Editors

Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার আসন্ন নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে চট্রগ্রাম নাগরিক ঐক্য’র সংবাদ সম্মেলন

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,ওসমান গনি,সুহাস বডুয়া, হেলাল মাহমুদ,আয়েশ আক্তার রুবি,বাপসনিউজ ঃ গত ১৯ ফেব্রুয়ারী রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারের চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার আসন্ন নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে চট্রগ্রাম নাগরিক ঐক্য’র ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাপসনিউজ। চট্রগ্রাম সমিতি অব নর্থ আমেরিকার সাধারন সদস্যদের পক্ষ থেকে এই সাংবাদিক  সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক চট্রগ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক  সম্মেলনে মুল বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক ছাত্রনেতা বিশিষ্ট সংগঠক কামাল হোসেন মিঠু।
তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন.

বাঁচাও চট্টগ্রাম সমিতি
সম্মানিত প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
আস্সালুমাআলাইকুম এবং আদাব। আপনাদের সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ আজকের এই মত-বিনিময় সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য।
১৯৮৯ সালের কোন এক সন্ধ্যায় করোনার একটি বাড়ীতে প্রবাসের কয়েকজন চট্টগ্রামবাসী মিলে চট্টগ্রাম সমিতি গঠন করেছিলেন, চট্টগ্রামবাসীর কল্যাণ এবং সমৃদ্ধির আশায় সেদিন যারা সেই স্বপ্নবীজ বুনে ছিলেন তারা অনেকেই আজো চট্টগ্রাম সমিতির সাথে জড়িত আছেন এবং নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সেই স্বপ্নচারী যুবকেরা আজ কোন না কোন ভাবে আশাহত। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথ পরিক্রমায় আমাদের অনেক অর্জনের পাশাপাশি আমাদের ব্যর্থতার দায়ভার কম নয়।
আপনারা অবগত আছেন, আগামী ২রা এপ্রিল, ২০১৭ চট্টগ্রাম সমিতির নির্বাচন ঘোষনা করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো গত সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসে। দীর্ঘ সূত্রিতা সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তার পাশাপাশি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য এক শ্রেণীর লোক, যারা চট্টগ্রাম অধিবাসী কিনা আমাদের সাথে সন্দেহ রয়েছে তারা সমিতির ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার অপ্রপ্রয়াস চালাচ্ছে।


সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমনাত্বক বক্তব্য রেখে চলেছেন, নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায় কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সদস্যদের পক্ষ থেকে এই ধরনের কার্য্যকলাপের সাথে জড়িত আছেন, তাদের বয়কট করায় জোর দাবী জানাচ্ছি।
এবার আমি বর্তমান কার্য্যকরী কমিটির কার্যক্রম এবং তাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে। নির্বাচনের আজ যে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়েছে, বর্তমান কমিটি তার দায়ভার কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়ে বর্তমান কমিটি শুধুমাত্র যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তা নয়। তাদের এই ব্যর্থতার ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রাম সমিতি আর্থিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্তমান কার্যকরী কমিটি তাদের নিজস্ব স্বার্থ সিদ্ধির জন্য চট্টগ্রাম সমিতিকে ব্যবহার করেছেন। তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা চট্টগ্রাম সমিতির সম্মানিত, ব্যক্তিবর্গের সম্মান হানি করেছেন। ভোটে নির্বাচিত একটি কমিটির কাছে চট্টগ্রাম বাসীর এমন প্রত্যাশা ছিলো না। বিশেষ করে ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিটির ভানুমতির খেল চট্টগ্রামবাসী স্বচক্ষে দেখেছেন।
এবার আসি, চট্টগ্রাম সমিতির আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গে। ২০১২ সালের নির্বাচিত কমিটি অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে তাদের মেয়াদের শেষার্ধে চট্টগ্রাম সমিতির ভবনের ঋণকৃত সমস্ত টাকা শুধুমাত্র একটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। আমরা সমিতির সাধারণ সদস্যরা সেদিন আশান্বিত হয়েছিলাম এই ভেবে, এইবার চট্টগ্রাম সমিতির আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতার মুখ দেখবে। কিন্তু বিধিবাম। ৪০,০০০ হাজার ডলার হাতে নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরেও বর্তমান কার্য্যকরী কমিটি চট্টগ্রাম সমিতিকে একটি দেওলিয়া প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। ৩০ মাসের ক্ষমতায় থাকাকালে মাসে ঘরভাড়া বাবৎ শুধুমাত্র আয় হয়েছে ২,১৬,০০০ ডলার। এছাড়া ও সমিতির প্রতিটি ইভেন্টে সমিতির দাতা এবং সাধারণ সদস্যরা সবসময় কন্ট্রিবিউট করেছেন। আজ অবধি সমিতির প্রধান দায়িত্বে থাকা সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক/কোষাধ্যক্ষ চট্টগ্রাম বাসীর কাছে হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আমাদের কাছে এই মর্মে তথ্য প্রমান আছে যে, সমিতির বর্তমান সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ চট্টগ্রাম সমিতির ব্যাংক একাউন্ড নিয়ে যথেচ্ছাচার করেছেন। সমিতির ভাড়া সংগ্রহ করা হয়েছে নগদ টাকায় যা নজীরবিহীন। চট্টগ্রাম সমিতির ব্যাংক হিসাব নং ৪৩০৬২৮০৪৫৭ থেকে বারই সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে কোষাধ্যক্ষ মোক্তাদির বিল্লাহ $১১৪৯০.০০ ডলার নগদে উত্তোলন করেছেন খাত হিসেবে দেখানো হয়েছে ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ ধহফ ঊঈ সভাপতি মহোদয় এই চেকে সই করেছেন। আমাদের প্রশ্ন একটি অলাভজনক (৫০৪) প্রতিষ্ঠানে কেমন করে এতো বড় অংকের টাকা নগদে লেনদেন হলো? কাদেরকে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ঊঈ, ঊঈ র মানে কি? ঊষবপরঃড়হ ঈড়সসরংড়হ নাকি অন্য কিছু?
এই ধরনের আরো ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের খবর আছে আমাদের কাছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পেরিয়ে চট্টগ্রাম সমিতি যখন এই প্রবাসে অগ্রগণ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হবার কথা, তখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এবং মিডিয়ার চট্টগ্রাম সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার মতো সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীরা চাই চট্টগ্রাম সমিতি তার হৃত গৌরব ফিরে পাক।
আমরা চট্টগ্রামবাসীরা চাই, ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, আমরা  চাই সচল চট্টগ্রাম সমিতি, সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম সমিতি। যারা আর্থিক দূর্নীতি এবং অনিয়মের সাথে জড়িত হয়েছেন, তাদেরকে আগামী দিনের যে কোন ধরনের নেতৃত্বে দেখতে চাই না। আমরা চাই সৎ এবং যোগ্য নেতৃত্ব, যারা চট্টগ্রাম সমিতির পবিত্রতা রক্ষা করবেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং প্রতিদ্বন্ধিতা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য যারা মিশনে নেমেছেন তাদের কাছ থেকে সর্তক থাকার জন্য চট্টগ্রাম বাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।  সেই সাথে এ যাবত কালের সমস্ত আর্থিক অনিয়মের শ্বেতপত্র প্রকাশের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সকলকে ধন্যবাদ।
নাগরিক ঐক্য, চট্টগ্রাম প্রবাসী, নিউইয়র্ক।

সাংবাদিক সম্মেলনে ধন্যবাদ জানান হেলাল মাহমুদ। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, চট্রগ্রাম সমিতির কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সঠিক হিসাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে সাধারন সদস্যগত আইনি ব্যবস্থা নিবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরদেন এবং অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, সৈয়দ এম রেজা, মফজল আহমেদ চৌধুরী, মোঃ হারুন, আব্দুল করিম, নবী হোসেন, নাজিম উদ্দিন, এম এ লতিফ নয়ন, মতিউর রহমান, আরশাদ ওয়ারেশ, সাহাবউদ্দিন চৌধুরী লিটন, মীর কাদের বাশল, গিয়াস উদ্দিন, সাধন ধর, সামসুল আলম, মোঃ ইসহাক, আবদুর রহীম, মোহাম্মদ হারুন সেলিম, আইয়ুব আনসারী, দিলীপ বড়–য়া এবং নাজিম উদ্দিন সহ অর্ধশতাধিক সাধারন সদস্যবৃন্দ। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক সভাপতি, উপদেষ্টা এবং সাবেক বিভিন্ন কর্মকর্তাগন।
সংবাদ সম্মেলনে শেষে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।


Add comment


Security code
Refresh