Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

আরো যে ছয়বার অভিবাসী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

বাপ্ নিউজ : সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতা হাতে নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই এই পদক্ষেপ নেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের প্রবেশের ওপর এরকম কড়াকড়ির দৃষ্টান্ত এটাই প্রথম নয়। গত ২০০ বছরে আরো অন্তত ছয়বার মুসলিম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী অন্তত ৯০ দিনের জন্য ইরাক, সিরিয়া, ইরান, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে অন্তত ১২০ দিনের জন্য। বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তবে এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা আইন করে অভিবাসী প্রবেশ ঠেকিয়েছেন। প্রথম ১৮৮২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চেস্টার এ আর্থার চীনা বহিষ্কার আইন পাস করান। যুক্তরাষ্ট্রের খনি শিল্পে ১০ বছরের জন্য দক্ষ ও অদক্ষ সব ধরনের চীনা শ্রমিক নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের তখন বেকারত্বের মাত্রা ছিল খুব বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা যেসব নাগরিক ছিল তাদের একবার দেশ থেকে বের হয়ে ফের প্রবেশের জন্য আলাদা সনদ নিতে হয়েছিল। তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

১০ বছর পর এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়। তবে গিয়ারি অ্যাক্ট নামের একটি আইন পাস করে নতুন করে আবার ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ১৮৯২ সালের আইনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনাদের জন্য বসবাস অব্যাহত রাখতে অনুমতি সনদ নেওয়ার বাধ্যতা আরোপ করা হয়। এই সনদ না নিলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

Picture

১৯৪৩ সালে ম্যাগনুসন অ্যাক্ট এর আওতায় চীনাদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও ( কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র) তাদের সম্পত্তি ও ব্যবসায় মালিকানা পাওয়ার ব্যাপার নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ইহুদি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। প্রেসডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট তখন ক্ষমতায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও প্রকোপে লাখ লাখ লোক তখন শরণার্থী। রুজভেল্ট ঘোষণা করলেন, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। শরণার্থীর বেশে নাৎসি চর ঢুকে পড়তে পারে। ফলে ইহুদি প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

নৈরাজ্যবাদী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

১৯০৩ সালে প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টের সময় পাস করা হয় নৈরাজ্যবাদী বহিষ্কার আইন। রাজনৈতিক চরমপন্থীদেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষেধ করা হয় এই আইনের মাধ্যমে। সঙ্গে মৃগীরোগী, ভিক্ষুক ও পতিতাদেও দালালদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

কমিউনিস্ট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

১৯৫০ সালের ২৩ আগস্ট এই আইন পাস হয় মার্কিন কংগ্রেসে। প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের বিরোধিতা সত্ত্বেও পাস হয় আইনটি। বিধ্বংসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ আইন নামেও আইনটি পরিচিতি পায়। কমিউনিস্ট পার্টিও সদস্য সন্দেহে যে কোনও অভিবাসীকে বহিষ্কার করার অধিকার ছিল এই আইনে। ১৯৯৩ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই আইনের আংশিক অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। তবে এখনও এই আইনে আংশিক কার্যকর রয়েছে।

ইরানি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

১৯৮০ সালের ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সময় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। ১৯৭৯ সালে তেহরানে ৫২ মার্কিন নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়। তার প্রতিক্রিয়ায়ই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধও আরোপ করে।

এইচআইভি পজেটিভদের ওপর নিষেধাজ্ঞা

প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ সার্ভিস এইডসকে ‘ভয়ঙ্কও ও ছোয়াচে রোগ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সিনেটর জেস হেমসের উদ্যোগে ‘হেমস অধ্যাদেশের’ মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু বহনকারীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের তালিকায় যুক্ত করা হয়। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র এইচআইভি পজেটিভ লোকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই আইন বাতিল করেন।