Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

বাড়ির পাশে বৈশাখী মেলা ও প্রবাসী বাবার চোখে জল

শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৭

ফারুক আহমেদ : জেদ্দা, সৌদি আরব থেকে : বাংলা নববর্ষের আনন্দ সবার মনে একটু হলেও নাড়া দেয়।   শহর বন্দর গ্রামের ছড়িয়ে পরে উৎসবের আমেজ। তবে গ্রাম আর শহরের বর্ষবরণে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। গ্রামের মানুষ সেই কাক ডাকা ভোরে উঠে গরু ছাগল নিয়ে মাঠে চলে যায়। তারপর নতুন বছরে ভাল করে গোসল করায়। গোয়াল ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ধোঁয়া দেয়।

গ্রামের ছোট ছোট শিশু কিশোররা ভোরে বেরিয়ে পড়ে নানান জাতের শাক সংগ্রহ করতে। পুকুর পাড়ে, ঝিলের ধারে যত ধরনের শাক পাওয়া যায় তা তুলে আনে  গ্রামের ভাষায় যাকে বলে 'বারো জাতের শাক। '  গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে চলে সাধ্যমতো ভালো রান্না বান্না। দুপুরে গোসল সেরে সবাই এক সাথে খেতে বসে।

শহরের মতো গ্রামে নতুন বৈশাখী কাপড় কেনার তেমন তেমন আগ্রহ না থাকলেও গ্রামীণ পল্লী মেলার আকর্ষণ অনেক বেশি। বিকালে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বাবার হাত ধরে মেলায় ছুটে চলে নেচে নেচে। এমন সুন্দর দৃশ্য যেন গ্রামের চিত্রকে আরো আকর্ষণীয় করে পহেলা বৈশাখে।

Picture

দীপ্তের বয়স যখন সাত মাস তখন ওকে নিয়ে পহেলা বৈশাখের মেলায় গিয়ে ছিলাম। বাড়ির পাশে পুলেরঘাট বাজারে মেলা। নিজের সন্তানকে কোলে করে মেলায় যাওয়ার সেই আনন্দ অনুভূতির কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।   মনে হয়েছে পৃথিবীর সকল আনন্দ যেন ঘিরে ছিল আমায় ।

ছোট্র দীপ্ত সেই দিন কোনও কিছু স্পষ্ট করে বলতে বা চাইতে পারত না। অনেক সময় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিত এটা সেটা। আর বাবা হিসেবে তাকে কিনে দিয়ে কি আনন্দটাই না পেয়েছিলাম সেই দিন। দীপ্তের মুখে হাসি দেখে বুঝেছিলাম ও অনেক খুশী।   আজ দীপ্তের বয়স প্রায়  তিন  বছর হতে চলেছে। এখন সব কিছু বলতে পারে, চাইতে পারে। আগামীকাল কাল নববর্ষ। পহেলা বৈশাখে কি চায় জানতে চেয়েছিলাম!

দীপ্ত বলল, বাবা আমাকে নিয়ে মেলায় যাও। তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আমি তোমার হাত ধরে, কোলে উঠে মেলায় যাব। আমাকে অনেক খেলনা কিনে দিবে। আরো কত বায়না।   আমি শুধু শুনছিলাম। কোনও কথা মুখ থেকে বের হচ্ছিল না আমার। তাকে কি বলে সান্তনা দেব! আবারো মিথ্যে বলতে হবে তাকে। প্রবাসীদের এমন জীবন যেখানে সন্তানের আনন্দকে মাটি করে দেয়। সন্তানের ডাকে কাছে আসার সুন্দর স্বপ্ন  বা গল্প অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। চোখের জলে হাসি মেখে বলতে হয়, আসব বাবা।