Slideshows

http://bostonbanglanews.com/index.php/templates/gk_twn/images/images/banners/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

জন্মদিনে প্রিয়জনের ভালোবাসায় সিক্ত কবি কামাল চৌধুরী যেখানেই থাকিনা কেন দেশ আমার সঙ্গেই থাকে

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ::নিউইয়র্কে বরেণ্য কবি কামাল চৌধুরীর জন্মদিন পালিত হলো। হৃদয়ের গভীর আবেগ আর ভালোবাসায় কথা,কবিতা,গানে প্রিয়জনকে সিক্ত করলেন প্রবাসীরা। কবির প্রতি বিনম্র মমতা এবং আর কবিসত্ত্বাকে সম্মান জানাতে বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী মিলিত হন এক মিলন মেলায়।  আমি বাংলা ভাষার কবি , আমার দেশ আছে, আমার মানচিত্র আছে, আমার নিজস্ব ভুগোল আছে। আমি যেখানেই থাকিনা কেন দেশ সব সময় আমার সঙ্গে থাকে।

এই মুহূর্তে আমি নিউ ইয়র্কে আছি এবং এখানকার কবিবন্ধু, লেখক, পাঠক ও সতীর্থরামিলে আমাকে ঘিরে যে আয়োজন করেছেন তাতে আমি খুবই আনন্দিত। এর মাধ্যমে আমি দেশের বাইরেও বৃহত্তর পাঠক সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে আমাদের কবিতা এবং লেখালেখির বিষয়ে মতামত বিনিময়ের সুযোগ পেলাম। দেশ, মাটি এবং মানুষের প্রতি সবসময় দায়বদ্ধ আমার কবিতা। ২৮ জানুয়ারি নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে চ্যানেল আই ও মুক্তধারা নিউইয়র্কের সহযোগিতায় সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জারনালিস্টস ফোরাম আয়োজিত কবি, লেখক সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের এক বিশেষ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সময়কার অন্যতম প্রধান কবি কামাল চৌধুরী এই কথাগুলো বলেন।
 
তিনি আরও বলেন, আসলে একজন কবিতো বিচ্ছিন্ন কোন মানুষ নন। একজন কবি তাঁর সময়, তাঁর পরিবেশ তাঁর চতুরপার্শ্ব, তাঁর অভিজ্ঞতা , জীবন, স্বপ্ন, আকাংখা, হতাশা , আনন্দ , সবকিছু মিলিয়েইতো একজন কবি বেড়ে ওঠেন। সেই জন্যেই আমরা বলি আমরা যে পথে হাটি, যা কিছু দেখি সেটাই আমাদের অভিজ্ঞতা। আমরা দেশে যে উত্থান, পতন, উল্লাস প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ দেখি সবকিছু মিলিয়েই কিন্তু একজন কবিকে প্রস্তুত হতে হয়।
 
একেবারে ভিন্ন সাধের এই অনুষ্ঠানের মুল আয়োজক ছিলেন কবির আশৈশব ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বর্তমানে নিউইয়র্ক প্রবাসী  সাংবাদিক ও কলামিস্ট আকবর হায়দার কিরন। তিনি কবিকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান প্রবাসের অনেক বিশিষ্টজন সহ। কবি কামাল চৌধুরীকে সভাস্থলে নিয়ে আসেন তাঁর বিশেষ প্রিয়ভাজন এবং নিউইয়র্কে নিযুক্ত সন্মানিত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। অনেকেরই জানা ছিলো ২৮ জানুয়ারি কবির জন্মদিন। তাই হৃদয়ভরা ভালোবাসা, কথামালা, আবৃত্তি ও গান দিয়ে কবিকে সিক্ত করেছেন সমবেত সবাই।

কবি কামাল চৌধুরীকে ঘিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন পরিনত হয় এক মিলন মেলায়। চ্যানেল আই এর পক্ষে ফুলের তোড়া দিয়ে কবিকে অভিনন্দিত করেন এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি রাশেদ আহমেদ। সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জারনালিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে কবিকে পরিয়ে দেয়া হয় বিশেষ উত্তরীয়। পাশাপাশি ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে ভালোবাসা জানান আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে কোন সভাপতি কিংবা প্রধান অতিথি ছিলেননা। আকবর হায়দার কিরন তাঁকে নিয়ে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ শিল্পী রাগিব আহসান ও শিল্পীমং এর তৈরি অসাধারন ব্যাকড্রপের সামনে রাখা চেয়ারে আসন গ্রহন করেন।
 alt
শুরুতেই কবির কয়েক যুগের চেনা বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার সভাপতি মিথুন আহমেদ অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিমায় কথা ও কবিতায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। কবি কামাল চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু কবি মাহবুব হাসান, শিল্পী রাগিব আহসান ও কবি ফখ্রুল রচি অল্প কথায় কবির প্রতি তাঁদের ভালোবাসা জানান। নিউইয়র্ক প্রবাসী কবিদের ভেতর মাইক হাতে নিয়ে কবির উদ্দেশ্যে কথা বলেন কবি ফকির ইলিয়াস, কবি শামস আল মমিন ও কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সভাস্থলে বসে কবিকে নিয়ে লেখা একটি দারুন ছড়া পড়ে সবাইকে চমৎকৃত করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ডঃ সিদ্দিকুর রহমান তাঁর স্ত্রী শাহানারা রহমান এবং সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠানে এসে কবিকে কামাল চৌধুরীকে জন্মদিনের আনতরিক অভিনন্দন জানান।
 
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধান মুখ্য সচিব এর পদ থেকে বিদায় নিয়ে অবসর গ্রহনের পর কবি ফেসবুকের মাধ্যমে এ অসাধারন কথাগুলো লিখেছেন তা আমাকে অভিভুত করেছে। তিনি অত্যন্ত সমাজ ও রাজনীতি সচেতন এই বিশিষ্ট কবির লেখা সবসময় খুব আগ্রহের সাথে পড়েন বলে জানান। ডঃ সিদ্দিক কবিকে জননেত্রীর খুব কাছে দেখেছেন বহুদিন ধরে। সত্তর দশকের শেষের দিকে কবি কামাল চৌধুরীর লেখা কবিতা দিয়েই যে ছাত্রলীগের দলীয় সংগীত রচিত হয় সেই খবরও তিনি ভালোবাবেই রাখেন।


প্রবাসের আরেকজন  আবৃত্তিকার গোপন সাহা ১৯৭৮ সালে ঢাকার কাছে আদমজীনগরে রচিত কবি কামাল চৌধুরীর একটি বিখ্যাত কবিতা পড়েন গভীর আবেগ দিয়ে। আনান্দধনির অর্ঘ্য সারথি দাস কবির জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানান ‘আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রানে’গেয়ে। এ সময় মিলনায়তনে সমবেত সবাই তার সাথে কণ্ঠ মেলান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশিষ্ট লেখক ফেরদৌস সাজেদিন তাঁদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের একই কক্ষে স্বাধীনতার আগে ও পরে আবাসনের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে এক প্রশ্নের উত্তরে কবি মজা করে বলেন, যদিও হলের রুমটি আমার নামে ছিল কিন্তু তার দখলদার ছিল আমার দুই প্রিয় বন্ধু আকবর হায়দার কিরন ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। কবির স্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ইফফাত আরা পলীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কবি প্যারিসে রচিত এবং এখনো অপ্রকাশিত একটি কবিতা তাঁর নোটবুক থেকে পড়ে শোনান। ।কবিকে ঘিরে দারুন এক সন্ধ্যা উপভোগ করেন আগত অতিথিরা।


 কবির কাছে নানা প্রশ্ন রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। জানতে চান, তার শৈশব, কৈশরসহ জীবনের সাতকাহন। কবি উত্তর দেন। তিনি জানান, মেট্রিক (এসএসসি) পরীক্ষার সময় সবাই যখন পড়া নিয়ে ব্যস্ত সেই সময় কবিতা লেখার নেশা চেপে বসে তার মাথায়। ছেলের হাবভাব ভালো না দেখে চিন্তায় পড়ে যান তার বাবা। কিন্তু পরীক্ষায় তিনি যখন ফাষ্ট ডিভিশন পান তখন বাবা বুঝতে তিনি যা ভেবেছিলেন ছেলে তার চেয়ে অনেক বেশি মেধাবী। ঢাকা কলেজে ভর্তি হবার পর জাফর ওয়াজেদসহ বাঘা বাঘা কবিদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয় বলে জানান তিনি। বাদ দেননি প্রেম প্রসঙ্গও। বলেন, মাত্র বিসিএস দিয়েছি। প্রেমে পড়ে যাই তখন। কিন্তু পরিবার রাজি না থাকায় বেশ কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হয় বৈকি। তখন সবে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে। তাই কিছুদিন ছেদ পড়ে যায়


Add comment


Security code
Refresh