Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

টরন্টোতে নির্মিতব্য শহিদ মিনার এবং কিছু ভাবনা

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

টরন্টোতে একটি স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করার জন্য ‘অর্গানাইজেশন ফর টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে মনুমেন্ট ইনক (OTIMLD)’ নামে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা হয় তিন বৎসর আগে। এই সংগঠনটির কর্মকর্তারা গত তিন বছর যাবৎ বিভিন্ন প্রচেষ্টায় তাদের মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে এবং দেন দরবার করে কানাডিয়ান সরকারের কাছ থেকে স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য একখণ্ড জমির বন্দোবস্ত পায়। বলা যেতে পারে স্থায়ী শহিদ মিনারের Planning & Designing পর্ব ভালভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। সামনে আসছে Implementation, Execution, 21st Celebration, এবং Maitenance পর্ব। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এমন অভাবনীয় একটা অবদান ও সাফল্যের জন্য এই সংগঠনের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

Picture
কিন্তু দুঃখের বিষয় বাঙালি কমিউনিটির সে আনন্দ বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হল না, সংগঠনের কেউ কেউ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে দুই স্থানে কমিউনিটির সবাইকে মতবিনিময় সভার ডাক দেয়। প্রথম সভায় গিয়ে আমার ফ্রাস্ট্রেশন থেকে দু চারটে কথা বলার লোভ সামলাতে পারি নাই। কিন্তু অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক প্রোগ্রাম থাকায় দ্বিতীয়টিতে উপস্থিত হইতে পারি নাই। আশা করি ১ম ও ২য় মিটিংয়ের আউটকাম আমাদের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে। আমরা এক সাথে কাজ করতে গেলে ভুল ভ্রান্তি হবেই এবং ডিজ এগ্রিমেন্ট হতেই পারে, তাই বলে কি OTIMLD এর এই দুর্বল মুহূর্তে আমরা তাদের থেকে আমাদের মুখ ফিরিয়ে নিব? তাদের এই অসাধারণ এক অর্জন কি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে? যেহেতু স্থায়ি শহিদ মিনার নির্মাণ গ্রেটার টরন্টোবাসির অনেক দিনের আকাঙ্খা এবং তাদের প্রাণের দাবি, আসুন আমরা সবাই সব কিছু ভুলে প্রকৃত সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসি। এ ব্যপারে আমার একান্ত ব্যক্তিগত কয়েকটি প্রস্তাব সবার অবগতির জন্য নিম্নে তুলে ধরছি-
১। OTIMLD এর সকল সদস্যগন তাদের আভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে আপনাদের ইঊনিটি কমিউনিটির সামনে তুলে ধরুন এবং আপনাদের পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কমিউনিটিকে অবহিত করুন।
২। কমিউনিটি থেকে আরো কিছু নিরপেক্ষ, পেশাজীবী, নেতৃস্থানীয় এবং কমিউনিটি সার্ভিসে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গকে OTIMLD এর সাথে সমন্বয় করে Implementation/Execution পর্বের জন্য মনোনীত করা যেতে পারে। এই নতুন মুখদের ভিতরে সর্বাগ্রে একজনের নাম আসা উচিৎ, যিনি বিগত অনেক বছর যাবৎ এই টরন্টোতে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পাশে একুশ উদযাপনের সার্বিক ব্যবস্থাদি করে আসছেন।
৩। নতুন সদস্য সংখ্যা ৭, ১১ বা ১৫ পর্যন্ত করা যেতে পারে।
৪। কমিউনিটির নেতৃস্থানীয়দের সংযুক্ত করার অভিপ্রায়ে একটি ২১শে উদযাপন’ কমিটি করা যেতে পারে, যেখানে বাহিরের আরো কিছু সদস্য যোগ করা যেতে পারে।
৫। কমিউনিটির নেতৃস্থানীয়দের সংযুক্ত করার অভিপ্রায়ে ‘শহিদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণ’ এর জন্য একটি কমিটি করা যেতে পারে।
আমার উপরের কোন প্রস্তাব গ্রহণ না করেও যদি আমাদের ভালবাসার শহিদ মিনার নির্মাণ করা যায় তাহলেও আমার বা আমাদের একান্ত সহযোগিতা থাকবে বলে ওয়াদা করছি। কিন্তু শহিদ মিনার এই টরন্টোর মাটিতে হতেই হবে…
নওশের আলী,  সাধারণ সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন কানাডা


আমরা কী জহির রায়হানকে ভুলে গেলাম!

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাংলা চলচ্চিত্রের মেধাবি কিংবদন্তি পরিচালক জহির রায়হানের ৪৪ তম অন্তর্ধান দিবস ছিল মঙ্গলবার। দিবসটি নিয়ে মাথাব্যাথা তো দূরের কথা দিনটির কথাই যেন ভুলে বসে আছে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার। প্রতিবার এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবে দিবসটি নিয়ে ছোটো-খাটো আয়োজন দেখা গেলেও এবারের চিত্রটা একেবারেই বিচিত্র।

জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবসে এফডিসি আজ যেন আজ নিরব, স্তব্ধ আর নিরেট হয়ে পড়ে আছে। জনমানবহীন এফডিসিতে কেবলই হাহাকার বিরাজ করছে। শোকের বদলে হই-হুল্লোরে মেতে উঠেছে চলচ্চিত্র পরিবার। এফডিসি ছেড়ে গাজীপুরে উল্লাস-উদ্দীপনায় কাটছে চলচ্চিত্রের সকল শিল্পী এবং কলাকুশলীদের।

জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবসেই এবার উদযাপন হচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বার্ষিক বনভোজন। চলচ্চিত্রের রেকর্ড সংখ্যক তারকা এবং শিল্পীদের মহা সমাবেশ হচ্ছে আজ। দিনভর সেখানে নাচ, গান এবং খেলাধূলার আয়োজন থাকলেও জহির রায়হানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন করার সময়ই যেন ছিল না কারও।

Picture

জহির রায়হানের চলচ্চিত্র জীবন

শুরুতেই জহির রায়হান সম্পর্কে একটু জেনে নিই। জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার সাহিত্যিক ও সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। ১৯৫০ সালে তিনি যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতেও কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ’ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে, জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে।

তিনি সালাউদ্দীনের ছবি যে নদী মরুপথেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাকে এ দেশ তোমার আমার এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান; জহির এ ছবির নামসঙ্গীত রচনা করেছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি রূপালী জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কখনো আসেনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেন। জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যার ছাপ দেখতে পাওয়া যায় তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়াতে। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। কলকাতায় তার নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়ার বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এবং চলচ্চিটি দেখে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা এবং ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ ভূয়সী প্রশংসা করেন। সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চল”িচত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র

১৯৫৭ সালে ‘জাগো হুয়া সবেরা’ দিয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি নির্মাণ করেন উর্দুতে পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। এরপর ‘বরফ গলা নদী’, ‘শেষ বিকালের মেয়ে’, ‘আর কত দিন’, ‘তৃষ্ণা’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘জীবন থেকে নেয়া, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘স্টপ জেনোসাইড’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। পরিচালনার পাশাপাশি ছবি প্রযোজনাতে তাকে পাওয়া গেছে। তার প্রযোজনায় নির্মিত হয় মনের মতো বউ, জুলেখা, দুই ভাই, সংসার, শেষ পর্যন্ত এবং প্রতিশোধ।

জন্ম, অন্তর্ধান এবং মৃত্যু

জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি তার পরিবারের সাথে কলকাতা হতে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্থানান্তরিত হন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দু’বার বিয়ে করেন: ১৯৬১ সালে সুমিতা দেবীকে এবং ১৯৬৬ সালে তিনি সুচন্দাকে বিয়ে করেন, দুজনেই ছিলেন সে সময়কার বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
জহির রায়হান দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ এর ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন এবং তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে শুরু করেন, যিনি স্বাধীনতার ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানী আর্মির এদেশীয় দোসর আল বদর বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হয়েছিলেন। জহির রায়হান ভাইয়ের সন্ধানে মীরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেন নি। ১৯৭২ এর ৩০ জানুয়ারির পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়না। মীরপুর ছিল ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত বিহারী অধ্যুষিত এলাকা এবং এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে সেদিন বিহারীরা ও ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশীদের ওপর গুলি চালালে তিনি নিহত হন।

(সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)


প্রজাতন্ত্র দিবসে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিজেপি সরকারের।আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

ভারতীয় রাজনীতির মূলধারা সাম্প্রদায়িক আক্রমণাত্নক।তাই প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার একই সময় সরকার দলীয় বা সরকারী রাজনীতি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কার্যকারিতা ও আনুষ্ঠানিকতা উদযাপন করেছে উত্তর প্রদেশে।রাজনীতি তার নিজের বৈশিষ্ট্যেই নিজনিজ নীতি কৌশল নির্ধারণ করে,অপরাপর সমাজশক্তির অনুমোদন সেক্ষেত্রে তুচ্ছ হয়ে যায়।এই বাস্তবতা মেনে নেবার মানসিকতাসম্পন্ন হয়েই ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রতি সম্মান জানাচ্ছি।
 
প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতীয় জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে ম্যানহাটনের মাউন্ট সাইনাই হাসপাতালের সেভেন  সেন্টারে ২০৬ নং কক্ষে বিছানায় শুয়ে শুয়েই কম্পিউটার কম্পোজ করছি।ডান পা’র গোড়ালিতে ব্যথার চাপ চলছে ক্যাথারিজেশন হয়েছে বলে।আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকের মধ্যে আন্তরিকতার আন্তর্জাতিকতা থাকতেই পারে।আমারও আছে।ভারত আমার প্রতিবেশী রাষ্ট্র।একটা রাষ্ট্রের গৌরববোধে অংশীদার হওয়া সেদেশের  মানুষদের আত্নসম্মানের প্রতি  সম্মান দেয়ার চেতনাগত দায়িত্বকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা বলেই আমরা জেনে এসেছি।২৬জানুয়ারী ভারতের ৬৯তমপ্রজাতন্ত্র দিবস।দিনটি শুক্রবার।অনেক বাস্তবকারণে বাংলাদেশীদের মধ্যে ইদানিং ভারতের এসব গৌরব নিয়ে আগ্রহ খুব একটা আর দেখা যায়না।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আমাদেরই এক পূর্বপুরুষ কমরেড মুহাম্মদ মুজফফর আহম্মদ অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের একজন ছিলেন।ভারতীয় কম্যুনিষ্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের মানুষটি বাংলাদেশের সন্দ্বীপে জন্মগ্রহন করেন।মাষ্টারদা সূর্য্যসেন সহ অনেক বীরবাঙালি বৃটিশ-বিরোধী বিদ্রোহে চট্টগ্রামে অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াই করার ইতিহাস রেখে গেছেন।তার অনুসারী সেন বংশের কয়েকজন বীরের জন্মস্থানও সন্দ্বীপে। এসব নানা কথা মনে করেই ভারতের ইতিহাসের এই মহান পর্যায়ের স্মরণে আজকের এই রাত্রিযাপন।এই রাত্রিযাপন আমার শরীরের জন্যে বিপজ্জনক জেনেও এই ঝুঁকি আমি নিলাম।  
ভারতে এবারের অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী ১০জন রাষ্ট্রপ্রধানকে বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া,মালয়েশিয়া,ব্রুনাই,  ইন্দোনেশিয়া,মালয়েশিয়া,ব্রুনাই,থাইল্যান্ড ভিয়েতনাম,ফিলিপাইন,সিঙ্গাপুর,মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং লাওসের রাষ্ট্র প্রধানদেরকে আমন্ত্রণ করে লাল গালিচা সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছে।এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের সামরিক শক্তির পাশাপাশি সংস্কৃতি এবং উন্নয়নের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বিশেষ প্যারেড প্রদর্শন করা হয়েছে।সামরিক বাহিনী,আধা সামরিক বাহিনী,সীমান্ত রক্ষীবাহিনী,উপকূলরক্ষী বাহিনী,ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ,দিল্লী পুলিশ ও জাতীইয় সমর শিক্ষার্থী বাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপের কুচকাওয়াজ দেখানো হয়েছে এই অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে। এই দিবসের কুচকাওয়াজে প্রেসিডেণ্ট রামনাথ কোবিন্দ সামরিক অভিবাদন গ্রহন করেন।প্রধানমন্ত্রী বিজেপির প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট চিলেন উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে অন্যতম।
 
এদিকে ভারতের উত্তর প্রদেশে বিজেপি শাসিত সরকার সাম্প্রাদ্যিক উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোফ আসছে।এতে দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছে।মুসলমান হত্যার রাজনীতি কার্যকরের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা চলছে।মুসলমানদেরকে সরকারীভাবে দুর্বৃরূপে পরিচিত করিয়ে তাদেরকে খুঁজে খুঁজে গ্রেফতার ও হত্যার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন চলছে।সরকারের গোয়েন্দা সহ সরাকার দলীয় নির্দ্দিষ্ট লোকরা নাদরাই গেট এলাকায় রোববার ২৮জানুয়ারী আগুণ ধরিয়ে দেয় বলে জানাগেছে।এসব আগুণের দায় মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের উপর চাপ সৃষ্টির পরিস্থিতি হড়ে তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই পরিস্থিতি দেখা শোনা করছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
 
এসব গোলযোগপূর্ণ এলাকায় ১৪৪ধারা জারিসহ ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।কথিত দুর্বৃত্তদের উপর নজরদারির জন্যে ড্রোনের সাহায্য নেয়া হচ্ছে।জেলা প্রশাসক আর পি সিং বলেছেন,কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে।ষড়যন্ত্র করেই গোলযোগ করা হচ্ছে।জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্যকে বিতর্কিত বলছেন অনেকে।সরকারের রাজনৈতিক কর্মধারার সমর্থনেই তিনি চাকরি করছেন বলে প্রজাতন্ত্রের নিরপেক্ষতা রক্ষা তাদের দ্বারা সম্ভব হচ্ছেনা।
শুক্রবার প্রজাতন্ত্র দিবসে উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ কর্মীরা মথুরা-বেরেসি মহাসড়কে মোটর সাইকেলে করে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ বের করে।এসময় বাদু নগর এলাকায় উত্তেজক শ্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি ওবিবাদ শুরু হয়।তার জের ধরে হিন্দু ও মুসলিম দ’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।ব্যস,এতেই হয়ে গেলো উত্তেজনার সূচনা।উত্তেজনা ভাংচুর ও অগ্নিসংসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা নিয়ন্ত্রনের বাইরে ঠেলে দেয়া হয়।কারফিউ দেয় সরকার।
 
ঘটনার উৎপত্তি বুঝা যায় সরকারের প্রশাসনের কেউ সত্য কথা বলে দেয়ার পর।কাসগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাকেশ কুমার জানান, তিরিঙ্গা যাত্রা বের করতে সরকারের অনুমতি নেয়া হয়নি।বিশ্লেষকরা বলছেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা রাজনৈতিক সরকারের প্ররোচনা ও নির্দ্দেশনায় কর্মসূচী বের করেছেন বিধায় প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি।অনুমতি নেয়া হলে তো আর সংঘর্ষ হত্না। সরকারের নীতি নির্ধারকদের দরকার তো মুসলমানদের সাথে একটা সামান্য সংঘর্ষ,যা দিয়ে তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিদ্বেষ কার্যকর করবার সুযোগ নেবেন।প্রশাসনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে।   
মজার ব্যাপার হচ্ছে, হিন্দু অধ্যুষিত ভারতের এই আগুণপথের যাত্রায় অপর রাজনোতিক দলগুলো প্রকাশ্য সরাসরি বাধা দিচ্ছেনা। এই পথে বাধা দিতে পারে আদর্শবাদী দলগুলো।আদর্শ যেহেতু বাজারে পণ্যের দামে ক্রয় বিক্রয় হয়,তাই যেশ জাহান্নামে যাক্‌, রাজনৈতিক ফায়দার দিকেই লক্ষ্য হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর।
পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগার ও জনশিক্ষা প্রসার দফতরের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী প্রতিবাদ করেছেন।তিনি বিদেশী রেডিওকে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “প্রশাসন সক্রিয় দায়িত্ব পালন করলে গোলযোগ ও দাঙ্গা হতেই পারেনা।প্রশাসনে সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে গোলযোগ বন্ধ হয়না।ওখানকার প্রশাসন হয়তো গোলযোহ বন্ধের চেষ্টা করছেন।যেই কঠোরতা নিয়ম শৃংখলার দরকার সেই পর্যায়ে হয়তো ততোটা তারা করতে পারছেনা।তাই দাঙ্গা থামছেনা। দ্বিমুখী কৌশল থাকলে ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবেনা। প্রশাসন সফল হবেনা। এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনের কঠোরতার অভাবে”। তিনি সতর্ক করেছেন।বলেছেন,আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে একইভাবে গেরুয়া শিবিরের তৎপরতা বাড়ানো চলছে বিজেপির পৃষ্টপোষকতায়।
এদিকে প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লী বিধান সভার বিতর্ক জমে উঠেছে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন ও যুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল বৃটিশ রাজাকারি ভূমিকার বদনামে থাকা বিজেপি এস.এস.আর গোষ্ঠীর মুসলিম-বিদ্বেষী কট্টর মনোভাবের প্রকাশের প্রেক্ষিতে। মহীশুর রাজ্যের শাসনকর্তা ও বৃটিশের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে মৃত্যু বরণকারী টিপু সুলতানের ছবিকে কেন্দ্র করেই উৎপাতের উৎপত্তি শুরু হয়।বিতর্কের এক পর্যায়ে বিধান সভার স্পীকার রাম নিবাস গোয়েল বলেন,গ্যালারিতে টিপু সুলতানের ছবি থাকবে।ভারতের সংবিধানের ১৪৪পৃষ্ঠাতেও মহীশুরের শাসনকর্তা টিপু সুলতানের ছবি আছে।বিজেপি এধরনের নীচ রাজনীতির পরিবর্তে উন্নয়নের রাজনীতি করা উচিৎ।এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়ে বলেন টিপু সুওলতান ছিলেন,“নৃশংস হত্যাকারী উম্মাদ ও গণধর্ষণকারী”।
 
এসব বিওতর্কের জবানে  পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট সিনিয়র অধ্যাপক ডঃ গৌতম পাল বলেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে টিপু সুলতানের বিশেষ অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।বিজেপির এই আচরণে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি লজ্জিত বোধ করছি।মহাত্না গান্ধীর হত্যাকারীরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিরোধীতা করতেন।আর তারাই এখন প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।টিপু সুলতান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ছিলেন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব।   
লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে


সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

সজীব ওয়াজেদ জয় তা পেরেছেন, পারছেন। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী, প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার এই স্বপ্ন, কর্মকৌশলকে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছে। আজ থেকে ৯ বছর আগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ চালু হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ অনেকেই এটা নিয়ে উপহাস করতেন। অথচ আজ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া। অনলাইনে ঘরে বসে বিল প্রদান থেকে শুরু করে বড় বড় টেন্ডার কিংবা সরকারি অনেক কর্মকাণ্ড এখন ডিজিটাল করা হয়েছে। সম্প্রতি ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ডিজিটালাইজেশনের সুযোগ গ্রহণ করে আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেশ-বিদেশে বিভিন্ন রকমের আউটসোর্সিংয়ের কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এককথায় বলা চলে, দেশে এখন ডিজিটালাইজেশনের বিপ্লব চলছে। আর এই মহাযজ্ঞের মূল কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের।

Picture

তৃতীয় বিশ্বে ক্ষমতাসীন পরিবারের দুর্নীতি অনেকটা মামুলি বিষয়। পত্রিকার পাতা খুললেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের কিংবা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পরিবারের দুর্নীতির খবর চোখে পড়ে। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা এরা আত্মসাত্ করে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নামে-বেনামে বিনিয়োগ করেছে। দেশ গড়ার চেয়ে দেশটাকে লুটেপুটে খাবার ব্যাপারেই যেন খালেদা জিয়া-নওয়াজ শরীফদের বেশি আগ্রহ ছিল। দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদনকে শূন্যের কোঠায় রেখে তারেক রহমান-গিয়াসউদ্দিন মামুন গংদের ‘খাম্বা’ দুর্নীতির কথা আজ সর্বজনবিদিত। অথচ ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেও সজীব ওয়াজেদ জয় দুর্নীতি থেকে অনেক দূরে, একনিষ্ঠভাবে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। জয় তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন। জামায়াত-বিএনপি যদিও সজীব ওয়াজেদ জয়ের শরীরে দুর্নীতের কলঙ্ক লেপনের জন্য দেশ-বিদেশে কম অপচেষ্টা করেনি। এমনকি বিএনপির এক নেতার সন্তান আমেরিকায় এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ প্রদান করে জয়ের বিরুদ্ধে নানা তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে নিজের দোষ স্বীকার করে ওই ব্যক্তি আমেরিকার আদালতে স্বীকারোক্তিও প্রদান করেছে।

সজীব ওয়াজেদ জয় একটি মহান রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার বহন করেন। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি ও বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র। এর জন্য তিনি গর্বিত, তার ভিতরে একধরনের অহংকার কাজ করে। চলনে-বলনে, কথাবার্তায় তিনি সবসময় এই উজ্জ্বল উত্তরাধিকারের কথা স্মরণে রাখেন। আর এমন রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যার ধমনীতে বহমান, দুর্নীতি তার সঙ্গে যায় না। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করে তিনি নিজেকে আধুনিক বিশ্বের এক তরুণ উদ্ভাবনী নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বাংলাদেশকে তার দূরদর্শিতা আর মেধার সমন্বয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। দেশে ডিজিটালাইজেশনের যত অগ্রগতি হবে, সুশাসনের পথেও ততটা এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। জিয়া-এরশাদের দু-দুটো সামরিক শাসন ও পরবর্তীতে জামায়াত-বিএনপির সরকার দেশ পরিচালনার ফলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সুশাসনের ভিত্তিমূলে যে ধস নেমেছে, তা থেকে উত্তরণ খুব সহজ নয়। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, মানসিকতায় দুর্নীতির বসবাস। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ডিজিটালাইজেশনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নও জরুরি।

গতানুগতিক অর্থে না হলেও সজীব ওয়াজেদ জয় বৃহত্তর পরিসরে রাজনীতিরই মানুষ। তাই তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই। তবে জয় যখন রাজনীতিতে আধুনিকতার সন্নিবেশ ঘটান, তখন তাকে নিয়ে সমালোচনার মানটাও উন্নত হওয়া উচিত। সজীব ওয়াজেদ জয় যখন বিভিন্ন জরিপের কথা বলেন, তখন ‘আমার কাছে তথ্য আছে’ বলে টিটকারি না মেরে বরং জরিপের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তাকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে জরিপে অংশগ্রহণকৃত মানুষের সংখ্যা কত? তাদের কোন পদ্ধতিতে জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে? জরিপে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং কীভাবে করা হয়েছিল? আশ্চর্যের বিষয়, জরিপের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও মান নিয়ে আলোচনা করতে তেমন কাউকে দেখি না। যুগের চাহিদা মেনে সজীব ওয়াজেদ জয় যখন তার সময়ের চেয়ে এগিয়ে, তখন তার সমালোচক কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আজো পড়ে আছে পিছনেই।

লেখক :কবি ও চিকিত্সক, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত


কুর্দিদের উদ্যত ফনায় কি ইহুদি টুপি? আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

আফরিনে আকাশ ও স্থলে একসাথে আক্রমণ করছে তুরস্ক।আমেরিকার সমর্থিত এই কুর্দি উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের সরিয়ে দেয়া  অথবা নির্মূল অভিযানের আগে রাশিয়ার সমর্থনের সাথে তুরস্কের চুক্তি হয়েছে।অপরদিকে আমেরিকাকেও এই অভিযান সম্পর্কে খোলামনে জানানো হয়েছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ২১জানুয়ারী রোববার এশিয়া সফরে বের হবার সময় তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন,আঙ্কারা আভিযান শুরুর আগে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে।
সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আফরিনে কুর্দী গেরিলারা উৎপাত করছে আমেরিকার প্ররোচনায়।তাদেরকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করে উত্তেজনা উস্কে দেয়ার বিরুদ্ধে রাশিয়া ইতিমধ্যে আমেরিকার প্রচেষ্টার পরিণামের বিষয়ে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছিলো।মার্কিণ জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো এই বাহিনীতে অনেক কুর্দি গেরিলাও থাকবে। ওয়াশিংটনে  ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণা জারির প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মুখ খুলেছিলো।এরপর তুরস্ক অভিযান শুরু করেছে।
সিরিয়া তুরস্ক সীমান্তে ৩০হাজারের একটি বিশাল সীমান্তরক্ষী বাহিনী করার কথা ঘোষণা দিয়ে মার্কিণ নেতৃত্বাধীন জোট গত সপ্তাহে কিছুটা দাপটের ভাব দেখিয়ে আকাশে উঠতে চেষ্টা করলে ঐরকম উড়ো বেলুন ফুটু করে দিতে অঞ্চল জুড়ে  কম্পন তুলে ছিচকে শত্রুদের গুঁড়িয়ে দিতে চলেছে তুর্কি শসস্ত্র বাহিনী।তুরস্ককে এই অভিযান দ্রুতগতিতে সফল করতে উপদেশ দিয়েছে ইরান।আরব দেশে অভিযানে মানুষের জানমালের প্রতি অত্যধিক সতর্কতার কথা স্ম্রণ করে দিয়েছে।তুরস্ক জবাবে জানিয়েছে,তারা দ্রুতই দখল নিয়ে নিচ্ছে।
অপরদিকে মার্কিণ সরকার সিরিয়ার সরকারের অনুমতি ছাড়াই সেদেশে অবস্থান করছে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে অর্থাৎ জোর করে থেকে গেছে।সেক্রেটারী অব ষ্টেট রেক্স টেলারসন জানিয়েছেন সিরিয়ায় তার দেশের সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ দমন করার অজুহাত দেখিয়ে বরঞ্চ তাদেরকে রক্ষা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে মার্কিণ বাহিনী।সিরিয়ায় দায়েশ সহ অন্যান্যদেরকে সরাসরি সব রকম সহায়তা দিয়েও আসাদ সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হয়নি।তারপরও থাকছে আমেরিকান সেনাবাহিনী।
সন্ত্রাসী দায়েশরা আমেরিকা ও ইজরাইলের সহায়তায় লড়াই করে করে মরেছে এবং বেঁচে থাকা  অবশিষ্টদেরকে পার করে এনেছে এই পৃষ্টপোষকরা।তাই বলা যায়,সিরিয়ায় যুদ্ধে আমেরিকা- ইজরাইল-সৌদি জোটের পরাজয় হলেও তারা ঐ অঞ্চলে শেষ হয়ে যায়নি।তাদের আসল লক্ষ্য সামনে রেখেই সিরিয়া তুরস্কের সীমান্তে ভাড়াটিয়া গেরিলা যোদ্ধা রাখছে মুরুব্বীরা।কুর্দি মিলিশিয়ারা হলো সেই ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী।ট্রাম্প সরকার এই পর্যন্ত ৫০০ট্রাক ভর্তি অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক যানবাহন পাঠিয়েছে কুর্দিদের সমর্থনে।   
সিরিয়ায় যুদ্ধ থেমে যাবার পর আমেরিকার সৈন্য সরিয়ে নেবার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে সৈন্য রাখার পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছিলো তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী-দায়েশ যেনো আবার মাথা তুলে এগিয়ে আসতে  না পারে সেই ব্যবস্থার জন্যেই  আমেরিকান সৈন্য থাকতে হবে।দায়েশ আবার শক্তি সঞ্চয়তো করতেই পারে।পর্যবেক্ষকরা বলছেন অন্যকথা।তাদের মতে,সিরিয়ায় রাশিয়ার কর্তৃত্ব একক হয়ে গেছে, তা কিভাবে আমেরিকা হজম করে নেবে?তাই ভাগাভাগি করে একোটা অবস্থান রাখা যায় কিনা সেই চেষ্টা হয়তো আমেরিকা করছে।
রাশিয়া-সিরিয়া-ইরান মিলে ত্রিপক্ষীয় জোটের বিজয়ের পর আমেরিকা চাইছে পরবর্তী আরেকটি সুযোগ।তাহলে তুরস্কের এই অভিযানের মোকাবেলায় আমেরিকা যুদ্ধ করবে?না তা করবেনা।যুদ্ধ করার  মুরোদ এখন আমেরিকার নেই।তারা মুখেই যা যা বলছে,এই কথা বলাতেই শেষ,আর এগুবেনা আপাততঃ। তুরস্ক ঠিকই বিমান হামলা চালু করে দিয়েছে।
 এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক রিচার্ড ওয়েটয বলেন,তুরস্কের সামরিক অভিযান মোকাবেলা করার জন্যে ওয়াশিংটন সামরিক প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে বলে মনে হয়না।তবে রাশিয়ান পর্যবেক্ষক ভিচিস্লাভ ন্যাতাভোজ মনে করেন,আমেরিকা যেকোন ভাবে সিরিয়ায় অবস্থান নিতেই চায়।আমেরিকার এই জোরপূর্বক অবস্থানের পরেও সিরিয়ায় নতুন কোন ফ্রন্ট খুলতে চায়না রাশিয়া। তবে তার অর্থ এই নয় যে, দেশটি নীরব থাকছে ও চুপসে গেছে। রাশিয়া কোন অবস্থাতেই সিরিয়ায় তৎপর কুর্দি গোষ্ঠীকে সমর্থন করছেনা।
এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক যে অভিযানে নেমেছে তার প্রতিরোধে কুর্দিরা কি যুদ্ধ করবেনা? বা তারা কি আত্নসমর্পণ করে  ফেলবে? না, তা তারা করবেনা। কেননা সিরিয়ার উপর ক্রমাগতঃচাপ সৃষ্টি এবং তা অব্যাহত রেখে এই যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিস্তৃত করার জন্যে ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের ম্যাপ পরিবর্তন করে ইহুদী কর্তৃত্ব বাড়াবার রোড ম্যাপ বাস্তবায়ন করার  চূড়ান্ত ধাপে চলেছে তারা।তাই আরেকটি দেশ বানানোর রাস্তা তৈরী করতে চায় তারা ইরাক সিরিয়া ভেঙ্গে।  
এই পর্যায়ে কুর্দি গেরিলারা গেরিলাযুদ্ধের কৌশল নেবে। প্রথমেই প্রচলিত যুদ্ধে প্রবেশ করবে মনে হয়না।নিজেদেরকে রক্ষা করে ধীর ও দীর্ঘগতিতে তারা প্রতিরোধের পথ নিতে পারে।বর্তমান অবস্থায় বড় ধরনের কোন হামলা নাও করতে পারে।নিজেদের শক্তিসঞ্চয় এবং আক্রান্ত হবার অভিজ্ঞতায় বেঁচে থাকার কৌশল আয়ত্ত করছে মনে হচ্ছে।প্রতিরোধের নীতিতে তাদেরকে অটল মনে হচ্ছে।তারাও থেমে থেমে টার্গেট করে সামান্য গোলাগুলি খরচ করছে।এই পর্যন্ত সিরিয়ার আফরিনের কয়েকটি গ্রাম দখলে নিয়ে নিয়েছে তুরস্কের বাহিনী।গেরিলারা পিছু হটেছে।তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদুলো জানিয়েছে-শানকাল,কুরনে,বালি ও মানলি গ্রাম তুরস্কের সেনাবাহিনীর দখলে এসেছে।
কোন শক্তিই নিঃস্ব হওয়া মেনে নেয়না।তবে পুরাতন শক্তি ও নতুন শক্তির উত্থানের ক্রমাগত প্রতিযোগীতা পরস্পরের প্রতি আক্রমণের ক্ষেত্র ও পরিবেশ সাজায়।মধ্যপ্রাচ্যে ইজরাইলকে পৃষ্টপোষকতা দিতে গিয়ে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিজ দেশের সামরিক নীতি ঘোষণা দিয়েছে।এই ঘোষণার পেছনে নেতানিয়াহু সহ যাদের প্রভাব বেশী বলে দেখা যাচ্ছে তারা সকলেই উগ্রপন্থী বলেই বিবেচিত।এই উগ্রপন্থীরা দুনিয়ার ১%ধনীর কাছে সকল সম্পদের মালিকানা কেন্দ্রীভূত করতে চেয়ে চিহ্নিত হয়ে গেছেন।তারা ইরানের সাথে পারমানবিক চুক্তি বাতিল করে ইরান আক্রমনের পক্ষে যুক্তিহীন যুদ্ধ চায়।সিরিয়াকে শাস্তির নীচে রাখতে চায়।
পারমানবিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী আমেরিকা ছাড়া সকলেই এই চুক্তির পরিবর্তনের প্রস্তাব  প্রত্যাখ্যান করেছে। আমেরিকার সেক্রেটারী অব ষ্টেট রেক্স টিলারসন ২৩ জানুয়ারী স্বীকার করেছেন পরমানু ইস্যুতে ট্রাম্প ব্যর্থও হতে পারেন।ইরানের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্য জোটের একটি বিশাল উত্থান দেখা যাচ্ছে।এতে সিরিয়া তুরস্ক লেবানন প্যালেষ্টাইনতো আছেই।
 ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির খেসারতে আমেরিকা থেকে বের হওয়া প্রতিটি দেশ ও শক্তি মিলে মার্কিণ বিরোধী ঐক্যজোটের উত্থান প্রক্রিয়া চালু করে দিয়েছে।যাতে বেশী বড়াবাড়ি করতে গিয়ে আক্রমণোম্মুখ উগ্রইহুদি বলয়টি নিজেদেরকে যুদ্ধে অনিবার্য্য করে তুলেছে।ফিলিস্তিনে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন- হামাসের প্রধান রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া বলছেন,এই বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে ইজরাইল অস্তিত্ব হারাবার পথ নিয়েছে।      
 
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক)।


আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে যাওয়ার পথে.....আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮

আমেরিকা শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর পথে ডুবছে।এই ডুবন্ত বেলায় আমরা আমেরিকান নাগরিকরা নিশ্চয়ই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অযোগ্যতাকেই দায়ী করছি।তার প্রশাসনের অক্ষমতাকেই চিহ্নিত করছি আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার জন্যে।রোগে আক্রান্ত বাঘ নিজেকে নিরাপদ সীমায় রক্ষা করার পথ নেয়,প্রতিপক্ষের সাথে সংঘাত এড়িয়ে চলে।শ্রেষ্ঠত্ব থেকে  পড়ন্ত আমেরিকার অস্থির নেতা ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে যুদ্ধ বাঁধানোর উম্মাদনার ঢোল পেটাচ্ছেন দেখে বিশ্লেষকরা বলছেন,তিনি বুঝতেই পারছেন না তিনি কি করছেন।

বিশ্লেষণের টেবিলে কেউ কেউ বলছেন,বিপদটা আরো ভয়াবহ এজন্যে যে, তিনি বুঝতেই পারছেননা যে, নিজে বুঝেননা। তার বুঝার ভান্ডটা খালি।মিডিয়ায় সংবাদ এসেছে,মার্কিন প্রেসিডেণ্টকে মানসিক ডাক্তারের মন্তব্য প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকে জানাতে হয়েছে,তিনি মানসিক বিকারগ্রস্থ নন বা পাগল নন,তিনি সুস্থ।

আমেরিকার প্রায় অর্ধেক নাগরিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মনে করেন। পাশাপাশি বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করার মতো অবস্থায় নেই ট্রাম্প। ল্যাঙ্গার রিসার্চ এসোসিয়েটস পরিচালিত নতুন এক জনমত জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানসিকভাবে সুস্থ কিনা। জরিপে অংশ নেয়া লোকজনের শতকরা ৪৮ ভাগ ইতিবাচক বলেছেন আর ৪৭ ভাগ বলেছেন ‘না’। তবে শতকরা ৫৮ ভাগ মানুষ ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নি; মাত্র ৩৬ ভাগ সন্তুষ্ট।

প্রেসিডেন্ট সম্পর্কিত এই খবরের পাশাপাশি আসলো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী বক্তৃতা।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস স্বীকার করেছেন, জল, স্থল, আকাশ ও মহাকাশে আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে যাওয়ার পথে নেমেছে। তিনি ১৯শে জানুয়ারী শুক্রবার জন হপকিন্স ইনস্টিটিউটে আমেরিকার নয়া প্রতিরক্ষা কৌশল ঘোষণা করতে গিয়ে এ স্বীকারোক্তি দেন।  

ম্যাটিস বলেন, আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এমন সময় হারিয়ে যেতে বসেছে যখন চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর পক্ষ থেকে নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে ওয়াশিংটন।আমেরিকার নয়া প্রতিরক্ষা কৌশলে দেশটির জন্য সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তে চীন ও রাশিয়াকে ‘মূল হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তার দেশের নয়া প্রতিরক্ষা কৌশলে সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে যুদ্ধের জন্য আমেরিকাকে প্রস্তুত করা।মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জিম ম্যাটিস বলেন, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের পারমাণবিক হামলার ভয়াবহ জবাব দেয়া হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়া প্রতিরক্ষা কৌশল ঘোষণা করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কৌশলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার দেশটির নয়া জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের দলিল প্রকাশ করে। ১১ পৃষ্ঠার ওই দলিলে দাবি করা হয়েছে, ইরান এখনো সন্ত্রাসবাদের সমর্থন দিচ্ছে  এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন নয়া প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্য অংশে বলা হয়েছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকার পাশাপাশি প্রক্সি যুদ্ধের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।এ ছাড়া, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সমৃদ্ধি ঘটিয়ে আঞ্চলিক পরাশক্তি হওয়ার চেষ্টা করছে।নয়া মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলে আরো দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করবে আমেরিকা।

মার্কিন সরকার এমন সময় ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করল যখন ইয়েমেনে চলমান সৌদি আগ্রাসন ও মানবতা বিরোধী অপরাধে আমেরিকায় তৈরি নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে।পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ - বিরোধী যুদ্ধের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজের দ্বৈত নীতির কারণে সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকা পরাজিত হয়েছে।তৎপর বেশ কিছু উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর পক্ষ নেয়ায় আমেরিকা চিহ্নিত হয়ে গেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের দায়িত্বশীল ও সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে ইরাক ও সিরিয়া থেকে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশর মূলোৎপাটন সম্ভব হয়েছে। প্রকৃত সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধে ইরানের এই সাফল্যকে গোপন করার জন্যে  মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলে ইরানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমেরিকার এ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিশ্বের সচেতন মহল ইরানকে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যুদ্ধের অগ্রপথিক হিসেবেই বিবেচনা করছে।

আমেরিকা-ইজরাইলের বর্তমান মিত্র ভারতের শব্দ অপেক্ষা দ্রুতগামী বা সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিপরীতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাবে বলে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন বিষয়কমন্ত্রী রানা তানভির তেহরানে একটি সহযোগিতা চুক্তিতে সই করেছেন।রানা তানভিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি বলেছেন, অভিন্ন সীমান্ত ছাড়াও দু'দেশের মধ্যে গভীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে পাকিস্তানের বিশেষ স্থান রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা বিস্তার দু'দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এই সহযোগিতা যতবেশি বাড়বে ততবেশি এ অঞ্চলের দেশগুলো প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হবে। দ্বিতীয়ত, পাক-ইরান সামরিক সহযোগিতা যৌথ প্রতিরক্ষা নীতি বা কৌশল জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ইরান পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোন উৎপাদন, বিমান প্রতিরক্ষা শিল্প এবং বাণিজ্যিকভাবে অস্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ও দক্ষতা অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানও ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন বিষয়কমন্ত্রী রানা তানভিরের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির একটি দৈনিক জানিয়েছিল, পাকিস্তান বর্তমানে ৪০টি দেশে অস্ত্র রপ্তানি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা বিস্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।পাকিস্তান মনে করে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা এ অঞ্চলে ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা কিনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় খুবই জরুরি।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি সইয়ের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন বিষয়কমন্ত্রী রানা তানভির বলেছেন, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বিস্তারে ব্যাপক আগ্রহী। পাকিস্তানের সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেনারেল তালাআত মাসুদ বলেছেন, ইরান ও পাকিস্তান একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা অভিন্ন সীমান্তে সন্ত্রাসীদেরকে অবাধ চলাচলের কোনো সুযোগ দেবে না।তাই দু'দেশের সেনাবাহিনী যতবেশি সহযোগিতা ও যোগাযোগ গড়ে তুলবে ততবেশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার হবে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানির উৎস হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, এ ক্ষেত্রে ইরানের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে।তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বিস্তারের জন্য যাতায়াত পথের নিরাপত্তা খুবই জরুরি।

 লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ইসলাম সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা বাগাড়ম্বর বা উস্কানিমূলক বক্তব্যকে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল-এর কূটকৌশলগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।এর অর্থ পাশ্চাত্যে হামলা চালানোর জন্য দায়েশও একই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখে বলে লন্ডনের মেয়র সতর্ক করে দিয়েছেন।   

এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সাদিক খান বলেছেন, ট্রাম্পের ভাষা ও কথিত আইসিস বা দায়েশের ভাষার মধ্যে খুবই মিল রয়েছে।তিনি বলেছেন, দায়েশ চায় ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী হামলা বেড়ে যাক; তারা গর্বিত মুসলমান ও পশ্চিমাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে চায়।

ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী 'ব্রিটেন ফার্স্ট'-এর উপপ্রধান জায়দা ফ্রানসেন সম্প্রতি টুইটারে যেসব ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্ট প্রচার করেছেন তার সমর্থনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও টুইটারে বক্তব্য রাখায় সাদিক খান এই মন্তব্য করেছেন।লন্ডনের মেয়র বলেন, ট্রাম্পের এইসব রিটুইট বিভক্তি ও ঘৃণার বাণীকে জোরালো করছে; আর তাই তাকে নিন্দা জানানো উচিত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফরের অনুমতি দেয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করে সাদিক খান আরও বলেছেন, 'ট্রাম্পের অনেক বিশ্বাসের সঙ্গেই আমরা একমত নই।'
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রিটেনে আসার আমন্ত্রণ জানালেও 'ব্রিটেন ফার্স্ট'-এর উপপ্রধান জায়দা ফ্রানসেনের ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্টের প্রতি তার সমর্থনের কারণে ওই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়রের বাক-যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার-অভিযানের সময়ই শুরু হয়েছিল। সে সময় ট্রাম্প সব মুসলমানকে অজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সাদিক খান ট্রাম্পের ওই মন্তব্য ও প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর জন্যে নিজেদের নীতির ব্যার্থতার দিকে নাগিয়ে অর্থ বরাদ্ধা করার প্রস্তাব করেছেন।আমেরিকার অর্ধেক লোক প্রেসিডেন্ট এবং সামরিকবাহিনীর সর্বাধিনায়ক সম্পর্কে যে হতাশা ষ্পষ্ঠ করেছেন তার প্রেক্ষাপটে আমেরিকাকে শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ঘটনা নয়, বরং প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের দশায় এসে গেলে যেনো সুনাগরিক চেতনায় জাতীয় ঐক্যের হাল আমরা ধরতে পারি এবং দৃঢ় চেতনায় আমেরিকার পতাকা উর্ধে তুলে রাখতেপারি।আমরা ভালবাসি আমেরিকাকে।  

(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক)।


ভিনদেশে সন্তানের প্রেম-বিয়ে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা

মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮

রিমি রুম্মান : নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :ফোনে কথা হচ্ছিল আমার এক বন্ধুর সাথে। তাঁর ছেলেটি এ দেশে বেড়ে উঠেছে। সবে পড়াশোনা শেষ করেছে আইন বিষয়ে। চাকরিতে যুক্ত হয়েছে নতুন। ‘সেদিনের এতটুকুন শিশু দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেল। দুদিন বাদে বিয়ে হবে কোনো এক রাজকন্যার সাথে। লাল টুকটুকে শাড়ি পরে বাড়িতে নতুন বউ আসবে, এমনটিই কল্পনা করি মনের অজান্তে। কিন্তু বিদেশে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মকে নিয়ে এমনটি আশা করতে নেই’— ফোনের অন্য প্রান্ত হতে আমার বন্ধুর ভাষ্য। সে বলে যাচ্ছিল, ‘ওঁরা এ দেশে বেড়ে উঠেছে। নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। বাবা-মা হিসেবে নিজেদের ভাবনা চাপিয়ে দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আমি আঁতকে উঠি। স্কুল-কলেজে আমাদের সন্তানদের সহপাঠী, বন্ধু হিসেবে যারা আছে, তাঁরা প্রায় সকলেই শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যনিক কিংবা অন্য ভিন্ন কোনো জাতি।’ 

‘আমার সন্তান ভিনদেশি কাউকে জীবন সাথি হিসেবে বেছে নেবে এমনটি মেনে নিতে পারি না কোনোভাবেই। বরং যারপরনাই অবাক ও বিরক্ত হই।’— প্রচণ্ড রকমের রক্ষণশীল বন্ধুটি বলে। সে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, ‘তোমার ছেলেরা এখনো অনেক ছোট, ওঁরা বড় হতে হতে তোমার মানসিকতার পরিবর্তন হবে। এ পরিবর্তন সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই মেনে নেওয়ার, মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতার পরিবর্তন। ওঁদের ভালো লাগার, ভালোবাসার ওপর আমাদের কারওরই হাত নেই। বরং ওঁদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু চাপিয়ে দেওয়াটা হবে ভুল।’
ফোন রেখে চুপটি করে বসে থাকি ক্ষণিক অজানা শঙ্কায়। বলে কি! ভাবা যায়, আমার ছেলেরা ভিনদেশি কন্যাকে বিয়ে করে ভিন্ন কালচারে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তুলবে? মাথার ওপরে সিলিং ফ্যান ঘুরছে। যেন আমার পুরো পৃথিবীটাই দুলছে। আমি যে আমার ভাষা, আমার ধর্ম, আমার সংস্কৃতির বাইরে কিছু ভাবতেই পারি না।
একদিন ছেলের স্কুলের কোনো এক অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছি। গাড়িতে আমরা তিনটি মাত্র প্রাণী। আমরা— বাবা, মা আর ছেলে। যেহেতু ছেলেটি হাইস্কুলে পড়ছে, এখন তো আর সারাক্ষণ সাথে সাথে লেগে থাকা হয়ে ওঠে না। কার সাথে মিশছে, কারা তার বন্ধু, এসব অনেকটাই অজানা থেকে যাচ্ছে। তাই সুযোগ বুঝে ছেলেকে বললাম, ‘বাবা, তোমার বন্ধুরা মানুষ হিসেবে কেমন?’ সে বলল, ‘খুবই ভালো, এবং তাঁরা সকলেই আমার ভালো বন্ধুও বটে ।’ আমি আবারও বলি, ‘ওঁরা সারা জীবন তোমার ভালো বন্ধু হয়েই থাকুক। কিন্তু তুমি যখন জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে ভাববে, দুটি বিষয় মনে রাখবে। আমরা বাংলাদেশি এবং আমরা মুসলমান। তোমার ভাষা আর তোমার ধর্মের বাইরের কাউকে নিয়ে একটা গোটা জীবন কাটিয়ে দেওয়াটা সহজ এবং সঠিক হবে না।’ সে চুপচাপ কথাগুলো শুনছিল। এবার ওঁর বাবাও সায় দিয়ে বলে, ‘আব্বু, তুমি বড় হচ্ছ, বিধায় বিষয়টি তোমায় জানিয়ে রাখছি। আশা করি তুমি আমাদের কষ্ট দেবে না।’ সে মাথা নেড়ে আমাদের সাথে সহমত পোষণ করে যদিও, কিন্তু আমরা জানি না, বড় হতে হতে আমাদের এই পারিবারিক, সাংস্কৃতিক আর ধর্মীয় মূল্যবোধের আবেগী কথাগুলো কতটুকু মনে রাখবে সে।

Picture
গত বসন্তে জরুরি কাজে ম্যানহাটন যাচ্ছিলাম আমি আর আমার প্রতিবেশী এক দাদা। সাত নম্বর ট্রেনে বসে আমরা গল্প করছিলাম নানান বিষয়ে। পথিমধ্যে কুইন্স বোরো প্লাজা স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন এক রমণী। সাথে ৪/৫ বছরের এক কন্যা। রমণী দেখতে বাঙালি হলেও শিশুটি কৃষ্ণাঙ্গ। দাদা এগিয়ে গেলেন, কথা বললেন। বহু বছর আগে তরুণ বয়সে দাদা আর রমণীর বাবা একই বাড়িতে রুমমেট হিসেবে ছিলেন অনেকগুলো দিন। অর্থাৎ নারীটি দাদার বন্ধু কন্যা। দীর্ঘদিন বাদে দেখা হওয়ায় তাঁরা নিজেদের, পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। রমণীর কণ্ঠে ক্ষোভ, অভিমান আর হতাশা। সে বলে যাচ্ছিল, ‘আংকেল, আমি না ছোট ছিলাম, না বুঝে ভুল করেছি, কিন্তু আমার বাবা মা কি পারতেন না আমাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে সঠিক পথে ফেরাতে? অভিভাবক হিসেবে তাঁরা যা করেছে, তা কি সঠিক ছিল?’ এমনতর প্রশ্নের মাঝে জল টলমল চোখে শিশুটির হাত ধরে সে নেমে যায় নির্দিষ্ট স্টেশনে। গল্পের বাকি অংশ শুনলাম দাদার কাছে।
সে এক হৃদয়বিদারক কাহিনি।
রমণীটি যখন টিনএজ, তখন স্কুলের এক কৃষ্ণাঙ্গ সহপাঠীর প্রেমে পড়ে। পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়, রাত করে বাড়ি ফিরতে শুরু করে। ধার্মিক বাবা-মা বিষয়টি টের পায়। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। মেয়েটির সাথে রূঢ় আচরণ করে, কথা বলা বন্ধ করে দেয়, মারধর করে। মেয়েটি ৯১১ কল করে পুলিশে অভিযোগ করে। নিজ কন্যাকে মারধরের অপরাধে পুলিশ বাবাকে গ্রেপ্তার করে। মামলা হয়। বর্ণনাতীত পেরেশানি শেষে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত বাবা বাড়িঘর বিক্রি করে বিদেশের সাজানো সংসার গুটিয়ে দুঃখে, কষ্টে, ক্ষোভে, অপমানে দেশে ফিরে যায়। সাথে স্ত্রী আর একমাত্র পুত্র। দেশে গিয়ে অল্প বয়সী ছেলেটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়। সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে এ দেশে থেকে যায় মেয়েটি। বছর না ঘুরতেই লিভ টুগেদারের পাঠ চুকিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ বয়ফ্রেন্ড মেয়েটিকে ছেড়ে যায়। সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুকন্যা নিয়ে মেয়েটি অথই সাগরে হাবুডুবু খায়। কিন্তু ডুবে যেতে যেতে মানুষ একচিলতে খড়কুটো ধরেও ভেসে থাকতে চায়, বেঁচে থাকতে চায়। মেয়েটিও তার ব্যতিক্রম নয়। 

সে আবার স্বপ্ন দেখে। এবারও আরেকজন কৃষ্ণাঙ্গের হাত ধরে ভবিষ্যৎ স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যায় নতুন করে ঘর বাঁধবে বলে। কিন্তু হায়, আরেকটি কন্যাসন্তান জন্মানোর মাসখানেক বাদে নতুন বয়ফ্রেন্ডও মেয়েটিকে ছেড়ে যায়। এদিকে আত্মীয়, চেনা মানুষজনের মাধ্যমে জানতে পারে দেশে তাঁর ছোট ভাইটি অর্থাৎ অতিরিক্ত ধর্মপ্রবণ বাবার একমাত্র মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেটি জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িয়ে যায়, এবং গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। সত্যিকারের এই গল্পটি শুনতে শুনতে আমরা গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে এসে নামি। ভেতরটা কেমন যেন ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে অচেনা একটি পরিবারের জন্য। দেশ ছেড়ে এই বিদেশ বিভুঁইয়ে আসবার সময় আমাদের দু’চোখ ভরা স্বপ্ন থাকে, বুক ভরা আশা থাকে, সুন্দর একটি জীবনের হাতছানি থাকে। আমাদের সব স্বপ্ন আর আশাই কি পূরণ হয়! হাতছানি দেওয়া জীবনটি কি সব সময়ই সুন্দর পরিসমাপ্তির দিয়ে এগোয়?
এবার বলি কাছ থেকে দেখা একটি পরিবারের কথা।
ছেলেকে নিয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে একজন মধ্যবয়সী নারীকে দেখতাম বাড়ির সামনে বাগান পরিচর্যা করেন। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ফায়ার হাইড্রেন্ট এর ঢাকনা খুলে সেখান থেকে প্রবল বেগে নির্গত পানি নিয়ে খেলা করছিল, একে অপরকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল কিছু স্প্যানিশ ছেলে মেয়ে। একজন চেঁচিয়ে রূঢ় ভাষায় বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে মধ্যবয়সী নারীর সাথে। একটু মনোযোগ দিতেই বুঝলাম, মেয়েটি সেই নারীর কন্যা। আমি ভীষণ অবাক হলাম। কেননা, মেয়েটির সংক্ষিপ্ত পোশাক, আচরণ, এবং মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার, কোনোভাবেই বাঙালি সংস্কৃতির সাথে মেলাতে পারছিলাম না। এটি বছর দুই আগের কথা। পরের বছর ও পথ দিয়ে ফিরবার সময় সেই নারীকে তাঁর বাড়ির সামনের মাটি খুঁড়তে, পরিষ্কার করতে দেখে কুশল বিনিময় করি। কন্যাদের কথা জিজ্ঞেস করি। বললেন, ওরা এখানে থাকে না। বড় মেয়েটির বয়স আঠারো। সে স্প্যানিশ বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে চলে গেছে এই বলে যে, ‘এ বাড়িতে তাঁর কোনো প্রাইভেসি নেই।’
ছোট মেয়েটি তেরো বছর। সে-ও কখনো বাড়ি ফিরে, কখনো ফিরে না! আমি আঁতকে উঠি! এর আগে দুবার এ বাড়িতে এসেছি, গল্প করেছি। বৈকালিক চা পান করেছি। নামাজের ওয়াক্তে মেয়েদের বাবাকে বাড়ির পাশের মসজিদে যেতে দেখেছি। পর্দানশিন মা, পরহেজগার বাবা। এমন পরিবারে এমন বেপরোয়া কন্যা! বললেন, মেয়েদের সঠিক পথে আনবার জন্য তিনি তিল তিল করে গড়া ক্যারিয়ার, চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছেন। কিন্তু হায়, এ যে বড় দেরি হয়ে গিয়েছে। সন্তানদের বেড়ে ওঠার সময়ে তাঁদের পাশে না থেকে বাবা-মা ডলারের পিছু ছুটেছেন দিনরাত। এখন তাঁরা বিপথে যাওয়ার পর টনক নড়েছে। তাই চাকরি ছেড়েছেন। কিন্তু যে সময় একবার চলে যায়, তা তো আর ফিরে আসবার নয়! কন্যাদের সঠিকভাবে মানুষ করে উপযুক্ত পাত্রের হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় পরিবারটির।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমাদের এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বিয়ে, পরিবার, দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে অনেক নিরাশার মাঝে আবার বেশ কিছু আশার গল্পও আছে। যা শুনলে ভালো লাগায় ছেয়ে থাকে মন। তখন মনে হয়, সময় এবং পরিবেশ বিবেচনায় আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনাও জরুরি। নিউইয়র্কের বাইরে ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন আমার এক কাজিন। তাঁর সন্তানেরা এ দেশে জন্মেছে। বিদেশ বিভুঁইয়ের বাড়িতে বেড়ে উঠেছে দেশীয় সংস্কৃতিময় পরিবেশে। কন্যার বিয়ের দাওয়াত দিতে ফোন করেছিলেন সেই কাজিন। ফোনের অন্যপ্রান্তে কি স্বতঃস্ফূর্ত আর উচ্ছ্বসিত কণ্ঠস্বর। জানালেন, পাত্র শ্বেতাঙ্গ পরিবারের। উচ্চ শিক্ষিত বাবা-মায়ের উচ্চ শিক্ষিত, ভদ্র, মার্জিত সন্তান। পরিবারটি তাঁদের সকল সদস্যের মতামতকে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে। সত্যিকারের পারিবারিক আবহে জীবনযাপন করে। ভিনদেশি পরিবার মানেই অনেক ক্ষেত্রে আমরা ভাবি, ব্রোকেন ফ্যামিলি কিংবা পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নয়, এমন। কিন্তু না, এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সবক্ষেত্রে, সবখানে ভালো এবং মন্দ পাশাপাশি অবস্থান করে।
মা রুমা দিলরুবা আলম (বাঁমে), বাবা শাহ আলম দুলাল ও স্বামী চার্লসের (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) সঙ্গে রুবি আলমমা রুমা দিলরুবা আলম (বাঁমে), বাবা শাহ আলম দুলাল ও স্বামী চার্লসের (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) সঙ্গে রুবি আলমআমার কাজিনের মেয়েটির গায়েহলুদ হলো দেশীয় স্টাইলে। শ্বেতাঙ্গ পাত্র, এবং পাত্রপক্ষের সকল পুরুষেরা পাঞ্জাবি আর নারীরা শাড়ি পরে হলুদের আসরে এল। দু’পক্ষের সম্মতিতে জমজমাট এক আয়োজন ছিল সেটি। বিয়ের বেশ ক’বছর পেরিয়ে গিয়েছে, সে দম্পতি সন্তানাদিসহ সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। মাঝে মধ্যে ফেসবুকে আমার কাজিন এবং তাঁর বেয়াই, বেয়াইন সহ পারিবারিক আনন্দমুখর সময়ের ছবি দেখি। কি অদ্ভুত সুন্দরভাবেই না একটি বাংলাদেশি আর একটি আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ পরিবার পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সুখী একটি জীবন যাপন করছে, সহাবস্থান করছে।
এ বছর গ্রীষ্মে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনায় আমাদের সাহিত্য জগতের এক বড়ভাইয়ের কন্যার বিয়েতে উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল অনেকেরই। শিক্ষিত বাবা-মায়ের শিক্ষিত সন্তান সেই পাত্র। বাবা-মা আর তাঁদের তিন ছেলে নিয়ে যারপরনাই অমায়িক পাত্রের পরিবার। ভিনদেশি পরিবার বলে আমাদের যে শঙ্কা, তা কেটে গিয়েছে অনেকাংশেই পরিবারটিকে দেখে। সে বিয়েতে আমরা সকলেই বেশ আনন্দে মেতেছিলাম। দু’দেশের মিলিত আবহে নদীতীরে চমৎকার একটি অনুষ্ঠান ছিল সেটি। সেই দম্পতি ভালো আছে, সুখে আছে।
এই বিদেশ বিভুঁইয়ে বেড়ে ওঠা আমাদের সন্তানেরা শুধু বেড়ে ওঠার সময়টুকুতে যদি বাবা-মায়ের কাছ হতে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ আর সঠিক শিক্ষাটুকু পায় পরিবার সম্পর্কে, ভালো মানুষ হয়ে ওঠা সম্পর্কে, তবে জীবনের যে কোনো পর্যায়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, জীবন সঙ্গী নির্বাচন করতে তাঁরা ভুল করবে না বলে আমার বিশ্বাস। তাঁদের ভুল সময়ের ভুলগুলো ঠান্ডা মাথায় শুধরে দিতে হবে, অহেতুক রাগারাগি না করে। সন্তানদের সুন্দর সুখী যাপিত জীবন দেখলে, যে স্বপ্ন নিয়ে, আশা নিয়ে একটি নিরাপদ সুন্দর জীবন গড়ার উদ্দেশ্যে একদিন এক ভূখণ্ড ছেড়ে অন্য ভূখণ্ডে আবাস গেড়েছি, সে স্বপ্ন তবেই না পূর্ণতা পাবে।


আমেরিকায় অভিবাসন এবং সরকার বন্ধের রাজনীতি

মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮

অনুপম দেবাশীষ রায় :নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :স্ট্যাচু অব লিবার্টির সামনে ঝুলছিল সাইনবোর্ড—সরকার বন্ধ! সারা পৃথিবীর ক্লান্ত, দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে আমেরিকায় স্বাগত জানানোর প্রতীকে এভাবে সরকার-বন্ধের খবর ঝুলে থাকাটিতে কিছুটা কাব্যিক মাহাত্ম্য রয়েছে। কেননা আমেরিকার কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে মূল বিতর্কটি ঠিক এই আমেরিকার উন্মুক্ততা অথবা অভিবাসন নিয়ে। সেই উন্মুক্ততার বিতর্কে কংগ্রেসের দুই দল সহমতে পৌঁছাতে না পারার কারণেই ২০১৩ সালের পর আবারও আমেরিকার সরকারি দপ্তরগুলোতে তালা পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খসড়া বাজেট এবং আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী রিপাবলিকানরা সিনেটে যে বাজেট প্রস্তাব করেছে, তাতে পাস হওয়ার মতো যথেষ্ট ভোট পড়েনি শেষ দিনেও। অর্থাৎ সরকার কেমন করে করের ডলার খরচ করবে, তা জানা নেই কারও। সে কারণে সরকারের দপ্তরগুলো এখন হয় গত বছরের ডলারে চলবে অথবা আপাতত বন্ধ থাকবে।

এই অচলাবস্থার মূল উৎস হলো রাজনীতিবিদদের স্বার্থবাদী গোঁয়ার্তুমি। আর সেই গোঁয়ার্তুমির উৎস হলো ডিফার্ড অ্যাকশন অন চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল বা ডাকা। ডেমোক্র্যাটরা কোনো মূল্যেই ৭০ হাজার কাগজবিহীন অভিবাসী সন্তানের প্রতি সরকারের দেওয়া সুরক্ষা সরিয়ে নিতে রাজি নয়। আগামী মার্চ মাসেই ডাকার মেয়াদ ফুরাবে। সঙ্গে সঙ্গেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অকূল পাথারে পড়বে কাগজবিহীন অভিবাসীদের সন্তানেরা। এরা কিনা ওবামা সরকারের আশ্বাসের ওপর ভর করে নিজেদের বৈধতার কাগজপত্র না থাকার কথা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সরকারের ক্ষমতা এক দলের থেকে আরেক দলের কাছে যাওয়ায় এবং তাদের পরিচয় প্রকাশের সুযোগ নিয়ে আমেরিকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার উপক্রম করছে ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানরা। গাছে তুলে মই সরিয়ে নেওয়ার এই বুদ্ধিতে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই অনেকের মত নেই। তাদের অনেকেই এ বিষয়ে দর-কষাকষি করতে প্রস্তুত ছিল, তবে প্রথমে তারা সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবটি নিকেশ করে নিতে চাইছিল। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের তর সইল না। সবাইকে জোর করে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য আর সেই আলোচনায় একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতেই ডেমোক্র্যাটরা এবার এই খরচের হিসাবে এসে গোঁয়ার্তুমিটা করছে। আটকে গেছে স্পেন্ডিং বিল, বন্ধ হয়ে পড়েছে ফেডারেল সরকার। এখন যদি ডাকার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হয়, তাহলে বন্ধ থাকবে আমেরিকার ফেডারেল সরকার।

আমেরিকায় অভিবাসন এবং সরকার বন্ধের রাজনীতি

রিপাবলিকানদের আরও গোঁয়ার্তুমি রয়েছে ট্রাম্পের বিখ্যাত সীমানাপ্রাচীরের ফান্ডিং নিয়ে আর চেইন মাইগ্রেশন বা একজন নাগরিকের হাত ধরে তার আত্মীয়স্বজনের অভিবাসনের বিরোধিতা নিয়ে। সীমানা টপকানো আর আত্মীয়ের হাত ধরে আসা অভিবাসীদের রিপাবলিকানদের শত্রু হিসেবেও দেখছে অনেকে। যেহেতু রিপাবলিকানরা কেবল সীমানা বুজিয়ে দেওয়া আর কাগজহীন অভিবাসীদের বের করে দেওয়া নিয়ে কথা বলে, সেহেতু অভিবাসীদের সন্তানেরা সাধারণত রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের বেশি ভোট দেয়। কাগজহীন অভিবাসীদের আমেরিকার মাটিতে জায়গা করে দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে রিপাবলিকানরা তাদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার অভিসন্ধি হিসেবে দেখে। তা ছাড়া অনেক উগ্রপন্থী রিপাবলিকানের অভিযোগ হলো, চেইন ইমিগ্রেশন অথবা কাগজবিহীন অভিবাসনে আসা মানুষ হিংস্র ও জঙ্গিবাদী। অনেকে মনে করে যে অভিবাসীরা আমেরিকানদের কাছ থেকে চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। অথচ কেটো ইনস্টিটিউটের গবেষণা থেকে দেখা যায় যে অভিবাসীরা আমেরিকানদের তুলনায় অনেক কম অপরাধপ্রবণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা এমন সব চাকরিই করে, যেগুলো আমেরিকানরা সাধারণত করতে চায় না।

তা সত্ত্বেও রিপাবলিকানদের মতো ডেমোক্র্যাটরাও আমেরিকার সীমানার উন্মুক্ততার বিরোধী। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সরকারই ইতিহাসে সর্বোচ্চ কাগজবিহীন অভিবাসীদের আমেরিকা থেকে তাড়িয়েছিল আর বিল ক্লিনটন কাগজবিহীন অভিবাসী তাড়িয়েছিলেন জর্জ বুশের চেয়েও বেশি। রিপাবলিকান আর ডেমোক্র্যাট—দুই দলের অধীনেই অভিবাসনের আইন হয়েছে কঠোর থেকে কঠোরতর। এই রক্ষণশীল হুজুগের কারণেই একসময় আইনসম্মত উপায়ে আমেরিকায় প্রবেশ করার চেয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করাই বেশি যুক্তিসংগত হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, আইনি উপায়ে আমেরিকায় প্রবেশ করতে এবং তারপর কাজ কররার অনুমতি ইত্যাদি খুঁজে নিতে যে পরিমাণ ঝক্কি পোহাতে হয়, তার চেয়ে সীমানা টপকে এ দেশে প্রবেশ করাটাই অনেক বেশি সহজতর। তাই মেক্সিকো এবং তদসংলগ্ন (অনেক ক্ষেত্রে মার্কিনি হস্তক্ষেপের কারণে) অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলো থেকে অনেক সময়ই অনন্যোপায় মানুষ সীমানা টপকে আমেরিকায় চলে আসে সুযোগের সন্ধানে। একসময় সুযোগসন্ধানী ডেমোক্র্যাটরা ভোটব্যাংকের লোভে তাদের নাগরিক বানিয়ে তুলতে আর নাগরিক নিরাপত্তা এবং অপরাপর সরকারি সুযোগ-সুবিধা তাদের হাতে তুলে দিতে উঠে-পড়ে লাগে। আর তাদের দেখে রেগে ওঠে কিছু রক্ষণশীল মানুষ মনে করে যে সারা জীবন ধরে তাদের দেওয়া করের সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে কিছু ভিনদেশী বর্গি! এর সঙ্গে আরও কিছু বর্ণবাদী আদর্শ মিলিয়ে বৈধ-অবৈধনির্বিশেষে সব অভিবাসীকে নিয়ে রে-রে করে ওঠে কিছু উগ্রপন্থী আর তাদের ভোট পাওয়ার লোভে আবারও দুই দল মিলে কঠিনতর করে দেয় আইনসংগতভাবে অভিবাসী হওয়া। বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশের মতো দেশের মানুষের আমেরিকায় টিকে থাকা অথবা নতুন করে আমেরিকান ভিসা পাওয়া।

তবে এই অভিবাসীদের ওপর ভিত্তি করেই কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকে আমেরিকার অর্থনীতি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা অনুযায়ী, কাগজবিহীন অভিবাসীদের তাড়িয়ে দিলে কৃষি খাতসহ আমেরিকার অর্থনীতির অনেকগুলো খাত ধসে পড়বে। এইআই বলছে, অভিবাসীদের অর্থনীতিতে অবদান জন্মগত আমেরিকানদের চেয়ে অনেক বেশি। কাজেই গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াকে সহজীকরণের পক্ষে কথা বলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বরং উল্টো পথে হাঁটার কথা বলছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর চ্যালাচামুন্ডারা। তাঁরা মেক্সিকো আর আমেরিকার মাঝে দেয়াল তুলে দেবেন, যার পয়সা দেবে নাকি মেক্সিকো। এখন আবার কংগ্রেসে বাজেট করে আমেরিকান করদাতাদের পয়সা দিয়েই দেয়াল বানানোর বুদ্ধি আঁটছেন। সেই পয়সা দিতে গিয়ে আমেরিকার বিশাল বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলেই র‍্যান্ড পলসহ আরও কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সঙ্গে ভোট দিয়েছেন ট্রাম্পপন্থীদের বাজেটের বিপক্ষে এবং শেষ মুহূর্তে ফেডেরাল সরকার বন্ধের গ্যাড়াকলে পড়েছে গোটা আমেরিকা।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি অবশ্য খুলে যাবে সোমবার, পয়সা দেবে নিউইয়র্ক স্টেট। স্টেটগুলোর পয়সায় এখনো চলছে আঞ্চলিক পুলিশ, দমকল আর অপরাপর জরুরি সেবা। পুরোনো বাজেটে টিকে রয়েছে এফবিআই, টিএসএ আর কোস্টগার্ডের মতন ফেডেরাল দপ্তরগুলোও। তবে বিপদে রয়েছে শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প (চিপ), মিলিটারি ডেথ বেনিফিট ফান্ড ও আমেরিকান রিপাবলিকান পার্টি। যদিও ডেমোক্র্যাটদের দোষ কিছুমাত্র কম নয়, তবু সরকার বন্ধের ফলে দায় এসে পড়বে রিপাবলিকানদের ওপরই। ভোটের হিসাবে ষাটটি ভোটের কমে সিনেটে কোনো বিল পাস করা যায় না এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে কেবল একান্নটি ভোট। কিন্তু আমেরিকার জনতা সহজ হিসেবে দেখছে যে হাউসে (নিম্নকক্ষে), সিনেটে (উচ্চকক্ষে) আর প্রেসিডেন্সিতেও রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তারা সরকার খোলা রাখতে আর তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী বাজেট পাস করতে পারেনি।

অর্থাৎ এই মুহূর্তে যদি আমেরিকার দোর বুজে দেওয়ার এই পাগলা নেশা থেকে ট্রাম্প ও তাঁর সহচরীরা বের হতে না পারেন, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তাঁরা নিজেরাই। আমেরিকার উন্মুক্ততা নিয়ে আপসে আসা আজ রিপাবলিকানদের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি। যত তাড়াতাড়ি তারা এটি বুঝে উঠতে পারবে, ততটাই সবার জন্য মঙ্গল।

অনুপম দেবাশীষ রায় : গবেষণা সহযোগী, কেটো ইনস্টিটিউট, ওয়াশিংটন ডিসি।


আমেরিকা পাকিস্তান হারালো।আবু জাফর মাহমুদ

রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার প্রথম মিত্র পাকিস্তান হাতছাড়া হয়ে গেলে আফগানিস্তানে আটকা পড়ে যেতে পারে মার্কিণ সেনাশক্তি।যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যেতেপারে। তালেবান শক্তিশালী হবে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হবে রাশিয়া,চীন,ইরান ও তুরস্ক সহ লেবানন প্যালেষ্টাইন এবং অন্য অনেকে। আমেরিকা আবারো ভেবে দেখা উচিৎ পাকিস্তানকে হাতছাড়া না করার ভকোন পথ আছে কিনা।
করাচী বন্দর ও পাকিস্তান –আফগানিস্তান সীমান্ত পথ ব্যবহারের আফগানিস্তানে যাতায়তের পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে যে পরিস্থিতি টোইরী হবে সেদিকে নজর দেয়া দরকার।জেনারেল মোশারফের নেতৃত্বাধীন প[আকিস্তান সরকার এবং শসস্ত্র বাহিনীর সহযোগীতা ছাড়া আফগানিস্তানে অসম্ভব যাত্রা ছিলো বুশ প্রশাসনের। তালেবান স্তৃষ্টি করে আফগানিস্তান থেকে রাশিয়াকে বিতাড়নে পাকিস্তান আমেরিকাকে যে সহায়তা দিয়েছে,তাকে কৃতজ্ঞতায় ও স্বীকারোক্তিতে রাখছেনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।উলটে গেলো মিত্রতার মানচিত্র।তারই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান নিজেদের টিকে থাকার পথ শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে বাধ্য হলো।
আমেরিকার ওপর সামরিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে পাকিস্তান তার প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম চীন, তুরস্ক, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।পাকিস্তান বিমান বাহিনী বর্তমানে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এফ-১৭ জঙ্গিবিমান ব্যবহার করছে। এ ছাড়া, এই বিমানের চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গিবিমান নির্মাণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার উগ্র জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান মাইক পম্পেও।তিনি ৮ই জানুয়ারী   সোমবার মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে তালেবান ও হক্কানি গোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই দুই গোষ্ঠী আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।
সিআইএ’র পরিচালক বলেন, “পাকিস্তানের প্রতি আমাদের বার্তা পরিষ্কার। বর্তমান অবস্থা চলতে দেয়া যায় না এবং ইসলামাবাদকে অবশ্যই উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তান আমাদেরকে কতটুকু সহায়তা করে তার ওপর দেশটিকে সামরিক সাহায্য দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।”
সি আই এ’র পরিচালকের একথাগুলো প্রকাশ্যে বলার আগেই পাকিস্তান তাদের অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে।তারা আমেরিকার কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহযোগীতার জন্যে আর অপেক্ষা করবেনা। দর কষাকষিও করবেনা। তাছাড়া আফগানিস্তানে আমেরিকাকে সেনা অবস্থান চালু রেখে নিজেদের ক্ষয় ক্ষতির দিকে সতর্ক থাকা জরুরী।তিনি কি প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বিনা শর্তে সমর্থন দেখানোর জন্যে এই মন্তব্য করেছেন নাকি তার পর্যবেক্ষনের সারক্তহা বলেছেন তাও দেখার বিষয় আছে।  
 এমতাবস্থায় আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন পাকিস্তানকে শত্রু শিবিরে ঠেলে দিয়েছে ভাবতে এখনো অনেক বিশ্লেষক রাজী হননি।তাদের মতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে সামান্যও লাভবান করবেনা। এদিকে আত্নরক্ষার প্রশ্নে পাকিস্তানের দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা যেকোন পরিস্থিতির মোকাবেলায় পাকিস্তানকে প্রবল মনোবল বাড়িয়েছে বলা যায়।কারো মুখাপেক্ষি থাকার চেয়ে সারাক্ষণ বিজয়ী থাকার সামরিক চেতনা যে কোন জাতিকে সম্মানিত করে।
যে পাকিস্তানকে তার পুর্বাঞ্চলে যুদ্ধে পরাজিত হতে দেখেছিএকাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে। সেই পাকিস্তান আমেরিকার চাপ মোকাবেলা করে পালটা শক্তি দেখানোর ঔদ্ধত্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আমেরিকা যেভাবে থাপ্পর দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার যেনো তা অনুভব করার চিন্তাশক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন। রাষ্ট্র যদি সাগরে ডুবেও যায়,ওদিকে যেনো সরকার এবং রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং আঁতেল সমাজের কিছুই যায় আসেনা। রাষ্ট্রটা যেনো তাদের কারোরই নয়। বাংলাদেশ হয় আমেরিকার সাথে নেগোসিয়েট করুক নতুবা বিকল্প ব্যবস্থা করুক।
 সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১ জানুয়ারি ২০১৮ সালে নিজের প্রথম টুইটার বার্তায় আফগান সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেন। সেইসঙ্গে তিনি ইসলামাবাদকে ২০০ কোটি ডলারের সামরিক অনুদান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেন।  
পাকিস্তানের বিশ্বস্ত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর বেশিরভাগ সামরিক সরঞ্জাম আমেরিকায় তৈরি। কিন্তু দেশটি তার নয়া সামরিক সরঞ্জাম বিশেষ করে গানবোট ও সাবমেরিন চীনের কাছ থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। সেইসঙ্গে চীন ও তুরস্কের কাছ থেকে হেলিকপ্টার গানশিপ কেনার কথা বিবেচনা করছে ইসলামাবাদ।
এ ছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে রণতরী কেনার কথাও ভাবছে পাকিস্তান। পাশাপাশি চীনের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়েও বেইজিং-এর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।সূত্রটি জানিয়েছে, পাকিস্তান বেশ কয়েকমাস আগে থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য সেনা ক্যাডেটদের আমেরিকায় পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।
 
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মোহাম্মাদ আসিফ বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তিনি ৭ই জানুয়ারি রোববার মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তিনি জানান, মার্কিন সরকার বিগত বছরগুলোতে পাকিস্তানকে ধোঁকা দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেছে।এর আগে খাজা মোহাম্মাদ আসিফ শুক্রবার বলেছিলেন, আমেরিকা কঠিন সময়ে পাকিস্তানকে একা ফেলে রাখার পরও ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্যা অভিযোগের প্রতিবাদে ইওস্লামাবাদ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আপাততঃস্থগিত রেখেছে।তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফগানিস্থানে তাদের রেকরড সৃষ্টিকারী ব্যার্থতা ঢাকতেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বানানো মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে চলেছেন। নয়া বছরের প্রথম দিনে সূচনা করেছেন বছরের প্রথম মিথ্যা দিয়ে।বলেছেন পাকিস্তান সন্ত্রাসীদেরকে অস্ত্র ও আশ্রয় দিচ্ছে।এই অযুহাতে পাকিস্তানকে দেয়া সহযোগীতা বন্ধের হুমকি দিয়েছেন তিনি।তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন,আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান আমেরিকার সম্পর্কের বিষয় খতিয়ে দেখতে গেলে দশ বছর আগে থেকে বর্তমানে আসতে হবে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ২০০১সালে আফগানিস্তানে মার্কিণ সামরিক হামলায় অংশ নিতে পাকিস্তানকে চাপ দেন ও বাধ্য করেন।এরপর ২০০৬সাল থেকে আফগানিস্তানের ব্যাপারে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগীতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তোলে মার্কিণ প্রশাসন।
বুশের পর মার্কিণ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়াদে নানা ইস্যুতে দু’দেশের মধ্যকার মত বিরোধ অব্যাহত থাকে এবং পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় মার্কিণ হামলার কারণে দু”দেশের মতবিরোধ বেড়ে তুঙ্গে ওঠে।একথাগুলো কেউ অস্বীকার করিনা।বিশেষ করে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সামরিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগীতার পরিবেশ বদলে যায়। ট্রাম্প চেষ্টা করছেন পাকিস্তানকে তার আকাঙ্ক্ষা কার্যকরে বাধ্য করতে।আসল ঘটনা হচ্ছে, আমেরিকা নিজেই আফগানিস্তানে চোরাবালিতে নাক মুখ ডুবিয়ে বিপদে আছে।এই বাস্তবতার দায় পাকিস্তানের উপর চাপানোর চেষ্টার সুযোগ চাইছেন তারা।
আমেরিকার বুঝা দরকার বর্তমান অবস্থা থেকে বের হতে অথবা আফগানযুদ্ধে বিজয়ী হতে পাকিস্তানের কথা শোনেই তারা পারতে পারেন।এছাড়া আমেরিকার কোন বিকল্প নেই।এই বাস্তবতা ন্যাটর জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নটিও প্রাধান্যে চলে এসছে।পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আফগানিস্তানের যুদ্ধের ভেতরের জটিল অবস্থাকে যেভাবে বুঝেন বাকিদের তা সম্ভব হয়নি এখনো।তালেবানরা যে অবস্থাতেই থাকুক পাকিস্তান আক্রমণের অবস্থা তাদের নেই।তাই তাদের উপর পাকিস্তানের প্রভাবই যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারনে খুবই   গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় কিছুই গোপন নেই।আমেরিকা পাকিস্তানের উপর বাড়াবাড়ি করলে তালেবানদের সহযোগীতা দিয়ে পরিস্থিতি পাকিস্তানের সম্পূর্ণ নিয়ে আসা পাকিস্তানের জন্যে খুবই সহজ।ওয়াশিংটনকে প্রতিরোধ করে আফগানিস্তানে তার হাত কেটে নিশ্চিহ্ন করা সামান্যও কঠিন নয়।
সূতরাং বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে অর্থাৎ ট্রাম্প যদি তার বিভ্রান্তিকর পথ ত্যাগ না করে পাকিস্তানকে তার স্বাধীন নীতিতে ফরে আসতে হবে অর্থাৎ পাকিস্তানকে আমেরিকা ঘেঁষা নীতি পরিবর্তন করতে হবে।যা ইরান,রাশিয়া চীন তুরস্ক এবন অন্যান্য অনেকেই পরম খুশীতে স্বাগতঃ জানাবে।
পাকিস্তান সরকার সামরিক বাহিনী ও বিরোধীদলগুলো বুঝতে শুরু করেছে আমেরিকার সাথে এতোদিনের সম্পর্কের জন্যে তাদের অনুশোচনার দিন এসেছে।মার্কিণ শক্তি তাদের নিজের অবস্থানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চোখ বন্ধ করে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভবিষ্যৎ দিনের গথা না ভেবে প্রেসিডেন্ট তার জীবনের কিছু আয় রোজগারের কথা ভাবছেন।এতে যা হবার তাই হবে।আশা করা যাচ্ছে সি আই এ’র দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞগণ হাওয়াইট হাউসকে সঠিক গাইড দেবেন এবং আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় বাস্তবতার দিকে নজ্র দেবেন।
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক এবং দেশকন্ঠ সাপ্তাহিকের সম্পাদকমন্ডলীর চেয়ারম্যান)। 


কক্সবাজার: যে কথা এখনও কেউ বলেনি , লেখেনি,ক’জনাইবা জানে? = সিকদার গিয়াসউদ্দিন

রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

বিজয়ের পরপরই সকলে বার্মা কিংবা ভারত অথবা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসতে থাকে।অনেকেই দেশমাতৃকার জন্য ইতিমধ্যেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিংবা হারিয়ে গেছেন।এঁদের মধ্যে শিশু,কিশোর,যুবা,বৃদ্ধ কেউই বাকী ছিলোনা।২২’শে ডিসেম্বর রোজ বুধবার ১৯৭১’সালের এইদিনে ইতিমধ্যেই ফিরে আসা কক্সবাজারের বিজয়ী জনতার পক্ষে সর্বদলীয় কক্সবাজার সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবন্দসহ বিভিন্ন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দক্ষিন মিটাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুলে(বর্তমানে পূর্ণ হাইস্কুল)র ময়দানে কক্সবাজারের প্রথম মহাবিজয়ের অনুষ্টানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। অনুষ্টানে যে দূ’টি জায়গায় বিজয় সভা অনুষ্টানের ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য আলোচনা চলে-সে দূ’টি স্থান হচ্ছে প্রথমত: তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান শান্তি কমিটির অন্যতম প্রধান মৌলভী ফরিদ আহমদের মাছূয়াখালী’র বাড়ীর সামনে অথবা কক্সবাজার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কনভেনশন মুসলীম লীগের জাফর আলম চৌধূরী’র বাড়ীর সামনে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে অবশেষে রামু থানার রাজারকুল ইউনিয়নের(পরে দক্ষিন মিঠাছড়ী ইউনিয়ন)কূখ্যাত জাফর আলম চৌধূরী(প্রকাশ জাফর মিয়া)র বাড়ীর পাশের জুনিয়র হাইস্কুল(এখন হাইস্কুল) মাঠে কক্সবাজারের প্রথম বিজয়সভা’র অনুষ্ঠানের জন্য ১৯৭১’সালের ২৭’শে ডিসেম্বর রোজ সোমবার দিন ধার্য্য করা হয়।সবকিছু বিবেচনা পূর্ব্বক রামু,উখিয়া ও টেকনাফ থেকে বিজয়ী তথাকথিত পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরীকে ও বঙ্গবন্ধুর অতি ঘনিষ্ট কক্সবাজার থানার খরুলিয়ার জমাদার ফজল করিমকে(পরবর্তিতে কক্সবাজার সেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রধান)শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিরাপদে সভা অনুষ্ঠানের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

জমাদার ফজল করিম ও ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী রামুর মুক্তিযুদ্ধ ফেরত তরুন তুর্কিরা সহ স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের নিয়ে আলোচনাক্রমে রাজারকুলের বিজয়সভাকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহন করেন।তম্মধ্যে যুদ্ধফেরৎ মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে কূখ্যাত জাফর মিয়া’র ঘর যাতে কেউ জ্বালিয়ে বা ভেঙ্গে দিতে না পারে তজ্জন্য জাফর মিয়ার বড় শত্রু মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক খ্যাতনামা জমিদার ঈশান পালের বড় ছেলে পরিমল পাল ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জহরলাল পাল এবং বিশিষ্ট  আনসার কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সিকদারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।নিয়তির করুন পরিহাস এই যে,কূখ্যাত জাফর মিয়ার নির্দ্দেশে বিশিষ্ট জমিদার ঈশান পালের ও রামু থানা অস্ত্রাগার দখলের অন্যতম আসামী আনসার কমান্ডার আবদুল হক সিকদারের বাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে বা ভেঙ্গে দিয়ে ছারখার কিংবা লন্ডভন্ড অথবা লুঠতরাজ করা হয়-সেই কূখ্যাত অত্যাচারী জাফর মিয়ার ঘর ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন-যাঁরা অত্যাচার,অবিচার ও সমূহ নির্যাতন সহ্য করেছিলেন এবং মহান জনযুদ্ধের সাথী ছিলেন।এইসব জনযোদ্ধারাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কিভাবে ধারণ করতে হয়-তা শিখিয়েছিলেন।আইনকে যাতে কেউ হাতে তুলে না নেন-স্বাধীন দেশের মানুষকে নব্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত স্বাধীন জনগোষ্টিকে তা জানাতে এঁদের মহানুভবতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরার বিষয়ে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরীর তখনকার রাতদিন পরিশ্রমের বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য বটে।অবশ্য ১৬’ই ডিসেম্বরের পরপরই জাফর মিয়া ও কক্সবাজারের সাকাচৌ হিসাবে পরিচিত কূখ্যাত দিদার মিয়া সহ জাফর মিয়ার সবছেলেরাই তখন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলো।

Picture

অবশেষে এলো কক্সবাজারের ইতিহাসের জাগ্রত বিজয়ী মহাজনতার মহাসমাবেশের সেই কাঙ্খিত দিনটি।কক্সবাজার মহুকুমা’র বিভিন্ন থানা ও গ্রাম থেকে যথাক্রমে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে লন্চযোগে,টেকনাফ থেকে চকরিয়া পর্য্যন্ত সকল থানা থেকে ট্রাক বাস যোগে,রামু ও উখিয়া থেকে মিছিলের পর মিছিল।হাজারো জনতার বিজয় মিছিল বিশেষ করে অনেকগুলো লাটি মিছিল ছিলো দেখার মতো।জমাদার ফজল করিম ও রামু থানার তখনকার বিশিষ্ট ছাত্রযুবনেতা রামু থানার মেরোংলোয়ার ওবায়দুল হকের নেতৃত্বে (পরবর্তিতে জাসদ নেতা ও রামু ফতেখাঁরকুলের চেয়ারম্যান)কাউয়ারকোপের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইপিআরের নূর মোহাম্মদ(মুক্তিযুদ্ধের সময় মেঝর খ্যাত যদিও মেঝর ছিলেননা তবুও স্থানীয় লোকজন সে নামে ডাকতো),মনির ঝিলের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক(পরবর্তিতে কাউয়ারকোপের চেয়ারম্যান ও রামু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান)রামু চৌমুহনীর ছাত্র ইউনিয়নের নেতা দীপক বড়ুয়া(পরে অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ রামু কলেজ),শেখর বড়ুয়া ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমদ,ছাত্রলীগের সূমথ বড়ুয়া,মাহবুব(পরে জাসদ ও বি এন পি নেতা,জোয়ারিয়ানালার চেয়ারম্যান)মেরোংলোয়ার গোলাম কবির সহ স্থানীয় আনসার বাহিনী,সেচ্ছাসেবকসহ অনেকেই মহাসমাবেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চতুর্দিকে বুহ্য রচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যস্ত ছিলো।বিরাট মাঠে তিল ধরনের জায়গা ছিলোনা।ইতিমধ্যেই কক্সবাজারের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা  যথাক্রমে কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি উখিয়ার দিদারুল আলম চৌধূরী,কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজারের বিপ্লবী কন্ঠস্বর খ্যাত ছুরত আলম(পরবর্তিতে জাসদ নেতা),কক্সবাজার কলেজের নির্বাচিত ভিপি গর্জনিয়ার তৈয়বউল্লাহ(পরবর্তিতে জাসদ নেতা)অনুষ্টানে উপস্থিত হলে চতুর্দিকে গগনবিদারী মুহুর্মুহু শ্লোগানে চতুর্দিক মূখরিত হয়ে উঠে।অত:পর কক্সবাজার মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এসে পৌঁছূলে পূরো ময়দান শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে।মাঠের বেশ দূরে চতুর্দিকের গাছগাছালীর উপরে অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও সাধারণ মানুষের সাথে শ্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিলো।অবশেষে ছাত্রলীগের ছূরত আলম  মাইকের স্পীকার হাতে নিয়ে জনগনকে শান্ত হতে বললে চতুর্দিকে পিনপতন নীরবতা।কারো মূখে কোন কথা নেই।সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে সভাপতির আসন গ্রহন করেন কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি জোয়ারিয়ানালার আবছার কামাল চৌধূরী।অনুষ্টানের প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার মহকুমার ১৯৭০’সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ভূমিধ্বস বিজয়ী টেকনাফের উকিল নূর আহমদ। তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান সাবেক ডাকসূ ভি পি পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রধান মৌলভী ফরিদ আহমদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন।(পরবর্তিতে তিনি জাসদের অন্যতম নেতা ছিলেন) আসন গ্রহন করার পর যথাক্রমে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বিজয়ী রামুর ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী(পরবর্তিতে অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন), চকরিয়ার জহিরুল ইসলাম চৌধূরী(পরবর্তিতে গনফোরামে যোগ দেন ও অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন), পূর্ব পাকিস্তান মোজাফ্ফর ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোশতাক আহমেদ(পরবর্তিতে অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের স্বীকৃতি অর্জন),মহেশখালীর উকিল মওদুদ আহমদ(পরবর্তিতে জাসদ নেতা)এবং তিন ছাত্রনেতা আসন গ্রহন করেন।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত,পবিত্র গীতা ও পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পড়ে শুনানোর পর পরই প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী আসন থেকে উঠে ঘোষনা দেন আজকের অনুষ্টান উদ্ভোধন করবে আপনাদের এলাকা’র
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সিকদারের পুত্র রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বিপ্লবের অগ্নিঝরা দিনগুলোর অগ্নিস্বাক্ষী,স্বাধীনতা আন্দোলনের বলী,হারিয়ে যাওয়া লক্ষ শিশু কিশোরদের প্রতিনিধি,বোন শিরীণকে হারিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা আপনাদের আমাদের সকলের সন্তান এস  এম গিয়াসউদ্দিন।অবশ্য আগের দিন রাতে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী,পরিমল পাল,গিয়াসউদ্দিনের মা মরিয়ম বেগম চার পাঁচ ঘন্টা প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।পরবর্তিতে জানা যায় যে-জাফর মিয়া সহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সকল মহলকে বিজয় সভার গুরুত্ব ও এক ধরনের ঈঙ্গিত প্রদান আর পরবর্তি প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া হয়েছিলো।যা ছিলো দস্তুরমতো বিরাট চমক।

দেখতে ছোটখাট ছেলেটিকে টুলের উপর দাঁড় করিয়ে দেয়া হলে সারারাত ধরে শিখিয়ে দেয়ার বক্তব্যের সেদিনের সারসংক্ষেপ ও ম্যাসেজ ছিলো-“স্বাধীন বাংলাদেশ হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান ও মুসলমান একথায় সকলের।ধর্ম নিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতির কবর ইতিমধ্যেই রচিত হয়ে গেছে।ধর্ম নিয়ে আবার কেউ রাজনীতি করতে চাইলে তার ভয়াবহ পরিনামের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবধান করে দেয়ার বিষয়টি ছিলো বিজয়সভা’য় ছেলেটিকে দিয়ে বলানোর আসল কারন।নিয়তির কি করুণ পরিহাস-স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মই এখন রাজনীতির বর্ম হয়ে ইতিমধ্যেই ক্যান্সারের মতো তা ছড়িয়ে গেছে।অথচ সেই ছেলেটি তার কয়েক যুগ পরেও তা ভূলেনি।সাম্য,সামাজিক ন্যায় বিচার ও গনতান্ত্রিক আচরনের বিকাশ আর মানুষের মুক্তির সংগ্রাম এখন আরো বেশী দরকার বলে সে মনে করে।
অত:পর সেদিন পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন-রামু থানা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও রাজারকুল আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম সিকদার(পরবর্তিতে রাজার কুলের চেয়ারম্যান)।বক্তব্য প্রদান করেন যথাক্রমে ছাত্রনেতা তৈয়বউল্লাহ সিকদার,দিদারুল আলম চৌধূরী,ছূরত আলম।পরে উকিল মওদুদ আহমদ,জহিরুল ইসলাম চৌধূরী,অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ,ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী,উকিল নূর আহমদ।পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসা পর্য্যন্ত মুজিবনগর সরকারের অধীনে কিভাবে দেশ পরিচালিত হবে,জনগনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে বিশ্লেষনধর্মী বক্তব্য প্রদান করেন সকলেই।অত:পর সভার সভাপতি আবছার কামাল চৌধূরী উপস্থিত জনগনকে দশ বারোটি নির্দেশাবলী পড়ে শুনান।আইন যেনো কেউ হাতে তুলে না নেন-সে বিষয়ে জনগনকে সতর্ক থাকতে বলেন।পরবর্তি নির্বাচন না হওয়া পর্য্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নে পন্চায়েত গঠনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।মাগরিবের বেশ কিছুক্ষন পর সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করার পর পরই মশাল মিছিল সহকারে বিজয়ী বীর জনতার বিজয় মিছিল স্ব স্ব গন্তব্যে প্রস্থান করেন।উল্লেখ্য-সেদিনের মহাসমাবেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজয়ীর বেশে বেরিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের কড়া প্রহরা সকলের আশীর্বাদ ও সুনাম কুড়িয়েছিলো।কক্সবাজারের ইতিহাসে এতো দূ:খ বেদনার মাঝেও বিজয়ের খূশীর আমেজ,কোলাকুলি ও মত বিনিময়ের এমন আন্তরিক দৃশ্য আর কখনও দেখা যায়নি।এরকম ঐক্যমত্যের,আন্তরিকতার স্পর্শের শীতের হিমেল হাওয়ার মধ্য দিয়ে জনতার সমাগমও আর হয়নি।সম্ভাবনার কথা বাদই দিলাম।

১৫’ই জানুয়ারী,লাসভেগাস।
নেভাদা,যুক্তরাষ্ট্র।


মতামত : বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যলেঞ্জ = আবু সাঈদ রতন

রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

২০১৮ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এই টার্নিং পয়েন্টহলো রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুনমাত্রা নিয়ে বছরটি পার করবে এতে কারো সন্দেহ নেই। অভ্যন্তরীন রাজনীতি একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।
এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে যে অবস্থানে দাঁড়িয়েছে তা চলমান রাখাই হবে সরকারের বড় চ্যলেঞ্জ। অর্থনৈতিকক্ষেত্রে বড় চ্যলেঞ্জের কারণহলো আগামী মার্চ মাসেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। এই খবরটি একদিকে যেমন আনন্দের, তেমনি টেনশানের বিষয়ও। কেননা  উন্নয়শীল দেশের কিছু নিয়ম-কানুন আছে যা মেনে চলতেগেলে অর্থনৈতিক অবকাঠামো সূদৃঢ় হতে হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা (ইকোসক) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দিয়ে থাকে। কেননা বাংলাদেশ তাদের সব শর্তই ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। যেমন উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে মাথাপিছু আয় হতে হবে ১২৩০ ডলার, যা বাংলাদেশের আছে ১৬১০ ডলার। মানবসম্পদ সূচক হতে হবে ৬৬, যা বাংলাদেশের আছে ৭২.৮.। অর্থনৈতিক ভঙ্গুর সূচকের স্কোর হতে হবে ২৫ বা তার কম। বাংলাদেশের আছে ২৫।
বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে থেকেই স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পেয়ে আসছিল। এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখানোর ফলে যে আশংকা দেখা দিয়েছে তা হলো, স্বল্পোন্নত দেশের বাজার ও কম সুদের বহি: ্র্ঋণ সুবিধা হারাবে।
ট্রাম্প প্রশাষণ ইতিমধ্যেই ৪০ শতাংশ সাহায্য বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে।


অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব দেশ এ মর্যাদা পেয়েছে তারা সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের কাজগুলো করেছে। এই কাজগুলো যদি বাংলাদেশ দ্রুততার সংগে করতে না পারে তবে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে যাবে। পৃথিবীর অনেক উন্নয়নশীল দেশ আছে যারা উন্নয়নশীল হওয়ার পরেও আর এগুতে পারেনি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখার জন্য ৩ বছর সময় পাবে। এর মধ্যে সবগুলো শর্ত ধরে রাখতে হবে। আর সবশর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যেম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সম্ভাবনা আছে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার ফলে ঋণ সাহায্যে কমে যাবে। তবে অন্যদিকে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হবে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরী এবং মানষিকভাবে প্রস্তুতি সরকারের আছে এবং চেস্টাও আছে। পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অনেকে বেড়েগেছে। বিগত ৪ বছর দেশে কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিলনা বললেই চলে। তাই বাংলাদেশে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এবং সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার গতি ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের মতেও উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন করা ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি যে বৈষম্যের সৃস্টি হচ্ছে তা উন্নয়নের কাজ  আরও দ্রুত করতে হবে। এখানেই বাংলাদেশের মুল চ্যলেঞ্জ। কেননা রাজনৈতিক অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার একটি কমন ফ্যাক্টর। বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখেতো আছেই এবং তা কতদূর পর্যন্ত গড়ায় তা দেখার বিষয়। সরকার ইতোমধ্যেই বিরোধীদলকে অনেকটা দূর্বল করে ফেলেছে।
২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে চ্যালেঞ্জ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা ২০১৮ সালে এসে চুড়ান্তরূপ নিয়েছে। সরকারি দল এক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কেননা ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং জামায়াত মিলে নির্বাচন প্রতিরোধের ডাক দিলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর তা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে তাদের জ্বালাও পোড়াও নেতিবাচক রাজনীতিরচিত্র সরকার অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট বেশ সফলভাবেই জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে পেরেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে জামায়াতের প্রায় শীর্ষ স্থানীয় নেতার ফাঁসি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে বিএনপি জামায়াতের অনেককর্মীই এখন মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে ব্যস্ত। এমন কি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মামলার হাজিরা দিতে দিতেই বছরটি পার করে দিতে পারেন এমনটি আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। সরকার চাচ্ছে বিএনপিকে মামলা মোকাদ্দমার চাপে রেখে দায়সারাভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করাতে। বিএনপি’র অবস্থান এক্ষেত্রে কি হবে তা পরিস্কার নয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে পারলেও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনৈতিক কাঠামো দূর্বল করেছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো চলছে ফ্রি স্টাইলে। বড় বড় ব্যাংকের স্লথগতি উন্নয়নের কাজকে ব্যহত করছে। একনেকের বৈঠকে প্রকল্প পাশ হলেও সময়মত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ঋণদাতা ও সাহায্যেকারি দেশগুলো অর্থ ফেরত নিয়ে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই।  মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে যে দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি জ্ঞান ও বিশ্ব অর্থনীতির ধারণা বাংলাদেশের ঘাটতি আছে বলেই মনে হয়, মানে পর্যাপ্ত নয়। আমদানী, রপ্তানীর ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে আরো কার্যকর ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন। নতুন নতুন বাজার সৃস্টিকরে সে রপ্তানীর উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ আমাদের সকলের। নিজ নিজ দলের নেতা নেত্রীদের সেই নেতৃত্বদানের স্বক্ষমতা অর্জন করে এবং দক্ষ প্রশাসন, আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। তাই সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বাংলাদেশ কি পারবে সেই চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করতে?

-লেখক, সম্পাদক ইউএস বাংলা নিউজ, নিউইর্য়ক