Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রথম ১শ’ দিনে কেনো সবচেয়ে ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

বাপ্ নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের শাসনামলের প্রথম ১’শ দিনের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয় সেই ১৯৩২ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের সময় থেকে। এপর ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের চুলচেরা বিশ্লেষণে দেশটির বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের কাজের খতিয়ার নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ১’শ দিনের শাসলামলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ দেখতে পারছেন না বিশ্লেষকরা।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার পর শততম দিন পূর্ণ হয়েছে শনিবার। প্রথম ১শ’ দিনে কি কি করবেন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তার লম্বা ফিরিস্তি দিয়েছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি কয়েকটি সিন্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দিলেও সেগুলোর কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। ট্রাম্পের এই ব্যর্থতার ছাপ পড়েছে তার জনসমর্থনেও। ভিন্ন ভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতা গ্রহণের ১শ’ দিনের মাথায় ট্রাম্পের মত কম জনসমর্থন অন্য কোন প্রেসিডেন্টের ছিল না।

শততম দিন আগে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার কতটুকু রাখতে পেরেছেন? এসব বিষয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ট্রাম্প যেগুলো বলেছেন সেগুলো অনেকভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারক কোর্ট সুইচকে নিয়োগ দেওয়া ছাড়া কোনো কাজ ভালভাবে করতে পারেন নি। যেমন ইমিগ্রেশন নিয়ে দুই-তিন বার নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন, কোনো কোর্ট তাকে অনুমোদন দেয়নি। আগে ন্যাটোকে সমর্থন না করার কথা বলেছেন কিন্তু এখন ন্যাটোকে শতভাগ সমর্থন করছেন। হেলথ কেয়ার ব্যাপারে প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যেই করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য কংগ্রেসের কোন সাপোর্ট পাননি ট্রাম্প। অন্যান্য প্রেসিডেন্টরা প্রথম ১শ’ দিনে কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি রাখার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প এ পর্যন্ত ৩১ টি নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন কিছু কাজ করেছেন যেগুলো আমেরিকার সাধারন মানুষের পক্ষে যায় না। এই কাজগুলো বেশিরভাগ গেছে যারা বড়লোক, যারা বিলিনিয়ার, যারা তার ক্যাবিনেটে রয়েছে বা ওয়ার্ল্ড স্টিটে যেসব বড় বড় ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের সাপোর্টের জন্য।

Picture

এই বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ডেমোক্রেটরা কেউ এটাকে সমর্থন করছে না। রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিভাজন দেখা দিচ্ছে। হেলথ কেয়ারের কিছু কিছু বিষয় পরিবর্তন করে এমনভাবে করে, ২৪ মিলিয়ন লোক যদি হেলথ কেয়ার না পেয়ে থাকে তাহলে এটা অন্য রকম মানসিকতা তৈরি করবে। এছাড়া বড় রকম সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া। সেখানে কোন রকম বড় যুদ্ধ  হলে তাহলে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধ করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো ট্রাম্প কতটা সামাল দিতে পারছেন এর উত্তরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো সামাল দিতে পারেন নি, কারণ ট্রাম্প যো প্রতিজ্ঞা করে এসেছেন যেমন ন্যাটো বা নাফটা সম্পর্কে কিছু সিদ্ধান্ত সে সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হচ্ছে। যেমন চীনের সাথে কোনো সম্পর্ক না রাখার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন সে সুর পাল্টে বলছে চীনকে তার পাশে দরকার। কারণ উত্তর কোরিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চীনের সাহায্য দরকার যুক্তরাষ্ট্রের।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে অন্যান্য প্রেসিডেন্টের তুলনায় সমালোচনা খুব সহজেই আসছে কিনা সে সম্পর্কে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সমালোচনাগুলো খুবই দ্রুত আসছে। ১শ’ দিনের হিসাব শুরু হয়েছে ১৯৩২ সালে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের সময় থেকে। তারপরে কেনেডি, নিক্সন, রিগ্যান, কার্টার, ক্লিনটন, বুশ প্রত্যেকেই প্রথম ১শ’ দিনের ভিতরে  কিছু ভাল কাজ করেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিনেট এবং হাউজ  তার পক্ষে থাকার পরেও যারা কংগ্রেসে রয়েছেন তারাও তার বিভিন্ন রকম প্রোগ্রাম বয়কট করছেন। কিন্তু ট্রাম বলছেন আমি অন্যান্য  প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভাল কাজ করেছি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন এই ১শ’ দিনের সামনে দাঁড়িয়ে তার সবচেয়ে বড় বাধা হল উত্তর কোরিয়া। বারাক ওবামা যাওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করে গেছেন এটা আপনার জন্য বড় সমস্যা। এটা আপনাকে কঠিনভাবে এবং বুদ্ধিসত্তা নিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এর পরেই হচ্ছে হেলথ কেয়ার, ট্যাক্স। একটা বিষয়েও ট্রাম্প অগ্রগতি দেখাতে পারছেন না।