Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

যেভাবে বাংলা হলো সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা

শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

বাপ্ নিউজ : মাতৃভাষার জন্য আমাদের রক্তদান এবং এ বিশ্বজুড়ে এ ভাষার মর্যাদা ছড়িয়ে পড়ার গল্প উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভাষার জন্য পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে প্রাণ হারালেন দেশের চার তরতাজা যুবক। মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিই ছিল তাদের অপরাধ! সেই মহান ও গুরুত্ববহ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লো গোটা পৃথিবীতে। একটা সময় ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণা করলো জাতিসংঘ। এর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষির মানুষরা তাদের মায়ের ভাষাকে সম্মান জানানোর সুযোগ পেলেন। বাংলা ভাষার মাহাত্ম্য চর্চিত হলো বিশ্বজুড়ে। ঠিক অর্ধ শতাব্দি পর আবারো বাংলা ভাষাভাষিদের আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ সৃষ্টি হলো। এবার বাংলাদেশ থেকে বহু দূরের এক দেশে বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসাবে ঘোষণা করা হলো। ২০০২ সালে পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ সিয়েরা লিওনে অফিসিয়াল ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার নাম ঘোষণা করা হয়।

Picture

ভৌগলিক বা সাংস্কৃতি উভয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সিয়েরা লিওন। কিন্তু এ দুই দেশের সম্পর্ক এতটাই গভীর ও আন্তরিক যে, এ দেশের ভাষাকে নিজেদের করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ১৯৯১-২০০২ সাল পর্যন্ত দেশটি বিধ্বস্ত হয়েছে গৃহযুদ্ধে অভিশাপে। সেই সময়টাতে সিয়েরা লিওনে শান্তি ফেরাতে বিপুল পরিমাণ শান্তি বাহিনী নিয়োগ করে জাতিসংঘ। তাদের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ দেশের সেনারা সিয়েরা লিওনের বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। দেশটিতে শান্তি ফেরাতে রেখেছেন ব্যাপক ভূমিকা। বিদ্রোহীদের দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে মুক্ত করতে বাংলাদেশের সেনা সদস্যদের কার্যক্রম ছিল অনবদ্য।

বাংলাদেশিরা যা করেছেন, তার জন্য সিয়েরা লিওনের সরকার কৃতজ্ঞ। ২০০২ এর আগে পরে শান্তি ফিরে আসে দেশটিতে। প্রেসিডেন্ট আহমাদ তেজান কাব্বাহ কৃতজ্ঞতা জানাতে একটুও দেরি করলেন না। তিনি বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের ভূমিকাকে চিরস্মারণীয় রাখতে বাংলা ভাষাকে দেশটির সরকারি ভাষার মর্যাদা দিলেন।

তাই আমরা যখন ফেব্রুয়ারিতে নিজ দেশে বাংলা ভাষাকে মর্যাদা জানাই, তখন সিয়েরা লিওনেও আমাদের মায়ের ভাষা সমমর্যাদা লা করে। গোটা বিশ্বজুড়ে যখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালিত হয়, তখন সবাই মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের মায়ের ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। গোটা বিশ্বের সব দেশ ও মানুষের সঙ্গে তখন আমাদের এক অটুট বন্ধন স্থাপিত হয়।