Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

এবার প্রতীক্ষা ‘রাজাকার’ তালিকার

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭

যদিও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালেই তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। বাজেট নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে, চূড়ান্ত হয়নি কর্মপরিকল্পনাও। এই দুটো কাজ হয়ে গেলে, খুব বেশি সময় লাগবে না বলে দাবি করছেন দায়িত্বশীলরা।

জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও পূর্বের কোনো তালিকা থাকলে তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জেলা প্রশাসনে। যদিও এসবই ২০১৫ সালের কথা। গত দুবছরে এ কাজে ব্যয়ের পরিমাণ জানানো ছাড়া এ কাজের কোনো অগ্রগতির খবর জানাতে পারেননি মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খুব সংক্ষেপে বলেন, নো আপডেট।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার যে প্রয়াস ‍শুরু হয়, তার পূর্ণতা পেতে পারত রাজাকারদের তালিকা তৈরির মাধ্যমে। কিন্তু তালিকা তৈরির কার্যক্রমের অগ্রগতিতে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের গত সরকার আমলেই রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরির ‍উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে রাজাকারদের এই তালিকা প্রণয়নের দাবি ছিল স্বাধীনতার পর থেকেই। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই দাবি জোরালো হয়। ২০০৯ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সরকার গঠন করার পর সরকার এই তালিকা তৈরির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কখনোই ডেডলাইন ঠিক রাখতে পারেনি সরকার।

২০১০ সালের মার্চে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এ.বি তাজুল ইসলাম জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নের দাবি অনেক দিনের। সরকার সেই জনদাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে এ তালিকা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের উপজেলাওয়ারি তালিকা করা হবে। তালিকা করার পর তা উপজেলা পর্যায়ে উন্মুক্ত স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে, তার নিজের এলাকায় কারা স্বাধীনতাবিরোধী ছিল।

Picture

এরপরের এক বছর এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি ছিল না। ২০১১ সালের ১৫ জুন জাতীয় সংসদে পুনরায় এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ.বি তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী রাজাকারদের নামের তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

সেই পরিকল্পনায় কেটে যায় আরো এক বছর। ২০১২ সালে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়, পাশাপাশি দেশের সব জেলা প্রশাসনে চিঠি পাঠানো হয় অঞ্চলভিত্তিক রাজাকারদের তালিকা তৈরির জন্য। প্রায় এক বছর পর কিছু স্থান থেকে তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে জানিয়ে বিভাগীয় প্রশাসনে জানানো হয়। কিন্তু তখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বেশি জোর দেওয়ায় এবং অন্যান্য কিছু কারণে উদ্যোগটিতে ভাটা পড়ে।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব জানান, কয়েক বছর আগে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সব জেলা প্রশাসনে চিঠি দেওয়া হয় রাজাকারদের তালিকা চেয়ে। রংপুরসহ দেশের কয়েকটি জেলা থেকে তখন তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানায়। কিন্তু আর এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। মাঠ প্রশাসনে আটকে যায় কাজটি। এবার আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যয় নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরির খরচ বাবদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে তিন কোটি টাকা চাওয়া হয়। যদিও পুরো কাজে ৫ কোটি টাকা লাগবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। বাকি ২ কোটি টাকা পরে চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, চলতি বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের পরপরই এ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড় করতে বিলম্ব করায় পুরোদমে কাজ শুরু করা যায়নি। যদিও প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এরপর মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছিল ১ জুলাই থেকে কাজ শুরু করার। তাও হয়নি।

এরপর মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা ছিল, বছরের শুরুতেই শুরু হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হলে রাজাকারদের তালিকা নিয়ে কাজ করবে তারা। চলতি বিজয়ের মাসে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অর্থাৎ অনলাইনে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। এবার রাজাকারদের তালিকা তৈরির কাজে পুরোদমে হাত দেওয়া হতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনার কথা জানতে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করেও কিছু জানা যায়নি।

মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক নামের পূর্ণ তালিকা সরকারিভাবে তৈরি করা হয়নি। এমনকি সংরক্ষণও করা হয়নি। এবার রাজাকারদের নামসহ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, রাজাকারদের তালিকা তৈরিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। যারা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজাকারদের ভাতা দিত সেই তালিকাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কবে নাগাদ এই তালিকা তৈরি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পুরোপুরি বলা যাচ্ছে না, কবে নাগাদ আমরা কাজ শেষ করতে পারি। তবে কাজ চলমান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী গোপন বাহিনী ছিল আলবদর ও আলশামস বাহিনী। এসব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র ও অর্থ পেত। এক সময় এসব রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের মাসিক ভাতাও দেওয়া হতো। সে কারণে তৎকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ে এটি সংরক্ষিত ছিল নিশ্চয়ই। কিন্তু ২০০১ সালের পরে দেখা গেছে সেই তালিকা উধাও। কোনো না কোনোখানে এ তালিকা রয়েছে নিশ্চয়ই। সেটি খুঁজে বের করে তাদের নামের তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে। এছাড়া উপজেলাভিত্তিক খোঁজখবর নিয়ে এসব রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের তালিকাও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের শাস্তি দেওয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ করাটাই হচ্ছে মূল বিষয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার তো চলমান রয়েছেই। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে রাজাকারদের শাস্তি দেওয়া হবে। তবে যারা লঘু অপরাধী, তাদের কী করা হবে বা কী প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে তালিকা তৈরির পর এদের সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যানের ডাক দেওয়া হবে। সেজন্যই মূলত তালিকা করা। লোকজন তাদের অপরাধ সম্পর্কে জানবে। পরবর্তী প্রজন্ম এটা কীভাবে নেবে সেটাই দেখার বিষয়।

মন্ত্রী বলেন, এখন আমরা যেমন কুকুর হইতে সাবধান বলি, তখন হয়তো পরবর্তী প্রজন্ম বলবে রাজাকার হইতে সাবধান থাকুন। আমাদের দায়িত্ব তালিকা করে দেওয়া। এরপর নেক্সট জেনারেশন কীভাবে নেবে সেটা তারাই ভালো জানে।

কীভাবে তৈরি করা হবে এই তালিকা: নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত তালিকা তৈরির লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্চ কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। এই কমিটিতে থাকবেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। তারাই স্থানীয় রাজাকারদের খুঁজে বের করবেন। কমিটি তাদের তালিকা জমা দেবে জেলা প্রশাসনে।

জেলা প্রশাসনের কাছে থানা, তৎকালীন মহকুমাভিত্তিক রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্যদের নামের তালিকা রয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে। তালিকা থাকলে দ্রুত তা পাঠানোর জন্য বলেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি এসপির কাছেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসির কাছে এ ধরনের কোনো তালিকা আছে কিনা অনুসন্ধান করে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তালিকা হাতে না পাওয়ার কারণেই রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। মাঠ প্রশাসন থেকে তালিকা পাওয়া না গেলে মুক্তিযুদ্ধকালে থানা কমান্ডারসহ মুক্তিযোদ্ধা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জীবিত পুলিশ অফিসার ও সদস্যদের কাছ থেকে নাম সংগ্রহ করা হবে। প্রাপ্ত নাম রিচেকিং করা হবে।

জেলা প্রশাসন যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা পাঠাবে বিভাগীয় প্রশাসনে। সেখান থেকে আসবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে। কাউন্সিল এ বিষয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করবে।

তালিকায় স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যেসব বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া হয়েছিল, তাদেরও চিহ্নিত করা হবে এই কার্যক্রমে।

২০১৫ সালে নেওয়া হয় বড় ধরনের উদ্যোগ: স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর ২০১৫ সালে তৃতীয়বারের মতো রাজাকারদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় রাজাকার, আলবদর ও আলশামস সদস্যদের তালিকা তৈরির নির্দেশ পাঠায়।

মন্ত্রণালয়ের ডিও পত্র নং ৬০৩-তে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালে যারা বেতন ও হাতিয়ার প্রাপ্ত রাজাকার, আলবদর, আলসামস ছিল তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে প্রত্যেক উপজেলা ও জেলায় একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই ধরনের একটি চিঠি দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

এর আগেও কয়েকবার এ ধরনের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে তা আর বেশিদূর এগোয়নি। তবে ২০১৫ সালে সরকার বেশ তৎপরতার সঙ্গে রাজাকারের তালিকা তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করে।

রংপুর বিভাগে ৫৬৬৬ রাজাকার: রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় (রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা) ৫ হাজার ৬৬৬ জন রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করা হয় ২০১৫ সালে। এ তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় প্রশাসনের কার্যালয়ে রয়েছে। যা পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায়।

তালিকায় রংপুর জেলার আট উপজেলায় ১ হাজার ১৫ রাজাকারের নাম অন্তর্ভুভুক্ত হয়। এর মধ্যে বদরগঞ্জে ৩০৫ জন, সদরে ১৮৪, কাউনিয়ায় ৭৯, মিঠাপুকুরে ১৩৪, পীরগঞ্জে ১৫০, গঙ্গাচড়ায় ৩৩ ও পীরগাছায় ১২৯ জন রয়েছে। নীলফামারীতে রাজাকারের সংখ্যা এক হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে সদরে ৩২৯ জন, জলঢাকায় ৩১২, কিশোরগঞ্জে ১৫১, ডোমারে ২৫৯, ডিমলায় ২৩৯ ও সৈয়দপুরে ২২৩ জন রয়েছে।

লালমনিরহাট জেলার তিন উপজেলায় ৬৮১ রাজাকারের নাম চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে সদরে ৩২৫ জন, কালীগঞ্জে ২৫৪, হাতীবান্ধায় ১০২ জন রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার চার উপজেলায় ১ হাজার ৪২২ রাজাকারের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদরে ৩৭৯ জন, উলিপুরে ৩৫২, চিলমারীতে ২৮৭ ও নাগেশ্বরীতে ৪০৪ জন।

গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় ১ হাজার ৫৫ রাজাকারের নামের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে সদরে ৮৮ জন, সুন্দরগঞ্জে ৭০, সাদুল্যাপুরে ২১১, পলাশবাড়ীতে ১৫২, গোবিন্দগঞ্জে ৩০০, সাঘাটায় ৬৩ ও ফুলছড়িতে ১৭১ জন রয়েছে।

চট্টগ্রামে ১৯০২ রাজাকার:  চট্টগ্রামে ১৯০২ রাজাকারের নামের তালিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড। যদিও জেলায় প্রকৃত রাজাকার প্রায় ৩ হাজার বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০১৬ সালের বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আ.ক.ম. রইসুল হক বাহারের সম্পাদনায় প্রকাশিত মুক্তি নামক দ্বিবার্ষিক প্রকাশনায় চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার রাজাকারদের তালিকাটি প্রকাশও করা হয়।

প্রকাশনায় উল্লেখ রয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি রাজাকার ছিল ফটিকছড়ি উপজেলায়। রাজাকারের সংখ্যা ৩৩৪ জন। আর সবচেয়ে কম সংখ্যক রাজাকার ছিল লোহাগাড়া উপজেলায়। এই উপজেলায় রাজাকার ছিল ২৫ জন। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে মিরসরাইয়ে ১৪৪ জন, সীতাকুন্ডে ২৮৮ জন, সন্দ্বীযে ৮৩ জন, হাটহাজারীতে ১১৪ জন, রাউজানে ১১০ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১৭৫ জন, বোয়ালখালীতে ৩৫ জন, পটিয়ায় ১২৩ জন, আনোয়ারায় ১৪১ জন, চন্দনাইশে ১০১ জন, সাতকানিয়ায় ১০৩ জন এবং বাঁশখালীতে ১২৬ জন।