Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

ওয়াশিংটনে সুরবিতানের বসন্ত উৎসব

বুধবার, ১৫ মার্চ ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,মো:নাসির, ওসমান গনি,সুহাস বডুয়া,হেলাল মাহমুদ, বাপসনিঊজ:ওয়াশিংটন: রঙ লাগলে বনে বনে, ঢেউ জাগলে সমীরণে, আজ ভুবনের দুয়ার খোলা, দোল দিয়েছে বনের দোল- আজ পহেলা ফাল্গুন। আগুনরাঙা বসন্ত আজ। ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অমীয় বাণীটি ঋতুরাজকে আলিঙ্গনের আহ্বান জানায়। আর বসন্তের সেই আহ্বানে বৃহত্তর ওয়াশিংটনের সাংস্কৃতিক সংগঠন ”সুরবিতান” আয়োজন করেছে ”বসনতের সন্ধ্যায়”।সুরবিতানের পরিচালক শিল্পী ও নাট্য নির্মাতা বুলবুল আক্তার ও কামরুল ইসলাম কামালের আয়োজনে গত ১২ মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় ভার্জিনিয়ার কলম্বিয়াপাইকস্থ গর্ভমেন্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল এই ছ ”বসনতের সন্ধ্যায়”।

Picture

ফুল ফোটার পুলকিত এই সন্ধ্যায় কাননে-কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে উঠেছিল বসনতের এই সন্ধ্যা। কচিপাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লাগিল দোলা। হৃদয় হল উচাটন। পাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহু কুহু ডাকে ভরে উঠেছিল পুরো অনুষ্ঠানস্থল। সকল কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে সেজেছিল বসন্তের এই সন্ধ্যা। লাল-হলুদের বাসন্তী রঙে সেজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাঙালিরা প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভেসেছিল।

alt

বসন্ত এলেই বাঙালির মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের সেই পরিচিত গান ‘আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়....।’ শীতের জীর্ণতা সরিয়ে সুরবিতান আয়োজিত বসনতের এই সন্ধ্যায় রবি গুরুর গানে গানে ফুলে ফুলে রঙে রঙে ভরে উঠেছিল পুরো প্রকৃতি। পুরো অনুষ্ঠান। আর একই সাথে যেন গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীরগতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর। শীতের খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী নতুন আলো আর বাতাসের স্পর্শে জেগে ওঠে এ সময়। পলাশ, শিমুলগাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তের সাজসাজ রব। আর এ সাজে মন রাঙিয়ে গুণ গুণ করে অনেকেই গেয়ে উঠে- ‘মনেতে ফাগুন এলো...।’ কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরাপাতার শুকনো নূপুরের নিক্বন, প্রকৃতির মিলন এ বসন্তেই। বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা। বসন্তের এই পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে উঠেছিল পুরো অনুষ্ঠান।

alt

অনুষ্ঠানে আসা রমণীরা বাসন্তী রঙে নিজেদেরকে রাঙিয়ে তোলে। গায়ে হলুদ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি জড়িয়ে তরুণী ও পাঞ্জাবি পরা তরুণরাও এদিন নিজেদের রঙিন সাজে সাজাতে কম যাননি। বসন্ত তারুণ্যেরই ঋতু। তাই অনুষ্ঠানে আগত সবারই মনে প্রানে বেজে ওঠে, কবির এ বাণী- ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পয়লা ফাল্গুন আনন্দের দিনে।’ অনুষ্ঠানে বৃহত্তর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ, শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক সহ সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহন করে। সুরবিতান আয়োজিত বসন্তের সন্ধ্যায় আগত অতিথিরা গানে গানে রঙে রঙে বসন্ত বন্দনা, বসন্ত কথন পর্ব, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, আবৃত্তি, দলীয় সংগীত, একক সংগীত, বসন্ত আড্ডা শেষে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ঘরে ফিরে যান।


Add comment


Security code
Refresh