Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু নির্বাচিত

রবিবার, ১৯ মার্চ ২০১৭
alt

বাপ্ নিউজ : বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু। এক সময়ের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কৃতি খেলোয়ার ও সংগঠক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়ারবৃন্দ, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এএসএম আলী কবিরকে সভাপতি রেখে এবং অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনে ৩১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বাংলাদেশ সময় গত মঙ্গলবার এক গেজেট প্রকাশের মধ্যদিয়ে তা জানানো হয়।
জানা যায়, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু সাবেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন কৃতি খেলোয়ার। তিনি অ্যাথলেটিকস, ফুটবল, ভলিবলে জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। অসংখ্য বার স্বর্ণ পদক বিজয়ী মন্টু ১৯৮৬ সালে পোল ভল্টে জাতীয় রেকর্ড গড়েন (১১ফুট ৯ইঞ্চি), ১৯৯৩ সালে বুয়েট মাঠে অনুষ্ঠিত জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় পোল ভল্ট ও বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হন। সিলেটের কৃতি সন্তান আব্দুর রকিব মন্টু বিজেএমসির হয়ে ১৯৯২, ১৯৯৬ ও ২০০০ সালে বাংলাদেশ গেমসসে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ফুটবলে প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচিতে সিলেটের একমাত্র খেলোয়াড় হিসাবে নির্বাচিত হন। কৃতি ফুটবলার মন্টু পরবর্তীতে দেশে বিদেশে নানা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ও সাধারণ বীমা ক্লাবের পক্ষে খেলেন।
বাংলাদেশের সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুর রকিব মন্টু সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও ইউনিয়নের নিজামপুরের বাসিন্দা। সিলেটে আব্দুর রকিব মন্টুদের পরিবার অ্যাথলেট পরিবার হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এ পরিবারের সাত সদস্যের সবাই জাতীয় পর্যায়ের কৃতী অ্যাথলেট। সকলেই ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হয়ে সাফল্যের অনন্য নজির স্থাপন করেন।
আব্দুর রকিব মন্টুর বাবা তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তান জাতীয় অ্যাথলেট দলের অধিনায়ক মোঃ বশির আলী  ১৯৬৫ ও ৬৬ সালে পাকিস্তান অলিম্পিক দলের নেতৃত্ব দেন। ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হাবিলদার বশির আলী পাকিস্তান অলিম্পিকে পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি গোলক, চাকতি, বর্শা এবং হেমার থ্রোতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। বর্শা নিক্ষেপে জাতীয় রেকর্ড করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। অ্যাথলেট আলহাজ্ব বশির আলী ২০০৬ সালের ১৪ মার্চ ফেঞ্চুগঞ্জের নিজামপুর গ্রামে ইন্তেকাল করেন।
অ্যাথলেট আলহাজ্ব বশির আলীর পদাংক অনুসরণ করে তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে সবাই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণ পদক ছিনিয়ে আনেন। বর্তমানে আব্দুর রউফ পাশা ও আব্দুর রকিব মন্টু ছাড়া সবাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।
আলহাজ্ব বশির আলীর বড় ছেলে আব্দুর রহিম বাদশা বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা’র সভাপতি,  বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি হাইজাম্প, লংজাম্পে বিভিন্ন সময় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ফুটবল, ভলিবল, সাঁতারেও স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন তিনি। আব্দুর রহিম বাদশা বিজেএমসি, ল্যান্ডকাস্টমস এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে বিভিন্ন গেমসসে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ গেমস ১৯৮৪তে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়কত্ব করেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি কর্তৃক সেরা অ্যাথলেট নির্বাচিত হন তিনি।
আলহাজ্ব বশির আলীর ২য় ছেলে বাংলাদেশ কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুর রউফ পাশাও জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেট ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকে বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে জাতীয় অ্যাথলেটিকে বর্শা নিক্ষেপ ও হাইজাম্পে স্বর্ণ বিজয়ী হন। এ ছাড়া ১৯৯০ সালে বর্শা নিক্ষেপ এবং ১৯৯৩ সালে হাই জাম্প ও বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হন। আব্দুর রউফ পাশা বাংলাদেশ কাস্টমস সী দলের হয়ে নেপাল ও ভারতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালেক্রীড়া লেখক সমিতির বিচারে সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কার পান তিনি।
আলহাজ্ব বশির আলীর ৩য় ছেলে কৃতি অ্যাথলেট পরিবারের সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বর্তমানে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন।
বশির আলীর বড় মেয়ে ডা: শাহানারা আলী গোলক, চাকতি নিক্ষেপ ও ১০০ মিটার দৌড়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। জাতীয় পর্যায়েও তিনি বিভিন্ন ইভেন্টে স্বর্ণ পদক ছিনিয়ে আনেন।
২য় মেয়ে জাহানারা বেগম লক্ষী ১৯৮৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় জুনিয়র গ্রুপে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হন।
ছোট মেয়ে মনোয়ারা বেগম মনি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় গোলক, চাকতি ও বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক লাভ করেন।
বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বলেন, ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গেলেও অ্যাথলেটিকসের অবস্থা খুবই নাজুক। কৃতি খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। তাই তেমন সফলতা নেই। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে বিভিন্ন সংস্থা ক্রীড়াবিদদের সুযোগ সুবিধা দিতো, পৃষ্ঠপোষকতা করতো, ভালো খেলোয়াড়দের চাকুরী দিয়ে তাদের হয়ে খেলায় প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিতো এখন তেমনটি লক্ষ করা যায় না। খেলাধুলায় উন্নতির জন্য শুধু সরকার নয় বেসরকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অ্যাথলেটিকসকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসন থেকে আওয়ামী পরিবারের সন্তান বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা’র সভাপতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস, মোশাররফ হোসেন খান, সাইদুর রহমান ডন, মোস্তফা হোসেন মুকুল, সাঈদ উর রব, আরিফুল হক, শাহজালাল মবিন, বিমল চন্দ্র তরফদার, ওমর ফারুক, কারার মিজান, ইলিয়াস হোসেন, রানা ফেরদৌস চৌধুরী, বক্সার সেলিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, সফিকুল ইসলাম জন, আকতার হোসেন ফজলু, আয়াজ খান, ছোট ইউসুফ, গোলাম মোস্তফা, আবদুল্লা সাইফ, আবদুর রউফ পাশা, মহিউদ্দিন দেওয়ান, নাজমুল ইসলাম, সৈয়দ এনায়েত আলী, শাহান উদ্দিন চৌধুরী, তৈয়বুর রহমান টনি, পিনাকি সেন, জাবেদ খসরু, লাকী চৌধুরী আখীসহ অন্যান্যরা অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।


Add comment


Security code
Refresh