Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতির হালচাল।আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

সৌদি রাজপরিবারের আগ্রাসনের জিহবায় এবার জাতিসংঘের হাত উঠছে।যুদ্ধ-কবলিত ইয়েমেনের ওপর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেয়ার কথা বলেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী মার্ক লোকক শুক্রবার এ কথা বলেছেন।তিনি বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব জোটের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের কারণে দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ আজ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশটির ওপর থেকে অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে।

মার্ক লোকক বলেন, “অবরোধ আংশিক তোলা হয়েছে কিন্তু পুরোপুরি তোলা হয়নি। যদি আমরা ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে চাই এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে চাই তাহলে এ অবরোধ অবশ্যই তুলে নিতে হবে।” তিনি বলেন, ইয়েমেন এমন বিপর্যয়ের কিনারায় রয়েছে যা বহু দশক ধরে বিশ্ব দেখে নি।জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, “যুদ্ধের কিছু আইন-কানুন আছে এবং লোকজনকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।”

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর বর্বর সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এতে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে এবং ঘর-বাড়ি ও না ধরনের অগণিত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে।১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ নভেম্বরকে "আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে।নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে ফিলিস্তিনীদের অধিকারকে সমর্থন জানালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

 বার্তা সংস্থা রিয়া-নোভস্তি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এক অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মন্তব্য করেন।রুশ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় আরও বলেন, ফিলিস্তিনীদের মাঝে বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।একইসঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের উপর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা উচিত বলেও অভিনন্দন বার্তায় উল্লেখ করেন তিনি। মি. পুতিন  গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চলতি মাসের প্রথম দিকে হামাস ও ফাতাহ আন্দোলন জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁচেছে। আশা করা হচ্ছিল- এ চুক্তির পর দু দলের মধ্যে এক দশকের  মতানৈক্য দূর হবে। তবে এই চুক্তির ফলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের  প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষুব্ধ হয়েছেন। চুক্তির পর তিনি দাবি করেছেন, নতুন সরকারের তরফ থেকে অবশ্যই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক ছিন্ন এবং হামাসের সামরিক শাখা বিলুপ্ত করতে হবে। একই দাবি জানিয়েছে আমেরিকা।  

গত সেপ্টেম্বরে হামাস ও ফাতাহ আন্দোলন মিশরের রাজধানী কায়রোয় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে হামাস গাজায় তাদের প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেয় এবং মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আমন্ত্রণ জানায়। ঐক্য প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ২০০৭ সালের পর থেকে গাজায় হামাস ও পশ্চিম তীরে ফাতাহ আন্দোলনের শাসন চলছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। পবিত্র আাল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এ যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।গতকাল (শুক্রবার) ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দেন। তার এ বিবৃতি ফিলিস্তিনের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করা হয়।

আব্বাস বলেন, ইসরাইল নিরাপত্তার নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যে নতুন এ দমন-পীড়ন শুরু করেছে। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের পক্ষে আমি ঘোষণা করছি যে, ইসরাইল তার নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।” গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে মাহমুদ আব্বাস এ বিবৃতি দিলেন।   

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা এবং জামাতা জেরার্ড কুশনার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সফরের সময় ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কথিত শান্তি প্রক্রিয়া আবার শুরু করার লক্ষ্যে কুশনার দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর সেনারা ট্যাংক ও বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি অবরোধের কারণে যখন গাজার জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত তখন এই হামলা চালালো ইসরাইল।

ইজরাইলি সেনারা এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার বেইত হানুন এলাকায় ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের চারটি অবস্থানে তারা হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সেনারা দাবি করেছে, সীমান্তে তাদের অবস্থানে গাজা থেকে ১৫টি মর্টারের গোলা ছোঁড়ার পর তারা কামানের গোলা বর্ষণ ও বিমান থেকে হামলা করেছে। ইসরাইলি হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি।

এদিকে ইরাক ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের সীমান্তবর্তী কিরকুক প্রদেশের ওপর সোমবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরাকি বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে কিরকুকে অবস্থানরত কুর্দি পিশমার্গা বাহিনী শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর হাতে কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ আসার পর সেখানকার সব সরকারি অফিস আদালত থেকে কুর্দি পতাকা নামিয়ে ইরাকের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী এবাদি কিরকুকে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের প্রতিটি জনগণ ইরাকের জাতীয় পতাকার মালিক এবং এই পতাকা দেশের প্রতিটি প্রান্তে আকাশে উড়বে।

লেবানননের পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা কমেছে।হারিরির কার্যালয় থেকে গতরাতে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেমনটি জেনেছেন যে, সবকিছু ইতিবাচক ভাবে চলছে এবং যদি এভাবে চলে তাহলে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন ও সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরিকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ আগামী সপ্তাহে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করব।”লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে বার্তা পাঠিয়েছেন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।হিজবুল্লাহ মহাসচিবের ওই বার্তা


বিদেশ মানে যন্ত্রণা, নয় ফুলের বিছানা

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

লেখকছোটকাল থেকে একটি প্রবল ইচ্ছা আমার মাঝে কাজ করত আর তা ছিল বিদেশ যাওয়া। অনেক ছোট থাকতে নাটক ‘দুবাইওয়ালা’ দেখে এই ইচ্ছাটা আমার মধ্যে বাসা বেঁধেছিল। এই নাটকটি আমাদের এলাকায় তথা চট্টগ্রাম এলাকায় খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ছোট-বড়, যুবক-যুবতী—সবার কাছে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। অনেক আগের কথা, নাটকটির কোনো দৃশ্য বা থিম আজ আমার মনে পড়ছে না। তথাপিও নাটকটির কথা মনে পড়লে আজও আমার হৃদয় এক অজানা আবেশে জড়িয়ে যায়।

তখন আমাদের চট্টগ্রামের মানুষ দুবাই যাওয়ার জন্য ঘর-বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিত। দুবাই নিয়ে চট্টগ্রামে অনেক আঞ্চলিক ভাষার গান মানুষের মুখে মুখে ছিল। গানগুলো তখন স্টাইলিশ যুবক-যুবতীদের ঠোঁটের মধ্যেই থাকত। বিয়ে বাড়িতে মাইকে দুবাইকে নিয়ে গান না বাজালে চলতই না। তখন আমার ভালো করে বুঝ হয়নি, তবও মনের মধ্যে কেন যেন বিদেশের স্বপ্ন বাসা বেঁধেছিল। মনে হয়, দুবাইয়ের কথা শুনতে শুনতে তা মনে গেঁথে গিয়েছিল।
দুবাই ছাড়াও আরও একটি কারণে বিদেশের প্রতি আমার চরম অনুরাগ কাজ করত, তা হলো রেঙ্গুন শহর। আমার মায়ের মুখে এই শহরটির কথা শুনতে শুনতে আমি মনের অজান্তে কোনো এক অজানা দেশে হারিয়ে যেতাম। তখন দুবাইয়ের নাম চট্টগ্রামের মানুষ জানত না। তাদের একমাত্র স্বপ্নের দেশ ছিল রেঙ্গুন। যা বার্মা তথা মিয়ানমারের রাজধানী, বর্তমানে ইয়াঙ্গুন নামে পরিচিত। আমার দাদা বা দাদার-দাদাদের আমলে এই রেঙ্গুন শহর নিয়ে মানুষ স্বপ্ন দেখত। রেঙ্গুন শহর নিয়েও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক পুরোনো গান আছে।
বর্তমান যুবক-যুবতীদের স্বপ্নের দেশ লন্ডন, আমেরিকার মতো রেঙ্গুন শহর ছিল তখনকার যুবকদের স্বপ্নের দেশ। মায়ের কাছে শুনেছি, রেঙ্গুন শহরে গিয়ে অনেকে আর কোনো দিন ফিরে আসত না। অনেকে বিয়ে করে, সংসার করে জীবন কাটিয়ে দিত সেখানে। অনেকে আবার বহু বছর পর বিবাহিত বউ নিয়ে ফিরে আসত। মায়ের কথাগুলো আজ খুব বেশি মনে পড়ছে। কারণ আমার মায়ের ভাষ্যটা হুবহু লন্ডন শহরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এখানে আমার অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, যাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছে কিন্তু তাদের চতুর্থ প্রজন্মরা বাংলাদেশ চেনে না। অনেক বাঙালিরা বিদেশিদের বিয়ে করে বাংলাদেশ নামের দেশটাকে আর চিনতে চায় না।

Picture
দিন পাল্টাচ্ছে কিন্তু মানুষের চিন্তা ভাবনাগুলো একই রয়ে গেছে। তখন ছিল রেঙ্গুন শহর আর এখন লন্ডন শহর। অতীতে মানুষ অজানাকে পুঁজি করে রেঙ্গুন শহরে যেত আর হারিয়ে যেত। এখনো কাহিনি অনুরূপ রয়ে গেছে, মানুষ স্বপ্নের দেশ ইংল্যান্ডে আসার পর আর দেশে ফেরত যেতে চায় না। বিভিন্ন কারণে, মানুষ এসব দেশে থেকে যেতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যে নাগরিকত্ব না পাওয়ার কারণে মানুষ তার নিজের দেশে ফিরে যেতে পারে। তবে অনেকেই জীবনের শেষ বেলায় ফেরে বিধায়, তাদের দুই কুল হারায়। দুই কুল বলতে, সংসার ও জীবনের কোনো সুখ তারা পায় না। সেদিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে মানুষ এক কুল হারায়। যাকে আমি বলি জীবন। জীবনের মধুমাখা সুখপাখি হারিয়ে যায়।
প্রথম যখন লন্ডন শহরে এসেছিলাম, স্বপ্নের দেশের শহরগুলো যে প্রাণহীন, তা বুঝতে পেরেছিলাম। নিজের দেশে অনেক সুখে ছিলাম তা টের পেয়েছিলাম। সারা জীবন লন্ডন, আমেরিকার জন্য পাগল ছিলাম। মনে মনে ভাবতাম, সেসব দেশ কেমন জানি। ভাবতাম, সেসব দেশের মানুষ অনেক সুখে থাকে। আহা যদি যেতে পারতাম! সত্যি কথা বলতে, আমি সেসব দেশের পাখি, মাটির কথাও ভাবতাম। ভাবতাম আহা স্বপ্নের দেশের পাখিরাও কত সুখে থাকে! যদি আমার কাছে পাখির মতো ডানা থাকত! আমিও তো স্বর্গের দেশগুলোতে যেতে পারতাম।
কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন। যা লন্ডন শহরে পা ফেলে টের পেতে শুরু করেছি। আজও কষ্টের বোঝা বয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোন অজানা কারণে লন্ডন শহরটাকে ভালোবেসে ফেলেছি, জানি না। যদি কখনো এ শহর থেকে চলেও যাই, ভুলতে পারব না এই শহরকে এবং এই শহরের মানুষ ও আলো-বাতাসকে!

মোহাম্মদ আবদুল মালেক: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।


এবার রামুথেকেরংপুরেরঠাকুর পাড়ার সহিংসতা= প্রদীপমালাকার, নিউইয়র্ক

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রংপুরের জৌনক টিটুরায় নামক এক যুবকের বিরুধবে মহানবী( সাঃ) কে নিয়ে মিথ্যা কটূক্তি করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতেরঅভিযোগ তুলে গত ১০ই নভেম্বর রংপুরের পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামে স্থানীয় কয়েক হাজার মুসল্লি  হিন্দুদের ৩০ টি বাড়ি, ঘর, মন্দিরে হামলা , লুটতরাজ ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় । পত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যায়(১২ই নভেম্বর ২০১৭, ভোরের কাগজ) রংপুরের পাগলাপীর এলাকার ঠাকুরবাড়ি গ্রামে  হামলা ও আগুন দেওয়ার নেপথ্যে জামায়াত শিবির জড়িত । পরে  তাদের সাথে বিএনপি , আওয়ামী লীগ সহ সব দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী সহিংসতায় জড়িত হয়ে পড়ে ।  এদের মধ্যে ওলামা দলের সভাপতি ইনামুল হক মাজেদি, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আইয়ুব আলী ,জেলা পরিষদের প্রকৌশলী ও প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার  ঘনিষট ভাজন ফজলার রহমান ।
পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায় , আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত ইউপিঃ চেয়ারম্যান ইকরামুল , ইউপিঃ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ,ও হরিদেব পুর  ইউপিঃ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের জড়িত থাকার প্রমান পাওয়াগেছে ।  মজার ব্যাপার হলও , আওয়ামী লীগের সেই জনপ্রতিনিধিরাই আবার হামলার প্রতিবাদ জানাতে কর্মীবাহিনী নিয়ে সানপ্রদায়িক সনপ্রীতি সমাবেশে অংশ নিয়েছে । হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর তারাই আবার সংবাদ স ন্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে ।  রংপুর সিটি নির্বাচনকে  সামনে রেখে রাজনউতিক হীন উদ্দ্যেশ্যে সানপ্রদায়িক সনপ্রীতি বিনষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে ।
অন্যদিকে যেই টিটু রায়কে নিয়ে এত তুলকালাম কাণ্ড, সেই টিটু রায় সমন্ধে গ্রামের লোকজন ও পরিবার জানিয়েছে ,টিটু কোন লেখাপড়া জানে না । কোন মতে নিজের নামটা স্বাক্ষর করতে জানেন । ছয় বছর যাবত পাওনাদারের টাকার ভয়ে বাড়ি ছাড়া । পুলিশ নীলফামারীর জলডাঙ্গা
থেকে টিটু রায়কে গ্রেপ্তার  এবং দুই দুইবার রিমান্ডের পর আদালতের আদেশে  অযামিন যোগ্য
হিসেবে কারাগারে আটক আছেন । অথচ মূল স্ট্যাটাস দাতা হলেন খুলনার মাওলানা আসাদুল্লাহ হামিদী । যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ , দিঘলীয়া উপজেলার সভাপতি । তিনি গত ১৮ই অক্টোবর স্পর্শকাতর স্ট্যাটাসটি দেন এবং ৫ই নভেনবর পর্যন্ত ৮৭ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ওয়ালে শেয়ার দিয়েছে , যাদের একজন রংপুরের এমডি টিটুঁ ।  টিটুর নামে শেয়ার দেওয়া হয় ১৯ শে অক্টোবর । এই  আসাদুল্লাহ হা মিদী কালের কণ্ঠের প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করে, বলেন  রাকেশ মণ্ডল নামে সিলেটের এক ব্যক্তি ঐ কাজ করেছে ।( ১২ই নভে; কালের কণ্ঠ)    তারপর আমি ডাঊণলোড ও মন্তব্য লিখে প্রচার করি । তারই প্রচারের অংশ হিসেবে রংপুরের এমডী টিটু  ৫ই নভেনবর হয়ে যায় টিটু রায় ।
গত বৎসর ব্রামণবাড়িয়াজেলারনাসিরনগরউপজেলায়কথিতরসরাজদাসনামেএকব্যাক্তিরফেইসবুকেকাবাঘরেরউপরহিন্দুদেবতামহাদেবেরছবিপ্রকাশপাওয়ায়ধর্মীয়অনুভূতিতেআঘাতেরঅজুহাততুলেধর্মান্ধগুষ্টি৭১এরহায়ানারমতহিন্দুপল্লীতেতাণ্ডবচালায়।তারা হিন্দুদের তিনশতাধিক বাড়ি  ও পাঁচটি মন্দিরে হামলা, ভাংচুর,লুটতরাজের পাশাপাশি মহিলাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় ।পুরোহিত সহ আহত হয় শতাধিক নারী পুরুষ । অনুরূপভাবে ২০১২ সালে ধর্মান্ধ গুষ্টি কক্সবাজারের রামু উপজেলার বৌদ্দ পল্লিতেতিনশতাধিক বাড়ী ঘর,                                                                                                          অসংখ্য প্যাগোডা সহ পাচশত বছরের পুরনো এউতিহাসিক নিদর্শন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটতরাজ , ভাংচুরসহ নারী নির্যাতন চালায় । এখানেও  উওম বড়ুয়া নামে অল্প শিক্ষিত এক যুবকের ফেইস বুকে ইনসালট  আল্লাহ বা পবিত্র কোরানের উপর নগ্ন নারীর পা রাখার ছবিকে কেন্দ্র করে উক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্দে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে জামায়াতসহ ধর্মান্ধগুষ্টি রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সহয়তায় রামুর বৌদ্দ পল্লী , আনোয়ারা সহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে সানপ্রদায়িক তাণ্ডব চালিয়েছিল । রামুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল,কথিত উওম বড়ুয়ার সাথে স্থানীয় শিবির  ক্যাডারের সখ্যতার সুযোগ নিয়ে উওমের ফেইস বুক আইডি চুরি করে তার মাধ্যমেই কারসাজির ঘটনাটি  ঘটেছিল । পুলিশ পরে তাকে গ্রেপতারও করেছিল ।
২০১১সালেচত্রগ্রামেরনন্দিরহাটেরঘটনায়জামায়াতিরাতুচ্ছঘটনাকেকেন্দ্রকরে৫০টাকাদিয়েলোকভাড়াকরেরাতেরআধারেমসজিদেরদেওয়ালভেঙ্গেহিন্দুদেরউপরদোষচাপিয়েসানপ্রদায়িকহামলাকরছে।২০১২সালের৪আগস্টদিনাজপুরেরচিরিরবন্দরউপজেলায়দেড়শতবছরেরপুরনোকালীমন্দিরথেকে৫০০গজদূরেমসজিদনির্মাণেরপ্রস্থাবকেবিকৃতিকরেজামায়াতনেতাতোয়াবহাজীরনেতৃত্বেওউপজেলাচেয়ারম্যানআফতাবউদ্দিনমোল্লারউস্কানিতেধর্মীয়অনুভূতিতেআঘাতেরউছিলাদিয়েহিন্দুঅধ্যুষিতগ্রামেবাড়িঘরেলুটপাট , আগুনওমন্দিরধ্বংসকরে।একইবছরেরসাতক্ষীরারফতেহপুরগ্রামে২৬শেমার্চস্বাধীনতাদিবসউপলক্ষ্যেআবুল মনসুর সাহেবের রচিত ”হজুরের কেবলা” নাটকটিতে  নাকি নবীজী সমন্ধে কটাক্ষ করা হয়েছে – এই মর্মে স্থানীয় পত্রিকায় এক জামায়াত সাংবাদিক এক প্রতিবেদন ছাপে । উক্ত মিথ্যা প্রতিবেদনকে আশ্রয় করে জামায়াত নেতারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উছিলা তুলে ফতেহপুর গ্রাম এবং দুইদিন পর পার্শ্ববর্তী চাকদহ গ্রামে হিন্দু সনপ্রদায়ের অসংখ্য বাড়িঘর , ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হয় । (পরবর্তীতে তদন্তে প্রতিবেদনটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে সাংবাদিকে গ্রেফতার করা হয় । )   
২০১৪সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে যশোরের মালোপাড়ায়  বিকেলের দিকে ৪ জন মুসলমানকে মালোপাড়ায় হত্যা করা হয়েছে –এমন গুজব রটিয়ে উক্ত গ্রামে র ১২৫ টি হিন্দু বসত বাড়ী, মন্দিরে  আগুন, লুটপাট ও মহিলাদের শালীনতা ঘটানো হয়েছে ।  এরকম আরও অনেক ঘটনা গত দেড় দশকের আওয়ামী আমলে ঘটছে , যার সব ঘটনাগুলি একিই সূত্রে গাথা।             এক দিকে হিন্দুদের উপর  আক্রমণ  করে দেশ থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া এবং হিন্দুদের কাছে আওয়ামী লীগকে  জনপ্রিয়হীন করে  ভোট ব্যাংকে ধস নামানো।  অন্যদিকে ভারতসহ বন্ধুদেশের সমর্থন প্রত্যাহারএবং সরকারকে বেসামাল অবস্থায় নিয়ে যেতে ও যুদবাপরাধীদের বিচার ঠেকাতেই জামায়াত সহ ধর্মান্ধ গুষ্টি এরকম ফন্দি এঁটেছিল বলে রাজনউতিক পণ্ডিতদের ধারণা । সবগুলি ঘটনাতেই আইনশৃঙ্গলা বাহিনীকে  হামলার আগে ভিকটিমরা  খবর দিলে কিংবা সাহায্যের জন্য কাকতি মিনতি করে ও ব্যর্থ হয়  । রাজনউতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব  আন্তরিক থাকলেও  সরকারের  ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা সানপ্রদায়িক দুষ্ট চক্র ,অদক্ষ , অদূরদর্শী কিছু মন্ত্রী ,সাংসদ , আমলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের দুর্বলতার কারনেই ধর্মীয় সংখ্যালঘূরা যথা সময়ে নিরাপওা পায় না ।২০১৫ সালের মানবাধিকার  প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, হিন্দদের সনপত্তি দখল ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ , বিএনপি,বা অন্য রাজনউতিক দলের নেতাদের মধ্যে পাথক্য দেখা যায়নি। রাজনউতিক পরিচয় ও আদর্শ থেকে বের হয়ে এসে তারা সনপত্তিদখল ও নির্যাতনে অংশ নিয়েছে ।যেমন গত১৩ই মার্চ বরগুনার তালতলি উপজেলার চন্দনতলাগ্রামে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা একযোগে ১৪টি হিন্দু পরিবারে হামলা করে তাদের ৪০ একর জমি দখলের চেষ্টা করে ।
নাসির নগরে ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বে কোন্দল ও ব্যক্তি স্বার্থ জড়িত থাকায় মৌলবাদীদের উস্ককে দেওয়া হয় । তার উপর আছে ,দুই প্রধান রাজনউতিক দলের  একে অপরের বিরুধবে দোষারোপের রাজনীতি ।কোন কোন ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা জামায়াত বিএনপির চেয়েও অতি উৎসাহি হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া  দেখিয়েছে ।আর বিরোধী পক্ষ সেই সুযোগ লুফে নিয়ে হিন্দু নির্যাতনের তকমাটাতাদের গায়ে ও  লাগিয়ে দিয়েছে।সেই পুরাতন বানর ছাগলের গল্পের মত,বানরহাঁড়ির সব মাখন খেয়ে সামান্য কিছু মাখন ছাগলের দাঁড়িতে লাগিয়ে  দিয়ে বাড়ীরমালিকেরপ্রশ্নের জবাবে বলে আমি খাইনি ছাগল খেয়েছে।
রামুর ঘটনায় আমরা দেখেছি, বিএনপি-জামায়াত ও ধর্মান্ধ দল্গুলির প্রতিবাদ, সমাবেশ মিছিলের পাশাপাশি যুবলীগ , ছাত্র লীগ, মৎস্য জীবী লীগ ও মিছিল সমাবেশ করেছ।ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা চেয়ারম্যানের  সমাবেশে বক্তব্য শেষ হওয়ার ঘণ্টা খানিক পরই জামায়াত-বিএনিপ ও ধর্মান্ধগুষ্টি রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সহয়তায় রামুর পল্লিতে হামলায় ঝাপিয়ে   পড়েছিল । ব্রামণবাড়ীয়ার নাসিরনগরের ঘটনায় জামায়াত সমর্থিত আহলে সুন্নত জামায়াত ও হেফাজত ইসলাম প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ।পাশাপাশিএকইদিনেআওয়ামীলীগেরইউনিয়নপর্যায়ের তিন নেতার নেতৃত্বে ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল হয় । তারপর দিন
মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরাট বিক্ষোভ মিছিল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  নাসির নগর সদরের দত্ত পাড়া, ঘোষ পাড়া, নমশূদ্র পাড়ায় হামলা সহ  প্রত্যন্ত হরিণবেড় গ্রামের তিনশত বাড়ীঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় ।  প্রিয় পাঠক, গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে পরে বলা হয় বাহির থেকে ডাঊণলোড করে এবং “রসরাজ দাশের “আইডি চুরি করে তার মোবাইলে পাঠানো হয় । রসরাজ নিজেও এই বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে ।
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পর পুলিশ এসে রসরাজকে  গ্রেপতার করে থানায় নিয়ে যায় ।     এখানে তিনটি ঘটনায় টিটু রায়,রসরাজ কিংবা উওম বড়ুয়ারা তো কোন নামি দামী, সংগঠন নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন না । তারা  ছিলেন গ্রামের মধ্যেই অপরিচিত , অশিক্ষিত   খেটে খাওয়া অতি দরিদ্র  পরিবারের সদস্য ।তাদের  বিরুধে বড় বড় মিছিল , সমাবেশ কিসের লক্ষণ ছিল ?  অতীতের এ ধরনের ঘটনা থেকে তা আওয়ামী নেতারা বা প্রশাসন কিজানতো না ? আর গঙ্গাচড়ার ঠাকুর পাড়া,নাসিরনগর ও রামুসহ  এ সকল হামলায়  বিরোধী দল বিএনপি বলছে ,আওয়ামী লীগ ঘটিয়েছে । আর আওয়ামী লীগ দোষ চাপাছে বিএনপি জামায়াত ঘটিয়েছে ।  যারাই  ঘটাক , ভিকটিমসহ দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ ধারাবাহিক দৃশ্যমান ঘটনা প্রবাহের মধ্যদিয়েই বুজতে পারে কারা ঘটিয়েছে ।কিন্তুব্লেইমগেইমেরএইআত্নঘাতিরাজনীতিরকারণেএকবারযদিধর্মীয়সংখ্যালঘুরাআওয়ামীলীগবাবিএনপিরথেকেমুখফিরিয়েনেয়, তবেকারালাভবানহবেতাউভয়বড়দলকেইঅনুধাবনকরতেহবে।সরকার
ক্ষমতায়আশারপরধর্মীয়সংখ্যালঘুদেরনিরাপত্তাবিধানেএবংনির্যাতনেরঘটনাগুলিরদ্রতনিস্পতিকরতেবিশেষট্রাইব্যুনালগঠনেরঘোষণা দিয়ে ছিলেন । কিন্তু আজ ও তা বাস্থবায়ন হয়নি । তাই দেশের মানুষ মনে করে,  সরকার দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বিচারের ব্যবস্থা করে নির্যাতিতদের মনে আস্থা ও সাহস যোগাবেন । সামনে নির্বাচন ও অন্যান্য ইসুতে আবারও সংখ্যালঘুরা টার্গেট হতে পারে । কাজেই সরকার পূর্বের ঘটনাগুলি থেকে শিখ্যা নিয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অধিকার সহ তাদের নিয়ে কুটিল ভোট ব্যাংক রাজনীতি ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত নামে  অপরাজনীতি বন্ধে সকল রাজনউতিক দল্গুলির সাথে  অউক্য মতে পৌছাতে হবে । পাশাপাশি সংসদে জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে একটি হেইট ক্রাইম অথবা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সুরখ্যা বিল এনে এবং তা বাস্থবায়নে সরকারকে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ইহা সময়ের দাবি , জাতীয় দাবী । তানা হলে সরকারের সকল অর্জন ও স্বাধীনতার চেতনা ভু –লন্থিত  হতে বাধ্য ।


রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসন ও নিজে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা:এস ই ইসলাম

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

লেখক :এস ই ইসলাম : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রোহিঙ্গাঁদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন। তাছাড়া সাময়িকভাবে ভাসানচরে ১ লাখ রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য বাসানচরে ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হবে। মঙ্গলবার ২৮/১১/২০১৭ইং তারিখে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী ব্রিফিংয়ে জানান, রোহিঙ্গাঁদের সাময়িক পূনবার্সনের জন্য আশ্রয়ন-৩ নোয়াখালী জেলার হাজিয়া থানাধীন চরইশ^র ইউনিয়নের ভাসানচরে ১লাখ বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার প্রকল্পটি ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাঁদের চাপে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। মিয়ানমারের নাগরিকরা কষ্টে আছেন এবং আমাদের স্থানীয় মানুষজনরাও কষ্ট করছেন। এছাড়াও বৃহত্তম কক্সবাজার পর্যটনে বিদেশীদের ভ্রমন করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমরা বিশ^াস করি সরকারের হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে খুব দ্রুত আশ্রয়কৃত রোহিঙ্গাঁর জীবন মান উন্নত হবে এবং তারা তাদের নিজে দেশে ফিরে যেতে সক্ষম হবে। যদিও এক্ষেত্রে কুটনৈতিক যোগাযোগ অব্যহত রেয়েছে। বিশে^র ক্ষমতাশীন রাষ্ট্রগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে খুব দ্রুতই সরকারের হাতে নেওয়া প্রকল্প রোহিঙ্গা পূর্ণবাসন ও নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে আশা করছেন। রোহিঙ্গাঁ আশ্রয় উপলক্ষে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদার অব হিউমেনিটি আক্ষায় আক্ষায়িত হয়েছেন এতে আমি সাংবাদিক হিসাবে গর্ববোধ করছি।
আইন শৃ্ঙ্খংলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে কোন ভাবেই যেন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আগত রোহিঙ্গাঁ যেন অনত্র ছড়িয়ে না পরে। সম্প্রতি শান্তির বার্তা নিয়ে তিন দিনের সফরে গত ৩০/১১/২০১৭ ইং তারিখে বাংলাদেশে এসেছেন খ্রীস্টান রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। প্রভাবশালী এই ধর্ম গুরু ঢাকা সফরে রোহিঙ্গাঁ সংকটে প্রধান্য দিবেন বলে আশা করছেন সরকার।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্ত উপাসনা ও যাজকদের অভিষেক অনুষ্ঠান হয়। সেখানে পোপ  ফ্রান্সিস মানুষের মঙ্গলে কাজ করে যাওয়ার জন্য আহবান জানান। এদিকে শুক্রবার প্রথমবার  রোহিঙ্গাঁ শব্দটি উচ্চারন করেছেন পোপ ফ্রান্সিস।                                                    
রোহিঙ্গাঁদের উদ্দেশে সমবেদনা প্রকাশ করে খ্রীস্টান রোমান ক্যাথলিক প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন তোমাদের কষ্ট ও দূরবস্থা আমরা বুঝি।আমরা তোমাদের দূ:খের সমব্যাথী। আমরা তোমাদের শান্তি কামনা করি। শুক্রবার  কাকরাইলের আর্চ বিশপ মাঠে রোহিঙ্গাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। আমরা আশা করেছিলাম যে ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার কুতুপালং এ যাবেন এবং রোহিঙ্গাঁদের অবস্থা নিজ চোখে দেখে আসবেন। আর এটি করলে রোহিঙ্গাঁদের কষ্ট তিনি উপলব্দি করতে পারতেন।


How do Hindus survive in Bangladesh?

শুক্রবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৭

Sachin Karmakar : Bangladesh is rapidly moving towards an Islamic Republic state. Disguised secular political parties are in ties with Jamat and Hefajat for retaining power and grabbing national wealth. They are torching Hindu villages in Nasirnagar,Govindaganj, Ranpur and elsewhere to please radical forces and to traumatize Hindu population to live country or get converted to Islam. By doing so they also create indirect pressure on India with threat of new Hindu refugee in their country? Although silent migration of Hindus are continuing on daily basis since 1972? 1972 t0 1975 was a worst nightmare for the Hindus in Bangladesh. Party Hindus prefer to vote has turned more radical in past ten years than last 60 years of their formation. Radical academic institution,radical culture and extremism is growing in jet speed, traditional Bengali dresses and culture has been replaced with Arabian dress and culture. With in next two decade Bangladesh may change to a different nation than that of 1952 & 1971? You may raise voice against those corrupt politicians and ask people not to vote for bank looter,land grabber,temple destroyer and attackers on minority. Hindus can decide fate of 80-90 seats where they are 20% and above. Even abstaining will have a positive impact on political parties. Rather then begging for rights to the major political parties for personal nomination, Hindus can put independent candidate in selective seats. If you can't even win with your number of votes, at least deny corrupt political party candidates to win easily. By doing so you can force major parties to change their attitude towards Hindus and compel them to form an election alliances with you. Hindus are not parasite in this country, they have given more blood then Muslims in 1971. Nearly 93% refugees,70% martyrs are from Hindu community and 80-90% rape victims are also Hindus. Bangladesh belongs to Surja Sen Khudi Ram and million indigenous Buddhist and Hindus. Arabs,Turks and Afghans are migrate in Bangladesh. Don't consider living Bangladesh under threat of radicals, they grow faster and die faster. Natural justice comes in slow speed than bullet, but it survived for millions of years in natural way. Mother Nature is Mightier than Sward?


মার্কেটিংয়ে সাফল্যের চাবিকাঠি—-অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সারা দুনিয়াতেই মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে পড়ান হয়। একাডেমিক ডিসিপ্লিন হিসেবে আমেরিকায় বা পাশ্চাত্য দেশগুলোতে ৮০ বছর এবং বাংলাদেশে প্রায় ৪০ বছর ধরে মার্কেটিং পড়ান হয়। মার্কেটিং যেহেতু ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই ব্যবসায় অনুষদেই বিষয়টি পড়ান হয়।
সাধারণত পণ্য বিক্রি করার যে কৌশল সেটাকে আমরা মার্কেটিং বা বাজারজাতকরণ বলি। অর্থাত্ পণ্য সামগ্রী উত্পাদন কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আগে পরে যে কাজগুলো রয়েছে তাই মার্কেটিং। কিন্তু এখন আর বিষয়টি ওই গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বলা হয়, মার্কেটিং এখন ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাও এখন মার্কেটিং। সেই অর্থে সরাসরি আমরা যাদেরকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বলি, যারা পণ্য বেচা কেনা করে বা সেবা বেচা কেনা করে এর বাইরেও বহু প্রতিষ্ঠান এখন মার্কেটিংয়ের কৌশল প্রযুক্তি এবং দর্শনকে ব্যবহার করছে। এক সময় মনে করা হতো সাবান, শ্যাম্পু, কোকাকোলা এগুলো উত্পাদন এবং বিক্রির সঙ্গে মার্কেটিং জড়িত। কিন্তু এখন তা বলা হয় না। ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, সামাজিক সমস্যা, যেমন নারী নির্যাতন, পরিবেশ দূষণ, শিশু-কিশোরদের অধিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তন, আবহাওয়া পরিবর্তন এ সবগুলোই এখন মার্কেটিংয়ের বিষয়।
ছোট একটা উদাহরণ দেওয়া যায়, সেনাবাহিনীও আজকাল বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কারণ, তারা চায় মেধাবী ছেলেরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিক। এটাও আসলে মার্কেটিং। যেখানে মানুষ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে এবং প্রভাবিত করবে, উদ্বুদ্ধ করবে এবং প্ররোচিত করবে, তখন আমরা বলব এটার সঙ্গে মার্কেটিং জড়িত। মার্কেটিং শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, পুলিশ বাহিনী থেকে আরম্ভ করে আমাদের সমাজের অসংখ্য সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। যেমন, ইলেকশনের সময় রাজনৈতিক দল দলীয় প্রার্থীর জন্য ক্যাম্পেইন করে এটাও মার্কেটিং। মার্কেটিংয়ের চারটি হাতিয়ার আছে, এগুলো হলো: প্রোডাক্ট, প্রাইস, প্লেস এবং প্রমোশন। এই হাতিয়ারগুলো এখন সবাই ব্যবহার করছে।
প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে খুব সহজে এখন  প্রোডাকশনের পরিমাণ বাড়ান যায়। টেকনোলজি এত দ্রুত গতিসম্পন্ন যে, খুব সহজেই পণ্য উত্পাদন করা সম্ভব। কিন্তু প্রোডাক্ট বিক্রি করা এত সহজ নয়। কারণ মানুষের মন পাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ধরে রাখা কেবল উন্নত প্রযুক্তি অথবা যন্ত্রপাতি দিয়ে হয় না। এখানে হিউম্যান রিসোর্স দরকার, দরকার দক্ষ জনশক্তি, যারা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করবে এবং মেইনটেইন করবে। আমরা তো প্রফিটের কথা বলি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই প্রফিট করতে হবে। অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও প্রফিটের কথা চিন্তা করে। যদিও আমরা এগুলোকে ননপ্রফিটেবল অর্গানাইজেশন বলি তারপরও এদের একটি সামাজিক লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। লাভই হোক বা উদ্দেশ্য অর্জনই হোক, যেটিই আমরা করতে চাই না কেনো এটার একটা সফলতা থাকা লাগবে যার জন্য মানুষকে আকর্ষণ করার একটা ক্ষমতা থাকা চাই। আর সেটা কোনো যন্ত্র দিয়ে করা যায় না। প্রযুক্তির উত্কর্ষের কারণে প্রোডাকশনে শ্রমিক কম লাগলেও মার্কেটিংয়ে লোক বেশি লাগছে। অর্থাত্ একদিকে প্রযুক্তিগত কারণে শ্রমশক্তি কম লাগছে, অন্যদিকে এগুলো বিক্রির জন্য মার্কেটিংয়ে আরো বেশি লোক লাগছে। কোম্পানির হিসাব নিকাশ সফটওয়ার ব্যবহার করে করা গেলেও মানুষকে প্ররোচিত করে, উদ্বুদ্ধ করে প্রোডাক্টটা কেনা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত তাকে স্থায়ী ক্রেতায় রূপান্তর করা এটা কোনো মেশিনপত্র দিয়ে করা যায় না। যার কারণে দেখা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে হিউম্যান রিসোর্সের ডিমান্ডটা আরো বেড়েছে।


কোনো অর্থনীতি যত গ্রো করবে, সাইজ যত বড় হবে তখন ক্রমান্বয়ে একটা সার্ভিস অর্থনীতিতে পরিণত হবে। যেখানে প্রোডাকশনে কাজের লোকের পরিমাণ কমে যাবে আর সার্ভিস এবং অন্যান্য কাজগুলো যেমন, বিক্রি এবং ক্রেতা সন্তুষ্টির জন্য আফটার সেলস সার্ভিস দেওয়া, সাপোর্ট দেওয়া এই কাজগুলোর গুরুত্ব বেড়ে যাবে। যার কারণে যে অর্থনীতি যত উন্নত হবে সেই অর্থনীতিতে মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব তত বেশি বেড়ে যাবে।
আমি বলব না মার্কেটিং পেশায় সফল হতে হলে মার্কেটিং পড়ার কোনো দরকার নাই। যদিও পৃথিবীতে যত লোক মার্কেটার হিসাবে সবচেয়ে সফল তারা কোনদিন মার্কেটিং পড়েন নাই। ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ, এমবিএ পড়েন নাই। বিল গেটস্ ভর্তি হয়েছিলেন এমবিএতে। পড়েন নাই। দুই সেমিস্টার পড়ে চলে গেছেন। তাঁর চেয়ে বড় মার্কেটার তো আর দুনিয়াতে নাই। আমাদের আবুল হাশেম, পার্টেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান, আমাদের মোস্তফা কামাল, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান, প্রত্যেকে প্রায় ৪০টা করে কোম্পানির মালিক। মার্কেটিং পড়া তো দূরের কথা, ইউভার্সিটির ধারেকাছেও আসেন নাই। অতএব মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার জন্য বাজারকে বুঝতে পারা এবং মানুষকে বুঝতে পারার ক্ষমতা থাকলেই হয়। কাস্টমাররা কী চায় এটা যদি কোনোভাবে অনুধাবন করতে পারা যায়, তাহলে মার্কেটিং করতে আর কোনো সমস্যা হবে না। কাস্টমারের প্রয়োজন বুঝে প্রোডাক্ট তৈরি করলে তখন আর বিক্রির সমস্যা হয় না। তবে আগেকার দিনের যাদের উদাহরণ দিলাম আবুল হাশেম, মোস্তফা কামাল, তাদের দিনটা আর এখনকার দিনটা এক নয়। বাস্তবতা হচ্ছে এখন অনেক ধরনের আইন কানুন, কমপ্লায়েন্সের বিষয়গুলো চলে এসেছে। এরপর প্রযুক্তির বিষয় চলে এসেছে। অনেক সায়েন্টিফিক গবেষণার বিষয় চলে এসেছে। এই ক্ষেত্রগুলোতে একাডেমিক জ্ঞানটা লাগে। আগে যারা কোম্পানি তৈরি করত তারা  শুধু উদ্যোক্তা ছিলেন। আর যারা এমবিএ বিবিএ পাস করে চাকরি করত তারা স্রেফ ফর্মুলা প্রয়োগ করত।  কিন্তু এখন আর এটা কাজে আসছে না। তাদেরও উদ্যোক্তার মত আচরণ করতে হবে। তাদেরকে এ রিক্স নিতে হবে এবং কাস্টমারকে বোঝার জন্য তাদের সঙ্গে মিশতে হবে। ব্যবসায় প্রসার বাড়ার কারণে, প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে যখন তীব্র প্রতিযোগিতার যুগ আসছে তখন আবার না পড়া লোকগুলো যারা সফল হয়েছে, তারা এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। উদ্যোক্তার বুদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ফর্মুলা পড়ান হয় এই দুইটার যখন সম্মেলন ঘটে তখনই কোম্পানিটা দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। অতএব মার্কেটিং পড়ার গুরুত্ব তো আছেই।
আমি প্রায়শ বলি মার্কেটিংয়ে  সফল হতে হলে সমাধান না খুঁজে সমস্যা খোঁজা উচিত। আমাদের এখানে যেটা হয় প্রায় সময়ই সমাধানটার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়। যেমন মশারি একটা সমাধান। এটা কোনো সমস্যা নয়। মশারি তো মশার কামড় থেকে পরিত্রাণের একটা উপায়। যখনই আমরা সমস্যাটাকে বিশ্লেষণ করব, তখনই দেখব বিদ্যমান যে পণ্যটা আছে তার চেয়ে আরো ভালো সমাধান হয়ত আমার মাথায় চলে আসতে পারে। মশারিকে যদি আরো উন্নত করতে চাই তাহলে এক সময় মশারির ভিতর বাতাস ঢুকাই বন্ধ হয়ে যাবে। মশা কিন্তু ঢুকবেই। কারণ মশারও বুদ্ধি আছে। আমি যেটা বলতে চাই, মশার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য এখন অনেক কিছু বেরিয়েছে, গুডনাইট লিকুইড বেরিয়েছে, ভাইব্রেশন বেরিয়েছে, এমন ভাইব্রেশন যা মানুষের কানে আসবে না কিন্তু কোনো মশা থাকতে পারবে না। ইঁদুর মারা কলটা নিয়ে গবেষণা না করে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে গবেষণা করলেই দেখা যাবে, আরো নানা সমাধান বের হয়ে আসছে। যেমন, একটা বাড়ীতে একটা বিড়াল পাললেই তো হয়। এজন্য প্রত্যেকটা প্রোডাক্টকে বলা হয় সলিউশন। তাই প্রবলেমটাকে যত বেশি গবেষণা করা হবে অল্টারনেটিভ সমাধান বের হয়ে আসবে।
একটা সময় প্রডাক্ট, প্রাইস, প্লেস, প্রমোশন এই ৪টা মৌলিক উপাদান নিয়ে মার্কেটিং কাজ করত। একটা যুতসই প্রোডাক্ট বের করতে হবে, এমন মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যা মানুষ খরচ করতে পারবে, সহজে মানুষ পায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রচার প্রচারণা করতে হবে। এই ৪ ‘পি’ যেটা ছিল, সেটা পরবর্তী পর্যায়ে কটলার এবং তাঁর সহযোগীরা এসে বললেন, এটা তো কোম্পানির দিক থেকে বলা হয়েছে, কাস্টমারের দিক থেকে চিন্তা করলে তখন হয় ফোর ‘সি’। এটা হলো কাস্টমার সলিউশন, কস্ট, কনভেনিয়েন্স এবং কমিউনিকেশন। এখন আরো অ্যাডভান্স লেবেলের চিন্তা করা হচ্ছে। জগদিশ শেঠ এবং তার সহযোগীরা বলছেন, এর চেয়ে আরো ভালো হয়, ফোর ‘সি’ না বলে ফোর ‘এ’ বলা হয়। ফোর ‘এ’ হলো-এক্সেপটিবিলিটি সমাধানটি ভোক্তার নিকট গ্রহণযোগ্য হতে হবে। যেটাকে মূল্য আমরা বলি সেটা হতে হবে এফোরডেবেলিটি। অর্থাত্ এটা ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে। এক্সেসিবিলিটি অর্থাত্ মানুষ যেন সহজেই এটার কাছে পৌঁছাতে পারে। ডেলিভারি থেকে আরম্ভ করে পেমেন্ট পর্যন্ত সুবিধা থাকতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই আগামী ১০ বছর পরে মানুষ দোকানে যাবে না। সবাই অনলাইন নির্ভর হয়ে যাবে। সবশেষে থাকে কেবল ক্রেতাকে ‘অবহিত’ করা বা ‘এওয়্যারনেস’।
আমরা বলি সবাইকে মার্কেটিং পড়ানর দরকার নাই। তবে ব্যবসায় অনুষদের যে কোনো সাবজেক্টে পড়তে চাইলে অবশ্যই মার্কেটিং লাগবে। তাদের মার্কেটিংয়ের ন্যূনতম জ্ঞান থাকতে হবে।


“রাখাইন রাজ্যে তো রোহিঙ্গারা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি” - প্রদীপ মালাকার-নিউইয়র্ক,ইউএসএ

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

গত ২৫ শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে সেনাবাহিনীর গণহত্যা চালিয়ে  হাজার অধিক রোহিঙ্গা হত্যা, দুই শতাধিক রুহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া,শত শত নারী ধর্ষণ, কয়েক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা  ৪ লক্ষ্য ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় । দেখা দেয় মানবিক বিপর্যয় , চলমান সেনা অভিযানে ,  জাতিসংঘ সহ সারা বিশ্বের প্রতিবাদ,ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এ সমস্যার  সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছেন দেশটির স্টেট কাউঞ্ছিলার অং সান সুচি। তিনি যাচাই বাছাই সাপেক্ষে কিছু  মুসলমানকে ফেরত নিতে সন্মতি জানিয়েছেন । গত  ২১শে সেপ্টেম্বর নিকি  এশিয়ান বিভিউকে দেওয়া সাখ্যাতকারে তিনি  আরও  বলেন , ১৯৯৩ সালের বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ার কথা বলেন ।  ইতিপূর্বে মিয়ানমারের সেনা প্রধান ও  অন্যান্য কর্মকর্তারা ও দাবী করেন যাদের নাগরিত্বের কাগজ আছে তাদেরই যাচাই বাছাই করে ফেরত নেওয়া হবে ।    
মিয়ানমারের  ৫ কোটির অধিক জনসংখ্যার ৫% রোহিঙ্গা মুসলমান ,৫% রোহিঙ্গা হিন্দু ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতি গুষ্টি এবং বাদবাকি ৯০% বৌধব মগ।  অং সান সুচিসহ মিয়ানমারের শাসকরা রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেনি , তারা যে অন্যান্য জাতি গুষ্টির মত  একটি জাতি তা স্বীকার করে না।  তারা বাঙ্গালী মুসলমান ,তারা বহিরাগত ও সন্ত্রাসী এবং ১৯৭১ সালে যুদবের সময় থেকে সে দেশে অবেউধ্যভাবে বসবাস শুরু করেছে ।কাজেই বর্মীদের জন্য বার্মা । এতে স্পষ্টতই প্রমান হয় যে ,উগ্রজাতীয়তাবাদের  নাম করে তিনি(সুচি) রোহিঙ্গা নিধন ও বহিষ্কারের এক জঘন্য খেলায় মত্ত। ২৫শে আগস্টের পর  থেকে  উন্মাদপ্রায়, বর্বর ও সানপ্রদায়িক বর্মী সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠুর অত্যাচারে বাধ্য হয়ে লাখো রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে  বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে । মনে পরে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে টিক্কা খানের নৃশংস গণহত্যা ও অত্যাচারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এক কোটি বাঙ্গালী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল ।     নয় মাসের যুদবের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক চাপে কুট কৌশলী ইয়াহিয়া শুধু ৩০ লক্ষ্য ( যার সকলেই মুসলমান ) শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছিল ।   এখানেও শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে শুভঙ্করের ফাকি ১৯৯৩ চুক্তিকেই সমর্থন করেছে ।  এতে লক্ষ্য লক্ষ্য শরণার্থীর মধ্য থেকে যাদের কাগজ পত্র আছে বা নাগরিকত্ব প্রমান করতে পারবে  তারাই ফিরে যেতে পারবে , বাদবাকি অন্যরা নয় ।
এবার রোহিঙ্গাদের অতীত ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে দেখা যাক, তারা  পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি নৃতাত্ত্বিক  জনগোষ্ঠী । কুরুখ নামে অস্ত্রিক জাতির একটি শাখা পূর্ব ভারত থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ বছর আগে রাখাইন রাজ্যে বসতি স্থাপন করে । এরপর ক্রমান্বয়ে বঙ্গপোসাগরের উপকুলে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে । মধ্যযুগে স্বাধীন রাখাইনকে রোসাং বা রোসাঙ্গ বলা হতো । রোসাংথেকেই সনভবত  রোহাঙ্গা বা রোহিঙ্গার উৎপত্তি । তখন মুসলমানগণ এই রাজ্য শাসন করতেন । ফলে রাজভাষা ছিল ফার্সি । তবে বাংলা সাহিত্য চর্চার ও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল রোসাং রাজদরবার । মহাকবি আলাওল রোসাং দরবারে রাজ কবি ছিলেন । তিনি লিখেছিলেন মহাকাব্য পদ্মাবতী । এছারা সতী ময়না ও লুর-চন্দ্রানী ,সয়ফুলমুল, জঙ্গনামা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ রচিত হয়েছিল রোসাং রাজদরবারের  আনুকুল্যে ও পৃষ্ঠপোষকতায় ।     সপ্তম- অষ্টম শতাব্দীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয় ।প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যিয় মুসলমান ও স্থানীয় আরাকানিদের সংমিশ্রণে রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব হয় । পরবর্তীতে বাঙালি,পার্শি , তুরকি, মুঘল, আরব ও পাঠান,মধ্যএশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার মানুষের মিশ্রণে এই জাতি ত্রয়োদশ –চতুর্দশ শতাব্দীতে একটি পূর্নাঙ্গ জাতি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে । মিয়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, মংডু, কিওকতাও , মাম্ব্রা, পাত্তরকিলা, কাইউকপাইড , পুন্যাগুন ও পাউকতাই এলাকা এদের আস্থানা । আরাকান রাজ্যের  ভাষার নামও রোহিঙ্গা ।  আরাকানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের এউতিহাসিক পটভূমি রয়েছে ।ইতিহাস বলছে , রোহিঙ্গারা  আরাকানের ভূমিপুত্র ।
+  ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের আরাকান স্বাধীন রাজ্য ছিল ।    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মিয়ানমারের ( বার্মার ) দক্ষিণে বাস করত বৌদব ধর্মের অনুসারী “মগেরা” এবং উত্তরে ইসলাম ও হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী “রোহিঙ্গা “ সনপ্রদায়  । তবে আরাকান রাজ্যের মালভূমিতে “রাখাইন “ ওু সমতলে ”রোহিঙ্গ” জাতি গোষ্ঠীর লোকেরা বসবাস করত । মগেরা ছিল মূলত মঙ্গোলীয় এবং তাদের একটি অংশ জলদস্যু ছিল ।  “রোহিঙ্গাদের উৎস ও বিকাশ “ শীর্ষক এক গবেষণায় অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন , ‘রাজা ভোধাপোয়া আরাকান দখল করে বার্মার সঙ্গে যুক্ত করার আগে ১৪০৪ সাল থেকে ১৬২২ সাল পর্যন্ত ১৬ জন মুসলিম রাজা আরাকান শাসন করেন । আর এতেই বুজা যায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী  এ রাজ্যে উড়ে এসে জুড়ে বসেনি । রাজা  ভোধাপোয়া ১৭৮৪ সালে এ রাজ্য  দখলের পর বৌদব ধর্মের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে । তারপর বর্মীদের সঙ্গে তিনটি  যুব্দের (১৮২৫ , ১৮৫২, ও ১৮৮৫) পর ১৮৮৬ সালে ইংরেজরা বার্মায় কলোনি স্থাপন করে ।পরবর্তীতে ইংরেজরা বার্মাকে ভারতের অংশ হিসেবে শাসন করে ১৯১৯ সাল থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত । ওই বছর থেকে ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বার্মা ছিল ব্রিটেনের ক্রাউন কলোনি । বিদায়ের আগে ইংরেজরা বার্মার ১৩৯টি জাতি গুষ্টির তালিকা তেউরি করে । রোহিঙ্গাদের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি । আর এইখানেই অশান্তির বীজ বপন করা হয়েছে ।বার্মায় অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার যে বীজ ব্রিটিশরা বপন করে গিয়েছিল, কালান্তরে তাই এক আন্তর্জাতিক মানবিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে । শতাব্দীর পর শতাব্দী বার্মায় বসবাস করার পরও রোহিঙ্গারা আজ নিজ দেশেই পরদেশি। বার্মার প্রথম পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব  ছিল । কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন  সামরিক অভুয়ন্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর সবকিছু পাল্টে যায় , রাতারাতি রোহিঙ্গারা হয়ে যায় কালা ও বিদেশী । বাহ্যত তখন থেকেই শুরু হয় তাদের বিরুদবে অত্যাচার , অবিচার ও লাঞ্ছনা । তাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় ।        
পরবর্তীতে সামরিক শাসকগনও রোহিঙ্গাদের জাতিসত্তা ও  নাগরিক অধিকার  ধারাবাহিকভাবে  অস্বীকার করে  আসছে । তারই ফলসুশ্রীতে , ৮০র দশকে নির্যাতিত ,বঞ্চিত, ক্ষুব্ধ ও রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সহস্র আন্দোলনে নামে। তারা “ আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি “  সংক্ষেপে (আরসা ) নামে সহস্র সংগঠন গঠন করে মিয়ানমার শাসকদের বিরুদবে লড়াই করে যাচ্ছে ।  আর মিয়ানমারের সামরিক শাসকগন সেই সুযোগ নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ট বৌদব সনপ্রদা্যের মধ্যে  ঘৃণা ,বিদ্বেষ ছড়ানোর  লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রচারনা চালানো হয় যে, তারা রোহিঙ্গা নয় , তারা বিদেশী , বাঙ্গালী ও সন্ত্রাসী । কক্সবাজারের উখিয়াসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের বলেছেন ,আমরা বাঙালি নই , বার্মাইয়া । আমাদের দেশ বার্মা। সেখানে বাপ-দাদার ভিটি আছে , কবর আছে । আমরা আমাদের দেশে ফিরে যেতে চাই । কিন্তু কে তাদের দায়ভার গ্রহণ করবে ? চীন , ভারত , রাশিয়া, জাপানসহ ক্ষমতাধর দেশগুলি তো  প্রকারান্তরে মিয়ানমার সরকারকেই সমর্থন করেছে । ক্ষমতাধর এই দেশগুলি তাদের স্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছে । ফলে মিয়ানমারে এসব দেশের অর্থনউতিক বিনিয়োগের কাছে মারা গেছে বিশ্ব মানবতা ।        
দেশান্তরে যাওয়ার প্রবণতা  দীর্ঘদিনের  । ইউরোপের ইমিগ্রেনটরা গড়ে তুলেছেন আধুনিক আমেরিকা । বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ,অস্ট্রেলিয়া , ব্রিটেন ,ফ্রান্স, জার্মান সহ অনেক দেশে । মুঘলদের বংশধর তো ভারতেই অবস্থান করছেন  । তাদের কাউকেই এখন আর তাদের পূর্ব পুরুষদের দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না । তাই মিয়ানমারকে বুজতে হবে যে, শত শত বছর বার্মায় বসবাস করার পর  বর্তমান প্রজন্মের রোহিঙ্গারা কোনভাবেই বাঙালি নয় , তারা বর্মী । শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে ও  আমরা দেখি , সেই ব্রিটিশ আমলে কিছু লোক বার্মার কয়েকটি শহরে গিয়ে চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করেছে , কিন্তু ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর সেই আকর্ষণ আর অবশিষ্ট ছিল না  মহান মুক্তিযুদবের সময় বাঙালিরা সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে উগ্র বর্মীরা যে প্রচারণা চালাচ্ছে  তাও সত্য নয় ।     
রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের , এখানে বাংলাদেশ কোন প্রতিপক্ষ নয় কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর  গণহত্যা , অত্যাচার ,নির্যাতন থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ্য  রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তখন তো বাংলাদেশের উপর অযাচিতভাবে দায়িত্ব একটা এসেই পড়েছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সারা দিয়ে জাতিসঙ্ঘসহ আজ বিশ্ব বিবেক  রোহিঙ্গাদের পখ্যে । বাংলাদেশ  মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মানবিক কারনে  সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে , কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট এই সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই  করতে হবে । তবে সুচির রূপরেখায় তা অসনভব ।কারণ তিনি ১৯৯৩ সালের স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ মিয়ানমার চুক্তিকেই ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন । কিন্তু অধিকাংশ শরণার্থীর তো কোন  কাগজপত্রই নেই। আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে সমস্যার আশু ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে  সেফজোনসহ( সেইফ জোন হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে  নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘের শান্তি রক্ষীবাহিনীর  তত্তাবধানে নিরাপত্তা দেওয়া ) পাঁচ দফা দাবী  জানান । যা বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে । তাছাড়া সুচির নির্দেশে বহুদিন ধরে চলমান সংঘষ- সহিংসতার সংকট সমাধানে ২০১৬ সালে আগস্টে গঠিত  হয় এডভাইজারি কমিশন অন রাখাইন স্টেট । জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আননের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন  গত ২৪শে আগস্ট সুচি  সরকার বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেয় ।  তদন্ত রিপোর্টই সকল শ্রেণী , গুষ্টির , জাতি , ধর্মের অধিকার,নিরাপত্তার  নিশ্চিত করার কথা বলায় সকল মহলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে । কাজেই বল এখন সুচির কোর্টে ।সমস্যা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার , এর সমাধানও তাদেরই করতে হবে ।  বাস্থবতার নিরিখে মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব প্রদানের গ্যারান্টি দিয়ে তার সরকারকেই ফেরত নিতে হবে এই জনগোষ্ঠীকে । সারা বিশ্বের নজর এখন সুচির দিকে ।দেখা যাক শান্তিতে নোবেল পাওয়া  অং সান সুচি কি  করেন ?। ততদিনে সেই অপেখ্যাই রইল ।     


প্রবাসের তৃপ্তি

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

আমি চেষ্টা করি সেই জায়গাগুলোই ঘুরতে যেই জায়গা গুলোতে আমাদের বাংলাদেশীরা থাকেন না কারন ঐ জায়গা গুলোতে ঘুরতে গিয়ে ঐ জায়গার মানুষগুলোকে পরিচিত করাতে পারি আমার দেশ বাংলাদেশের সাথে।

আমি থাকি ইটালীতে, ইটালীর বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। তবে খুব ভালো ব্যবসায়ী ছাড়া সকল প্রবাসীরাই ইটালীর পার্সপোট নিয়ে ইউরোপিয়ান নাগরিক হয়ে পারি জমাচ্ছে ইংল্যান্ডে।

সেখানে রয়েছে অবাধ চাকুরী বাকুরী ও ব্যবসার সুযোগ তাছাড়াও সরকারী সুযোগ সুবিধা।তবে সরকারী সুযোগ সুবিধার দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ডেও আগামী ২০১৯ থেকে আসছে নতুন আইন।

কারন সরকারী সুযোগ সুবিধা ইউরোপিয়ানদের জন্য বন্ধ করতেই ইংল্যান্ড ইউরোপ ইউনিয়ন থেকে বিছিন্ন হয়েছে।
বর্তমানে ইটালীতে লিবিয়া থেকে এসে বাংলাদেশীদের সংখ্যা হয়েছে সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান।

ইটালিয়ান সরকার লিবিয়া থেকে আসা লোকদের রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি দিচ্ছে বসবাসের জায়গা, খাবার ও হাত খরচ এবং কর্মের জন্য করাছে বিভিন্ন কোর্স ।গত চার বছর ধরে ইটালীতে বন্ধ আছে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা।
সবকিছুর পরেও সুনিশ্চিত ভর্বিষত ইটালীতে না থাকলেও বসবাসের জন্য আমার মতে শান্তির একটি দেশ ইটালী কারন সৌখিন ও শিল্প উন্নত দেশগুলোর ভিতরে বিশ্ব বিখ্যাত দেশগুলোর একটি ইটালী।

Picture

কথায় আছে না হাতী মরলেও লাখ টাকা তেমন ইটালীর অর্থনৈতিক মন্দা হলেও খাবার দাবারে, পোশাকে ফ্যাশনে এখনও বিশ্বের এক নাম্বার।

আমি সপ্তাহে পাঁচদিন কর্ম দিনের পর শনিবার, রবিবার ঘুরতে খুব পছন্দ করি।কোন সপ্তাহে কাউকে বাসায় আমন্ত্রন করি এক সাথে খাওয়া দাওয়া গল্প করি।দুই মাসে একবার কোন না কোন ইটালীয়ান পরিবারকে আমন্ত্রন করি থাকি,তাদের সাথে পরিচিত করাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলোর সাথে, পাশাপাশি দেশের গল্প শুনাই তাদের কারন আমি সুদীর্ঘ এক যুগ আছি এই দেশটিতে ইটালীয়ানদের অবশ্যই জানাতে হবে আমাদের দেশের কথা।

যতবার ইটালীয়ান পরিবার এসেছে ততবার সব পরিবার গুলোর সাথে আড্ডা দিতে দিতে রাত ১ টা বেজে গিয়েছে।
মন মানসিকতায় ইটালীয়ানরা অনেক উদার তবে কেউ যদি খারাপ হয় তাহলে আমাদের জন্যই হয়েছে।
তারা বিদেশিদের অপছন্দের পিছনে অনেক কারন রয়েছে।
আজ ছোট একটা ভ্রমন কাহিনি তুলে ধরবো;

কয়েক বছর আগে আমার এক বন্ধু নিউজিল্যান্ড থেকে ইটালীতে আশায় পরিকল্পনা করলাম বিশ্ব বিখ্যাত ভেনিস নগরীতে গোটা রাত আমরা ঘুরবো পরিবার নিয়ে।

অনেকের রাতের ঘুরা অপছন্দ কিন্তু রাত জাগা যেহেতু আমাদের বন্ধুদের পছন্দ তাই আমরা পরিবার নিয়ে চলে গেলাম ভেনিসে।

রাত ১০ টায় ভেনিসের প্রথম পুল পার হয়ে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করলাম ভেনিসের মেইন পয়েন্ট সান মারকোর দিকে মার্চ মাস ভালো ঠান্ডা।

ছবি তুলছি আর আমরা হেঁটে চলেছি ,লোকজন বিদায় হচ্ছে বাড়ী ফিরছে আর আমরা ভিতরের দিকে যাচ্ছি।
রাতের ভেনিস যত দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি পুড়ান পুড়ান বাড়ী গল্লি এযেন আমাদের পুরানো ঢাকার তিপান্ন গলির শহর ,বাতাসে কেমন যেন একটা পরিচিত শহরের গন্ধ পাচ্ছি।

পরিবার সহ প্রিয় বন্ধুর সাথে গল্প করছি গরম কপি পান করছি আর হেঁটে চলেছি কি যে এক আনন্দের অনুভুতি মনে হচ্ছিলো এরকম এক আনন্দ মূখর রাতের জন্য মনে হয় অনেক বছর অপেক্ষায় ছিলাম।

সমস্যার সমস্যা হলো রাত বারোটার পর সব কপিশপ বন্ধ হয়ে গেল।

মাঝে মাঝে নেশাখোর দুই একজন এগিকে এদিকে ছুটছে প্রথমে ভয় ভয় লাগছিলো সাথে মেয়েরা আছে তারপর দেখলাম একটু পর পর এক এক মোরে দামী দামী দোকান পাহাড়ায় পুলিশ আছে ও টহল দিচ্ছে তখন নিশ্চিতে এগুতে থাকলাম।
অবশেষে রাত ২টায় সেই বিখ্যাত মেইন পয়েন্ট সান মারকো পেলাম।

কি চমৎকার লাগছে আলোক সজ্জায়, অদ্ভুত! কন কনে শীতেও পানির ঢেউ এর কলকলে শব্দ, মাঝে মাঝে গাং চিলসহ আরো কিছু নাম না জানা পাখির শব্দে মুখরিত করছিলো পরিবেশকে।

মনে হচ্ছে আমাদের জন্য সরকার খালি করে রেখেছে,আমরা ছাড়া কেউ নেই আশেপাশে।
ভেনিসে আমি বহুবার গিয়েছি কিন্তু এত তৃপ্তি কখনও পাইনী। আমাদের জীবনের সেরা রাত গুলোর একটি হবে সেই রাত।
প্রায় একঘন্টা সেখানে থেকে সামনে যেখানে নৌকাগুলো ( ভেনিসের বিখ্যাত গোন্দোলা) বাঁধা থাকে এবং বোর্ড গুলো ছাড়ে সেখানে হাটছি আর অদ্ভুত রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। মনে হচ্ছিল সকাল হতে যে সময়টা বাকি সেই সময় টুকু ঐখানেই বসে থাকি।

বাকি ছিলো অনেক সময় তাই ফিরতে শুরু করলাম ফিরছি আর মজার অতিতের গল্প করছি কারন বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছে সাত বছর পর।

আস্তে আস্তে এগুছি আমরা আর ভোর হওয়া শুরু করেছে একটা পোলের উপড় এসে আমরা থামলাম লোক জন বেরে যাচ্ছে কিছু টুরিস্ট কিছু কর্মজীবি লোক ছুটছে কর্মের তাগিদে বেশ মনোরম দৃশ্য ভালোই লাগছিলো।

মনেহলো বহুদিন পর ঢাকায় ভোর হওয়া দেখতে যেমন বের হতাম তেমনই বহু বছর পর বিদেশে দুই বন্ধু পরিবার নিয়ে একটা মনের বাসনা পূরন করলাম।

পুরো কুয়াশা ভরা সকাল হয়ে গেল আমরা পাশের একটা কাফেটেরিয়ায় সকালের নাস্তা করতে রাস্তায় বিছানো চেয়ার টেবিলে বসলাম ঘুম ঘুম ভাব কিন্তু একটা সুখের তৃপ্তি মুখে।

আজ এই পর্যন্তই থাক আবার অন্য কোন বিখ্যাত জায়গার সৌন্দর্য বনর্নার গল্প নিয়ে হাজির হবো।


লেবাননে হস্তক্ষেপের হাত আটকে গেছে কি?আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

কাতারের সঙ্গে যে আচরণ করছে লেবাননের সঙ্গে সেই একই আচরণ করার সমালোচনা আসছে সৌদি সরকা্রের সম্পর্কে।লেবাননের ওপর সৌদি  সরকার  নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে নেমেছে যেমন কাতারের উপর চলছে।তবে  লেবাননকে দূর্বল করার লক্ষ্যে ইজরাইলের স্বার্থ সৌদির চেয়ে সরাসরি বিধায় বিশ্লেষকরা বলছেন সৌদি সরকার ইজরাইলের নির্দেশ পালন করছে  এবং তাতে সমর্থন করছে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা.

হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেবাননের ভেতর থেকেই একটা বিরোধীতা চাইছে ইজরাইল-সৌদি-আমেরিকা বলয়। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী হারারিকে দিয়ে চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের বিশাল বোমাটি বেলুনের মতো ফেটেছে মনে করছেন অনেকে। হারারির পদত্যাগ সমস্যার সমাধান হয়নি।সৌদির সাথে জার্মান সম্পর্কে উত্তাপ বেড়ে গেছে সাদ হারারির পদত্যাগ সংবাদের পর।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল গতকাল (শুক্রবার) বার্লিন সফররত লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সৌদি আরবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আটক রয়েছেন বলেই হয়ত দেশটি ত্যাগ করতে পারছেন না। তিনি হারিরির বিষয়ে সৌদি সরকারের আচরণকে অস্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন। হারিরি অবিলম্বে লেবাননে ফিরে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন গ্যাব্রিয়েল।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব ১৮ই নভেম্বর শনিবার বার্লিনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে রিয়াদে ফিরিয়ে এনেছে। রিয়াদে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি প্রতিবাদ-লিপি দেয়ার কথাও ভাবছে রাজতান্ত্রিক সৌদি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র বিভাগ।

 এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব সফরে গিয়ে আকস্মিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করার দুই সপ্তাহ পর তিনি রাজতান্ত্রিক দেশটি ত্যাগ করলেন। হারিরি এরইমধ্যে ফ্রান্সে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে খবর এসেছে।

 সৌদি রাজপরিবার রাজতন্ত্রের পতনের ধারাবাহিক পরিস্থিতির দিকে না তাকিয়ে শত্রু খাড়া করে চলেছে ইরান,সিরিয়া, ইয়েমেন,কাতার ইরাক ও লেবাননকে।রাজতান্ত্রিক অপরাপর ক্ষুদ্র দেশগুলোয় জবরদস্তি করে তল্পিবাহক  সরকার বসিয়ে রাখলেও এরা মূলতঃ ইজরাইল আমেরিকাকে খাজনা দেয়ার কাজটাই করে দেশেষ চলেছে।আল্লাহ্‌র বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট খনিজ সম্পদ ও মেহেরবাণী প্রাপ্ত এই অঞ্চলের শাসকরা এমন পথ ধরে চলছে যাতে দিনের পর দিন  তাদের নিয়ত্রণে থাকা সম্পদ হারাচ্ছে এবং তা দখল করে চলেছে আল্লাহ্‌র আইন ও পথের প্রতি বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী শক্তিগুলো।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী শক্তিগুলো খুবই বিচিক্ষণতার সাথে ঈমান হারানো মুসলমান শাসকদেরকে কাজে লাগিয়ে বা দালাল নিয়োগ করেই মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ বিরোধ উস্কে দিচ্ছে এবং এই বিবাদকে যুদ্ধে রূপান্তর করে একদিক মুসলমাদে ঈমান দূর্বল করছে,দূর্বল করছে সামর্থ্য এবং অপরদিকে নির্ভরশীল করছে আল্লাহর পরিবর্তে এমন শক্তির উপর যার নিজেরই টিকে থাকার  নিজস্ব শক্তি নেই।

 সৌদিরাজপরিবার যা করছেন, তাতে অনেকে তাদেরকে ইয়াজিদের অনুসারী বলছেন।অথচ মুসলমানদের উৎপত্তি স্থলে এই সরকার রাষ্ট্রপরিচালনা করে চলেছে।বিশ্বের সকল মুসলমান আশা করছেন,সৌদি আরব সাম্রাজ্যবাদী খেলায় জড়িত থেকে নীরিহ মানুষ হত্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক। সারা দিনিয়ার মুসলমানদের নেতৃত্ব করুক ইসলামের পবিত্র পথে মহানবীর পথ ধরে। শিয়া সুন্নীর ব্যবধানের দেয়াল তুলে নিয়ে ইরান ইরাক সৌদি ইয়েমেন সিরিয়া লেবানন সবাই মিলে মধ্যপ্রাচ্যের সকল সমাজে শান্তির জন্যে পরস্পর পরস্পরের সহায়ক থাকুক। আধুনিক টেকনোলজির জন্যে ইওরোপ আমেরিকা সাথে বন্ধুত্ব করুক।চীন রাশিয়ার সাথে বন্ধন অটুট রেখে বিশ্ব নেতৃত্ব কাঠামোকে সমৃদ্ধ করুক।

তবে বাস্তবতা অন্যরকম।রাজপরিবারের ভেতরে যে আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাড়াকাড়ি চালু হয়েছে তাতে ইজরাইলের হস্তক্ষেপ এড়িয়ে নিজেদের জন্যে কল্যাণের পথ নেয়ার সুযোগ ও অবস্থা আপাততঃনেই বলেই বলা যায়।তাই ধরে নেয়া যায় সৌদি রাজতন্ত্র যেমন বিলোপের পথে দ্রুত ডুবছে,সৌদি আরবের নিরাপত্তাও দ্রুত বিঘ্নিত হচ্ছে। সৌদি আরব সরকার যে  সমর্থনহীন সরকার তা আবার নয়। তবে তাদের সমর্থনের মূল ভিত্তি কে বা কারা সেটা জানা দরকার আগে। যতক্ষণ পর্যন্ত সৌদি সরকার মুসলমান সমাজের সমর্থনপুষ্ট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অনিশ্চিত দূরপাল্লার রাস্তায় তাকে কেউ রক্ষা করতে পারবেনা বলে কোরআনের তফসিরকারকরা আভাস দিচ্ছেন।

ইসরাইলের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্যে সৌদি যুবরাজ সালমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার বিরোধীতা করে কুয়েতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বিরোধী মতের মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর। এই সম্মেলন ইসরাইল ও তার আরব দোসরদের কাছে একটি শক্ত জবাব বলে মনে করা হচ্ছে।রাজা বাদশাহরা ইজরাইলকে মুসলিম এবং আরব বিশ্বের স্থায়ী সদস্য করার জন্যে জোর অবস্থান নিয়েছে।রাজারা দেখাতে চায় ইজরাইল জোর দখলকারী কোন শক্তি নয়, অবৈধ রাষ্ট্র নয়। এটি একটি বৈধ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।  

 কিন্তু ইসরাইলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর সম্পর্কের বিরোধিতার জন্য কুয়েতের মত দেশে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন এ অঞ্চলে ইসরাইলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। অন্য কথায় পারস্য উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এই প্রথম এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের ফলে এ অঞ্চলের ইসরাইলমুখি প্রবণতা মারাত্মকভাবে হোঁচট খেলো।

কুয়েত সরকারের ওপর সৌদি সরকারের ব্যাপক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইসরাইল বিরোধী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের অর্থ হল মধ্যপ্রাচ্যের বিষাক্ত ক্যান্সার হিসেবে কুখ্যাত ইসরাইলকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার সৌদি অপচেষ্টার মুখে বড় ধরনের চপেটাঘাত। প্রতিবাদ উঠছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে।  

 এটা স্পষ্ট যে মুসলমানদের প্রথম কিবলার দখলদার এবং গণহত্যা ও শিশ-হত্যায় অভ্যস্ত বর্ণবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে আরব জনমতসহ বিশ্ব-জনমত। তাই এই সন্ত্রাসী জঙ্গি  শক্তির সঙ্গে আপোষ করার সৌদি সরকারী খায়েশ  প্রতিবাদে পড়ছে। নানা আন্দোলন, এনজিও এবং পেশাজীবী ও ধর্মীয় সংস্থাগুলোর তীব্র বাধার মুখে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক এবং তা সময়েরও দাবি। তারপরও বাস্তবতা হলো; প্রতিপক্ষ কখনো পরাজয় স্বীকার করে চুপচাপ থাকেনা,প্রবল শক্তিতে উত্থানের জোর চেষ্টা চালায়।ষেষ পর্যন্ত লড়াই করে।     

ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতান্যাহু এবং সৌদি রাজপরিবারের যুবরাজ সালমান চুক্তি করছেন।এই ছবি প্রমাণ করছে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো সংঘাতময় হচ্ছে।

 (লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান)। 


প্রাপ্তি : এস ইবাদুল ইসলাম

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সূর্যকে ভালোবাসি?
 হ্যা ভালোবাসি! জীবিকার জন্য
জোৎ¯œাকে ভালবাসি?
হ্যা ভালোবাসি!
 জীবন কে বাচিঁয়ে রাখতে।
 সূর্য তো প্রখর তাপে পূর্ন,
জোৎ¯œা কেমন শীতল, শান্ত
ফসল জন্মে সূর্যের তাপে।
মানব বেঁচে থাকার সাথে
জোৎ¯œার যোগাযোগ রয়েছে?
আছে তো ! আমাকে ভাবিয়ে তোলে।
সূর্য যখন চোখ বুজে বিশ্রামে যায়
জোৎ¯œা তখন নৃত্য করে
আলোর চোখ খোলে।
পৃথিবীর রুপ সেকি অনন্য
বাগান বিলাস ও শূন্য লতায়,
জোনকীরা আলোর পস্রা বসায়
আভাবী দূবর্ল ব্যক্তিটিও
জোৎ¯œাার আলোয় প্রান খুজে পায়।
নদীবক্ষে রুপালী ইলিশ
দলে দলে নৃত্য করে
জোৎ¯œার আলোক ¯œানে।
সূর্যের আলোয় সেই ইলিশ
প্রান হারায়।
এখানইে প্রকৃতির সৃষ্টির
প্রশ্ন থেকে যায়,
তবুও ভালবাসি প্রকৃতি
ভালবাসি সূর্যের তাপ
জোৎ¯œার হাসি ,
ভালবাসি তো আমি
এ অসিম প্রাপ্তি!!


রাজনীতি, গনতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসংগে:এস ই ইসলাম

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

লেখক : এস ই ইসলাম : রাজনীতি, গনতন্ত্র,নির্বাচন এ তিনটি বিষয়ের গুরুত্ব ব্যপক। এখানে এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু অলোচনা করা হলো।
রাজনীতি  (চড়ষরঃরপং): রাজনীতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। মুলত নাগরিক সরকার বোঝানো হয়। এছাড়াও অনেক সামাজিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। রাষ্ট্র বিজ্ঞান হচ্ছে শিক্ষার এমন একটি শাখা যা রাজনৈতিক  আচরন শেখায় এবং ক্ষমতা গ্রহন ও ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে। ইতিহাসে খ্্্্ুজে পাওয়া যায় রাজনৈতিক চিন্তার প্লেটোর রিপাবলিক, এরিস্টটলের রাজনীতি এবং কনফু সিয়াসের কিছু লেখনিতে।
একটি রাজনৈতিক দল হচ্ছে লোকদের এমন একটি দল যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করা এবং ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠন করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়।দলটি সমষ্ঠিগত কল্যান কিংবা তাদের সমর্থকদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু প্রস্তাবিত নীতি মালা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যমত পোষন করে। আর্ন্তজাতিক ভাবে রাজনৈতিক দলের পরিচয়ও পরিচালনা পদ্ধতিতে কিছু মিল থাকলেও অনেক ভিন্নতাও দেখা যায়। গনতান্ত্রিক দেশ গুলিতে নির্বাচক মন্ডলী সরকার পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক দলসমুহ নির্বাচন করে। অনেক দেশেই বহুসংখক শক্তিশালী রাজনৈতিক দল থাকে, যেমন জার্মান ও ভারত। আবার কিছু দেশে এক দলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, যেমন চীন ও কিউবা। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গুলো ছোট রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহনের সঙ্গেঁ দ্বিদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।এদেশের সব চেয়ে শাক্তশালী  দুটি দল আছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি।
গনতন্ত্রের ধারনা : সাধারন অর্থে গনতন্ত্র হচ্ছে মুলত সংখ্যাগরিষ্ঠদের স¦ার্থে গঠিত ও পরিচালিত সরকার। এর অর্থ এই নয় যে গনতন্ত্র সংখ্যালঘুর মতামত ও স্বার্থকে উপেক্ষা করবে। বরং গনতন্ত্রে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। সুতরাং গনতন্ত্র বিশ শতকে একটি জনপ্রিয় ধারনা, যা বতর্মানে সরকার পরিচালনার সর্বশ্রেষ্ট ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিনিধিত্ব মূলক সরকার বলতে দলীয় সরকারই বোঝায়। রাজনৈতিক দল ব্যতীত গনতান্ত্রিক  রাষ্ট্রের কথা কল্পনাই করা যায়না। রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন,দলীয় আদর্শের প্রচার সমর্থক গোষ্ঠী  এবং রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে উঠে।
নির্বাচন: গনতন্ত্রেক একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গনতন্ত্র চিন্তা করা যায়না। গনতন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যদে শাসন পরিচালনার জন্য নিবার্চনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে  অংশ গ্রহন করে ভোট দানের মাধ্যমে জনগন তার এই গনতন্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এজন্যই আমরা ও আশা করি বাংলাদেশের মত একটি গনতন্ত্রিক দেশেও একটি সুষ্ঠ ও সার্বজনিন গ্রহন যোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। তাই দৃষ্টি আকর্ষন করছি ঐ সকল দ্বায়িত্বে রত থাকা প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতি যারা তাদের উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব যেন যথাযথ ভাবে পালন করেন। নাগরিক তাদের প্রতিনিধি নিবার্চনে সুষ্ঠ ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সাংবাদিক ও অন্যান্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা যেন তাদের প্রতি অর্পিত দ¦ায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। ভোটকেন্দ্র যেন ভোটাদের জন্য নিরাপদ থাকে। এ বিষয়ে সরকার সহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি তারা তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি যে কোন আবেগের বর্শিভুত হয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন না করেন যাতে দেশ ও দেশের জনগনের ভাবর্মুতি উন্নত বিশ্বের কাছে ক্ষুন্ন না হয়। তাই আমাদের দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আবেদন, আপনারা অবশ্যই একত্রিত হয়ে আমাদেরকে একটি সুষ্ঠ নিবার্চনের পরিবেশ উপহার দিবেন।
পরিশেষে বলবো, ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী, শের-ই বাংলা একে ফজলুর হক, মাওলানা অবদুল হামদি খান ভাষানী, রুশবেল্ট, চার্চিল, এদের কথা উল্লেখযোগ্য। তাদের কথা আজও স্মরণীয়। মরিয়াও তারা অমর হয়ে আছেন তাদের কর্মের মাঝে।