Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

গোপালগঞ্জে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ৬শ’ হেক্টর জমির ধান : কৃষকের আশায় বালি

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

এম শিমুল খান,বাপ্ নিউজ : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বিল চান্দার মধ্যে পাটকেলবাড়ি গ্রাম। সে গ্রামে কয়েক পুরুষ থেকে বসবাস করে আসছেন হরিপদ বিশ্বাস। গেরস্থ পরিবার বলতে যা বুঝায় তিনি তাই। বিলে বেশ কয়েকটি পুকুর রয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবছর ৪-৫ লাখ টাকা আয় হয়। বিলের মধ্যে এ বছর ৮ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করে ছিলেন তিনি। প্রতি বছরে তিনি অন্তত ৫শ’ মন ধান পান সেখান থেকে। এ বছর ধানের ফলনও ভাল হয়ে ছিল। আশা ছিল ভাল ধান পাবেন কিন্তু তার সে আশার গুড়ে বালি পড়েছে। কপাল চাপড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার প্রায় সব জমির ধানই নাকি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
তিনি জানান, ধান কাটা শ্রমিকের সংকটের কারণে সেখান থেকেও ধান কেটে উঠানে নিতে পারছেন না। স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্য। আগামীতে দিন কি ভাবে কাটবে তা নিয়ে তিনি অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এমন অবস্থা শুধু পাটকেলবাড়ি গ্রামের হরিপদ বিশ্বাসের একার নয়। এ অবস্থা বিল চান্দা এলাকার শত শত কৃষকের। বিল চান্দা এলাকার ৪৪টি গ্রামের হাজার হাজার কৃষকদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
গোপালগঞ্জের বৃহত্তম বিল চান্দাসহ অন্যান্য বিলে অন্তত ৬শ’ হেক্টর জমির বোরো ধান জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান এখন পানিতেই পচে যাচ্ছে। আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কেউ কেউ। তবে অনেক কৃষকই জমির ধান গজিয়ে যাওয়ায় তা আর কাটতে যাচ্ছেন না। কৃষকদের স্বপ্ন এখন পানিতে ভাসছে। প্রতি বছর জোয়ারের পানি থেকে তাদের কষ্টের ফসল রক্ষা করতে বিলের চারপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আর প্রয়োজনীয় স্লুইস গেট নির্মাণের দাবী এলাকার সাধারন কৃষকদের।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গোপালগঞ্জে এ বছর ৭৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। ধানের উৎপাদনও ভাল লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বেশির ভাগ জমির ধানেই আধা পাকা অবস্থায় ছিল। মনের সুখে পাকা ধান কাটবেন কৃষকেরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন বিল এলাকায় বোরো ধান কাটতে ধানকাটা শ্রমিকেরাও এসে গিয়ে ছিলেন কিন্তু বিধি বাম, কৃষকের মুখে হাসি ফোঁটার আগেই তাদের স্বপ্নের ধান জোয়ারের পানিতে, আর সেই সাথে টানা ৪ দিনের বর্ষণে তলিয়ে গেছে।
মুকসুদপুর উপজেলার পাটকেল বাড়ি গ্রামের সুরেশ বিশ্বাস (৫৫), মনোরঞ্জন বিশ্বাস (৫৮), পবিত্র মন্ডল (৪০), মহাটালী গ্রামের সিতাংশু মন্ডল জানান, তাদের স্বপ্নের সোনালী ধান এখন পানিতেই তলিয়ে গেছে। আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কেউ কেউ। জোয়ারের পানি থেকে তাদের কষ্টের ফসল রক্ষা করতে বিলের চারিপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আর প্রয়োজনীয় স্লুইস গেট নির্মাণের জোর দাবী জানাচ্ছেন তারা।
জোয়ারের পানি ও টানা বর্ষণের ফলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির সত্যতা স্বীকার করে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য অশোক বিশ্বাস, উজানি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ বৈরাগী। বিল এলাকায় পরিবেশ নিয়ে কাজ করে (বিসিএএস) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের গবেষণা কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র টিকাদার, গোপালগঞ্জের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হরলাল মধু কৃষকদের সাথে তাল মিলিয়ে এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের উপর জোর দিলেন।
ফি বছর জোয়ারের পানি থেকে তাদের কষ্টের ফসল রক্ষা করতে বিলের চার পাশে বেড়ি বাঁধ নির্মান, আর প্রয়োজনীয় স্লুইস গেট নির্মানের দাবী এলাকার সাধারন কৃষকদের।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি হিন্দু সম্প্রদায়ের পুন্যভূমি
এম শিমুল খান,বাপ্ নিউজ : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীধাম ওড়াকান্দি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি সু প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী তীর্থপীঠ। পুন্যভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দি পুর্নব্রম্ম হরিচাঁন ঠাকুরের লীলা ক্ষেত্র ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মহাতীর্থ হিসেবে সনাতন ধর্ম্মাবলম্বী হিন্দুদের কাছে এক পবিত্র স্থান। প্রায় ২০০ বছর আগে দলিত, নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির দূত হিসেবে পরম মানবতার আধ্যাত্মিক পুরুষ পূর্নব্রম্ম হরিচাঁদ ঠাকুর ১২১৮ বঙ্গাব্দের ফালগুন মাসের মধু কৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে ব্রম্ম মূহুর্তে মহা বারুণীর দিনে কাশীয়ানী উপজেলার শাফলীডাঙ্গা গ্রামে জম্ম গ্রহন করেন। মাত্র ৬৬ বছর বয়সে তিনি ১২৮৪ সালে জম্মেও একই তিথিতে মানবলীলা সম্বরন করেন। পরম পুরুষ হরিচাঁদ ঠাকুরের জম্মের জন্য  শাফলীডাঙ্গা গ্রাম ধন্য। এর পার্শ্ববর্তী গ্রাম ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুরের অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
গোপালগঞ্জ জেলার সদর থেকে  প্রায় ২৭ কিলোমিটার উওর- পশ্চিমে অবস্থিত শ্রীধাম ওড়াকান্দি সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাল্যনাম “হরি” হলেও ভক্তরা তাকে হরিচাঁদ বলে ডাকতেন। বাবা যশোবন্ত ঠাকুরের ৫ ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। হরিচাঁদ ঠাকুর  শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে দলিত শ্রেনীর মানুষকে জাগিয়ে তোলেন। তার মতার্শে মানুষ জাগ্রত হয়। আস্তে আস্তে হরিচাঁদ ঠাকুরের নাম ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ২০০ বছরের ঐতিহ্য ধারন করে শ্রীধাম ওড়াকান্দি এখনো মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে প্রানাধিক হয়ে আছে। হরিচাঁদ ঠাকুরের মতাদর্শ  অনুসারীদের বলা হয় মতুয়া। প্রতি বছর ঠাকুরের জম্ম ও মৃত্যু তিথিতে মহা বারুনীর দিনে ওড়াকান্দি  শ্রীধামে বিরাট স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পুণ্য লাভের আশায় প্রতি বছর অন্তত ১০ লাখ পূর্ন্যার্থী এ স্নানোৎসবে অংশ নেন। মানুষের পদভারে শ্রীধাম হয়ে ওঠে মুখরিত।
প্রতি বছর শ্রীশ্রী হরি চাদঁ ঠাকুরের জম্ম ও মৃত্যু তিথিতে শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে বিশাল মেলা বসে। পালিত হয় মহাধুম ধামে ঠাকুরের জম্মোৎসব। তার  জম্মোৎসব গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে ৩ দিন ব্যাপী মহাবারুনীর মেলায় লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটে। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে পদব্রজে ঢাক ঢোল বাজাতে বাজাতে লাল নিশাণ উড়িয়ে হরিবোল হরিবোল ধ্বনিতে আকাশ কাপিয়ে মিছিল করতে করতে ভক্তরা মেলায় আসেন। সমবেত হন মন্দিরের সামনে। অংশ গ্রহন করেন পূর্ন্যস্নানে।  শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির এ স্নানোৎসবে ভক্তদের স্নানের জন্য কামনা সাগর ও শান্তি সাগর নামে দুটি পুকুর রয়েছে। ঠাকুরের জম্ম তিথির শুভ মুহুর্তে গদিনসীন ঠাকুর মতুয়াচার্য পদ্মনাভ ঠাকুরের জম্ম তিথির কামনা সরোবরে স্নান করে স্নানোৎসবের উদ্বোধন করেন এর পর চলে অবিরাম ভক্তদের স্নান। চলে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত। ভক্তরা স্নান সেরে টাকা পয়সা কিংবা ধানের ছড়া ও মানতের দ্রব্য সামগ্রী ঠাকুরের মন্দিরে দিয়ে প্রনাম সেরে যে যার ঘরে চলে যান। স্নানকে কেন্দ্র করে ৩ দিন ব্যাপী আয়োজন করা হয় মহা বারুনীর মেলা। মহা বারুনীর এ মেলায় ধর্মীয় আবহাওয়া যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে লোকজ ঐতিহ্য। এ মেলা জেলার ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নির্বিশেষে এলাকার বসে সব মানুষের মিলন মেলা। এ মেলায় লোকজ ঐতিহ্যে তথা বেত, বাঁশ, নাগর দোলা, মৃৎ, ব্রোঞ্জ, পুতুল নাচ, সার্কাস, ও কুটির শিল্পের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে। বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটে এ মেলায়। কোনো কোনো বছর মন্ত্রী  সাংসদ এমন কি  বিদেশী  রাষ্ট্রদূতরা আসেন এ মেলায়। ভারতের পশ্চিম বাংলা ও আসাম থেকে মতুয়া প্রতিনিধিরা এ মেলায় অংশ গ্রহন নেন। লাখ লাখ  ভক্তের পদ ভারে ও হরিবোল ধ্বনিতে ওড়াকান্দি হয়ে ওঠে মুখরিত ও জাগ্রত তীর্থ। মতুয়াদের কাছে মহা বারুনী স্নান ও ঠাকুরের দর্শন তীর্থ ভ্রমনের সমতুল্য। মহাবারুনীর মেলায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বেচা কেনা  হয়। গৃহস্থ সামগ্রী, কুটির শিল্প দ্রব্যাদি, তৈস পত্রাদিসহ নানা জাতের পন্য সামগ্রী ও মনোহারি মালামালে কেনা বেছা হয়। এখানে রয়েছে ছোট বড় ৫টি মন্দির। প্রধান মন্দির হচ্ছে  হরিচাঁদ মন্দির ও গুরু চাঁদ মন্দির। এছাড়া ৩টি চন্ডী মন্দির রয়েছে। মতুয়া প্রেস  ও ঠাকুর প্রেস  নামে ২টি প্রেস রয়েছে। এ দুটি প্রেস থেকে ঠাকুরের বাণী সম্বলিত বিভিন্ন পুস্তিকা ও জীবনী গ্রন্থ এবং মতুয়া সুহৃদ, মতুয়া দর্শন ও হরিদর্শন নামে ৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে থাকে।