Editors

Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

"ইতিহাসের অমোঘ সত্যের লালন,বিকাশ,রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি:প্রয়োজনীয়তা: করনীয়।"---সিকদার গিয়াসউদ্দিন

রবিবার, ১৯ মার্চ ২০১৭

১৯৭১' সাল।১'লা মার্চ,২'রা মার্চ,৩'রা মার্চ।তারই ধারাবাহিকতায় ৭'ই মার্চ।বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষন।অত:পর ২৩'শে মার্চ পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস।তথাকথিত পাকিস্তানী বর্বর সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে ২৫'শে মার্চ বঙ্গবন্ধুকে আটক ও গনহত্যা।তারপর বঙ্গবন্ধুর নামে ২৬'শে মার্চ জনযুদ্ধে রূপান্তর।অগ্নিঝরা মার্চের এসব দিনগুলো পূর্বানী হোটেল ভায়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,পল্টন ময়দান হয়ে রেসকোর্স ময়দান।আবারো পল্টন ময়দানের সেই দিনগুলো সমগ্র দেশের সর্বস্তরের জনগনকে জনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে যেভাবে উদ্ভুদ্ধ করেছিলো-ইতিহাসে তা খূবই বিরল।কোন একটি দিনকে অন্যদিন থেকে আলাদা করার উপায় নেই।বঙ্গবন্ধুর নামে আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে ছাত্র-যুব সমাজের গোপন ও প্রকাশ্য পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ব্যাপক কর্মকান্ড দলমত নির্বিশেষে সমগ্র দেশের ছাত্র-শ্রমিক ও সর্বস্তরের জনগনকে একই সূঁতোয় বেঁধে জনযুদ্ধে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দস্তুরমতো এখন ইতিহাসের আকর।এসব দিনগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোন উপায় নেই।ধারাবাহিকতায় দিনগুলো অবশ্যই পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ইতিহাসের অমোঘ সত্যের লালন ও বিকাশে এসব দিনগুলোর মহিমামন্ডিত ইতিহাসকে ঐতিহাসিক কারনে জাতীয় স্বার্থে ক্ষুদ্র দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির উর্ধ্বে স্থান দিয়ে দীর্ঘ কয়েক যুগের ব্যবধানে দেরী হয়ে গেলেও জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা গ্রহন সময়ের দাবী বলে পত্র-পত্রিকা,তথ্য মাধ্যম,গনমাধ্যমে,সোশ্যাল মিডিয়া সহ নবীন প্রবীন বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞজনদের বলতে দেখা যায়।শুধু তাই নয়-চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ৬ দফা ঘোষনার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সাথে এম এ আজিজ সহ জনযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নামে মুজিবনগর সরকারের অবদান,মওলানা ভাসানী,অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ,কমরেড মনি সিং,মনোরঞ্জন ধর সহ ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ড বেশ প্রনিধানযোগ্য।ছাত্র ইউনিয়নের কাজী জাফর,রাশেদ খান মেনন,মতিয়া চৌধূরী,হায়দার আকবর খান রনো,আতিকুর রহমান শালু ইউছুফজাই সহ অনেকের কর্মকান্ডও আলোচ্য।

তথাকথিত পাকিস্তানের সামরিক বেসামরিক সকল গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টকে মিথ্যা প্রমানিত করে ১৯৭০'সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে।নির্বাচনের পরপরই ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা শাসকগোষ্টির তালবাহানা ও ষডযন্ত্র লক্ষনীয়।দীর্ঘ ২৪ বছরের শাসন-শোষন,অবিচার,অনাচারের কথা বাদ দিলেও নির্বাচনের আগে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্নিঝড়ে লক্ষ লক্ষ লোকের প্রানহানির পর পশ্চিমা শাসকদের উপেক্ষা সারাবিশ্বকে স্তম্ভিত করে।বাঙালী জাতির প্রতি এতোবড়ো উপেক্ষা নির্বাচনে বিরাট প্রভাব রাখে এবং পূরো জাতিকে একই সূঁতোয় গেঁথে ফেলে।যাহোক-১৯৭১'সালের ১'লা মার্চ সামরিক স্বৈরশাসক আচানক রেডিওতে ৩'রা মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষনা করলে ঢাকাসহ সারাদেশ আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে উঠে।ঢাকা ষ্টেডিয়ামে তখন ক্রিকেট খেলা চলছিলো।ইয়াহিয়ার ভাষনের পরপরই তা পন্ড হয়ে যায়।অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে ঢাকা শহরের বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা "বীর বাঙালী অস্ত্র ধর-বাংলাদেশ স্বাধীন কর","ছয় দফা না এক দফা-এক দফা এক দফা",পিন্ডি না ঢাকা-ঢাকা ঢাকা","তোমার নেতা আমার নেতা-শেখ মুজিব শেখ মুজিব" ইত্যাদি গগনবিধারী শ্লোগান সহকারে হোটেল পূর্বানীর চতুর্পাশ্বে জড়ো হতে থাকে।দ্রুততম সময়ের ব্যবধানে ততক্ষনে হোটেল পূর্বানীর চতুর্দিকে লোকে লোকারণ্য।বঙ্গবন্ধু তখন আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারী অধিবেশন ও দেশীবিদেশী সাংবাদিকদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন।ইয়াহিয়ার ভাষনের পরপরই হোটেল পূর্বানীর ভেতরের অবস্থা থমথমে।বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতার গগনবিধারী শ্লোগানের গর্জনের একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু হোটেল পূর্বানীর ব্যালকনীতে দাঁড়িয়ে সবাইকে আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।ছাত্রজনতা বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত ভাষনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতে থাকে।বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা চার খলিফা খ্যাত ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে "স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ"ঘোষনার জন্য প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় ডাকসূ ভিপি আ স ম আবদুর রব,ডাকসূ সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ চতুষ্টয়ের সমন্বয়ে "স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ"য়ের ঘোষনা দেয়া হলে উপস্থিত ছাত্রজনতা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে শ্লোগানের পর শ্লোগান সহকারে চতুর্দিক প্রকম্পিত করে তোলে।স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পরবর্তি দিন ২'রা মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানের ঘোষনা দিলে ছাত্র জনতা সেদিনের মতো শ্লোগান দিতে দিতে যার যার গন্তব্যে গমন করে।ততক্ষনে সমাবেশের কথা ঢাকা নারায়নগন্জ সহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।উল্লেখ্য ১৯৭০'সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপরোল্লিখিত চার ছাত্রনেতা উল্কার বেগে সারাদেশ চষে বেড়ায়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে।এক পর্যায়ে জনগন তাঁদেরকে চার খলিফা বলে সম্বোধনের বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টিকারী।

এলো ২'রা মার্চ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গন।স্মরণকালের বৃহত্তম ছাত্রজনসভায় তিলধরনের ঠাঁই ছিলোনা।এই সভায় চার খলিফার কন্ঠে বাংলাদেশের পূর্ণ স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষনা করা হয়।উল্লেখ্য শ্লোগানে মূখরিত উত্তেজিত ছাত্রজনতাকে ১০:৪৫ মিনিটে ডাকসূ ভি পি আ স ম আবদুর রব মাইক হাতে নিয়ে সভায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী সমবেত সকলকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও তাঁর নির্দেশ অনুসরন করে স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার শপৎবাক্য পাঠ করান। সভায় চার খলিফা ও লক্ষ ছাত্রজনতার উপস্থিতিতে ডাকসূ ভি পি আ স ম আবদুর রব পতাকা উত্তোলন করলে সমুদ্রের গর্জনের মতো শ্লোগানে শ্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে।পরবর্তি দিন ৩'রা মার্চ পল্টন ময়দানে জনসভার ঘোষনা দেয়া হয়।
২'রা মার্চ,আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের ফলে বাঙালী জাতি কেবলমাত্র স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া ব্যতিত পেছন ফেরার সব পথ রূদ্ধ হয়ে যায়।তাই এই দিনের বিশেষ মাহাত্ম্য ঐতিহাসিক কারনে আগামী জমানার ইতিহাসবিদদের কাছে অবশ্যই বিশেষ গুরুত্ববহ হয়ে উঠবে।কারন স্বাধীনতার লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রামের ঐতিহাসিক জনঅনুমোদন সেদিন উপস্থিত ছাত্রজনতার মধ্য দিয়েই সুস্পষ্টভাবেই ধ্বনিত হয়েছিলো।

৩'রা মার্চে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে "স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ"আয়োজিত বিশাল জনসভায় অনির্ধারিতভাবে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি ও আন্দোলনের ঘোষনা প্রদান এককথায় ঈঙ্গিতবহ ও অবিস্মরনীয়।এদিন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শাজাহান সিরাজ মন্চে বঙ্গবন্ধুর আগমনের পূর্বে ও বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে দূ'বার স্বাধীনতার ইশতেহার বা প্রক্লেমেশন বা ঘোষনাপত্র পাঠ করেন।মুহুর্মুহু করতালি আর গগনবিধারী শ্লোগানের মধ্য দিয়ে তা জনঅনুমোদন লাভ করে।সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার স্থপতি ঘোষনা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলিত জাতীয় পতাকা নির্ধারন ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের "আমার সোনার বাংলা" গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে নির্বাচন সহ বিস্তারিত কর্মপন্থা ঘোষিত হয়।প্রকাশ্য জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জনঅনুমোদন প্রাপ্ত ইশতেহার বা প্রক্লেমেশন বা ঘোষনার বিষয়টি জানার পরও ঘোষনা নিয়ে অহেতুক বিতর্কের বা বিকৃত ইতিহাস তৈরীর আদৌ কোন অবকাশ আছে কি?

৩'রা মার্চের পরপরই বিএলএফের চার যুব নেতা সিরাজুল আলম খান,শেখ ফজলুল হক মনি,আবদুর রাজ্জাক,তোফায়েল আহমদ ও বেগম মুজিবের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড গঠনের আশ্বাস প্রদান করেন।৭'ই মার্চের আগের দিন রাতে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডীর ৩২ নম্বর বাসভবনে চার যুবনেতা,চার খলিফাখ্যাত স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও বেগম মুজিবের সাথে গভীর আলোচনা এবং অবশেষে আওয়ামী হাইকমান্ডের সাথে ঐক্যমত্যের বিষয়টি বঙ্গবন্ধু জানিয়ে দেন।সকলের সাথে ব্যাপক পরামর্শের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু পরবর্তি দিনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।তোফায়েল আহমদসহ চারখলিফার নেতৃত্বে শত শত ভলান্টিয়ার মন্চ সহ উত্তাল জনসমুদ্র নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব পালন স্মরন করার মতো।ছাত্র নেতা,যুবনেতা,আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড পরিবেষ্টিত হয়ে মন্চে আরোহন করার সাথে সাথেই উত্তাল জনসমুদ্র মুহুর্মুহু গগনবিধারী শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে।পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ভাষনদানকালে স্মরন করিয়ে দিলেন "যার যা আছে-তাই নিয়ে প্রস্তুত থেকো"।"ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল"।সবশেষে "এবারের সংগ্রাম-আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।এবারের সংগ্রাম-স্বাধীনতার সংগ্রাম"।"জয় বাংলা"।তারপর আর কিছু কি বাকী থাকতে পারে?
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে অসহযোগ আন্দোলন চলতে থাকে।আওয়ামী লীগ,যুব ও ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে সমগ্র দেশ বঙ্গবন্ধুর নামে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হতে থাকে।পশ্চিমা শাসকগোষ্টী নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে।এভাবে এলো ঐতিহাসিক ২৩'শে মার্চ।এদিনের গুরুত্বও অপরিসীম।পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস।এদিন সারাদেশে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে প্রতিটি ঘরে ঘরে এমনকি হাইকোর্ট,সকল কূঠনৈতিক মিশন সহ সর্বত্র (কেবলমাত্র আজকের বঙ্গভবন ও ক্যান্টনম্যান্ট ব্যতিত)বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।ঢাকার পল্টন ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে এদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।আমেরিকার এবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিশ্ববিখ্যাত সাংবাদিক টেড কপেলের ধারাবর্ণনা ইউটিউবে এখন দেখতে পাওয়া যায়।এদিন 'জয় বাংলা বাহিনী'ও 'মহিলা জয় বাংলা বাহিনী' লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে "স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ"য়ের 'চার খলিফা' যথাক্রমে আ স ম আবদুর রব,আবদুল কুদ্দুস মাখন,নূরে আলম সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজকে "গার্ড অব অনার"প্রদান করেন।পতাকা উত্তোলন করেন হাসানুল হক ইনু আর 'জয় বাংলা বাহিনী'র উপপ্রধান কামরুল আলম খান খসরু গান ফায়ার করে মুক্তিযুদ্ধের সূচনার ঈঙ্গিত প্রদান করেন।দেশীয়,আন্তর্জাতিক ও কূঠনৈতিক জটিলতা নিরসনে বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিত থাকলেও গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর অনুমোদনের বিষয়টি অনেকেরই জানার কথা।কারন ঐদিন জনসমাবেশ শেষে 'জয় বাংলা বাহিনী'র প্রধান ও ডাকসূ ভি পি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে বিরাট মিছিল ধানমন্ডীর ৩২ নম্বর বাসভবনে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রদান করলে তা তিনি উড়িয়ে দেন।২৪'শে মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু শেষবারের মতো ইয়াহিয়া কর্তৃক তালবাহানার আলোচনায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় ডাকসূ ভি পি আ স ম আবদুর রব বঙ্গবন্ধুর গাড়ীতে স্বাধীন বাংলার পতাকা লাগিয়ে দিলে সেই পতাকাবাহিত গাড়ী নিয়ে বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়ার সাথে শেষ সাক্ষাৎ করেন।
এলো ২৫'শে মার্চের ভয়াল রাত। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে "অপারেশন সার্চ লাইট"য়ের নামে বর্বর পাক হায়েনা বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সহ ঢাকা শহর ও দেশের সর্বত্র একযোগে ইতিহাসের জঘন্যতম গনহত্যা শুরু করে।চতুর্দিকে অগ্নিসংযোগ,নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন,শিশু,কিশোর,তরুন,যুবা-বৃদ্ধ কেউ এদের বর্বরতা থেকে রেহাই পাইনি।শুরু হয়ে গেলো জনযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তির জন্য যুদ্ধ।ঐ রাতে তথা ২৬'শে মার্চ ভোরের সূর্য্য উঠার আগেই বিবিসি ও আমেরিকা সহ বিশ্বের সকল গন ও প্রচার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষনার বিষয়টি প্রচারিত হতে থাকে।যা তখনকার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিকের লেখায় স্পষ্টাক্ষরে লিখিত হয়েছে।আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের আর্কাইভে এসব এখন প্রতিনিয়ত মেলে।ইন্টারনেটের বদৌলতে তা এখন আরও সহজলভ্য।অবশ্য কালুর ঘাট 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র'থেকে জহুর আহমদ চৌধূরী কর্তৃক প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে আওয়ামী লীগের নেতা এম এ হান্নান,মেঝর জিয়াউর রহমান সহ অনেককে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করার কথা দেশবাসী অবগত।
এমতাবস্থায় এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে এভারেষ্ট শৃঙ্গকে সমুন্নত রাখার জন্য হিমালয় পর্বত গুলোকেও সূশোভিত করে তুলতেই হবে।শুধু তাই নয়-শহর বন্দর ও গ্রামান্চলের পাহাড়গুলোকেও সাজিয়ে তুলতে হবে।অন্য কোন বিকল্প নেই।আমাদের মনে রাখতে হবে-হিমালয়ের পর্বতরাজিকে বাদ দিয়ে এভারেষ্ট শৃঙ্গ আদৌ কল্পনা করা যায় কি?ইতিহাসের এসব কঠিন সত্যকে স্বীকার করে নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা গ্রহনের,জাতীয় পতাকা,জাতীয় সঙ্গীত ও স্বাধীনতার মহান স্থপতির সর্ব্বোচ্চ মর্য্যাদার নিশ্চিতকরনে ও সার্বজনীনতার প্রেক্ষাপঠ বিবেচনা করে দীর্ঘ কয়েক যুগের ব্যবধানে দেরীতে হলেও ব্যবস্থা গ্রহনের এখনই সময়।দলীয় ও রাজনৈতিক কারনে কিছু সময়ের জন্য সত্যকে আড়াল করা গেলেও ইতিহাসের কঠিন সত্যের লালন ও বিকাশকে কখনো রূদ্ধ করা যায়না।তাছাড়াও আর যেনো কেউ আমাদের বহু কষ্ট ও রক্তার্জিত ইতিহাসকে ম্যানিপুলেশন বা বিকৃত করতে না পারে-তাই যতশীঘ্র সম্ভব  সমাধান সুনিশ্চিৎ করা দরকার।কেউ যেনো বলতে না পারে আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন আর বিজয় কেবলমাত্র ১৯৭১'সালের ২৬'শে মার্চ থেকে ১৬'ই ডিসেম্বর পর্য্যন্ত।অবশ্য তারও আগে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নামে অনেক ঐতিহাসিক গোপন ও প্রকাশ্য ঘটনা সমূহ আর ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রক্রিয়ার দিনগুলো সমুদ্র মন্থন করে আগামী জমানার সন্তানেরা বের করে আনবেই।আমাদের স্মরন রাখা দরকার যে-আমাদের ভূলের জন্য,আমাদের মধ্যেকার দন্ধের জন্য,দলীয় রাজনৈতিক কারনে আগামী জমানার সন্তানেরা বা ইতিহাসের ছাত্ররা যেনো আমাদের দায়ী করতে না পারে।ইতিহাসের শিক্ষা এই যে,আমরা জেনেও ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করিনা।
১৬'ই মার্চ,২০১৭ সাল।
লাস ভেগাস,নেভাদা,যুক্তরাষ্ট্র।
কমিটি ফর ডেমোক্রেসী ইন বাংলাদেশ,যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক।
সাবেক সদস্য সচিব:মুক্তিযুদ্ধ চেতনা পরিষদ।যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক প্রতিষ্ঠাতা আহ্ববায়ক:কর্ণেল তাহের স্মৃতি সংসদ,যুক্তরাষ্ট্র।