Editors

Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

মিজারুল কায়েসের জানাজা সম্পন্ন, দাফন মঙ্গলবার

সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ঢাকা থেকে : সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মিজারুল কায়েসের জানাজা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হয়েছে।সোমবার ৮টা ৪৩ মিনিট জানাজা সম্পন্ন হয়।এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

জানাজায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক এবং সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রদূতেরা ছাড়াও তার সহকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন।

এ সময় মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ওয়ানজা ক্যামপস ডি নোব্রেগা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১২ মার্চ শনিবার রাত ২টায় ব্রাজিলের বাংলাদেশ দূতাবাসে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। ব্রাজিলের প্রথা অনুযায়ী কর্মরত রাষ্ট্রদূতের মৃত্যু হলে সামরিক বাহিনীর সম্মান জানানো হয়। সেই প্রথা অনুযায়ী সে দেশের বিমান ঘাঁটিতে মিজারুল কায়েসের মরদেহকে সামরিক সম্মান জানানো হয়েছে।

আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে মরদেহ। এ সময় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ নেওয়া হবে গুলশান আজাদ মসজিদে। বাদ জোহর সেখানে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদে তৃতীয় জানাজার পর মরদেহ মর্গে নেওয়া হবে। পরদিন হেলিকপ্টারে নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কায়েসের মরদেহ আবারও ঢাকায় আনা হবে। তারপর বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ শুক্রবার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. মিজারুল কায়েস। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্ট আর কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে মিজারুল কায়েস লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে বাংলাদেশ মিশন সামলাচ্ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই তাকে দেশটির রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়।

মিজারুল ব্রাজিলে যাওয়ার আগে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার ছিলেন। ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর তাকে এই দায়িত্বে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে পররাষ্ট্রসচিব করা হয়। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০১২ সালের শেষ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

কিশোরগঞ্জে জন্ম হওয়া মিজারুল কায়েস বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে মালদ্বীপ ও রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি টোকিও, সিঙ্গাপুর ও জেনেভায় বাংলাদেশ মিশনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্ক, সাউথ ইস্ট এশিয়া, ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স, এক্সটার্নাল পাবলিসিটি ও ইউএনসিএলওএস ডেস্কের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিজারুল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আর্টস বিভাগ থেকে স্নাতক ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট’ থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন।

Picture

শহীদ মিনারে মিজারুল কায়েসকে শেষ শ্রদ্ধা

জাতীয় শহীদ মিনারে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েসের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সোমবার (মার্চ ২০) সকাল সোয়া দশটায় শুরু হওয়া শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে।

জাতীয় শহীদ মিনারে মিজারুল কায়েসের মরদেহ আনা হয় সকাল সোয়া ১০টায়। সেখানে একটি কালো ব্যানারের সামনে রাখা হয় মিজারুল কায়েসের মরদেহ। শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।

‘শিল্পভুবনের প্রিয়জন মেধাবী কূটনীতিক মিজারুল কায়েসের প্রতি জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি’ এমনটাই লেখা ছিলো সে ব্যানারে। মিজারুল কায়েসের মরদেহ সেখানে আনার আগেই জড়ো হন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক জগতের মানুষেরা। আসেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও।

সামরিক পোশাকধারী তিন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

এছাড়া শ্রদ্ধা জানানো হয়, ৮২ বিসিএস ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পাকুন্দিয়া সমিতি, ঢাকা কলেজ, বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র, চারুকলা অনুষদসহ আরো অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

মিজারুল কায়েসের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মিজারুল কায়েসের রেখে যাওয়া আদর্শ মেনে চলতে হবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যে সাহস দেখিয়েছেন তা অনুকরণীয়।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আনারুল আলম বলেন, তার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে  এটা ভাবিনি। এমন আর্দশবান মানুষ আমি কম দেখেছি।

বিসিএস ৮২ ফোরামের সভাপতি সাবেক সচিব মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ছিলেন ফোরামের প্রাণ, তার মেধা ছিল অতুলনীয়। তিনি স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু,পতাকা, মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে কোন দিন আপস করেননি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন সভায়  তার মন্তব্য শুনতে চাইতেন।

কবি মোহন রায়হান বলেন, বাংলা ভাষা, শিল্প সাহিত্য গভীরভাবে ভালবাসতেন মিজারুল কায়েস। তীক্ষ্ণ ছিল তার রসবোধ।

সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, অত্যন্ত মেধাবী একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা ছিলেন মিজারুল।  তার সঙ্গে থাকা মানেই কিছু জ্ঞান লাভ করা।

শিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, মিজারুলের সকল প্রচেষ্টাই ছিল, শিল্প,সাহিত্য, চলচ্চিত্র নিয়ে। তার কথাবার্তা, উল্লাস ছিল সবার চেয়ে আলাদা।

২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণ সভা ও ২৩ মার্চ বাদ মাগরিব শাহীন অডিটোরিয়াম কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে মিজারুল কায়েসের।