Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির নয়া অধ্যায় = আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করিয়ে খুশীর চোটে যে হাসি হাসতে ইসরাইলি নেতা বেঞ্জামিন এবং সৌদি রাজপরিবার যতো বড় হা করে মুখ খুলেছেন,ততোটুকু হাসি দিতে পারলেন কি না জানা যায়নি।তবে লেবানন,হিজবুল্লাহ্‌ এবং মিশর,ইরান ও রাশিয়া যে পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভে প্রস্তুত হয়ে আছে,তা অনুমান করা সহজ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, তার দেশের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরব অপহরণ করেছে।এখন তাকে অবশ্যই সেখান থেকে মুক্তি দিতে হবে।লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আউন এ কথা বলেছেন এবং ১১নভেম্বর শনিবার দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট তার দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।বলেন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হচ্ছে দেশের রেড-লাইন এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগুলো রক্ষা করতে হবে।
পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি প্রতি সংহতি জানাতে রোববার দেশটির রাজধানী বৈরুতে ম্যারাথন দৌড়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।এ কথা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন।রোববারের এ ম্যারাথন দৌড়ে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেবে বলে তিনি আশা করেন। প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, এর মাধ্যমে সাদ হারিরির দেশে ফেরার দাবির প্রতিও সংহতি প্রকাশ করা হবে।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে আটক রেখে এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে সৌদি আরব লেবাননের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান বিবাদ  মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।তিনি আরো বলেছেন, “যদি দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়,তাহলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”  নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের গুতেরেস বলেন, “আমরা সত্যিই অনেক বেশি চিন্তিত এবং আশাকরি পরিস্থিতির আর অবনতি দেখতে হবে না।মধ্যপ্রাচ্যে যাতে আর কোনো যুদ্ধ না হয়,তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা চলছে তখন জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বললেন।তিনি আরো বলেছেন, সৌদি আরব, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং সংঘাত কবলিত এ অঞ্চলে নতুন করে আর কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে দেয়া ঠিক হবে না।
হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় লেবানন সরকার ও ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ সৌদি আরবকে দায়ী করছে। অন্যদিকে, পদত্যাগের সময় হারিরি অভিযোগ করেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহ লেবাননসহ কয়েকটি আরব দেশে হস্তক্ষেপ করছে। এছাড়া, তার জীবনের শংকাও দেখা দিয়েছে।এসব অভিযোগ নাকচ করেছে হিজবুল্লাহ ও ইরান।
লেবাননের সঙ্গে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে সেখান থেকে ইসরাইলের দিকে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসবে বলে ধারণা করছে ইহুদিবাদী সামরিক বিশেষজ্ঞরা।আরবি দৈনিক 'রায় আল ইউম' এ খবর দিয়েছে।ইহুদি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, সৌদি আরব লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধের উন্মাদনা ছড়ালেও ইহুদিবাদী ইসরাইল সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ভাবছে।
রাই আল ইউম ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা এখন এ আশঙ্কা করছেন,যুদ্ধ শুরু হলে লেবানন থেকে ইসরাইলের দিকে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসবে।এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের গভীরেও আঘাত হানতে সক্ষম।
ইতিপূর্বে ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান বলেছেন, হিজবুল্লাহ একটি বিশাল সেনাবাহিনীর মতো।ন্যাটোর কোনো কোনো সদস্য দেশেরও হিজবুল্লাহর মতো শক্তি-সামর্থ্য নেই।‌ইসরাইলি জঙ্গিবিমানগুলো আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সব সময় দক্ষিণ লেবাননে টহল দিলেও হিজবুল্লাহ চুপচাপ থেকে দ্রুততার সাথে তার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।  
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান পরোক্ষভাবে সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, "সৌদি আরবের এ কর্মকর্তা ইসলামি চেতনাকে ধারণ করেন না।" ১০নভেম্বর শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, 'উদারপন্থি' ইসলাম আর 'অনুদারপন্থি' ইসলাম মূল ইসলামকে দুর্বল করার জন্য পশ্চিমাদের সৃষ্টি করা একটি ধারণা।গত ২৪ অক্টোবর সৌদি রাজধানী রিয়াদে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন, সৌদি আরবকে তিনি 'উদারপন্থি ইসলামে' ফিরিয়ে আনবেন।"
এ প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, "উদারপন্থি ইসলামের ধারণা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে তৈরি হয়েছে।কিন্তু ইসলামে কোনো উদারপন্থি বা অনুদারপন্থি বলে কিছু নেই; ইসলাম একটাই। এ ধরনের পরিভাষা ইসলামকে দুর্বল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এখন এই ধারণা যে ব্যক্তি উচ্চারণ করছেন মনে করছি তিনি নিজেই এই ধারণা বিশ্বাস করেন।কিন্তু আপনাকে জানতে হবে এটা আপনার বিষয় নয়।" এরদোগান এসব কথা বলেছেন তবে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের নাম উল্লেখ করেন নি।
সৌদি আরবে ইসলাম যদিও সরকারিভাবে অনুসৃত আদর্শ তবে দেশটির সরকার ওয়াহাবি মতবাদ নামে একটি আদর্শ প্রচারের জন্য আলেমদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। এই একই আদর্শ চর্চা করে তাকফিরি সন্ত্রাসীরা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় বর্বরতা চালাচ্ছে।
সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সৌদি আরব ও কাতারসহ কয়েকটি আরব দেশ সরাসরি অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দিয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ইয়েমেনে এখনও সৌদি আরবের নেতৃত্বে আগ্রাসন চলছে। এ হামলায় সৌদি আরবকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সিরিয়ায় দায়েশ বা আইএসের পেছনে আমেরিকা ও ইসরাইল রয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণে জানা গেছে।ইসরাইল বহু আহত দায়েশ সন্ত্রাসীকে সেদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে চিকিৎসা করার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সিরিয়ায় দায়েশ পরাজিত হয়েছে এবং ইয়েমেনেও সৌদি আরব তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।এসব তৎপরতার ফলে কেবল মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।আর লাভবান হচ্ছে কেবল মুসলমানদের শত্রুরা।কোনো কোনো আরব দেশ যে অন্য মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে সে বিষয়টি এবার আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেও বেরিয়ে এসেছে।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের সঙ্গে আমেরিকার গোপন সমঝোতা রয়েছে এবং এ গোষ্ঠীকে মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, "আমার মতে আমেরিকার পূর্ণ উপস্থিতি, নজরদারি, সামরিক, রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতায় দায়েশের উত্থান ঘটেছে।"কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি এসব কথা বলেছেন।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিরাট অংশ দখল করে নেয়ার এক বছর পর  উগ্র এগোষ্ঠী আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তার শুরু করে।দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে তাদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং সেখানে বর্বর হামলা চালিয়েছে।হামিদ কারজাই বলেন, "গত দু বছর ধরে আফগানিস্তানের লোকজন এ সমস্যায় ভুগছে এবং এর বিরুদ্ধে কথা বলছে কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই করা হয় নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়েশের দোহাই দিয়ে আফগানিস্তানে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্যাপক বোমা ফেলেন।"হামিদ কারজাই বলেন, আগামী দিনগুলোতে দায়েশ আফগানিস্তানের আরো এলাকা দখল করবে।  
এদিকে, হারিরির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, "সৌদি আরব সিদ্ধান্তে পৌছেছে যে, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে মোকাবেলায় নিজের অনিচ্ছা প্রকাশ করায় সাদ হারিরিকে আগেই ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর উচিত ছিল।"
ওই সূত্রটি আরো বলেছে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার আগে সাদ হারিরি সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন।তিনি বলেন, "ওই সব বৈঠকে যা ঘটে থাকতে পারে,সে ব্যাপারে আমার বিশ্বাস হলো, হারিরি সৌদি কর্মকর্তাদের একথা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে গেলে লেবানন অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।আমার বিশ্বাস, সৌদি কর্মকর্তারা তার বক্তব্যে খুশি হতে পারেনি।
ফলে যা ঘটার তাই ঘটেছে।"গত ৪ নভেম্বর শনিবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণের মাধ্যমে সাদ হারিরি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং এখন সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন।এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে শুক্রবার সন্ধ্যায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে হিজবুল্লাহ মহাসচিব একথা বলেছেন।ইমাম হোসেইন (আ)’র শাহাদাতের চেহলাম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া তার এ ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, ফিউচার দলের প্রধান ৪৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তার সঙ্গে কাউকে যেতে দেয়া হয় নি। রিয়াদে যাওয়ার পর হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে সৌদি আরব লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মারাত্মকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, হারিরি যে ভাষায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তা থেকে পরিষ্কার হয় যে, তাকে এসব বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাকে এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, “হারিরি এখন সৌদি আরবে কারাবন্দী এবং নিজের দেশে ফিরতে পারছেন না। সৌদি আরব নিজের ইচ্ছা লেবানন সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে মধ্যে বিভেদের বীজ বোনার চেষ্টা করছে রিয়াদ এবং একে অপরের মুখোমুখি কর দিতে চাইছে।”
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, “লেবাননে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য সৌদি আরব ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে কোটি কোটি ডলার খরচ করতে প্রস্তুত রয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে সৌদি আরব লেবাননকে ধ্বংস করতে চায়। এই সৌদি আরবই ছিল ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধের প্রধান কারিগর।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, সাদ হারিরিকে আটক রেখে তাকে অপমান করা হয়েছে এবং এঅপমান গোটা লেবাননের জনগণের জন্য অপমান।তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং এর কোনো মূল্য নেই। লেবাননের চলমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন চমৎকারভাবে দেশ সামলে নিচ্ছেন এবং তাকে কাজের ক্ষেত্রে সব দল ও মতের লোকজনকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান হাসান নাসরুল্লাহ।
সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ শিগগিরি দেশ পরিচালনার ভার নিজের ছেলে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে খবর বের হয়েছে।যুবরাজ মুহাম্মাদ চলতি সপ্তাহে রাজপরিবারের বেশ কয়েকজন প্রিন্স ও বর্তমান এবং সাবেক মন্ত্রীকে দুর্নীতির দায়ে আটক করার পর এ খবর বের হলো।যুবরাজ মুহাম্মাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে; সাম্প্রতিক আটক অভিযানের মাধ্যমে সে পথ সহজ করা হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।১৯৩২ সালে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটিতে রাজতন্ত্রের আদলে পারিবারিক স্বৈর-শাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
গত মাসে অর্থাৎ ৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি রাজা সালমান মস্কোয় ক্রেমলিনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে রাশিয়া ও সৌদি আরবের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।বৈঠক শেষে পুতিন বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বিস্তারিত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।ওপেক মিটিং হবার আগে এই তেল বিষয়ক ব্যবসায়িক আলোচনা শেষ করে নিয়েছেন পুটিন।তেলের উপর উভয় দেশের অর্থনীতি নির্ভরশীল থাকায় বাস্তবতাই তাদেরকে বৈঠকে টেনেছে।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রাশিয়ার সাথে সৌদি রাজপরিবারের সম্পর্ককে কাছে টানার কাজটি হয়েছে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মনোযোগে।মে মাসে রাশিয়া সফর করে রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট ফান্ডে ১০বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা বলে এসেছিলেন তিনি।এই দুইদেশ বহুদিন যাবত বিভিন্ন বিরোধে যুক্ত।সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান সৌদির বিপরীতে।ইরান সিরিয়ার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি জরুরী হয়ে গেছে।আমেরিকার সম্পুর্ণ সমর্থন পেয়েও সৌদি রাজপরিবার ইয়েমেন-সিরিয়ায় কড়া মার খেয়ে চলেছে।তাই রাশিয়াও পরিস্থিতির সুযোগটা নিয়েছে বলা যায়।
রাজা সালমান তার মস্কো সফরের মধ্যদিয়ে রুশ-সৌদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতির সূচনা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এটি সৌদি রাজার প্রথম সফর।আগেরদিন বুধবার রাতে দেড় হাজার সঙ্গী নিয়ে চারদিনের সফরে রাশিয়ায় পা রাখেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদ।বিমান থেকে নামার সময় তিনি ব্যবহার করেন সোনার তৈরি চলন্ত সিঁড়ি।কিন্তু হুট করেই নষ্ট হয়ে যায় সেই সিঁড়ি।    
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের  চেয়ারম্যান)।