Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিবাদমান গ্রুপের দু’দফা সংঘর্ষ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৭

বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিবাদমান গ্রুপের দু’দফা সংঘর্ষ এবং নিউইয়র্ক পুলিশের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে দ’ুপক্ষের সংঘর্ষ এবং নিউইয়র্ক পুলিশের নির্দেশে আলোচনা সভাটি পন্ড হয়ে যায়।

Picture

স্থানীয় সময় গতকাল ১৭ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে নিউ মেজবান পার্টি হলে আওয়ামী লীগের উত্তেজিত বিবদমান গ্রুগুলো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আলোচনা সভাস্থল মেজবান পার্টি হল থেকে নেতা-কর্মীদের একে একে বের করে দেয়। টান টান উত্তেজনার মধ্যে ঘন্টাখানেক পর পূর্বনির্ধারিত মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা আবার শুরু হলেও যুবলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে আবার সংঘর্ষ বাধে। প্রায় আধা ঘন্টা অচলাবস্থার পর পুনরায় সভার কাজ শুরু হয়।
alt
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় নিউ মেজবান পার্টি হলে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সভা শুরু হলে ইমাম কাজী কাইয়্যূম পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুসহ মুুজিবনগর সরকারের নের্তৃবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর সবিতা দাস পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার। এরমধ্যেই ড. সিদ্দিকুর রহমান কর্তৃক বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ তাঁর সমর্থকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকেন। তিনি দর্শক সাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানতে চান, কেন তাকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

alt

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আপনাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে বহিস্কারের কোন কাগজ পত্র আছে কিনা প্রশ্ন করেন সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। এভাবে বাদানবাদের এক পর্যায়ে সভা পরিচালনা করার জন্য এগিয়ে যান সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। এসময় দু’গ্রুপ তুমুল ধাক্কা-ধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি। খুলে ফেলা হয় অনুষ্ঠানের ব্যানার। মুহূর্তে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে সিদ্দিকুর রহমান দ্রুত সভাস্থল থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় সভাস্থল চলে যায় সাজ্জাদুর রহমান গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে এবং চলতে থাকে হট্টগোল। পরিস্থিতি বেকায়দা দেখেপুলিশকে ফোন করা হয়। চারদিকে থেকে সাইরেন বাজিয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় পুরো এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মেজবান পার্টি হলের আশপাশের সড়ক মুহূর্তের মধ্যে খালি হয়ে যায়। পুলিশ উপস্থিতিতে হলে ফিরে ড. সিদ্দিকুর রহমান দলের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও আইন সম্পাদক শাহ বখতিয়ারকে দেখিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় অন্য পক্ষ থেকে পুলিশকে পাল্টা বক্তব্য প্রদান করলে পুলিশ সবাইকে ঘটনাস্থল ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
alt
ঘন্টাখানেক পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এলে আবার ব্যানার টানিয়ে ড. সিদ্দিকুর রহমান পূর্বনির্ধারিত মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় এ সময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান, লুৎফুল করিম ও শামসুদ্দিন আজাদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আব্দুল হাসিব মামুন, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, শিল্প সম্পাদক ফরিদ আলম, বাণিজ্য সম্পাদক সিমবাহ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক বাহার খন্দকার সবুজ, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মমতাজ শাহনাজ, আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, ডেনী চৌধুরী, খোরশেদ খন্দকারসহ সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এ সময় সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সজীব ওয়াজেদ জয়ের টেক্সট মেসেজ পাঠ করে সকলকে শোনান। তিনি জানান, টেক্সট মেসেজে স্পষ্টভাবে সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাজ্জাদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাসপেনশনের কথা রয়েছে।এরপরই সমাবেশের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান এমপি এবং বিশেষ অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ এডভোকেট আবু জাহির এমপি মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। বক্তব্য দেন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা। নিজাম চৌধুরী বলেন, যারা মুজিবনগর দিবসের সভা বানচালের ষড়যন্ত্র করেছে, তারা কখনোই আওয়ামী লীগের লোক হতে পারে না। তারা খুনী মোশতাকের দোসর, জামাত-শিবিরের এজেন্ট।
alt
এদিকে সভায় ড. সিদ্দিকুর রহমান একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে তারিকুল হায়দার চৌধুরীকে পরিচয় করিয়ে দিলে এরপর প্রতিবাদ জানান যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেবুল মিয়া ও ইফজাল আহমেদ চৌধুরী প্রতিবাদ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারিকুল যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক। তাদের এই বাদ-প্রতিবাদে যুক্ত হন তরিকুল হায়দার চৌধুরীসহ যুবলীগের বিবাধমান দু’গ্রুপের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা চরম মারমুখী হয়ে হাতাহাতিতে লিপ্ত হলে বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেশ কিছুক্ষণ চলে সংঘর্ষ। alt

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আব্দুল মান্নান এমপি ও সভাপতি ড. সিদ্দিক সহ শীর্ষ নেতারা বারবার তাদের থামতে বললেও তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায়ে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যুবলীগকে পরিচয় দিতে গিয়ে তারই ভুল হয়েছে উল্লেখ করে সকলকে আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। অন্যথায় আবারও পুলিশ ডেকে সংশ্লিষ্টদের সভাস্থল থেকে বের করে দেয়া হবে। প্রায় আধা ঘন্টা অচলাবস্থার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় সভার কাজ শুরু হয়।

alt
এর পর প্রধান অতিথি আব্দুল মান্নান এমপি বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, যারা কোন্দল, গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে চায়, তাদের দলে থাকার অধিকার নেই। তাদের বিরুদ্ধে দল অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির বিক্ষুব্ধ বেশ ক’জন কর্মকর্তা ঘটনার পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চ দখল করে বক্তৃতা শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিনিয়র সম্পাদকবৃন্দ দাড়িয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কর্তৃক অসাংগঠনিক ও স্বৈরাচারী কায়দায় হুমকী ধামকী ও নেতা-কর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করার এক পর্যায়ে তার ভাড়াটে কতিপয় বহিরাগতদের দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত আক্রমন করে। সিদ্দিকুর রহমান পুলিশ ডেকে সকলকে বের করে দেয় এবং নিজে অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন।
alt
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করার পর থেকে সিদ্দিকুর রহমান বছরের সিংহভাগ সময় বাংলাদেশে অবস্থান করে ব্যবসা-বানিজ্য, তদবির লবিং ও নিজাম চৌধুরীর সাথে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে একটি ভঙ্গ ও অকার্যকর সংগঠনে পরিনত করার ফল আজকের এই বিশৃঙ্খলা। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করা হয়, ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রটোকল ভেঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ সাহাবউদ্দিন এমপিকে প্রধান অতিথি না করে সিদ্দিকুর রহমানের ভায়রা মোঃ আবদুল মান্নান এমপিকে প্রধান অতিথি করে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিজাম-সিদ্দিকের ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব ও স্বার্থ হাসিলের প্রতিযোগীতায় কথায় কথায় নেতা-কর্মীদেরকে বহিঃস্কার, পদন্নোতি, পদায়ন ও ভারপ্রাপ্ত দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশ-বিদেশে হাস্যকর করে তুলেছে। শুধু তাই নয় এই নিজাম চৌধুরী ২০১৫ সালের ৬ই ডিসেম্বরের কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিং করার জন্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নেতাকে ইন্ধন দিয়েচিলেন দলকে দুই খন্ড করার জন্য। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতা-কর্মীরা তা প্রতিহত করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখে। আজ সেই নিজাম চৌধুরীর প্ররোচনায় দলকে আগের সেই বিশৃঙ্খলায় নিয়ে যাচ্ছে। আজকের (১৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা ও দলের অভ্যন্তরে গ্রুপিং ও কোন্দলের জন্যে সিদ্দিকুর রহমানকে নেতা-কর্মীদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কালে সিদ্দিকুর রহমান হাইকমান্ড ও কেন্দের উদ্বৃতি দিয়ে একের পর এক দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ করে ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে ৭ বছর মেয়াদোত্ত্বীর্ণ কমিটির সম্মেলন দিতে অস্বীকার করে যাচ্ছেন ও কেন্দ্রের অনুমোদন বহিঃস্কার করে চলেছেন।

alt
অনুষ্ঠান শেষে সিদ্দিকুর রহমান মিথ্যাচার করে দুইজন সম্পাদককে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন, পুলিশ তা আমলে না নিয়ে সকলকে স্থান ত্যাগ করতে বলে। এঘটনায় নেতা-কর্মীরা সিদ্দিকুর রহমানের উপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হন এবং তার যথাযথ জবাব দেয়া হবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।
ভবিষ্যতে দলের এই বিভক্তির জন্য সিদ্দিকুর রহমান ও নিজাম চৌধুরীকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে এবং সকল বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দকে অচিরেই জানানো হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নি¤œ স্বাক্ষরকারী নের্তৃবৃন্দ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন। স্বাক্ষরকারী নের্তৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন : আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শাহ মোঃ বখতিয়ার আলী, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌঃ মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশাহ ও চন্দন দত্ত, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া (হাজী এনাম), জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, কার্য নির্বাহী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা, শরীফ কামরুল আলম হীরা, হোসেন সোহেল রানা, রুহেল চৌধুরী, কাজী আজিজুল হক খোকন, জুয়েল আহমদ, ইলিয়ার রহমান, মোঃ লিটু গাজী ও মোঃ কায়কোবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা আব্দুর রহিম।alt
অপরদিকে, ড. সিদ্দিকুর রহমান কর্তৃক বহিষ্কৃত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে বলেন, ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উদযাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আহুত উম্মুক্ত আলোচনা সভায় অংশগ্রহনের জন্য আমি সেখানে উপস্থিত হই। আমি অনেক দিন পরে আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠনের একটি সভায় উপস্থিত হয়েছি দেখে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীবৃন্দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার ফলশ্রুতিতে আমাকে সহ আরও সাতজনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বহিস্কারাদেশ দিয়েছেন বলে ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রচার করেন। আমি আশ্চর্যন্বিত হলেও এটিকে নেত্রীর সিদ্ধান্ত বলে মাথা পেতে নেই এবং নিরবে অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে থাকি। কিন্তু সম্প্রতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আরেকটি কুটচাল দিয়ে আমি ছাড়া অপর ৭ জনের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছেন বলে প্রচারনা চালান। আমি এতে বিস্মিত হই এবং বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানতে পারি যে, আমাদেরকে বস্কিারাদেশের যে বিজ্ঞপ্তির কথা বলেছিলেন এবং সে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা বলছেন, সেটা আসলে ভূয়া। বিষয়টি সম্পর্কে আমার সন্দেহ হলে আমার দলীয় সহকর্মী ড. সিদ্দিকুর রহমানকে তার সত্যতা জানানোর জন্য কাগজ পত্র আছে কিনা প্রশ্ন করি। কিন্তু তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হলে উপস্থিত নেতা কর্মীরা আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সভা পরিচালনা করার জন্য বলেন। তখন ড. সিদ্দিকুর রহমানের নির্দেশে কিছু ভাড়াটে লোক জন আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বাধার কারণে নিমেষেই তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সিদ্দিকুর রহমানসহ তার সাথীরা পালিয়ে যান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আমি অনুষ্ঠান পরিচালনা করি। পরে ড. সিদ্দিকুর রহমান পুলিশ কল করে সভা বন্ধ করে দেন। আমি তখন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সভার কাজ মুলতবি ঘোষণা করি।
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ছাত্র জীবন থেকে বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। বিগত পনের বছর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে কাজ করে যাচ্ছি। এক সময় যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী ও সিদ্দিকুর রহমানের ব্যবসায়িক বিরোধ প্রকট আকার ধারন করে। যার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ দ্বিধা বিভক্ত হয়ে যায়। সঙ্গত কারণেই আমাকে একটি অংশের নেতা হিসাবে চিহ্নিত করে। সাংগঠনিকভাবে আমাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানানো হয়। সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি কিছু দিনের জন্য সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখি।
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ তার বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেন, ড. সিদ্দিকুর রহমান গত মাসে একটি কার্যকরি কমিটির মিটিংয়ে আমাকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদককের কাজ করার জন্য নিশ্চিত করেন, সেই জন্যই ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের সভায় আমি উপস্থিত হই। কিন্তু তিনি সেটা না করে আমার উপস্থিতিতে দুই নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদকে দিয়ে সভা পরিচালনা করার চেষ্টা করেন। তখনই নেতা কর্মীরা সিদ্দিুকর রহমানের এই অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের বিরোধীতা করেন এবং নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


Add comment


Security code
Refresh