Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

‘স্ত্রীর উচ্চাভিলাষে’ ৩৭ বছরের একনায়কের পতন

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

Picture

ব্রিটিশ শাসিত রোডেশিয়ার এক সাধারণ স্কুলশিক্ষক ছিলেন মুগাবে। মার্কসবাদে দীক্ষিত মুগাবে স্কুলশিক্ষক থাকা অবস্থাতেই সংখ্যালঘু শাসক ব্রিটিশ সাদা মানুষদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। কালো মানুষদের অধিকার রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে জেলে যাওয়ার পাশাপাশি, মুজাম্বিকে নির্বাসনেও যেতে হয়েছে তাকে। ১৯৭৪ সালে মুজাম্বিকে নির্বাসিত অবস্থায় তৈরি করেন নিজের রাজনৈতিক দল জানু।

যুক্তরাজ্যের মধ্যস্ততায় ১৯৭৯ সালের ল্যাঙ্কাস্টার হাউজ এগ্রিমেন্টের আওতায় ১৯৮০ সালে রোডেশিয়ায় প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর জানু পার্টির নেতা হিসেবে তাতে জয়লাভ করেন রবার্ট মুগাবে। সদ্য স্বাধীন জিম্বাবুয়ের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০০টি দেশের প্রতিনিধি আর হাজার হাজার জিম্বাবুয়েবাসীর সামনে শপথ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিকর্বাচিত হওয়ার পর এভাবে্ি সংবাদ সম্মেলনে আসতেন মুগাবে। সঙগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এভাবে সংবাদ সম্মেলনে আসতেন মুগাবে। সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনের আগে জিম্বাবুয়ের প্রাকৃতিক সম্পদের সমবন্টনের অঙ্গীকার করেছিলেন মুগাবে। কিছুদিনের মধ্যে সেই অঙ্গীকার নিপীড়ন আর বঞ্চনায় পরিণত হলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতা আকড়ে রাখতে বিরোধী মতের ২০ হাজার নাগরিককে হত্যা করেন মুগাবে।

১৯৮৭ সালে বিরোধী দল জাপুকে নিজের দলের সঙ্গে একীভূত করে জানু-পিএফ নাম দিয়ে নতুন দল গঠন করেন তিনি। নিজের ক্ষমতা আরও বাড়াতে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। কথিত আছে, ওই বছর থেকেই নিজের ব্যক্তিগত সহকারী ৪১ বছরের ছোট গ্রেস মারুফুর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মুগাবে।

মুগাবের প্রথম স্ত্রী ছিলেন স্যালি মুগাবে। অনেকেই বলে থাকেন, মুগাবের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন তিনি। পুরো জিম্বাবুয়েতেই একমাত্র তার কথাই বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে পারেন মুগাবে। একসময় দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রীকে ‘আমাই’ (মাদার অব দি নেশন) নামে সম্বোধন করতে।বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায় ‘জাতির মাতা’।

প্রথম স্ত্রী স্যালি মুগাবের সঙ্গে রবার্ট মুগাবে। সংগৃহতি ছবি
প্রথম স্ত্রী স্যালি মুগাবের সঙ্গে রবার্ট মুগাবে। সংগৃহতি ছবি

১৯৯২ সালে মারা যান স্যালি। আর ১৯৯৬ সালে গ্রেসকে বিয়ে করেন মুগাবে। তাদের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। উচ্চাভিলাষী নারী গ্রেসের ছিল শপিং বাতিক। শপিং বাতিকগ্রস্ততার জন্য জিম্বাবুয়েতে কখনো কখনো তাকে গুসি গ্রেস, ফার্স্ট শপার, এমনকি ডিসগ্রেস নামেও ডাকা হতো। বিরক্ত হয়ে একবার তার শপিং করা বন্ধ করেছিলেন মুগাবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসম্মুখে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন গ্রেস। নিজেকে ভাবতে শুরু করেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মানগাগওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, কয়েক সপ্তাহ আগে ভাইস প্রেসিডেন্টকে বহিষ্কার করার ঘটনায় মুগাবেকে প্রভাবিত করেছিলেন গ্রেস। আশঙ্কা তৈরি হয় তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। আর এই ঘটনাই কাল হয়ে ওঠে মুগাবের জন্য। দেশটির সেনাবাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। গত বুধবার এক নীরব অভ্যুত্থানে তাকে গৃহবন্দী করে ফেলা হয়। আর এতেই বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠে ৩৭ বছরের একনায়কের।

আফ্রিকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার সাদরাক গুটু এএফপি-কে বলেন, ‘সংকটের শুরু করেছিলেন গ্রেস মুগাবে। স্বামীকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজেই তা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আর সেনাবাহিনী ভেবেছে যথেষ্ট হয়েছে। এবার থামো।’

অবশ্য গ্রেসকে এই কাজে সমর্থন দিচ্ছিলেন জি৪০ নামে তরুণদের একটি দল। এই গ্রুপটি সম্প্রতি জিম্বাবুয়েতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া ২০১৪ সাল থেকে গ্রেস জানু-পিএফ দলের নারী শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গ্রেস একবার বলেছিলেন, লোকে তার সম্পর্কে কী মনে করে, তাতে তার কিছু যায় আসে না। ‘আমি চামড়া মোট করে ফেলেছি। আমার কিছুই মনে হয় না। আমার স্বামী বলেন, এসব এড়িয়ে যাওয়া হলো আর্শীবাদ।’

সূত্র: দি সিটিজেন, রয়টার্স, উইকিপিডিয়া