Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যস্থতায় চীনের আগ্রহ ।আবু জাফর মাহমুদ

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার বিষয়ে এই প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির দফতর থেকে দেয়া বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে আফগানিস্তানের সুসম্পর্ক থাকা উভয় দেশের নাগরিকদের জন্যে যেমন খুবই জরুরী,তেমনি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যেও অপরিহার্য্য।

তাছাড়া আঞ্চলিক শক্তি পাকিস্তানের সাথে এই  সুসম্পর্কে চীনের সহায়তা বৃদ্ধির পথকেও উম্মুক্ত করে দেবে বলে ধারণা করা যায়।ভূরাজনৈতিক কারণে রাশিয়া আমেরিকা সহ অন্যেরা আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের বিরোধ গড়ে আসছে এতোদিন।প্রতিবেশী ভারত তার শত্রুদেশ পাকিস্তানকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে চলেছে। আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তও নানা জটিলতায় ঝুঁকিতে থাকে। চীনের এই আগ্রহ প্রকাশের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তনের সূচনার আভাস মিলে।

বিবৃতিতে  আশরাফ গনির বরাত দিয়ে আরো বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ায় এই প্রথম চীন মধ্যস্থতা করতে চাইছে। শিগগিরই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কাবুল সফর করবেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে  আশরাফ গনির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি দাবি জানিয়ে আসছে আফগানিস্তান। তবে সরকারের সঙ্গে সরকারের ভিত্তিতে বিরাজমান সমস্যার নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও এতে বলা হয়েছে।কাবুলে আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় দেড়শ’র বেশি মানুষ নিহত হওয়ার মাত্র দু’ সপ্তাহের মধ্যে চীনের বরাত দিয়ে বক্তব্য প্রকাশিত হলো।

 এ ছাড়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আমেরিকা এবং চীনকে গঠিত চতুর্পক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আফগানিস্তান সফরের সময় এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।তালেবান এবং আফগান সরকারের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার জন্য ২০১৬ সালের  জানুয়ারি মাসে চতুর্পক্ষীয় গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছিল।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি টানাপড়েন বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি একবার দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল পাকিস্তান। এ ছাড়া, গত মাসে আফগান সেনাবাহিনীর গুলিতে নয় পাকিস্তান নিহত হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক ব্যক্তিরাও ছিলেন। এদিকে পাল্টা হামলায় আফগান ৫০ সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী।  

 আফগানিস্তানের তালেবানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন আলোচক সম্প্রতি চীন সফর করেছেন। চীনের সরকারি আমন্ত্রণে এ সফর করেন তারা। তালেবানের দুই কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।তালেবানকে শান্তি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে চীন।তারই অংশ হিসেবে আফগান প্রতিনিধি দল চীন সফর করেন। মস্কোয় পাকিস্তান, চীন এবং রাশিয়ার শীর্ষ স্থানীয় কূটনৈতিকদের বৈঠকের কয়েক দিন পরই এ সফর করা হয়।

তালেবানের কাতার দফতরের প্রধান শের আব্বাস স্টানিকজাদেহ্‌র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তালেবান প্রতিনিধি চীন সফর করেন। এ দলে মৌলভি শাহাবুদ্দিন দিলওয়ার, জান মোহাম্মদ মাদানি, সালাম হানাফি এবং ডা সালেহ ছিলেন বলে তালেবান সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের একটি দৈনিক জানিয়েছে। এ ছাড়া, তালেবান দফতরের তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রও এটি নিশ্চিত করেছে।

 অবশ্য, তালেবান একটি সূত্রকে গত মাসের এ সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশ নরওয়ে, জার্মানি, ফ্রান্স ব্রিটেনসহ প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক দেশ সফরের অংশ হিসেব এটি করা হয়। কাতারের রাজনৈতিক দফতর তৎপরতা এর সঙ্গে জড়িত বলেও জানান তিনি।

আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং আফগান সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য কাতারের তালেবান দফতর তৎপর বলেও অবহিত করেন তিনি।অবশ্য তালেবানের আরেক সূত্র বলেছে,  গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে চীন আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করতে চায়। সে কারণেই তালেবানকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 তালেবানের সফরের পরই আফগান বিষয়ক চীনের বিশেষ দূত দেং শিজুন কাবুল সফর করেন। এ সময়ে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিসহ শীর্ষস্থানীয় আফগান নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। তার সঙ্গে বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে গনির দফতর থেকে বলা হয়েছিল, তালেবানকে শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে উৎসাহিত করছে চীন। চীনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে তাদের উৎসাহিত করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

আফগানিস্তানের তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল  গত বছরের  মাঝামাঝি চীন সফর করেছে। তালেবান সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এ খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে দখলদারিত্ব নিয়ে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দলটি চীন সফর করে। মার্কিন মদদপুষ্ট কাবুল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার একই সময়ে চীন সফর করল আফগান তালেবান।এক প্রবীণ তালেবান নেতা এ সম্পর্কে বলেছেন, তাদের কাতারের রাজনৈতিক দফতরের প্রধান আব্বাস স্তানাকজাই’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি  বেইজিং সফর করে। চীন সরকারের আমন্ত্রণে গত ১৯ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তালেবান নেতা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই তালেবানের সুসম্পর্ক রয়েছে।  এ সব দেশের মধ্যে চীনও রয়েছে।সফরে বিদেশি বাহিনীর দখলদারিত্ব এবং আফগান জনগণকে হত্যার বিষয়টি চীনা কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরা হয় বলেও জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তালেবানের অন্যান্য প্রবীণ নেতাও এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তালেবানের কাতার দফতরের পক্ষ থেকে কথা বলার অনুমতি নেই বলে নাম প্রকাশ করতে চান নি তারা।অবশ্য চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

 কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা মুতলাক আল-কাহতানি বলেছেন, মার্কিন অনুরোধেই দেশটিতে আফগানিস্তানের তালেবানের দফতর খুলতে দেয়া হয়েছিল। আমেরিকাসহ কয়েকটি আরবদেশ যখন দোহার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেয়ার কথিত অভিযোগ করছে তখন এ বক্তব্য দেয়া হলো।