Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

নিউইয়র্কের প্রাচীনতম ১০ রেস্তোরাঁয় খেতে পারেন

বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,হেলাল মাহমুদ, বাপসনিঊজ:বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্ক। একই সঙ্গে জনবহুলও। বিপুলসংখ্যক মানুষের রসনা তৃপ্তির জন্য এখানে রয়েছে হাজার রকম ব্যবস্থা। রাস্তার পাশে স্ট্রিট ফুড, কিংবা অফিসের পাশের রেস্তোরাঁ—যেকোনো স্থানেই ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে পারেন নিউইয়র্কবাসী। আর এর সঙ্গে ইতিহাসের একটু অংশ হতে পারলে, তা বাড়তি পরিতৃপ্তির সুযোগ করে দিতে পারে। এমন সুযোগ নিয়ে এখনো টিকে আছে নিউইয়র্কের প্রাচীন কিছু রেস্তোরাঁ। 

নিউইয়র্ক রাতারাতি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল শহরে পরিণত হয়নি। সময় লেগেছে। আর এ প্রতিটি সময়ের ভাঁজে ছড়িয়ে আছে হাজারো ইতিহাস। আজকের নিউইয়র্কের পথেঘাটে যে বিচিত্র সব খাবারের পসরা সাজিয়ে রেস্তোরাঁগুলো বসেছে, তারও রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস। কিন্তু খুব মানুষই এ বিষয়ে সচেতন। কতজনইবা জানে যে, নিউইয়র্কে এখনো টিকে আছে এমন এক রেস্তোরাঁ, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৭৬২ সালে। ওই বছর নিউইয়র্ক শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ফ্রঁসে তাভেঁ রেস্তোরাঁ। অল্প সময়ের মধ্যেই রেস্তোরাঁটি জমে ওঠে। সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এমনকি জর্জ ওয়াশিংটনও এখানকার খাবারের স্বাদ নিয়েছেন। ফ্রঁসে তাভেঁর খাবারের গুণমুগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন আরও বহু রথী-মহারথীরা। এ রেস্তোরাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৮১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ইয়ার ইন’। আর তারপর এ দুই রেস্তোরাঁর সাফল্যের পথ অনুসরণ করে একে একে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ। এনবিসি নিউজ অবলম্বনে আজকের আয়োজন এমনই ১০ রেস্তোরাঁ নিয়ে, যা এখনো চলমান, যার মধ্যে সবচেয়ে নবীনটিরও বয়স শত বছরের বেশি। 

ফ্রঁসে তাভেঁ

ইয়ার ইন হোটেলের ভেতরের অংশ

নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে প্রাচীন বার ও রেস্তোরাঁ হচ্ছে এই ফ্রঁসে তাভেঁ। ১৭৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ রেস্তোরাঁর মেনুবইয়েই মিলবে তার প্রাচীনত্বের প্রমাণ। সমসাময়িক খাবার যে একেবারে নেই তা নয়। তবে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারেরই প্রাধান্য দেয় এরা। একদিক থেকে এ রেস্তোরাঁকে বলা যায় প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের সার্থক মেলবন্ধন। 

ইয়ার ইন

ঐতিহাসিক জেমস ব্রাউন হাউসে ১৮১৭ সালে এ রেস্তোরাঁটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কের অন্যতম প্রাচীন এ রেস্তোরাঁর প্রতিটি দেয়াল ও সজ্জায় এর প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রমাণ মিলবে। ১৯২০ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় অ্যালকোহল নিষিদ্ধ থাকাকালেও রেস্তোরাঁটি বন্ধ হয়নি। তবে সে সময় আগের মতো প্রকাশ্যে অ্যালকোহল বিক্রি করা হতো না। ১৮১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭০ সালের আগ পর্যন্ত এর কোনো নাম ছিল না। ওই বছরই রেস্তোরাঁটির নাম ইয়ার ইন রাখা হয়। 

ডেলমোনিকো’স

ফ্রঁসে তাভেঁ হোটেলের ভেতরের অংশ

১৮৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ডেলমোনিকো’স। আমেরিকার প্রথম খাবার রেস্তোরাঁ হিসেবে ডেলমোনিকো’স নিজেকে দাবি করে আসছে। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ডেলমোনিকো’স ভোক্তাদের জন্য নিয়ে আসে বিস্তৃত পরিসরের খাদ্যতালিকা। সে সময় থেকেই এখানে রয়েছে বিশেষ খাবার কক্ষ, যেখানে রয়েছে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থাও। 

পেট’স তাভেঁ

১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পেট’স তাভেঁ রেস্তোরাঁ নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ এ অভিযাত্রায় কোনো ছেদ পড়েনি। ইতালীয় এ রেস্তোরাঁয় এখনো মিলবে প্রাচীন দুনিয়ার রকমারি খাবার, যার স্বাদ নিশ্চিতভাবেই নিয়ে যাবে এক নস্টালজিক সময়ে। 

ওল্ড হোমস্টিড স্টিকহাউস

ওল্ড হোমস্টিড রেস্তোরাঁ রয়েছে নিউজার্সি এবং লাস ভেগাসে। কিন্তু এ দুটিই নিউইয়র্কের রেস্তোরাঁটির চেয়ে বয়সে নবীন। নিউইয়র্কে ওল্ড হোমস্টিডের দরজা খুলেছিল ১৮৬৮ সালে। সে সময় থেকে এখনো সেই ম্যানহাটনের আদি অবস্থানেই নিজেদের ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রেস্তোরাঁটি। 

পিজে ক্লার্ক’স

১৮৮৪ সালে মিডটাউনে একটি বার হিসেবে প্রথম দরজা খোলে পিজে ক্লার্ক’সের। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, সে সময় মূলত আইরিশ অভিবাসীরাই এখানে বেশি আসত। রেস্তোরাঁটির বর্তমান নাম এসেছে প্যাট্রিক ‘প্যাডি’ জে ক্লার্ক নামের এক বারটেন্ডারের নাম থেকে, যিনি পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেন। নিষিদ্ধ সময়ে বারটি সাময়িকভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধ রাখে। তবে সে সময়ও গোপনে ঠিকই বিকিকিনি চলত। 

কিনস স্টিকহাউস

পেট’স তাভেঁ হোটেলের ভেতরের অংশ

থিয়েটার ডিস্ট্রিক্টে ১৮৮৫ সালে খোলা হয় কিনস স্টিকহাউস। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, মঞ্চশিল্পীরা অভিনয়ের ফাঁকে দু এক সিপ বিয়ার খেতে এখানে আসতেন। শুরু থেকেই জমে উঠেছিল এ বার কাম রেস্তোরাঁটি। শুরুতে এ রেস্তোরাঁয় শুধু পুরুষদের প্রবেশাধিকার ছিল। ১৯০৫ সালে অভিনেত্রী লিলি ল্যাংট্রি এমন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং জিতে যান। এর পর থেকেই রেস্তোরাঁটি নারী-পুরুষ সবার জন্যই উন্মুক্ত। 

পিটার লুগার স্টিকহাউস

উইলিয়ামসবার্গে ১৮৮৭ সালে কার্ল লুগার’স কাফে, বিলিয়ার্ড ও বোলিং সেন্টার খোলেন পিটার লুগার। তাঁর মৃত্যুর পর রেস্তোরাঁটি কিনে নেন সোল ফোরম্যান। সোল ফোরম্যানের হাতেই পিটার লুগার স্টিকহাউস নামে রেস্তোরাঁটি যাত্রা করে। ফিরে পায় পুরোনো আভিজাত্য। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি ফোরম্যান পরিবারের হাতেই আছে। 

ক্যাটজ’স ডেলিক্যাটেসিন

১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্যাটজ’স ডেলিক্যাটেসিন বিফ স্যান্ডউইচসহ বিশেষ কিছু খাবার বিক্রি করে আসছে। ২০ শতকের শুরুর দিক থেকেই লোয়ার ইস্ট সাইডের আশপাশের অভিবাসীদের কাছে রেস্তোরাঁটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতি সপ্তাহে এখনো নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষেরা ভিড় জমান এ রেস্তোরাঁয় শুধু পুরোনো দিনের খাবারের স্বাদ নিতে। 

রাও’স

তালিকার সবচেয়ে নবীন রেস্তোরাঁর নাম ‘রাও’স’। ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ রেস্তোরাঁ শুরু থেকেই অভিজাত ও তারকাদের সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, রাও’স এমনকি আমেরিকারই অন্যতম প্রাচীন পারিবারিক রেস্তোরাঁ, যার পরিচালনও করে থাকেন মালিক পরিবারের সদস্যরাই।