Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

বধূ সাজা হবে না তানিমার?

শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ‘আগামী ২৯ জুলাই তানিমার বিয়ের দিন ঠিক ছিল, এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতিও ছিল আমাদের। বিয়ের পর বাংলাদেশেও যাওয়ার কথা ছিল তাদের’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন লন্ডনের গ্রিনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ হোসনা বেগম তানিমার (২২) চাচাত ভাই আবদুর রহিম।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের গ্রীনফেল টাওয়ারে স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহতসহ বহু সংখ্যক নিখোঁজ রয়েছে। ঘটনায় উদ্ধার ৭০ জনকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে যাদের ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শেষ খবরর পাওয়া পর্যন্ত  ওই ভবনের কিছু স্থানে আগুন জ্বলছে এবং এরই মধ্যেই উদ্ধার অভিযান চলছে।  ১৯৭৪ সালে নির্মিত ২৭ তলা এই ভবনে ১২০টি আবাসিক ফ্ল্যাট ছিল যার ১৪২ নম্বর ফ্ল্যাটে নিখোঁজ মৌলভীবাজারের কমরু পরিবার থাকতেন।

Picture

কমরু মিয়ার ভাতিজা যুক্তরাজ্যেরই চেলসির বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে তানিমার (কমরু মিয়ার কন্যা) ফোনে আগুন লাগার খবর পাই। গাড়ি নিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে যাই গ্রেনফেল টাওয়ারের সামনে, তখন সেখানে আগুন জ্বলছিল। হাকিমও (কমরু মিয়ার বড় ছেলে, তিনি স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকতেন) ততক্ষণে চলে আসে। তানিমার হবু বর ব্রিটিশ যুবক লেস্টারও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতে গ্রেনফেল টাওয়ারে ছুটে আসে। 

আবদুর রহিম জানান, আগুন লাগার পর রাতে তার চাচাত বোনের (তনিমার) সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল। তনিমা বলছিল, আমরা সবাই এখন বাথরুমে, আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, দোয়া করেন আমাদের যেন কষ্টে মৃত্যু না হয়।

তিনি আরও জানান, রাত আড়াইটা পর্যন্ত তানিমার সঙ্গে কথা বললেও তারপর থেকে সবার ফোন বন্ধ পাচ্ছি। হাকিমকে নিয়ে সকাল ৮টা পর্যন্ত ভবনের সামনেই ছিলেন বলে জানান রহিম। পরে দুজনে লন্ডনের বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়েও খোঁজ পাননি স্বজনদের।

alt

বাবা কমরু মিয়া ও ভাইদের সাথে তানিমা। ছবি: সংগৃহীত। 

একইভাবে তানিমার খালাত লন্ডন প্রবাসী আজিজুল হক বলেন, খালাতো বোন তানিমা লন্ডনে স্কুল পাস করে কাজ শুরু করেছিলেন। ওর বিয়ের কার্ড বিতরণ করা হচ্ছিল। আমার কাছেও একটি কার্ড আছে। বিয়ের সব কেনাকাটাও প্রায় শেষ। এখানে মোমুন সেন্টারে বিয়ের জন্য হল বুকিং দেওয়া হয়েছে। ২৯ জুলাই বিয়ে। ।

লন্ডনে যে বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, ওই ভবনের ১৭ তলার ১৪২ নম্বর ফ্ল্যাটে আজিজুল হকের খালা রাজিয়া বেগম (৬৫), খালু কমরু মিয়া (৮২) এবং দুই ছেলে আবদুল হামিদ (২৬) ও হোসনা বেগমকে (২২) নিয়ে বাস করতেন। আগুন লাগার পর থেকেই খালার পুরো পরিবার নিখোঁজ। খালাতো বোন হোসনা বেগমের (২২) বিয়ের দিন নির্ধারণ করা রয়েছে আগামী ২৯ জুলাই। খালার পরিবারের কারও লাশ উদ্ধার হয়নি বলে বলাও যাচ্ছে না তারা মৃত নাকি জীবিত!

alt

গ্রিনফেল টাওয়ারে ছড়িয়ে পড়েছে লেলিহান শিখা। ছবি: সংগৃহীত। 

আজিজুল হক আরও জানান, আগুন লাগার পর থেকে তিনি প্রায় সারাক্ষণই সেখানে অবস্থান করছেন। তার বাড়ি ওই ভবনের কাছাকাছি। পুলিশের কাছ থেকে ক্ষণে ক্ষণে তথ্য নিচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আশার বার্তা পাননি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে ওদের (খালার পরিবার) সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। ওরা কোরআন শরিফ পড়ছিলেন। সে সময় সবাই বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কেউ ফোন ধরেনি।

কমরু মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার একাটুনার ইউনিয়নের বিরইমাবাদ গ্রামে। তিনি বছরখানেক আগে গ্রিনফেল টাওয়ারে উঠেছিলেন।