Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লোহাগড়ায় স্বামীর নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের নামে নারী নির্যাতনের মামলা

রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

এস এম আলমগীর কবির,বাপ্ নিউজ : নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাধারণ সম্পাদক ও সকালের খবরের লোহাগড়া প্রতিনিধি এসএম আলমগীর কবিরের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। লোহাগড়ার গোপিনাথপুরের নাসরিন সুলতানা দিপা বাদী হয়ে গত ২ মে এ মামলা দায়ের করেন।  
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাংবাদিক এসএম আলমগীর কবির গত ৩০ মে লোহাগড়ার মদিনাপাড়ার একটি বাড়িতে মামলার বাদী দিপাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এবং টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে একটি অনলাইন পত্রিকায় দিপা ও তার পরিবারকে জড়িয়ে খবর প্রকাশ করেন।
এদিকে, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নাসরিন সুলতানা দিপা উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন লোহাগড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাংবাদিকবৃন্দ। সাংবাদিকরা জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিপাকে (২৪) তার স্বামী মধ্যযুগীয় ভাবে আয়রণ দিয়ে স্যাকা এবং লোহার রড় দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। এ সময় এলাকাবাসী দিপাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বৈদ্যনাথ ক্লিনিকে ভর্তি করেন। বিষয়টি জেনে সাংবাদিক আলমগীর কবির পেশাগত কাজে এগিয়ে যান। পরবর্তীতে প্রকৃত ঘটনা পাশ কাটিয়ে কিছু লোকের প্ররোচনায় দিপা সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজি ও শ্লীলতহানির দোষারোপ করেন।
এলাকাবাসী জানান, রোববার (৩০ এপ্রিল) সকালে লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত বিল্লাল সরদারের ছেলে খালিদ সরদার ছোটন (৩০) তার স্ত্রী ১ সন্ত্রানের জননী নাসরিন সুলতানা দিপা (২৪)কে নিয়ে পাশ^বর্তী মদিনা পাড়ায় বোন ইতি বেগমের বাসায় বেড়াতে যায়। বিকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বোনের বাসায় খালিদ তার স্ত্রীর ওপর চড়াও হয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে আয়রণ দিয়ে স্যাকা দেয়। এমনকি লোহার রড় দিয়ে বেধড়র মারপিট করতে থাকে। দিপার আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে আসে। ঘরের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ সময় দিপা ঘরের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়লে খালিদ তার স্ত্রী দিপাকে আয়রণের তার গলায় জড়িয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে মেরে ফেলার চেষ্ঠা চালায়। পরে স্থানীয়রা কৌশলে আহত গৃহবধুকে উদ্ধার করে বৈদ্যনাথ ক্লিনিকে ভর্তি করে। লোহাগড়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া জানান, ‘খালিদ তার স্ত্রী দিপাকে মারপিট করে। দিপা বৈদ্যনাথ ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়। এরপর বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ খালিদের নিকট হতে মুচলেকা নিয়ে বিষয়টির সমাধান করে। অথচ সেই পুলিশ একই ঘটনায় সাংবাদিকের নামে কিভাবে মামলা নিলো, এটা আমার বোধগম্য নয়’। লোহাগড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও প্রত্যক্ষদর্শী শেখ মোঃ আকিদুল ইসলাম হুরাই জানান, ‘খালিদ যখন তার স্ত্রী দিপাকে ঘরে আটকে মারপিট করে, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আহত দিপাকে ক্লিনিকে নেয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করেন। সাবেক কাউন্সিলর হুরাই আরো দাবি করেন, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে স্বামী-স্ত্রী মিলে সাংবাদিক আলমগীরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে’।
প্রত্যক্ষদর্শী হাওয়া বেগম, খদেজা বেগমসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অনেকে জানান, একটি কুচক্রী মহলের মদদ পেয়ে খালিদ-দিপা দম্পতি সাংবাদিক আলমগীরের নামে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
মামলার বাদী নাসরিন সুলতানা দিপা জানান, ‘তার স্বামী তাকে মাারপিট করেছিল, এ ঘটনায় সাংবাদিক আলমগীর সংবাদ প্রকাশ করে। তাই সাংবাদিক আলমগীরের নামে মামলা করা হয়েছে’।
লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খালিদ তার স্ত্রী দিপাকে মারপিট করার বিষয়টি পুলিশের মাধ্যমে সুরাহা হয়েছে কিন্তু এ নিয়ে সাংবাদিক আলমগীরের নামে মামলা হওয়াটা দুঃখজনক’।#