Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

জম্মু-কাস্মীরে চীন পাকিস্তান ঐক্যের ভয়!আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

ভারত-মার্কিণ দম্ভ কেঁপে কেঁপে উঠছে এই ছোট্ট সংবাদে।জম্মু কাস্মীরে চীনের প্রভাব বেড়ে চলেছে অতিমাত্রায়।কাস্মীরিদের উপর জুলুম নিপীড়নের রাজনৈতিক-সামরিক দখলদারিত্বের নেহেরু ধারা এখন চীনা ভয়ে পালাবার পথ নিয়েছে।কাস্মীরিদের স্বাধীন জীবনযাপনের অধিকারের দাবীর মুখে দলন নিপীড়ন ওগণহত্যার বিজাতীয় আগ্রাসন  যুদ্ধাপরাধে রূপ নিয়েছে।চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর বিস্তৃতির পথ ধরে জম্মু-কাস্মীরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব আসছে।

এই প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় কেন্দ্রীয় রাজনীতির সন্ত্রাসধারার পিঠে বজ্রপাতের ভয় দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশ স্বাধীন যোগাযোগ অর্জন করার পর প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিবেশীরা ভয় পায় বাংলাদেশ সীমান্তের গরীব ভারতীয় প্রদেশগুলো যদি বাংলাদেশের প্রেরণায় পেট ভরে খাবার পাবার পথ নিতে থাকে?পশ্চিম ভারতীয়দের শাসকগোষ্ঠীর তাতে হিংসা।উত্তর পূর্ব ভারতের ভারতীয়রা তাই আঞ্চলিক বিদ্বেষের শিকার।চীনা সমৃদ্ধির সামান্য বাতাসের দোলায় জম্মু-কাস্মীরে অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার জোয়াড় দেখা দিলে নতুন ভয় মাথা তুলছে।তারই লক্ষণ প্রকাশ পেলো জম্মু-কাস্মীর সরকারে।  

ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছিলেন,ভারতীয় সেনাবাহিনী দু’টি ফ্রন্টে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।তাকে এখন  জানতে বুঝতে হবে ‘দুই’ এখন একিভূত হয়ে একশক্তিতে রূপ নিয়েছে।ভূটান থেকে অরূণাচল প্রদেশ পর্যন্ত, লাদাখ থেকে জম্মু কাস্মীর পর্যন্ত এবং শ্রীলংকা থেকে মালদ্বীপ পর্যন্ত একটাই ফ্রন্ট হয়ে গেছে।চীন-পাকিস্তান এখন অভিন্ন হয়ে গেছে।ঘিরে ফেলেছে ভারতকে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাফালাফি এবং মুসলমান তাড়িয়ে ভারতকে হিন্দু-রাষ্ট্র ঘোষণা করার লেফট রাইট করতে করতে উত্তর প্রদেশ সহ উগ্রহিন্দু প্রভাবিত রাজ্যগুলোয় যে উম্মাতাল অস্থিরতার দাবানল চালু করেছে তাদেরকে ভারতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে সীমান্তমুখী করার পরিস্থিতি হয়ে গেছে।স্বাধীন বাংলাদেশকে ত্রিপুরা মনিপুরের স্ট্যাটাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশ বিভাগের একজন যুগ্মসচিবের অধীনে নিয়ন্ত্রণ করে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাড়ানো জিহবার অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে ভেতরে ভেতরে।এই জয়ন্ত বিশ্বাস উল্লেখিত এলাকা ছাড়াও মরিশাস,টেগো এবং আসামের বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করেন।

আমরা বাঙালিরা জনতার স্বাধীনতাযুদ্ধ করে নিজেদের বাংলাদেশ গড়েও যেখানে সার্বভৌম থাকতে পারলামনা প্রতিবেশী দের বিশ্বাসঘাতকতায়,এই বাঙালিরা নিশ্চয়ই কোমর সোজা করার জন্যে নিশ্বাসের ব্যায়াম করার সুযোগ পাবো।মাথা তুলে নিজের দেশবাড়ীতে বসবাস ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবো।নয়াদিল্লীর হুকুমের দাসথেকে মুক্ত থাকার জন্যে একটা ভারসাম্যমূলক আঞ্চলিক পরিবেশ পাবো।অথবা রাজনৈতিক জীব জানোয়ারদের অনৈতিক লিপ্সার পক্ষে ‘সেনাদাস’ হয়ে পশ্চিম ভারতীয়দের পুরোপুরি অধীনস্থ হবার পক্ষে জাতীয় সংসদ এবং সরকারে শপথ নেবো।দুটোর একটা।

অতীতে প্রধান প্রধান রাজনীতিবিদরা নিজের ক্ষমতা ও অর্থ লিপ্সার গোপন পথে জনগণকে প্রতারিত করেছেন।ব্যবসায়িক লুটেরাদেরকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেরা লুটের সর্দারি করেছেন,দেশপ্রিয় সেনাবাহিনীকে হত্যা ও চাকরিচ্যুত করে পরদেশী সেনাবাহিনীর প্রভাবে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিদেশীদের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে লুন্ঠনের ভাগাভাগি করেছেন।রাজনীতির নামে দেশের মানুষদেরকে বিভক্ত করে দেশব্যাপী কৃত্রিম নৈরাজ্য বিস্তৃত করেছেন। বাংলাদেশকে ভাবতে হবে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে।এই ভাবনার ফল যা-ই হয়,সাহসী ও দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত নেতৃত্বই সম্ভাব্য সুযোগে পরিস্থিতির সদব্যবহার করতে পারবে।এই ধারণা বিশ্লেষকদের। ভৌগোলিক বিশেষ সুবিধার কারণে ভারত,চীন,আমেরিকা,রশিয়া,আরব দেশগুলো এবং ইওরোপীয় ইউনিয়ন সহ সবার কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম।   

জম্মু-কাস্মীর রাজ্য সরকারের গণপুর্ত মন্ত্রী নঈম আখতার যথার্থ সময়ে গণমাধ্যমে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাজির করার সাহস করেছেন।যেকথা তার দেশের কেন্দ্রীয় সরকার গোপনে রেখে ভারতবাসীদের বিভ্রান্তির অতলে ডুবিয়ে রেখেছেন। তিনি ২০ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সাক্ষাতকারে বলেছেন,জম্মু কাস্মীরে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে এবং এবিষয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারত সরকারের কথা বিনিময় হওয়া জরুরী।
তার এই দায়িত্বজ্ঞানবোধ তাকে রাজনীতিক ও মন্ত্রিত্বের সীমানার অনেক উর্ধে তুলেছে। বলেছেন,"কাস্মীরে আগের মতো পরিস্থিতি আর নেই,পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে গেছে। বিষয়টি এখন আর কেবলমাত্র ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।এর মধ্যে বড় শক্তির হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে"। বলেছেন,এখন তো পাকিস্তান একা নয়,এখন চীনও এসে পড়েছে।জেনারেল বিপিনকে একথা বুঝতে হবে।পাকিস্তানওচীন এখন আর ভিন্ন নেই।  

পিপলস ডেমোক্রাটিক পার্টি(পিডিপি)র নেতা নঈম আখতার বলেন,“এটা কেউ কেন দেখছেনা যে,চীন সন্ত্রাসী সংগঠন জৈশ-ই-মুহাম্মদকে কোলে তূলে নিয়েছে।যারা বারবার জাতিসংঘে মাওলানা মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করার বিরোধীতা করছে।পাকিস্তানের হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা শোনা যাচ্ছে,তবে চীনের প্রভাব থাকায় মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছেনা।এরকম পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে পাকিস্তানের সাথে সংলাপ চালানো ভালো। কেন্দ্রীয় সরকারকেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।আমরা এব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কারো কাছে দাবি জানাচ্ছিনা এবং এটা আমাদের অধিকার”।

পিডিপি সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা হওয়া দরকার।ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী১৯৯৮সনে মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ পিডিপির প্রতিষ্ঠাতা।জম্মু কাস্মীরের সরকার গঠন করেন ২০০২সনে।২০১৬সনে জানুয়ারী মাসে তার মৃত্যুর পর তারই উত্তরাধিকারী ও কণ্যা মুফতি মেহবুবা দলের নেতৃত্ব নিয়েছেন এবং জম্মু কাস্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

পিডিপি ভারতীয় জনতা পাটি(ভিজিপি)র সাথে কোয়ালিশন সরকার চালাচ্ছে।পিডিপি ক্ষমতাসীন থাকলেও এই দলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের অনেকে দল ছেড়ে চলে গেছেন দলে দূর্নীতি ও অরাজকতার অভিযোগে।

দল ছাড়া নেতাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে মুফতি সাঈদের অনুপস্থিতিতে দলের অবস্থা রাজনীতি থেকে সরে গেছে।তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী তে অর্থাৎ গতমাসে দল ত্যাগ করলেন গুজ্জার অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী জাফর আলী খাতানা।পিডিপি নেতারা গুপ্তহত্যার ভয়ে থাকে।তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অজ্ঞাত মানুষের গুলির আঘাতে। কাস্মীরের স্বাধীনতাযোদ্ধারা তাদেরকে রাজাকার বলেই চিহ্নিত করেছে।

জম্মু কাস্মীর ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় একটি প্রদেশ।এটা হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে হিমাচল এবং দক্ষিণে পাঞ্জাব প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত।দুদেশের নিয়ন্ত্রণ রেখা পাকিস্তান প্রশাসিত আজাদ কাস্মীর এবং গিল্গিট-বাল্টিস্তানথেকে জম্মু কাস্মীরকে   বিভক্ত করেছে। প্রকৃত বিভক্তিরেখা চীনা শাসিত পূবে আক্সাল চীন।ভারতীয় শাসনতন্ত্রের ৩৭০ আর্টিক্যাল অনুযায়ী জম্মু কাস্মীর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।তিব্বতের সীমান্তে আক্সাই চীন ১৯৬২সন থেকে চীনের দখলে আছে।চীন-ভারত যুদ্ধে যায়গাটা ভারতের হাতছাড়া হয়ে যায়।


জম্মু কাস্মীরে তিনটি অঞ্চল রিয়েছে।জম্মু, কাস্মীর উপত্যকা এবং লাদাখ।শ্রীনগর হচ্ছে গ্রীস্মের এবং জম্মু হচ্ছে শীতকালীন রাজধানী।ভারতের প্রদেশগুলোর মধ্যে জম্মু এন্ড কাস্মীরই হচ্ছে একমাত্র মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল।