Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউড অব পারফর্মিং আটস-বিপার আনন্দরাতি “উত্তরাধিকার”-১০ অনবদ্য জারিন মাইশা

বৃহস্পতিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ : জারিন মাইশা। প্রবাসে জন্ম নেয়া নতুন প্রজন্মের অন্যতম নতুন প্রজন্মের শিল্পী। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা এবং ভিন্ন পরিবেশে নতুন প্রজন্মের অনেকে ঠিক মত বাংলাই বলতে পারে না।

Picture

অনেক অভিভাবক চেষ্টা করেও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তুু কিছু সংখ্যক অভিভাবক বজ্রকঠোর সঙ্কল্প নিয়ে নিজ নিজ সন্তানদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দেয়ায় এগিয়ে আসেন। অটল সংঙ্কল্পে অভিভাবক এবং নতুন প্রজন্মরা যে সফল হবেন তার প্রমাণ জারিন মাইশা।

alt

বাবা সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং মা নার্গিস রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, ভালবাসা এবং অনুশাসনে জারিন মাইশাকে গড়ে তোলেন আদর্শ সন্তান হিসাবে। আমেরিকায় অধ্যায়নের পাশাপাশি সন্তানের হাতে তুলে দেন বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির প্রদীপ। সেই প্রদীপের আলোতে আলোকিত এখন প্রবাসের বাংলাদেশী কম্যুনিটি। প্রবাস কম্যুনিটির গর্বের সন্তান জারিন মাইশা।

alt

এই উজ্জল প্রদীপ তৈরিতে বাবা-মার পাশাপাশি যে প্রতিষ্টানের অবদান, সেই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার ও অনুশীলন কেন্দ্র বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউড অব পারফর্মিং আটর্স। মাত্র ৪ বছর বয়সেই বাবা মা জারিন মাইশাকে তুলে দেন নিলুফার জাহান, সেলিমা আশরাফ ও এ্যানি ফেরদৌসের হাতে। গানে জারিনের হাতেখড়ি পড়ে নিলুফার জাহানের কাছে, পরিপূর্ণ শিল্পী করার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিলো সেলিমা আশরাফের উপর। আর নাচের গুরু ছিলেন এ্যানি ফেরদৌস, বাংলার শিক্ষক নিনি ওয়াহেদ এবং আবৃত্তির শিক্ষক ইভান চৌধুরী।

alt
শিল্পী জারিন মাইশা ব্যতিক্রমী প্রতিভাধর একটি মেয়ে। তার অনেক গুণ। সবদিক বিবেচনায় বলতে হবে মাইশা গড গিফটেড। ঐশ^রিক অবদান না থাকলে এত গুণ থাকতে পারে না। জারিন একজন ভাল নৃত্য শিল্পী, একজন ভাল চিত্রশিল্পী ও নন্দিত আবৃত্তিকার। গত ২৯ জুলাই প্রমাণ করেছে সে একজন ভাল কন্ঠ শিল্পী।খবর বাসনিঊজ।

alt
বিপার আয়োজনে জারিন মাইশার একক সঙ্গীতানুষ্ঠান উজ্জল কর হে আজি আনন্দরাতি “উত্তরাধিকার”-১০ এষ্টোরিয়ার পিএস ২৩৪ স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। হল ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে সাবিনা শারমিন নিহার ও নাদিয়া ইসলাম দৃষ্টির উপস্থাপনায় দু পর্বের এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিলো উত্তরাধিকার-১০ এর চার জন শিল্পীর পরিবেশনা। নাদিয়া আহমদ, অনিতা হিলালী, নাদিম আহমদএবং আকাশলীনা আহমদ দুটো সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তবে নাদিম আহমদ ছিলেন ব্যতিক্রম।

alt

তিনি সঙ্গীত নয় তবলায় তারানা পরিবেশন করেন। তাদের উপস্থাপন করে বিপার নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি আসিফ, লামিয়া, আমিন, প্রমা ও দিদাত। সুরের ভেলা মূলত এদের মাধ্যমেই শুরু হয়। তবে সুর সাগরের যবনিকাপাত করেন জারিন মাইশা।

alt

দ্বিতীয় পর্বে জারিন মাইশার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা কেমন হবে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় ছিলো। কারণ তাকে কখনো সঙ্গীত পরিবেশন করতে দেখা যায়নি। অথচ গান শুনে তো সবাই অবাক। এত সুন্দর পরিবেশনা অনেক দিন প্রবাসের দর্শকরা শুনতে পাননি। তার গায়কি, উচ্চারণভঙ্গি, গলার নিখুঁত কারু কাজ-সবই ছিলো চমৎকার এবং সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। তাকে নতুন প্রজন্মের একজন শিল্পী নয় পরিপূর্ণ শিল্পীই প্রতীয়মান হয়েছে।

alt

ক্লাসিক, মর্ডান, নজরুল, রবীন্দ্র থেকে শুরু করে হিন্দি গানও পরিবেশন করেছে। প্রমাণ করেছে সে সব ধরনের গানেই পারদর্শী। তার কন্ঠের যাদুতে হল ভর্তি দর্শক আবেগ আপ্লুত হয়েছেন, মন্ত্রমুগ্ধের মত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঠায় বসে থেকে উপভোগ করেছেন মনমাতানো সঙ্গীতগুলো। শুরু করেছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দিয়ে। বারটি গানের মধ্যে বেশি গেয়েছেন ছায়াছবির গান।

alt

তার পরিবেশিত গানের মধ্যে ছিলো বাংলাদেশের লিজেন্ট শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের গাওয়া এ মন তোমাকে দিলাম, প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ রচিত এবং মেহের আফরোজ শাওনের গাওয়া ‘আমার আছে জল, কলকাতার নচিকতার ‘যেভাবে তুমি সকাল দেখ’, বাপ্পা মজুমদার ও ফাহমিদা নবী ,একট যদি তাকাও তুমি, বাউল সম্্রাট আব্দুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ ভারতের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী শেয়া গোসাল ও প্রনব বিশ^াসের ‘যাও পাখি বল’ নজরুল সঙ্গীত ‘মম মায়াময় স্বপনে’, রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আমারো পরানে যাহা চায়’ হিন্দি গান আও হে জাগ এবং শেষ করেন বাবা-মার পছন্দের গান শিল্পী নাদিম নিয়াজীর গাওয়া ‘আকাশে ঐ মিটি মিটি তারার সাথে’।  

alt

জারিন মাইশার গানকে আরো আবেগময় এবং আবেদনধর্মী করে তোলেন সহকারি শিল্পীরা। নজরুল সঙ্গীতের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন পম্পি ও তানজিলা, রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে কবিতা আবৃত্তি করেন মিজানুর রহমান বিপ্লব, মন্দিরায় শহীদ উদ্দিন এবং শ্রেয়া ঘোষালের গানের কন্ঠ জারিনের আর প্রণব বিশ^াসের গলায় ছিলেন চন্দন চৌধুরী।

alt

বলতে গেলে খালি গলায় রবীন্দ্র সঙ্গীতটি যেন অসাধারণ হয়ে ওঠে। অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশনার জারিনের অনুষ্ঠানটি এতই চমৎকার ছিলো যে তখন শুরু এবং কখন শেষ হয়েছে তা অনেকেই বুঝতে পারেননি। নিমিষেই যেন শেষ হয়ে গেল।

alt

দর্শকদের করতালিতে সিক্ত হলো জারিন মাইশা। শুধু কী করতালি।

alt

তার ভূয়সী প্রশংসা করে অনুভূতি জানিয়েছেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন , কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, পেন্ডোরা চৌধুরী, বিশিষ্ট সঙ্গীত বিশারদ মুত্তালিব বিশ^াস। আরো বক্তব্য রাখেন এ্যানি ফেরদৌস, নিলুফার জাহান, সেলিমা আশরাফ, মামুন’স টিউটোরিয়ালের শেখ আল মামুন, শিল্পী তপন মোদক, সৈয়দ মিজানুর রহমান ও নার্গিস রহমান। মাসুদ বিন মোমেন জারিন মাইশার আরো উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করেন এবং প্রবাসে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের হাতে বাংলা ভাষা এবং বাংলা সংস্কৃতির মশাল তলে দেয়ার জন্য বিপাকে ধন্যবাদ জানান।

alt
কামীম আহসান বলেন, জারিন মাইশা অনেক গুণে গুণান্বিত। সে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে রচনা লিখে প্রথম হয়েছে। তার হাতের লেখা ছবির মত। তার নৃত্য আমি দেখিছি, এমন কি চিত্রাঙ্কনও দেখেছি। তিনি বিপা এবং জারিন মাইশার অভিভাবককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিপা এই প্রবাসে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা উজ্জল প্রতিষ্ঠান। আর উত্তরাধিকার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাধর শিল্পীদের উপস্থাপন করছে, তাদের শুধ শিক্ষাই দিচ্ছে না।

alt
মুত্তালিব বিশ^াস রবীন্দ্র নাথের কবিতার উদ্ধতি দিয়ে বলেন, ‘বালিকা আমি তোমার পরিবেশনায় অভিভূত। আমি আশা করি জারিন মাইশারাই আমাদের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করবে এবং আরো জারিন মাইশার সৃষ্টি করবে। তিনি আরো বলেন, জারিন মাইশার আবৃত্তি ও অপূর্ব। তার পরিবেশনায় আমি অবাক। সে আমাদের মুখ উজ্জল করবে। এ্যানি ফেরদৌস অনুষ্ঠান সফল এবং স্বার্থক করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের। কারণ এই প্রজন্মের শিল্পীদের আমরা শুধু শিখাচ্ছি না, আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারছি। তবে এই কাজটি অত্যন্ত কঠিন। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অর্থের। অনেক কষ্ঠ করে ২৫ বছর ধরে আমরা এই কাজটি করে যাচ্ছি। তিনি বিপার এই অগ্রযাত্রায় যারা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নিলুফার জাহান বলেন, আমার কাজটি বেশ কঠিন। কারণ ছোট্র ছোট্র শিশুদের কন্ঠে, মননে, চিন্তা এবং চেতনায় গান তুলে দিচ্ছি।

alt
সেলিমা আশরাফ বলেন,আগামী মাসে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে বিপার শো আগামী ১৮ আগষ্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই শোতে বাংলাদেশে যার যার আতœীয়-স্বজনকে যাবার অনুরোধ জানান।
শেখ আল মামুন বলেন, জারিন মাইশা শুধু একজন ভাল শিল্পী নয়,সে একজন ভাল শিক্ষকও বটে।সৈয়দ মিজানুর রহমান বিপা এবং আগত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাবার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে জারিনও বিপা এবং তার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, আমার বাবা- মা এবং শিক্ষকদের জন্যই আমি আজকে এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি।

alt
শিল্পীকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সহযোগিতা করেছেন তবলায় পিনাকপানি গোস্বামী,কীবোর্ডে মাসুদুর রহমান, অক্টোপ্যাডে তুষার রঞ্জন দত্ত, গীটারে জোহান আলমগীর এবং মঞ্চ করেছেন আক্তার আহমেদ রাশা, সাউন্ড ও লাইনে বিডি সাউন্ড। আরেকজন সহযোগিতায় ছিলেন জারিন মাইশার ছোট ভাই মাহাদি।অনুষ্ঠানে জারিন মাইশার শিক্ষক এবং শিল্পীদের ফুল দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়। ফুল তুলে দেন বিপার ছোট্র শিশু শিল্পীরা।


Add comment


Security code
Refresh