Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

জঙ্গিদের বাঙলা আগ্রাসন - আবু জাফর মাহমুদ

বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৭

বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রনে নেয়ার পর পশ্চিম বাংলা নিয়ন্ত্রণ করতে বিজেপি সরকার শক্তি প্রয়োগে উদ্যোগী হবার কার্যক্রম তীব্র হয়েছে। পশ্চিমবাঙলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কেটে আনলে ১১ লাখ  রুপির পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের বিজেপি যুবনেতা যোগেশ ভারশনে।হিন্দুমন্দিরের জঙ্গি পুরোহিত যোগী আদিত্যকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করার মধ্য দিয়েই যুব হিন্দুজঙ্গিদের প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী মহড়া রফতানি হলো পশ্চিমবঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের পশ্চিমবঙ্গ সফরের ঘোষণা দিয়েই ওখানে বাঙালি খৃষ্টান-বৌদ্ধ- মুসলমান-হিন্দুদের ভেতর চালু করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের  চাপ। ইতিমধ্যে হয়েছে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে খোলা তলোয়ার হাতে বিজেপিপন্থীদের জঙ্গিমিছিল।বাঙালি সমাজ কাঠামোর ঐতিহ্যগত ভিত্তির নৈতিক মূল্যবোধ এবং নৃতাত্ত্বিক কাঠামোর মেরুদন্ডে আঘাত করতে নেমেছে ওরা।
এতে  যে চিত্রটি ফুটে উঠছে,তাতে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বর্তমানের রাজ্যমুখ্যমন্ত্রীকে জোরপূর্বক দমনের জঙ্গিপনা এবং বাঙালি রাজ্যে অস্থিরতার উত্তাপ লাফিয়ে উঠেছে।একদিকে ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির চিত্র যেমন বের হচ্ছে।তেমনি সমগ্র অঞ্চল জুড়ে সন্ত্রাস এবং দাঙ্গা ছড়িয়ে শেষমেশ সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র তৈরীর আলামত দেখা দিয়েছে।অর্থাৎ একটা যুদ্ধের পরিস্থিতি করে গণহত্যা উস্কে দিয়ে বাঙালি জাতির মধ্যে স্থায়ী রক্তক্ষয়  চালু রাখার চেষ্টা দেখা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপট নিয়ে চিন্তা চেতনায়  লুটেরা বিশেষ গোষ্ঠীর শাসক থাকা ও অবারিত লুন্ঠনের আন্তর্জাতিক মারপ্যাঁচ চলছে বলে বিশ্লেষক দের অভিমত।মনে রাখা দরকার, এই লুটেরা বিশেষ গোষ্ঠীর শাসক ও আন্তর্জাতিক লুটেরা আন্তর্জাতিক শক্তি বলতে কেবল কোন দেশের রাজনৈতিক দলকে বা ক্ষমতাসীন দলকে বুঝায়না।এই শক্তির বলয়ে থাকে অনেক ধরণের ক্ষমতাবান ফ্যাক্টর।
একটা উদাহরণ দেই।বাংলাদেশে সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব করছেন শেখা হাসিনা।তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং দাপুটে রাজনীতিক।তাকেই  ক্ষমতায় আনার পরিবেশের জন্যে তৎকালীনপ্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে তাকেও ঢাকায় আটক করা হয়েছিলো।তিনি জানতেন শেষ পর্যন্ত তাকেই করা হবে প্রধানমন্ত্রী।সামরিক কর্মকর্তাদেরকে ব্যবহার করে তখন মাইনাস ওয়ান করতে গিয়ে দেখানো হয়েছিলো মাইনাস টু’র হাবভাব।


যে সব বিদেশী শক্তি তা করিয়েছিলো তারা আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামাত কিছুই পছন্দ বা অপছন্দ করেনা। তাদের টার্গেট হচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তাদের যথার্থ দালালকে নিরাপদে ক্ষমতাবান করা। এতোদিন যাকে দিয়ে সম্ভব যতটুকু করার তা হয়ে গেছে অথবা তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।
মাইনাস ওয়ান করা সম্পন্ন একদিনে বা একটা ঘটনায় হয়না।ধারাবাহিক পর্যায়ক্রমিক অনেক কৌশল বাস্তবায়ন করেই আন্তর্জাতিক শক্তি নিজের লক্ষ্য হাসিল করে।দীর্ঘ নৃশংস নাটকিয়তার ধারায় দেখা গেলো আওয়ামীলীগ বা বিএনপি, জামাতে ইসলামী এবং জাসদ সহ কোন দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস ঘাতক বানানো যায়না।তাই,দরকার হচ্ছে,প্রভাবশালী দেরকে বাগে আনার জন্যে “হয়তো বাধ্য হও,না হয় বিক্রয় হও”-নীতি কার্যকরে যাওয়া।দুটোর কোনটাতে কাজ না হলে হত্যা মেনে নাও।
 মুজিব হত্যা,জিয়া হত্যা আমরা দেখেছি।জেলখানায় নেতা হত্যা,সেনানিবাসে বীরমুক্তিযোদ্ধা সেনাঅফিসার হত্যা আমরা দেখেছি।পিলখানা সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করে অতঃপর বি.ডি.আর নাম মুছে দেবার ব্যবস্থা আমরা দেখেছি।তার আগে এরশাদের দীর্ঘকাল ক্ষমতা   
চালনা দেখে আসছি।হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্ব দেখে আসছি,দেখছি।  খালেদা জিয়া সরকার-বিরোধী সমর্থনের কেন্দ্র হয়েও কোন রাজনীতি ছাড়াই রাজনৈতিক দলের অফিস করে চলছেন,তাও দেখছি।মঈন ইউ আহমেদ চাকরি থেকে বের হয়েও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সাথে আছেন,দেখছি।
ভারতেরও একই চেহারা।নেহেরু-ইন্দিরার বংশের মাইনাস হয়েছে ওখানে।রাজনৈতিক শক্তির পরিবর্তে জঙ্গিশক্তিকে বাছাই করতে হয়েছে ভারতের সরকার পরিচালনায়।রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েই প্রধানমন্ত্রিত্ব চলছে ভারতে।এই সরকার সর্বনাশ করছে ভারতীয় কাঠামোর।  এই জঙ্গিরা প্রভূর লক্ষ্য পূরণে সফল হলে একধরণের ফলাফল হবে, নতুবা ভারতে আসবে অন্য ফলাফল।শেষের অবস্থা আমরা কখনো চাইনে। তাতে সবদিকের আক্রমণে আম ছালা দুটোই যাবে ভারতের,আমি নিশ্চিত।       
এদিকে ঢাকায় চারু কলা কলেজে পহেলা বৈশাখে ভারতীয় হিন্দুজঙ্গি  সমর্থকরা খাবার তেহারির সাথে গরুর মাংস দেয়ার প্রতিবাদে ক্যন্টিন ম্যানেজারকে মারধর এবং ক্যন্টিনে ভাংচুর করেছে।কেন্টিন ম্যানেজার জাকির হোসেনের দাবি গরুর মাংস রান্না অথবা পরিবেশন করা যাবেনা এমন তথ্য তার জানা নেই।আর মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনের সমন্বয়ক সাগর হোসেন সোহাগ এই ম্যানেজারকে বিতাড়নের দাবি করেছেন।উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।বাঙালির কে কোথায় বৈশাখী শুভেচ্ছার রঙিন ফুলের ছবি আঁকলেন আর আঁকলেননা সে দিকে আবেগের গাড়ি থামিয়ে লুটেরারা বিশ্রাম নেয়না,তারা এই মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগায় মানুষের আবেগে সারপ্রাইজ দিয়ে।
 পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ মিলে এই বিশাল অঞ্চল ঘিরে অশান্তি ও দারিদ্রতার লক্ষ্যে আদিম রাজনীতি করছেন লুটেরা শোষক শাসকরা।
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী  এবং কয়লামন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন  ১৯৯৭সনে ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে।তিনি এই দলের চেয়ারম্যান।তার আগে তিনি মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়,যুব ক্রীড়া,মহিলা ওশিশু উন্নয়ন মন্ত্রোণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সুনামের অধিকারি হয়েছিলেন.২০১১সাল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪বছরের শাসক কম্যুনিষ্ট পার্টিকে ভোটে  বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।গরীব কৃষকদের জমি সরকারি আদেশে বিশেষ শিল্পায়নের নামে দখলের অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করে সাধারণ মানুষের গার্ডিয়ান হন।কম্যুনিষ্টদের বিভ্রান্তি এবং লুটেরাদের অরাজকতার প্রতিরোধ করেই তিনি প্রশংসিত ভারতীয় রাজনীতিক।
বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাকে ২০১২সালে বিশ্বের সেরা ১০০জন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের মধ্যে ৫০নং তালিকায় মুল্যায়ণ করেছিলো।২০১৩সালে তাকে “ভারতের সবচেয়ে দূর্ণীতিমুক্ত রাজনীতিবিদ”রূপে চিহ্নিত করে ভারতের প্রধান দূর্নীতি-বিরোধী কোয়ালিশন সংস্থা “ইন্ডিয়া এগেনষ্ট করাপসান”।