Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

নিউইয়র্কের রকমারি ইফতার

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন:আয়েশা আকতার রুবী,বাপসনিঊজ:নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে : নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বসবাস করেন মুজিবুর রহমান (৫৪)। বাড়ি ঢাকার চানখাঁরপুলে। প্রবাসজীবনের প্রথম বছর এসেই খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন আমেরিকার মাটিতে ইফতারি মিলবে কি না? এক বন্ধুর সাহায্যে ২০০৭ সালে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গিয়ে ইফতারির দেখা পেয়েছিলেন। আগ্রহ ছিল পুরান ঢাকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ইফতারি মেলে কি না দেখার? চুপিসারে অনেক খুঁজেছেন।মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জ্যাকসন হাইটসের একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁয় গিয়ে এ ধরনের ইফতারসামগ্রী দেখতে না পেয়ে একটু হতাশই হয়েছিলাম। কিন্তু ছোলা, পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, ডিমের চপ, জিলাপির দেখা পেয়েছিলাম।’

Picture
মুজিবুর রহমান প্রবাসজীবনে সময় পার করেছেন অনেক বছর। প্রতিবছর রোজা এলেই ইফতারির বাজারে ছোটেন তিনি। এখানে দোকান বেড়েছে। কিন্তু সেই ঢাকার ঐতিহ্য বা রকমারি ইফতারসামগ্রীর দেখা মিলছে না এখনো। তাই মুজিবুর রহমানের মতো অনেকেই জ্যামাইকা থেকে জ্যাকসন হাইটস, অ্যাস্টোরিয়া থেকে ব্রঙ্কস-ব্রুকলিন—অনেক জায়গায় খুঁজছেন সেই পুরান ঢাকার রকমারি ইফতারের আস্ত মুরগির রোস্ট, খাসির রোস্ট, ঝাল খাসির রান, কোয়েল ভুনা, কবুতর ভুনা, পেঁয়াজি, বেগুনি, ঘুগনি, মোরগ পোলাও, শাহি জিলাপি, পেস্তা বাদামের শরবত, সুতি কাবাব, টিকা কাবাব, শাকপুলি, জালি কাবাব, দই বড়া ইত্যাদি। পাশাপাশি শাহি জিলাপির খোঁজও করেন অনেকে। বাদ যায় না বুটের ডাল, চিড়া, মুরগি-কবুতর-কোয়েল-খাসির মাংস, গরুর মগজ, কলিজা, ডিমের সঙ্গে প্রায় ৩৫ প্রকারের উপকরণসহ ৪২ প্রকারের মসলা মিশিয়ে তৈরি করা রকমারি ইফতারসামগ্রীও।

alt
মুজিবুর রহমান মনে করেন, রকমারি ইফতারির জন্য একটু-আধটু ব্যথা বা অপূর্ণতা থাকলেও অ্যাস্টোয়ার ক্যাবি জসিমের আক্ষেপ নেই মোটেও। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ব্যাচেলর থাকি। প্রতিবছর রোজা রাখি, ইফতারের সময় এলেই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁয় ছুটি এবং বক্স আইটেমের ইফতার করি তৃপ্তির সঙ্গে। এসব বক্সে যে প্যাকেজ দেওয়া হয়, তাতে অন্তত বাংলাদেশের ইফতারির মতো অনেক কিছুই পাওয়া যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি অ্যাস্টোরিয়ার আলাউদ্দিন রেস্তোরাঁ থেকে ৭ ডলারে ইফতারির বক্স কিনি। এতে অন্তত ১০ পদের ইফতারি থাকে। যেমন ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া ইত্যাদি।’
ওই রেস্তোরাঁর এক কর্মী জানালেন, ইফতারে তাঁরা খোলা আইটেম বিক্রি করেন। তবে বক্স ভর্তি প্যাকেটের প্রতি সবার ঝোঁক বেশি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকজন কাজে যাওয়ার সময় এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়ে যেতে পারেন বলেই বক্স ইফতারির কদর বেশি।
জ্যাকসন হাইটসের প্রিমিয়াম রেস্তোরাঁয় রোজার দিন বিকেল থেকেই ভিড় লেগে থাকে। নানা পদের ইফতারি নিয়ে রোজদারেরা ঘরে ফিরতে চান। ব্যবস্থাপক শাওন বলেন, ‘রোজার সময় আমরা লাভকে বেশি প্রাধান্য দিই না। মানুষ যাতে শান্তিতে খেতে পারে সেটিই থাকে মুখ্য, তাই আমাদের রেস্তোরাঁয় এত ভিড়।’

alt

জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি গার্ডেনে একটি ইফতারির বক্স বিক্রি হয় ৮ ডলারে। যেখানে থাকে প্রায় ১২ পদের ইফতারি। রেস্তোরাঁর অন্যতম স্বত্বাধিকারী শাকিল জানান, ‘আমাদের রেস্তোরাঁয় বসে ইফতার করার মতো প্রচুর জায়গা আছে। তারপরও লোকজন ইফতারির বক্স নিয়ে ইফতার করতে বসেন। এতে যেমন কাস্টমারদের লাভ, তেমনি আমাদেরও লাভ। কারণ কাস্টমারদের অতিরিক্ত সার্ভিস দিতে হয় না।’
লোকজন কেমন ইফতারি খোঁজেন এমন প্রশ্নে শাওন বলেন, ‘বলতে গেলে ট্র্যাডিশনাল ইফতারি আমরা বিক্রি করি। যেমন ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া। কিন্তু বক্স আইটেমে আরও কিছু বেশি আইটেম থাকে। যেমন খেজুর, খিচুড়ি, এক টুকরা বাঙ্গি বা তরমুজ, দু-একটি আঙুর বা চেরি ফল ইত্যাদি।’

alt
জ্যামাইকার তাজমহল রেস্টুরেন্টের কর্মচারী মাসুম বলেন, ‘আমাদের ইফতারির বক্সের চাহিদা অনেক বেশি। তাই আমরা মাত্র ৭ ডলারে ১৩ আইটেম সরবরাহ করে থাকি। যেমন ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজি, মরিচা, বেগুনি, আলুর চপ, পাকুড়া, খেজুর, খিচুড়ি, এক টুকরো বাঙ্গি বা তরমুজ, দু-একটি আঙুর এবং এক টুকরো মুরগির মাংস।
বাংলাদেশি-অধ্যুষিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁগুলোতে ইফতারির বক্সের প্রতিযোগিতা চলে। যেসব দোকানে ইফতারির বক্স পাওয়া যায়, তার মধ্যে জ্যামাইকার তাজমহল রেস্তোরাঁ, স্টার কাবাব, কস্তুরি, পানসি ও ঘরোয়া, জ্যাকসন হাইটসের হাটবাজার, খাবার বাড়ি, ইত্যাদি গার্ডেন, মেজবান ও ঢাকা গার্ডেন, অ্যাস্টোরিয়ায় বৈশাখী ও আলাউদ্দিন, ব্রঙ্কসের পেটারসন ও নীরব, ব্রুকলিনের ঘরোয়া ও নীরব রেস্তোরাঁ উল্লেখযোগ্য।
প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ইফতারির মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় কি না, এমন প্রশ্নে জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ির স্বত্বাধিকারীদের একজন হারুন ভূঁইয়া বলেন, সবাই রমজানে আরও বেশি যত্নসহকারে ইফতারি তৈরি করে থাকেন। আর বাংলাদেশের স্বাদের রকমারি ইফতারি তৈরির চেষ্টা করা হয় বাড়িতে।
তবে সবকিছুর পরও পুরান ঢাকার মুজিবুর রহমানের মতো প্রবাসীদের রকমারি ইফতারির স্বাদ অপূর্ণ থেকেই যাচ্ছে।


Add comment


Security code
Refresh