Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

শরীয়তপুরে এক নেতার তিন পদ: শরীয়তপুরে যুবদলের নতুন কমিটি তৃণমূলের প্রত্যাখান

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

বাপ্‌স নিউজ : শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নতুন কমিটিকে প্রত্যাখান করেছে তৃণমূলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। বিগত কমিটির সভাপতি ইজাজুল ইসলাম মামুন খান ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন মুন্সীর নেতৃত্বে জেলায় ব্যাপক দলীয় কর্মসূচি পালিত হলেও তাদেরকে না জানিয়ে গত ২৭ এপ্রিল একটি কমিটি  ঘোষনা দেয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দলের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। কমিটিতে আরিফুজ্জামান মোল্যাকে সভাপতি, মনির হোসেন মাঝিকে সহ-সভাপতি, জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎকে সাধারণ সম্পাদক, আতিক মোল্যাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জুয়েল মাদবরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২৭ এপ্রিল ২০১৭ ইং যুবদলের কেন্দীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানাযায়, শরীয়তপুর জেলা নব-ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ। এছাড়াও তিনি শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য। একই সাথে তিনি তিন পদে রয়েছেন। তিনি (বিদ্যুৎ) বিগত দিনে দলের বিপক্ষে বিভিন্ন ভাবে অবস্থান নিয়েছে। তার নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এছাড়া তিনি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে জেলা বিএনপির কমিটির বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের সর্মথন নিয়ে ঝাঁড়–-জুতা মিছিল এবং কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এরপর জেলা যুবদলের বিগত (মামুন-লিটন) কমিটি ঘোষণার পর তৎকালীন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাধারন সম্পাদক সাইফুল আলম নীরবের বিরুদ্ধে মিছিল করে এবং আওয়ামী ক্যাডারদের সহায়তায় মঙ্গল মাঝি ও সাত্তার মাদবরের ঘাটে হামলা করে। আর বিগত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বিপক্ষে গিয়ে আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করে। সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন স্থলে একই সময়ে সাবেক যুবলীগ নেতাকে কথিত যুগ্ম সম্পাদক বানিয়ে সম্মেলনের স্থান চান। এতে করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় পন্ড হয় ওই সম্মেলন। পরে ঢাকায় বসে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ¦ সফিকুর রহমান কিরণকে পুনরায় সভাপতি এবং বারবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালুকে পুনরায় সাধারন সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা করা হয়। এই কমিটিকে প্রত্যাখান করে সে। এছাড়া ওই কমিটিতে ১ম যুগ্ম সম্পাদক পদে স্থান পাওয়া দুলাল খান ও যুগ্ম সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন বাদলকে নানানভাবে পদত্যাগ করতে বলে। তারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নানানভাবে কুৎসা রটাতে থাকে। এই স্বভাবের জন্য সে তার বর্তমান এলাকা আঙ্গারিয়া, গোসাইরহাট সহ  জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিজের কর্মীদের হাতে লাঞ্চিতও হয়েছেন।


এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একদলীয় নেতা জানান, জেলা বিএনপির  সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন কালুর সাথে আতাঁত করে দুলাল খান বিএনপির কমিটিতে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছে এমন অভিযোগ করে তাকে জেলা ছাত্রদল আহবায়ক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ পদত্যাগ করতে বলে ছিল। এখন তিনিই সাবেক এমপি কালুর বাড়ির বাজার করে তার জামাতা  জেলা যুবদলের নতুন সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্যার সহযোগী হয়ে সাধারন সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।  
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মীরা জানান, বিগত দিনে বিদ্যুৎ টাকার বিনিময়ে অনেক কমিটি দিয়েছে। এখন ওনার (বিদ্যুৎ) মতো যুবদল করতে গেলেওতো আবার টাকা লাগবে।
আরেক নেতা জানান, জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ তার পদের জন্য যে কোন রূপ নিতে পারে। বিগত সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করে ফেল করে। পরে বিদ্যুৎ সাবেক এমপি কিরণের বাসায় কাজ করে জেলা ছাত্রদলের আহবায়কের পদ বাগিয়ে নেয় (হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েকে বাগিয়ে) বিবাহিত ও সন্তানের জনক সুচতুর বিদ্যুৎ। তিন মাসের কমিটি ৭ বছর কাটিয়ে দেয়। এর মধ্যে তিনি গ্রুপ পাল্টিয়ে কিরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসতে চায় অন্য জেলা (মুন্সিগঞ্জ) থেকে আগত বিদ্যুৎ। এদিকে কমিটি ঘোষনার পর শহরে তাকে দেখা না গেলেও মধ্যরাতে বাসস্টান্ডের এক কোনায় বিগত দিনে যাদের হাতে তিনি বারবার লাঞ্চিত হয়েছে তাদের থেকে ফুল নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে শরীয়তপুর সদরের নাজুমল ইসলাম বাধন মুন্সী তার ফেইস বুকে লিখেছেন, প্রেস রিলিজ কমিটি বাদ দিন, সম্মেলন করে তৃণমুলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করুন -!! আমি একজন কর্মী! তাই আমার আহবান কেন্দ্রীয় যুবদল এর প্রতি। বিগত দিনে যারা আন্দোলন, সংগ্রাম করে, জেল কে করে নিয়েছে আপন, তাড়া আজ শরীয়তপুর  জেলা যুবদলের কমিটিতে স্থান পান নি। এইভাবে রাজপথের নেতাদের কে যদি বঞ্চিত করেন, তাহলে সাধারণ কর্মীদের মনে ভয় যাগে, কম্পন হয়, কারন দলে যদি থাকে দালালের ভয়। বিস্তারিত আসছে কার ভূমিকা কি ছিলো। তিনি আরও লিখেন, শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি মানিনা মানবো না। যাদের নিয়ে নতুন কমিটি খুলছে এদের কে তো আমি মাঠেই দেখিনি জীবনে। কি ভাবে তারা আসলো। আমার প্রশ্ন সবার কাছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, মোবাইলে ডির্স্টাব নেটওর্য়াক নাই, তবে বলছে কমিটির বাইরে কোন কথা নাই, মোবাইলে নেট পায় না।