Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

কক্সবাজারে সূচিত হলো নব দিগন্তের

রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যার অপেক্ষায় ছিল কক্সবাজারবাসী। সূচিত হলো নবদিগন্তের। পূরণ হলো দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের। কক্সবাজারবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক দিন।

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের উন্নয়ন হয়। তাই জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লংঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করে, তারা জনগণের কথা ভাবে না। তারা ক্ষমতা ভোগ করে আর কিছু এলিটকে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়।

Picture

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম- আমি শাসক না জনগণের সেবক হিসেবে বাংলাদেশ পরিচালনা করব। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, আমি জানি এটা আমার জন্য কঠিন পথ। কারণ এই মাটিতে আমার বাবা-মা-ভাইসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে।

alt

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এখানে বিদেশি পর্যটক আসে, বিদেশি পর্যটকসহ দেশীয় পর্যটকদের  যাতায়াতের সুবিধার জন্য সুপরিসর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান নিয়ে এসেছি। এই বিমান আজ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণ করলো। আমি এই বিমানের মাধ্যমে এখানে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার ঘোষণা দিলাম।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়ামে বিশাল জনসমুদ্রে তিনি এসব কথা বলেন।

কক্সবাজারকে ইয়াবা মুক্ত করতে সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কক্সবাজারের একটি বদনাম রয়েছে। এখান থেকে ইয়াবা সরবরাহ করা হয়। যে কোনভাবে ইয়াবা বন্ধ করতে হবে। ইয়াবা সরবরাহের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এসময় মাদকের ভয়াবহতা উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক এক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে। জীবনের চরম ক্ষতি করে। তাই প্রতিটি সন্তানকে মাদক মুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস রুখে দিতে হবে। কোনভাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস চলতে পারে না।

alt

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগ সরকার সবর্দা সচেষ্ট। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার আদায়ে কেবল আমরাই সফল হয়েছি। অথচ ইতোপূর্বে ক্ষমতায় থেকে অধিকারের কথা বলার সাহসই ছিল না জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার। বিএনপি দুর্দিনেও নাই উন্নয়নেও নাই।

কক্সবাজারে পর্যটন উন্নয়নের বড় বড় মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার বর্তমান সরকার এর লক্ষে কাজ শুরু করেছেন। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধন, কক্সবাজার বিমান বন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অবতরণ, কক্সবাজারে বিশ্বের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম স্থাপন, মেডিকেল কলেজ সহ ধারাবাহিক উন্নয়ন কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে সহায়ক হবে।

তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, টেকনাফে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এক্সক্লোসিভ ট্যুরিষ্ট জোন, নাফ ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্পের কাজ, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লাইনে উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে মানুষ না খেয়ে গৃহহারা থাকবে না এমন স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। তাই তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিনিটি মানুষের জন্য ঘর এবং তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করতে সরকার বন্ধ পরিকর।

alt

বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে কক্সবাজারে নিহত ৬ নেতাকর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশে সন্ত্রাস ও অরাজকতার সৃষ্টি করে। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে। বাংলা ভাই শায়েখ আব্দুর রহমান তারই প্রমাণ।

তিনি সোনাদিয়ায় সমুদ্র বন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে মহেশখালী দ্বীপকে জিডিটাল দ্বীপ ঘোষনা করেনি। কক্সবাজারে আমরা সমুদ্র গবেষনা ইনষ্টিটিউট করেছি। এর মাধ্যমে সমুদ্রের জাহাজ, মৎস্য প্রাণী সম্পর্কে ধারণা পাবো।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় গঙ্গার পানির ব্যাপারে কিছুই করতে পারেনি। তিনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় না থাকলে ভারত বিরোধি হয়ে যায়, আর ক্ষমতায় গেলে ভারতের সাথে আপোষ মিমাংশ করেন। এটিই তাদের নীতি।

২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ বিহারে হামলার জন্য জামায়াত বিএনপিকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা কারা করেছে এটা এখন প্রমাণিত। বিএনপি জামায়াতের হাতে মসজিদ, মন্দির ও গীর্জা কিছুই নিরাপদ নয়। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়। ভিক্ষাবৃত্তিকে অসম্মানকর মাধ্যম উল্লেখ করে বাংলাদেশকে ভিক্ষুক মুক্ত করার ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামীলীগ উন্নয়নের দল। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে উন্নয়ন হয়। নৌকা মার্কাটি জনগনের মার্কা। নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে ধারাবাহিক উন্নয়ন হচ্ছে। তাই যত গুলো নির্বাচন আসবে, সব নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামলীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গণর্পূত মন্ত্রী মোশারফ হোসেন, পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: দিপু মনিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

alt

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। বিকাল পৌনে ৪টায় সাগরপাড়ের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে এই প্রকল্পগুলো উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস, কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন কাম এক্সামিনেশন হল, কক্সবাজার সরকারি কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, উখিয়া, কক্সবাজার এর দ্বিতল একাডেমিক ভবন এবং মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন উদ্বোধন করেন।
আরো যে ৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন, সেগুলো হচ্ছে-কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) এলজিইডি অংশ এর আওতায় কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলাধীন বাঁকখালী নদীর উপর খুরুস্কুল ঘাটে ৫৯৫.০০ মি. দৈর্ঘ্যরে পিসি বক্সগার্ডার ব্রীজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, এক্সিলাটে এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক নির্মিতব্য মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোঃ (প্রাঃ) লিঃ কর্তৃক নির্মিতব্য কক্সবাজার মহেশখালীতে দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় এসপিএম (ইনস্টলেশন অব সিংগেল পয়েন্ট মুরিং) প্রকল্প, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, কুতুবদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস ভবন।

এর আগে শনিবার সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। কক্সবাজারের সম্প্রসারিত রানওয়ে ব্যবহার করে নামার পর বিমানবন্দরে বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচল উদ্বোধনের পর মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী মধ্যম সারির বোয়িং উড়োজাহাজ আজ কক্সবাজার অবতরণের মধ্য দিয়ে পূরণ হলো দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। প্রথমবারের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার শুভ সূচনা।

alt

পরে বেলা ১১টার দিকে তিনি ইনানী বিচে উপস্থিত হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধন করেন।

অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়ক। সমুদ্র সৈকত বেষ্টিত এই মেরিন ড্রাইভকে ঘিরে গড়ে উঠবে নতুন এক পর্যটন সম্ভাবনা। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে ১৪ বছর। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি কর্তৃক এক হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক।

এসময় সেনা বাহিনী আয়োজিত এক সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গণপূর্ত মন্ত্রী মোশারফ হোসেন, পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সেনাবাহিনীর প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌ-বাহিনীর প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্সাল আবু এসরারসহ সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে আকাশ পথে সফরকারীদের নিয়ে কক্সবাজার ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।