Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

হালকা ঝাঁকুনি, নড়লেন শরিক দলের মন্ত্রীরাই

বৃহস্পতিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৮

মামুন : নানা বিশ্লেষণ চলছে মন্ত্রিসভায় নতুন তিনজনের অন্তর্ভুক্তির পরদিনই চারজনের দফতর বদল নিয়ে । সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে মন্ত্রিসভায় এ পরিবর্তনকে অনেকেই বলছেন তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই রাজনৈতিকভাবে অপরিচিত মুখ। এতে মন্ত্রিপরিষদে খানিকটা ঝাঁকুনিও লেগেছে। এ পরিবর্তনে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। দপ্তর পরিবর্তন করা মন্ত্রীরাও গণমাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দপ্তর পরিবর্তন করা মন্ত্রীদের তিনজনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারে থাকা অন্য শরিক দলের।

এর মধ্যে জাসদের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে সহায়তা করতে এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তারানা হালিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে এতদিন পুরো দায়িত্বে থাকা তথ্যমন্ত্রীর ওপর চাপ কমবে। এছাড়া মহাজোটের আরেক শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টি (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পেয়েছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাদের দপ্তর বণ্টন/পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নতুন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি পুরনো চারজনের দায়িত্ব বদলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসা রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে নতুন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পুরো দায়িত্ব পালন করে আসা নুরুজ্জামান আহমেদ এখন থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রী হিসেবে নতুন শপথ নেয়া মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পাওয়ার পর ওই মন্ত্রণালয়েরই মন্ত্রী হয়েছেন।

Picture

অন্যদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে পাঠানো হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করে। নতুন মুখ প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের দায়িত্ব। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।

এদিকে সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানিয়েছেন, দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে। সরকারে ছিলাম, সরকারেই আছি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীই হর্তাকর্তা। তিনিই জানেন কি কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে। রসিকতা করে প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খান মেনন বলেন, আকাশে ছিলাম, মাটিতে নেমে এসেছি।

তারানা হালিম বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ শেষ করে এনেছি। স্যাটেলাইট বিষয়ে মানুষের কোনো ধারণা ছিল না, থাকলেও ভ্রান্ত ধারণা ছিল। আমি সেই ধারণা সৃষ্টি করেছি এবং ভ্রান্ত ধারণা পাল্টে দিয়েছি। এরকম পরিস্থিতিতে আমাকে সরিয়ে দেয়াটা মানুষ হিসেবে একটু লাগে। আমি তো ফেরেশতা নই, অন্য কিছুও নই, মানুষ। রক্তে-মাংসে গড়া।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১২ই জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দ্বিতীয় মেয়াদে যাত্রা শুরু করেছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট। যার মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী ছিলেন। এর দেড় মাসের মাথায় এএইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর হজ নিয়ে মন্তব্যের জেরে অক্টোবরে মন্ত্রিত্ব হারান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০১৫ সালের ৯ই জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেয়া হয় স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। এর পরের সপ্তাহে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী এবং তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওই দিন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ইয়াফেস ওসমান। আর ১৬ই জুলাই সৈয়দ আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ২০১৫ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০১৬ সালের ১১ই মে। এরপর ২০১৬ সালের ১৯শে জুন খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। গত ১৬ই ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ শূন্য হয়। মঙ্গলবার শপথ নেয়া নতুন চারজনকে নিয়ে বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী।