Editors

Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

মালয়েশিয়ায় গ্লোবাল সামিটে প্রবাসীদের মিলনমেলা

সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন:আয়েশা আকতার রুবী,বাপসনিঊজ:পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এত এত মেধাবী ও সফল মানুষ আছেন জানতামই না আগে। গত ১৯-২০ নভেম্বর কুয়ালালামপুরে হয়ে যাওয়া প্রথম বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিটে উপস্থিত থেকে দেখলাম আমাদের দেশের কত সফল মানুষ প্রবাসে থাকেন। তাঁরা কেউ ১০ বছর, কেউ ২০ বছর, কেউ কেউ ৩০-৩৫ বছর ধরে দেশের বাইরে আছেন।

alt

যাঁরা ইউরোপ-আমেরিকায় থাকেন তাঁরা সবাই ওই দেশের নাগরিক। তারপরও তাঁদের মন কাঁদে মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশ, দেশের উন্নয়ন ও ষোলো কোটি মানুষের কথা বলার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে পকেটের টাকা খরচ করে তাঁরা এসেছেন কুয়ালালামপুরে।

alt

তাঁরা সবাই কী সুন্দর করে অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা ও বিউটিফুল বাংলাদেশের কথা বললেন। বাংলাদেশ নিম্নমধ্য আয়ের দেশ থেকে দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বললেন। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জেনারেল থেকে সেমি স্কিল, সেমি স্কিল থেকে স্কিল বানানোর কথা বললেন। বাংলাদেশের আইটি খাত নিয়ে ও বিনিয়োগের কথা বললেন।

alt
প্রবাসীদের অধিকারের কথা তো আছেই। ঢাকা বিমানবন্দরে নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরলেন অনেকে। মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো শ্রমিক-নির্ভর দেশগুলোতে হাইকমিশন বা দূতাবাসের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানির কথাও উঠে এসেছে প্রবাসীর বক্তব্যে। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর চারটি সেমিনারও দেখলাম।

alt

সেমিনার নানা সব কথামালা শুনলাম ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন শহর থেকে আসা অভিজ্ঞ প্রবাসীদের মুখে। বাংলাদেশ থেকেও এসেছিলেন অনেকে।

alt

তাঁদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিলেন আবেদ খান, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, নঈম নিজাম, সাইফুল আলম, আহমেদ জোবায়ের, শ্যামল দত্ত, সাবির মোস্তফা, মাহমুদ হাফিজ ও পীর হাবিবুর রহমান প্রমুখ।মুখ গম্ভীর ভাব নিয়ে অন্যদের বক্তব্য শুনে শীতল হয়ে যাওয়া পুরো হলকে হাস্যরসে ভরিয়ে তোলেন পীর হাবিবুর রহমান।

alt

সারা বিশ্বে এখন বাংলাদেশের নাগরিক আছে, তাই গর্ব করে পীর হাবিব বলেছিলেন, এখন ব্রিটিশের সূর্য অস্ত যায়, বাংলাদেশের সূর্য অস্ত যায় না। প্রথম দিনের প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান সঞ্চালক সাবির মোস্তাফার বেঁধে দেওয়া সময়ে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল কত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে পারেন তা দেখলাম।

alt
বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিটের একটি দৃশ্যব্যবসায়ী হয়েও বক্তব্য, কথায়, চাল-চলন ও গানেও যে একজন মানুষ অধিক পারদর্শী হতে পারেন দেখিয়ে দিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম।

alt

শেষ দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন খ্যাতিমান শিল্পী ফকির আলমগীর ও নুরজাহান আলী। আর গান গেয়ে পুরো হলের দর্শকদের নাচিয়েছেন শিল্পপতি মো. আতিকুল ইসলাম।

alt

এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নাচ-গান পরিবেশনা তো বরাবরের মতো ভালো লেগেছে। জাদু দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন শাফির উল্লাহ শিকদার ও মনিরুজ্জামান লিটন। দুদিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সুন্দর সুন্দর সব কথা বলে মুগ্ধ করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যে সব বাংলাদেশিরা।

alt

তাঁদের মধ্যে যাদের নাম মনে আছে তাঁরা হলেন, আমেরিকা থেকে আগত মাসুদ চৌধুরী, হাকিকুল ইসলাম খোকন, মোহাম্মদ শাহজাহান বাবুল, ইমিগ্রেশন লইয়ার তাহমিনা ওয়াটসন, এস এম গিয়াস উদ্দিন, সাইফুল খন্দকার, মায়া নেহাল, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আহমেদ ফিরোজ, ড. কামাল মাহমুদ, সরওয়ার কামাল, মাহবুব সিরাজ তুহিন জেপি, নিউজিল্যান্ডপ্রবাসী কাজী এ এইচ আহসান, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, কোরিয়াপ্রবাসী আবু বকর সিদ্দিক, জাপানপ্রবাসী ড. শেখ আলীমুজ্জামান, সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ড. এম এ রহিম, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিকদার গিয়াস উদ্দিন, মাহবুব সিরাজ, এ কে এম মহসীন।

alt

আয়েবার সভাপতি ড. জয়নাল আবেদিন, মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ, প্রধান উপদেষ্টা আহমেদ সামাদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান মুহিব, সহসভাপতি ফখরুল আকম সেলিম, নুরুল করিম ও রানা তসলিম উদ্দিন, শামসুল আলম, শরীফ আল মোমিন, সম্মেলনের প্রধান সমন্বয়ক মাঈনুল ইসলাম নাসিম, এম এ এইচ ফেরদৌস, শফিক খান, মাহারুল ইসলাম, ডা. নাসরিন জাহান, সাইফুল খন্দকার, মালয়েশিয়ায় প্রবাসী মকবুল হোসেন, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, আইটি ব্যবসায়ী মাসুদ রানা প্রমুখ।

alt
বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিটের একটি দৃশ্যযার কথা না বললে হয় না তিনি হলেন মালয়েশিয়ার পর্যটনমন্ত্রী দাতো শ্রী মোহাম্মদ নাজরি বিন আবদুল আজিজ। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের সুনাম করেছেন।

alt

বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই।তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার দুই বছর আগে থেকেই পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ নামে চিনতে শুরু করেছি আমরা। যে দেশ তখনো পূর্ব পাকিস্তান ছিল।

alt

বাংলাদেশিরা বীরের জাতি। স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের মানুষ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তা অবিস্মরণীয়।

alt

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ ও বাংলাদেশিদের সুনাম করে বলেন, বাংলাদেশিরা না হলে মালয়েশিয়া এত উন্নত হতো না। এখনো বাংলাদেশের মানুষ না হলে মালয়েশিয়ার উন্নয়ন কর্ম ব্যাহত হয়।

alt

আমরা আরও অধিক বাংলাদেশি চাই। তিনি আরও অধিক সংখ্যক বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ায় আসার ও থাকার আহ্বান জানান।অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অপরূপ সুন্দর দেশ।

alt

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মানুষের ধর্ম ও সংস্কৃতির অনেক মিল। তাই আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। সত্তরের দশকে লন্ডনে পড়ালেখার সময় হালাল খাবার পাওয়া যেত না সহজে।

alt

বাংলাদেশিদের কাছে গেলে, বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টে গেলে হালাল খাবার পেতাম। বাবার সঙ্গে আমেরিকা গিয়েও বাংলাদেশির কাছে গেছি হালাল খাবারের জন্য।বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিটের একটি দৃশ্যতিনি মালয়েশিয়ার মানুষদের বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য তাঁর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উৎসাহিত করবেন বলে জানান। তিনি আয়েবাকে ধন্যবাদ জানান কুয়ালালামপুরে এ সামিট আয়োজনের জন্য।

alt

ভবিষ্যতেও মালয়েশিয়ায় আয়েবার অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর দীর্ঘ কথামালায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের প্রশংসা শুনে মালয়েশিয়াপ্রবাসী হিসেবে আমার অনেক ভালো লেগেছে।

alt

এ জন্য ধন্যবাদ মালয়েশিয়ার মন্ত্রীকে। ধন্যবাদ এ মিলনমেলার আয়োজক অল ইউরোপ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনকে। প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমাদের হাইকমিশনার মো. শহীদুল ইসলামও সুন্দর বক্তব্য রেখেছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন।


Add comment


Security code
Refresh