলের এক কক্ষে ৮টি খাট দেখেছি আমাদের কয়টি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকি শহরে বাজারে বের হয়েছি। তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি। রাস্তার উল্টো পাশে দেখি অনেক মানুষ একটি বিশাল কক্ষে কাপড় পরিষ্কার করছে ও শুকাচ্ছে। আমাদের মতো ঘরে ঘরে তাদের ওয়াশিং মেশিন নাই তারা এটাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করছে। এদের জনঘনত্ব আমাদের ৩০ গুন। এখানে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বলে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা আছে। যে বাসা যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে ছেলেমেয়েদের  সেখানের স্কুলে পড়াতে হবে। তাই বাড়িঘরের দাম, ভাড়া সবই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওপর নির্ভর করে। যে দেশে ঘরে ঘরে গাড়ি, রাস্তাঘাট দুনিয়ার সেরা সেখানে যেকোনো জায়গায় থেকে যেকোনো স্কুলে পড়ানো যাবে না। আমাদের দেশের মতো নয় টঙ্গি থেকে ভিকারুন্নিসা কিংবা নটরডেমে সন্তানকে ভর্তি করা যায়, যানজটে শহরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত হলেও কোনো অসুবিধা নাই। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকারের অনুশীলন তো করতে হবে। মার্কিনিরা যেখানে ফেলনাযোগ্য বোতলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পুনরায় ব্যবহার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে, শপিং সেন্টারে ও অন্যান্য জনসমাগমের জায়গায় শ্রেণিকৃতভাবে রাবিশ বিন রাখছে সেখানে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে আমদানিকৃত ওয়াশিং মেশিন সম্ভবত এক শতাংশও ব্যবহার করতে পারি না। এখনও কিন্তু বিভিন্ন দেশ ও বৈদেশিক সংস্থার কাছে আমরা  ঋণগ্রস্ত। মার্কিন মুল্লুকে যত জায়গায় ভ্রমণ করলাম আবাসন কার্যক্রম সুপরিকল্পিত। একই ক্যাম্পাসে বাড়িগুলোর মধ্যে পার্থক্য নেই যা আমাদের দেশে দেখা যায়। বিমান থেকে দেখলাম বাড়িঘরগুলো যেন প্রত্যেকেরই ব্যক্তি স্বাধীনতা ভিন্নমতের ওপর তৈরি হয়েছে কোনো সমন্বয় নেই। আমাদের ভূমি ব্যবহারে দেশ-বান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নানাভাবে মাত্রাতিরিক্ত বড় বাড়ি তৈরিকে নিরুৎসাহিত করতে হবে, বহুতল ভবন নির্মাণকে উৎসাহিত করতে হবে। এখনও আমরা মধ্যম নয়, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। আমাদের অর্থনৈতিক আচরণ অবশ্যই আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

বিজ্ঞান-বান্ধব মিটার কিলোগ্রামের হিসাব সারা পৃথিবীতে চললেও এখানে এখনও পাউন্ড ফুটের হিসাব। কেজির হিসাবে লবনের দাম ৮০ টাকা, পেঁয়াজের দামে ৮০ টাকা, মসুরের ডাল ১৩০ টাকা, ফার্মের মুরগির মাংস ১৬০ টাকা, ডিমের হালি ৩০ টাকা, দুধের দাম ৪০ টাকা লিটার, বস্তায় চাল কিনলে ৮০/৯০ টাকা কেজি, পেট্রোলের দাম ৫০/৬০ টাকা লিটার। একটি পিৎজার দামও আমাদের দেশের সমান। মান ভেদে এ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম আরও বেশি হতে পারে। ২০১৫ সালে আমাদের ক্রয়ক্ষমতা (পিপিপি) সূচক যেখানে ৩,৮০০ ডলার সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তা ৫৮,০০০ ডলার অর্থাৎ ১৫/১৬ গুন বেশি। আর দ্রব্যমূল্য প্রায় সমান সমান। সুতরাং আমাদের মধ্যে ভোগের মনোবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করা উচিত।সকল আমদানিকৃত দ্রব্যের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা উচিত। ২০১৪ সালের হিসাবে ভারতের পিপিপি ৫,৬০০ ডলার, পাকিস্তানের ৫,০০০ আর বাংলাদেশের ৩,৩৪০। ১৯৯০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিপিপি ছিল ২৪,০০০। ২৫ বছরে আড়াই গুন বেড়েছে, আমাদের বেড়েছে প্রায় চারগুন যা আমাদের জন্য ইতিবাচক। এবার আমেরিকা এসে জানতে পারলাম চীন ও ভারত থেকে আসা অনেক ছাত্রই দেশে ফিরে যাচ্ছে। এই তথ্যটি ভারত ও চীনের অগ্রগতির সূচক। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ছাত্রদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটবে। অবশ্য আরও কিছু কথা না বললেই নয়। একবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লস এঞ্জেলস শহরে নাকি লুটপাট হয়েছিল। আমেরিকার জনঘনত্ব আমাদের ৩০ গুন কম। আমাদের জনঘনত্বে আমেরিকার জনসংখ্যা হতো পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যার দেড় গুনেরও বেশি। ওই রকম জনসংখ্যা হলে আমেরিকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি, মূল্যবোধ আমাদের থেকে কি ভালো হতো? শুধু তাই নয় সমগ্র পৃথিবীর সবচেয়ে পরাক্রমশালী বিত্তশালী দেশ বিনা বেতনে তার নাগরিকদের উচ্চশিক্ষা দিতে না পারলেও সীমিত সম্পদ অসীম চাহিদার বাংলাদেশ তা ঠিকই করছে। শুধু তা-ই নয় এই স্নাতকেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদানও রাখছে! বিখ্যাত চেইন স্টোর ওয়ালমার্টে যেয়ে বাংলাদেশে তৈরি টেরি ব্লু ল্যাবেলের পোশাকাদি দেখে গর্ববোধ হলো।  

alt

অপর্না ও মুক্তির বাসায় সারপ্রাইজ জন্মদিন পালন

প্রায়শই আমরা দেশে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি করে থাকি। এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কেনেডির একটি বাণী বহুলভাবে উদ্ধৃত, ‘তোমার দেশ তোমাকে কী দিতে পারে এ কথাটি জিজ্ঞাসা না করে বরং জিজ্ঞাসা করো তুমি দেশকে কী দিতে পারবে’। ভারত বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের অধিক আয় করছে, আর আমরা যে কত করছি তা বলা মুশকিল। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখলাম ২০১৫/১৬ সালে আমরা ১৫০ মিলিয়ন আয়ের কথা দম্ভের সঙ্গে জানিয়েছি, ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা বলা হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন। কোথায়ও বলা হয়েছে ২০০৫/৬ সালে ২৫ মিলিয়ন। অবশ্য নানা সময়ে প্রকাশিত রিপোর্টগুলো যে তথ্যনির্ভর নয় তা অতি সহজেই বোঝা যায়।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ের মাপকাঠিতে ভারতীয় সিংহের তুলনায় আমরা বিড়াল নয় রীতিমত ইঁদুর, যদিও আমাদের ছাত্ররা তাদের প্রোগ্রামিং শ্রেষ্ঠত্ব বারবার প্রমাণ করেছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি খাতে ভারতের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। আমাদের এই খাতে গত ৩০ বছরের নেতৃত্বকে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায় তা চিন্তার বিষয়। নানা সময়ে সরকারকে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে কম্পিউটার সামগ্রী থেকে কর ভ্যাট মওকুফ, ট্যাক্স হলিডে, আইসিটি ইনকিউবেটর স্থাপন, ইইএফ ফান্ড, সিলিকন ভ্যালিতে শেয়ার্ড অফিস খোলা আরও কত কী। আমাদের বিগত কর্মসূচিসমূহের নির্মোহ, নৈর্ব্যক্তিক মূল্যায়ন করে অগ্রসর হওয়া উচিত। সীমিত সম্পদের দেশের অর্থের অপচয় কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্য কিংবা উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তরের চাবিকাঠি হলো শিক্ষা, যাকে গুরুত্বহীন রেখে যে উন্নয়ন আশা করা যায় না তা মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও ভিয়েতনামের সাপেক্ষে আমাদের উন্নয়নের মাত্রা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। অবকাঠামোর পেছনে ব্যয় করার আগে যাচাই করা উচিত এত দিনের বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত সফলতা এনে দিয়েছে কিনা। আমাদের তরুণেরা যথেষ্ট উদ্যমী, তাদের ব্যবহার করে কীভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যায় তার কার্যকর কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে এবং তা যোগ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান দক্ষতাসমৃদ্ধ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে।


নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই মিলিয়ন ডলার পেলেন এক প্রবাসী বাংলাদেশী

সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : এটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগিতায় দুই মিলিয়ন ডলার (১৬ কোটি টাকা) পেলেন নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক বাংলাদেশী। মামলার বিবরণে জানা যায়, বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান এবং নিউইয়র্কে বসবাসরত এই প্রবাসী ২০১৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির পার্ক এ্যান্ড রিক্রিয়েশনের গাড়ির সাথে তার চালানো উবারের সংঘর্ষ হয়। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলে। দুর্ঘটনার পরই প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্যে নিউইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়।

দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের এটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগী ল’ ফার্ম একই বছরের ১৮ জুলাই মামলাটি দায়েরের পর তা পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। মামলা চলার মধ্যেই আহত বাংলাদেশীর শরীরে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়। আদালতে শুনানীর সময় নিউইয়র্ক সিটি নিযুক্ত এটর্নিরা তাদের ড্রাইভারের গ্রিন লাইট ছিল বলে দায় অস্বীকার করতে থাকেন।

Picture

এটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগীরা সর্বক্ষেত্রে তাদের মক্কেলের কথা বিশ্বাস করে তার পক্ষে ট্রায়ালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত বছরের আগষ্টে লাগাতার শুনানীর এক পর্যায়ে নিউইয়র্ক সিটির ল’ ফার্ম দুই মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়ে মামলার নিষ্পত্তির অনুরোধ করে। এরপরই এটর্নি চৌধুরীর সহযোগী এটর্নি এবং আহত বাংলাদেশী সন্তুষ্ট হয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।


২৬ জানুয়ারি শুক্রবার অপরাহ্নে এটর্নি মঈন চৌধুরী এ সংবাদদাতাকে জানান, ‘আমাদের মক্কেল গত সপ্তাহে ক্ষতিপূরণের চেক পেয়েছেন।’ ‘প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনেকেই গাড়ি দুর্ঘটনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যথাযথ আইনী পরামর্শ পেলে অবশ্যই মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ আদায়ে সক্ষম হন। গত দেড় দশকে এমন অনেক বাংলাদেশী আমাদের ল’ ফার্মের সহায়তা নিয়ে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে সক্ষম হন।’


যুক্তরাষ্ট্রে ৪৯০ বাংলাদেশী তরুণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

ছোটবেলায় মা-বাবার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে যারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন, ওবামার শাসনামলে তাদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকা ও কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। এমন অভিবাসীর সংখ্যা ছিল সাত লাখ। ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস’ (ডাকা) প্রকল্পের আওতায় তাদের ওই সুযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি বাতিল করেন ট্রাম্প। চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান খুঁজে বের করতে কংগ্রেসকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। যদিও জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে সান ফ্রান্সিসকোর একটি আদালত তাদের রায়ে ‘ডাকা’ নবায়নের আবেদন গ্রহণ ও এই প্রকল্পের আওতায় কাজের অনুমোদন দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

Picture

রায় পরিবর্তন চেয়ে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে যারা ওই প্রকল্পের আওতায় এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করে আসছিলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাতিন আমেরিকা ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই অনেকে স্বপ্ন নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এদের মধ্যে আছে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ-তরুণীরাও। মার্কিন সরকারের তথ্যমতে, বর্তমানে ৪৯০ বাংলাদেশী তরুণ-তরুণী ‘ডাকা’ প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। এছাড়া ভারতের আছে দুই হাজার ৬৪০ জন ও পাকিস্তানের আছে এক হাজার ৩৪০ জন।

বাংলাদেশ থেকে ছোটবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়া নাইম ইসলাম জানান, ছোটবেলায় ভ্রমণ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায় তার পরিবার। সেখানে তিনি অ-তালিকাভুক্ত অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছিলেন। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এটি ছিল তাদের কাছে একটি টিকিট। কিন্তু এখন দেশে ফিরে আসার ভয় নিয়ে বাস করতে হচ্ছে তাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কারণে ১৮ বছর ধরে বাবাকে দেখতে পাননি নাইম। শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। তখনও দেখার সুযোগ হয়নি। সম্প্রতি একটি কলেজ থেকে জীববিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছেন নাইম। তিনি বলেন, ‘কাগজপত্র ছাড়া আমি আমার মা-বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো না।’ তার মতো সবাই সেখানে ‘অসহায় ও অক্ষম’ বোধ করছেন বলেও জানান নাইম।

‘ডাকা’ সুবিধা পাওয়া বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছোটবেলায় ভ্রমণ ভিসা নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। এরপর কোনো ব্যবস্থা করে তাদের সেখানে রেখে চলে আসেন মা-বাবা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে এভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া অভিবাসীর সংখ্যা মার্কিন সরকারি হিসাবের চেয়ে আরো বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৩ বছর বয়সে এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে যান পাকিস্তানি তরুণ শাহবাজ। তিনিও একই সুবিধা নিয়ে বাস করছিলেন সেখানে। পাকিস্তানি এই তরুণ জানান, আগে ডাকা নবায়নের জন্য আবেদন করলে ১৫ মিনিটের মধ্যে তা হয়ে যেতো। কিন্তু এখন বিশেষ করে মুসলিমদের ক্ষেত্রে তা বিলম্ব করা হচ্ছে। শাহবাজের ভাষায়, ‘মুসলিম ও পাকিস্তানি বলে আমার ক্ষেত্রে তা অনেক বিলম্বিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমার এক বন্ধুর মা-বাবাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভয়ে সে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে পারেনি।’ ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রেও ঘটছে একই ঘটনা। এ নিয়ে আন্দোলনও করে যাচ্ছে দক্ষিণ এশীয়রা।