Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

‘আমার দেশ তোমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ’- সারাদেশে বাঁধভাঙা উল্লাস

সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ঢাকা থেকে : পুরো দুপুরটায় ছিল ফাঁকা শহর। যানজট নেই বললেই চলে। টিভি সেটের সামনে দর্শক সমাগম। চলন্ত পথের মানুষদের কানে রেডিওর হেডফোন গুজে দেওয়া। ক্রিকেট অনুরাগীদের এমন ছবিগুলোর কেন্দ্রবিন্দু ছিল শ্রীলঙ্কার কলম্বোর পি সারা ওভাল। যেখানে শততম টেষ্ট জয়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সোনার ছেলেরা। শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের সোনার ছেলেরা শততম টেস্টটি শুধু স্মরণীয়ই করে রাখেননি। সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখলেন। ইতিহাসের মালায় গেঁথে নিলেন।

রোমাঞ্চকর এই টেস্ট জয়ের আনন্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পথে নেমে উল্লাস করেছেন। টিএসটি চত্বরে রঙয়ের খেলাও হয়েছে। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে নিজেরা র্যালি করেছে। হাতের লাল রঙ একহাত হয়ে আরেক হাতে ছড়াল।

Picture

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শততম টেস্ট নিয়ে মজেছিলেন। ক্রিকেট উত্তেজনায় অনেকের লেখাপড়ায় মন বসেনি। আনন্দ মিছিলে আসা অনেক ছাত্রই জানিয়ে গেলেন সকালে ক্লাস আর তখনই খেলা শুরু হয়। মন বসেনি পড়ার টেবিলে। সূর্যসেন হল, বঙ্গবন্ধু হল, মহসিন হল, সব হলের টিভি রুমে ভিড় ছিল, দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না।

ম্যাচ জয়টা নিশ্চিত জেনেই সবাই ছুটে গেলেন টিএসসির মোড়ে। রাজু ভাস্কর্যের উপরে। জ্যাম পড়ে গেলো রাঁস্তায়। কি আসে যায় এমন আনন্দের দিনে। পেছনে অফিস ছুটির গাড়িগুলো বিরক্ত হয়নি। হর্নও বাজায়নি। বাড়ি ফেরত বাস থেকে চাকরিজীবীরা দেখছেন তারুণ্যের মাঝে ক্রিকেট খেলাটা কত গভীরে বীজ বুনেছে। স্লোগান দিচ্ছে তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ। যারা এই স্লোগান দিচ্ছে তারা কেউ স্বাধীনতা দেখেননি। কিন্তু স্বাধীনতার এই স্লোগান শুনেছেন। আত্মস্থ করেছেন। হূদয় হতে উৎসারিত হয়ে সেই স্লোগান তরুণ কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে আবারো দেশের শততম টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তে।

alt

ঢাকা বিশ্ববিদল্যায়ের শিক্ষার্থীদের আনন্দ উল্লাসের মিছিল থেকে বেরিয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র রুদ্র নাইম বললেন, ‘টেস্ট ম্যাচটার প্রথম ইনিংসটা দুলছিল। কি হয় কে জানে এমন একটা ভয় ছিল আমার মধ্যে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে’। কথাটা বলেই দৌড়।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে দেশের সব টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা এবং সংবাদকর্মীরা। কাকে রেখে কার সঙ্গে কথা বলবেন তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। লাইভ দিচ্ছিলেন চ্যানেলে। ভিড়ে স্থির হয়ে দাঁড়ানোর অবস্থা নেই। পেছনে বাস, রিকশা, প্রাইভেটকারের ভিড়ে, চাকা ঘুরছে ধীর গতিতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র জহির সরকার টেষ্ট জয়ের দিনে ফোকাস করলেন তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসানকে। এই ক্রিকেটারের পক্ষ নিয়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন জহির সরকার। বললেন, ‘তামিম ভাই এবং সাকিব ভাইয়ের সমালোচনা করেছেন তা ঠিক না। তারা ভাইটাল প্লেয়ার। তামিম সাকিব দাঁড়ালে বাংলাদেশ জিতে।’

alt

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র ম্যাচ জেতা নিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন। ভিড়ের মধ্যে বলছিলেন,‘১৯১ রানের টার্গেট নিয়ে সকালে খেলতে নেমে সৌম্য সরকার যেভাবে আউট হয়ে গিয়েছিলেন তাতে একটা সময় মনে হয়েছিল হারতে পারে টাইগাররা। কারণ তীরে এসে তরী ডোবানোর মতো অঘটন আগেও ঘটেছিল।’ এই ছাত্র ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারকে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বিরতি হলে খেলায় সমস্যা হয়। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা থাকে না। আমাদের অনুরোধ থাকবে বিসিবি যেন আরো বেশি টেস্ট খেলার ব্যবস্থা করে।’

এই ছাত্রদের মাঝে এসে ঢুকলেন বংশালে দিপশিখা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ছাত্র প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী জারিফ। বাবা জনির মোটরবাইকে বসা পুত্র জারিফের আনন্দ দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিলেন। আবারো উঠল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ওয়ানডে টিটোয়েন্টি জেতার প্রত্যাশা রেখে গেলেন এই সব ক্রিকেট অনুরাগীরা।