Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি ট্রাম্পের = ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসনেই বিভক্তি

শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করছে পুরো বিশ্ব। হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশ চাচ্ছিল ট্রাম্প এই ঘোষণা না দিক। অন্যরা এই ঘোষণার জন্য ট্রাম্পকে প্রভাবিত করা চেষ্টা করেছে।

প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস, গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএয়ের পরিচালক মাইক পম্পে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী করার বিপক্ষে ছিলেন। তাঁরা চাচ্ছিলেন, বিদ্যমান অবস্থা বজায় থাকুক। বহু দশক ধরে চলে আসা মার্কিন নীতি অব্যাহত থাকুক। ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা ট্রাম্পকে এই অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু তা শুনতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যান জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির পক্ষে ছিলেন।

গেল বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্পের অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন ডেভিড ফ্রিডম্যান। তিনি ইহুদি-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্রিডম্যানকে ইসরায়েলে মার্কিন দূত করেন ট্রাম্প।

নিজ জামাতা জেরার্ড কুশনারকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়া-বিষয়ক উপদেষ্টা করেছেন কুশনার। তিনিও জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির পক্ষে। কিন্তু মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার পক্ষে। একই মত ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যাসন গ্রিনব্ল্যাটের।

বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ট্রাম্প যখন জেরুজালেম-সংক্রান্ত ঘোষণা দিচ্ছিলেন তখন তাঁর পাশে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম উদ্যোক্তা তাঁকে মনে করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন উপস্থিত ছিলেন না ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়।


জেরুজালেম : ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর বিশ্বে নিন্দার ঝড়

জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকৃতি দেয়ার পর বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এমনটি ব্রিটেন, ফ্রান্স, সৌদি আরবের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোও এই স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই সিদ্ধান্তকে 'অযৌক্তিক' আর 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে বর্ণনা করেছে সৌদি আরব।

ফ্রান্স, জার্মানি আর যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা ওই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুটেরেস বলেছেন, এটা খুবই গভীর উদ্বেগের সময়। কারণ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ছাড়া এর আর কোন বিকল্প নেই।

যদিও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এটা একটি ঐতিহাসিক দিন।

ফিলিস্তিনে ধর্মঘট আর বিক্ষোভ ডাকা হয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আসন হারিয়েছে।

গাজা ভূখণ্ড পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস বলছে, মি. ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ক্ষেত্রে 'জাহান্নামের দরজা খুলে দেবে'।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোগান বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকেই, তার ভাষায় 'আগুনের বৃত্তে' ছুড়ে ফেলবে। ইস্তানবুলে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

শুক্রবার এ নিয়ে আলোচনায় বসবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের আটটি দেশ জরুরি অধিবেশন ডেকেছে, যেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য আর ফ্রান্সের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশও।

শনিবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে আরব লীগ।

এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও।

জেরুজালেম শহরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরৈই ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। শুধু এই শহরটি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে থেকে থেকেই সহিংসতা হয়েছে, প্রচুর রক্তপাত হয়েছে।

ফলে কোন পক্ষকেই স্বীকৃতি না দেয়ার মার্কিন নীতি চলে আসছে বহুদিন ধরে।

কিন্তু বুধবার হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিতর্কিত জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আরও ঘোষণা করেছেন যে আমেরিকান দূতাবাস তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

- বিবিসি বাংলা

Picture

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, গাজায় নিহত ২

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মুসলিমপ্রধান বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার ‘ক্রোধ দিবস’ পালন করেছে ফিলিস্তিনিরা। গাজায় হাজার হাজার মানুষ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে দুজন প্রাণ হারান বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। ‘সহিংস দাঙ্গা’ থামাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানিয়েছে তারা।

এছাড়া পশ্চিম তীরের হেবরন, বেথেলহেম ও রামাল্লায় শত শত ফিলিস্তিনি জু্ম্মার নামাজের পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে পাথর ছুড়ে মারেন। জবাবে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী।
জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদের বাইরেও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করেছেন।

বাংলাদেশের ঢাকায় বিক্ষোভে জড়ো হয়েছিল প্রায় তিন হাজার মানুষ।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেন। ফিলিস্তিনিদের একটি শরণার্থী শিবিরের কাছের রাস্তায় পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছিলেন।

ইরানের তেহরানে সরকারি উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে শত শত মানুষ অংশ নেন। এছাড়া দেশটির অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যম।

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে একটি মসজিদের বাইরে সমবেত হয়েছিলেন তিন হাজারেরও বেশি প্রতিবাদকারী। এই সময় তারা ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছেন, আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়েছেন। রাজধানী আংকারাসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
জর্ডান, মিশর, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়ও শুক্রবার বিক্ষোভ হয়েছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন দূতাবাস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল-গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৩১ জন ফিলিস্তিনি আহত হন।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বলেছেন, জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের একটি নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সব মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তবে সরকারকে আরো ‘শক্ত ভাষায়’ প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘‘সে যতবড় রাষ্ট্রই হউক না কেন, জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আমরা মানি না, বাংলাদেশ মানে না। এটা আমরা গ্রহণ করি না, এটাকে প্রত্যাহার করতে হবে। এই কথাগুলো বর্তমান সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, আরো জোরেশোরে বলতে হবে। ’’

জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদা বিশ্বব্যাপী তার অনুসারীদের যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র ও ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বলেছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া আরও জটিল করে তুলছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্রান্সের প্যারিসে লেবানন নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন হারিরি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, একক সিদ্ধান্ত কিংবা শক্তিশালী পক্ষ জোর করে তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার সমাধান হবে না।