Editors

Slideshows

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/455188Hasina__Bangla_BimaN___SaKiL.jpg

দাবি পূরণের আশ্বাস প্রধানমন্ত্

বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে আলোচনা না করে আন্দোলন করার জন্য পাইলটরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। পাইলটদের আন্দোলনের কারণে ফ্লাইটসূচিতে জটিলতা দেখা দেয়ায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/701424image_Luseana___sakil___0.jpg

লুইজিয়ানায় আকাশলীনা‘র বাৎসরিক

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ লুইজিয়ানা থেকে ঃ গত ৩০শে অক্টোবর শনিবার সনধ্যায় লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইণ্টারন্যাশনাল কালচারাল সেণ্টারে উদযাপিত হলো আকাশলীনা-র বাৎসরিক বাংলা সাহিত্য ও See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/156699hansen_Clac__.jpg

ইতিহাসের নায়ক মিশিগান থেকে বিজ

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচনে ডেমক্র্যাটরা হাউজের আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হলো না। সিনেটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হলেও আসন হারিয়েছে কয়েকটি। See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/266829B_N_P___NY___SaKil.jpg

বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসে পুলি

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ আলাউদ্দিন রেষ্টুরেন্টের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি তাৎক্ষণিক এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এই See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

ইসলাম গ্রহণ কারী আলোচিত লেখিকা কমলা দাস-এর সাক্ষাৎকার

রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

একে অপরকে ভালোবাসুন। ভালোবাসা আর আন্তরিকতায় শান্তিু আছে উন্নতি আছে, নিরাপত্তা আছে। আমি বলি, যেখানে ভালোবাসা নেই সেটা দোযখ। আর যেখানে পরস্পরে হৃদ্যতা আছে, সেটা জান্নাত। জান্নাতে সুকূন আছে শান্তি আছে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: সুরাইয়া সাহেবা! আপনি হিন্দু ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন সেখানেই লালিত পালিত হয়েছেন। কোন জিনিস আপনাকে ইসলাম গ্রহণ করতে প্রভাবিত করেছে?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: ফরিদা! আমি হিন্দুধর্মের কোনো রসম-রেওয়াজে কখনই প্রভাবিত হইনি। আর তার পাবন্দিও করি নি। ত্রিশ বছরের অধিককাল ধরে আমি ইসলামকে শেখার, দেখার ও পড়ার সুযোগ পেয়েছি। ইসলামের প্রতি সবসময়ই আমি আগ্রহী ছিলাম। ইসলামী সভ্যতা আমাকে অত্যন্ত প্রভাবিত করেছে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি বলেছেন ‘প্রভাবিত করেছে’ সেটা কিভাবে?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আজ থেকে ত্রিশ বছর পূর্বে আমার জীবনে দুটি ছেলে এসেছিল। দুজনেই ছিল মুসলমান। আমি দুটি ছেলেকেই আমার সঙ্গে রেখেছি। তারা আমার আপন ছেলের মতোই ছিল। আমি তাদের শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে বড় করেছি। দুজনেরই কিছুটা দৃষ্টিদূর্বলতা ছিল। এই ছেলে দুটি- যাদের আমি ছেলে মেনেছি- আমার জীবনে পরিবর্তন আনার কারিগর। নিঃসন্দেহে আমি ইসলামের শিক্ষায় সীমাহীন প্রভাবিত।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি আপনার পালকপুত্রের আলোচনা করেছেন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী? বর্তমানে তারা কোথায় আছে, কী করছে?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: এক ছেলের নাম ইনায়েত। সে পড়ালেখা করে ব্যারিস্টার হয়েছে। বর্তমানে কোলকাতা থাকে। অপরজন এরশাদ। সে ইংরেজীর প্রফেসর। দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজে প্রফেসরী করে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: হিন্দুধর্মে নারীদের (ঝুসনড়ষ ড়ভ এড়ফবংং) ‘ঈশ্বরের প্রতীক’ বলা হয়েছে। ইসলাম বিরোধীরা বলে, হিন্দুধর্মে নারীদের অতিশয় মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাহলে কেন এমন সম্মানজনক মর্যাদা পরিত্যাগের প্রয়োজন অনুভব করলেন?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আমার পূজনীয় হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। আমার কেবল একজন ভালো মানুষ হওয়ার প্রয়োজন ছিল। আমি চাই না মূর্তি হয়ে বসে থাকি আর লোকেরা আমার পূজা করুক। আমি শুধু এক আল্লাহর দাসী হয়ে জীবন পার করতে চাই।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চলছে যে, ইসলামে নারীদের কোনো মর্যাদা নেই। এখানে নারীরা স্বাধীন নয়। ইসলাম পুরুষশাসিত ধর্ম। এ ব্যাপারে আপনার কী মন্তব্য?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আমি এতসব বুঝি না। তবে এটা বুঝি যে, ইসলামে আমি স্বাধীনতা ভোগ করছি। আমি আমার মেযাজ-মর্জির একমাত্র মালিক। আপনি যদি সাঁতারের পোশাকে জনসম্মুখে গোসল করা, ঘোরাফেরা করা, সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারীদের উলঙ্গ করা, শরীর প্রদর্শন করা, নারীর দেহের মাপঝোঁক যাচাই করাকে স্বাধীনতা বলতে চান তাহলে এমন স্বাধীনতার উপর আমি অভিশাপ দিই। ইসলামে নারীরা অনেক মর্যাদাশীল ও নিরাপদ।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি সবসময় পর্দার সাথে থাকেন। এতে আপনার কী সৌন্দর্য পরিলক্ষিত হয়?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: পর্দাকে আমি নারীদের জন্য নিরাপত্তাবলয় মনে করি। বোরকা পরিহিতাকে সাধারণত উত্যক্ত করা হয় না। আমি ত্রিশ বছর আগ থেকেই বোরকা ব্যবহার করি। যে নারী পর্দায় থাকে সমাজ তাকে সম্মান দেয়। ইজ্জত করে। তবে বোরকার ভুল ব্যবহারও না হওয়া দরকার।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: পর্দা নারীর সম্মান বৃদ্ধি করে?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: নিঃসন্দেহে। আমি যখনই সফরে বের হই। পুরোপুরি পর্দা অবলম্বন করি। এতে নিজেকে নিরাপদ মনে হয়। মূলত পর্দায় নারীর গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: বহুবিবাহ পরিবার ও সমাজের জন্য করুণা, না অভিশাপ? সাধারণত এর ভুল চিত্রই উপাস্থপন করা হয়। মিডিয়াও এর বিপক্ষে সোচ্চার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর দ্বারা গলদ ফায়দা লুট হয়। এ ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?

Picture

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: এটা শরীয়ত অনুমোদিত বিধায় অবশ্যই তা সঠিক। কার সাধ্য শরীয়তের বিরোধিতা করে? আমার বক্তব্য হল, একজন পুরুষ যদি একাধিক স্ত্রীর দেখভাল করতে সক্ষম হয় তাদের নিরাপত্তা দিতে সামর্থ্য হয়, তাদের মধ্যে ইনসাফ রক্ষা করতে পারে, সমাজে তাকে সম্মান দিতে পারে তাহলে এতে সমস্যা কোথায়?

বিবাহ মানে তো কেবল একজন অপরজনকে ভোগ করা নয়। কোনো অসহায় নারীর যদি কিনারা হয়ে যায় তাহলে এটাকে খারাপ বলব কেন? সুতরাং বহু বিবাহকে যৌনলালসা ও ভোগবাদিতা বলার কোনই কারণ নেই। অন্যান্য ধর্মে বিধবাকে অপয়া মনে করা হয়। তাকে নি®প্রয়োজনীয় বলে ছুঁড়ে ফেলা হয়। বিধবা নারীকে বিবাহ করে মর্যাদা দেয়া হলে এটাকে কিভাবে যৌনলালসা চরিতার্থ বলা যায়।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে কিছু বলুন!

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুবই ভালো মানুষ। বাইরের কিছু লোক আর মিডিয়াই অধিকাংশ সময় প্রোপাগান্ডা করে দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি উস্কে দেয়। কেউ বলে পাকিস্তানীরা আমাদের শত্র“। কোনো না কোনো বাহানায় তারা জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। এটা অন্যায়, দুদিক থেকে হৃদ্যতা ও সৌহার্দমূলক আলোচনা হওয়ার দরকার। যাতে দু’ দেশেই শান্তি ও স্থিতি বজায় থাকে, বন্ধুত্ব সুদৃঢ় হয় এবং দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: হিন্দু-মুসলমান কি পরস্পরের বিরোধী?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: একটুও নয়। এদের দুই শ্রেণীর েেমতা ভালো বন্ধু আর হতেই পারে না। বিদ্বেষের এই আগুন ইংরেজরা লাগিয়ে দিয়েছে। এটা ভুল চিন্তা-ভাবনা। ইংরেজরাই এই অপপ্রচার চালিয়েছে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করলে আপনার পিতা-মাতা, সন্তানাদি ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: পিতা জীবিত ছিলেন না। মা-ও জীবনের সেই প্রান্তে চলে গেছেন যেখানে কোনো ব্যাপারে তার অনুভূতি নেই। আমার সন্তানেরা বেশ বুদ্ধিমান। তবে আত্মীয়-স্বজনেরা খুব ধাক্কা খেয়েছেন। আমার ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল না, কারণ ছিল আমার পর্দা মেনে চলা। ব্যাপারটি তাদের কাছে কিছুটা ভিন্ন রকম লাগতো। পর্দার ব্যাপারটি তাদের কাছে দৃষ্টিকটু মনে হতো। এছাড়া আমার পরিবার থেকে কোনো বিরোধিতা হয়নি।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি সবসময়ই পর্দায় থাকেন?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আমি মনে করি, যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তো এর সবটাই মেনে চলবো। অনুগত বান্দা হয়েই জীবন-যাপন করবো। ‘আধা মানব, আধা দানব’ নীতি আমার পছন্দ নয়। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ এক। দুনিয়ার সমস্ত ব্যবস্থাপনা তারই নিয়ন্ত্রণে। তিনিই একক, লা শরীক প্রভু।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: ইসলাম গ্রহণের পর আপনার কী অনুভূতি?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: নিজেকে একেবারে হালকা ও নির্ভার মনে হয়। আমি পূর্বে যেন দৃষ্টিহীন ছিলাম। আলোকবঞ্চিত ছিলাম। সম্ভবত আমার দিব্যচক্ষু বন্ধ ছিল। মনে হয় এখন আমি আলো পেয়ে গেছি। আমার চিন্তার জানালা যা এতদিন বন্ধ ছিল উন্মুত্ত হয়ে গেছে। এখন আমি তৃপ্ত-সন্তুষ্ট। আমার সন্তুষ্টি এখন ইতিবাচক। আমি প্রত্যয়ী এক মুসলিম নারী।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: ইসলামে তালাক খোলা-র যে সহজ পন্থা রয়েছে এ ব্যাপারে আপনার অভিমত ব্যক্ত করুন।

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: এগুলো সবই ব্যক্তিগত ব্যাপার। যখন স্বামী-স্ত্রীতে নিয়মিত ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকে। বনিবনা হয় না। একে অপরকে ঘৃণা করতে থাকে। দুজনের এক ছাদের নীচে থাকা সম্ভব হয় না এমতাবস্থায় খোলা বা তালাকের মাধ্যমে জটিলতা সহজে নিরসন করা যায়। আমি বলতে চাই, মেয়েরাও অধিকাংশ পুরুষদের ওপর তাদের সামর্থ্যরে অধিক অপ্রয়োজনীয় দাবী-দাওয়ার চাপ প্রয়োগ করে অশান্তির দরজা খুলে দেয়। বহুলোক তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে আমাকে এ অভিযোগ করেছে। স্বামীর আয় দেখে স্ত্রীর বায়না ধরা উচিত নয়। দুজনে মিলেমিশে পেয়ার মহব্বতের সঙ্গে জীবন-যাপনের চেষ্টা করা উচিত।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি পশ্চিমা অনেক দেশ সফর করেছেন। সেসব দেশে অন্যান্য ধর্মের সঙ্গে ইসলামের তুলনা করে দেখেছেন তো তাদের কেমন হয়েছে?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: জার্মানীতে পরিস্থিতি বেশ মজবুত। এমনিতেও সারা পৃথিবীতে ইসলামী শিক্ষা ও প্রচার প্রসারের বেশ প্রভাব রয়েছে। লোকজন ইসলাম সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী ও প্রতীক্ষমাণ।

আমি যখন ধর্ম পরিবর্তন করিনি আমার তখন অনেকগুলো খোদা ছিল। (আল্লাহ মাফ করুন) সন্তান অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি দুআও করতে হতো। আমার জানা ছিল না, এজন্য আমি কোনো খোদার কাছে ধর্ণা দেবো। কেননা প্রত্যেক ব্যাপারেই সেখানে ভিন্ন ভিন্ন ভগবান ছিল। ফলে আমি অস্থির হয়ে উঠতাম। ইসলামে সমস্ত পৃথিবীর মালিক আল্লাহ তাআলা। যিনি এক ও একক। সবার সব আকাক্সক্ষা আবদার তিনি একাই শোনেন। তার কোনো শরীক নেই। ব্যস, যা চাওয়ার তারই নিকট চাও।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি একজন প্রসিদ্ধ কবি ও লেখিকা। বলা যেতে পারে নোবেল প্রাইজ আপনি পেতে পেতেও পাননি। এর কারণ কী ছিল? ১৯৮৪ সালে আপনার সঙ্গে টারগেট বোরসি, জোরিসালিসিং, নন্দএনগার্ডসিজও ছিল।

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আমার দুর্ভাগ্য! দ্বিতীয়ত সে সময় আরেকজন ভালো কবিও আপনি যাদের নাম উচ্চারণ করেছেন- ছিলেন। তার তখন ক্যান্সার হয়েছিল। এ কারণে, নোবেল প্রাইজ তখন তাকে দেয়া হয়েছিল। প্রাইজ পাওয়ার কয়েকদিন পরেই সে মারা যায়। এজন্যই সাধারণত একাধিকবার নোমিনেট হতে হয়।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: ইসলামই একমাত্র ধর্ম, আপনার মধ্যে কিভাবে একথার প্রত্যয় জন্মালো?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আমি বছরের পর বছর ধর্মসমূহ অধ্যয়ন করতে থাকি। আমার মনে হয়েছে অন্যান্য ধর্মের কয়েকটি বুনিয়াদী বিষয় একেবারে অন্তঃসারশূন্য। ইসলামের ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ় ও মজবুত। এতে নিরাপত্তা, সততা ও স্বস্তির ভরপুর উপাদান রয়েছে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি ঠিকই বলেছেন, ইসলাম এক সার্বজনীন ধর্ম, পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। দুর্বলদের মুহাফিজ আর মজলুমের সমব্যাথী। শেষে আরেকটি প্রশ্ন করতে চাইÑ হিন্দু-মুসলিম বোনদের উদ্দেশ্যে আপনার আহবানৃ।

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: একে অপরকে ভালোবাসুন। ভালোবাসা আর আন্তরিকতায় শান্তিু আছে উন্নতি আছে, নিরাপত্তা আছে। আমি বলি, যেখানে ভালোবাসা নেই সেটা দোযখ। আর যেখানে পরস্পরে হৃদ্যতা আছে, সেটা জান্নাত। জান্নাতে সুকূন আছে শান্তি আছে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: শেষ কথা- লোকেরা বলে আপনার ইসলাম গ্রহণের পিছনে একজন ‘পুরুষ’ মানুষের অবদান আছে। কথা সত্য হলে এবং কিছু মনে না করলে তাঁর পরিচয় জানতে চাই?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: সত্যকথাই শুনেছেন। নিঃসন্দেহে এতে ‘মানুষ’ এর হাত রয়েছে। আর তিনি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসূল। তাঁর কারণেই আমি ঈমান গ্রহণ করেছি। এই এক ব্যক্তির ‘শিক্ষা’ আমার জীবনের গতি পাল্টে দিয়েছে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি বলেছেন, ত্রিশ বছর ধরে ইসলামের দ্বারা এবং ইসলামী সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত। কিন্তু প্রকাশ এতোটা বিলম্বে হল কেন? কোনো ভয় বা অন্য কোনো কারণ?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: আমি এক আল্লাহ ব্যতীত আর কারও ভয় করি না। আমি আল্লাহর বান্দী। সম্ভবত উপযুক্ত সময়টির প্রতীক্ষায় ছিলাম।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: আপনি নামায-রোযার পাবন্দী করেন?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: হ্যাঁ, নামায রোযার খুব পাবন্দী করি। রাত তিনটায় বিছানা ত্যাগ করি। তাহাজ্জুদসহ পাঁচওয়াক্ত নামাযই পাবন্দীর সাথে আদায় করি। সকাল বেলা ইমাম সাহেব আমাদের বাড়িতে পড়াতে আসেন। তার কাছ থেকে আমি ইসলামী শিক্ষা অর্জন করি। (সকালে তার সঙ্গে আমাদের সুরাইয়া সাহেবের ঘরে সাক্ষাত হয়।) কুরআনে পাক পড়া শিখেছি। এখন বিশেষ সুরে তিলাওয়াত শিখছি।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: কেরালা, মুসলমান এবং রাজনীতি- এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: কেরালার উন্নয়নের ৮৫% ভাগেই মুসলমানদের হাত ও সহযোগিতা রয়েছে। এর উন্নতিকল্পে মুসলমানরা পানির মতো পয়সা ব্যয় করেছে। এখানে সর্বদা মুসলিম লীগই বিজয়ী হয়ে আসছে। কিন্তু এরা কখনও মুসলমানদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামায় না এবং কিছু করেও না। আমি চাই, কেরালার অধিবাসীরা মুসলমানদের নিয়ে ভাববে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করুক। আমি জোর দাবী জানাবÑ এখন সময় এসেছে ইনসাফের দাবী নিয়ে আওয়াজ তোলার। এখানকার মুখ্যমন্ত্রী মুসলমানই হওয়া চাই। এটা তাদের অধিকার। এখানকার অর্থনীতি মুসলমানদের কারণেই টিকে আছে। মুসলমানদের অগ্রসর হয়ে নিজেদের অধিকার দাবী করে তা অর্জন করে নিতে হবে।

ফরিদা রাহমাতুল্লাহ: ভবিষ্যতের কোনো আকাক্সক্ষা?

ডক্টর কমলা সুরাইয়া: কেরালার রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আনতে হবে। আমার ইচ্ছা বয়স্কা মহিলাদের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করবো। সেখানে ইবাদতের বন্দোবস্ত থাকবে। একটি মসজিদ আর মাদরাসাও নির্মাণ করবো। এই সব বয়স্কাদের খিদমত করবো। তাদের এমন ভালোবাসবো যা তাদের প্রিয়জনেরাও কখনও বাসেনি। বাইরে বের হলে দেখি, কতো নিরাশ্রয় নারী রাস্তার ধারে ফুটপাথে দরদী ও বান্ধবহীন পড়ে আছে- তাদের জন্য কাজ করবো। তাদের নিজের ঘরে স্থান দেবো। আমার ধারণা, মুসলিম নারীরা সামাজিক কাজগুলো ভালোভাবেই আঞ্জাম দিতে পারে। জীবনের যেটুকু অংশ অবশিষ্ট আছে দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যয় করবো এই আমার আকাক্সক্ষা।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে - ফরিদা রাহমাতুল্লাহ

মাসিক আরমুগান, এপ্রিল- ২০০৩