Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

তাহলে এই পুলিশের প্রয়োজন কী : কাজী রিয়াজুল হক

মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি এবং আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।  মঙ্গলবার বিকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনা সভায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, “দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ৪ মে বনানী থানায় মামলা করতে গেলে তাদের দুই দিন ঘোরায় পুলিশ। এমনকি মেয়ে দুটির চরিত্র হনন করা হয়েছে। একটি মামলা নিতে দুই দিন লাগে। তাহলে এই পুলিশের প্রয়োজন কী আমাদের?”তিনি আরও বলেন, “পুলিশের গাফলতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে ধর্ষণ মামলার আসামি যুবকরা ধরা পড়েনি। জনগণের টাকায় প্রতিপালিত পুলিশের এ আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। ”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, অভিযোগ দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সক্রিয় হলে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হতো। পুলিশ এখন বলছে আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো যদি পুলিশ চেষ্টা করে তাহলে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় একটি চারতারকা মানের হোটেলে নিয়ে দুজন মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হলো, আর পুলিশ কিছুই জানে না। অথচ এ হোটেলে কে আসছে, কে যাচ্ছে সব কিছুই পুলিশের নখদর্পনে থাকে। যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তারা প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হয়েও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটিয়েছে। ”

এর আগে, গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ করে ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত শনিবার রাতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, বিল্লাল হোসেন, সাদনান ও সাকিফ নামের ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত করে হোটেলে নেওয়ার পর সাফাত ও নাঈম হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর দুই তরুণীকে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আসামিদের অপর তিনজন ধর্ষণে সহায়তা ও ভিডিও ধারণ করে।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ইমানুয়েল মাক্রোঁ। জীবনে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েই ৩৯ বছর বয়সে মাক্রোঁ অনন্য এ গৌরব অর্জন করলেন।
 
 
১৯৭৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ইমানুয়েল মাক্রোঁ ফ্রান্সের অ্যামিনিস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেশ চঞ্চল ও স্মার্ট ছিলেন। চেহারাও খারাপ ছিল না। সব মিলিয়ে তিনি বেপরোয়া প্রেমিক হয়ে ওঠেন। স্কুলে পড়ার সময় ১৬/১৭ বছর বয়সী মাক্রোঁ তার শিক্ষাগুরু এক ম্যাডামের প্রেমে পড়ে যান। যেন-তেন প্রেম নয়, পাক্কা পাগল পাড়া প্রেম।
 
সেই ম্যাডামের নাম ব্রিজিত ট্রংনিউ। তিনি ছিলেন তিন ছেলের মা। তার প্রেমে হাবু-ডুবু খেতে থাকে কিশোর মাক্রোঁ। বয়সে ২৫ বছর বড় ব্রিজিতকে একদিন কিশোর ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেই বসলেন, তুমি যাই বলো, আমি তোমাকে বিয়ে করবোই।'
 
এ নিয়ে মাক্রোঁ'র পারিবারে ঝামেলাও কম হয়নি। এমন অসম প্রেম থেকে মাক্রোঁকে দূরে সরানোর বহু চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে তার পরিবার। মাক্রোঁর পরিবার থেকে ব্রিজিতকে বলা হয়েছিলো- 'মাক্রোঁর বয়স ১৮ বছর না হাওয়া পর্যন্ত তুমি ওর কাছ থেকে দূরে থাকো।'
 
শেষ পর্যন্ত কোনো ছলা-কলাই কাজ হয়নি। প্রেমের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে অবশেষে ২০০৭ সালে দু'জনের বিয়ে করেন। স্কুল ম্যাডামের গহীন প্রেমে পড়া সেই ছেলেটিই এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। আর ৬৪ বছর বয়সী ব্রিজিতই হতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি।
 
স্কুল ম্যাডামের প্রেমে পড়া সেই ছেলেটি এখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট
 
এদিকে, ব্রিজিতের ছেলেরা এখন বড় হয়ে গেছেন। তিনজনের মধ্যে একজন প্রকৌশলী, একজন রোগ বিশেষজ্ঞ এবং তৃতীয় ছেলে আইনজীবী। শুধু তাই নয়, ছয় নাতি-নাতিনির দাদি এখন ব্রিজিত ট্রংনিউ।
 
২০১৫ সালের এক গ্রীষ্মে স্পেনের রাজা ও তার স্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রথম মাক্রোঁ-ব্রিজিত দু'জনে এক সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হন। সেই ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়।
 
জীবনের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ব্রিজিত একটি ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে মাক্রোঁ সম্পর্কে ব্রিজিত বলেন, 'শুধু রাজনীতিতে নয়, সে সব কিছুতেই ভালো। আমি এমন কোনো বিষয় খুজেঁ পাইনি, যেখানে সে ভালো নয়।'
 
কত বৈচিত্র্য আর সংগ্রামী ইতিহাস যে মানুষের জীবনে রচিত হতে পারে- তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত মাক্রোঁ-ব্রিজিত জুটির জীবন-কাহিনী।
 
ইমানুয়েল মাক্রোঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
 
#  ২০০৪ সালে পড়ালেখা শেষ করে ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থায়ন পরিদর্শক হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।
 
#  ২০০৬ সালে তিনি সোস্যালিস্ট পার্টির (পিএস) সদস্য হন। ২০০৯ সালে পার্টি ত্যাগ করে স্বাধীন রাজনীতিক হন।
 
#  ২০০৮ সালে তিনি বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
 
#  পরবর্তীতে তার রাজনীতিক ক্যারিয়ার আরো উন্নত হয়। ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান।
 
#  ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ইমানুয়েল মাক্রোঁ একটি সোস্যাল লিবারেল পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। যার নাম দেন 'এন মার্কে'। পরে তিনি সরকারি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে ওই বছর নভেম্বরে আসন্ন ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন তিনি।
 
শেষ পর্যন্ত বহুল কাঙিক্ষত সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নিরঙ্কুশ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মেরিন লি পেনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ছেলেবেলার সেই দুর্দান্ত প্রেমিক ইমানুয়েল মাক্রোঁ।
- See more at: http://bangla.samakal.net/2017/05/08/291130#sthash.rkT7gfKi.dpuf